অপরাধ

ব্যবসায়ীকে আটকে ১০ লাখ টাকা দাবি, সেনা আইনে ডিজিএফআইয়ের দুই সদস্যের কারাদণ্ড

নভেম্বর ৫, ২০২৬
ব্যবসায়ীকে আটকে ১০ লাখ টাকা দাবি, সেনা আইনে ডিজিএফআইয়ের দুই সদস্যের কারাদণ্ড
ব্যবসায়ীকে আটকে ১০ লাখ টাকা দাবি, সেনা আইনে ডিজিএফআইয়ের দুই সদস্যের কারাদণ্ড
মোহাম্মদপুরের একজন মোটরসাইকেল ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে চাঁদাবাজির জন্য আটকে রাখার ঘটনায় ডিজিএফআইয়ের এক সার্জেন্ট ও এক ল্যান্স করপোরালকে দণ্ড দেওয়া হয়েছে।

Prothomalo

View more
মার্কিন ও জাপানি ব্র্যান্ডের ‘ফুড সাপ্লিমেন্ট’ তৈরি হচ্ছিল রাজশাহীর এক বাড়িতে
মার্কিন ও জাপানি ব্র্যান্ডের ‘ফুড সাপ্লিমেন্ট’ তৈরি হচ্ছিল রাজশাহীর এক বাড়িতে

