<p>রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত বাবুডাইং আলোর পাঠশালার স্কাউট ও কাব কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রতিনিধিদল। গত মঙ্গলবার দুপুরে বিদ্যালয়ে পৌঁছালে শিক্ষার্থীদের বর্ণাঢ্য অভ্যর্থনা ও ঐতিহ্যবাহী নাচের মাধ্যমে অতিথিদের বরণ করা হয়।</p><p>পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশ স্কাউটস রাজশাহী অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মোছা. জান্নাতুল ফেরদৌস সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই বিদ্যালয়ের স্কাউট সদস্যদের পরিপূর্ণ পোশাক, শৃঙ্খলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অত্যন্ত প্রশংসনীয়। শিক্ষার্থীরা যাতে পিএস ও শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড অর্জন করতে পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-15/bxmysu34/WhatsApp_Image_2026_10_14_at_10_12_39_PM.jpeg"><figcaption>রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে বাবুডাইং আলোর পাঠশালার স্কাউট কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সমবেত ছবি।</figcaption></figure><p>দিনব্যাপী এ আয়োজনে প্যাক ও ট্রুপ মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন আঞ্চলিক উপ-কমিশনার হেলাল উদ্দিন শেখ নাসিম, উপজেলা স্কাউট সম্পাদক মো. আনোয়ারুল ইসলাম, বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শংকর চন্দ্র দাস ও লুইশ মুর্মুসহ অন্যান্য শিক্ষক ও স্কাউট নেতারা।</p><p>বক্তারা বলেন, স্বল্প সময়ে বাবুডাইং আলোর পাঠশালা স্কাউট গ্রুপ উপজেলা ও জেলায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। আসন্ন ৩০ অক্টোবর নাটোরে সপ্তম আঞ্চলিক কাব ক্যাম্পুরিতে অংশগ্রহণের খবরে আনন্দ প্রকাশ করে অতিথিরা বিদ্যালয়টির উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন। পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও ফটোসেশনের মধ্য দিয়ে দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকে।</p>
৫২ বছর বয়সে তৃতীয় সন্তানের মা হতে চলেছেন তিনি। অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর প্রকাশের এক দিন পর, ১৫ অক্টোবর নিউইয়র্কে প্রকাশ্যে দেখা গেল অভিনেত্রীকে।
<p>সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও কাল শনিবার সরকারি দপ্তরের পাশাপাশি ব্যাংকে স্বাভাবিক লেনদেন। একই সঙ্গে শেয়ারবাজারে লেনদেন হবে। দুর্গাপূজার ছুটি সমন্বয়ের কারণে কাল শনিবার ব্যাংক ও শেয়ারবাজার খোলা থাকবে। </p><p>শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের সব তফসিলি ব্যাংক ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিন বন্ধ থাকবে। তার পরের দুই দিন শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে সব মিলিয়ে টানা পাঁচ দিন (২০–২৪ অক্টোবর) ব্যাংক বন্ধ থাকবে।</p> <p>বাংলাদেশ ব্যাংক গত রোববার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে এই নির্দেশনা দিয়েছে। এতে ১৭ অক্টোবর (শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সাধারণ কর্মদিবসের মতো ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়।</p><p>৭ অক্টোবর পূজার ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার নবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে আগেই ছুটি ঘোষণা ছিল। পরদিন ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি। ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবারও নির্বাহী আদেশে ছুটি দিয়ে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর ছুটি ঘোষণা করা হয়। আর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তারা। তবে ২২ অক্টোবরের ছুটির পরিবর্তে আগামী শনিবার (১৭ অক্টোবর) সাপ্তাহিক ছুটির দিনে অফিস খোলা থাকবে</p>
উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখো, বিশ্বজুড়ে... | স্টাডি অ্যাব্রোড ফেয়ার ২০২৬ | পর্ব-০২
<p>নরসিংদীর পলাশ উপজেলার তিনটি গ্রামে শিয়ালের কামড়ে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার ভোর থেকে সকাল নয়টা পর্যন্ত উপজেলার ঘোড়াশাল পৌরসভার আটিয়াগাঁও এবং ডাঙ্গা ইউনিয়নের খিলপাড়া ও কামতাল গ্রামে এসব ঘটনা ঘটে। আটিয়াগাঁও গ্রামের লোকজন সকালে একটি শিয়ালকে গর্তে ফেলে হত্যা করেন।</p><p> শিয়ালের কামড়ে আহত ব্যক্তিরা হলেন মো. সাইফুল্লাহ (৪০), হেলেনা বেগম (৪৫), হাফিজা বেগম (৬০), খালেক মিয়া (৪০), মো. আল আমিন (৪০), তাসলিমা বেগম (৪৮), আনোয়ারা বেগম (৪৫), শাহিদা বেগম (৪৩), আবদুস সাত্তার (৬৫) ও সালেহা বেগম (৪৫)। তাঁরা ঘোড়াশাল পৌর এলাকা ও ডাঙ্গা ইউনিয়নের বাসিন্দা। তাঁরা নরসিংদী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।</p><p>আহত ব্যক্তিরা জানান, আজ ভোর সাড়ে পাঁচটা থেকে সকাল নয়টা পর্যন্ত আটিয়াগাঁও, খিলপাড়া ও কামতাল এলাকায় কয়েকটি শিয়াল একের পর এক মানুষকে কামড়াতে থাকে। তবে মোট কয়টি শিয়াল, তা কেউ জানাতে পারেননি। ভোরে কেউ নামাজ পড়তে মসজিদে যাচ্ছিলেন, আবার সকালে কেউ বাড়ির আঙিনায় বা আশপাশে কাজ করছিলেন। ওই সময় শিয়াল কামড় দেয়।</p><p>খিলপাড়া গ্রামের আহত আবদুস সাত্তার জানান, ভোরে তিনি মসজিদে নামাজ পড়তে যাচ্ছিলেন। পথে হঠাৎ একটি শিয়াল তাঁর পায়ে কামড় দেয়। আশপাশের লোকজন ছুটে এলে শিয়ালটি পালিয়ে যায়। তিনি বলেন, ‘নরসিংদী সদর হাসপাতালে গিয়ে ডাক্তার দেখিয়েছি, টিকা নিয়েছি। এলাকায় শিয়ালের আতঙ্ক আছে।’</p><p>আটিয়াগাঁওয়ের বাসিন্দা এইচ এম কাউসার হোসেন বলেন, ভোরে আটিয়াগাঁও গ্রামের খালেক মিয়া ও আরও দুই নারীকে একটি শিয়াল কামড় দেয়। স্থানীয় লোকজন শিয়ালটিকে ধাওয়া করে গ্রামের একটি বাড়ির পাশের গর্তে ফেলে হত্যা করেন।</p><p>শিয়ালের কামড়ে আহত ১০ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিপাশা মাসুক। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, হাসপাতালের র্যাবিস ভ্যাকসিন কেন্দ্র থেকে তাঁদের প্রত্যেককে টিকা দেওয়া হয়েছে। টিকা নিয়ে তাঁরা বাড়ি ফিরেছেন।</p>
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় সরকারি বরাদ্দের সার অন্য উপজেলায় পাচারকালে একজনকে আটক করেন স্থানীয় লোকজন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাঁকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। বিরোধীদের কর্মসূচি, আজকের রাজনৈতিক তৎপরতা, বিজেপির কঠোর অবস্থানের কারণ এবং দিপকের গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কা
ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ভিনু মানকড় ট্রফিতে দিল্লির অধিনায়ক আর্যবীর। আজ চণ্ডীগড়ের বিপক্ষে খেলা তাঁর ইনিংসে ১৯টি চার ও ৮টি ছক্কা।
ব্যবসা ও টেলিভিশন জগতে পরিচিতি পাওয়ার পর এবার আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে নতুন দায়িত্ব পেলেন মৌলভীবাজারের এই ব্রিটিশ-বাংলাদেশি তরুণী।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন