অর্থনীতি

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আগামী ১ জানুয়ারি, প্রস্তুতি শুরু

নভেম্বর ৭, ২০২৬
ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আগামী ১ জানুয়ারি, প্রস্তুতি শুরু
ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আগামী ১ জানুয়ারি, প্রস্তুতি শুরু
<p>আগামী ১ জানুয়ারি শুরু হতে যাচ্ছে ৩১তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ)। ১৯৯৫ সাল থেকে ডিআইটিএফ আয়োজিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন আগারগাঁওয়ে এই মেলা আয়োজন করা হলেও ২০২২ সাল থেকে তা নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জের পূর্বাচলে যৌথভাবে আয়োজন করে আসছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)।</p><p>এবার ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে প্রধান অতিথি হিসেবে এ মেলার উদ্বোধন করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। আর বিশেষ অতিথি থাকবেন বাণিজ্যসচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. ফজলুল হক। ইপিবি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।</p><p>মাসব্যাপী এবারের মেলা আয়োজনের জন্য গত ২৯ অক্টোবর ছয়টি খাতে পণ্য সরবরাহ, বিভিন্ন সেবা ও অবকাঠামোগত কাজের দরপত্র আহ্বান করেছে ইপিবি। এসব কাজের মধ্যে রয়েছে মেলার অবকাঠামো নির্মাণ, সাজসজ্জা, নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও প্রচার-প্রচারণা।</p><p>দরপত্র বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী গত মঙ্গলবার থেকে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে দরপত্র নেওয়া শুরু করেছে ইপিবি। দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৭ নভেম্বর বিকেল চারটা। ১৮ নভেম্বর বেলা ১১টায় দরদাতাদের উপস্থিতিতে দরপত্র খোলা হবে।</p><p>ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ গতকাল বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘এবারের মেলায় বিদেশিদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর সঙ্গে আমরা জুম প্ল্যাটফর্মে বৈঠক করেছি। চিঠিও দিয়েছি তাদের। এবার বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভালো সাড়া পড়বে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’</p><p>প্রতিবছর বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একটি পণ্যকে ‘বর্ষপণ্য’ বা ‘প্রোডাক্ট অব দ্য ইয়ার’ ঘোষণা করা হয়। ২০২৬ সালের জন্য পেপার অ্যান্ড প্যাকেজিং ছিল বর্ষপণ্য। এবারের বর্ষপণ্য ঠিক করা হয়েছে কি না, তা জানতে চাইলে ইপিবি ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, এখনো না। তবে কাজ চলছে।</p><p><strong>ছয়টি ভাগে মেলার কাজ</strong></p><p>ছয়টি লটে মেলার বিভিন্ন কাজ ভাগ করা হয়েছে। প্রথম লটে রয়েছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন ও সংশ্লিষ্ট সরবরাহের কাজ। এর মধ্যে আমন্ত্রণপত্র, স্মারকগ্রন্থ, গাড়ির স্টিকার, ভিআইপি ও সাধারণ পাস, ফোল্ডার, লেটারহেডসহ বিভিন্ন সামগ্রীর নকশা, মুদ্রণ ও সরবরাহ করার কাজ রয়েছে।</p><p>উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে বাংলাদেশ সচিবালয়সহ রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান, সড়ক, সড়কদ্বীপ, চত্বর ও ফুটওভারব্রিজে সাজসজ্জা ও প্রচারসামগ্রী স্থাপন করতে হবে। বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে (বিসিএফইসি) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মঞ্চ, আসনব্যবস্থা, আলোকসজ্জা, সাজসজ্জা, স্থিরচিত্র ও ভিডিও ধারণের কাজও এ লটের অন্তর্ভুক্ত। দেশি-বিদেশি অতিথিদের জন্য উপহারসামগ্রী সরবরাহের কাজও রয়েছে।</p><p>দ্বিতীয় লটে রয়েছে মেলার মূল অবকাঠামো নির্মাণ ও সাজসজ্জার কাজ। এর মধ্যে প্রদর্শনী হলের ভেতরে ও বাইরে স্টল, প্যাভিলিয়ন, খাবারের দোকান, বিভিন্ন বুথ এবং অস্থায়ী নামাজের স্থান নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া মেলা সচিবালয়ের সাজসজ্জা, টেবিল-চেয়ার সরবরাহ এবং সীমানাপ্রাচীরের টিন দিয়ে আবৃত করার কাজ রয়েছে।</p><p>বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের প্রচার এবং ইপিবির কার্যক্রম তুলে ধরতে একটি প্রদর্শনী স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে দ্বিতীয় লটে। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদদের স্মরণে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ গ্যালারি বা প্যাভিলিয়ন নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের বসার জায়গা, কফি কর্নার ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। মেলার প্রধান ও ভিআইপি ফটক নির্মাণ এবং পুরো প্রাঙ্গণের সৌন্দর্যবর্ধন ও আলোকসজ্জার কাজও এ লটের আওতায় থাকবে।