<p>একটি বোতলের গায়ে লেখা যুক্তরাজ্যে উৎপাদিত আর বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান ময়নসিংহের ভালুকায়। আরেকটি গায়ে দেওয়া রয়েছে জাপানি কোম্পানির নাম আর উৎপাদনের সিরিয়ালে লেখা যুক্তরাষ্ট্রের নাম। এভাবে দেশি–বিদেশি নামীদামি ব্র্যান্ডের নামে নকল ফুড সাপ্লিমেন্ট (খাদ্য পরিপূরক—ভিটামিন বা ওষুধ) তৈরির একটি কারখানার সন্ধান মিলেছে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার তেঁথুলিয়া মাঠে।</p><p>আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পরে ওই কারখানার প্রায় দুই ট্রাক ওষুধ মাঠেই পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। আরও তিন ট্রাক সেখান থেকে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছিল।</p><p>সন্ধ্যার পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বাঘা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাহানের নেতৃত্বে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের রাজশাহী জেলার তত্ত্বাবধায়ক মেহেদী আফজাল বাঘা থানা–পুলিশের সহায়তায় এ অভিযান পরিচালনা করছেন। কারখানা খুলে মালামাল জব্দ করা হচ্ছে। এর মধ্যে তৈরি পণ্য, পণ্য তৈরির সরঞ্জামসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র রয়েছে।</p><p>প্রাথমিক ধারণা থেকে সহকারী কমিশনার নুসরাত জাহান প্রথম আলোকে বলেন, যে রকম দামের একেকটি প্যাকেট পাওয়া যাচ্ছে, তাতে প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের নকল ওষুধ তারা জব্দ করেছেন। এগুলোর মধ্যে প্রায় দুই ট্রাক মাঠেই পোড়ানো হয়েছে। বাকিটা নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে।</p><p>নুসরাত জাহান বলেন, মালিককে ঘটনাস্থলে না পাওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। ঔষধ প্রশাসনের কর্মকর্তা এখানে এসেছেন। তিনি দেখছেন, নিয়মিত মামলা করা যায় কি না।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-05/tzk3yx6k/rajshahi2.jpg"><figcaption>নকল ‘ফুড সাপ্লিমেন্ট’ ট্যাবলেট তৈরির একটি যন্ত্র</figcaption></figure><p>জব্দ করা মালামাল নিতে আড়ানী পৌরসভার একটি ট্রাক নিয়ে আসা হয়। কারখানার তালা খুলে দেখা যায়, ভেতরে বিপুল পরিমাণ ওষুধের কার্টন থরে থরে সাজানো। সেই সঙ্গে রয়েছে ওষুধ তৈরি করার যন্ত্রপাতিও। জব্দ করা সব জিনিসপত্র নিতে পারলেও ট্যাবলেট প্রস্তুতকারী যন্ত্রটা নিতে পারেননি।</p><p>ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের রাজশাহী জেলার তত্ত্বাবধায়ক মেহেদী আফজাল প্রথম আলোকে বলেন, এত ওজনের একটা যন্ত্র নিয়ে যাওয়া আপাতত সম্ভব হচ্ছে না। তবে তিনি যন্ত্রটি অকেজো করে দিয়েছেন।</p><p><strong>যেভাবে কারখানার সন্ধান</strong></p><p>গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানী থানা–পুলিশ ওই থানায় করা একটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সহকারী কমিশনার নুসরাত জাহানের নেতৃত্বে এই কারখানায় অভিযান চালিয়ে ১১ জনকে আটক করেন। বনানী থানার মামলায় অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে নিয়ে যায় তারা।</p><p>নুসরাত জাহান জানান, বনানী থানা এলাকার পুলিশ ‘কারকুমা’ নামের একটি পণ্যের সূত্র ধরে এসেছিল। কারখানায় পাওয়া নকল ‘কারকুমা’র সব পণ্য তারা জব্দ করে নিয়ে যান। তবে আটক করে নিয়ে যাওয়া দুই ব্যক্তির নাম তিনি বলতে পারেননি। তিনি এ ব্যাপারে বনানী থানা–পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।</p><aside><cite>মেহেদী আফজাল, তত্ত্বাবধায়ক, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, রাজশাহী জেলা  </cite>এরা মস্ত বড় প্রতারক। তারা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে বিদেশি নামীদামি কোম্পানির ব্র্যান্ড নকল করে এখানে ফুড সাপ্লিমেন্ট তৈরি করছে। এগুলোর দাম দুই থেকে তিন হাজার টাকা।</aside><p>যোগাযোগ করা হলে বনানী থানার (ওসি) মো. সালাউদ্দিন বলেন, জুলাই মাসের একটি মামলায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বাঘায় অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখানে নকল ফুড সাপ্লিমেন্ট তৈরির একটি কারখানা পাওয়া গেছে। সেখান থেকে মামলার অন্যান্য আলামত জব্দ করে নিয়ে আসা হয়েছে। সহকারী কমিশনার নুসরাত জাহান বলেন, বুধবার রাতে আটক বাকি নয়জনের মধ্যে পাঁচজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেন। বাকি চারজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার টাকা তাৎক্ষণিক আদায় করা হয় এবং কারখানা সিলগালা করে রেখে যান।</p><p>জরিমানার রশিদে সই করেছেন রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার চকলক্ষ্মীপুর গ্রামের আবু সৈয়দ হোসেনের ছেলে খালিদ হাসান। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯–এর ৪১ ধারায় এই জরিমানা করা হয়। সাক্ষী হিসেবে সই করেছেন দুই শ্রমিক—নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার লক্ষ্মীকুল গ্রামের দিলু মিয়া ও হাসমত। অন্য ছয় শ্রমিকের বাড়িও নাটোরে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-05/x7ii8n8g/rajshahi3.jpg"><figcaption>জব্দ করা নকল ‘ফুড সাপ্লিমেন্ট’ ও সাপ্লিমেন্ট তৈরির যন্ত্রপাতি ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে</figcaption></figure><p>ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের রাজশাহী জেলার তত্ত্বাবধায়ক মেহেদী আফজাল বলেন, এরা মস্ত বড় প্রতারক। তারা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে বিদেশি নামীদামি কোম্পানির ব্র্যান্ড নকল করে এখানে ফুড সাপ্লিমেন্ট তৈরি করছে। এগুলোর দাম দুই থেকে তিন হাজার টাকা। তিনি বলেন, মোড়কে বা কৌটার গায়ে সরাসরি ওষুধ না লেখার কারণে তারা মামলা করতে পারছেন না। কিন্তু অনুমোদন না থাকার কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করা হয়েছে।</p><p>‘কারকুমা’ নামের যে পণ্যের সূত্র ধরে বনানী–থানা পুলিশ অভিযান চালিয়েছিল, তার প্রতিটি প্যাকেটের দাম ২ হাজার ১৭০ টাকা। কোরিয়ায় প্রস্তুত করা লেখা একটি প্যাকেটের গায়ে দাম ২ হাজার ৩৯৯ টাকা আর মালোয়েশিয়া লেখা একটি প্যাকেটের গায়ের দাম লেখা রয়েছে ২ হাজার ২৯০ টাকা।</p><p>এসব ওষুধ কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্রেতার কাছে পাঠানো হয়। অনলাইনের মাধ্যমে মূলত এই ব্যবসা পরিচালনা করা হয়। কারখানায় তার কয়েকটি নমুনাও পাওয়া গেছে। বিভিন্ন কুরিয়ারে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত প্যাকেটও জব্দ করা হয়েছে অভিযানে।</p><p><strong>বাইরে থেকে তালাবদ্ধ থাকত কারখানাটি</strong></p><p>স্থানীয় লোকজন জানান, আধাপাকা কারখানাটি বাইরে থেকে তাঁরা সব সময় তালাবদ্ধ দেখেন। পেছনের একটি দরজা দিয়ে হয়তো সেখানকার লোকজন ভেতর ঢোকেন। বাড়িটির ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, শোবার খাট, খাওয়ার থালাবাসন। নলকূপটিও কারখানার ভেতরে।</p><p>খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাড়ির মালিক হায়দার আলী চাকরির সুবাদে ঢাকায় থাকেন। তাঁর ভাই শামীম ও মা রিনা বেগম জানান, প্রায় ছয় মাস আগে নাটোরের রেজাউল করিম মাসে আট হাজার টাকা ভাড়ায় বাড়িটি নেন। তবে বাড়ির ভেতরে কী ধরনের কাজ চলত, সে বিষয়ে তাঁরা কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।</p><p>শামীম আরও জানান, রেজাউল করিম ‘নাটোর ভেষজ মার্ট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্সের ফটোকপি বাড়ির মালিকের কাছে জমা রেখেছিলেন। লাইসেন্সটি নাটোরের খোলাবাড়িয়া ইউনিয়ন থেকে নেওয়া হয়েছে বলে তাঁর দাবি। এই লাইসেন্সের মেয়াদ ছিল ২০২৫ সালের ৫ মে পর্যন্ত। ফোন নম্বর বন্ধ থাকার কারণে রেজাউলের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।</p>

