যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের তালিকা থেকে বাদ দিল দিল্লি পুলিশ

দিল্লির দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও প্রতিবাদের ঐতিহাসিক কেন্দ্র ‘যন্তর মন্তর’ চত্বরকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ডেজিগনেটেড প্রোটেস্ট সাইট’ এর তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

সারা দেশ

View more
শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা
শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

Video news
সারা বিশ্ব
ভারতে ৬৫০ বছরের পুরোনো শাহী মসজিদের অংশ কেন ভাঙতে চায় প্রশাসন?
ভারতে ৬৫০ বছরের পুরোনো শাহী মসজিদের অংশ কেন ভাঙতে চায় প্রশাসন?

হিন্দু ধর্মের মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে শাহী মসজিদের একটি অংশ সরিয়ে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়, আর তা নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মেলার সময় বাড়তি যানবাহনের চাপ ও ভক্তদের যাতায়াত সহজ করার জন্য ওই সড়ক প্রশস্ত করা জরুরি।

ভারতে সাবান-শ্যাম্পুর প্যাকেটেও নিরামিষের চিহ্ন দেওয়ার নির্দেশ
ভারতে সাবান-শ্যাম্পুর প্যাকেটেও নিরামিষের চিহ্ন দেওয়ার নির্দেশ

সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট প্যাকেটজাতে সংশোধন বিধি জারি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নির্দেশ নাঅনুযায়ী, কোনো প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান আমিষজাত না নিরামিষজাত, তা প্যাকেটের গায়ে নির্দিষ্ট চিহ্নের মাধ্যমে জানাতে হবে।

তথ্যপ্রযুক্তি
ইজিবাইকের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে নারী পর্যটকের মৃত্যু
ইজিবাইকের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে নারী পর্যটকের মৃত্যু

কক্সবাজারে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (টমটম) চলন্ত অবস্থায় চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সীমা আক্তার নামে এক নারী পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।

‘আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই’
‘আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই’

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামকে তার এলাকার ‘বড় ভাই’ পরিচয় দিয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন থানার কার্যক্রম ও তদন্তকাজে প্রভাব খাটান। তবে এ অভিযোগের সত্যতাও আলাদাভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ফ্লাইদুবাইয়ের কো-পাইলট একাই হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত
ফ্লাইদুবাইয়ের কো-পাইলট একাই হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত

ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে সহকর্মীর ওপর হামলা ও বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত কো-পাইলট সম্ভবত একাই এই কাজ করেছিলেন। ইসরায়েলি সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে রবিবার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।

মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা, ২ কিশোর গ্রেপ্তার
মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা, ২ কিশোর গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহাম্মদকে (৪৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

তুষারঝড়ে ফিরে যায় দুই দল, থামেননি শাকিল
তুষারঝড়ে ফিরে যায় দুই দল, থামেননি শাকিল

চারদিকে শুধু সাদা আর সাদা। তুষারের ঘন পর্দা ভেদ করে কয়েক মিটারের বেশি সামনে দেখা যাচ্ছিল না। হিমশীতল বাতাস শরীরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল ঝড়ের গতিতে। পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুসমান নরম বরফে ডুবে যাচ্ছিল।

নীল দহন
নীল দহন

টরন্টো শহরের শীতের আলাদা এক ভাষা আছে।সেই ভাষা শব্দে নয়, তুষারে লেখা। জানালার ওপারে নিরবচ্ছিন্ন সাদা ঝরনা নেমে আসে, রাস্তার আলো কুয়াশা আর বরফের ভেতর ম্লান হয়ে যায়, আর মানুষ বুঝতে শেখে, পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর নীরবতাও কখনো কখনো খুব জোরে কথা বলে।সেদিনও তেমনই এক সন্ধ্যা।বাইরে মাইনাস দশ ডিগ্রি। ফায়ারপ্লেসে জ্বলতে থাকা আগুনের লালচে আলো ঘরের দেয়ালে ছায়া এঁকে দিচ্ছিল। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। আমরা তিনজন বসে গল্প করছিলাম।সায়েম ভাই, আমাদের কোম্পানির সিনিয়র লিড ইঞ্জিনিয়ার। প্রবাসে এসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যাদের ঘরে ঢুকলেই মনে হয় বহুদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরেছি। ভাবিও ঠিক তেমনই। তার আন্তরিকতা কখনো অতিথিপরায়ণতা বলে মনে হয় না; মনে হয় বড় বোনের মমতা।কফির কাপ নামিয়ে ভাবি হঠাৎ আমার দিকে তাকালেন।—নীল, একটা কথা বলব?মৃদু হেসে বললাম,—বলুন, ভাবি।—রাগ করবে না তো?—আপনার ওপর রাগ করার সাহস আমার নেই।তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—এত বছর হয়ে গেল। ক্যারিয়ার হয়েছে, নিজের অবস্থান হয়েছে। কিন্তু নিজের জন্য কী করলে? একা একা আর কত দিন? বিয়ে করার কথা কখনো ভাবো না?আমি হেসে বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলাম।—সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় নাকি, ভাবি?সায়েম ভাই চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন।—তোমার এই কথাটাই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। সারা দিন অফিসে তোমাকে দেখি। কাজে মন, বইয়ে মন, গিটার বাজাও, ভ্রমণ করো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, জীবন একেবারে গুছিয়ে নিয়েছ। অথচ দিনের শেষে তুমি একাই ফিরে যাও।একটু থেমে তিনি আবার বললেন,—কখনো কি কাউকে ভালোবেসেছিলে?ঘরটা হঠাৎ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।ফায়ারপ্লেসের কাঠে আগুন ফেটে ছোট্ট একটা শব্দ হলো।আমি উত্তর দিলাম না।জানালার ওপারে তাকিয়ে রইলাম। সাদা তুষারের ভেতর হঠাৎ ভেসে উঠল বহু বছরের পুরোনো আরেকটা আকাশ। অনেক দূরের একটা বিকেল। আমি ধীরে বললাম,—মানুষ কখনো কখনো একটা গল্প কাউকে বলে না। কারণ, গল্পটা বললে সে আবার সেই সময়ে ফিরে যায়।ভাবি মৃদুস্বরে বললেন,—আজ ফিরে যাও। আমরা শুনব।আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। কফির মগটা টেবিলে রেখে বললাম,—জানেন ভাবি, পৃথিবীর সব ভালোবাসা মিলনের গল্প নয়। কিছু ভালোবাসা শুধু নীরবে মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকে। কারও কাছে কোনো দাবি করে না, কোনো অধিকারও চায় না। শুধু মানুষটাকে সারা জীবন বদলে দেয়। আমার গল্পটাও তেমন।আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা। তখন ঢাকার উত্তরায় থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার পক্ষে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হতো না। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা, বাসাভাড়া আর খরচ চালাতাম। উত্তরার একটা পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠার ছোট্ট ঘর ছিল আমার ঠিকানা। ঘরটা বড় ছিল না। একটা খাট, একটা পড়ার টেবিল, বইয়ের তাক আর জানালার পাশে রাখা পুরোনো একটা গিটার। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল ছাদ।সন্ধ্যা নামার আগে পড়ন্ত রোদ যখন আকাশজুড়ে লালচে রং ছড়িয়ে দিত, আমি গিটার হাতে ছাদে উঠে যেতাম। কখনো বাজাতাম। কখনো বই পড়তাম। কখনো কিছুই করতাম না। শুধু আকাশ দেখতাম। হয়তো মানুষ একা থাকলে আকাশের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।ঠিক এমনই এক বিকেলে প্রথম তাকে দেখি। আমাদের পাশের ছয়তলা বাড়ির একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। অদ্ভুত শান্ত একটি মেয়ে। তার হাতে কোনো মোবাইল ছিল না। কোনো বইও নয়। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল।কিন্তু আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল তার চোখ। কিছু কিছু চোখ থাকে, যেগুলোকে সুন্দর বলা যায় না। কারণ, সুন্দর শব্দটা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।সেই চোখ দুটো যেন নিজের ভেতর একটা বিকেল লুকিয়ে রেখেছিল। আমি তার নাম জানতাম না। কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। নিজের মনেই একটা নাম দিয়েছিলাম—‘সুনয়না’।নামটা শুধু আমার ছিল। আমার কল্পনার। আমার নীরবতার। তার বাস্তব নাম কী ছিল, তখনো জানতাম না।তার পর থেকে প্রতিদিন বিকেলে আমি অপেক্ষায় থাকতাম। ছাদে উঠতাম। আর কিছুক্ষণ পর সে এসে দাঁড়াত সেই বারান্দায়।আমাদের মধ্যে কখনো কথা হয়নি। চোখাচোখিও খুব কম। তবু মনে হতো, বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের জীবন অদৃশ্য কোনো সেতুতে এসে মিলেছে।কখনো তাকে অনুসরণ করিনি। তার সম্পর্কে খোঁজ নিইনি। কারণ, দূরত্বেরও একটা সৌন্দর্য আছে। সব মানুষকে কাছে গিয়েই জানতে হয় না। কিছু মানুষ দূর থেকেই হৃদয়ের ভেতর জায়গা করে নেয়।এভাবেই কেটে গেল কয়েক মাস। একদিন বিকেলে ছাদে উঠে দেখলাম, বারান্দাটা ফাঁকা। ভাবলাম, হয়তো কোথাও গেছে।পরদিনও এল না।তারপর আরও এক দিন।এক সপ্তাহ।এক মাস।ঋতু বদলে গেল।আকাশের রং বদলে গেল। কিন্তু সেই বারান্দায় আর কাউকে দেখা গেল না। বুঝলাম, কিছু অপেক্ষার কোনো উত্তর হয় না।তারপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ এসে গেল। পড়াশোনা, প্রজেক্ট, ইন্টারভিউ—জীবন অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করল। তবু মাঝেমধ্যে বিকেলের আকাশ দেখলে মনে হতো, কোথাও যেন একটা বারান্দা এখনো খালি দাঁড়িয়ে আছে। আর সেখানে কেউ একজন আর কখনো ফিরে আসবে না।অফিসে যোগ দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথমবার তার সঙ্গে কথা হলো।সেদিন দুপুরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কাচঘেরা অফিসের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো লম্বা দাগ টেনে নিচে নেমে আসছিল। ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এক কাপ কফি হাতে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পাশে এসে কেউ বলল,—এই সিটটা খালি?মুখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতরটা অকারণ ধক করে উঠল।সে।উত্তরার সেই বারান্দার মেয়েটি।আমি সামান্য হাসলাম।—অবশ্যই।সে বসে কফির কাপ নামিয়ে বলল,—আমি নতুন। এখনো কাউকে তেমন চিনি না।—আমিও খুব পুরোনো নই।সেদিনের কথোপকথন ছিল খুব সাধারণ। অফিস, কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার যানজট; এর বেশি কিছু নয়। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে কোনো আয়োজন লাগে না। যেন বহুদিনের চেনা।তার নাম জানলাম, সুস্মিতা।আমি নামটা মনে রাখলাম। তবু নিজের ভেতরে সে রয়ে গেল অন্য নামে—‘সুনয়না’।এরপর ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়ল।অফিস শেষে মাঝেমধ্যে সবাই মিলে চা খেতে যেতাম। কোনো প্রজেক্ট শেষ হলে পুরো টিম রাত পর্যন্ত কাজ করত। সেই সব দীর্ঘ সন্ধ্যায় সুস্মিতাকে নতুন করে চিনতে শুরু করলাম।সে খুব কম কথা বলত। অকারণ হাসত না। তবে কেউ সমস্যায় পড়লে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত।একদিন জানতে পারলাম, সে রবীন্দ্রসংগীত শেখে।আরেক দিন শুনলাম, অবসরে জলরঙে ছবি আঁকে।আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, মানুষকে দূর থেকে দেখলে তার সৌন্দর্য দেখা যায়; কাছে এলে দেখা যায় তার নীরবতা। আর নীরবতাই একজন মানুষকে সবচেয়ে আলাদা করে।সেদিন অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বৃষ্টি থেমেছে। রাস্তার বাতিগুলো ভেজা ডামারের ওপর হলুদ আলো ফেলছে। আমি বললাম,—কফি খাবেন?সে একটু ভেবে মৃদু হেসে বলল,—আজ খাওয়া যেতে পারে।ছোট্ট একটি ক্যাফেতে আমরা জানালার পাশে বসলাম। বাইরে গাড়ির আলো ভেজা রাস্তায় ভেঙে পড়ছিল।অনেকক্ষণ গল্প হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি, বই, সিনেমা, ভ্রমণ, প্রিয় ঋতু। কথার ফাঁকে হঠাৎ সে জিজ্ঞেস করল,—আপনি এত চুপচাপ কেন?আমি হেসে বললাম,—সবাই সব কথা বলতে পারে না।সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,—আমার মনে হয়, যারা কম কথা বলে, তাদের ভেতরে অনেক গল্প জমে থাকে।আমি উত্তর দিলাম না। সত্যিই আমার ভেতরে একটি গল্প ছিল। যার শুরু হয়েছিল উত্তরার এক ছাদের বিকেলে।বহুবার ভেবেছি, আজ বলব। বলব, কয়েক বছর আগে প্রতিদিন বিকেলে আমি এক অচেনা মেয়েকে আকাশ দেখতে দেখতাম। বলব, তার জন্যই আমি সন্ধ্যার অপেক্ষা করতাম। বলব, তাকে না জেনেই একটা নাম দিয়েছিলাম।কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সত্যি কথাটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। আমি পারলাম না। শুধু কফির কাপে আঙুল ঘুরিয়ে যেতে লাগলাম।ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তার মুখে খুব কোমল একটা হাসি ফুটে উঠল। সে ফোন ধরল। নরম গলায় বলল,—হ্যাঁ... আমি বের হচ্ছি... আর পাঁচ মিনিট।ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—আমাকে উঠতে হবে।আমি শুধু মাথা নাড়লাম।ক্যাফের দরজার বাইরে এসে দেখি, একটা গাড়ি ধীরে ধীরে এসে থামল। গাড়ি থেকে একজন নেমে ছাতা খুলে তার দিকে এগিয়ে এল। সুস্মিতার মুখে যে হাসি ফুটে উঠল, তাতে কোনো দ্বিধা ছিল না, কোনো অভিনয়ও নয়। সে মানুষটিকে এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দেখল, যেমন মানুষ নিজের আপনজনকে দেখে। বিদায় নেওয়ার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—কাল দেখা হবে।আমি বললাম,—ভালো থাকবেন।গাড়িটা ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।আমি অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। ভেজা শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হলো, কিছু স্বপ্ন ভাঙার শব্দ বাইরে শোনা যায় না। সেগুলো শুধু মানুষের ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে।সেদিন রাতেই প্রথম বুঝেছিলাম, ভালোবাসা সব সময় কাউকে পাওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো সময়মতো কিছু না বলার নামও ভালোবাসা।পরদিন অফিসে গিয়ে সুস্মিতাকে দেখলাম না। ভাবলাম, হয়তো ছুটিতে আছে।পরদিনও এল না।এরপর আরও কয়েক দিন কেটে গেল।কাজের ব্যস্ততা আমাকে ডেস্কে আটকে রাখলেও মনটা বারবার করিডরের দিকে চলে যেত। এক বিকেলে সাহস করে মানবসম্পদ বিভাগের এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করলাম,—সুস্মিতা কি ছুটিতে?তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—জানেন না? ওর স্বামীকে সিঙ্গাপুরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়ো করেই ও চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। যাওয়ার আগেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। আপনি সেদিন ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে ছিলেন, তাই হয়তো দেখা হয়নি।আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। অদ্ভুতভাবে বুকের ভেতর কোনো বিস্ফোরণ ঘটল না। শুধু একটা নিঃশব্দ শূন্যতা নেমে এল, যেন বহু বছর আগে উত্তরার সেই বারান্দাটা আবার একবার খালি হয়ে গেল।এরপর জীবন খুব দ্রুত বদলে গেল। কাজের চাপ বাড়ল। পদোন্নতি হলো। নতুন শহর, নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। একসময় কানাডার একটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। বন্ধুরা বলেছিল,—স্বপ্নপূরণ হয়ে গেল!হয়তো সত্যিই হয়েছিল। কিন্তু মানুষ বুঝতে শেখে, সব স্বপ্নের সঙ্গে সব আনন্দ আসে না। কিছু সাফল্য খুব নিঃসঙ্গও হয়।টরন্টোতে আসার পর প্রথম শীতেই আমি বুঝলাম, তুষার শুধু শহর ঢেকে দেয় না, মানুষের স্মৃতিকেও সাদা করে দিতে চায়। কিন্তু সব স্মৃতি ঢেকে যায় না। কখনো কখনো কোনো কফির গন্ধ, কোনো বিকেলের আলো কিংবা কোনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী মানুষের ছায়া হঠাৎ বহু বছর আগের দরজা খুলে দেয়। সেই দরজার ওপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে উত্তরার সেই বিকেল।আর একটি নাম, যে নাম পৃথিবীর কেউ জানত না। শুধু আমি।সুনয়না।’ফায়ারপ্লেসের আগুন তখন ধীরে ধীরে নিভে আসছে। কথা শেষ করতেই ঘরজুড়ে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এল। ভাবি কফির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কাপটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। সায়েম ভাই উঠে এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—তাহলে তুমি তাকে কোনো দিন জানাওনি?আমি মৃদু হেসে মাথা নাড়ালাম।—না।—আফসোস হয় না?জানালার বাইরে তাকালাম। তুষার পড়ছে। প্রতিটি সাদা কণা নিঃশব্দে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। আমি ধীরে বললাম,—আফসোস হয় সেই ভালোবাসার জন্য, যেটা কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজের করতে হয়। আমার গল্পে তেমন কিছু ছিল না। সে তার জীবন নিয়ে সুখী ছিল। আমি কেন আমার অনুভূতির ভার তার কাঁধে চাপিয়ে দিতাম?ভাবি খুব আস্তে বললেন,—কিন্তু তুমি তো একা রয়ে গেলে।আমি হেসে উত্তর দিলাম,—মানুষ সব সময় কারও অভাবে একা থাকে না। কখনো কখনো একটি সুন্দর স্মৃতির সঙ্গেও সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁয়েছে। বাইরে তুষারপাত আরও ঘন হয়েছে। বিদায় নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সায়েম ভাই আমার কাঁধে হাত রাখলেন।—নীল...—জি?—জীবনে যদি আবার কোনো বিকেল এসে দাঁড়ায়, এবার যেন চুপ করে থেকো না।আমি কোনো উত্তর দিলাম না। শুধু মৃদু হাসলাম।বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির জানালার বাইরে অসংখ্য তুষারকণা উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো, মানুষ আসলে কাউকে ভুলে যায় না। সে শুধু স্মৃতির সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যায়।সেদিন রাতে ঘরে ফিরে বহুদিন পর জানালার পাশে দাঁড়ালাম। দূরে বরফে ঢাকা শহর ঘুমিয়ে আছে।অন্ধকার কাচে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হলো, সময় আমার চুলে রুপালি রং ছড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু উত্তরার সেই একফালি আকাশ এখনো কোথাও রয়ে গেছে।আমি চোখ বন্ধ করলাম। কল্পনায় আবার একটি বারান্দা ভেসে উঠল। সেখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ আজও স্পষ্ট নয়। শুধু চোখ দুটো স্পষ্ট। আমি নিঃশব্দে বললাম,—ভালো থেকো, সুনয়না।জানালার ওপারে তুষার পড়তেই থাকল। আর আমি বুঝলাম, কিছু ভালোবাসার শেষ অধ্যায় মিলনে লেখা হয় না। সেগুলো লেখা থাকে নীরবতায়।উত্তরা, ঢাকা

কনসিলার, ব্লাশ আর নিউড লিপ: মাত্র ৩ প্রোডাক্টেই কীভাবে ন্যাচারাল গ্ল্যাম আনেন জাহ্নবী কাপুর
কনসিলার, ব্লাশ আর নিউড লিপ: মাত্র ৩ প্রোডাক্টেই কীভাবে ন্যাচারাল গ্ল্যাম আনেন জাহ্নবী কাপুর

মেকআপ মানেই যেন অনেকগুলো প্রোডাক্ট, ঘন্টার পর ঘন্টা প্রস্তুতি। কিন্তু বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুর সাম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন নিজের বিউটি লুক তৈরির পেছনের গল্প। যেখানে তিনি বলেছেন মাত্র তিনটি ধাপে তার সাজ হয়ে উঠেছে পরিপাটি, ফ্রেশ ও নেচারাল।প্রতিদিনের মেকআপে খুব বেশি কিছু না করেও কীভাবে ফ্রেশ ও গোছানো দেখানো যায়, জাহ্নবীর এই রুটিন তারই সহজ উদাহরণ। আরও মজার বিষয়, মেকআপ ব্রাশ বা স্পঞ্জের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে আঙুল দিয়েই তিনি বেশির ভাগ প্রোডাক্ট ব্লেন্ড করেছেন। ফলে পুরো সাজটি যেমন দ্রুত করা যায়, তেমনি এর ফিনিশও থাকে বেশ স্বাভাবিক। তার সাজের মূল তিনটি বিষয় হচ্ছে সতেজ বেস, নরম গোলাপি ব্লাশ আর নিউড-পিঙ্ক ঠোঁট। View this post on Instagram A post shared by Janhvi Kapoor (@janhvikapoor) ভারী বেস নয়, শুরু হোক কনসিলার দিয়েজাহ্নবীর রুটিনের প্রথম ধাপ কনসিলার। পুরো মুখে ভারী ফাউন্ডেশন লাগানোর বদলে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করছেন তিনি। চোখের নিচে সরাসরি অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে অল্প প্রোডাক্ট নিয়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ত্বকের রং কিছুটা সমান দেখালেও মুখ ভারী হয়ে যাচ্ছে না। এই ধরনের মেকআপে ব্লেন্ড করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর বাড়ানো যায়, এমন কনসিলারই ভালো। একবারে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে লাগানোই মূল কৌশল।গালে নরম গোলাপি আভাবেসের পর জাহ্নবী ব্যবহার করছেন সফট পিঙ্ক লিকুইড ব্লাশ। গালে সরাসরি অল্প ব্লাশ নিয়ে আঙুল দিয়ে ট্যাপ করে ব্লেন্ড করেছেন তিনি। ফলে গালে ভারী রঙের বদলে এসেছে হালকা, সতেজ আভা। এই লুকের জন্য ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ বেশ কার্যকর। কারণ অল্প অল্প করে রং বাড়ানো যায়, ফলে মুখে ব্লাশের দাগও স্পষ্ট থাকে না।ঠোঁটে নিউড-পিঙ্কজাহ্নবীর পুরো মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটের রংও বেশ নরম। শেষ ধাপে তিনি ব্যবহার করেছেন নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। গালের গোলাপি আভা আর ঠোঁটের একই পরিবারের রং পুরো লুকটিকে করেছে আরও গোছানো। খুব ফ্যাকাশে বেইজ নিউডের বদলে গোলাপি, রোজি বা হালকা ব্রাউন আন্ডারটোনের নিউড বেছে নিলে ঠোঁট আরও স্বাভাবিক দেখাবে। দিনের সাজে লিপস্টিক পুরো ঠোঁটে না দিয়ে মাঝখানে অল্প লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ছড়িয়ে দিলেও পাওয়া যাবে আরও নরম ফিনিশ।চোখে শুধু এক কোট মাসকারাজাহ্নবী যে তিনটি মূল ধাপ দেখিয়েছেন, সেখানে মাসকারা ছিল না। তাই এটি মূল রুটিনের অংশ নয়; চাইলে বাড়তি সংযোজন হিসেবে রাখা যায়। বিশেষ করে দিনের সাজ সন্ধ্যার দিকে নিতে চাইলে এক বা দুই কোট মাসকারাই যথেষ্ট। এতে চোখ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হবে, কিন্তু পুরো মেকআপের স্বাভাবিক মেজাজ নষ্ট হবে না।ভ্রু থাকুক নেচারালএই লুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভ্রু। খুব গাঢ় করে আঁকার বদলে যেখানে ফাঁকা আছে, শুধু সেখানে হালকা করে ভরাট করাই যথেষ্ট। এরপর স্পুলি দিয়ে ভ্রু আঁচড়ে নিলে রংটা নরম হয়ে যাবে। এ জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য হবে ভ্রুকে স্পষ্ট করে আঁকা নয়, বরং একটু গোছানো দেখানো।ত্বক যেন ত্বকের মতোই দেখায়জাহ্নবীর মেকআপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এটাই। নিজের ত্বকের রং পুরোপুরি ঢেকে ফেলার চেষ্টা নেই। ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে প্রয়োজনমতো কনসিলার ব্যবহার করায় ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচারও দেখা যায়। এই লুক করতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ ভুল হতে পারে বারবার কভারেজ বাড়ানো। যেখানে প্রয়োজন শুধু সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করে থেমে যাওয়াই ভালো। এতে মেকআপ থাকবে হালকা, আর মুখও দেখাবে আরও স্বাভাবিক।ব্রাশ নয়, আঙুলেই ব্লেন্ডজাহ্নবীর রুটিন থেকে সবচেয়ে সহজে নেওয়া যায় যে কৌশল, সেটি হলো আঙুল দিয়ে মেকআপ ব্লেন্ড করা। কনসিলার ও ব্লাশের মতো লিকুইড বা ক্রিম প্রোডাক্ট অল্প করে আঙুলে নিয়ে ত্বকে ট্যাপ করে লাগালে দ্রুত কাজ হয় এবং প্রোডাক্টের পরিমাণও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সকালে এই পদ্ধতি বেশ সুবিধাজনক। একগাদা ব্রাশ বের করার দরকার নেই, আবার অতিরিক্ত মেকআপ করার ঝুঁকিও কমে।জাহ্নবীর তিন ধাপের সহজ রুটিনপুরো রুটিনকে একেবারে সহজ করে বললে, কনসিলার, ব্লাশ, নিউড লিপ। প্রথমে অল্প কনসিলার দিয়ে ত্বকের প্রয়োজনীয় অংশ সমান করুন। এরপর গালে নরম গোলাপি আভা দিন। সবশেষে নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। সব প্রোডাক্টই হালকা হাতে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এর সঙ্গে আরও একটু সাজানো লুক চাইলে যোগ করা যায় মাসকারা ও হালকা ভ্রু ডেফিনিশন। তবে মূল সৌন্দর্যটা থাকবে কম প্রোডাক্টে, হালকা হাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখায়।জাহ্নবী কাপুরের সাম্প্রতিক মেকআপ রুটিন শেষ পর্যন্ত খুব সাধারণ একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়। দৈনন্দিন গ্ল্যামের জন্য সবসময় অনেক কিছু দরকার হয় না। ত্বককে সমান করা, গালে একটু রং আর ঠোঁটে সামান্য উষ্ণতা এই তিনটিই যথেষ্ট হতে পারে। আসল কৌশল হলো মেকআপের স্তর হালকা রাখা এবং ত্বককে ত্বকের মতোই থাকতে দেওয়া।

ফরমাল পোশাকে গ্ল্যামারাস দেখালেন কিয়ারা
ফরমাল পোশাকে গ্ল্যামারাস দেখালেন কিয়ারা

ফ্যাশনের দুনিয়ায় কিয়ারা আদভানির সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখী স্টাইল সেন্স। রেড কার্পেটের ঝলমলে গ্ল্যামার, ফটোশুট লুক কিংবা দৈনন্দিন পোশাক-প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মতো করে স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে জানেন এই অভিনেত্রী। কখনো শাড়ি বা অন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকে তিনি হয়ে ওঠেন মোহময়ী, আবার কখনো পশ্চিমা পোশাকে ফুটিয়ে তোলেন আধুনিকতার ছাপ। তার সাম্প্রতিক ফটোশুটের লুকটিও সেই বহুমুখী ফ্যাশন ভাবনারই আরেকটি উদাহরণ। এবার কিয়ারার পছন্দ ছিল স্ট্রাকচার্ড পাওয়ার স্যুট। ক্যামেল-বেইজের একরঙা এই সাজে ছিল টেইলারিংয়ের নিখুঁত ছাপ, পুরুষালি পোশাকের অনুপ্রেরণা এবং নারীর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সবকিছুর সুন্দর সমন্বয়। পুরো লুকটি যেন দেখিয়ে দিল, পাওয়ার ড্রেসিং মানেই শুধু কঠোর বা ফরমাল হওয়া নয়, সঠিক কাট, রং ও স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস। কিয়ারার স্যুটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্ট্রাকচার্ড ওয়েস্টকোট। শরীরের উপরের অংশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানানসই এই ওয়েস্টকোটে ছিল গভীর ভি-নেকলাইন। সামনে একই ক্যামেল-বেইজ রঙের ছোট ছোট বোতামের সারি পোশাকটিতে এনে দিয়েছে পরিপাটি ফিনিশিং। ওয়েস্টকোটের ভেতরে কিয়ারা পরেছিলেন দুই রঙের বেইজ ও সাদা শার্ট। শার্টটির উষ্ণ বেইজ রঙের মূল অংশ ওয়েস্টকোটের সঙ্গে মিশে গেলেও নজর কেড়েছে এর ওভারসাইজড সাদা কলার। সঙ্গে ছিল স্টাইলিশ ফ্রেঞ্চ কাফ, যা পুরো পোশাকে এনে দিয়েছে খানিকটা ক্লাসিক ফরমাল আবহ। এর ওপর ছিল একই রঙের একটি স্ট্রাকচার্ড জ্যাকেট। টেইলারড শোল্ডার, পরিষ্কার ল্যাপেল এবং নিখুঁত কাটিংয়ের কারণে জ্যাকেটটি কিয়ারার সিলুয়েটকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে। নিচে ছিল একই ক্যামেল-বেইজ শেডের হাই-ওয়েস্টেড ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার্স। প্যান্টের বাড়তি ভলিউম একদিকে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, অন্যদিকে পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও বিলাসবহুল আবহ। প্রচলিত টাইয়ের বদলে কিয়ারার গলায় দেখা গেছে চিকন বেইজ নেকটাই। কলারের নিচে পরিপাটি করে গুঁজে রাখা এই টাই পুরুষদের ক্লাসিক টেইলারিংয়ের ছোঁয়া এনে দিয়েছে নারীর পাওয়ার স্যুটে। পুরো পোশাকে থাকা সূক্ষ্ম প্লেড প্যাটার্নও লুকটিকে একঘেয়ে হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। জুতার ক্ষেত্রেও টোনাল স্টাইলিংয়ের পথেই হেঁটেছেন কিয়ারা। পায়ে ছিল উটের রঙের পয়েন্টেড স্টিলেটো পাম্প। সূচালো অগ্রভাগের এই জুতা তার পায়ের রেখাকে আরও দীর্ঘ দেখিয়েছে এবং মাথা থেকে পা পর্যন্ত একরঙা বিন্যাসটিও অটুট রেখেছে। অ্যাক্সেসরিজে রেখেছিলেন একবারে ছিমছাম । একজোড়া সোনালি স্টেটমেন্ট কানের দুল এবং মানানসই একটি আংটিতেই নজর কেড়েছেন। এর সঙ্গে এভিয়েটর সানগ্লাস যোগ করে কিয়ারা পুরো লুকে এনেছেন আরও দৃঢ় ভাব। সানগ্লাসের উপস্থিতিই আত্মবিশ্বাসী বার্তাটিকে আরও জোরালো করেছে। চুল ও মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। পোশাকের কাটিং ও টেইলারিংকে লুকের মূল আকর্ষণ করে তুলতে কিয়ারা তার লম্বা, ঘন বাদামি চুল হালকা ঢেউ খেলানো এবং কিছুটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রেখেছেন। মেকআপে ছিল সফট-গ্ল্যাম আবহ- সুবিন্যস্ত ভ্রু, উষ্ণ টোনের আইশ্যাডো এবং নুড-গোলাপি লিপস্টিক। কিয়ারার এই লুকটি প্রমাণ করে, পাওয়ার ড্রেসিংয়ের আসল শক্তি পোশাকে যতটা, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসে। ক্যামেল-বেইজের শান্ত রং, নিখুঁত টেইলারিং, পুরুষালি টেইলারিংয়ের অনুপ্রেরণা  এই লুকে কিয়ারা তৈরি করেছেন এমন এক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, যা একই সঙ্গে স্মার্ট, আধুনিক ও নজরকাড়া। এসএকেওয়াই

ঘুম ঠিক না হলে কী হয়? জানুন সুস্থ থাকার সহজ উপায়
ঘুম ঠিক না হলে কী হয়? জানুন সুস্থ থাকার সহজ উপায়

ঘুম শরীর ও মনের পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ভেতরে শুরু হয় নানা জটিলতা, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকেই ঘুমকে অবহেলা করেন, অথচ সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে ভালো ঘুম। যখন ঘুম ঠিকমতো হয় না, তখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে সহজেই সর্দি-কাশি বা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়, যা অতিরিক্ত খাওয়া ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত কম ঘুম মানে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যাওয়া। মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এর প্রভাব ভয়াবহ। ঘুম কম হলে মন খারাপ লাগে, মনোযোগে ঘাটতি আসে, কাজের উদ্যম কমে যায়। অনেক সময় হতাশা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি হয়। শিক্ষার্থী বা কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়। তবে সুস্থ থাকার জন্য ঘুম ঠিক রাখার কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করা যায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং জেগে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। রাতে ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত — মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণে বাধা দেয়। শোবার ঘরকে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখা ঘুমের মান বাড়ায়। কফি বা চা রাতের বেলা এড়িয়ে চলাই ভালো। দিনের বেলা হালকা ব্যায়াম ও সকালের রোদে কিছুক্ষণ সময় কাটানো ঘুমে সহায়তা করে। আর ঘুমানোর আগে ভারী খাবার না খাওয়াও জরুরি। ঘুমকে যদি গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে শরীর একসময় সিগন্যাল দিতে শুরু করবে — মাথা ভার, মেজাজ খারাপ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল ইত্যাদি নানা রকম সমস্যা দেখা দেবে। তাই সুস্থ থাকতে হলে শুধু খাদ্য, ব্যায়াম বা ওষুধ নয় — একটি পরিপূর্ণ ঘুমই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।

দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট: জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ
দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট: জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ

বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নতুন সংকট। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে একটানা লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, এমনকি হাসপাতালের রোগীরাও অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তীব্র গরম ও অসহনীয় তাপদাহের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই ভুগছেন। শহরাঞ্চলে ফ্যান, এসি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গরমে হাঁসফাঁস করছেন মানুষ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে পানির পাম্প চলতে না পারায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দিনে প্রায় ৬-৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফিরে আসছে না। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানাগুলো এই বিদ্যুৎ সংকটে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছোট দোকানদাররা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবারদাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইটি ও অনলাইনভিত্তিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ ইন্টারনেট রাউটার, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়-রোজগারে বড় ধাক্কা লাগছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জেনারেশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সংকটের কারণে পুরো উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে আমদানি নির্ভর কয়লা ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সাময়িক এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং কমে আসবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কতদিন এমন দুর্ভোগ চলবে? বিশেষ করে যেসব এলাকায় দিনে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, তাদের জন্য এ আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে — তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং এর সমাধানে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিকল্প জ্বালানি উৎস যেমন সৌর ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে গুরুত্ব না দিলে প্রতি বছরই এ ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে। এ অবস্থায় মানুষ চায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও দ্রুত সমাধান। বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন আর এক নিত্যকার দুর্ভোগে পরিণত না হয় — সেই প্রত্যাশাই করছে সারাদেশ।

Follow us

Top week

ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে ৪ নতুন বিষয়: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষা

ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে ৪ নতুন বিষয়: শিক্ষামন্ত্রী

News অক্টোবর ৬, ২০২৬ 0

Rss feed news

জরুরি অবস্থা জারির পর খাইবার পাখতুনখাওয়ার রাজধানী পেশোয়ার হয়ে উঠেছে কনটেইনারের শহর
জরুরি অবস্থা জারির পর খাইবার পাখতুনখাওয়ার রাজধানী পেশোয়ার হয়ে উঠেছে কনটেইনারের শহর