</p><p>তৃতীয় লটে রয়েছে মেলা চলাকালে প্রদর্শনী হল, টয়লেট, উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ, সামনের সড়ক ও গাড়ি পার্কিং এলাকার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা। আবর্জনা সংগ্রহ ও অপসারণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বর্জ্যের ঝুড়ি সরবরাহ করতে হবে।</p><p>চতুর্থ লটে মেলার প্রচারের জন্য প্রামাণ্যচিত্র, প্রচারমূলক ভিডিও, টেলিভিশন বিজ্ঞাপন ও অন্যান্য ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি এবং সরবরাহের কাজ রাখা হয়েছে। ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, এক্স, লিংকডইনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে প্রচার চালাতে হবে। প্রচারের ফলাফলের পাশাপাশি পরিসংখ্যানও ইপিবিকে দিতে হবে।</p><p>পঞ্চম লটে রয়েছে মেলার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজ। এ জন্য প্রশিক্ষিত বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও পরিচালনা, আর্চওয়ে ও হাতে বহনযোগ্য ধাতব বস্তু শনাক্তকরণ যন্ত্র স্থাপন এবং যানবাহন তল্লাশির সরঞ্জাম সরবরাহ করতে হবে।</p><p>ষষ্ঠ লটে রয়েছে সমাপনী অনুষ্ঠান আয়োজনের কাজ। এর মধ্যে রয়েছে মঞ্চ নির্মাণ, আলোকসজ্জা, শব্দব্যবস্থা, এলইডি পর্দা, ছবি ও ভিডিও ধারণ, আমন্ত্রণপত্র তৈরি এবং সেরা প্যাভিলিয়ন, স্টল ও রেস্তোরাঁর জন্য ট্রফি ও সনদ সরবরাহের কাজ।</p><p>ইপিবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রতিটি লটের জন্য আলাদা দরপত্র জমা দিতে হবে। দরপত্রের কাগজপত্র ইপিবির প্রশাসন শাখা, টিসিবি ভবন, কাওরান বাজার থেকে সংগ্রহ করা যাবে। প্রতিটি লটের দরপত্র দলিলের মূল্য এক হাজার টাকা, যা ফেরতযোগ্য নয়। দরপত্র জমা দেওয়ার ঠিকানা ইপিবির প্রশাসন শাখা। আরও বলা হয়, কর্তৃপক্ষ কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই যেকোনো দরপত্র বা সব দরপত্র বাতিল করতে পারবে।</p><p><strong>মেলা থেকে ‘ঢাকা’ বাদ দেওয়ার উদ্যোগ ছিল</strong></p><p>২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত ইপিবির ১৪৮তম পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে ডিআইটিএফের নাম বদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের তৎকালীন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এ বছর থেকে ডিআইটিএফের নাম হবে ঢাকা বাণিজ্য মেলা (ডিটিএফ)। অর্থাৎ মেলার নাম থেকে ‘আন্তর্জাতিক’ শব্দটি বাদ যাবে।</p><p>ডিআইটিএফের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তখন সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছিল, দেশি-বিদেশি ক্রেতা-বিক্রেতা নিয়ে ডিআইটিএফ আয়োজনের লক্ষ্য ছিল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে গুণগত মানসম্পন্ন পণ্য ও প্রযুক্তি প্রদর্শন এবং স্থানীয় বাজারের সঙ্গে তাদের পরিচিত করানো।</p><p>আরও বলা হয়েছিল, অনেক বিদেশি প্রতিষ্ঠান দূতাবাস বা সরকারি প্রতিনিধিদলের মাধ্যমে অংশগ্রহণ না করে স্থানীয় এজেন্ট বা ব্যক্তির মাধ্যমে অংশ নিচ্ছে। ফলে পণ্য ও সেবার মান যাচাই করা যাচ্ছে না। অনেক সময় মানহীন বা স্থানীয়ভাবে বিদেশি ব্র্যান্ড নামেও উপস্থাপন করা হচ্ছে। বিদেশি ব্র্যান্ড বা উৎপাদকেরা সরাসরি না থাকায় ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছেন এবং প্রদর্শনীর আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারই পরে সরকার এমন সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।</p><p>ব্যবসায়ীদের অভিযোগ হচ্ছে ডিআইটিএফে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ কম থাকে, বিদেশি ক্রেতা ও আমদানিকারকদের উপস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে থাকে না। এ ছাড়া একই ধরনের পণ্যের অসংখ্য স্টল থাকে এবং নতুন পণ্য ও উদ্ভাবনী পণ্যের প্রদর্শনী থাকে কম। এ মেলা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিবর্তে বরং স্থানীয় কেনাবেচার কেন্দ্রে পরিণত হয়।</p><p>বাংলাদেশ তৈরি পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান প্রথম আলোকে বলেন, ডিআইটিএফ নামেই আন্তর্জাতিক। এখানে প্রতিবছর অনেক স্টল বসে, মানুষ কেনাকাটা করে। বলা যায়, এ মেলা অনেকটা সংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে। ফলে চলতে থাকুক।</p><p>ডিআইটিএফ নিয়ে কোনো পরামর্শ আছে কি না, তা জানতে চাইলে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘এ মেলা থেকে সামান্য যেসব রপ্তানি আদেশ আসে, তা থেকে রপ্তানি কতটুকু হয় চিন্তার বিষয়। দায়িত্বে থাকলে মেলাটিকে আন্তর্জাতিক রূপ দিতে বৈচিত্র্যপূর্ণ রপ্তানি পণ্য উৎপাদকদের বিনা মূল্যে এখানে বসতে দিতাম।’</p>

Prothomalo

View more
হৃদয়ের অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ
হৃদয়ের অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ

<p>২২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়েছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে তাওহিদ হৃদয়ের অপরাজিত ২৪২ রানের ইনিংসে মিলল লিড। বিস্তারিত ভিডিওতে...</p><figure></figure>

নভেম্বর ৮, ২০২৬
সিলিন্ডারের দাম ২৫০০ টাকা, ‘কুলাইতে না পেরে’ তামান্নারা এখন রান্না করেন লাকড়ি দিয়ে
সিলিন্ডারের দাম ২৫০০ টাকা, ‘কুলাইতে না পেরে’ তামান্নারা এখন রান্না করেন লাকড়ি দিয়ে

<p>রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার উল্টো দিকে সারি সারি টিনের ঘর। সেখানেই রাস্তার পাশে মাটির চুলায় লাকড়ি জ্বালিয়ে রান্না করছিলেন তামান্না (৩২) নামের এক নারী।</p><p>জানতে চাইলাম, লাকড়ি পুড়িয়ে রান্না করছেন কেন? উত্তরে তামান্না বললেন, ‘গ্যাসের দাম বেশি। অত দাম দিয়া গ্যাস কিইন্না কুলাইতে পারি না।’</p><p>রাজধানীতে তামান্নার মতো নিম্ন আয়ের মানুষের কেউ কেউ এখন মাটির চুলায় লাকড়ি, চেলা কাঠ, কাগজ ইত্যাদি পুড়িয়ে রান্না করছেন। কারণ, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় তা কেনার সামর্থ্য তাঁদের নেই।</p><p>বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) চলতি নভেম্বর মাসের জন্য এলপিজির যে দাম নির্ধারণ করেছে, তাতে ১২ কেজির সিলিন্ডারের মূল্য দাঁড়ায় ২ হাজার ৬০ টাকা। তবে বাজারে তা ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়।</p><p>দেশে গত মার্চে ১২ কেজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম ছিল ১ হাজার ৩৪১ টাকা। বাজারে তখন দেড় হাজার টাকার আশপাশে ১২ কেজির এলপিজির সিলিন্ডার বিক্রি হতো।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-07/g321b2c3/prothomalo_bangla_2026_11_03_jwh2qxh5_LPGfiveyears.webp"></figure><p>তামান্নার সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, স্বামী ও ছোট দুই ছেলেমেয়ে নিয়ে তাঁর সংসার। স্বামীর সঙ্গে একটি দোকান চালান তিনি। সেখানে পেঁয়াজু, বেগুনি, চপ, ছোলা, চিকেন রোলসহ বিভিন্ন খাবার বিক্রি করেন।</p><p>তামান্না বলছিলেন, ‘বাড়তি দামে অনেকেই গ্যাস কিন্নাই রান্ধে। সারা দিন কাজকাম কইরা আইসা দ্রুত রান্ধার লাইগা গ্যাসে চড়ায়া দেয়। আর যারা গ্যাস কিনতে পারে না, লাকড়িতে রান্ধে। কিছু করার নাই। সংসার চলে না।’</p><p>লাকড়িতে রান্না করতেও এখন অনেক খরচ বলে উল্লেখ করেন তামান্না। তিনি বলেন, লাকড়ির কেজি ১৫ টাকা, মণ ৬০০ টাকা।</p><p>তামান্নার স্বামী মনির হোসেন বলেন, নিত্যপণ্যের দাম চড়া। তিনি যেসব খাবার বিক্রি করেন, সেগুলো তৈরিতে খরচ বেড়েছে। এতে তাঁর আয় কমে গেছে। তিনি বলেন, ‘গরিব সারা জীবন গরিবই থাকব।’