নভেম্বর ৫, ২০২৬
টেকনাফে মানব পাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধ সেনাসদস্যের মৃত্যু
টেকনাফে মানব পাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধ সেনাসদস্যের মৃত্যু

<p>কক্সবাজারের টেকনাফে মানব পাচার চক্রের সদস্যদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে সেনাসদস্য মো. তিতাস শেখ (২৮) মারা গেছেন। আজ বৃহস্পতিবার রাতে রামু ১০ পদাতিক ডিভিশনের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মানব পাচারের শিকার ৫৭ জনকে উদ্ধার এবং অস্ত্রসহ তিনজনকে আটক করেছে যৌথ বাহিনী।</p><p>আজ বিকেলে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী এলাকার গহিন পাহাড়ে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) তথ্য অনুযায়ী, মানব পাচার চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলাকালে পাচারকারীদের সঙ্গে গোলাগুলি হয়। এ সময় সেনাবাহিনীর ওই সদস্য গুলিবিদ্ধ হন।</p><p>নিহত তিতাস শেখ ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামের আফজাল হোসেনের ছেলে। তিনি বিবাহিত ছিলেন। টেকনাফের রঙ্গিখালী আর্মি ক্যাম্পে কর্মরত তিতাস অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন।</p><p>১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক ও অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কাওসার সিকদার বলেন, যৌথভাবে পাহাড়ে অভিযান চালানো হচ্ছিল। এ সময় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে সেনাসদস্য তিতাস শেখ গুলিবিদ্ধ হন। রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-05/gdf616b7/WhatsApp-Image-2026-11-05-at-10.49.50-PM.jpeg"><figcaption>মানবপাচারকারীদের আস্তানা থেকে উদ্ধার করা লোকজন</figcaption></figure><p>আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পাহাড়ে অভিযান চলাকালে সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলি তিতাসের বুকের বাঁ পাশের ওপরের অংশে লাগে। আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে টেকনাফের লেদা আইআরসি রোহিঙ্গা হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে করে রামু সিএমএইচে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টা ৪৮ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।</p><p>পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে টেকনাফের বিভিন্ন পাহাড়ে দুই শতাধিক মানুষকে আটকে রেখেছিল একটি পাহাড়ি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। বৃহস্পতিবার বেলা দুইটা থেকে বিকেল ৫টা ২০ মিনিট পর্যন্ত যৌথ বাহিনী তাঁদের উদ্ধারে অভিযান চালায়। রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির ২৪ ও ২৬-এর মধ্যবর্তী কাঁটাতারের বেড়া থেকে ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার পশ্চিমের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়।</p><p>অভিযানে দেশে তৈরি একটি ওয়ান শুটার গান ও একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। মানব পাচারের শিকার ৫৭ জনকে উদ্ধারের পাশাপাশি অস্ত্রসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে যৌথ বাহিনী।</p>

নভেম্বর ৫, ২০২৬
দুর্গম সীমান্তে সাপের কামড়ে আহত বিজিবি সদস্যকে হেলিকপ্টারে আনা হলো চট্টগ্রাম সিএমএইচে
দুর্গম সীমান্তে সাপের কামড়ে আহত বিজিবি সদস্যকে হেলিকপ্টারে আনা হলো চট্টগ্রাম সিএমএইচে

<p>খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় দায়িত্ব পালনের সময় সাপের কামড়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) এক সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁকে হেলিকপ্টারে চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়েছে। বিস্তারিত ভিডিওতে...</p><figure></figure>

নভেম্বর ৫, ২০২৬
বাংলাদেশের এলডিসি ছাড়ার সময় পেছাল কেন
বাংলাদেশের এলডিসি ছাড়ার সময় পেছাল কেন

<p>সাংবাদিক শওকত হোসেনের বিশ্লেষণ ও উপস্থাপনায় দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্ব অর্থনীতি ও বাণিজ্যের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা নিতে দেখুন ‘প্রাইম ব্যাংক অর্থনীতি -অনর্থনীতি’</p><figure></figure>

নভেম্বর ৫, ২০২৬
গোপালগঞ্জে স্কুলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, টিসি পাচ্ছে ৯ শিক্ষার্থী
গোপালগঞ্জে স্কুলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, টিসি পাচ্ছে ৯ শিক্ষার্থী

<p>গোপালগঞ্জ সরকারি জেলা স্কুলে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় ৯ শিক্ষার্থীকে ছাড়পত্র (টিসি) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ওই ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।</p><p>বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৬ অক্টোবর দুপুরে লোডশেডিংয়ের কারণে টিফিনের পর বিদ্যালয় ছুটি দেন প্রধান শিক্ষক। এ সময় বিদ্যালয়ের চারতলায় শ্রেণিকক্ষের সামনে করিডরে অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ একজন স্লোগান দেওয়ার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করে। ভিডিওটি গোয়েন্দা সংস্থার কয়েকজন কর্মকর্তার নজরে এলে তাঁরা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিয়াউর হককে বিষয়টি জানান।</p><p>প্রধান শিক্ষক জিয়াউর হক বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা তাঁকে বিষয়টি জানান এবং ভিডিও দেখান। পরে তিনি বিদ্যালয়ের সভাপতি ও গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসককে বিষয়টি অবহিত করেন। জেলা প্রশাসক ঘটনাটি তদন্ত করে দেখার নির্দেশ দেন। ওই ঘটনায় বিদ্যালয়ের বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষক ইকবাল হোসেনকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।</p><p>বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও পর্যালোচনা করে তদন্ত কমিটি গত ২৯ অক্টোবর প্রধান শিক্ষকের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ১ নভেম্বর ৯ শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয় থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।</p><p>প্রধান শিক্ষক জিয়াউর হক বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের ছাড়পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক বিদ্যালয়ে এসে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। অভিভাবকদের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।</p><p>এ বিষয় জানতে আজ বৃহস্পতিবার রাত নয়টার দিকে জেলা প্রশাসক আরিফ উজ জামান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (শিক্ষা ও আইসিটি) মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা ফোন ধরেননি।</p>

নভেম্বর ৫, ২০২৬
রোনালদোর ২৩ বছরের কীর্তি মাপবেন কী দিয়ে
রোনালদোর ২৩ বছরের কীর্তি মাপবেন কী দিয়ে