<p>পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশ কয়েক দশক ধরে সহিংসতার মধ্যে দিয়ে গেলেও রাজধানী পেশোয়ার বেশির ভাগ সময় রাজনৈতিকভাবে স্থিতিশীলই ছিল।</p><p> এ থেকে বোঝা যায় যে ইসলামাবাদ ও পেশোয়ারের মধ্যে সামান্য হলেও একধরনের বোঝাপড়া ছিল। তবে গতকাল রোববার প্রদেশটিতে জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারি হওয়ার পর এ পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে গেছে। খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের ক্ষমতায় রয়েছে ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সরকার।</p><p> আগের দিন গত শনিবার দিবাগত রাতে পেশোয়ারে আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নেমেছিল। পুরো শহরের রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে গিয়েছিল। তবে গতকাল সকাল ছিল উষ্ণ ও রৌদ্রোজ্জ্বল। তারপরও দিনের শুরুতেই শহরজুড়ে একধরনের চাপা আতঙ্কের আবহ ছিল।</p><p> সকাল থেকেই বোঝা যাচ্ছিল যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক নেই। মুঠোফোনে কোনো সিগন্যাল নেই, আসন্ন বিপদের ইঙ্গিত ছিল স্পষ্ট।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/pakistan/iofmoj5vfk">‘খোঁজ নেই’ সোহেল আফ্রিদির, তিনি কি সত্যিই আটক হয়েছেন</a></aside><p>যদিও মাত্র কয়েক দিন আগেই পিটিআইয়ের লংমার্চের কারণে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পেশোয়ারে মুঠোফোনের সেবা বন্ধ ছিল।</p><p>পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ৪ অক্টোবর থেকে এ লংমার্চ শুরু হয়েছে। লংমার্চের গন্তব্য রাজধানী ইসলামাবাদ, যদিও বিক্ষোভ মিছিল এখনো প্রদেশের সীমানা অতিক্রম করেনি।</p><p>ইমরানের মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে পিটিআই ও পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের মুখোমুখি অবস্থানের মধ্যে গতকাল রোববার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সরকার খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা এবং গভর্নরের শাসন জারির ঘোষণা দেয়। সংবিধানের নিরাপত্তাসংক্রান্ত দুটি অনুচ্ছেদের আওতায় এ জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।</p><p>এর ফলে পিটিআই পরিচালিত প্রাদেশিক সরকারের সব কার্যক্রম কার্যত স্থগিত হয়ে গেছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/oy4g7wr3/Peshawar-city.jpg"><figcaption>দায়িত্ব পালনের জন্য নির্ধারিত স্থানে যাচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। ১১ অক্টোবর ২০২৬</figcaption></figure><p>যদিও আসন্ন বিপদের আশঙ্কায় গতকাল সকাল থেকেই পেশোয়ার থমথমে ছিল। পাকিস্তানের প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক ডনের এক প্রতিনিধি গতকাল সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকার পরিস্থিতি ঘুরে দেখেন।</p><p>ওই প্রতিনিধি বলেন, বাইরে বেরিয়ে দেখা গেল, শহরের বিআরটি বাসস্টেশনগুলো বন্ধ। সাধারণত ভোরেই এসব বাস চলাচল শুরু করে। ফিরদৌস চকে শিপিং কনটেইনার রেখে জিটি রোডও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।</p><p>ওই এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। জিটি রোড দিয়ে শুধু পথচারীদের চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল রোড থেকে ফিরদৌস চক পর্যন্ত জিটি রোডের বন্ধ দোকানগুলোর সামনে অনেক পুলিশ সদস্য বসে ছিলেন। জায়গাটি মালিক সাদ শহিদ চক নামেও পরিচিত।</p><p>বালা হিসার দুর্গের ফটকও বন্ধ ছিল। সেখানে একদল পুলিশ সদস্য ফুটপাতে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। সেখানে ফ্রন্টিয়ার কোরস নর্থের সদর দপ্তর।</p><blockquote>ইমরানের মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে পিটিআই ও পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের মুখোমুখি অবস্থানের মধ্যে গতকাল রোববার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সরকার খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা এবং গভর্নরের শাসন জারির ঘোষণা দেয়। সংবিধানের নিরাপত্তাসংক্রান্ত দুটি অনুচ্ছেদের আওতায় এ জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।</blockquote><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/pakistan/o0kovpa9iu">পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা জারি</a></aside><p>এখান থেকে কয়েক পা দূরেই সুরি চক। কাছেই খাইবার পাখতুনখাওয়া (কেপি) প্রাদেশিক পরিষদ। এখান থেকে জিটি রোড ধরে যাওয়া যায় খাইবার রোডে। এ সড়কেই মূলত শহরের রেড জোনগুলো অবস্থিত।</p><p>খাইবার রোডের দিকে যাওয়ার সড়কটি কনটেইনার দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য স্থাপন করা গেটটিও বন্ধ ছিল। সুরি পুল চত্বরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্যকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। নানা ধরনের ও নানা মতের বিক্ষোভকারীদের কাছে এ জায়গা সবচেয়ে পছন্দের সমাবেশস্থল।</p><p>কেন্দ্রীয় কারাগারের কাছে জাস্টিস রুস্তম কিয়ানি রোডের শেষ প্রান্তে, যেখান থেকে সড়কটি শের শাহ সুরি রোডের দিকে গেছে, সেখানে একটি পুরোনো সাঁজোয়া যান রাখা ছিল। সেখানে দুই পুলিশ সদস্য পথচারীদের আর সামনে না এগোতে বলছিলেন।</p><p>ডনের প্রতিনিধি পুলিশের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে কয়েকজনের সঙ্গে সামনে এগিয়ে যান। কিন্তু এমপিএ হোস্টেলের ঠিক পাশে বিপুলসংখ্যক পুলিশ অবস্থান করছিল। পুলিশ সদস্যদের কয়েকজন চিৎকার করে তাঁদের ফিরে যেতে এবং শোবা বাজার হয়ে ঘুরে যেতে বলেন।</p><blockquote>সাহিবজাদা আবদুল কাইয়ুম রোডে গভর্নরের বাসভবন। সেখানে নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল খুবই কড়া। গভর্নরের বাসভবনের দিকে যাওয়া প্রত্যেক ব্যক্তিকে পুলিশ সদস্যরা তল্লাশি করছিলেন। দূর থেকে গভর্নরের বাসভবনের বাইরে বিপুলসংখ্যক গাড়ি পার্ক করে রাখা দেখা গেছে।</blockquote><p>শের শাহ সুরি রোডের সঙ্গে খাইবার বাজারের সংযোগকারী জেল পুলও বন্ধ ছিল। খাইবার পাখতুনখাওয়া সরকারের প্রাণকেন্দ্র সিভিল সেক্রেটারিয়েট ছিল পুরোপুরি জনশূন্য। শুধু ‘চিফ সেক্রেটারি’র কার্যালয়ের বাইরে কয়েকটি গাড়ি পার্ক করা ছিল।</p><p>সাহিবজাদা আবদুল কাইয়ুম রোডে গভর্নরের বাসভবন। সেখানে নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল খুবই কড়া। গভর্নরের বাসভবনের দিকে যাওয়া প্রত্যেক ব্যক্তিকে পুলিশ সদস্যরা তল্লাশি করছিলেন। দূর থেকে গভর্নরের বাসভবনের বাইরে বিপুলসংখ্যক গাড়ি পার্ক করে রাখা দেখা গেছে।</p><p>উল্টো দিক দিয়ে খাইবার রোডের দিকে হাঁটতে গিয়ে দেখা গেল, একটি সাঁজোয়া যান (এপিসি), কারাগারের একটি ভ্যান ও দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী পুলিশ বহনকারী একটি ট্রাক মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে যাচ্ছে।</p><p>হেঁটে কয়েক মিনিটের দূরত্বে আর্মি স্টেডিয়ামের কাছে খাইবার রোডে একটি ব্যারিকেড দেখা গেল। সড়কটি পুলিশ বন্ধ করে রেখেছে। সেখান দিয়ে কাউকে যেতে দেওয়া হচ্ছিল না।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-12/vek80nti/Peshawar-becomes-city-of-containers.jpg"><figcaption>পেশোয়ারে সড়কে সতর্ক অবস্থানে পুলিশ। চলছে জোর তল্লাশি। ১১ অক্টোবর ২০২৬</figcaption></figure><p>ইউনিভার্সিটি রোড ও এয়ারপোর্ট রোডকে সংযুক্ত করা খাইবার রোডের অংশে আমন চক খোলা ছিল, তবে যান চলাচল ছিল খুবই কম। আমন চকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিলেন।</p><p>স্টেডিয়াম চকেও কনটেইনার রাখা হয়েছিল। ফলে দুই দিকের গাড়ি এক লেনে চলাচল করছিল।</p><p>মূল রোডের সঙ্গে সদর রোডকে সংযুক্ত করা আরবাব রোডেও একটি কনটেইনার রাখা হয়েছিল। সেখানে প্রেজেন্টেশন কনভেন্ট স্কুলের বাইরে একটি গাছের নিচে কয়েকজন পুলিশ সদস্য অলসভাবে বসে ছিলেন।</p><p>বহু বছর ধরে পেশোয়ার থেকে বিক্ষোভ মিছিল ইসলামাবাদে যাওয়ার কারণে পাকিস্তানের রাজধানী কনটেইনার দিয়ে দুর্গের মতো করে ফেলতে হতো। কিন্তু এবার ইসলামাবাদই পেশোয়ারে কনটেইনার পাঠিয়েছে। এসব কনটেইনার আর কত দিন এখানে থাকবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। গতকাল বিকেলে ইন্টারনেট সংযোগও বন্ধ হয়ে গেছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/pakistan/15enfzydpi">পাকিস্তান সরকার–পিটিআইয়ের মধ্যে কি আসলেই সমঝোতা করাতে পারবেন মাওলানা ফজলুর রহমান</a></aside>

অক্টোবর ১২, ২০২৬
প্রতিটি পর্যায়ে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছি আমরা
প্রতিটি পর্যায়ে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছি আমরা

১৯৯৫ সালে আরবান ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের যাত্রা শুরু হয়েছিল একটি সুস্পষ্ট স্বপ্ন নিয়ে।

অক্টোবর ১২, ২০২৬
চালকবিহীন ট্যাক্সি এখন বাস্তবতা নাকি বাড়তি ঝুঁকি
চালকবিহীন ট্যাক্সি এখন বাস্তবতা নাকি বাড়তি ঝুঁকি

চালকবিহীন ট্যাক্সিতে নেই কোনো স্টিয়ারিং হুইল, নেই কোনো ব্রেক প্যাডেল, এমনকি সামনের সিটেও নেই কোনো চালক!

অক্টোবর ১২, ২০২৬
পিএইচডি শিক্ষার্থী থেকে রাজপথের পোস্টার গার্ল: ভারতের জেনজি আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠা নেহা বোরাকে নিয়ে ১০টি তথ্য, ছবি ও ভিডিও
পিএইচডি শিক্ষার্থী থেকে রাজপথের পোস্টার গার্ল: ভারতের জেনজি আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠা নেহা বোরাকে নিয়ে ১০টি তথ্য, ছবি ও ভিডিও

ভারতে তরুণদের আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছেন ২৯ বছর বয়সী এক পিএইচডি শিক্ষার্থী নেহা বোরা। রাজপথের পোস্টারগার্ল হয়ে উঠেছেন তিনি আইকনিক সব ছবি ও ভিডিওতে।

অক্টোবর ১২, ২০২৬
জেমসের প্রথম একক অ্যালবামের সব গান লিখেছিলেন যিনি
জেমসের প্রথম একক অ্যালবামের সব গান লিখেছিলেন যিনি

<p>দূরদেশে একা বসে কেউ শুনছেন ‘এই দূর পরবাসে’। কারও প্রেমের সঙ্গী ‘অনন্যা’, কারও মন খারাপের গান ‘ভাঙা মন নিয়ে আর কেঁদো না’। আবার জীবনের কঠিন সময়ে কাউকে সাহস জোগাচ্ছে ‘যদি লক্ষ্য থাকে অটুট’। অনুভূতি আলাদা, গানের কণ্ঠও ভিন্ন। তবে কথাগুলো লিখেছেন একজনই—আসিফ ইকবাল। চার দশকের বেশি সময় ধরে তাঁর লেখা গান এভাবে জড়িয়ে আছে শ্রোতার প্রেম, বিরহ, আনন্দ ও ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পে।</p><p>আজ ১২ অক্টোবর জনপ্রিয় এই গীতিকারের জন্মদিন। এ উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। অনেকে তাঁর সঙ্গে তোলা ছবি শেয়ার করে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। শুভেচ্ছাবার্তায় উঠে আসছে তাঁর গানের কথা, একসঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত স্মৃতি।</p><p>গানের বাইরেও আসিফ ইকবালের পরিচয় বহুমাত্রিক। করপোরেট পেশাজীবী, উদ্যোক্তা, লেখক ও সংগঠক তিনি। একসময় নিয়মিত ক্রিকেট খেলেছেন, ছিলেন ভালো বিতার্কিকও। তবে তাঁর সৃষ্টির সঙ্গে সবচেয়ে বেশি মানুষের পরিচয় হয়েছে গানের সূত্রে। তাঁর লেখা গানের সংখ্যা পাঁচ শতাধিক। অধিকাংশই চলচ্চিত্রের বাইরের গান। পরে ‘ও প্রিয়তমা’র মতো চলচ্চিত্রের গান তাঁকে নতুন করে পরিচিত করেছে আরেক প্রজন্মের দর্শক–শ্রোতার কাছে।</p><p> <strong>চট্টগ্রাম থেকে শুরু</strong><br> আসিফ ইকবালের গানের পথচলা শুরু চট্টগ্রামে। ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হয় তাঁর লেখা প্রথম গান ‘অনেক তো বলেছি’। সৈয়দ মনসুরের সুরে গানটি পরিবেশন করে বন্ধন শিল্পীগোষ্ঠী। ক্যাসেটে তাঁর লেখা প্রথম গান গেয়েছিলেন সামিনা চৌধুরী; সুর করেছিলেন আবিদ হোসেন। টেলিভিশন থেকে অডিও অ্যালবাম—এভাবেই ধীরে ধীরে প্রসারিত হয় তাঁর কাজের পরিসর।</p><p>এই পথচলায় আইয়ুব বাচ্চুর সঙ্গে পরিচয় একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ২০২৩ সালে দ্য ডেইলি স্টারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আসিফ জানান, চট্টগ্রামে তাঁদের দুই বাড়ির দূরত্ব ছিল মাত্র পাঁচ মিনিটের। সৈয়দ মনসুর তাঁকে প্রথম বাচ্চুর বাড়িতে নিয়ে যান। সঙ্গে ছিল নিজের লেখা গানের ডায়েরি। সেখান থেকে বাচ্চু বেছে নেন ‘শুভ্র ভোরে’ গানটি। পরে সেটি জায়গা পায় তাঁর ‘ময়না’ অ্যালবামে।<br>বাচ্চুর সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে নিজের স্বপ্ন ও অনিশ্চয়তাকেও গানে ধরেছেন আসিফ। ‘কষ্ট’ অ্যালবামের ‘১০০টা স্বপ্ন’ নিয়ে একই সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, গানটির পেছনে ছিল একজন গীতিকারের আশা ও স্বপ্নভঙ্গের গল্প। গান লেখার পর কে গাইবেন, আদৌ কেউ গাইবেন কি না—এই অপেক্ষা ও সংশয় তাঁর চেনা। সেই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাই হয়ে উঠেছিল গানের বিষয়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2024-04/0ade5681-2df2-474e-a130-943acc7c5ded/0e5f32d0_0a28_4531_a05e_97599b1fa7c6.jpg"><figcaption>আসিফ ইকবালের লেখা তিনটি গান একসঙ্গে ইউটিউবের সেরা দশ ট্রেন্ডিংয়ে ছিল</figcaption></figure><p><strong>ক্রিকেটের মাঠেও ছিলেন নিয়মিত</strong><br>গানের পাশাপাশি চট্টগ্রামের ক্রিকেট মাঠেও পরিচিত ছিলেন আসিফ ইকবাল। কলেজিয়েট স্কুলে পড়ার সময়ই প্রথম বিভাগ ক্রিকেটে নাম লেখান। টপ অর্ডারে ব্যাট করতেন, সঙ্গে স্পিন বোলিং। ২০২৩ সালে প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাঁর ক্রিকেটজীবনের বিস্তারিত উঠে আসে।<br>চট্টগ্রামের সিটি ক্লাবে ১৯৮৩ সাল থেকে টানা চার বছর খেলেছেন তিনি। তাঁর মেন্টর ছিলেন শফিকুল হক হীরা ও ইউসুফ গণি চৌধুরী। পরে ঢাকায় এসে খেলেছেন একাধিক ক্লাবে। ১৯৯৩ সালে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি শুরুর পর পেশাদার ক্রিকেটকে বিদায় জানান। তবে পরের এক যুগ করপোরেট লিগে খেলেছেন।<br>ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা এখনো আছে। খেলা নিয়ে আলোচনা ও ধারাভাষ্যেও তাঁর সাবলীলতা নজর কাড়ে। তরুণ বয়সে বিতর্কেও ছিলেন দক্ষ। যুক্তি সাজানো, স্পষ্ট করে বলা এবং শ্রোতার মনোযোগ ধরে রাখার সেই অভ্যাস তাঁর বক্তৃতা ও আলাপচারিতায়ও ধরা পড়ে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/sw8h0wec/034726an4304084614.jpg"><figcaption>সম্প্রতি ‘আস্থা অর্জনে আবাসন খাতের নতুন পথ’ বিষয়ে এক অধিবেশনে বক্তব্য দেন আচিভ কনসালটিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা আসিফ ইকবাল</figcaption></figure><p><strong>নানা কণ্ঠে তাঁর লেখা</strong><br>আসিফ ইকবালের গানের ভুবনে যেমন প্রেম ও বিরহ আছে, তেমনি আছে দূরদেশের নিঃসঙ্গতা, সম্পর্কের মায়া ও জীবনের সংগ্রাম। জেমসের প্রথম একক অ্যালবাম ‘অনন্যা’র সব গানের কথা লিখেছিলেন তিনি। জেমসের একক সংগীতজীবনের শুরুর এই অ্যালবাম তাই আসিফের গীতিকারজীবনেরও উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। ‘অনন্যা’ ও ‘ওই দূর পাহাড়ে’র পাশাপাশি ওই অ্যালবামের ‘তুমি জান আমার জান’ ও ‘উঠতি রংবাজ’ গানেও রয়েছে তাঁর কথা। প্রেমের আবেগ থেকে তরুণদের অস্থির জীবন—একই অ্যালবামে ভিন্ন বিষয় নিয়ে লিখেছেন তিনি।<br>বাংলা ব্যান্ডসংগীতের আরও বেশ কিছু পরিচিত গানের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁর নাম। আর্কের ‘জন্মভূমি’ অ্যালবামের ‘এই দূর পরবাসে’ গানটির সুর করেন আশিকুজ্জামান টুলু। প্রবাসের নিঃসঙ্গতা, বন্ধুদের আড্ডা আর ফেলে আসা শহরের স্মৃতি উঠে এসেছে গানের কথায়। রেনেসাঁর ‘তুমি কি আজ বন্ধু’ ও ‘বেঁচে থাকা নিয়ে যাদের যুদ্ধ’ও তাঁর লেখা। আইয়ুব বাচ্চুর কণ্ঠে তাঁর কথায় শোনা গেছে ‘ভাঙা মন নিয়ে আর কেঁদো না’, ‘বহুদূর যেতে হবে’ ও ‘পরিত্যক্ত ডায়েরিটা ও ১০০টা স্বপ্ন’ গানেও তিনি ধরেছেন স্বপ্ন দেখা ও স্বপ্নভঙ্গের অনুভূতি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-06-30/mfzb4yaq/WhatsApp-Image-2026-06-30-at-8.43.58-PM.jpeg"><figcaption>ফিফার পোস্টে আসিফ ইকবাল লেখা গান ছিল</figcaption></figure><p>ব্যান্ডের বাইরেও নানা শিল্পীর কণ্ঠে জনপ্রিয় হয়েছে তাঁর গান। কুমার বিশ্বজিতের ‘সুখ ছাড়া দুখ’, ‘তারা ভরা রাত’ ও ‘মেঘ রঙ মেয়ে’, নকীব খানের ‘স্বপ্ন জড়ানো’, নকীব খান ও সামিনা চৌধুরীর ‘তুমি এলে পায়ে পায়’ তাঁর লেখা। ফাহমিদা নবী ও সামিনা চৌধুরীর গাওয়া ‘আমার সকল সুখে বুবু’তে উঠে এসেছে দুই বোনের সম্পর্কের উষ্ণতা। রাশেদের ‘ওই আকাশের তারায় তারায়’ও রয়েছে তাঁর গানের তালিকায়।<br>পরবর্তী প্রজন্মের শিল্পীদের জন্যও লিখেছেন নিয়মিত। প্রিন্স মাহমুদের সুরে মাহাদীর গাওয়া ‘সুনীল বরুণা’ রয়েছে ‘বন্দনা’ অ্যালবামে। মাহাদীর ‘মেঘ হয়ে কাঁদো বলে’ ও ‘অন্যরকম’, মাহাদী–এলিটার ‘হৃদয়ের ঝড়ে’, ‘নিঝুম রাত’ ও ‘ভোরের শিশির’ও তাঁর লেখা। আবার অদিতের সুরে শোয়েব ও এলিটার গাওয়া ‘ঘুম হয়ে আজ থাকতে যদি’ জায়গা পেয়েছে ‘চলো অন্তহীন’ অ্যালবামে। মিনারের ‘কী তোমার নাম’, ‘বাড়াবাড়ি’, ‘একটুখানি’ ও ‘বাবা–মায়ের জন্য’ গানগুলোর কথাও লিখেছেন আসিফ। ক্যাসেটের যুগ থেকে ডিজিটাল মাধ্যমে গান শোনার সময়—নানা প্রজন্মের শিল্পীর কণ্ঠে এভাবেই ছড়িয়ে আছে তাঁর লেখা।</p><p><strong>একটি গানের দীর্ঘ পথচলা</strong><br>‘ক্লোজআপ ওয়ান: তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার জন্য লেখা ‘যদি লক্ষ্য থাকে অটুট’ আসিফ ইকবালের অন্যতম পরিচিত গান। নকীব খানের সুরে এতে কণ্ঠ দিয়েছিলেন আইয়ুব বাচ্চু, পার্থ বড়ুয়া, কনকচাঁপা, বাপ্পা মজুমদার, দিনাত জাহান মুন্নীসহ কয়েকজন শিল্পী। প্রতিযোগিতার মঞ্চ পেরিয়ে গানটি পরে হয়ে ওঠে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা।<br>ফিফা বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজেও ব্রাজিলের ফুটবলার কাসেমিরোর ছবির সঙ্গে গানটির পরিচিত কথাগুলো বাংলায় ব্যবহার করা হয়। সেই পোস্ট দেখে আবেগাপ্লুত হন আসিফ। তাঁর প্রতিক্রিয়ায় উঠে আসে, গানটি লেখার সময় এমন বিস্তারের কথা ভাবেননি। এই প্রাপ্তিকে তিনি দেখেছেন বাংলাদেশ ও বাংলা ভাষার অর্জন হিসেবে।<br>গানটির নামেই লিখেছেন ‘যদি লক্ষ্য থাকে অটুট—সাফল্যের খোলা কৌশল’ বই। আত্ম–উন্নয়ন ও মানসিক দক্ষতা নিয়ে লেখা বইটিতে যুক্ত হয়েছে তাঁর দীর্ঘ পেশাজীবনের অভিজ্ঞতা। ইদানীং ফেসবুকেও নিয়মিত লিখছেন। গানের বাইরে গদ্যেও পাঠকের সঙ্গে যোগাযোগের একটি পরিসর তৈরি হয়েছে তাঁর।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2023-09/81d676dd-b144-4650-b5c7-036260ee5d92/WhatsApp_Image_2023_09_18_at_7_33_05_PM.jpeg"><figcaption>আসিফ ইকবাল</figcaption></figure><p><strong>চলচ্চিত্রে নতুন অধ্যায়</strong><br>দীর্ঘদিন অডিওর জন্য লিখলেও চলচ্চিত্রে আসিফ ইকবালের কাজ ছিল তুলনামূলক কম। ২০২৩ সালে ‘প্রিয়তমা’ ও ‘প্রহেলিকা’ তাঁকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে আসে। আকাশ সেনের সুরে বালাম ও কোনালের গাওয়া ‘ও প্রিয়তমা’ এবং ইমরানের সুরে ইমরান ও কোনালের গাওয়া ‘মেঘের নৌকা’ ব্যাপক সাড়া ফেলে।</p><p>পরের বছর আসে ‘রাজকুমার’ সিনেমার শিরোনাম গান। ২০২৪ সালের ২১ এপ্রিল বাংলাদেশের ইউটিউব মিউজিক ট্রেন্ডিংয়ের প্রথম দশে একসঙ্গে ছিল তাঁর লেখা তিনটি গান—‘রাজকুমার’, ‘ভালোবাসি বলে যাও’ ও ‘ও প্রিয়তমা’। দীর্ঘ গীতিকারজীবনে চলচ্চিত্রের গান নিয়ে এই সাফল্য তাঁর কাছে নতুন করে কাজের আনন্দ এনে দিয়েছিল।<br>তবে সাফল্যের ভাগ তিনি একা নিতে চাননি। প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন সম্মিলিত কাজের গুরুত্বের কথা। গীতিকার ও সুরকারের পাশাপাশি কণ্ঠশিল্পী, নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী এবং দৃশ্যায়নের সঙ্গে যুক্ত মানুষের কাজও একটি গানকে বড় পরিসরে পৌঁছে দেয়—‘প্রিয়তমা’ ও ‘প্রহেলিকা’র গানের সাফল্যে এই সহযোগিতাকেই গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।</p><p><strong>করপোরেট জীবন ও সৃষ্টির অনুপ্রেরণা</strong><br>গান লেখার পাশাপাশি দীর্ঘ করপোরেট কর্মজীবন রয়েছে আসিফ ইকবালের। আমেরিকান এক্সপ্রেস ব্যাংক, ইউনিলিভার, একটেল—বর্তমান রবি, এসিআই, মেঘনা গ্রুপ, বিটিআইসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। ব্যাংকিং, ভোগ্যপণ্য, টেলিযোগাযোগ, খুচরা ব্যবসা ও আবাসন—ভিন্ন খাতে দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন ব্র্যান্ড গড়ে তোলা, বিপণন ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনায়। এসিআই লজিস্টিকসের ‘স্বপ্ন’র বিকাশেও যুক্ত ছিলেন তিনি। পেশাজীবনের এই ব্যস্ততার মধ্যেই লিখে গেছেন গান।</p><p>সেই অভিজ্ঞতা এখন অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন নিজের প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাচিভ কনসাল্টিং’–এর মাধ্যমে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। নেতৃত্বের দক্ষতা, দল পরিচালনা, বিক্রয় ও বিপণন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং চাপের মধ্যে কাজ করার মানসিক প্রস্তুতি—এসব বিষয় রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির কাজের পরিসরে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন বুঝে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শের কর্মসূচি সাজানো হয় বলে অ্যাচিভ কনসাল্টিংয়ের ওয়েবসাইটে উল্লেখ রয়েছে।<br>প্রশিক্ষণের পাশাপাশি শিক্ষকতাতেও যুক্ত আসিফ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) খণ্ডকালীন শিক্ষক তিনি। ফলে কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন পেশাজীবী ও শিক্ষার্থী—দুই পক্ষের সঙ্গেই। শ্রেণিকক্ষ, প্রশিক্ষণ কিংবা কর্মশালায় তাঁর আলোচনায় আসে নেতৃত্ব, চিন্তার অভ্যাস ও নিজের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রসঙ্গ।<br>এত কাজের অনুপ্রেরণা কোথায় পান? প্রশ্নের জবাবে আসিফ প্রথমেই বলেছিলেন মা–বাবার কথা, বিশেষ করে মায়ের কথা। সংগীতের প্রিয় মানুষদের উৎসাহও তাঁকে ভালো গান লিখতে অনুপ্রাণিত করেছে। নিজের কাজের দর্শন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জানিয়েছিলেন, পাওয়ার চেয়ে দেওয়ার ভাবনাই তাঁকে বেশি তাড়িত করে। সেই ভাবনায় যেমন আছে নিজের অভিজ্ঞতা অন্যদের কাছে পৌঁছে দেওয়া, তেমনি আছে সংগীতের মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতি এবং শিল্পী, সুরকার ও গীতিকারের প্রাপ্য সম্মানী নিশ্চিত করার তাগিদ।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2023-10/fc18eb0f-9960-4910-8d68-9740a5656c45/67ba7714_a195_4b82_99f9_b23176036b8c.jpg"><figcaption>চট্টগ্রামের সিটি ক্লাবের সতীর্থদের সঙ্গে আসিফ ইকবাল। ছবি: আসিফ ইকবালের সৌজন্যে </figcaption></figure><p><strong>গানচিল ও স্রষ্টার অধিকার</strong><br>২০০৫ সালের শেষ দিকে নকীব খান, কুমার বিশ্বজিৎ, আসিফ ইকবাল, মাহমুদুর রহমান ও রেজা রহমানের হাত ধরে যাত্রা শুরু করে গানচিল। চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটির দুই দশক পূর্তি উদ্‌যাপিত হয়। অনুষ্ঠানে অন্য তিন প্রতিষ্ঠাতাকে সম্মাননা জানান আসিফ।<br>গানচিল প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল শিল্পী, সুরকার ও গীতিকারের প্রাপ্য রয়্যালটি নিশ্চিত করা। আনন্দ আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গান প্রচারিত হলেও স্রষ্টাদের সম্মানী না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছিলেন তিনি। গান তৈরি ও প্রকাশের পাশাপাশি এর সঙ্গে যুক্ত মানুষের অর্থনৈতিক অধিকারও তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।<br>এই ভাবনার ধারাবাহিকতায় রয়েছে তাঁর সাংগঠনিক ভূমিকা। </p><p>গীতিকবি সংঘ বাংলাদেশের ২০২৪–২৬ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত হন আসিফ ইকবাল। বাংলা গীতিকবিতার ঐতিহ্য সংরক্ষণ, মানোন্নয়ন এবং গীতিকবিদের অধিকার ও স্বার্থ সুরক্ষার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে সংগঠনটি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2023-09/5c807dc2-b0de-42e7-818b-62e04d1e0678/WhatsApp_Image_2023_09_19_at_9_38_35_AM.jpeg"><figcaption>আসিফ ইকবাল</figcaption></figure><p><strong>কাজের স্বীকৃতি</strong><br>সংগীত ও পেশাজীবনের নানা কাজের জন্য পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন আসিফ ইকবাল। করপোরেট ক্ষেত্রে তাঁকে এশিয়ার শীর্ষ ৫০ ব্র্যান্ড লিডারের একজন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে চিফ মার্কেটিং অফিসার এশিয়া। মেঘনা গ্রুপের ‘ফ্রেশ’ ব্র্যান্ড নিয়ে কাজের জন্য এই সম্মাননা পান তিনি।<br>চট্টগ্রামের র‍্যাডিসন ব্লু হোটেলে আয়োজিত ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটরস অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ অনুষ্ঠানেও তাঁকে দেওয়া হয় ‘লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড—সোল অব ক্রিয়েটিভ এক্সিলেন্স’। সংস্কৃতি, নেতৃত্ব, শিক্ষা ও মানবসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা দেওয়া হয়।<br>ক্রিকেটের মাঠ, বিতর্কের মঞ্চ, করপোরেট দায়িত্ব কিংবা লেখালেখি—জীবনের নানা অধ্যায়ে সক্রিয় থেকেছেন আসিফ ইকবাল। আর গান লিখে পৌঁছেছেন অগণিত মানুষের কাছে। চার দশকের পথ পেরিয়েও তাঁর কলমে নতুন গান আসছে, নতুন শিল্পীর কণ্ঠে পৌঁছাচ্ছে শ্রোতার কাছে। জন্মদিনে এই গীতিকবির প্রতি শুভেচ্ছা।</p>

অক্টোবর ১২, ২০২৬
বিমানবন্দরে হুতিদের হামলার পর রিয়াদের আকাশ ফাঁকা
বিমানবন্দরে হুতিদের হামলার পর রিয়াদের আকাশ ফাঁকা

উড়োজাহাজ চলাচল বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান এভিয়েশন অ্যানালিটিকস ফার্ম সিরিয়ামের হিসাবে, আজ রিয়াদের নির্ধারিত ফ্লাইটের প্রায় ৬০ শতাংশ বাতিল হতে পারে।

অক্টোবর ১২, ২০২৬
ওএসডি, কক্ষ ‘সিলগালা’র পর বিটিআরসির চার উপপরিচালককে কারণ দর্শানোর নোটিশ
ওএসডি, কক্ষ ‘সিলগালা’র পর বিটিআরসির চার উপপরিচালককে কারণ দর্শানোর নোটিশ

বিটিআরসির নথিপত্র বলছে, ওই দিন বিকেলেই সনজিব কুমার সিংহকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়। সূত্র বলছে, এর পরদিন তাঁর কক্ষ সিলগালা করা হয়।

অক্টোবর ১২, ২০২৬
বিধবা কার্ড দেওয়া হলেও এমপির বউ সবার আগে পাবে: হাসনাত আবদুল্লাহ
বিধবা কার্ড দেওয়া হলেও এমপির বউ সবার আগে পাবে: হাসনাত আবদুল্লাহ

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য নিয়োগ ঘিরে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিয়েও কথা বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

অক্টোবর ১২, ২০২৬
সৌদি আরবে হুতি হামলা অব্যাহত, রিয়াদে জ্বালানি সম্মেলন থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে বড় বড় তেল কোম্পানি
সৌদি আরবে হুতি হামলা অব্যাহত, রিয়াদে জ্বালানি সম্মেলন থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে বড় বড় তেল কোম্পানি

সৌদি আরবে হুতি বিদ্রোহীদের হামলা অব্যাহত রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে রিয়াদে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সম্মেলন থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাজ্যের বহুজাতিক তেল ও গ্যাস কোম্পানি ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম (বিপি)। এখন ওই সম্মেলন থেকে আরও কয়েকটি শীর্ষ তেল কোম্পানির নির্বাহীরাও সরে দাঁড়াচ্ছেন। চোখ রাখুন বিবিসি বাংলার লাইভ পাতায়...

অক্টোবর ১২, ২০২৬
বাংলাদেশে এই বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু তিনশো ছাড়াল
বাংলাদেশে এই বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু তিনশো ছাড়াল

বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে, একই সময়ে চলতি বছরের সর্বোচ্চ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ১৯৩ জন। অন্যদিকে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় দুইজন বাংলাদেশিসহ ১২ জন হতাহতের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

অক্টোবর ১২, ২০২৬
সৌদি আরবে হুথিদের হামলায় আহত বাংলাদেশিরা কে কোন হাসপাতালে
সৌদি আরবে হুথিদের হামলায় আহত বাংলাদেশিরা কে কোন হাসপাতালে

শনিবারের ওই হামলার পরদিন রোববার মন্ত্রণালয় কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার মোঃ নাসরুল্লাহ বদরপুরি এবং বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে মো: শাহেদ আহম্মেদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

অক্টোবর ১২, ২০২৬
'স্মাইলিং ডিপ্রেশন' কী, হাসিমুখের আড়ালে লুকিয়ে থাকা বিষণ্ণতা চিনবেন কীভাবে?
'স্মাইলিং ডিপ্রেশন' কী, হাসিমুখের আড়ালে লুকিয়ে থাকা বিষণ্ণতা চিনবেন কীভাবে?

বাইরে থেকে আপনাকে সুখী দেখালেও ভেতরে ভেতরে যদি আপনি কষ্ট পান, তবে আপনার এক ধরনের অস্বাভাবিক বিষণ্ণতা থাকতে পারে — কিন্তু প্রকৃত অনুভূতি গোপন করা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

অক্টোবর ১২, ২০২৬
রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা নিয়ে সমালোচনার মুখে ট্রাম্প
রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা নিয়ে সমালোচনার মুখে ট্রাম্প

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে ঘোষণা করা এ চুক্তি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের এ উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের আইনপ্রণেতারা।

অক্টোবর ১২, ২০২৬
পত্রিকা: 'আগের অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বাদ দেয়ার সুপারিশ'
পত্রিকা: 'আগের অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বাদ দেয়ার সুপারিশ'

আজ ঢাকার পত্রিকাগুলোতে সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় বাংলাদেশি নিহত ও আহত হওয়া, ফ্লাইট বাতিল এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার খবর গুরুত্ব পেয়েছে। সাথে রয়েছে রাজনীতি ও অর্থনীতির নানা খবর।

অক্টোবর ১২, ২০২৬
ব্লুটুথ নামের পেছনে ভাইকিং রাজা ও ডেনমার্কের হাজার বছরের ইতিহাস
ব্লুটুথ নামের পেছনে ভাইকিং রাজা ও ডেনমার্কের হাজার বছরের ইতিহাস

মোবাইল ফোনের সঙ্গে হেডফোন কিংবা কম্পিউটার যুক্ত করতে ব্লুটুথ প্রযুক্তি ব্যবহার করেন অনেকেই, কিন্তু আপনারা কি জানেন? এই আধুনিক প্রযুক্তির নামের পেছনে রয়েছে এক হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো ইতিহাস। জড়িয়ে আছেন ডেনমার্কের এক ভাইকিং রাজার কাহিনী।

অক্টোবর ১২, ২০২৬
ওমরাহ করতে গিয়ে হুথির হামলায় প্রাণ হারালেন মাদ্রাসা শিক্ষক নাসরুল্লাহ
ওমরাহ করতে গিয়ে হুথির হামলায় প্রাণ হারালেন মাদ্রাসা শিক্ষক নাসরুল্লাহ

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার বেলা ৩টা ২০ মিনিটে রিয়াদের কিং খালেদ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের টার্মিনাল-৩ এর উপর একটি ক্ষেপনাস্ত্র এসে পড়ে। এ সময় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের যাত্রী সেখানে অপেক্ষমান ছিল। দুই জন বাংলাদেশি এ ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।

অক্টোবর ১১, ২০২৬
পুনর্বিনিয়োগের আয়ে বেড়েছে নিট এফডিআই, নতুন মূলধন কমেছে
পুনর্বিনিয়োগের আয়ে বেড়েছে নিট এফডিআই, নতুন মূলধন কমেছে

চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন—এই তিন মাসে নিট এফডিআই আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ দশমিক ৭৮ শতাংশ বেড়ে ৩৪৬ দশমিক ৯৪ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে পুনর্বিনিয়োগ করা মুনাফা বেড়েছে ৫৫ শতাংশের বেশি, বিপরীতে নতুন ইকুইটি মূলধন কমেছে।

অক্টোবর ১২, ২০২৬
ইবিতে মাইকোলজি ও টেকসই পরিবেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক সেমিনার
ইবিতে মাইকোলজি ও টেকসই পরিবেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক সেমিনার

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের উদ্যোগে ‘মাইকোলজি, বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড সাসটেইনেবল এনভায়রনমেন্ট’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অক্টোবর ১২, ২০২৬
ইউরোপে শতভাগ বৈধ ও দক্ষ কর্মী পাঠাতে চায় সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ইউরোপে শতভাগ বৈধ ও দক্ষ কর্মী পাঠাতে চায় সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অবৈধ অভিবাসনের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। 

অক্টোবর ১২, ২০২৬
ঢাবি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক নুরুল আমিন
ঢাবি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক নুরুল আমিন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নুরুল আমিন।

অক্টোবর ১২, ২০২৬
বাবাকে হত্যার পর ছেলের থানায় আত্মসমর্পণ
বাবাকে হত্যার পর ছেলের থানায় আত্মসমর্পণ

মেহেরপুরের সদর উপজেলায় ছেলে শাহাবুলের হাতে বাবা হাবেল (৬০) খুন হয়েছেন। আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার ঝাউবাড়িয়া গ্রামে নিজ ঘরে ধারালো ডাসা দিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

অক্টোবর ১২, ২০২৬
হামে আরো ২ মৃত্যু, আক্রান্ত ১৪২১
হামে আরো ২ মৃত্যু, আক্রান্ত ১৪২১

বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হামের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২০৮ জনে। এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে আরো ১ হাজার ৪২১ শিশুর শরীরে।

অক্টোবর ১২, ২০২৬
কৃষক থেকে সরাসরি ধান কিনবে সরকার, ৩ জেলায় পাইলট প্রকল্প
কৃষক থেকে সরাসরি ধান কিনবে সরকার, ৩ জেলায় পাইলট প্রকল্প

কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাবমুক্ত রেখে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করবে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে তিন জেলায় পাইলট প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

অক্টোবর ১২, ২০২৬
৫০তম উইকেটের দিনে ইবাদতের প্রথম বলেই আঘাত
৫০তম উইকেটের দিনে ইবাদতের প্রথম বলেই আঘাত

আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে বল হাতে নিয়েই বাংলাদেশকে সাফল্য এনে দিয়েছেন ইবাদত।

অক্টোবর ১২, ২০২৬