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/2agz1g3h7u">৯৭৫ থেকে ২,০৬০ টাকা: সাড়ে ৫ বছরে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম দ্বিগুণের বেশি</a></aside><p>আগারগাঁওয়ের বস্তির আরেক বাসিন্দা রহিমা (৫০)। তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাজ করেন। এখন বয়স ও অসুস্থতার কারণে ঠিকমতো কাজ করতে পারেন না। তিনিও রান্না করেন মাটির চুলায়।</p><blockquote>বাসাবাড়িতে তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির সংযোগের মাসিক বিল দুই চুলায় ১ হাজার ৮০ টাকা। অন্যদিকে পাঁচজনের একটি পরিবারে নিয়মিত রান্না হলে দুই সিলিন্ডার গ্যাস লাগে। এতে খরচ দাঁড়ায় মাসে পাঁচ হাজার টাকা।</blockquote><p>রহিমা <em>প্রথম আলো</em>কে বলেন, আড়াই হাজার টাকা দিয়া একটা কেনা তাঁর সামর্থ্যের বাইরে। এ কারণে ভোগান্তি হলেও লাকড়ির চুলায় রান্না করেন।</p><p>রহিমা বলেন, ‘আগে গ্যাসে তড়তড়ি রান্না করতাম, তড়তড়ি কামে যাইতে পারতাম। এখন লাকড়ি দিয়ে রান্না করি। কাপড়চোপড়ে কালি লাগে। ধুমাতে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। ঘরেও কালি লাগে। লাকড়িতে রানতে অনেক সমস্যা।’</p><p>রহিমার এক মেয়ে ও এক ছেলে। স্বামী মারা গেছেন প্রায় সাত মাস হলো। মেয়ে পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। ছেলে চালান অটোরিকশা। তিনি (রহিমা) বলেন, ‘বাড়ি আছিলো ভোলা। নদী সব লইয়া গেছে। জায়গাজমি সব নিছে। এহন ঢাকা শহরে কোনোমতে আছি।’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/qmkrubjomc">এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের কথা মাথায় রেখে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা</a></aside><p>রাজধানীর পশ্চিম শেওড়াপাড়ায় কিছু কিছু প্লটে টিনের ছাউনির ঘর রয়েছে। সেসব ঘরে নিম্ন আয়ের মানুষের বাস, যাঁরা হকারি করে, অটোরিকশা চালিয়ে অথবা মানুষের বাসায় কাজ করে সংসার চালান। সেখানেও কেউ কেউ মাটির চুলা তৈরি করে রান্না করেন।</p><figure></figure><p>তাঁদের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে <em>প্রথম আলো</em>কে বলেন, তিনি একেকটি বাসায় দুই কাজ (ঘর মোছা ও কাপড় ধোয়া) করে মাস শেষে আড়াই হাজার টাকা পান। আর একটা সিলিন্ডার কিনতেই লাগে আড়াই হাজার টাকা।</p><p>সরকার এখন বাসাবাড়িতে গ্যাস-সংযোগ দেয় না। বাসাবাড়িতে তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির সংযোগের মাসিক বিল দুই চুলায় ১ হাজার ৮০ টাকা। অন্যদিকে পাঁচজনের একটি পরিবারে নিয়মিত রান্না হলে দুই সিলিন্ডার গ্যাস লাগে। এতে খরচ দাঁড়ায় মাসে পাঁচ হাজার টাকা।</p><p>একটি সিলিন্ডার কিনতে একসঙ্গে আড়াই হাজার টাকা জোগাড় করা গরিবের পক্ষে কঠিন। এ কারণে তাঁরা লাকড়িতে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। অন্যদিকে লাকড়ির চাহিদা ও দাম বাড়ছে। বিক্রেতারা বলছেন, মানভেদে লাকড়ির দাম বেড়েছে প্রতি মণে ৫০ থেকে ১০০ টাকা। বিক্রি হয় ৪০০-৬০০ টাকা দরে।</p><p>আগারগাঁওয়ের লাকড়ি বিক্রেতা হাফিজুর (৩৫)<em> প্রথম আলো</em>কে বলেন, গ্যাসের দাম বাড়ার আগে দিনে এক থেকে দেড় মণ লাকড়ি বিক্রি করতেন তিনি। এখন দিনে ৭ থেকে ১০ মণ লাকড়িও বিক্রি হয়।</p>