<p>কিছু বিদায় আসে একটু পরে, কিন্তু বিদায়ের আভাস মেলে অনেক আগেই।</p><p> একটা মানুষ তখনো মাঠে নামেন, গোল করেন, জয়ের পর দুই হাত ছড়িয়ে উদ্‌যাপন করেন। গ্যালারি থেকে তাঁর নামে চিৎকার ওঠে। কিন্তু কোথাও একটা সময়ের শেষ হয়ে আসার শব্দ বাজতে থাকে। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল-জীবনেও হয়তো সেই শব্দটা অনেক দিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল। এবার নিজেই জানিয়ে দিলেন, জাতীয় দলের ৭ নম্বর জার্সিটা ফিরিয়ে দেওয়ার সময় হয়েছে।</p><p> একটা জার্সির সঙ্গে কত স্মৃতি জমা হতে পারে? কত আনন্দ, কত কান্না, কত অপেক্ষা! ২৩ বছর ধরে পর্তুগালের জার্সি গায়ে রোনালদো এসবের সব কটিই দেখেছেন। কিশোর বয়সে যে ছেলেটি জাতীয় দলে এসেছিলেন, তিনি একদিন হয়ে উঠেছেন দেশের সবচেয়ে বড় ফুটবল তারকা। তাঁর পায়ের জাদুতে পর্তুগাল যেমন আনন্দে ভেসেছে, তেমনি তাঁর চোখের জলও দেখেছে পুরো বিশ্ব।</p><p> ২০০৩ সালের ২০ আগস্ট কাজাখস্তানের বিপক্ষে পর্তুগালের হয়ে অভিষেক হয়েছিল ১৮ বছর বয়সী রোনালদোর। তখনো তিনি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো হয়ে ওঠেননি। ছিলেন সম্ভাবনাময় এক তরুণ, যাঁর চোখে বড় হওয়ার স্বপ্ন। পরের বছরই ঘরের মাঠে ইউরোতে সেই তরুণের প্রথম বড় পরীক্ষা। গ্রিসের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে গোল করলেন। সেমিফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে গোল করে দলকে ফাইনালেও তুললেন। কিন্তু ফাইনালে আবার সেই গ্রিস। ১-০ গোলে হেরে গেল পর্তুগাল। ম্যাচ শেষে কিশোর রোনালদোর চোখের জল দেখে সেদিন অনেকেই বুঝেছিলেন, তাঁর কাছে দেশের জার্সির অর্থ কতটা।</p><p>সেই কান্নার পরও পথটা সহজ হয়নি। ২০০৬ বিশ্বকাপে পর্তুগাল উঠেছিল সেমিফাইনালে। শেষ পর্যন্ত চতুর্থ হয়ে ফিরতে হয়েছিল। ২০০৮ ইউরোতে বিদায় কোয়ার্টার ফাইনালে। ২০১০ বিশ্বকাপে শেষ ষোলো, ২০১২ ইউরোতে সেমিফাইনাল। একের পর এক টুর্নামেন্টে রোনালদো বড় তারকা হয়ে উঠেছেন, গোল করেছেন, রেকর্ড গড়েছেন। কিন্তু দেশের হয়ে বড় শিরোপা তখনো অধরা।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-05/ppx00nv7/2026-06-23T170749Z748151363UP1EM6N1BL03BRTRMADP3SOCCER-WORLDCUP-POR-UZB.JPG"><figcaption>২০২৬ বিশ্বকাপে রোনালদোর চিরচেনা গোল উদ্‌যাপন</figcaption></figure><p>এর মধ্যে বদলে গেছে তাঁর পরিচয়ও। একসময় লুইস ফিগোদের পাশে দাঁড়ানো তরুণ রোনালদো হয়ে উঠেছেন পর্তুগালের অধিনায়ক। দলের আশা–ভরসা, সবচেয়ে বড় নাম। তাঁর ওপর প্রত্যাশার ভারও বেড়েছে। ২০১৪ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় সেই ভার আরও বাড়িয়েছিল। ২০১৬ ইউরোতে তাই পর্তুগালের সামনে ছিল বহু বছরের অপেক্ষা শেষ করার সুযোগ।</p><p>ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনাল। কিন্তু ম্যাচের ২৫ মিনিটের মাথায় চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হলো অধিনায়ককে। সাইডলাইনে বসে সতীর্থদের জন্য চিৎকার করছিলেন তিনি। কখনো উঠে দাঁড়াচ্ছেন, কখনো হাত নেড়ে নির্দেশ দিচ্ছেন। মাঠে খেলতে না পারলেও দলকে ছেড়ে যাননি। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে এদেরের গোলে ফ্রান্সকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ইউরো চ্যাম্পিয়ন পর্তুগাল। রোনালদোর চোখে তখন আনন্দের জল। ১২ বছর আগে যে ছেলেটি ইউরোর ফাইনালে হেরে কেঁদেছিলেন, সেদিন সেই তিনিই দেশের প্রথম বড় শিরোপা জয়ের আনন্দে কাঁদলেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/football/7hy20eniwd">আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেন রোনালদো </a></aside><p>সেই রাত যেন রোনালদোর পর্তুগাল-জীবনের সবচেয়ে বড় উত্তর। তবে গল্পটা সেখানেই শেষ হয়নি। ২০১৯ সালে নেশনস লিগের ফাইনালে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে আরেকটি শিরোপা জেতে পর্তুগাল। ২০২৫ সালে স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান রোনালদো। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে জেতে পর্তুগাল। বয়স তখন তাঁর ৪০ পেরিয়েছে। তবু দেশের জার্সিতে গোল করার ক্ষুধা কমেনি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-05/zhor8hk2/Ronaldo_AFP.jpg"><figcaption>ছয়টি বিশ্বকাপে গোল করেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো</figcaption></figure><p>বিশ্বকাপের গল্পটা অবশ্য অন্য রকম। ছয়টি বিশ্বকাপে খেলেছেন রোনালদো। ২০০৬ সালে সেমিফাইনাল পর্যন্ত গেলেও আর কখনো ফাইনালে ওঠা হয়নি। ২০১০ ও ২০১৮ সালে শেষ ষোলো থেকে বিদায়, ২০১৪ সালে গ্রুপ পর্বেই শেষ, ২০২২ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল। ২০২৬ বিশ্বকাপেও সেই অপূর্ণতা ঘোচেনি। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে সর্বোচ্চ ১৪ গোল, আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড, ছয়টি বিশ্বকাপে খেলার ইতিহাস, সবই তাঁর। কিন্তু বিশ্বকাপ হাতে তোলার ছবিটি আর পাওয়া হলো না।</p><p>রোনালদোর পর্তুগাল-জীবনে শেষের দিকটাও ছিল কিছুটা অস্বস্তির। কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন, দলে নিজের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ, সতীর্থদের সঙ্গে মাঠে ও মাঠের বাইরে কিছু মুহূর্ত, এসব আলোচনায় এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে কোচের সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হয়ে ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু এসব দিয়ে ২৩ বছরের গল্পকে মাপা যায় না। একটি দীর্ঘ ক্যারিয়ারের শেষ দিকে এসে সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকতে পারে। তাতে মুছে যায় না দেশের হয়ে তাঁর দেওয়া অসংখ্য আনন্দের মুহূর্ত।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/football/jt200gx4t7">একটি দৃশ্য আমি সারা জীবন সঙ্গে নিয়ে যাব—বিদায়ী বক্তব্যে রোনালদো</a></aside><p>ইনস্টাগ্রামে দেওয়া ভিডিও ও চিঠিতে রোনালদো লিখেছেন, ‘জাতীয় দলের ৭ নম্বর জার্সিটি ফিরিয়ে দেওয়ার দিন এসে গেছে। কখনো ভাবিনি, জার্সিটি শুধু আমারই। তবে ২৩ বছর ধরে এটি পরার সৌভাগ্য ও দায়িত্ব দুটিই পেয়েছি।’ কথাগুলোয় যেন লুকিয়ে আছে একটি পুরো জীবন। যে জার্সি গায়ে প্রথম মাঠে নেমেছিলেন, সেই জার্সিই একদিন ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। মাঝখানে কতগুলো বছর, কতগুলো ম্যাচ, কতগুলো গোল, কতগুলো রাত!</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-05/60wra8n2/13.-2026-11-05T105337Z1461695701RC2OHBAPXWFCRTRMADP3SOCCER-RONALDO-1.JPG"><figcaption>পর্তুগালের হয়ে ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬ গোল করেছেন রোনালদো</figcaption></figure><p>পর্তুগালের হয়ে ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬ গোল করেছেন রোনালদো। পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার এবং সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড তাঁর। সংখ্যাগুলো একদিন হয়তো আরও পুরোনো হবে। কেউ হয়তো গোলের রেকর্ড ভাঙবেন, ম্যাচের রেকর্ডও পেরিয়ে যাবেন। কিন্তু পর্তুগালের ফুটবল ইতিহাসে রোনালদোর জায়গাটা শুধু সংখ্যায় লেখা থাকবে না।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/football/bar0k659ew">সবচেয়ে বেশি ম্যাচ, সবচেয়ে বেশি গোল—আন্তর্জাতিক ফুটবলে রোনালদোর আরও রেকর্ড</a></aside><p>কারণ, তিনি শুধু গোল করেননি। এক প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখিয়েছেন। যে দেশ ২০০৪ সালে ঘরের মাঠে ইউরোর ফাইনালে হেরেছিল, সেই দেশকে ১২ বছর পর ইউরোপের সেরা হতে দেখেছেন। যে ছেলেটি একদিন কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছেড়েছিলেন, তিনি একদিন পর্তুগালের হাতে তুলে দিয়েছেন দেশের ইতিহাসের প্রথম ইউরো ট্রফি। তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে গেছে একটি দেশের ফুটবল-আবেগ, প্রাপ্তি আর অপেক্ষার গল্প।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-05/0b4pezix/821012_01_02.jpg"><figcaption>২০২৬ বিশ্বকাপে পর্তুগাল বাদ পড়ার পর কাঁদছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো</figcaption></figure><p>এখন থেকে পর্তুগালের মাঠে ৭ নম্বর জার্সি গায়ে অন্য কেউ নামবেন। গোল হলে গ্যালারি আবারও উল্লাস করবে। নতুন কোনো তারকা জন্ম নেবেন। কিন্তু গোলের পর দুই হাত ছড়িয়ে দাঁড়ানো সেই মানুষটিকে আর দেখা যাবে না। পর্তুগালের জার্সিতে তাঁর দৌড় থামবে, গোল থামবে, উদ্‌যাপনও থামবে। শুধু থেকে যাবে ২৩ বছরের স্মৃতি।</p><p>কিছু জার্সি শুধু শরীরে পরা হয় না, হয়ে ওঠে একটি দেশের পরিচয়। পর্তুগালের ৭ নম্বর জার্সিটি তেমনই। রোনালদো জার্সিটি ফিরিয়ে দিচ্ছেন, কিন্তু জার্সির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মানুষটিকে কি আর ফিরিয়ে দেওয়া যায়?</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/football/ks2j2wqmwq">রোনালদোর উত্থান, অর্জন ও বিদায়: ১৫ ছবিতে এক কিংবদন্তির গল্প</a></aside>

