যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা: যবিপ্রবিতে আবেদন ও স্কলারশিপ নিয়ে সেমিনার
প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ১৩ শিক্ষার্থী মনোনীত হয়েছেন।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
একুশে বিজনেস || বিপ্লব কুমার রায়-সিইও, টিভিএস অটো বাংলাদেশ লিমিটেড।
হিন্দু ধর্মের মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে শাহী মসজিদের একটি অংশ সরিয়ে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়, আর তা নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মেলার সময় বাড়তি যানবাহনের চাপ ও ভক্তদের যাতায়াত সহজ করার জন্য ওই সড়ক প্রশস্ত করা জরুরি।
সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট প্যাকেটজাতে সংশোধন বিধি জারি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নির্দেশ নাঅনুযায়ী, কোনো প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান আমিষজাত না নিরামিষজাত, তা প্যাকেটের গায়ে নির্দিষ্ট চিহ্নের মাধ্যমে জানাতে হবে।
কক্সবাজারে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (টমটম) চলন্ত অবস্থায় চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সীমা আক্তার নামে এক নারী পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামকে তার এলাকার ‘বড় ভাই’ পরিচয় দিয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন থানার কার্যক্রম ও তদন্তকাজে প্রভাব খাটান। তবে এ অভিযোগের সত্যতাও আলাদাভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে সহকর্মীর ওপর হামলা ও বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত কো-পাইলট সম্ভবত একাই এই কাজ করেছিলেন। ইসরায়েলি সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে রবিবার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহাম্মদকে (৪৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
চারদিকে শুধু সাদা আর সাদা। তুষারের ঘন পর্দা ভেদ করে কয়েক মিটারের বেশি সামনে দেখা যাচ্ছিল না। হিমশীতল বাতাস শরীরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল ঝড়ের গতিতে। পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুসমান নরম বরফে ডুবে যাচ্ছিল।
টরন্টো শহরের শীতের আলাদা এক ভাষা আছে।সেই ভাষা শব্দে নয়, তুষারে লেখা। জানালার ওপারে নিরবচ্ছিন্ন সাদা ঝরনা নেমে আসে, রাস্তার আলো কুয়াশা আর বরফের ভেতর ম্লান হয়ে যায়, আর মানুষ বুঝতে শেখে, পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর নীরবতাও কখনো কখনো খুব জোরে কথা বলে।সেদিনও তেমনই এক সন্ধ্যা।বাইরে মাইনাস দশ ডিগ্রি। ফায়ারপ্লেসে জ্বলতে থাকা আগুনের লালচে আলো ঘরের দেয়ালে ছায়া এঁকে দিচ্ছিল। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। আমরা তিনজন বসে গল্প করছিলাম।সায়েম ভাই, আমাদের কোম্পানির সিনিয়র লিড ইঞ্জিনিয়ার। প্রবাসে এসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যাদের ঘরে ঢুকলেই মনে হয় বহুদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরেছি। ভাবিও ঠিক তেমনই। তার আন্তরিকতা কখনো অতিথিপরায়ণতা বলে মনে হয় না; মনে হয় বড় বোনের মমতা।কফির কাপ নামিয়ে ভাবি হঠাৎ আমার দিকে তাকালেন।—নীল, একটা কথা বলব?মৃদু হেসে বললাম,—বলুন, ভাবি।—রাগ করবে না তো?—আপনার ওপর রাগ করার সাহস আমার নেই।তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—এত বছর হয়ে গেল। ক্যারিয়ার হয়েছে, নিজের অবস্থান হয়েছে। কিন্তু নিজের জন্য কী করলে? একা একা আর কত দিন? বিয়ে করার কথা কখনো ভাবো না?আমি হেসে বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলাম।—সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় নাকি, ভাবি?সায়েম ভাই চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন।—তোমার এই কথাটাই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। সারা দিন অফিসে তোমাকে দেখি। কাজে মন, বইয়ে মন, গিটার বাজাও, ভ্রমণ করো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, জীবন একেবারে গুছিয়ে নিয়েছ। অথচ দিনের শেষে তুমি একাই ফিরে যাও।একটু থেমে তিনি আবার বললেন,—কখনো কি কাউকে ভালোবেসেছিলে?ঘরটা হঠাৎ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।ফায়ারপ্লেসের কাঠে আগুন ফেটে ছোট্ট একটা শব্দ হলো।আমি উত্তর দিলাম না।জানালার ওপারে তাকিয়ে রইলাম। সাদা তুষারের ভেতর হঠাৎ ভেসে উঠল বহু বছরের পুরোনো আরেকটা আকাশ। অনেক দূরের একটা বিকেল। আমি ধীরে বললাম,—মানুষ কখনো কখনো একটা গল্প কাউকে বলে না। কারণ, গল্পটা বললে সে আবার সেই সময়ে ফিরে যায়।ভাবি মৃদুস্বরে বললেন,—আজ ফিরে যাও। আমরা শুনব।আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। কফির মগটা টেবিলে রেখে বললাম,—জানেন ভাবি, পৃথিবীর সব ভালোবাসা মিলনের গল্প নয়। কিছু ভালোবাসা শুধু নীরবে মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকে। কারও কাছে কোনো দাবি করে না, কোনো অধিকারও চায় না। শুধু মানুষটাকে সারা জীবন বদলে দেয়। আমার গল্পটাও তেমন।আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা। তখন ঢাকার উত্তরায় থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার পক্ষে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হতো না। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা, বাসাভাড়া আর খরচ চালাতাম। উত্তরার একটা পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠার ছোট্ট ঘর ছিল আমার ঠিকানা। ঘরটা বড় ছিল না। একটা খাট, একটা পড়ার টেবিল, বইয়ের তাক আর জানালার পাশে রাখা পুরোনো একটা গিটার। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল ছাদ।সন্ধ্যা নামার আগে পড়ন্ত রোদ যখন আকাশজুড়ে লালচে রং ছড়িয়ে দিত, আমি গিটার হাতে ছাদে উঠে যেতাম। কখনো বাজাতাম। কখনো বই পড়তাম। কখনো কিছুই করতাম না। শুধু আকাশ দেখতাম। হয়তো মানুষ একা থাকলে আকাশের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।ঠিক এমনই এক বিকেলে প্রথম তাকে দেখি। আমাদের পাশের ছয়তলা বাড়ির একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। অদ্ভুত শান্ত একটি মেয়ে। তার হাতে কোনো মোবাইল ছিল না। কোনো বইও নয়। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল।কিন্তু আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল তার চোখ। কিছু কিছু চোখ থাকে, যেগুলোকে সুন্দর বলা যায় না। কারণ, সুন্দর শব্দটা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।সেই চোখ দুটো যেন নিজের ভেতর একটা বিকেল লুকিয়ে রেখেছিল। আমি তার নাম জানতাম না। কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। নিজের মনেই একটা নাম দিয়েছিলাম—‘সুনয়না’।নামটা শুধু আমার ছিল। আমার কল্পনার। আমার নীরবতার। তার বাস্তব নাম কী ছিল, তখনো জানতাম না।তার পর থেকে প্রতিদিন বিকেলে আমি অপেক্ষায় থাকতাম। ছাদে উঠতাম। আর কিছুক্ষণ পর সে এসে দাঁড়াত সেই বারান্দায়।আমাদের মধ্যে কখনো কথা হয়নি। চোখাচোখিও খুব কম। তবু মনে হতো, বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের জীবন অদৃশ্য কোনো সেতুতে এসে মিলেছে।কখনো তাকে অনুসরণ করিনি। তার সম্পর্কে খোঁজ নিইনি। কারণ, দূরত্বেরও একটা সৌন্দর্য আছে। সব মানুষকে কাছে গিয়েই জানতে হয় না। কিছু মানুষ দূর থেকেই হৃদয়ের ভেতর জায়গা করে নেয়।এভাবেই কেটে গেল কয়েক মাস। একদিন বিকেলে ছাদে উঠে দেখলাম, বারান্দাটা ফাঁকা। ভাবলাম, হয়তো কোথাও গেছে।পরদিনও এল না।তারপর আরও এক দিন।এক সপ্তাহ।এক মাস।ঋতু বদলে গেল।আকাশের রং বদলে গেল। কিন্তু সেই বারান্দায় আর কাউকে দেখা গেল না। বুঝলাম, কিছু অপেক্ষার কোনো উত্তর হয় না।তারপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ এসে গেল। পড়াশোনা, প্রজেক্ট, ইন্টারভিউ—জীবন অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করল। তবু মাঝেমধ্যে বিকেলের আকাশ দেখলে মনে হতো, কোথাও যেন একটা বারান্দা এখনো খালি দাঁড়িয়ে আছে। আর সেখানে কেউ একজন আর কখনো ফিরে আসবে না।অফিসে যোগ দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথমবার তার সঙ্গে কথা হলো।সেদিন দুপুরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কাচঘেরা অফিসের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো লম্বা দাগ টেনে নিচে নেমে আসছিল। ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এক কাপ কফি হাতে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পাশে এসে কেউ বলল,—এই সিটটা খালি?মুখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতরটা অকারণ ধক করে উঠল।সে।উত্তরার সেই বারান্দার মেয়েটি।আমি সামান্য হাসলাম।—অবশ্যই।সে বসে কফির কাপ নামিয়ে বলল,—আমি নতুন। এখনো কাউকে তেমন চিনি না।—আমিও খুব পুরোনো নই।সেদিনের কথোপকথন ছিল খুব সাধারণ। অফিস, কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার যানজট; এর বেশি কিছু নয়। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে কোনো আয়োজন লাগে না। যেন বহুদিনের চেনা।তার নাম জানলাম, সুস্মিতা।আমি নামটা মনে রাখলাম। তবু নিজের ভেতরে সে রয়ে গেল অন্য নামে—‘সুনয়না’।এরপর ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়ল।অফিস শেষে মাঝেমধ্যে সবাই মিলে চা খেতে যেতাম। কোনো প্রজেক্ট শেষ হলে পুরো টিম রাত পর্যন্ত কাজ করত। সেই সব দীর্ঘ সন্ধ্যায় সুস্মিতাকে নতুন করে চিনতে শুরু করলাম।সে খুব কম কথা বলত। অকারণ হাসত না। তবে কেউ সমস্যায় পড়লে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত।একদিন জানতে পারলাম, সে রবীন্দ্রসংগীত শেখে।আরেক দিন শুনলাম, অবসরে জলরঙে ছবি আঁকে।আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, মানুষকে দূর থেকে দেখলে তার সৌন্দর্য দেখা যায়; কাছে এলে দেখা যায় তার নীরবতা। আর নীরবতাই একজন মানুষকে সবচেয়ে আলাদা করে।সেদিন অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বৃষ্টি থেমেছে। রাস্তার বাতিগুলো ভেজা ডামারের ওপর হলুদ আলো ফেলছে। আমি বললাম,—কফি খাবেন?সে একটু ভেবে মৃদু হেসে বলল,—আজ খাওয়া যেতে পারে।ছোট্ট একটি ক্যাফেতে আমরা জানালার পাশে বসলাম। বাইরে গাড়ির আলো ভেজা রাস্তায় ভেঙে পড়ছিল।অনেকক্ষণ গল্প হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি, বই, সিনেমা, ভ্রমণ, প্রিয় ঋতু। কথার ফাঁকে হঠাৎ সে জিজ্ঞেস করল,—আপনি এত চুপচাপ কেন?আমি হেসে বললাম,—সবাই সব কথা বলতে পারে না।সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,—আমার মনে হয়, যারা কম কথা বলে, তাদের ভেতরে অনেক গল্প জমে থাকে।আমি উত্তর দিলাম না। সত্যিই আমার ভেতরে একটি গল্প ছিল। যার শুরু হয়েছিল উত্তরার এক ছাদের বিকেলে।বহুবার ভেবেছি, আজ বলব। বলব, কয়েক বছর আগে প্রতিদিন বিকেলে আমি এক অচেনা মেয়েকে আকাশ দেখতে দেখতাম। বলব, তার জন্যই আমি সন্ধ্যার অপেক্ষা করতাম। বলব, তাকে না জেনেই একটা নাম দিয়েছিলাম।কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সত্যি কথাটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। আমি পারলাম না। শুধু কফির কাপে আঙুল ঘুরিয়ে যেতে লাগলাম।ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তার মুখে খুব কোমল একটা হাসি ফুটে উঠল। সে ফোন ধরল। নরম গলায় বলল,—হ্যাঁ... আমি বের হচ্ছি... আর পাঁচ মিনিট।ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—আমাকে উঠতে হবে।আমি শুধু মাথা নাড়লাম।ক্যাফের দরজার বাইরে এসে দেখি, একটা গাড়ি ধীরে ধীরে এসে থামল। গাড়ি থেকে একজন নেমে ছাতা খুলে তার দিকে এগিয়ে এল। সুস্মিতার মুখে যে হাসি ফুটে উঠল, তাতে কোনো দ্বিধা ছিল না, কোনো অভিনয়ও নয়। সে মানুষটিকে এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দেখল, যেমন মানুষ নিজের আপনজনকে দেখে। বিদায় নেওয়ার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—কাল দেখা হবে।আমি বললাম,—ভালো থাকবেন।গাড়িটা ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।আমি অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। ভেজা শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হলো, কিছু স্বপ্ন ভাঙার শব্দ বাইরে শোনা যায় না। সেগুলো শুধু মানুষের ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে।সেদিন রাতেই প্রথম বুঝেছিলাম, ভালোবাসা সব সময় কাউকে পাওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো সময়মতো কিছু না বলার নামও ভালোবাসা।পরদিন অফিসে গিয়ে সুস্মিতাকে দেখলাম না। ভাবলাম, হয়তো ছুটিতে আছে।পরদিনও এল না।এরপর আরও কয়েক দিন কেটে গেল।কাজের ব্যস্ততা আমাকে ডেস্কে আটকে রাখলেও মনটা বারবার করিডরের দিকে চলে যেত। এক বিকেলে সাহস করে মানবসম্পদ বিভাগের এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করলাম,—সুস্মিতা কি ছুটিতে?তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—জানেন না? ওর স্বামীকে সিঙ্গাপুরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়ো করেই ও চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। যাওয়ার আগেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। আপনি সেদিন ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে ছিলেন, তাই হয়তো দেখা হয়নি।আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। অদ্ভুতভাবে বুকের ভেতর কোনো বিস্ফোরণ ঘটল না। শুধু একটা নিঃশব্দ শূন্যতা নেমে এল, যেন বহু বছর আগে উত্তরার সেই বারান্দাটা আবার একবার খালি হয়ে গেল।এরপর জীবন খুব দ্রুত বদলে গেল। কাজের চাপ বাড়ল। পদোন্নতি হলো। নতুন শহর, নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। একসময় কানাডার একটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। বন্ধুরা বলেছিল,—স্বপ্নপূরণ হয়ে গেল!হয়তো সত্যিই হয়েছিল। কিন্তু মানুষ বুঝতে শেখে, সব স্বপ্নের সঙ্গে সব আনন্দ আসে না। কিছু সাফল্য খুব নিঃসঙ্গও হয়।টরন্টোতে আসার পর প্রথম শীতেই আমি বুঝলাম, তুষার শুধু শহর ঢেকে দেয় না, মানুষের স্মৃতিকেও সাদা করে দিতে চায়। কিন্তু সব স্মৃতি ঢেকে যায় না। কখনো কখনো কোনো কফির গন্ধ, কোনো বিকেলের আলো কিংবা কোনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী মানুষের ছায়া হঠাৎ বহু বছর আগের দরজা খুলে দেয়। সেই দরজার ওপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে উত্তরার সেই বিকেল।আর একটি নাম, যে নাম পৃথিবীর কেউ জানত না। শুধু আমি।সুনয়না।’ফায়ারপ্লেসের আগুন তখন ধীরে ধীরে নিভে আসছে। কথা শেষ করতেই ঘরজুড়ে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এল। ভাবি কফির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কাপটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। সায়েম ভাই উঠে এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—তাহলে তুমি তাকে কোনো দিন জানাওনি?আমি মৃদু হেসে মাথা নাড়ালাম।—না।—আফসোস হয় না?জানালার বাইরে তাকালাম। তুষার পড়ছে। প্রতিটি সাদা কণা নিঃশব্দে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। আমি ধীরে বললাম,—আফসোস হয় সেই ভালোবাসার জন্য, যেটা কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজের করতে হয়। আমার গল্পে তেমন কিছু ছিল না। সে তার জীবন নিয়ে সুখী ছিল। আমি কেন আমার অনুভূতির ভার তার কাঁধে চাপিয়ে দিতাম?ভাবি খুব আস্তে বললেন,—কিন্তু তুমি তো একা রয়ে গেলে।আমি হেসে উত্তর দিলাম,—মানুষ সব সময় কারও অভাবে একা থাকে না। কখনো কখনো একটি সুন্দর স্মৃতির সঙ্গেও সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁয়েছে। বাইরে তুষারপাত আরও ঘন হয়েছে। বিদায় নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সায়েম ভাই আমার কাঁধে হাত রাখলেন।—নীল...—জি?—জীবনে যদি আবার কোনো বিকেল এসে দাঁড়ায়, এবার যেন চুপ করে থেকো না।আমি কোনো উত্তর দিলাম না। শুধু মৃদু হাসলাম।বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির জানালার বাইরে অসংখ্য তুষারকণা উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো, মানুষ আসলে কাউকে ভুলে যায় না। সে শুধু স্মৃতির সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যায়।সেদিন রাতে ঘরে ফিরে বহুদিন পর জানালার পাশে দাঁড়ালাম। দূরে বরফে ঢাকা শহর ঘুমিয়ে আছে।অন্ধকার কাচে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হলো, সময় আমার চুলে রুপালি রং ছড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু উত্তরার সেই একফালি আকাশ এখনো কোথাও রয়ে গেছে।আমি চোখ বন্ধ করলাম। কল্পনায় আবার একটি বারান্দা ভেসে উঠল। সেখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ আজও স্পষ্ট নয়। শুধু চোখ দুটো স্পষ্ট। আমি নিঃশব্দে বললাম,—ভালো থেকো, সুনয়না।জানালার ওপারে তুষার পড়তেই থাকল। আর আমি বুঝলাম, কিছু ভালোবাসার শেষ অধ্যায় মিলনে লেখা হয় না। সেগুলো লেখা থাকে নীরবতায়।উত্তরা, ঢাকা
মেকআপ মানেই যেন অনেকগুলো প্রোডাক্ট, ঘন্টার পর ঘন্টা প্রস্তুতি। কিন্তু বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুর সাম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন নিজের বিউটি লুক তৈরির পেছনের গল্প। যেখানে তিনি বলেছেন মাত্র তিনটি ধাপে তার সাজ হয়ে উঠেছে পরিপাটি, ফ্রেশ ও নেচারাল।প্রতিদিনের মেকআপে খুব বেশি কিছু না করেও কীভাবে ফ্রেশ ও গোছানো দেখানো যায়, জাহ্নবীর এই রুটিন তারই সহজ উদাহরণ। আরও মজার বিষয়, মেকআপ ব্রাশ বা স্পঞ্জের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে আঙুল দিয়েই তিনি বেশির ভাগ প্রোডাক্ট ব্লেন্ড করেছেন। ফলে পুরো সাজটি যেমন দ্রুত করা যায়, তেমনি এর ফিনিশও থাকে বেশ স্বাভাবিক। তার সাজের মূল তিনটি বিষয় হচ্ছে সতেজ বেস, নরম গোলাপি ব্লাশ আর নিউড-পিঙ্ক ঠোঁট। View this post on Instagram A post shared by Janhvi Kapoor (@janhvikapoor) ভারী বেস নয়, শুরু হোক কনসিলার দিয়েজাহ্নবীর রুটিনের প্রথম ধাপ কনসিলার। পুরো মুখে ভারী ফাউন্ডেশন লাগানোর বদলে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করছেন তিনি। চোখের নিচে সরাসরি অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে অল্প প্রোডাক্ট নিয়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ত্বকের রং কিছুটা সমান দেখালেও মুখ ভারী হয়ে যাচ্ছে না। এই ধরনের মেকআপে ব্লেন্ড করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর বাড়ানো যায়, এমন কনসিলারই ভালো। একবারে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে লাগানোই মূল কৌশল।গালে নরম গোলাপি আভাবেসের পর জাহ্নবী ব্যবহার করছেন সফট পিঙ্ক লিকুইড ব্লাশ। গালে সরাসরি অল্প ব্লাশ নিয়ে আঙুল দিয়ে ট্যাপ করে ব্লেন্ড করেছেন তিনি। ফলে গালে ভারী রঙের বদলে এসেছে হালকা, সতেজ আভা। এই লুকের জন্য ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ বেশ কার্যকর। কারণ অল্প অল্প করে রং বাড়ানো যায়, ফলে মুখে ব্লাশের দাগও স্পষ্ট থাকে না।ঠোঁটে নিউড-পিঙ্কজাহ্নবীর পুরো মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটের রংও বেশ নরম। শেষ ধাপে তিনি ব্যবহার করেছেন নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। গালের গোলাপি আভা আর ঠোঁটের একই পরিবারের রং পুরো লুকটিকে করেছে আরও গোছানো। খুব ফ্যাকাশে বেইজ নিউডের বদলে গোলাপি, রোজি বা হালকা ব্রাউন আন্ডারটোনের নিউড বেছে নিলে ঠোঁট আরও স্বাভাবিক দেখাবে। দিনের সাজে লিপস্টিক পুরো ঠোঁটে না দিয়ে মাঝখানে অল্প লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ছড়িয়ে দিলেও পাওয়া যাবে আরও নরম ফিনিশ।চোখে শুধু এক কোট মাসকারাজাহ্নবী যে তিনটি মূল ধাপ দেখিয়েছেন, সেখানে মাসকারা ছিল না। তাই এটি মূল রুটিনের অংশ নয়; চাইলে বাড়তি সংযোজন হিসেবে রাখা যায়। বিশেষ করে দিনের সাজ সন্ধ্যার দিকে নিতে চাইলে এক বা দুই কোট মাসকারাই যথেষ্ট। এতে চোখ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হবে, কিন্তু পুরো মেকআপের স্বাভাবিক মেজাজ নষ্ট হবে না।ভ্রু থাকুক নেচারালএই লুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভ্রু। খুব গাঢ় করে আঁকার বদলে যেখানে ফাঁকা আছে, শুধু সেখানে হালকা করে ভরাট করাই যথেষ্ট। এরপর স্পুলি দিয়ে ভ্রু আঁচড়ে নিলে রংটা নরম হয়ে যাবে। এ জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য হবে ভ্রুকে স্পষ্ট করে আঁকা নয়, বরং একটু গোছানো দেখানো।ত্বক যেন ত্বকের মতোই দেখায়জাহ্নবীর মেকআপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এটাই। নিজের ত্বকের রং পুরোপুরি ঢেকে ফেলার চেষ্টা নেই। ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে প্রয়োজনমতো কনসিলার ব্যবহার করায় ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচারও দেখা যায়। এই লুক করতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ ভুল হতে পারে বারবার কভারেজ বাড়ানো। যেখানে প্রয়োজন শুধু সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করে থেমে যাওয়াই ভালো। এতে মেকআপ থাকবে হালকা, আর মুখও দেখাবে আরও স্বাভাবিক।ব্রাশ নয়, আঙুলেই ব্লেন্ডজাহ্নবীর রুটিন থেকে সবচেয়ে সহজে নেওয়া যায় যে কৌশল, সেটি হলো আঙুল দিয়ে মেকআপ ব্লেন্ড করা। কনসিলার ও ব্লাশের মতো লিকুইড বা ক্রিম প্রোডাক্ট অল্প করে আঙুলে নিয়ে ত্বকে ট্যাপ করে লাগালে দ্রুত কাজ হয় এবং প্রোডাক্টের পরিমাণও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সকালে এই পদ্ধতি বেশ সুবিধাজনক। একগাদা ব্রাশ বের করার দরকার নেই, আবার অতিরিক্ত মেকআপ করার ঝুঁকিও কমে।জাহ্নবীর তিন ধাপের সহজ রুটিনপুরো রুটিনকে একেবারে সহজ করে বললে, কনসিলার, ব্লাশ, নিউড লিপ। প্রথমে অল্প কনসিলার দিয়ে ত্বকের প্রয়োজনীয় অংশ সমান করুন। এরপর গালে নরম গোলাপি আভা দিন। সবশেষে নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। সব প্রোডাক্টই হালকা হাতে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এর সঙ্গে আরও একটু সাজানো লুক চাইলে যোগ করা যায় মাসকারা ও হালকা ভ্রু ডেফিনিশন। তবে মূল সৌন্দর্যটা থাকবে কম প্রোডাক্টে, হালকা হাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখায়।জাহ্নবী কাপুরের সাম্প্রতিক মেকআপ রুটিন শেষ পর্যন্ত খুব সাধারণ একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়। দৈনন্দিন গ্ল্যামের জন্য সবসময় অনেক কিছু দরকার হয় না। ত্বককে সমান করা, গালে একটু রং আর ঠোঁটে সামান্য উষ্ণতা এই তিনটিই যথেষ্ট হতে পারে। আসল কৌশল হলো মেকআপের স্তর হালকা রাখা এবং ত্বককে ত্বকের মতোই থাকতে দেওয়া।
ফ্যাশনের দুনিয়ায় কিয়ারা আদভানির সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখী স্টাইল সেন্স। রেড কার্পেটের ঝলমলে গ্ল্যামার, ফটোশুট লুক কিংবা দৈনন্দিন পোশাক-প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মতো করে স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে জানেন এই অভিনেত্রী। কখনো শাড়ি বা অন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকে তিনি হয়ে ওঠেন মোহময়ী, আবার কখনো পশ্চিমা পোশাকে ফুটিয়ে তোলেন আধুনিকতার ছাপ। তার সাম্প্রতিক ফটোশুটের লুকটিও সেই বহুমুখী ফ্যাশন ভাবনারই আরেকটি উদাহরণ। এবার কিয়ারার পছন্দ ছিল স্ট্রাকচার্ড পাওয়ার স্যুট। ক্যামেল-বেইজের একরঙা এই সাজে ছিল টেইলারিংয়ের নিখুঁত ছাপ, পুরুষালি পোশাকের অনুপ্রেরণা এবং নারীর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সবকিছুর সুন্দর সমন্বয়। পুরো লুকটি যেন দেখিয়ে দিল, পাওয়ার ড্রেসিং মানেই শুধু কঠোর বা ফরমাল হওয়া নয়, সঠিক কাট, রং ও স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস। কিয়ারার স্যুটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্ট্রাকচার্ড ওয়েস্টকোট। শরীরের উপরের অংশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানানসই এই ওয়েস্টকোটে ছিল গভীর ভি-নেকলাইন। সামনে একই ক্যামেল-বেইজ রঙের ছোট ছোট বোতামের সারি পোশাকটিতে এনে দিয়েছে পরিপাটি ফিনিশিং। ওয়েস্টকোটের ভেতরে কিয়ারা পরেছিলেন দুই রঙের বেইজ ও সাদা শার্ট। শার্টটির উষ্ণ বেইজ রঙের মূল অংশ ওয়েস্টকোটের সঙ্গে মিশে গেলেও নজর কেড়েছে এর ওভারসাইজড সাদা কলার। সঙ্গে ছিল স্টাইলিশ ফ্রেঞ্চ কাফ, যা পুরো পোশাকে এনে দিয়েছে খানিকটা ক্লাসিক ফরমাল আবহ। এর ওপর ছিল একই রঙের একটি স্ট্রাকচার্ড জ্যাকেট। টেইলারড শোল্ডার, পরিষ্কার ল্যাপেল এবং নিখুঁত কাটিংয়ের কারণে জ্যাকেটটি কিয়ারার সিলুয়েটকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে। নিচে ছিল একই ক্যামেল-বেইজ শেডের হাই-ওয়েস্টেড ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার্স। প্যান্টের বাড়তি ভলিউম একদিকে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, অন্যদিকে পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও বিলাসবহুল আবহ। প্রচলিত টাইয়ের বদলে কিয়ারার গলায় দেখা গেছে চিকন বেইজ নেকটাই। কলারের নিচে পরিপাটি করে গুঁজে রাখা এই টাই পুরুষদের ক্লাসিক টেইলারিংয়ের ছোঁয়া এনে দিয়েছে নারীর পাওয়ার স্যুটে। পুরো পোশাকে থাকা সূক্ষ্ম প্লেড প্যাটার্নও লুকটিকে একঘেয়ে হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। জুতার ক্ষেত্রেও টোনাল স্টাইলিংয়ের পথেই হেঁটেছেন কিয়ারা। পায়ে ছিল উটের রঙের পয়েন্টেড স্টিলেটো পাম্প। সূচালো অগ্রভাগের এই জুতা তার পায়ের রেখাকে আরও দীর্ঘ দেখিয়েছে এবং মাথা থেকে পা পর্যন্ত একরঙা বিন্যাসটিও অটুট রেখেছে। অ্যাক্সেসরিজে রেখেছিলেন একবারে ছিমছাম । একজোড়া সোনালি স্টেটমেন্ট কানের দুল এবং মানানসই একটি আংটিতেই নজর কেড়েছেন। এর সঙ্গে এভিয়েটর সানগ্লাস যোগ করে কিয়ারা পুরো লুকে এনেছেন আরও দৃঢ় ভাব। সানগ্লাসের উপস্থিতিই আত্মবিশ্বাসী বার্তাটিকে আরও জোরালো করেছে। চুল ও মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। পোশাকের কাটিং ও টেইলারিংকে লুকের মূল আকর্ষণ করে তুলতে কিয়ারা তার লম্বা, ঘন বাদামি চুল হালকা ঢেউ খেলানো এবং কিছুটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রেখেছেন। মেকআপে ছিল সফট-গ্ল্যাম আবহ- সুবিন্যস্ত ভ্রু, উষ্ণ টোনের আইশ্যাডো এবং নুড-গোলাপি লিপস্টিক। কিয়ারার এই লুকটি প্রমাণ করে, পাওয়ার ড্রেসিংয়ের আসল শক্তি পোশাকে যতটা, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসে। ক্যামেল-বেইজের শান্ত রং, নিখুঁত টেইলারিং, পুরুষালি টেইলারিংয়ের অনুপ্রেরণা এই লুকে কিয়ারা তৈরি করেছেন এমন এক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, যা একই সঙ্গে স্মার্ট, আধুনিক ও নজরকাড়া। এসএকেওয়াই
ঘুম শরীর ও মনের পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ভেতরে শুরু হয় নানা জটিলতা, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকেই ঘুমকে অবহেলা করেন, অথচ সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে ভালো ঘুম। যখন ঘুম ঠিকমতো হয় না, তখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে সহজেই সর্দি-কাশি বা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়, যা অতিরিক্ত খাওয়া ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত কম ঘুম মানে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যাওয়া। মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এর প্রভাব ভয়াবহ। ঘুম কম হলে মন খারাপ লাগে, মনোযোগে ঘাটতি আসে, কাজের উদ্যম কমে যায়। অনেক সময় হতাশা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি হয়। শিক্ষার্থী বা কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়। তবে সুস্থ থাকার জন্য ঘুম ঠিক রাখার কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করা যায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং জেগে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। রাতে ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত — মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণে বাধা দেয়। শোবার ঘরকে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখা ঘুমের মান বাড়ায়। কফি বা চা রাতের বেলা এড়িয়ে চলাই ভালো। দিনের বেলা হালকা ব্যায়াম ও সকালের রোদে কিছুক্ষণ সময় কাটানো ঘুমে সহায়তা করে। আর ঘুমানোর আগে ভারী খাবার না খাওয়াও জরুরি। ঘুমকে যদি গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে শরীর একসময় সিগন্যাল দিতে শুরু করবে — মাথা ভার, মেজাজ খারাপ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল ইত্যাদি নানা রকম সমস্যা দেখা দেবে। তাই সুস্থ থাকতে হলে শুধু খাদ্য, ব্যায়াম বা ওষুধ নয় — একটি পরিপূর্ণ ঘুমই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।
বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নতুন সংকট। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে একটানা লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, এমনকি হাসপাতালের রোগীরাও অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তীব্র গরম ও অসহনীয় তাপদাহের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই ভুগছেন। শহরাঞ্চলে ফ্যান, এসি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গরমে হাঁসফাঁস করছেন মানুষ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে পানির পাম্প চলতে না পারায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দিনে প্রায় ৬-৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফিরে আসছে না। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানাগুলো এই বিদ্যুৎ সংকটে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছোট দোকানদাররা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবারদাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইটি ও অনলাইনভিত্তিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ ইন্টারনেট রাউটার, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়-রোজগারে বড় ধাক্কা লাগছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জেনারেশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সংকটের কারণে পুরো উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে আমদানি নির্ভর কয়লা ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সাময়িক এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং কমে আসবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কতদিন এমন দুর্ভোগ চলবে? বিশেষ করে যেসব এলাকায় দিনে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, তাদের জন্য এ আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে — তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং এর সমাধানে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিকল্প জ্বালানি উৎস যেমন সৌর ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে গুরুত্ব না দিলে প্রতি বছরই এ ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে। এ অবস্থায় মানুষ চায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও দ্রুত সমাধান। বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন আর এক নিত্যকার দুর্ভোগে পরিণত না হয় — সেই প্রত্যাশাই করছে সারাদেশ।
পৃথিবীতে মানব সভ্যতার টিকে থাকার উপযোগী পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়ক ৯টি প্রাকৃতিক ব্যবস্থার ওপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে।
<p>বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার কচ্ছপতলী আলোর পাঠশালায় গত সোমবার যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শিক্ষক দিবস পালন করা হয়েছে।</p><p>দিবসটি উপলক্ষে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রিয় শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। এ সময় শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে শিক্ষার গুরুত্ব, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের বিষয়ে বক্তব্য দেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/dn2i14b6/WhatsApp-Image-2026-10-05-at-3.28.38-PM-1.jpeg"><figcaption>শিক্ষার্থীরা তাদের প্রিয় শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।</figcaption></figure><p>প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত কচ্ছপতলী আলোর পাঠশালা দুর্গম পাহাড়ি এলাকার সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। এখানকার শিক্ষকরা প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পাশাপাশি তাদের স্বপ্ন পূরণে অনুপ্রেরণা দিয়ে যাচ্ছেন।</p><p>অনুষ্ঠানে শিক্ষকেরা বলেন, একজন শিক্ষক শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান প্রদান করেন না; বরং শিক্ষার্থীদের সৎ, মানবিক ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা ও সম্মানই একজন শিক্ষকের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/gmgf5sus/WhatsApp-Image-2026-10-05-at-3.28.36-PM.jpeg"><figcaption>শিক্ষার্থীরা তাদের প্রিয় শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়।</figcaption></figure><p>শিক্ষক দিবসের এই আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও পারস্পরিক বন্ধন আরও দৃঢ় হয়। আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।</p><p>শিক্ষার আলোয় আলোকিত হোক পাহাড়ের প্রতিটি শিশু—এই প্রত্যয়ে এগিয়ে চলুক কচ্ছপতলী আলোর পাঠশালা।</p>
টেলর সুইফটের নতুন গান ‘পেশেন্ট জিরো’ শুধু বিচ্ছেদের গল্প নয়, বরং এমন এক সম্পর্কের অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে, যেখানে একজন মানুষ ধীরে ধীরে নিজের অনুভূতি, স্মৃতি এমনকি সিদ্ধান্ত নিয়েও সন্দেহ করতে শুরু করেন।
<p>মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ হয়েছে। আগস্টে এই হার ছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। গত মাসের দ্বিতীয়ার্ধে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব মূল্যস্ফীতিতে পড়ছে, এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেল।</p><p>বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) আজ বুধবার সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করেছে।</p><p>টানা ৩ মাস ৯ শতাংশের বেশি মূল্যস্ফীতি থাকার পর জুলাই ও আগস্টে মূল্যস্ফীতি কমেছিল। সেপ্টেম্বরে আবার মূল্যস্ফীতি কিছুটা বাড়ল।</p><p>জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব মূল্যস্ফীতিতে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এর ফলে সীমিত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো খরচের চাপে আছে।</p><p>বিবিএসের হিসাব অনুসারে, গত সেপ্টেম্বরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৭ দশমিক ২২ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ।</p><h3>জীবনযাত্রায় প্রভাব কী </h3><p>মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেলে জীবনযাত্রার ওপর প্রভাব পড়ে। জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় সীমিত ও মধ্য আয়ের মানুষের কষ্ট বাড়ে। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আয় না বাড়লে মানুষের প্রকৃত আয় কমে যায়। সংসারের খরচ চালানো কষ্টকর হয়।</p><p>২১ সেপ্টেম্বর অকটেন, পেট্রল ও ডিজেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানো হয়। এতে পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়েছে। ফলে বাজারে শাকসবজি, মাছ ও মাংসের দাম চড়া।</p><p>মূল্যস্ফীতি বাড়লেও জাতীয় গড় মজুরি হার কমেছে। সেপ্টেম্বরে জাতীয় গড় মজুরি হার হয়েছে ৭ দশমিক ৯০ শতাংশ, যা আগস্টে ছিল ৮ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে যত মূল্যস্ফীতি হয়েছে, এর চেয়ে মজুরি কম বেড়েছে। ফলে বাজার থেকে পণ্য কিনতে ভোগান্তি বাড়ছে।</p><p>মূল্যস্ফীতির চেয়ে মজুরি বৃদ্ধির হার কম হলে প্রকৃত আয় কমে যায়। মূল্যস্ফীতির তুলনায় আয় না বাড়লে ধারদেনা করে সংসার চালাতে হয় কিংবা খাবার, কাপড়চোপড়, যাতায়াতসহ বিভিন্ন খাতে কাটছাঁট করতে হয়।</p>
সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে আবদুর রহমানকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।
<p>দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলামের জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। ৭ অক্টোবর উভয় পক্ষে শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন। বিস্তারিত ভিডিওতে.... </p><figure></figure>
লেখক মেসির ২১ বছরের খেলা উপভোগ করেছেন। তাঁর মতে, মেসি একাধারে বিনয়ী মানুষ, লড়াকু খেলোয়াড় ও অসাধারণ নেতা; দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতেন এবং সতীর্থদের এগিয়ে দিতেন
<p>২০০৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ার প্রথম আলোর সাহিত্য সাময়িকীতে <strong>আল মাহমুদের</strong> এ সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়। এত দিন শুধু ছাপা কাগজে থাকা এ সাক্ষাৎকারটি আজ অনলাইন পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন <strong>কামরুজ্জামান কামু</strong></p><p>বিরামপুরের যাত্রীর কবিতাগুলো পড়ে আপনার কবিতায় আবার নতুন একটা বাঁক বলে মনে হলো। মাঝখানে ‘বখতিয়ারের ঘোড়া’জাতীয় কবিতাগুলোর চেয়ে বরং ‘সোনালী কাবিন’–এর সঙ্গে এসব কবিতার বেশি মিল আছে...</p><p><strong>আল মাহমুদ:</strong> আমি একটা বই দুবার লিখিনি। বখতিয়ারের ঘোড়াকে যে যেভাবেই দেখাক, এটা নতুন কবিতার বই একদম। কতগুলো উপমা, উৎপ্রেক্ষা, প্রতিতুলনা ওতে তুলে ধরা হয়েছে, যেগুলো মুসলমান সমাজের কাছে খুবই চেনা। এর মধ্যে কোনো বিদ্বেষ নেই, দার্শনিকতা আছে।</p><p>বখতিয়ারের ঘোড়ার উপমা, উৎপ্রেক্ষা বা ভাবমণ্ডল যে আমাদের ঐতিহ্যের, এটা কীভাবে?</p><p><strong>মাহমুদ:</strong> আমাদের ভাষায় অনেকগুলো তুর্কি শব্দ আছে। যেমন বাবা, কাকা—এগুলো তুর্কি শব্দ। আমাদের ভাষার ওপর প্রভাব বিস্তার করেছে তুর্কি ভাষা। বখতিয়ার খিলজির আগমনের পরই এটা সম্ভবত হয়েছে। তো এ দেশের এই কোটি কোটি মুসলমান, তারা তাদের ঐতিহ্যগত যে বীরত্বের কাহিনি, তা জানবে না? আর বখতিয়ার খিলজি যে এ দেশ আক্রমণ করেছিলেন, তাঁকে ডেকে এনেছিল রাজা লক্ষ্মণ সেনের সৈন্যবাহিনী।</p><blockquote>একটা সময়ে আমরা সবাই ইউরোপীয় হয়ে উঠতে চেয়েছি। আমরা ইংরেজ উপনিবেশে ছিলাম। চলনে-বলনে, বাঁচার প্রক্রিয়ায় ইউরোপীয়, মানে ইংরেজ হতে চেয়েছি। ঔপনিবেশিক দাসত্বটাকে আমরা গৌরবের মনে করেছি আর এটার নাম হলো আধুনিকতা। এখন যে কবিতা লেখা হচ্ছে, তা যথেষ্ট আধুনিক নয়। কারণ, তারা সেই ঔপনিবেশিক আধুনিকতাকে এখন পর্যন্ত আধুনিকতা মনে করছে। আমি সেটা করছি না।</blockquote><p>কারণ কী?</p><p><strong>মাহমুদ:</strong> এসব অঞ্চলে একটা কৌম সমাজ ছিল, অনেকটা প্রাইমারি সোশ্যালিজমের মতো। এই সমাজকে ভেঙে ক্ষত্রিয়, ব্রাহ্মণ ও শূদ্র—নানা ভাগে ভাগ করেছিলেন লক্ষ্মণ সেন! বাঙালি সমাজের শিকড়টাই তিনি মুচড়ে দিয়েছিলেন কিন্তু তাঁর সেনাসদস্যরা ছিলেন কৈবর্ত সম্প্রদায়ের, দুর্ধর্ষ সেনাবাহিনী। এরা ছিল নিপীড়িত-নির্যাতিত। এরাই বখতিয়ার খিলজিকে ডেকে এনেছিল। এই প্রতীকটা যদি আমি ব্যবহার করি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo/import/media/2019/02/22/3e6a8bfadd788ddebc33a6dbe4574cfd-5c6f94cc7808e.jpg"><figcaption>আল মাহমুদ</figcaption></figure><p>আমি অবশ্য সাম্প্রদায়িক বলতে চাইনি।</p><p><strong>মাহমুদ:</strong> এই বইয়ের খুব সমালোচনা করেছেন আমার বন্ধু শহীদ কাদরী। আমি এসবের জবাব দিতে চাই না। আমি মনে করি, ‘বখতিয়ারের ঘোড়া’ আমাদের কবিতায় একটা অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য বই। এর ইমেজারি চিত্রকল্প খুব সহজভাবে আমাদের আকৃষ্ট করে। বইটা বেরোবার সময়ই এটা আমি বুঝতে পেরেছিলাম।</p><p>আপনার সমকালীন অনেক কবির কবিতায় নেতিবোধ প্রবল। অন্ধকার, হতাশা, নগরের জীবনযন্ত্রণা তাদের প্রধান বিষয়। নগরে বসবাস করেও আপনার মধ্যে তা নেই। খুব আত্মবিশ্বাসী একটা ভঙ্গি আছে।</p><p><strong>মাহমুদ:</strong> আমার কবিতায়ও দুঃখ, বেদনা, হতাশা আছে কিন্তু আমার আত্মবিশ্বাস প্রবল। আমি নেগেটিভ কবি নই, নঞর্থক বিষয় আমি উপস্থাপন করিনি। আমার যা ভালো লেগেছে, আমি সে বিষয় নিয়ে কবিতা লিখেছি আর যে বিষয়ে আমার জ্ঞান নেই, আমি কম জানি, সে বিষয়ে আমি কোনো কবিতা লিখিনি।</p><blockquote>চিত্রকল্পই যে কবিতা, এটা আমি এই বইয়ে খুব বেশি করে দেখাতে চেষ্টা করেছি। আগে তো আমরা বলতাম, শব্দই কবিতা, এটা আমরা ফরাসিদের কাছে শিখেছিলাম। মালার্মে বলতেন এসব কথা। কিন্তু আমার নিজের অভিজ্ঞতায় বুঝেছি, চিত্রকল্পই কবিতা। ইউরোপ ভ্রমণ করে, বিভিন্ন দেশের কবিদের সঙ্গে মিশে, দিল্লিতে গিয়ে তামিল, মালয়ালামসহ বিভিন্ন ভাষার কবিদের সঙ্গে যে ভাববিনিময় করে দেখলাম, তাঁরাও ভাবছেন, কবিতা আসলে চিত্রকল্প।</blockquote><p>আপনার কবিতায় বাংলার প্রকৃতি, বাংলার নারী, পুরো বাংলাদেশ মূলসহ দুলে ওঠে। বাংলার কবি যে সেটি হাড়ে হাড়ে টের পাওয়া যায়।</p><p><strong>মাহমুদ:</strong> আমি তো প্রকৃতপক্ষে গ্রামের লোক। সে প্রভাব আমার মধ্যে সব সময় কাজ করেছে। যেটাকে বলে আরবানিটি, নগরযন্ত্রণা, এটা নিউইয়র্ক, লন্ডন, প্যারিস—পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শহরগুলোতে হয়তো আছে। আমি ঢাকায় এটা দেখিনি। কলকাতা, দিল্লি, বেঙ্গালুরু—আমি কোথাও আরবানিটি বা নাগরিকতা প্রত্যক্ষ করিনি। আমেরিকান বা ইউরোপীয় কবিরা যে নাগরিক যন্ত্রণার কথা বর্ণনা করেন, তা আমার মধ্যে নেই। আমরা এখনো পাশের ফ্ল্যাটে কে অসুস্থ হলো খবর নিচ্ছি। ইউরোপে পাশের ফ্ল্যাটে একজন লোক মরে পড়ে আছে। পচে দুর্গন্ধ না বেরোনো পর্যন্ত পাশের ফ্ল্যাটের লোকজন জানতে পারেন না। এই পেইন অ্যাগোনি আমার নেই।</p><p>আমাদের জীবনে এখনো অবসর আছে। লন্ডন ও প্যারিসের মতো শহরে ভোর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবাই যার যার কাজে ছুটছে কিন্তু আমাদের এখানে তো তা না। একটি পরিবারের একজন সকালে চাকরি করতে বেরিয়ে যাচ্ছে, আরেকজন হয়তো বেকার, ঘরে বসে টিভি দেখছে। মানে অবসর এখনো নষ্ট হয়নি। কারণ, এখনো আমাদের যৌথ পরিবার আছে। পরিবার ছোট হয়ে এসেছে কিন্তু এখনো একজন আরেকজনকে সাহায্য করে। যেটা নেই, সেটা আমি কোত্থেকে আনব। আর যেটুকু আছে তা আমার কবিতাতেও আছে।