নভেম্বর ৮, ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত ২০, ককটেল বিস্ফোরণ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত ২০, ককটেল বিস্ফোরণ

<p>জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। বিস্তারিত ভিডিওতে...</p><figure></figure>

নভেম্বর ৮, ২০২৬
শিলা, মিথিলার পর এবার মাহি
শিলা, মিথিলার পর এবার মাহি

শিরিন শিলা, আনিকা আলম ও তানজিয়া জামান মিথিলার পর এবার মিস ইউনিভার্সের আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন সামিরা খান মাহি।

নভেম্বর ৮, ২০২৬
চাকরি হারিয়ে সবুজে ফেরা
চাকরি হারিয়ে সবুজে ফেরা

বৃক্ষপ্রেমী নূর শাহানা কলি। গাছেদের পরম মমতায় আগলে রাখা এই নারীর জীবনের গল্পটা কেবল এক সফল উদ্যোক্তার নয়, অপমান, বঞ্চনা আর প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে নিজের লড়াই থামাননি।

নভেম্বর ৭, ২০২৬
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে স্বাস্থ্যসেবায় ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে স্বাস্থ্যসেবায় ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-07/gfv6hmm8/United_Medical_College_Hospital.jpeg"><figcaption>সাফ আয়োজনে খেলোয়াড় ও দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আন্তর্জাতিক প্রোটোকল অনুসরণে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে</figcaption></figure><p>সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (সাফ) আয়োজিত টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড় ও দর্শকদের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।</p><p>সাফ নির্ধারিত মেডিকেল চাহিদা অনুযায়ী, জাতীয় স্টেডিয়ামে দেশি-বিদেশি সব খেলোয়াড় ও দর্শকদের দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালটির পক্ষ থেকে রয়েছে তিনটি অ্যাডভান্সড লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স, চারজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, চারজন নার্স এবং আটজন হেলথকেয়ার প্রফেশনাল।</p><p>এ ছাড়া মাঠ কিংবা দর্শক গ্যালারিতে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় রয়েছে পৃথক মেডিকেল রুম। পাশাপাশি মাঠেই প্রস্তুত রাখা হয়েছে ফার্স্ট এইডসহ দুটি এইডি, হুইলচেয়ার, স্ট্রেচার এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ।</p><p>বাংলাদেশে বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। সাফ আয়োজনে খেলোয়াড় ও দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক প্রোটোকল অনুসরণে চিকিৎসাসেবা প্রদানের এই উদ্যোগ প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক মানের মেডিকেল প্রোটোকল ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনায় আরও সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দেবে।</p>

নভেম্বর ৭, ২০২৬
ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আগামী ১ জানুয়ারি, প্রস্তুতি শুরু
ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আগামী ১ জানুয়ারি, প্রস্তুতি শুরু