নভেম্বর ৫, ২০২৬
প্রিসাইজ পেটল্যাবের এক বছর পূর্ণ, চালু হলো মোবাইল অ্যাপ
প্রিসাইজ পেটল্যাবের এক বছর পূর্ণ, চালু হলো মোবাইল অ্যাপ

<p>রাজধানীর গুলশানের পশুচিকিৎসা হাসপাতাল প্রিসাইজ পেটল্যাব ডায়াগনস্টিকস অ্যান্ড হাসপাতাল লিমিটেডের এক বছর পূর্ণ হয়েছে। বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সম্প্রতি হাসপাতালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চালু করা হচ্ছে মোবাইল অ্যাপ। এই অ্যাপের মাধ্যমে পোষা প্রাণীর চিকিৎসা সেবা নেওয়া এবং প্রাণীটির চিকিৎসার তথ্য দেখা আরও সহজ হবে।</p><p>২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট সাধারণ মানুষের জন্য সেবা শুরু করে প্রিসাইজ পেটল্যাব। উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য ছিল প্রিয় পোষ্য অসুস্থ হলে মালিকেরা যেন দ্রুত সঠিক রোগনির্ণয়, ভরসাযোগ্য জরুরি সেবা ও মানসম্মত চিকিৎসা পান।</p><p>প্রিসাইজ পেটল্যাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাদিয়া জারিন শম্পা বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানের কর্মসূচি ও উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের সব স্তরের প্রাণী, সেটা পথের প্রাণী হোক, ঘরের পোষ্য হোক কিংবা বন্য, তাদের কল্যাণ, স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।’</p>

নভেম্বর ৫, ২০২৬
সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ পেছাল ১৩১ বার
সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ পেছাল ১৩১ বার

<p>সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আজ বৃহস্পতিবারও আদালতে জমা পড়েনি। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৯ ডিসেম্বর নতুন তারিখ ধার্য করেছেন আদালত। এ নিয়ে বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ ১৩১ বার পেছাল।</p><p> ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে আজ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আজ প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। আদালত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন তারিখ দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।</p><p>২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় এই সাংবাদিক দম্পতি নৃশংসভাবে খুন হন। সাগর সরওয়ার মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক ছিলেন। আর মেহেরুন রুনি ছিলেন এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক।</p><p>হত্যাকাণ্ডের পর রুনির ভাই নওশের আলম রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন। প্রথমে মামলার তদন্ত শুরু করে থানা-পুলিশ। পরে তদন্তভার পায় ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। পরবর্তী সময়ে আদালতের নির্দেশে তদন্তের দায়িত্ব পায় র‍্যাব।</p><p>হত্যাকাণ্ডের এক যুগ পার হলেও তদন্ত শেষ না হওয়ায় সম্প্রতি মামলাটির তদন্তভার পিবিআইকে দেওয়া হয়। গত বছরের নভেম্বরে র‍্যাবের কাছ থেকে মামলার নথিপত্র বুঝে নেয় সংস্থাটি।</p>

