<p>ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের অগ্রগতির মুখে আবারও তাদের সঙ্গে সংঘাতে যুক্ত হতে সম্মত হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। ইয়েমেনের কয়েকটি সূত্র দ্য গার্ডিয়ানকে জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সরকারপন্থী কিছু বাহিনীকে আবারও অর্থ দেওয়া শুরু করবে আমিরাত। বিনিময়ে হুতিবিরোধী এসব বাহিনীকে আকাশপথে সুরক্ষা দেবে সৌদি আরব।</p><p>ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে সৌদি ও আমিরাতের মধ্যে গভীর মতবিরোধ রয়েছে। নতুন এ সহযোগিতা সেই বিরোধ কমানোর প্রথম দৃশ্যমান লক্ষণ। ইয়েমেনজুড়ে হুতিদের অগ্রগতি উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিদ্বন্দ্বী শাসকদেরও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।</p><p>সৌদি আরব প্রায় প্রতিদিন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়ছে। হুতিদের এসব হামলায় দেশটির বিমানবন্দর ও জ্বালানি স্থাপনার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।</p><blockquote>ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে সৌদি আরব ও আমিরাতের মধ্যে গভীর মতবিরোধ রয়েছে। নতুন এ সহযোগিতা সেই বিরোধ কমানোর প্রথম দৃশ্যমান লক্ষণ।</blockquote><p>ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলে হুতিবিরোধী বাহিনীগুলোর মধ্যে বিশেষ করে ‘জায়ান্ট ব্রিগেডস’কে একসময় প্রশিক্ষণ ও অর্থায়ন দিত আরব আমিরাত। এটিকে হুতিবিরোধী সামরিক জোটের অন্যতম কার্যকর বাহিনী হিসেবে ধরা হয়। তবে সৌদি আরবের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইয়েমেনের ভেতরে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতা চালানো থেকে সরে যায় আমিরাত। তখন জায়ান্ট ব্রিগেডসকে দেশটির দেওয়া অর্থায়নও বন্ধ হয়ে যায়।</p><p><strong>ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চল নিয়ে বিরোধ এখনো কাটেনি</strong></p><p>ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা এ সপ্তাহে স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোটের দাবি জানিয়েছে। তবে সৌদি আরব বা আমিরাত—কেউ এ পর্যন্ত সে দাবির জবাব দেয়নি। এমন গণভোট হলে ১৯৬৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত যে সীমান্তে ইয়েমেন দুটি আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে ছিল, তা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হতে পারে।</p><p>বিচ্ছিন্নতাবাদী ‘সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি)’ এখনো পুরোনো ইয়েমেনের (সাবেক দক্ষিণ ইয়েমেন) দক্ষিণাঞ্চলের সীমানার বাইরে তাদের সেনাদের লড়তে দিতে রাজি হয়নি। তবে সৌদি আরব যদি স্পষ্টভাবে গণভোটে সম্মতি দেয়, তবে এ বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হতে পারে।</p><aside><cite>মোয়াম্মার আল-এরিয়ানি, ইয়েমেন সরকারের তথ্যমন্ত্রী</cite>গত শুক্রবার দুটি ক্ষেপণাস্ত্র এডেন বিমানবন্দরে ইয়েমেনিয়া এয়ারওয়েজের যাত্রাবাহী উড়োজাহাজ থেকে প্রায় ৫০০ মিটার এবং রানওয়ের মাঝামাঝি জায়গা থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে গিয়ে পড়ে।</aside><p>এডেনভিত্তিক জাতিসংঘ-স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার গত সপ্তাহে রাজধানী সানা থেকে হুতিদের হটাতে পাল্টা অভিযান শুরু করে। তবে মারিবের কাছে মাজজার এবং বাব আল-মানদেব প্রণালি এলাকায় এখন পর্যন্ত তাদের সাফল্য সীমিত।</p><p>এসটিসি নেতা আইদারুস আল-জুবাইদির সঙ্গে সৌদি আরবের কর্মকর্তাদের সরাসরি যোগাযোগও নেই। গত জানুয়ারিতে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চল নিয়ন্ত্রণে নেওয়া এবং দুই বছরের মধ্যে স্বাধীনতার পক্ষে গণভোট আয়োজনের ঘোষণা দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি আবুধাবিতে পালিয়ে যান।</p><p>এ ঘটনার জবাবে এসটিসি বাহিনীর জন্য আমিরাতের পাঠানো অস্ত্রের চালানে বোমা হামলা চালিয়েছিল সৌদি আরব। এরপর ইয়েমেনের সব ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেয় আমিরাত। সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারও আল-জুবাইদিকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করার কথা বলেছিল।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/qowg311tet">এডেন বিমানবন্দরে হামলা, যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের ৫০০ মিটার দূরে পড়ল ক্ষেপণাস্ত্র</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-18/65b7nodd/Yemeni-Southern-Giants.jpg"><figcaption>অস্ত্র হাতে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের জায়ান্ট ব্রিগেডসের যোদ্ধারা</figcaption></figure><p><strong>তাইজ ও মারিব দখলে নিতে চায় হুতিরা</strong></p><p>যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আমিরাতের কর্মকর্তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও হুতিরা শেষ পর্যন্ত তাইজ ও মারিব দখলে নিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সাবেক দক্ষিণ ইয়েমেনের সীমানার বাইরে থাকা দুটি গুরুত্বপূর্ণ শহর এগুলো।</p><p>গত শুক্রবার হুতিদের ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র এডেন বিমানবন্দরে আঘাত হানে। তখন একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তবে এতে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।</p><p>ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী মোয়াম্মার আল-এরিয়ানি বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি ইয়েমেনিয়া এয়ারওয়েজের উড়োজাহাজটি থেকে প্রায় ৫০০ মিটার এবং রানওয়ের মাঝামাঝি জায়গা থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে পড়ে।</p><p>এর এক দিন আগে এডেনের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হুতিদের হামলায় অন্তত ৫ জন নিহত ও ১৬ জন আহত হন।</p><blockquote>এসটিসি নেতা আইদারুস আল-জুবাইদির সঙ্গে সৌদি কর্মকর্তাদের সরাসরি যোগাযোগ নেই। গত জানুয়ারিতে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং দুই বছরের মধ্যে গণভোট আয়োজনের ঘোষণা দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি আবুধাবিতে পালিয়ে যান।</blockquote><p><strong>সৌদির পাশে থাকার কথা মিসরের</strong></p><p>মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি বলেছেন, সৌদি আরবকে রক্ষায় দেশটির সামরিক বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দিতে পার্লামেন্টে জরুরি অধিবেশন ডাকছেন তিনি।</p><p>তবে সিসি জোর দিয়ে বলেন, মিসর কোনো আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নেবে না। শুধু সৌদি আরবকে রক্ষায় ব্যবস্থা নেবে।</p><p>সৌদি আরব সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে আরও সামরিক সহায়তা চেয়েছে। তা নিয়ে যুক্তরাজ্যেও আলোচনা চলছে। দেশটি ইতিমধ্যে আকাশে উড়োজাহাজে জ্বালানি সরবরাহে ব্যবহৃত একটি আরএএফ ভয়েজার উড়োজাহাজ পাঠিয়েছে। তবে আঞ্চলিক কূটনীতিকেরা যুক্তরাজ্যকে আরও বেশি ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।</p><p>একই সঙ্গে ওমান, কাতারসহ অন্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সৌদি আরবের আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা উচিত কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/om2qes3vt2">এবার সৌদি আরবের অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার দাবি হুতিদের, দুই ক্রু নিহত</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-18/ewppjsa0/People-unload.jpg"><figcaption>ট্রাক থেকে গমের আটা নামাচ্ছেন কয়েকজন। সম্প্রতি ইয়েমেনের তাইজ শহরে। অবরুদ্ধ শহরটিতে খাদ্য সরবরাহ ক্রমশ কমে আসছে</figcaption></figure><p><strong>ব্রিটিশ সহায়তা নিয়ে আইনি প্রশ্ন</strong></p><p>ইয়েমেনে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন বিমান অভিযানে যুক্তরাজ্য ব্যাপকভাবে সমর্থন দিলে তার আইনি প্রভাব কী হতে পারে, সেটি বিবেচনা করা হচ্ছে।</p><p>যুক্তরাজ্যের আপিল আদালত ২০১৯ সালে রায় দিয়েছিলেন, ২০১৫–১৬ সালে ইয়েমেনে সৌদি বোমা হামলার সময় অস্ত্র রপ্তানির লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্রিটিশ সরকার বেআইনিভাবে কাজ করেছিল।</p><p>অস্ত্রবাণিজ্যবিরোধী সংগঠন ক্যাম্পেইন এগেইনস্ট আর্মস ট্রেডের অভিযোগ ছিল, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের সম্ভাবনা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করেনি যুক্তরাজ্য। পরে ব্রিটিশ সরকার তাদের প্রক্রিয়া সংশোধন করে।</p><p>সৌদি আরবের দাবি, এর পর থেকে তারা তাদের সামরিক পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। দেশটি আরও বলছে, জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী তারা আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করছে।</p><blockquote>ওমান, কাতারসহ অন্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সৌদি আরবের আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা উচিত কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।</blockquote><p>জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ১৫ অক্টোবর একটি প্রেসিডেনশিয়াল বিবৃতি গ্রহণ করে। এতে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সৌদি আরবের আত্মরক্ষার অধিকার স্বীকার করা হয়।</p><p>ইয়েমেনে আগস্ট থেকে শুরু হওয়া নতুন করে যুদ্ধে এ পর্যন্ত কত মানুষ নিহত হয়েছেন, তার নির্ভুল হিসাব পাওয়া যায়নি। তবে জাতিসংঘের হিসাবে, দুই লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এতে এডেনভিত্তিক মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোর ওপর চাপ ক্রমে বাড়ছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/b99crfed8r">ইয়েমেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: নিহত ৫, আহত ১৬</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/4fgz6cli9l">হুতিদের শক্তি কোথায়, বিলিয়ন ডলারের যুদ্ধে জড়িয়েও কেন পিছু হটল যুক্তরাষ্ট্র</a></aside>
কক্সবাজারের ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতে অবস্থিত টুপটুপ রিসোর্টের বিভিন্ন অংশ আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
<p>শারদীয় উৎসবের আমেজে জমকালো এথনিক সাজে ধরা দিয়েছেন অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা। পূজার সর্বজনীন আনন্দ ও উৎসবের আবহকে বরণ করে নিতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষ এই সাজের ছবি প্রকাশ করেছেন তিনি।</p><p>অভিনয়ের পাশাপাশি ফ্যাশন নিয়েও নানা নিরীক্ষা করতে ভালোবাসেন অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা। কখনো সাবেকি পোশাকে, কখনো আধুনিক পশ্চিমা সাজে—বিভিন্ন ধরনের লুকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজির হন তিনি। </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-18/cakswfrf/850521141186338515780022135577391834353027953n.jpg"></figure><p>এবার শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে এথনিক সাজের ছবি প্রকাশ করেছেন এই অভিনেত্রী। ছবির ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘পূজার সাজ’।</p><p>ভাবনার এই সাজের মূল আকর্ষণ গাঢ় লাল ও মেরুনের মিশেলে তৈরি লেহেঙ্গা। পোশাকের বেনারসি স্কার্ট অংশজুড়ে রয়েছে সোনালি জরির কারুকাজের ফুলেল মোটিফ। </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-18/jfp2jbi1/849477351186338515930022134466684469786005414n.jpg"></figure><p>স্লিভলেস ব্লাউজের ডিপ ভি-নেকের নকশা আর মিনিমাল সিকুইনের কাজ সাজে এনেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। লেহেঙ্গার সঙ্গে মাথায় জড়ানো নেটের ওড়নাটি পুরো সাজে যোগ করেছে সাবেকি আবহ।</p><p>ভাবনার উৎসবের সাজে বিশেষভাবে নজর কাড়ছে তাঁর গয়না। গলায় পরেছেন কুন্দন, মুক্তা ও পাথরের কাজ করা নেকলেস। এতে ঝুলছে গাঢ় সবুজ পুঁতি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-18/10z5exhp/847762167186338515690022136885826988350452806n.jpg"></figure><p>সঙ্গে মানানসই দুল, হাতে চওড়া সোনালি বালা এবং আঙুলে বড় স্টেটমেন্ট আংটি। মাঝখানে সিঁথি করা চুলে টিকলির সাজে ফুটে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী সাজের ছোঁয়া।<br>মেকআপে ভাবনা বেছে নিয়েছেন মভ রঙের লিপস্টিক, গালে ব্লাশ, চোখে টানা আইলাইনার ও শিমারি আইশ্যাডো। ত্বকের উজ্জ্বলতা ফুটিয়ে তুলেছে ডিউই মেকআপ।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-18/nwq231mh/85470917218633851560002213961961629181494339n.jpg"></figure><p>খোঁপা করা চুলে গোঁজা গোলাপ ফুল পুরো সাজে যোগ করেছে কোমলতা। লাল লেহেঙ্গা, গয়না আর ফুলের সমন্বয়ে ভাবনার পূজার সাজে একসঙ্গে ধরা দিয়েছে আধুনিকতা ও সাবেকিয়ানা।</p><p><strong>ছবি:</strong> ইন্সটাগ্রাম </p>
<p>মুখোশধারী বিক্ষোভকারীদের দেওয়া আগুনে ফ্রান্সের লিমোজ শহরের ঐতিহ্যবাহী সিটি হল ধ্বংস হয়ে গেছে। দুটি বিশ্বযুদ্ধের ধাক্কা সামলে সিটি হলটি প্রায় দেড় শতাব্দী ধরে টিকে ছিল।</p><p>স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা মরিস বারাত বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, বিক্ষোভকারীরা আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর সিটি হলের পশ্চিমের অংশটি ছাড়া ভবনটির পুরো ছাদ ধসে পড়েছে। আর হলের বাইরের অংশের দুই-তৃতীয়াংশ ধ্বংস হয়ে গেছে।</p><p>১৪৩ বছরের পুরোনো এই ভবনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিকে ‘ঐতিহ্যের জন্য বিপর্যয়’ বলে অভিহিত করেন মরিস বারাত। তিনি এ ঘটনাকে ‘দুষ্কৃতকারীদের ইচ্ছাকৃত কর্মকাণ্ড’ বলে বর্ণনা করে তীব্র নিন্দা জানান।</p><blockquote>শত শত মানুষ নিজের চোখে সিটি হলটি আগুনে পুড়ে যেতে দেখেছেন। ভবনটিতে যখন আগুন জ্বলছিল, তখন বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা একজন স্থানীয় কাউন্সিলর এক পৌরকর্মীকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন। ভবন আগুনে পুড়ছে দেখে ওই কর্মী কাঁদছিলেন।</blockquote><p>জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ চলাকালে গতকাল শনিবার লিমোজ সিটি হলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।</p><p>প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিটি হলের বাইরে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার পর মুখোশধারী একদল বিক্ষোভকারী ভবনটির জানালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে শনিবার গভীর রাত পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কাজ করেন। শত শত মানুষ সিটি হলটি আগুনে পুড়ে যেতে দেখেছেন। ভবনটিতে যখন আগুন জ্বলছিল, তখন বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা একজন স্থানীয় কাউন্সিলর এক পৌরকর্মীকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন। ভবন আগুনে পুড়ছে দেখে ওই কর্মী কাঁদছিলেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-18/6fkbms5h/the-City-Hall-in-Limoges.jpg"><figcaption>লিমোজ সিটি হলের আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। ভবনের ক্লক টাওয়ারটি ধসে পড়েছে। ফ্রান্স, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ </figcaption></figure><p>ওই বিক্ষোভের সময় লিমোজ শহরের কেন্দ্রস্থলের কয়েকটি দোকানেও লুটপাট চালানো হয়েছে।</p><p>ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, স্কুলে নানা সংকট ও সরকারি সেবার মান কমে যাওয়ার প্রতিবাদে গতকাল শনিবার দেশজুড়ে লাখো মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। এদিন রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে।</p><aside><cite></cite>ফরাসি সরকার বলেছে, গতকাল দেশজুড়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ রাস্তায় নামে। এ সময় অন্তত ১ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।</aside><p>ফরাসি সরকার বলেছে, গতকাল দেশজুড়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ রাস্তায় নামে। এ সময় অন্তত ১ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।</p><p>তবে ফ্রান্সে শ্রমিকদের অধিকার ও দাবি আদায়ে কাজ করা সংগঠন সিজিটি ইউনিয়ন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছে, এদিন প্রায় ৮ লাখ মানুষ বিক্ষোভ করেছে বলে তাদের ধারণা।</p><p>প্যারিসে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ চলে। তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। একপর্যায়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। কয়েকটি দোকানে লুটপাট হয় এবং অন্তত একটি রেস্তোরাঁ আগুনে পুড়ে যায়।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/europe/x1urhinsff">ফ্রান্সের পর শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল বেলজিয়াম, আটক ১০৭</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-18/5hfg8r7d/French-riot-police.avif"><figcaption>প্যারিসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের সংঘর্ষ হয়। ফ্রান্স, ১৭ অক্টোবর ২০২৬</figcaption></figure><p>ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, মুখোশধারী কিছু ব্যক্তি লুটপাটের চেষ্টা চালান। তাঁরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন এবং বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দিয়েছেন। সরকারি ভবন ও সংবাদমাধ্যমের কার্যালয়েও হামলা চালানো হয়েছে। এসব অস্থিরতার জন্য ‘উগ্র বামপন্থীদের’ দায়ী করেছে ফ্রান্স সরকার।</p><p>প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু বলেছেন, সহিংসতায় ১৫০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশকে ‘চরম মাত্রার সহিংসতার’ মুখোমুখি হতে হয়েছে।</p><p>লিওঁ শহরে বিক্ষোভকারীরা একটি পর্যটন কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন।</p><figure><blockquote><p lang="en" dir="ltr">Witnesses say masked protesters set fire to Limoges town hall, which officials say is now ‘largely lost’. In Paris, fires, looting and tear gas marked a night of unrest as cost-of-living protests raged on throughout the country. <a href="https://t.co/5ywUwfsQvW">pic.twitter.com/5ywUwfsQvW</a></p>— Al Jazeera English (@AJEnglish) <a href="https://x.com/AJEnglish/status/2111646023630422097?ref_src=twsrc%5Etfw">October 18, 2026</a></blockquote> </figure><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/europe/9pmzre6ioi">ক্ষোভের আগুনে জ্বলছে ফ্রান্স: সংঘর্ষ, লুটপাট ও ভবনে আগুন, গ্রেপ্তার ১২০০</a></aside>