<p>আগামী ১ জানুয়ারি শুরু হতে যাচ্ছে ৩১তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ)। ১৯৯৫ সাল থেকে ডিআইটিএফ আয়োজিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন আগারগাঁওয়ে এই মেলা আয়োজন করা হলেও ২০২২ সাল থেকে তা নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জের পূর্বাচলে যৌথভাবে আয়োজন করে আসছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)।</p><p>এবার ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে প্রধান অতিথি হিসেবে এ মেলার উদ্বোধন করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। আর বিশেষ অতিথি থাকবেন বাণিজ্যসচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. ফজলুল হক। ইপিবি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।</p><p>মাসব্যাপী এবারের মেলা আয়োজনের জন্য গত ২৯ অক্টোবর ছয়টি খাতে পণ্য সরবরাহ, বিভিন্ন সেবা ও অবকাঠামোগত কাজের দরপত্র আহ্বান করেছে ইপিবি। এসব কাজের মধ্যে রয়েছে মেলার অবকাঠামো নির্মাণ, সাজসজ্জা, নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও প্রচার-প্রচারণা।</p><p>দরপত্র বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী গত মঙ্গলবার থেকে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে দরপত্র নেওয়া শুরু করেছে ইপিবি। দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৭ নভেম্বর বিকেল চারটা। ১৮ নভেম্বর বেলা ১১টায় দরদাতাদের উপস্থিতিতে দরপত্র খোলা হবে।</p><p>ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ গতকাল বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘এবারের মেলায় বিদেশিদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর সঙ্গে আমরা জুম প্ল্যাটফর্মে বৈঠক করেছি। চিঠিও দিয়েছি তাদের। এবার বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভালো সাড়া পড়বে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’</p><p>প্রতিবছর বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একটি পণ্যকে ‘বর্ষপণ্য’ বা ‘প্রোডাক্ট অব দ্য ইয়ার’ ঘোষণা করা হয়। ২০২৬ সালের জন্য পেপার অ্যান্ড প্যাকেজিং ছিল বর্ষপণ্য। এবারের বর্ষপণ্য ঠিক করা হয়েছে কি না, তা জানতে চাইলে ইপিবি ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, এখনো না। তবে কাজ চলছে।</p><p><strong>ছয়টি ভাগে মেলার কাজ</strong></p><p>ছয়টি লটে মেলার বিভিন্ন কাজ ভাগ করা হয়েছে। প্রথম লটে রয়েছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন ও সংশ্লিষ্ট সরবরাহের কাজ। এর মধ্যে আমন্ত্রণপত্র, স্মারকগ্রন্থ, গাড়ির স্টিকার, ভিআইপি ও সাধারণ পাস, ফোল্ডার, লেটারহেডসহ বিভিন্ন সামগ্রীর নকশা, মুদ্রণ ও সরবরাহ করার কাজ রয়েছে।</p><p>উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে বাংলাদেশ সচিবালয়সহ রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান, সড়ক, সড়কদ্বীপ, চত্বর ও ফুটওভারব্রিজে সাজসজ্জা ও প্রচারসামগ্রী স্থাপন করতে হবে। বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে (বিসিএফইসি) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মঞ্চ, আসনব্যবস্থা, আলোকসজ্জা, সাজসজ্জা, স্থিরচিত্র ও ভিডিও ধারণের কাজও এ লটের অন্তর্ভুক্ত। দেশি-বিদেশি অতিথিদের জন্য উপহারসামগ্রী সরবরাহের কাজও রয়েছে।</p><p>দ্বিতীয় লটে রয়েছে মেলার মূল অবকাঠামো নির্মাণ ও সাজসজ্জার কাজ। এর মধ্যে প্রদর্শনী হলের ভেতরে ও বাইরে স্টল, প্যাভিলিয়ন, খাবারের দোকান, বিভিন্ন বুথ এবং অস্থায়ী নামাজের স্থান নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া মেলা সচিবালয়ের সাজসজ্জা, টেবিল-চেয়ার সরবরাহ এবং সীমানাপ্রাচীরের টিন দিয়ে আবৃত করার কাজ রয়েছে।</p><p>বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের প্রচার এবং ইপিবির কার্যক্রম তুলে ধরতে একটি প্রদর্শনী স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে দ্বিতীয় লটে। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদদের স্মরণে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ গ্যালারি বা প্যাভিলিয়ন নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের বসার জায়গা, কফি কর্নার ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। মেলার প্রধান ও ভিআইপি ফটক নির্মাণ এবং পুরো প্রাঙ্গণের সৌন্দর্যবর্ধন ও আলোকসজ্জার কাজও এ লটের আওতায় থাকবে।</p><p>তৃতীয় লটে রয়েছে মেলা চলাকালে প্রদর্শনী হল, টয়লেট, উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ, সামনের সড়ক ও গাড়ি পার্কিং এলাকার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা। আবর্জনা সংগ্রহ ও অপসারণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বর্জ্যের ঝুড়ি সরবরাহ করতে হবে।</p><p>চতুর্থ লটে মেলার প্রচারের জন্য প্রামাণ্যচিত্র, প্রচারমূলক ভিডিও, টেলিভিশন বিজ্ঞাপন ও অন্যান্য ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি এবং সরবরাহের কাজ রাখা হয়েছে। ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, এক্স, লিংকডইনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে প্রচার চালাতে হবে। প্রচারের ফলাফলের পাশাপাশি পরিসংখ্যানও ইপিবিকে দিতে হবে।</p><p>পঞ্চম লটে রয়েছে মেলার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজ। এ জন্য প্রশিক্ষিত বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও পরিচালনা, আর্চওয়ে ও হাতে বহনযোগ্য ধাতব বস্তু শনাক্তকরণ যন্ত্র স্থাপন এবং যানবাহন তল্লাশির সরঞ্জাম সরবরাহ করতে হবে।</p><p>ষষ্ঠ লটে রয়েছে সমাপনী অনুষ্ঠান আয়োজনের কাজ। এর মধ্যে রয়েছে মঞ্চ নির্মাণ, আলোকসজ্জা, শব্দব্যবস্থা, এলইডি পর্দা, ছবি ও ভিডিও ধারণ, আমন্ত্রণপত্র তৈরি এবং সেরা প্যাভিলিয়ন, স্টল ও রেস্তোরাঁর জন্য ট্রফি ও সনদ সরবরাহের কাজ।</p><p>ইপিবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রতিটি লটের জন্য আলাদা দরপত্র জমা দিতে হবে। দরপত্রের কাগজপত্র ইপিবির প্রশাসন শাখা, টিসিবি ভবন, কাওরান বাজার থেকে সংগ্রহ করা যাবে। প্রতিটি লটের দরপত্র দলিলের মূল্য এক হাজার টাকা, যা ফেরতযোগ্য নয়। দরপত্র জমা দেওয়ার ঠিকানা ইপিবির প্রশাসন শাখা। আরও বলা হয়, কর্তৃপক্ষ কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই যেকোনো দরপত্র বা সব দরপত্র বাতিল করতে পারবে।</p><p><strong>মেলা থেকে ‘ঢাকা’ বাদ দেওয়ার উদ্যোগ ছিল</strong></p><p>২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত ইপিবির ১৪৮তম পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে ডিআইটিএফের নাম বদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের তৎকালীন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এ বছর থেকে ডিআইটিএফের নাম হবে ঢাকা বাণিজ্য মেলা (ডিটিএফ)। অর্থাৎ মেলার নাম থেকে ‘আন্তর্জাতিক’ শব্দটি বাদ যাবে।</p><p>ডিআইটিএফের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তখন সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছিল, দেশি-বিদেশি ক্রেতা-বিক্রেতা নিয়ে ডিআইটিএফ আয়োজনের লক্ষ্য ছিল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে গুণগত মানসম্পন্ন পণ্য ও প্রযুক্তি প্রদর্শন এবং স্থানীয় বাজারের সঙ্গে তাদের পরিচিত করানো।</p><p>আরও বলা হয়েছিল, অনেক বিদেশি প্রতিষ্ঠান দূতাবাস বা সরকারি প্রতিনিধিদলের মাধ্যমে অংশগ্রহণ না করে স্থানীয় এজেন্ট বা ব্যক্তির মাধ্যমে অংশ নিচ্ছে। ফলে পণ্য ও সেবার মান যাচাই করা যাচ্ছে না। অনেক সময় মানহীন বা স্থানীয়ভাবে বিদেশি ব্র্যান্ড নামেও উপস্থাপন করা হচ্ছে। বিদেশি ব্র্যান্ড বা উৎপাদকেরা সরাসরি না থাকায় ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছেন এবং প্রদর্শনীর আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারই পরে সরকার এমন সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।</p><p>ব্যবসায়ীদের অভিযোগ হচ্ছে ডিআইটিএফে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ কম থাকে, বিদেশি ক্রেতা ও আমদানিকারকদের উপস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে থাকে না। এ ছাড়া একই ধরনের পণ্যের অসংখ্য স্টল থাকে এবং নতুন পণ্য ও উদ্ভাবনী পণ্যের প্রদর্শনী থাকে কম। এ মেলা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিবর্তে বরং স্থানীয় কেনাবেচার কেন্দ্রে পরিণত হয়।</p><p>বাংলাদেশ তৈরি পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান প্রথম আলোকে বলেন, ডিআইটিএফ নামেই আন্তর্জাতিক। এখানে প্রতিবছর অনেক স্টল বসে, মানুষ কেনাকাটা করে। বলা যায়, এ মেলা অনেকটা সংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে। ফলে চলতে থাকুক।</p><p>ডিআইটিএফ নিয়ে কোনো পরামর্শ আছে কি না, তা জানতে চাইলে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘এ মেলা থেকে সামান্য যেসব রপ্তানি আদেশ আসে, তা থেকে রপ্তানি কতটুকু হয় চিন্তার বিষয়। দায়িত্বে থাকলে মেলাটিকে আন্তর্জাতিক রূপ দিতে বৈচিত্র্যপূর্ণ রপ্তানি পণ্য উৎপাদকদের বিনা মূল্যে এখানে বসতে দিতাম।’</p>

নভেম্বর ৭, ২০২৬
মিরপুরে যাত্রীবাহী বাস পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা
মিরপুরে যাত্রীবাহী বাস পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা

<p>রাজধানীর মিরপুর-১২ নম্বর এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা। তবে বাসের কর্মী ও স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নেভান বলে জানিয়েছে পুলিশ।</p><p>শনিবার রাত ১০টার দিকে মিরপুরের পল্লবী মেট্রোস্টেশনের নিচে বিহঙ্গ পরিবহনের একটি বাসে এ ঘটনা ঘটে। এতে কেউ হতাহত না হলেও বাসের দুটি আসন আংশিক পুড়েছে।</p><p>ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার প্রথম আলোকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, বাসটি মাত্র ট্রিপ শেষ করে দাঁড়িয়ে ছিল এবং সম্পূর্ণ ফাঁকা ছিল, ফলে সৌভাগ্যবশত কোনো ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।</p><p>ডিসি বলেন, বাসের ভেতরে কর্মীরা যখন ট্রিপের টাকা গুনছিল, ঠিক তখনই বাইরে থেকে এই অগ্নিসংযোগের চেষ্টা চালানো হয়। আগুন দ্রুত নেভানোর কারণে বাসের শেষ দিকের দুটি সিটের ওপরের অংশ ছাড়া আর কোনো বড় ক্ষতি হয়নি।</p><p>সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করা হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।</p><p>এদিকে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বারিধারা এলাকায় প্রগতি সরণিতে বৈশাখী পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এর আগের দিন রাজধানীর রায়েরবাজারে কৃষি মার্কেটের সামনে একটি কুরিয়ার সার্ভিসের কাভার্ড ভ্যানে বিস্ফোরণ ও আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এতে গাড়ির চালক আহত হয়েছেন।</p>

নভেম্বর ৭, ২০২৬
সামিরা খান মাহি হলেন মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০২৬, মুকুট পরালেন তানজিয়া মিথিলা
সামিরা খান মাহি হলেন মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০২৬, মুকুট পরালেন তানজিয়া মিথিলা

মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০২৬ হলেন অভিনেত্রী ও মডেল সামিরা খান মাহি। তাঁকে মুকুট পরান এর আগের মুকুট জেতা তানজিয়া জামান মিথিলা।

নভেম্বর ৭, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”

পোশাকের ট্যাবু ভেঙে ‘সংস্কৃতির সমতার’ বার্তায় যবিপ্রবিতে ‘লুঙ্গি প্যারেড’

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।

হাসপাতালে খালেদা আক্তার কল্পনা

অসুস্থ হয়ে পড়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী খালেদা আক্তার কল্পনাকে।