নভেম্বর ৫, ২০২৬
অন্তর্বাসে এনেছিলেন ১২ কেজি সোনা, ধরা পড়ে কারাগারে দুই চীনা নাগরিক
অন্তর্বাসে এনেছিলেন ১২ কেজি সোনা, ধরা পড়ে কারাগারে দুই চীনা নাগরিক

<p>দুবাই থেকে ঢাকায় এসেছিলেন দুই চীনা নাগরিক। কালো কাপড় দিয়ে সেলাই করে বিশেষ কায়দায় প্যান্ট ও অন্তর্বাসে লুকিয়ে রেখেছিলেন ১২ কেজি সোনার পেস্ট। গ্রেপ্তার করে রিমান্ড শেষে আজ বৃহস্পতিবার কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।</p><p>গত ২৯ অক্টোবর দুই চীনা নাগরিক চেন লিইউন এবং মো শিয়াওইউকে বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করার পর সাত দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ড শেষে আদালতে তোলা হলে আজ ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলামের আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এই ঘটনায় হওয়া মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক মো. মাজেদুল ইসলামের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই আদেশ দেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/crime/gt44aaunpm">জিনস প্যান্ট ও অন্তর্বাসে পাচারের চেষ্টা, শাহজালালে মিলল ২৪ কোটি টাকার সোনা</a></aside><p>প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রিমান্ড শেষে আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।</p><p>এর আগে, গত ২৯ অক্টোবর দুই চীনা নাগরিককে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন ঢাকার একটি আদালত। সাত দিনের রিমান্ড শেষে আজ আসামিদের আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম।</p><p>এ ঘটনায় দুই চীনা নাগরিকের বিরুদ্ধে স্বর্ণ চোরাচালানের অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় কাস্টমস হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (প্রিভেন্টিভ) জামিল সারোয়ার আহাদ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন বিমানবন্দর থানায়।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/zq835ttiys">শাহজালালে এবার ধরা পড়ল ‘সোনার ডিম’, আরও যতভাবে সোনা চোরাচালান হয়</a></aside><p>মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ অক্টোবর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে দুবাই থেকে এমিরেটসের ফ্লাইট ইকে–৫৮৬ করে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন দুই চীনা নাগরিক। কোনো ব্যাগেজ ঘোষণা না দিয়ে গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করার সময় কাস্টমসের একটি দল তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে তল্লাশি চালিয়ে তাঁদের পরা জিনসের প্যান্ট ও অন্তর্বাসের মধ্যে কালো কাপড় দিয়ে সেলাই করে বিশেষ কায়দায় লুকানো নরম হলুদ রঙের পেস্টজাতীয় বস্তু পাওয়া যায়। কাপড় কেটে বস্তুগুলো উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে স্বর্ণকারের মাধ্যমে পরীক্ষা করে এগুলো ২৪ ক্যারেটের স্বর্ণ বলে নিশ্চিত হন কাস্টমস কর্মকর্তারা।</p><p>মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, দুই আসামির প্রত্যেকের কাছ থেকে আনুমানিক ৬ কেজি করে মোট ১২ কেজি স্বর্ণের পেস্ট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে রাসায়নিক পরীক্ষার মাধ্যমে স্বর্ণের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করা হয়নি। এ ঘটনায় আসামিদের কাছ থেকে দুটি মুঠোফোন, পরা প্যান্ট, অন্তর্বাস ও স্কচটেপসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/crime/j0ehsv0psn">শাহজালালে আচারের বয়ামে মিলল প্রায় পৌনে তিন কোটি টাকার হীরা ও স্বর্ণালংকার, যাত্রী গ্রেপ্তার</a></aside>

নভেম্বর ৫, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”

পোশাকের ট্যাবু ভেঙে ‘সংস্কৃতির সমতার’ বার্তায় যবিপ্রবিতে ‘লুঙ্গি প্যারেড’

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।