মক্কায় মৃত্যুদণ্ড: রাষ্ট্রদূতকে কূটনৈতিকপত্র দিল ঢাকা
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) দুই সদস্য কমিশন থেকে পদত্যাগ করেছেন
ভাইরাল ভিডিওটিতে দেখা যায়, ছয়-সাতজন মুখোশধারী ব্যক্তির একটি দল মিজানুর রহমানের মুদিদোকানটির সামনে আসেন। এর মধ্যে একজন মাথায় হেলমেট পরা ছিলেন।
<p>পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কিংবদন্তি ক্রিকেটার ইমরান খানকে নিয়ে বিতর্কের রেশ কি এবার ক্রিকেটের ধারাভাষ্যকক্ষেও পৌঁছে গেল? প্রশ্নটা উঠছে ইংল্যান্ডের সাবেক দুই অধিনায়ক মাইকেল আথারটন ও নাসের হুসেইনকে ঘিরে। পাকিস্তান, ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার আসন্ন ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের ধারাভাষ্যকারদের তালিকায় জায়গা হয়নি তাঁদের।</p><p>গতকাল শনিবার সিরিজের জন্য ছয় সদস্যের ধারাভাষ্য প্যানেল ঘোষণা করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। সেখানে আথারটন ও হুসেইনের নাম নেই। অথচ বিশ্ব ক্রিকেটের জনপ্রিয় এই দুই ধারাভাষ্যকার ইংল্যান্ডের প্রায় সব ম্যাচেই নিয়মিত থাকেন ধারাভাষ্যকক্ষে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে ইংল্যান্ডের সর্বশেষ পাকিস্তান সফরে তিন টেস্টের সিরিজেও তাঁরা ছিলেন ধারাভাষ্য প্যানেলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/cricket/2m746u40l6">পাকিস্তান যেন ইমরানকে মুছে ফেলতে না পারে, সে জন্যই ওই চিঠি—মাইকেল আথারটন</a></aside><p>এবার তাঁদের বাদ পড়ার কারণ জানায়নি পিসিবি। তবে গত আগস্টে কারাবন্দী ইমরান খানের দুই ছেলে কাসিম ও সুলাইমান খানের সাক্ষাৎকার নেওয়াকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার সঙ্গে এ সিদ্ধান্তের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।</p> <figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-03-25/mynxwbh4/9a7afeec-3c8a-405c-8dff-0ee6c6e6b326.webp"><figcaption>সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইক আথারটনের সঙ্গে ইমরানের দুই ছেলে ২৯ বছরের সুলায়মান আর ২৬ বছরের কাসিম</figcaption></figure><p>বিতর্কের সূত্রপাত ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের মধ্যকার লর্ডস টেস্টে। সে সময় স্কাই স্পোর্টস ইমরান খানের দুই ছেলের একটি সাক্ষাৎকার প্রচার করে। ১৮ মিনিটের সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলেন আথারটন। সেখানে কারাগারে ইমরানের শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন কাসিম ও সুলাইমান।</p><p>তাঁদের অভিযোগ ছিল, অবহেলা ও নিঃসঙ্গ অবস্থায় রেখে পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষ তাঁদের বাবাকে ‘স্পষ্টতই মেরে ফেলার চেষ্টা করছে’।</p><p>সাক্ষাৎকারটি ভালোভাবে নেয়নি পিসিবি। ক্রিকেট সম্প্রচারে রাজনৈতিক বিষয় তুলে আনার অভিযোগে স্কাই স্পোর্টসের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায় পাকিস্তানের ক্রিকেট বোর্ড। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল যে প্রতিবাদ হিসেবে পাকিস্তান দলকে মাঠে না নামানোর হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে খবর প্রকাশিত হয়। এমনকি টেস্টের মধ্যাহ্নবিরতির পরের সেশনে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের মাঠে না পাঠানোর কথাও বিবেচনা করা হচ্ছিল।</p><p>তবে এসব চাপের মুখেও সাক্ষাৎকারটি প্রচার করে স্কাই স্পোর্টস। যদিও পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম পিটিভি সাক্ষাৎকারটির সম্প্রচার আটকে দেয়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-08-06/79rars0h/Untitled-1.jpg"><figcaption>পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দুই ছেলে সুলাইমান খান ও কাসিম খান। লন্ডন, যুক্তরাজ্য, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬</figcaption></figure><p><br>পরে নাসের হুসেইনের সঙ্গে এক পডকাস্টে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন আথারটন। ইমরানের ছেলেদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার সিদ্ধান্তের পক্ষেও যুক্তি দেন তিনি। আথারটনের অভিযোগ ছিল, পাকিস্তান রাষ্ট্র যেন ইমরান খানকে ‘অস্তিত্ব থেকেই প্রায় মুছে ফেলার চেষ্টা করছে’।