</p><p>একটা সময়ে আমরা সবাই ইউরোপীয় হয়ে উঠতে চেয়েছি। আমরা ইংরেজ উপনিবেশে ছিলাম। চলনে-বলনে, বাঁচার প্রক্রিয়ায় ইউরোপীয়, মানে ইংরেজ হতে চেয়েছি। ঔপনিবেশিক দাসত্বটাকে আমরা গৌরবের মনে করেছি আর এটার নাম হলো আধুনিকতা। এখন যে কবিতা লেখা হচ্ছে, তা যথেষ্ট আধুনিক নয়। কারণ, তারা সেই ঔপনিবেশিক আধুনিকতাকে এখন পর্যন্ত আধুনিকতা মনে করছে। আমি সেটা করছি না।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2023-07/9fa4f424-a5d5-477b-a58c-79a1022d5334/Al_Mahmud_16_June_2016_Photo_Nasir_Ali_Mamun____Photoseum_.jpg"><figcaption>আল মাহমুদ</figcaption></figure><p>এখানে ত্রিশের কবিতার প্রসঙ্গ আসে।</p><p><strong>মাহমুদ:</strong> ত্রিশের কবিরা সবাই ছিলেন বাংলা ভাষার ইংরেজ লেখক বা ফরাসি লেখক। তাঁরা বাংলা ভাষায় লিখেছেন কিন্তু জীবনাচরণে ছিলেন প্রকৃতপক্ষে ইউরোপিয়ান। তারা প্রায় সবাই ইংরেজি ভাষার অধ্যাপক ছিলেন এবং তাঁরা ইউরোপীয় হয়ে উঠতে চেয়েছিলেন। তাঁরা শুধু কবিতা, ইউরোপীয় বা ফরাসি কবিতাই অনুবাদ করেছেন। একটা বিশাল উপন্যাস অনুবাদ করে বিশাল একটা দরজা খুলে দেওয়া সেটা কিন্তু তাঁরা করেননি। বলা হয়, জীবনানন্দে বেশি দেশজ বিষয় এসেছে। আমি মনে করি, তা–ও ইংরেজি কবিতা পড়ারই ফল। তার অসাধারণ কবিতা ‘বনলতা সেন’—এটিতেও বিদেশি প্রভাব আছে। ‘বনলতা সেন’-এর ‘চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা’, ‘হাল ভেঙে যে নাবিক হারায়েছে দিশা’—এ রকম লাইন অ্যাডগার অ্যালেন পোর ‘হেলেন’, কবিতায়ও আছে। ত্রিশের কবিদের মধ্যে ইউরোপিয়ানই বেশি ছিল। দেশ তাঁদের ছিল না। দেশ না থাকার ফলে তাঁরা শুধু ভাষাটাকে ব্যবহার করেছেন বাংলা ভাষাটাকে।</p><p>বাংলা ভাষায় তাঁরা ইউরোপীয় অনুভূতিকে প্রকাশ করতে চেয়েছেন?</p><p><strong>মাহমুদ :</strong> হ্যাঁ, তুমি যদি প্রমাণ চাও, তাহলে আমি বলতে পারি যে বুদ্ধদেব বসু যখন ৬০ পেরিয়ে গেলেন, তখন তিনি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন যে কবির একটা দেশ লাগে। তখন তিনি ফিরলেন অবশ্য দেশে। কোন দেশে ফিরলেন? ‘মহাভারত’। ষাটের পর তাঁর সব কাজ হলো ‘মহাভারত’ নিয়ে। বিষ্ণু দে এক জায়গায় লিখেছেন, ‘আমরা খুঁজেছি হরেক বইয়ে আপন দেশ/ দেশের মানুষ ঘুরিয়েছি শুধু ডাইনে-বাঁয়ে।’ তিনি বলছেন, এখন আমি হয়রান হয়ে খুঁজছি—ফিরব মোড়ল সে কোন গাঁয়ে। তিনি সত্য উচ্চারণ করেছেন। তিনি ফিরলেন উপনিষদে। তো আমার ধারণা, এই বাংলায় সম্ভবত আমি এবং পশ্চিমবঙ্গে শক্তি চট্টোপাধ্যায়—ত্রিশের পরে আমরা প্রথম বাঙালি কবি। শক্তি চট্টোপাধ্যায় রাঢ় অঞ্চলের ব্রাহ্মণ ছিলেন। তাঁর কবিতায় সেই বৈষ্ণবীয় ভাব, বৈষ্ণবীয় প্রত্যাখ্যান, টান এগুলো আছে আর রবীন্দ্রনাথ তো অসাধারণ ব্যাপার।</p><p>‘বিরামপুরের যাত্রী’ বইটাকে আপনি কীভাবে দেখেন?</p><p><strong>মাহমুদ:</strong> ‘বিরামপুরের যাত্রী’ অত্যন্ত আধুনিক কবিতার বই। সমকালীন আধুনিক কবিতার চূড়ান্ত একটা জায়গায় এসে এ বই লেখা হয়েছে। বিরামপুরের যাত্রীতে আছে কী? ইতিহাসচেতনা আছে, প্রকৃতিচেতনা আছে, নারীচেতনা-প্রত্নচিন্তা আছে। সর্বোপরি যেটা আছে, সেটা হলো যে মৃত্যু সম্পর্কে নিশ্চিত থাকা। মৃত্যুকে খুব দূর মনে করি না। এই যে নিশ্বাস টানছি, যেকোনো মুহূর্তে এটা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। যতক্ষণ নিশ্বাস বইছে, ততক্ষণ তুমি আমাকে আল মাহমুদ বলছ। যখন আর নিশ্বাস বইছে না, বলছ আল মাহমুদের লাশ। কথাটা কিন্তু খুব ডিফারেন্ট হয়ে যায়। কী জিনিস না থাকলে আমি লাশ হয়ে যাই? আমাকে আর ওপরে রাখা যায় না? তাড়াতাড়ি কবর দিয়ে দিতে হয়? আধ্যাত্মিকতা দিয়ে, ধর্ম দিয়ে, সব ঐতিহ্যগত বিষয় উপস্থাপন করে, ইতিহাসের অভিজ্ঞতা থেকে এই জিনিসটা আমি বুঝতে চেষ্টা করেছি।</p><p>‘বিরামপুরের যাত্রী’র ছন্দের স্বভাব নিয়ে বলুন।</p><p><strong>মাহমুদ :</strong> অ্যাকচুয়ালি ‘বিরামপুরের যাত্রী’র কবিতাগুলো আমি গদ্যেই লিখেছি, দু-একটি ছন্দের চাল আছে। একটা মিশ্রছন্দে লিখতে চেয়েছিলাম। বাংলা কবিতায় পয়ার থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা তো আমরা সবাই করছি। চালটা পয়ারে চলে আসে। তুমি যদি এমন বিষয়বস্তু আনতে পারো যে পয়ারে চিড় ধরে যাবে, সেটা আমি গদ্যে করার চেষ্টা করেছি। আমার গদ্যকবিতা সমর সেনের গদ্যকবিতা নয়। একটু ডিফারেন্ট। আমি অবশ্য রবীন্দ্রনাথের শেষ দিকের কবিতা জন্মদিনে পড়ে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলাম। যে রবীন্দ্রনাথ আমাদের ছন্দ শেখালেন—তাঁর এত ছন্দের খেলা, এত বড় লিরিক্যাল কবি তিনি, এত গীতের রচয়িতা, মৃত্যুর কিছুদিন আগে তিনি হঠাৎ প্লেন গদ্যে নেমে এলেন কেন? প্রশ্নটা আমার মনে জেগেছিল। তো এ রকমই একটা কাজ ‘আমি বিরামপুরের যাত্রী’ এবং এ বইমেলায় প্রকাশিত ‘না কোন শূন্যতা মানি না’ বই দুটিতে করতে চেয়েছি। আমি তো আর এখানে বসে থাকব না, সঙ্গে সঙ্গে আমি আবার ফিরে এসেছি ছন্দে। আমার ধারণা যে কবির কাজ সহজাত ছন্দে চলে যাওয়া।</p><p>‘বেলা শেষে কে বালক’ কবিতায় কৈশোরের জন্য একটা হাহাকার আছে।</p><p><strong>মাহমুদ:</strong> হ্যাঁ, আছে। আমরা কেউ বাড়িতে নেই। আমাদের একটা বাড়ি আছে, কোথায় যেন একটা আছে, সেখানে ফিরে যেতে চাই। আমার ধরো কবরই এখন বাড়ি। আমি সেদিকেই ফিরে যেতে চাই। এই ফিরে যাওয়ার কথাটাই বলতে চেয়েছি এ কবিতায়। খেললাম তো বহু, মেলা থেকে, বাজার থেকে কিনলাম নানা পুতুল, এই খেলাধুলার শেষে এখন বলছি, চলো বাবা বাড়ি ফিরে যাই।</p><p>এই হাহাকার এ বইয়ের অন্যান্য কবিতায়ও...</p><p><strong>মাহমুদ:</strong> হ্যাঁ, এই বইটা এ রকমই। একটু নস্টালজিক কবিতা।</p><p>‘বিরামপুরের যাত্রী’ মানে কী?</p><p><strong>মাহমুদ:</strong> প্রত্যেক মানুষই ব্যাক করে, এক জায়গায় চলে যায়। আমার আগে যারা—তসবিহ ঘোরাতে ঘোরাতে অন্তর্হিত হয়ে গেছে। এখন আমার পালা, এখন আমিও যাচ্ছি। ‘বিরামপুরের যাত্রী’ কথাটার মধ্য দিয়ে এটাই বলতে চেয়েছি।</p><p>আপনার কবিতার ভাঁজে ভাঁজে নারী।</p><p><strong>মাহমুদ :</strong> দেখো, আমি নারীনির্ভর মানুষ। অল্প বয়সে বিয়ে করার কারণে আমার নারীনির্ভরতা একটু বেশি। আমি কবি মানুষ, একটু উদাসীন—সবটাই আমার স্ত্রীর ঘাড়ে চেপে যায়। আমার পরিচর্যা করা, আমার সুখসুবিধা দেখা...আমি যে কবি, এটা সে জেনেই এসেছে, আমার লেখাপড়া ইত্যাদি, এসব মিলিয়ে আমার ওপর সে একটা গভীর প্রভাব বিস্তার করে আছে। ঋণও আছে। নারীর কাছে তো পুরুষ শুধু আসঙ্গলিপ্সাই কামনা করে না। এটা হচ্ছে জীবনের সামান্য একটা অংশ। তার কাছে পুরুষ দয়া, মায়া, শুশ্রূষা কামনা করে। যৌনতৃপ্তির পর সে এগুলোর জন্য কাতর হয়ে যায়। এটা একধরনের কৃতজ্ঞতা থেকে আসে, এটার নামই আসলে প্রেম। তুমি যেটা জানতে চাও, সেটা আমি বুঝি। কারণ, আমারও তো তোমার মতো বয়স ছিল কিন্তু আমি সংযত থেকেছি। সংযত থেকেছি সাহিত্যের জন্য, কবিতার জন্য। না হলে ওলট-পালট হয়ে যেত, কোথায় থেকে কোথায় চলে যেত।</p><p>একটা কবিতায় আপনি বলছেন, ‘...নারীর স্মৃতি শেষ।/ নারী বড় অনাহারি, সাততাড়াতাড়ি/ চোখের আগুনে ভস্ম করে ঘর-বাড়ি।’ এটা কী?</p><p><strong>মাহমুদ:</strong> এটা হয়তো কোনো আক্ষেপ থেকে এসেছে।</p><p>নারীর প্রতি আপনার আক্ষেপও আছে?</p><p><strong>মাহমুদ:</strong> এ তো স্বাভাবিক। বিতৃষ্ণাও সৃষ্টি হয় অনেক সময়, তাই না?</p><p>এ বইয়ে নাজিম হিকমতের জন্য একটি কবিতা আছে। এই কবিতার স্বভাব আবার একটু আলাদা মনে হয়।</p><p><strong>মাহমুদ:</strong> নাজিম হিকমত ল্যুভর মিউজিয়ামের সামনে একটা জায়গায় বসতেন, আমি সেখানে গিয়ে একটু বসলাম। তখন নাজিম হিকমতের একটি ডায়েরি পড়েছিলাম। সেখানে কিছু ঠাট্টা-মশকরা, যা উনি করতেন আর কি, এই যে আর্টফার্ট নিয়ে, ভেনাসকে নিয়ে—এগুলোর কথা মনে পড়ল, তখন এ কবিতাটা লিখেছি। উনি আত্মা, পরকাল—এসব বিশ্বাস করতেন না। তো কোথায় ঢুকবে আত্মা, ঘুরছে পেঁজা তুলার মতো। খুব বড় কবি ছিলেন তিনি। তুর্কিরা তাঁকে শ্রদ্ধা করতেন।</p><p>আপনার এই বইয়ের কবিতার কোন দিকগুলো পরবর্তীকালে গুরুত্ব পাবে বলে মনে করেন?</p><p><strong>মাহমুদ:</strong> চিত্রকল্পই যে কবিতা, এটা আমি এই বইয়ে খুব বেশি করে দেখাতে চেষ্টা করেছি। আগে তো আমরা বলতাম, শব্দই কবিতা, এটা আমরা ফরাসিদের কাছে শিখেছিলাম। মালার্মে বলতেন এসব কথা। কিন্তু আমার নিজের অভিজ্ঞতায় বুঝেছি, চিত্রকল্পই কবিতা। ইউরোপ ভ্রমণ করে, বিভিন্ন দেশের কবিদের সঙ্গে মিশে, দিল্লিতে গিয়ে তামিল, মালয়ালামসহ বিভিন্ন ভাষার কবিদের সঙ্গে যে ভাববিনিময় করে দেখলাম, তাঁরাও ভাবছেন, কবিতা আসলে চিত্রকল্প।</p><p>হ্যাঁ, ওই রকম, ওই যে ইতিহাসের সব প্রত্ন, মূর্তি, মুদ্রা আর যক্ষ্মিণীদের ভাঙা ঊরুর পাশ দিয়ে একটি মাত্র সোনার টাকা হাতে নিয়ে আপনি যেভাবে গোমতী পার হয়ে এলেন...</p><p><strong>মাহমুদ:</strong> ‘বিরামপুরের যাত্রী’ এবং এর পরের ‘না কোন শূন্যতা মানি না’ বই দুটিতে আমি চিত্রকল্পের কাজটা বেশি করে করতে চেয়েছি। তরুণদের এটা হয়তো ভালো লাগবে।</p>
বাংলাদেশে আসন্ন দুর্গাপুজায় টানা তিনদিন সরকারি ছুটি পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। তবে তাদের জন্য এই সপ্তাহের একদিনের ছুটি কমছে। বিস্তারিত বিবিসি বাংলা লাইভ পাতায়...
পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেলে অবস্থিত ‘আপনজন’ নামক একটি বাংলাদেশি এলজিবিটি সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্কিত পৃথক পৃথক ভুয়া দাবির অভিযোগে মঙ্গলবার ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে জাল প্রমাণ তৈরিতে সাহায্যের জন্য সাড়ে চার হাজার পাউন্ড পর্যন্ত অর্থ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে।
নেহা বোরার রাজনৈতিক উত্থানের শুরুটা হয় ২০২৬ সালের জুলাই মাসে। ভারতের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনশনরত অভিজিৎ দীপকে ও সোনম ওয়াংচুকের পাশাপাশি তিনিও একটি পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।
যে মামলাটি বহু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, সেই মামলায় দোষী সাব্যস্ত খুনি দুটি প্রাণঘাতী ইনজেকশন থেকে বেঁচে গিয়ে টেনেসির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
কয়েকদিন অচেতন অবস্থায় থাকার পর যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ক্রিস্টা পাইকের জ্ঞান ফিরেছে। তার সুস্থ হয়ে ওঠার ঘটনাকে নজিরবিহীন বলে অভিহিত করেছেন বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবীরা। তাদের অনেকে বলছেন যে, প্রাণঘাতী ইনজেকশন থেকে বেঁচে যাওয়া একমাত্র ব্যক্তি তিনিই।
বিশ্বের ৫০০ ভালো শহরের তালিকায় বাংলাদেশের কোনো শহর নেই। ৫ই অগাস্টের পরপরই নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে জড়ান বিএনপির তৃণমূলের কিছু নেতাকর্মী। মশা মারার জন্য সারা দেশে ৪৮ হাজারের বেশি কমিটির কাজ করার কথা থাকলেও বাস্তবায়ন নেই। বুধবার ঢাকা থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্রে এসব খবর গুরুত্ব পেয়েছে।
৭৩ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদের জীবনটা খুব সহজ নয়, বরং বড় উত্থান-পতনে ঘেরা। বলা চলে, তিনি ছিলেন সেই 'রাজপুত্র' যিনি সবকিছু হারিয়েছিলেন। ‘প্রতিবিপ্লবী’ হিসেবে চিহ্নিত একজন ব্যক্তির পুত্র হওয়ায় কিশোর শি-কে জোর করে একটি পুনঃশিক্ষণ কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল।
ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার জানিয়েছে, গত চৌঠা অক্টোবর সৌদির আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের আল খুরাইস এলাকায় আরামকোর একটি স্থাপনায় হুথিদের নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের আঘাতে বাংলাদেশি নাগরিক মোঃ সজিব হোসেন মৃত্যুবরণ করেছেন। কে এই সজিব ? কী জানা যাচ্ছে তার সম্পর্কে?
একজন বিদায় নিলেন, আর কাঁদল পুরো দল। কেউ চোখের পানি লুকাতে পারলেন না, কেউ মাইক্রোফোন হাতে নিয়েও আবেগ সামলাতে পারলেন না।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের সব শূন্য পদ দ্রুত পূরণের সুপারিশ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।
মাদকদ্রব্য ধ্বংস কার্যক্রম পরিচালনার সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিবির চট্টগ্রাম দক্ষিণ রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সোহেল আহমেদ। এ সময় তিনি বলেন, সীমান্ত সুরক্ষা ও মাদক চোরাচালান বন্ধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বানও জানান তিনি।
এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরো ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বরিশাল সরকারি বজ্রমোহন (বিএম) কলেজের মেধাবী ছাত্রী ঝুমুর খানম সেতুকে পরিকল্পিতভাবে মানসিক নির্যাতন করে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ করেছেন মৃতের পরিবারের সদস্য, স্বজন ও এলাকাবাসী।
হামাসের নেতৃত্বে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা হয়েছিল। এরপর ইসরায়েল গাজায় যে গণহত্যামূলক যুদ্ধ শুরু করেছিল, তার তিন বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডটির চেহারা এমনভাবে বদলে গেছে যে, তা আর চেনাই যাচ্ছে না।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত আরো দুই প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি (বেক্সিমকো) ও শাইনপুকুর সিরামিকসের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।
জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে রাশেদ খান বলেন, ঢাকা শহরের জন্য ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা একটি বিড়ম্বনা। অটোরিকশার কারণে যানজট সৃষ্টি হওয়ায় ঢাকা এখন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। সরকার অটোরিকশা চলাচলে নীতিমালা করতে যাচ্ছে। ফুটপাত দখলমুক্ত করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। কিন্তু জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল এটা নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছেন। জামায়াত অটোরিকশাচালকদের নেপথ্যে থেকে তাদের আন্দোলনে ইন্ধন দিচ্ছে।