</p><p>সেই বিতর্কের দুই মাস পর পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় ত্রিদেশীয় সিরিজের ধারাভাষ্য প্যানেলে নেই আথারটন ও হুসেইন। তবে তাঁদের অনুপস্থিতির সঙ্গে ওই সাক্ষাৎকারের সরাসরি কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।</p><p>এর আগে গত আগস্টে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ২১ জন সাবেক অধিনায়ক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিলেন ইমরান খানের উন্নত চিকিৎসা ও মানবিক আচরণের দাবিতে। সেই ২২ জনের মধ্যেও ছিলেন আথারটন ও হুসেইন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/cricket/7sog65sb0c">ইমরানের দুই ছেলের সাক্ষাৎকার ও ভীতসন্ত্রস্ত পাকিস্তানের ‘লাঞ্চ ব্রেক ভীতি’</a></aside><p>পিসিবি ঘোষিত ছয় সদস্যের ধারাভাষ্য প্যানেলে পাকিস্তানের সাবেক চার ক্রিকেটার ওয়াকার ইউনিস, আমির সোহেল, বাজিদ খান ও উরুজ মুমতাজ আছেন। তাঁদের সঙ্গে থাকছেন শ্রীলঙ্কার রোশান আবেসিংহে ও ইংল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার মার্ক বুচার। উপস্থাপকের দায়িত্ব পালন করবেন জয়নব আব্বাস।<br>আজ পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার ম্যাচ দিয়ে শুরু হয়েছে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজ। তবে প্রথম ম্যাচে ধারাভাষ্যকক্ষে থাকছেন না ওয়াকার ইউনিস। ২০ অক্টোবর রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তান ও ইংল্যান্ডের ম্যাচ দিয়ে ধারাভাষ্য শুরু করবেন তিনি। ২২ অক্টোবর রাওয়ালপিন্ডিতেই মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা।<br>এরপর টুর্নামেন্ট চলে যাবে লাহোরে। গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ২৫, ২৭ ও ২৯ অক্টোবর হবে লিগ পর্বের বাকি তিন ম্যাচ। একই মাঠে ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল। লিগ পর্বের পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষ দুই দল খেলবে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/cricket/ruh7ywebnl">ইমরানের জন্য আবারও সরব সাবেক অধিনায়করা, প্রধানমন্ত্রীর কাছে এবার ২১ জনের চিঠি</a></aside>
<p>গাড়ি থেকে নেমেই আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে চিৎকার। পাশ থেকে একজন বলছেন, ‘একেবারে গুলি করে দেব।’ মাদকবিরোধী অভিযানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের এমন কর্মকাণ্ডে তাঁর নিজ দল বিএনপি ও সরকারের ভেতরেও অস্বস্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। মন্ত্রিসভার সদস্য থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের কেউ কেউ বিব্রত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাঁদের প্রশ্ন, মাদক দমনে প্রশাসনকে সক্রিয় করার পরিবর্তে একজন প্রতিমন্ত্রী নিজেই কেন অস্ত্র হাতে অভিযানে নামলেন?</p><p>প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি আবাসিক এলাকা পরিদর্শনের দিনেই এ ঘটনা ঘটেছে। দল ও সরকার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউ কেউ মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর দিনভর পরিদর্শনের ইতিবাচক আলোচনা অনেকটাই ম্লান হয়েছে ইশরাকের কর্মকাণ্ডে। একজন প্রতিমন্ত্রীর এমন আচরণের দায় মন্ত্রিসভাকেও নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির একজন শীর্ষ নেতা।</p><p>বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, মন্ত্রিসভার সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তাসহ মোট ১০ জনের সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। তাঁরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। মাদকের বিরুদ্ধে উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তাঁদের আপত্তি নেই। আপত্তি প্রতিমন্ত্রীর অভিযান পরিচালনার ধরন নিয়ে।</p><p>বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির একজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনাটি শুধু ইশরাকের ব্যক্তিগত বিষয় হয়ে থাকেনি; প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যদেরও বিব্রত করেছে। একজন প্রতিমন্ত্রীর এমন আচরণের দায় মন্ত্রিসভাকেও নিতে হবে।</p><p>এদিকে অস্ত্র হাতে ইশরাকের অভিযানের ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। আজ রোববার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আইনের ব্যত্যয় পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।</p><p>ইশরাক অবশ্য নিজের কর্মকাণ্ডকে মাদকের বিরুদ্ধে ‘সামাজিক প্রতিরোধের’ অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। আজ এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, হামলার আশঙ্কায় আত্মরক্ষার জন্য অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন। তাঁর হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রটি বৈধ ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত।</p><p><strong>অস্ত্র হাতে কী করেছিলেন ইশরাক</strong></p><p>গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনসংলগ্ন দয়াগঞ্জ ঘণ্টি ঘর রেলগেট এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। ইশরাকের নিজের ফেসবুক পেজেই এর ভিডিও প্রকাশ করা হয়। সেখানে গাড়ি থেকে নেমে তাঁকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে চিৎকার করতে দেখা যায়। তাঁর পাশ থেকে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘একেবারে গুলি করে দেব।’ সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা তখন রেললাইনের পাশে কয়েকজনকে ধরতে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে ইশরাকের একজন দেহরক্ষী এক তরুণকে লাথি দেন।</p><p>এই দৃশ্য নিয়েই আপত্তি তুলেছেন বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার শীর্ষ এক নেতা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নামা সংসদ সদস্য কিংবা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর কাজ নয়। তাঁদের কাজ প্রশাসনকে সহযোগিতা করা। তাঁর প্রশ্ন, ‘যেটা যার কাজ না, সেটা সে কেন করবে?’ এই নেতার মতে, ঘটনাটিতে দল ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।</p><p>ইশরাক শনিবার নিজের উদ্যোগের পক্ষে স্থানীয় মানুষের অভিযোগ ও মাদকের বিস্তারের কথা তুলে ধরেন। পুলিশের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথাও বলেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও দায়বদ্ধতা থেকে সেখানে গিয়েছিলেন।</p><p>তবে দল ও সরকার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, উদ্দেশ্য ভালো হলেও প্রতিমন্ত্রীর কর্মকাণ্ড উদ্যোগটিকে বিতর্কিত করেছে। মাদক দমনের প্রয়োজনীয়তার চেয়ে এখন বেশি আলোচনা হচ্ছে তাঁর অস্ত্র প্রদর্শন ও সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের আচরণ নিয়ে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/d0mrfxayng">অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক, সমালোচনার জবাবে যা বললেন তিনি</a></aside><p><strong>প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শনের দিনেই বিতর্ক</strong></p><p>শনিবার সকাল ৯টা ১০ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৪১ মিনিট পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টায় হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক এলাকা এবং মিরপুর-১০ নম্বরের হকারমুক্ত ফুটপাতসহ ১৩টি স্থান পরিদর্শন করেন তিনি। পরিচ্ছন্নতা ও সেবার পরিস্থিতি দেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন। কোথাও পরিস্থিতির উন্নয়নে সাত দিন, কোথাও দুই সপ্তাহ সময় বেঁধে দেন।</p><p>প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই পরিদর্শনে ছিলেন, মন্ত্রিসভার এমন একজন সদস্য শনিবার রাতে প্রথম আলোকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দিনভর অর্জন ইশরাকের কর্মকাণ্ডে নষ্ট হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। ঘটনাটিতে তিনি নিজেও বিব্রত ও বিরক্ত।</p><p>একই ধরনের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তিনি রোববার সকালে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে ইশরাকের উদ্দেশ্য ঠিক আছে। কিন্তু তিনি এত বেপরোয়া হয়ে গেলেন কেন, সেটাই প্রশ্ন। তাঁর বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে শনিবার প্রধানমন্ত্রীর চমৎকার কর্মসূচিটি নষ্ট হয়ে গেছে।</p><p>বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ওই শীর্ষ নেতাও একই ধরনের মন্তব্য করেছেন। ‘দুধে এক ফোঁটা চোনা’ পড়ার উপমা দিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দিনভর অর্জনের ওপর একই ধরনের প্রভাব ফেলেছে ইশরাকের কর্মকাণ্ড। তাঁর মতে, সরকারের জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের মধ্যে একজন প্রতিমন্ত্রীর এমন আচরণ পুরো মন্ত্রিসভাকে বিব্রত করেছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/m2txia7e9k">আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে থাকার ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক </a></aside><p><strong>ইশরাকের দাবি</strong></p><p>সমালোচনার মধ্যে আজ রোববার দেওয়া বিবৃতিতে ইশরাক দাবি করেন, একটি অস্থায়ী মাদক আস্তানার কাছে পৌঁছানোর পর ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি হইচই করে তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন। হামলার আশঙ্কায় তিনি ও তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা অল্প সময়ের জন্য আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।</p><p>বিবৃতিতে স্থানীয়ভাবে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে আগে নেওয়া উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট এলাকায় স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং জনবলসংকট দূর করার বিষয়ে তিনি উদ্যোগ নিয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক-সামাজিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন।</p><p>তবে ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টি স্পষ্ট নয়। ইশরাক আগে পুলিশের সঙ্গে আলোচনার কথা বললেও শনিবার সংবাদমাধ্যমকে তিনি নিজেই বলেছিলেন, ঘটনাস্থলে যাওয়ার ১০ মিনিট পর তিনি পুলিশকে আসতে বলেন।</p><p>ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মাসুদ রানা শনিবার সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, প্রতিমন্ত্রী আগে থেকে পুলিশকে জানাননি। তাঁরা পরে বিষয়টি জেনেছেন। ফলে সাধারণভাবে মাদকবিরোধী উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হলেও নির্দিষ্ট এই অভিযানের বিষয়ে পুলিশের সঙ্গে আগে থেকে সমন্বয় ছিল কি না, সেই প্রশ্ন রয়ে গেছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/dc0pb2whll">আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক, তদন্তের নির্দেশ পুলিশের</a></aside><p>প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্রটি বৈধ কি না, সেই প্রশ্নের পাশাপাশি এটি প্রদর্শনের ধরন নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালায় আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র বহন ও ব্যবহারের অনুমতির পাশাপাশি প্রদর্শনের সীমাও নির্ধারণ করা আছে। নীতিমালার ২৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অন্যের মধ্যে ভয় বা বিরক্তি সৃষ্টি করতে পারে, এমনভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না।</p><p>ইশরাকের ঘটনায় আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়েছে কি না, সেটিই তদন্তে খতিয়ে দেখবে পুলিশ। ডিবিপ্রধান শফিকুল ইসলামের ঘোষণায় তদন্তের ফল অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।</p><p>তবে দল ও সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতিক্রিয়ায় আইনি প্রশ্নের পাশাপাশি মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্বশীল আচরণের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, মাদক দমনে প্রশাসনের ঘাটতি থাকলে তা দূর করতে উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ একজন প্রতিমন্ত্রীর রয়েছে। কিন্তু নিজে অস্ত্র হাতে অভিযানে যাওয়ায় প্রশাসনের ঘাটতির পাশাপাশি তাঁর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।</p><figure></figure><p><strong>কূটনীতিক অঙ্গনে ভাবমূর্তি নিয়ে উদ্বেগ</strong></p><p>ইশরাক বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটিরও সদস্য। তাঁর অস্ত্র হাতে অভিযানের ছবি ও ভিডিও বিদেশি কূটনীতিকদের কাছে দল ও সরকার সম্পর্কে কী ধারণা তৈরি করবে, তা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ এক নেতা।</p><p>কূটনীতিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে এমন এই নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, পত্রপত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি-ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় তা ঢাকার দূতাবাসগুলোর নজরে এসেছে বলেই তিনি মনে করেন। তাঁর আশঙ্কা, মন্ত্রিসভার একজন সদস্যের এমন ছবি কূটনীতিকেরা নেতিবাচকভাবেই দেখবেন।</p><p>এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনার পাশাপাশি ইশরাককে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি তুলছেন কেউ কেউ। এর মধ্যেই শনিবার সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক পেজে ঢাকা-৬ আসন মাদকমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন প্রতিমন্ত্রী। মাদক কারবারে নিজের দলের কেউ জড়িত থাকলেও ছাড় না দেওয়ার কথা জানান তিনি।</p><p>তবে দল ও সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব নিজ হাতে তুলে নেওয়া এক বিষয় নয়। পুলিশের তদন্তে অস্ত্র প্রদর্শনের আইনগত দিকটি যাচাই হবে। কিন্তু একজন প্রতিমন্ত্রীর এমন কর্মকাণ্ডে দল ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের কেউ কেউ এ ঘটনায় ব্যবস্থাও প্রত্যাশা করছেন।</p>
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন