দুবাইফেরত যাত্রীর ব্যাগে পারদযুক্ত নিষিদ্ধ ক্রিম

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাইফেরত এক যাত্রীর ব্যাগ থেকে ১ হাজার ৩০০টি নিষিদ্ধ রং ফর্সাকারী ক্রিম জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। ‘ফ্রেশ অ্যান্ড হোয়াইট বিউটি ক্রিম’ নামের এসব ক্রিমের ওজন ৪০ কেজি। জব্দ করা ক্রিমের আনুমানিক বাজারমূল্য ৮ লাখ টাকা।

ক্ষমা চেয়ে ধানুশ বললেন, আমি পুরো দায় নিচ্ছি

প্রিয় তারকাকে একনজর দেখতে বৈধ প্রবেশপাস হাতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে এসেছিলেন হাজারো ভক্ত। কিন্তু, অনুষ্ঠানস্থলের গেট পর্যন্ত গিয়েও তাদের অনেককে ফিরতে হয়েছে হতাশ হয়ে।

ক্ষমা চেয়ে ধানুশ বললেন, আমি পুরো দায় নিচ্ছি
জুয়ার আসরে পুলিশের অভিযান, তথ্যদাতা সন্দেহে সাংবাদিককে মারধর

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে জুয়ার আসরে পুলিশের অভিযান নিয়ে তথ্য দেওয়ার সন্দেহে আব্দুল্লাহ ফারুক হোসেন নামে এক সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

জুয়ার আসরে পুলিশের অভিযান, তথ্যদাতা সন্দেহে সাংবাদিককে মারধর
খুলনায় ফের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভাঙচুর-লুট

খুলনায় আবারও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুর পৌনে ১টার দিকে নগরীর ২৭৫ নম্বর খানজাহান আলী সড়কের নিউ অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশনে এ ঘটনা ঘটে। তবে এত...

খুলনায় ফের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভাঙচুর-লুট
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে নারীদের মিছিল

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ানতোর বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে মিছিল করেছেন শত শত নারী। শনিবার এই বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে নারীদের মিছিল
টেকনাফ পাহাড়ে সাঁড়াশি অভিযানে যৌথ বাহিনী

কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারীদের আস্তানা ঘিরে আবারও পাহাড়ে অভিযান চালিয়েছে যৌথ বাহিনী। কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তল্লাশি চালিয়েও তিনটি মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়নি। এসময় পাচারকারীদের আস্তানা থেকে রান...

টেকনাফ পাহাড়ে সাঁড়াশি অভিযানে যৌথ বাহিনী
শার্শায় অতিরিক্ত মদ্যপানে যুবকের মৃত্যু

যশোরের শার্শায় অতিরিক্ত মদ্যপানে অসুস্থ হয়ে আশা মিয়া (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে উপজেলার ইসলামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আশা মিয়া ওই গ্রামের লালটু মিয়ার ছেলে।

শার্শায় অতিরিক্ত মদ্যপানে যুবকের মৃত্যু

সারা দেশ

View more
দড়ি টেনে চলে প্রতিবন্ধী জনির ৬ সদস্যের সংসার
দড়ি টেনে চলে প্রতিবন্ধী জনির ৬ সদস্যের সংসার

সকাল ৫টায় শুরু হওয়া এই পরিশ্রম শেষ হয় রাত ১১টায়। দিন শেষে মজুরি পান ৪০০ টাকা।

Video news

Rss feed news

অলিগার্কিদের বিশ্ব আর কতদিন টিকবে?
অলিগার্কিদের বিশ্ব আর কতদিন টিকবে?

এই ৫৯ জন অলিগার্ক নেতার মধ্যে প্রায় এক-পঞ্চমাংশ শুরুতেই সম্পদের মালিক ছিলেন। দুই-পঞ্চমাংশ প্রথমে ক্ষমতা অর্জন করেছেন।

নভেম্বর ৭, ২০২৬
ট্রাকের চাপায় এক পরিবারের তিনজন নিহত, শোকে স্তব্ধ পুরো গ্রাম
ট্রাকের চাপায় এক পরিবারের তিনজন নিহত, শোকে স্তব্ধ পুরো গ্রাম

আজ সকালে জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে ট্রাকের চাপায় শিক্ষক দম্পতি ও তাঁদের একমাত্র মেয়েসহ চারজন নিহত হন।  

নভেম্বর ৭, ২০২৬
মার্কিন শুল্ক চুক্তি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে হবে: সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর
মার্কিন শুল্ক চুক্তি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে হবে: সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর

<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-07/fv0yk65m/WhatsApp-Image-2026-11-07-at-7.04.58-PM.jpeg"><figcaption>অ্যামচেম ও ঢাকার মার্কিন দূতাবাস আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ইউএস ট্রেড শোর শেষ দিনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন (বাঁ থেকে) অ্যামচেমের নির্বাহী পরিচালক চৌধুরী কায়সার মোহাম্মদ রিয়াদ, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর পল ফ্রস্ট, এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিইও মাহবুব উর রহমান, এপেক্স ফুটওয়্যারের এমডি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, অ্যামচেম সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ফাহমিদা খাতুন, কটন ইউএসএর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ আলী আরসালান, শাশা ডেনিমসের এমডি শামস মাহমুদ, মেটলাইফ বাংলাদেশের সিইও আলা উদ্দিন আহমদ</figcaption></figure><p>‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি (এআরটি) এবং এই চুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত ফলাফল বাংলাদেশকে নিজেদেরই সামলাতে হবে। ফলে আমরা চুক্তিকে কীভাবে ব্যবহার করছি, তা গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য চুক্তিতে কী আছে এবং এর অর্থ কী—তা নিয়ে পূর্ণ স্বচ্ছতা থাকা উচিত।’</p><p>আজ শনিবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত সেমিনারে এ কথা বলেন ফুটওয়্যার লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএইএ) সভাপতি ও এপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর।</p><p>অনুষ্ঠানে সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর আরও বলেন, ‘যতক্ষণ না পর্যন্ত আমরা চুক্তির সুযোগগুলো কী এবং ঝুঁকি বা ফাঁদগুলো কী, তা বুঝতে পারি, ততক্ষণ এটির সুফল আমরা নিতে পারব না। ফলে আমাদের আরও খোলামেলা আলোচনা করতে হবে। আমি মনে করি না এটি কোনো নিষিদ্ধ বিষয় হওয়া উচিত। এআরটিতে কী আছে, এটি আমাদের কীভাবে প্রভাবিত করে, এটি আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে এবং সুযোগগুলো কোথায়, তা নিয়ে আমাদের কথা বলা দরকার।’</p><p>রাজধানীতে তিন দিনব্যাপী আয়োজিত ইউএস ট্রেড শোর শেষ দিনে ‘বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এই সেমিনার আয়োজন করা হয়। আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) ও ঢাকার যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস যৌথভাবে এ ট্রেড শো আয়োজন করেছে।</p><p>এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাহবুব উর রহমানের সঞ্চালনায় সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ফাহমিদা খাতুন, ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি ও শাশা ডেনিমসের এমডি শামস মাহমুদ, কটন ইউএসএর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ আলী আরসালান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অ্যামচেম সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মেটলাইফ বাংলাদেশের সিইও আলা উদ্দিন আহমদ।</p><p>মার্কিন শুল্ক চুক্তি বাস্তবায়ন ও স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ— এই দুটি বিষয়কে একে অপরের পরিপূরক বলে মনে করেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি এআরটির (মার্কিন শুল্ক চুক্তি) সুবিধা নিতে চাই, তবে আমাদের কমপ্লায়েন্ট হতে হবে, দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে। এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী প্রেক্ষাপটও ঠিক তেমন হবে।’</p><p>সেমিনারে সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, একবার যদি কোনো দেশের সঙ্গে নির্দিষ্ট মাত্রার একটি চুক্তি হয়ে যায়, তবে সেটি অন্যান্য দেশের জন্যও একটি বেঞ্চমার্ক বা অনুসরণীয় বিষয় হয়ে দাঁড়ায়—তারাও তখন একই ধরনের সুযোগ বা অগ্রাধিকার দাবি করবে। তাই, চুক্তির বিষয়ে পূর্ণ স্বচ্ছতা থাকা উচিত।</p><p>সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর আরও বলেন, ‘মার্কিন শুল্ক চুক্তিটি আমাদের প্রবৃদ্ধির একটি বড় চালিকা শক্তি হতে পারে। চুক্তিটি একদিকে দেশগুলোর জন্য প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে “কমপ্লায়েন্স” এবং “ট্রেসেবিলিটি”র (সরবরাহ শৃঙ্খলের সন্ধানযোগ্যতা) জন্য উচ্চ খরচের বিষয়ও রয়েছে। এ জন্য বাংলাদেশকে প্রস্তুত হতে হবে।’</p><p>এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ককাঠামো ভালোভাবে বিশ্লেষণের পরামর্শ দেন সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে এমন কিছু আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা বলে দেয় যে আপনার পণ্যে সামান্য কোনো পরিবর্তন এনে শুল্ক কীভাবে ৩৭ শতাংশ থেকে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা যায়।</p><p>সেমিনারে শাশা ডেনিমসের এমডি শামস মাহমুদ বলেন, ‘প্রায় এক বছর আগে বাণিজ্যচুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছে। কিন্তু চুক্তির ফলে যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকেরা উপকৃত হবেন, সে বিষয়ে আমরা খুব কমই আলোচনা করছি। এমনকি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোও রপ্তানিকারকদের সঙ্গে কোনো কথা বলছে না।’</p><p>অবশ্য চুক্তি স্বাক্ষরের কারণে অনেক মার্কিন ক্রেতা এখন বাংলাদেশে আসছেন বলে জানান শামস মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘এসব ক্রেতা ঐতিহ্যগতভাবে এখানে আসতেন না। এমনকি ইউএস কটনের তৈরি কাপড় রপ্তানি করছে পাকিস্তানে। সেই কাপড়ে তৈরি পোশাক পাকিস্তান থেকে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে। ফলে আমাদের মতো সরবরাহকারীদের জন্য নতুন ধরনের পথ খুলে গেছে।’</p><p>কটন ইউএসএর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ আলী আরসালান জানান, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি সেক্রেটারি ব্রুক রলিন্স ‘গ্রেট আমেরিকান কটন প্ল্যান’-এর অংশ হিসেবে বিশেষভাবে বাংলাদেশের কথা উল্লেখ করেছেন। সেখানে পোশাকে ইউএস কটন ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে সম্পূর্ণ শুল্ক ছাড়ের কথা বলা হয়েছে। তবে এই ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করবে, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়।</p>

নভেম্বর ৭, ২০২৬
হৃদয়ের অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ
হৃদয়ের অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ

অবিশ্বাস্য কিছু করে ফেলার বিশ্বাস মনে না থাকলে তো এমন গল্প লেখা হতো না তাঁর। হৃদয়ের ২৪২ রানের ইনিংসে ভর করেই তো ২৩ রানে এগিয়ে থেকে দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ।

নভেম্বর ৭, ২০২৬
সুন্দরবনকে নিজের মতো থাকতে দিতে হবে, হাত দেওয়া যাবে না: মুহাম্মদ আলী রেজা খান
সুন্দরবনকে নিজের মতো থাকতে দিতে হবে, হাত দেওয়া যাবে না: মুহাম্মদ আলী রেজা খান

প্রকৃতিবিদ ও বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ মুহাম্মদ আলী রেজা খানের সঙ্গে দীর্ঘ আড্ডা দিয়েছেন কবি ও কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক

নভেম্বর ৭, ২০২৬
নভেম্বরের দুটি দিন কেন খ্রিষ্টানদের কাছে আলাদা
নভেম্বরের দুটি দিন কেন খ্রিষ্টানদের কাছে আলাদা

<p>নভেম্বরের প্রথম দুটি দিন খ্রিষ্টানদের কাছে আলাদা অর্থ বহন করে। ১ নভেম্বর অল সেন্টস ডে, পরদিন ২ নভেম্বর অল সোলস ডে। পাশাপাশি দুই দিন, দুটিতেই জড়িয়ে আছে প্রয়াত মানুষের স্মরণ আর পরকালের বিশ্বাস।</p><p>তবু দিন দুটির উদ্দেশ্য এক নয়। প্রথম দিনটি সাধুদের—গির্জার স্বীকৃতি পাওয়া সাধু যেমন, তেমনি ইতিহাসে নাম হারিয়ে যাওয়া পুণ্যবান মানুষেরাও। দ্বিতীয় দিনটি সাধারণ মানুষের—প্রয়াত মা-বাবা, ভাইবোন, বন্ধু, প্রতিবেশী; যাঁদের আত্মার শান্তির জন্য প্রার্থনা করেন জীবিত স্বজনেরা।</p><h3>অল সেন্টস ডে: সাধুদের দিন </h3><p>যিশুখ্রিষ্টের পথ ধরে যাঁরা পবিত্র জীবন যাপন করেছেন, বিশ্বাস, ভালোবাসা, ত্যাগ আর মানবসেবায় দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন, অল সেন্টস ডেতে তাঁদের স্মরণ করা হয়। খ্রিষ্টানদের কাছে এটি বছরের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসবগুলোর একটি।</p><p>এখানে ‘সাধু’ শব্দটির পরিসর অবশ্য বড়। গির্জা আনুষ্ঠানিকভাবে যাঁদের সাধু ঘোষণা করেছে, শুধু তাঁরাই নন; ঈশ্বরে বিশ্বাস রেখে যাঁরা নীরবে মানুষের কল্যাণে জীবন উৎসর্গ করে গেছেন, তাঁরাও এই স্মরণের অংশ। তাই পরিচিত সাধুদের পাশাপাশি এদিন স্মরণ করা হয় সেই অসংখ্য মানুষকেও, ইতিহাস যাঁদের নাম লিখে রাখেনি।</p><p>দিনটির শিকড় খ্রিষ্টধর্মের আদিপর্বে। তখন বিশ্বাসের জন্য যাঁরা নির্যাতন সয়েছেন, প্রাণ দিয়েছেন, সেই শহীদদের স্মরণে আলাদা দিন পালনের রেওয়াজ ছিল। পরে বিভিন্ন অঞ্চলে সব সাধুকে একসঙ্গে স্মরণের রীতি গড়ে ওঠে।</p><p>অষ্টম শতকে পোপ তৃতীয় গ্রেগরি রোমের সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকায় সব সাধুর সম্মানে একটি উপাসনাস্থল উৎসর্গ করেন। নবম শতকে পোপ চতুর্থ গ্রেগরির সময় ১ নভেম্বরের এই উৎসব পশ্চিমা গির্জাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।</p><p>দিনটিতে গির্জাগুলোতে বিশেষ প্রার্থনা ও উপাসনা হয়। সাধুদের জীবন, বিশ্বাস আর মানুষের জন্য তাঁদের কাজের কথা স্মরণ করা হয়। উদ্দেশ্য একটাই—তাঁদের জীবন থেকে নিজের পথচলার অনুপ্রেরণা খুঁজে নেওয়া।</p><blockquote>ক্যাথলিক বিশ্বাস অনুযায়ী, মৃত্যুর পর ঈশ্বরের সঙ্গে পূর্ণ মিলনের আগে অনেক আত্মাকে পরিশুদ্ধির একটি পর্ব পার হতে হয়। এই আধ্যাত্মিক অবস্থাকে বলা হয় ‘পারগেটরি’ বা শুদ্ধিলয়।</blockquote><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/christian/cductmch5i"> যিশুখ্রিষ্টের মহা আবির্ভাব</a></aside><h3>অল সোলস ডে: প্রিয়জনের জন্য প্রার্থনা </h3><p>পরদিন, ২ নভেম্বর, অল সোলস ডে। এটি প্রয়াত সব বিশ্বাসীর, বিশেষ করে নিজের হারানো প্রিয়জনদের স্মরণ আর তাঁদের আত্মার শান্তি কামনার দিন। ক্যাথলিক ঐতিহ্যে দিনটির গুরুত্ব অনেক।</p><p>ক্যাথলিক বিশ্বাস অনুযায়ী, মৃত্যুর পর ঈশ্বরের সঙ্গে পূর্ণ মিলনের আগে অনেক আত্মাকে পরিশুদ্ধির একটি পর্ব পার হতে হয়। এই আধ্যাত্মিক অবস্থাকে বলা হয় ‘পারগেটরি’ বা শুদ্ধিলয়।</p><p>জীবিতদের প্রার্থনা সেই পর্বে প্রয়াতদের সহায় হতে পারে—এই বিশ্বাস থেকেই অল সোলস ডের প্রার্থনা।</p><p>দিনটি পালনের ইতিহাসে বিশেষভাবে জড়িয়ে আছে ফ্রান্সের ক্লুনি মঠের অ্যাবট, বেনেডিক্টাইন সন্ন্যাসী সেন্ট ওডিলোর নাম। ৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দে তিনি নিজের অধীন মঠগুলোকে ২ নভেম্বর প্রয়াত বিশ্বাসীদের জন্য বিশেষ প্রার্থনার নির্দেশ দেন।</p><p>ধীরে ধীরে এই প্রথা ছড়িয়ে পড়ে গোটা ক্যাথলিক গির্জায়।</p><p>এদিন গির্জায় প্রার্থনা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়। অনেকে যান কবরস্থানে—প্রিয়জনের কবরে ফুল দেন, মোমবাতি জ্বালান, কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে স্মরণ করেন। প্রয়াতদের জন্য প্রার্থনাই এদিনের মূল অনুশীলন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-07/drxs9oae/GravesinaPolishcemeterydecoratedwithcandlesforAllSaintsDayonNovember1stZabrzeSilesianVoivodeshipPolandNovember20242.jpg"></figure><h3>পার্থক্যটা কোথায় </h3><p>দিন দুটি পাশাপাশি হলেও এদের সুর আলাদা। অল সেন্টস ডে উদ্‌যাপনের দিন—সাধু ও পুণ্যবান মানুষের জীবন, বিশ্বাস আর অবদানের। অল সোলস ডে স্মরণ ও প্রার্থনার দিন—প্রয়াত আত্মীয়স্বজন ও অন্য বিশ্বাসীদের জন্য।</p><p>সহজ করে বললে, প্রথম দিনটি সামনে তুলে ধরে পবিত্র জীবন আর মানবসেবার আদর্শ। দ্বিতীয় দিনটি মনে করিয়ে দেয়, মৃত্যু প্রিয় মানুষকে চোখের আড়াল করলেও ভালোবাসা আর স্মৃতির বাঁধন ছিঁড়তে পারে না।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/%E0%A6%8F%E0%A6%AA%E0%A6%BF%E0%A6%AB%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BF-%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B2-%E0%A6%97%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BE-%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%82-%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%9C%E0%A6%A8-%E0%A6%96%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%B6%E0%A6%B9%E0%A7%80%E0%A6%A6">এপিফানি লাল গির্জা এবং তিনজন খ্রিষ্টান শহীদ</a></aside><blockquote>অল সেন্টস ডে বলে, বিশ্বাস, ভালোবাসা, ত্যাগ আর সেবার ভেতর দিয়ে একজন মানুষ অন্যের জীবনে দীর্ঘ ছাপ রেখে যেতে পারেন। অল সোলস ডে বলে, যাঁরা চলে গেছেন, তাঁদের মনে রাখা।</blockquote><h3>বাংলাদেশে যেভাবে পালিত হয় </h3><p>বাংলাদেশের খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ও দিন দুটি ধর্মীয় মর্যাদায় পালন করে। গির্জাগুলোতে বিশেষ উপাসনা ও প্রার্থনার আয়োজন থাকে। অনেক পরিবার কবরস্থানে গিয়ে প্রিয়জনের কবর পরিষ্কার করে, ফুল দেয়, মোমবাতি জ্বালায়।</p><p>পরিবারের সবাই মিলে স্মরণ করেন হারিয়ে যাওয়া প্রিয় মানুষদের।</p><p>তবে সব খ্রিষ্টীয় সম্প্রদায়ের রীতি এক নয়। ক্যাথলিকদের কাছে অল সোলস ডের গুরুত্ব বেশি। অনেক প্রোটেস্ট্যান্ট সম্প্রদায় প্রয়াতদের স্মরণ করে ঠিকই, কিন্তু পারগেটরি নিয়ে ক্যাথলিক ধর্মতত্ত্ব মানে না।</p><h3>বিশ্বাসের ভেতরে মানবিকতার পাঠ </h3><p>দিন দুটি শুধু আনুষ্ঠানিকতায় আটকে নেই। জীবন, মৃত্যু, স্মৃতি আর মানুষে মানুষে সম্পর্ক নিয়ে ভাবার সুযোগও তৈরি করে।</p><p>অল সেন্টস ডে বলে, বিশ্বাস, ভালোবাসা, ত্যাগ আর সেবার ভেতর দিয়ে একজন মানুষ অন্যের জীবনে দীর্ঘ ছাপ রেখে যেতে পারেন। অল সোলস ডে বলে, যাঁরা চলে গেছেন, তাঁদের মনে রাখা, তাঁদের প্রতি ভালোবাসা জানিয়ে যাওয়াও বেঁচে থাকারই অংশ।</p><p>জীবন ক্ষণস্থায়ী। কিন্তু মানুষের ভালো কাজ, ভালোবাসা আর আদর্শ বেঁচে থাকে তাঁর চলে যাওয়ার পরও। নভেম্বরের এই দুই দিনের মূল বার্তা বোধ হয় এ রকমই।</p><ul><li><p><em><strong>শ্যামল সরকার :</strong> লেখক ও সংবাদকর্মী</em></p></li></ul><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/%E0%A6%AB%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AB%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%B8%E0%A6%95%E0%A7%8B-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A5%E0%A6%AE-%E0%A6%96%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F-%E0%A6%B6%E0%A6%B9%E0%A7%80%E0%A6%A6">ফাদার ফ্রান্সেসকো: বাংলার বুকে প্রথম খ্রিষ্ট-শহীদ</a></aside>

নভেম্বর ৭, ২০২৬
বিরল পাখি ভুজঙ্গের নাম সাপের নামে কেন
বিরল পাখি ভুজঙ্গের নাম সাপের নামে কেন

ভুজঙ্গ মানে সাপ। শব্দটা বাংলায় অনেক পুরোনো। শিবকে বলা হয় ভুজঙ্গভূষণ; কারণ, সাপ তাঁর অলংকার। কবিতায় একটা ছন্দের নামও ভুজঙ্গপ্রয়াত, যার আক্ষরিক অর্থ সাপের চলন

নভেম্বর ৭, ২০২৬
রান্নার হাঁড়ি থেকেই খাবারে মিশছে সিসা, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ গবেষণা
রান্নার হাঁড়ি থেকেই খাবারে মিশছে সিসা, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ গবেষণা

<p>রান্নাঘরের অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়ি-পাতিল আমাদের খুব পরিচিত। এসব পাত্রে ভাত রান্না হয়, ডাল বসে, খিচুড়ি তৈরি হয়। অনেক পরিবারের কাছে এগুলো বেশ সাশ্রয়ীও। পুরোনো অ্যালুমিনিয়ামের পাত্র ভাঙিয়ে নতুন পাত্র বানানোর চলও আছে। বাইরে থেকে চকচকে নতুন হাঁড়ি দেখলে কে বলবে, সেটি খাবারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে? কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ—আইসিডিডিআর,বি-এর এক যৌথ গবেষণায় এমনই উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে। গবেষকেরা দেখেছেন, স্ক্র্যাপ ধাতু গলিয়ে তৈরি স্থানীয় অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়ি থেকে রান্নার সময় খাবারে সিসা মিশতে পারে। নতুন হাঁড়িতে এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। আর স্টিলের তারের জালি দিয়ে হাঁড়ি মাজলে সিসা বেরিয়ে আসার পরিমাণ আরও বেড়ে যায়।</p><p>সিসা বা লেড একটি বিষাক্ত ভারী ধাতু। এটি শরীরে জমতে পারে এবং বিশেষ করে শিশুদের মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে। সমস্যা হলো, সিসা মিশে যাওয়া খাবার দেখতে অন্য খাবারের মতোই। এর কোনো আলাদা রং, গন্ধ বা স্বাদ নেই। তাই শুধু চোখে দেখে কিংবা খাবার খেয়ে বোঝার উপায় নেই, তাতে সিসা মিশেছে কি না।</p><p>এই গবেষণার গুরুত্ব এখানেই। আমরা সাধারণত খাবারের মান নিয়ে ভাবি, রান্নার আগে সবজি ভালোভাবে ধুয়ে নিই, পানি পরিষ্কার কি না তা খেয়াল করি। কিন্তু যে হাঁড়িতে খাবার রান্না হচ্ছে, সেটিও যে দূষণের উৎস হতে পারে, তা অনেকের ভাবনায় আসে না। আর এই বিষয়টিই এবার সামনে নিয়ে এসেছেন বিজ্ঞানীরা। সেই বিজ্ঞানীদের তালিকায় আছেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানীরাও।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/feature/3i1xvt9rtj">খাবারে ভারী ধাতুর রকমফের</a></aside><blockquote>সিসা বা লেড একটি বিষাক্ত ভারী ধাতু। এটি শরীরে জমতে পারে এবং বিশেষ করে শিশুদের মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে। সমস্যা হলো, সিসা মিশে যাওয়া খাবার দেখতে অন্য খাবারের মতোই।</blockquote><h2><strong>দুই</strong></h2><p>গবেষণাটি করেছেন স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও আইসিডিডিআর,বি’র একদল গবেষক। তাঁদের গবেষণাপত্রের নাম ‘টক্সিক কুকওয়্যার: লেড এক্সপোজার ফ্রম অ্যালুমিনিয়াম পটস ইন বাংলাদেশ’। ২০২৬ সালের ২৫ অক্টোবর এটি প্রকাশিত হয়েছে <em>জার্নাল অব এক্সপোজার সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল এপিডেমিওলজি </em>সাময়িকীতে।</p><p>গবেষক দলের সদস্য ছিলেন রাফায়েল কিম, আলিরেজা নামায়ানদেহ, হান্নাহ ম্যাকগোরান, আলান্দ্রা লোপেজ, জেসমিন সুলতানা, মুসা বাকের, মাহবুবুর রহমান, স্টিফেন পি লুবি, স্কট ফেনডর্ফ ও জেনা ই ফোরসাইথ।</p><p>এই দলের বড় একটি অংশ স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও গবেষণাকেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত। বাংলাদেশ থেকে গবেষণায় অংশ নিয়েছেন আইসিডিডিআর,বি’র পরিবেশ স্বাস্থ্য ও ওয়াশ বিভাগের গবেষকেরা। গবেষণাটির পরিকল্পনা, পরীক্ষার নকশা ও তত্ত্বাবধানে যুক্ত ছিলেন জেনা ফোরসাইথ। তিনি স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘প্রজেক্ট আনলেডেড’<em> </em>কর্মসূচির পরিচালক। বাংলাদেশে সিসার সংস্পর্শের বিভিন্ন উৎস নিয়ে তাঁর দল আগে থেকেই কাজ করছে।</p><p>গবেষকদের মূল প্রশ্ন ছিল, স্থানীয়ভাবে তৈরি অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়িতে কতটা সিসা আছে? রান্নার সময় সেই সিসা খাবারে মিশে যায় কি না? আর হাঁড়ি নতুন না পুরোনো, খাবারের অম্লতা কিংবা হাঁড়ি পরিষ্কারের পদ্ধতির কারণে সিসা মিশে যাওয়ার পরিমাণ কতটা বদলায়?</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/fmrh2eol6q">খাবারে সোনা কি স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ</a></aside><blockquote>বাংলাদেশ থেকে গবেষণায় অংশ নিয়েছেন আইসিডিডিআর,বি’র পরিবেশ স্বাস্থ্য ও ওয়াশ বিভাগের গবেষকেরা। গবেষণাটির পরিকল্পনা, পরীক্ষার নকশা ও তত্ত্বাবধানে যুক্ত ছিলেন জেনা ফোরসাইথ।</blockquote><p>বাংলাদেশে অনেক স্থানীয় অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়ি-পাতিল তৈরি হয় পুরোনো ধাতু গলিয়ে। বিভিন্ন উৎস থেকে সংগ্রহ করা স্ক্র্যাপ বা ফেলে দেওয়া ধাতু গলিয়ে নতুন পাত্র বানানো হয়। এসব ধাতুতে কী কী উপাদান আছে, তা ঠিকভাবে পরীক্ষা না করলে বিপজ্জনক পদার্থও নতুন পাত্রের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। সিসা তেমনই একটি উপাদান।</p><p>সমস্যাটি বোঝার জন্য আগে একটি বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়ি মানেই যে তাতে সিসা আছে, এমন নয়। গবেষণাটি মূলত স্ক্র্যাপ ধাতু ব্যবহার করে তৈরি স্থানীয় অ্যালুমিনিয়ামের পাত্র নিয়ে। অর্থাৎ সব ধরনের অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রকে এই গবেষণার ফলাফলের আওতায় ফেলা যাবে না। কোন কাঁচামাল দিয়ে পাত্র তৈরি হচ্ছে এবং উৎপাদনের সময় ধাতুর মান যাচাই করা হচ্ছে কি না, সেটি এখানে গুরুত্বপূর্ণ।</p><p>গবেষকেরা পরীক্ষার জন্য স্থানীয় সরবরাহকারীর কাছ থেকে ২০টি নতুন অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়ি সংগ্রহ করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন পরিবারের ব্যবহার করা সাতটি পুরোনো হাঁড়িও নেন। প্রথমে পাত্রগুলোর ধাতুতে সিসার উপস্থিতি পরীক্ষা করা হয়। এরপর সেগুলোতে খাবার রান্না করে দেখা হয়, কতটা সিসা খাবারে চলে আসে।</p><p>পরীক্ষার জন্য বেছে নেওয়া হয় আমাদের সবার পরিচিত ভাত ও খিচুড়ি। কারণ শুধু কোনো তরল পদার্থে সিসা মিশছে কি না, তা পরীক্ষা করলেই বাস্তব রান্নার পরিস্থিতি পুরোপুরি বোঝা যায় না। কঠিন খাবার রান্নার সময়ও পাত্র থেকে ধাতু খাবারে যেতে পারে। তাই গবেষকেরা সরাসরি ভাত ও খিচুড়ি রান্না করে সেগুলোর সিসার মাত্রা পরীক্ষা করেন।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/1yctskbflk">বয়স বাড়লে খাবার আগের মতো মজা লাগে না কেন</a></aside><blockquote>পরীক্ষার জন্য বেছে নেওয়া হয় আমাদের সবার পরিচিত ভাত ও খিচুড়ি। কারণ শুধু কোনো তরল পদার্থে সিসা মিশছে কি না, তা পরীক্ষা করলেই বাস্তব রান্নার পরিস্থিতি পুরোপুরি বোঝা যায় না।</blockquote><p>তবে গবেষণাটি শুধু রান্নার পরীক্ষাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তরল খাবারের ক্ষেত্রে কী ঘটে, সেটিও বোঝার চেষ্টা করেন তাঁরা। এ জন্য ব্যবহার করা হয় ৪ শতাংশ অ্যাসিটিক অ্যাসিডের দ্রবণ। অ্যাসিটিক অ্যাসিড হলো ভিনেগারের প্রধান অ্যাসিড। নির্দিষ্ট ঘনত্বের এই দ্রবণ দিয়ে খাবারের মতো তরল পরিবেশ তৈরি করে পরীক্ষা করা হয়, হাঁড়ি থেকে সিসা কতটা বেরিয়ে আসে। দ্রবণের অম্লতার মাত্রাও পরিবর্তন করা হয়।</p><p>এ ছাড়া হাঁড়ি কতবার ব্যবহার করা হয়েছে, সেটিও নেওয়া হয় বিবেচনায়। নতুন হাঁড়িতে প্রথমবার ও পরবর্তী সময়ে ব্যবহারের মধ্যে সিসা বেরিয়ে আসার পার্থক্য আছে কি না, তা দেখা হয়। হাঁড়ি ঘষে মাজলে কী হয়, আবার রান্নার সময় খুন্তি দিয়ে খাবার নাড়াচাড়া করলে সিসা বের হওয়ার পরিমাণ বাড়ে কি না, সেটিও পরীক্ষা করা হয়েছে। এসব পরীক্ষায় খাবার ও তরল নমুনার সিসার মাত্রা নির্ণয়ে ব্যবহার করা হয় সংবেদনশীল পরীক্ষাগার পদ্ধতি।</p><p>এভাবে গবেষকেরা শুধু হাঁড়িতে সিসা আছে কি না, তা-ই দেখেননি, রান্নার সময় সেই সিসা কীভাবে খাবারে মিশছে, কোন পরিস্থিতিতে বেশি মিশছে, সেটিও জানার চেষ্টা করেছেন। এসব পরীক্ষা থেকে কী জানলেন গবেষকেরা?</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/b6ihv8bhp5">মাটির প্লেটে খাবার খেলে স্বাদ অন্য রকম লাগে কেন</a></aside><blockquote>অ্যাসিটিক অ্যাসিড হলো ভিনেগারের প্রধান অ্যাসিড। নির্দিষ্ট ঘনত্বের এই দ্রবণ দিয়ে খাবারের মতো তরল পরিবেশ তৈরি করে পরীক্ষা করা হয়, হাঁড়ি থেকে সিসা কতটা বেরিয়ে আসে।</blockquote><h2><strong>তিন</strong></h2><p>পরীক্ষার ফল উদ্বেগজনক। নতুন ও পুরোনো উভয় হাঁড়ি থেকেই সিসা বেরিয়ে এসেছে। তবে নতুন হাঁড়ির ক্ষেত্রে পরিমাণ ছিল বেশি। বিশেষ করে প্রথমবার রান্নার সময় সবচেয়ে বেশি সিসা খাবারে মিশেছে।</p><p>নতুন হাঁড়িতে প্রথমবার ভাত রান্না করার পর প্রতি কেজি ভাতে সিসার মাত্রা পাওয়া গেছে ৩০৫ মাইক্রোগ্রাম। খিচুড়ির ক্ষেত্রে তা ছিল প্রতি কেজিতে ৪২০ মাইক্রোগ্রাম। পরিমাণগুলো বুঝতে একটি তুলনা করা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন শিশুখাদ্যের ক্ষেত্রে প্রতি কেজিতে ১০ মাইক্রোগ্রাম সিসার সীমা নির্ধারণ করেছে। সেই তুলনায় নতুন হাঁড়িতে রান্না করা ভাতে পাওয়া সিসার মাত্রা এই সীমার প্রায় ৩০ গুণ। খিচুড়ির ক্ষেত্রে প্রায় ৪২ গুণ।</p><p>শুধু প্রথমবার রান্নার সময়ই যে সিসা বেরিয়েছে, তা নয়। কয়েকবার ব্যবহারের পরও খাবারে সিসা পাওয়া গেছে। তবে ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে এর পরিমাণ কমেছে। গবেষকদের ধারণা, নতুন হাঁড়ির বাইরের পৃষ্ঠে এমন সিসা থাকে, যা তুলনামূলক সহজে খাবারে মিশে যেতে পারে। বারবার ব্যবহারের ফলে পৃষ্ঠের ওই সিসার পরিমাণ কমে আসে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে কয়েকবার ব্যবহার করলেই হাঁড়িটি নিরাপদ হয়ে যায়। পরীক্ষায় তৃতীয়বার ব্যবহারের পরও সিসার উপস্থিতি শনাক্ত করা গেছে। পুরোনো হাঁড়ির ক্ষেত্রেও একই ধরনের সমস্যা দেখা গেছে। সাতটি পুরোনো হাঁড়ির মধ্যে ছয়টিতে রান্না করা ভাতে পাওয়া গেছে সিসা। অর্থাৎ হাঁড়ি পুরোনো হলেই ঝুঁকি শেষ, এমনটা ভেবে খুশি হওয়ার কোনো উপায় নেই। আবার নতুন হাঁড়ি চকচকে দেখালেও সেটিকে নিরাপদ বলা যাচ্ছে না।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/fkk62b7hww">অতি প্রক্রিয়াজাত খাবার বেশি খেলে অকালমৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে: গবেষণা</a></aside><blockquote>নতুন হাঁড়িতে প্রথমবার ভাত রান্না করার পর প্রতি কেজি ভাতে সিসার মাত্রা পাওয়া গেছে ৩০৫ মাইক্রোগ্রাম। খিচুড়ির ক্ষেত্রে তা ছিল প্রতি কেজিতে ৪২০ মাইক্রোগ্রাম।</blockquote><p>গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফলগুলোর একটি হলো, হাঁড়ি পরিষ্কারের পদ্ধতির সঙ্গে সিসা বেরিয়ে আসার সম্পর্ক রয়েছে। আমরা অনেকেই হাঁড়ি-পাতিল পরিষ্কার করতে স্টিলের তার দিয়ে তৈরি জালি ব্যবহার করি। বিশেষ করে হাঁড়ির গায়ে খাবার লেগে গেলে সেটি ঘষে পরিষ্কার করা হয়। কিন্তু গবেষকেরা দেখেছেন, নতুন অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়ি স্টিলের তারের জালি দিয়ে ঘষে মাজলে সিসা বেরিয়ে আসার পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়।</p><p>অ্যাসিডের দ্রবণ দিয়ে করা পরীক্ষায় দেখা গেছে, নতুন হাঁড়ি প্রথমবার ব্যবহারের সময় ঘষে মাজলে, না মাজা হাঁড়ির তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি সিসা বেরিয়ে আসে। দ্বিতীয়বার ব্যবহারের পরীক্ষাতেও ঘষে মাজা হাঁড়ি থেকে প্রায় তিন গুণ বেশি সিসা পাওয়া যায়। কেন এমন হলো?</p><p>ধাতব জালি দিয়ে জোরে ঘষলে হাঁড়ির ওপরিভাগ ক্ষয় হতে পারে। পৃষ্ঠে জমে থাকা সিসা তখন সহজে বেরিয়ে আসার সুযোগ পায়। গবেষকদের ফলাফলও বলছে, হাঁড়ির ওপরিভাগের ক্ষয় সিসা বেরিয়ে আসার পরিমাণ বাড়াতে পারে। রান্নার সময় ধাতব খুন্তি দিয়ে খাবার নাড়াচাড়া করলেও সিসা বেরিয়ে আসার পরিমাণ বেড়েছে। অর্থাৎ শুধু হাঁড়ির ভেতরে কী রান্না হচ্ছে, সেটিই নয়; কীভাবে হাঁড়ি পরিষ্কার করছেন এবং রান্নার সময় কী ব্যবহার করছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।</p><p>খাবারের অম্লতাও এখানে ভূমিকা রাখে। গবেষণায় অ্যাসিডিক দ্রবণের অম্লতার মাত্রা বদলে পরীক্ষা করা হয়েছিল। ফলাফলে দেখা গেছে, অম্লতা বাড়লে সিসা বেরিয়ে আসার প্রবণতাও বাড়ে। অর্থাৎ টক বা বেশি অম্লধর্মী খাবার রান্নার ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। সব মিলিয়ে গবেষণাটি দেখাচ্ছে, নতুন হাঁড়ি, অম্লধর্মী খাবার এবং জোরে ঘষে পাত্র পরিষ্কার করা হলে খাবারে সিসা মিশে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/chemistry/iwgqc91gyy">প্লাস্টিকে খাবার মোড়ালে কি খাবারের ক্ষতি হয়</a></aside><blockquote>গবেষকদের ফলাফলও বলছে, হাঁড়ির ওপরিভাগের ক্ষয় সিসা বেরিয়ে আসার পরিমাণ বাড়াতে পারে। রান্নার সময় ধাতব খুন্তি দিয়ে খাবার নাড়াচাড়া করলেও সিসা বেরিয়ে আসার পরিমাণ বেড়েছে।</blockquote><h2><strong>চার</strong></h2><p>এতটা যদি পড়ে থাকেন, তাহলে এতক্ষণে বুঝে গেছেন, অ্যালুমিনিয়ামের পাত্র থেকে আমাদের দেহে সিসা আসে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, শরীরে সিসা ঢুকলে কী ক্ষতি হয়? সিসা শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় কোনো উপাদান নয়। বরং এটি বিষাক্ত। খাবার, পানি, ধুলাবালি কিংবা অন্য কোনো উৎস থেকে সিসা শরীরে ঢুকতে পারে। একবার শরীরে প্রবেশ করলে এর একটি অংশ রক্তের মাধ্যমে বিভিন্ন অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে। মস্তিষ্ক, যকৃৎ ও কিডনিতে পৌঁছাতে পারে। আবার হাড় ও দাঁতে জমেও থাকতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে শরীরে সিসা ঢুকলে তার প্রভাব আরও গুরুতর হয়। বিশেষ করে শিশুদের জন্য সিসা খুব বিপজ্জনক। শিশুদের মস্তিষ্ক তখনো বিকশিত হচ্ছে। এই সময়ে সিসার সংস্পর্শে এলে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হতে পারে। এতে বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতা কমে যেতে পারে, শেখার সমস্যা তৈরি হতে পারে, অসুবিধা হতে পারে মনোযোগ ধরে রাখতে। আচরণেও পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।</p><p>সমস্যা হলো, অল্প মাত্রার সিসার সংস্পর্শে এসেও শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, অথচ বাইরে থেকে সব সময় তা বোঝা যায় না। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা দেয় না স্পষ্ট কোনো উপসর্গ। ফলে পরিবার বুঝতেই পারে না, শিশুটি ধীরে ধীরে সিসার সংস্পর্শে আসছে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/cause/uefe9gj35x">মেঝেতে পড়ে যাওয়া খাবার তুলে খাবেন কি</a></aside><blockquote>একবার শরীরে প্রবেশ করলে সিসার একটি অংশ রক্তের মাধ্যমে বিভিন্ন অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে। মস্তিষ্ক, যকৃৎ ও কিডনিতে পৌঁছাতে পারে। আবার হাড় ও দাঁতে জমেও থাকতে পারে।</blockquote><p>সন্তানসম্ভবা নারীদের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি আছে। হাড়ে জমে থাকা সিসা গর্ভাবস্থায় আবার রক্তে চলে আসতে পারে। সেখান থেকে গর্ভের শিশুও আসতে পারে সিসার সংস্পর্শে। ফলে গর্ভের শিশুর বিকাশেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। প্রাপ্তবয়স্কদের শরীরেও সিসা ক্ষতি করতে পারে। দীর্ঘদিন সিসার সংস্পর্শে থাকলে উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির সমস্যা, রক্তস্বল্পতা এবং প্রজননস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার ঝুঁকি থাকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সিসা শরীরের একাধিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতি করে। হৃদ্‌রোগজনিত ঝুঁকির সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে।</p><p>এখানে একটি বিষয় মনে রাখা দরকার, সিসার কোনো নিরাপদ মাত্রা এখনো নির্ধারণ করা যায়নি। অর্থাৎ শরীরে সামান্য সিসা ঢুকলেই যে সঙ্গে সঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়বেন, তা নয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অল্প অল্প করে সিসা শরীরে জমতে থাকলেও ক্ষতি হতে পারে। তাই সিসার সংস্পর্শ যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা জরুরি।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/cause/knkswwwoik">তারিখ পার হয়ে যাওয়া খাবার খাব কি</a></aside><blockquote>প্রাপ্তবয়স্কদের শরীরেও সিসা ক্ষতি করতে পারে। দীর্ঘদিন সিসার সংস্পর্শে থাকলে উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির সমস্যা, রক্তস্বল্পতা এবং প্রজননস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার ঝুঁকি থাকে।</blockquote><h2><strong>বাংলাদেশের শিশুদের ঝুঁকি কতটা</strong></h2><p>গবেষকেরা বাংলাদেশের শিশুদের খাবারের অভ্যাস বিবেচনায় নিয়েও একটি হিসাব করেছেন। সাধারণত গ্রামাঞ্চলের শিশুরা প্রতিদিন কতটা ভাত খায়, তা ধরে তাঁরা অনুমান করেছেন, এ ধরনের দূষিত হাঁড়িতে রান্না করা ভাত খেলে একটি শিশু খাবারের মাধ্যমে কতটা সিসা গ্রহণ করতে পারে।</p><p>এই মডেলভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, এমন হাঁড়িতে রান্না করা ভাত খেলে কোনো শিশুর দৈনিক খাদ্য থেকে সিসা গ্রহণের পরিমাণ এফডিএ’র নির্ধারিত দৈনিক রেফারেন্স মাত্রার পাঁচ গুণেরও বেশি হতে পারে। তবে এই সংখ্যাটিকে গবেষণায় সরাসরি মেপে দেখা হয়নি। গবেষকেরা শিশুদের রক্ত পরীক্ষা করেননি। তাঁরা খাবারে পাওয়া সিসার পরিমাণ এবং শিশুদের সাধারণ ভাত খাওয়ার হিসাব ব্যবহার করে সম্ভাব্য সিসা গ্রহণের পরিমাণ অনুমান করেছেন। অর্থাৎ এটি একটি মডেলভিত্তিক হিসাব, সরাসরি স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফল নয়।</p><p>এমনকি এই গবেষণা থেকে বাংলাদেশে মোট সিসা-দূষণের কত অংশ রান্নার হাঁড়ি থেকে আসছে, সেটিও জানা যায়নি। সিসার সংস্পর্শের আরও অনেক উৎস আছে। তবে গবেষণাটি দেখিয়েছে, রান্নার পাত্রও এমন একটি উৎস হতে পারে, যেটি এত দিন যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। তাহলে কী করবেন?</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/311dpf4srt">অর্গানিক খাবার কি আসলেই বেশি পুষ্টিকর</a></aside><blockquote>গ্রামাঞ্চলের শিশুরা প্রতিদিন কতটা ভাত খায়, তা ধরে গবেষকেরা অনুমান করেছেন, এ ধরনের দূষিত হাঁড়িতে রান্না করা ভাত খেলে একটি শিশু খাবারের মাধ্যমে কতটা সিসা গ্রহণ করতে পারে।</blockquote><p>গবেষণার ফল জানার পর অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে, ঘরের অ্যালুমিনিয়ামের সব হাঁড়ি-পাতিল কি ফেলে দিতে হবে? উত্তর হলো, না। এই গবেষণা সব ধরনের অ্যালুমিনিয়ামের পাত্র পরীক্ষা করেনি। এটি মূলত স্ক্র্যাপ ধাতু দিয়ে তৈরি স্থানীয় পাত্র নিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে। তাই সব অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়িকে বিপজ্জনক বলা ঠিক হবে না।</p><p>গবেষকেরা পরামর্শ দিয়েছেন, খাবার রান্নার জন্য এমন পাত্র বেছে নিতে, যার নিরাপত্তা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য বা পরীক্ষা-সংক্রান্ত প্রমাণ আছে। সন্দেহজনক পাত্র ব্যবহার করতে হলে স্টিলের তারের জালি দিয়ে জোরে ঘষে পরিষ্কার করা থেকে বিরত থাকা উচিত। অম্লধর্মী খাবার রান্না এবং ধাতব খুন্তি দিয়ে জোরে নাড়াচাড়া করার বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে। তবে এসব সাবধানতা মেনে চললেই দূষিত পাত্র নিরাপদ হয়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। পাশাপাশি গবেষকেরা বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনকে অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়ি-পাতিলের জন্য স্পষ্ট নিরাপত্তামান নির্ধারণ ও কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন। স্ক্র্যাপ ধাতু থেকে তৈরি পাত্রের কাঁচামাল পরীক্ষা করা এবং বাজারে বিক্রির আগে তৈরি পণ্যে সিসা খাবারে মিশছে কি না, তা যাচাই করার ব্যবস্থা প্রয়োজন।</p><h4>সূত্র: আইসিডিডিআর,বি এবং টক্সিক কুকওয়্যার: লেড এক্সপোজার ফ্রম অ্যালুমিনিয়াম পটস ইন বাংলাদেশ, রিসার্চ গেট ডটকম</h4><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/dtz4uxnju9">অনেকে দুধজাত খাবার খেতে পারে না কেন </a></aside>

নভেম্বর ৭, ২০২৬
রান্নার হাঁড়ি পাতিলে বিষাক্ত সিসা, 'খোঁজখবর নেওয়ারও কেউ নেই'
রান্নার হাঁড়ি পাতিলে বিষাক্ত সিসা, 'খোঁজখবর নেওয়ারও কেউ নেই'

গবেষকরা বলছেন, এ ধরনের পাত্রে রান্না করা ভাত খেলে একটি শিশুর খাবারের মাধ্যমে দৈনিক সিসা গ্রহণের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে পাঁচ গুণেরও বেশি সিসা গ্রহণ করতে পারে। আইসিডিডিআরবি বলছে, সিসা একটি বিষাক্ত ধাতু, যা শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি করতে পারে।

নভেম্বর ৭, ২০২৬
বন্দীদশা থেকে যেভাবে ক্ষমতার কেন্দ্রে এলেন জিয়াউর রহমান
বন্দীদশা থেকে যেভাবে ক্ষমতার কেন্দ্রে এলেন জিয়াউর রহমান

১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর। অস্থির এক সময় পার করছিল বাংলাদেশ। ৬ই নভেম্বর সন্ধ্যার সময় ঢাকা সেনানিবাসে কিছু লিফলেট বিতরণ করা হয়। ঐ লিফলেট যারা পেয়েছিলেন তারা আঁচ করতে পারছিলেন যে রাতে 'কিছু একটা' ঘটতে যাচ্ছে।

নভেম্বর ৭, ২০২৬
বৃহৎ শিল্পের জন্য ল্যান্ড-ব্যাংক বানাতে চান শুভেন্দু, কিন্তু বাধা কোথায়?
বৃহৎ শিল্পের জন্য ল্যান্ড-ব্যাংক বানাতে চান শুভেন্দু, কিন্তু বাধা কোথায়?

পশ্চিমবঙ্গের নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শিল্পায়নে উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি জমি নীতি নিয়েও একাধিক সংস্কারের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তার মধ্যে অন্যতম আলোচিত হলো সরকারি উদ্যোগে ল্যান্ড ব্যাংক তৈরির ঘোষণা।

নভেম্বর ৭, ২০২৬
ঝগড়ার সময় গালাগালি কেন মা-বোনকে নিয়ে?
ঝগড়ার সময় গালাগালি কেন মা-বোনকে নিয়ে?

বিরোধ যখন দু'জন মানুষের মধ্যে, তখন অপমানের লক্ষ্যবস্তু হয়ে ওঠেন তাদের পরিবারের নারীরা কেন? এটি কি নিছকই প্রচলিত ভাষার অভ্যাস, নাকি এর পেছনে রয়েছে নারীকে ঘিরে সমাজের দীর্ঘদিনের কিছু ধারণা?

নভেম্বর ৭, ২০২৬
প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট অভিশংসনে  ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গৃহবন্দি
প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট অভিশংসনে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গৃহবন্দি

পেনিয়াকে অভিশংসনের প্রস্তাবের পক্ষে সিনেটের ৪৫ সদস্যের মধ্যে ৪৪ জন ভোট দেন। একজন আইনপ্রণেতা অনুপস্থিত ছিলেন। পরে সিনেটের প্রেসিডেন্ট বাসিলিও নুনিয়েজ বলেন, দায়িত্ব পালনে অবহেলার দায়ে পেনিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এরপর প্যারাগুয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পেদ্রো আলিয়ানা অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন।

নভেম্বর ৭, ২০২৬
পত্রিকা: 'হাসিনার দেশে ফেরাকে ঘিরে কলকাতায় জড়ো হচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতারা'
পত্রিকা: 'হাসিনার দেশে ফেরাকে ঘিরে কলকাতায় জড়ো হচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতারা'

শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতারা ভারতে ফিরছেন; বিমান চলাচল সংক্রান্ত বিভিন্ন মাশুল বৃদ্ধির পরিকল্পনায় বিমান ভাড়া বৃদ্ধির শঙ্কা এবং এনবিআরের ঢালাও ব্যাংক হিসাব জব্দে ব্যবসায়ী মহলে উৎকণ্ঠা - এ সংক্রান্ত খবর গুরুত্ব পেয়েছে শনিবার ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকায়।

নভেম্বর ৭, ২০২৬
মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর ঘিরে ভারত কেন আলোচনায়?
মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর ঘিরে ভারত কেন আলোচনায়?

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত মাসের শেষ সপ্তাহে টোকিও সফরে গিয়েছিলেন, সেখানে দুই দেশের যৌথ ঘোষণায় নতুন করে উঠে এসেছে জাপানের বিগ-বি প্রকল্প। এতে ভারতকে নিয়ে সংশয় কেন?

নভেম্বর ৭, ২০২৬
আলোচিত নারী নেতারা কেন এনসিপি ছাড়ছেন?
আলোচিত নারী নেতারা কেন এনসিপি ছাড়ছেন?

ডা. তাসনিম জারা এবং তাজনূভা জাবীন এর পর জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। এনসিপি থেকে আলোচিত নারী নেতাদের এই পদত্যাগের ঘটনা নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেন তারা দল থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, এই প্রশ্ন সামনে আসছে।

নভেম্বর ৬, ২০২৬
৭ নভেম্বর গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়: ভূমি প্রতিমন্ত্রী
৭ নভেম্বর গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়: ভূমি প্রতিমন্ত্রী

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, “স্বাধীনতার পর দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে শহীদ  জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করেন। এর মধ্য দিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হয়।”

নভেম্বর ৭, ২০২৬
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে চবিতে আলোচনা সভা
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে চবিতে আলোচনা সভা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নভেম্বর ৭, ২০২৬
রেকর্ডের পর রেকর্ড তাওহীদ হৃদয়ের ব্যাটে
রেকর্ডের পর রেকর্ড তাওহীদ হৃদয়ের ব্যাটে

খাদের কিনারা থেকে দলকে টেনে তুললেন তাওহিদ হৃদয়। ব্যাট হাতে একাই বদলে দিলেন ম্যাচের চিত্র। ক্যারিয়ারের মাত্র তৃতীয় টেস্ট খেলতে নেমে প্রথম সেঞ্চুরিকেই রূপ দিলেন ডাবল সেঞ্চুরিতে। তার অবিশ্বাস্য ২৪২ রানের অপরাজিত ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ছাড়িয়ে ৩০ রানের লিড নিয়েছে বাংলাদেশ।

নভেম্বর ৭, ২০২৬
শার্শায় অতিরিক্ত মদ্যপানে যুবকের মৃত্যু
শার্শায় অতিরিক্ত মদ্যপানে যুবকের মৃত্যু

যশোরের শার্শায় অতিরিক্ত মদ্যপানে অসুস্থ হয়ে আশা মিয়া (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে উপজেলার ইসলামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আশা মিয়া ওই গ্রামের লালটু মিয়ার ছেলে।

নভেম্বর ৭, ২০২৬
টেকনাফ পাহাড়ে সাঁড়াশি অভিযানে যৌথ বাহিনী
টেকনাফ পাহাড়ে সাঁড়াশি অভিযানে যৌথ বাহিনী

কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারীদের আস্তানা ঘিরে আবারও পাহাড়ে অভিযান চালিয়েছে যৌথ বাহিনী। কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তল্লাশি চালিয়েও তিনটি মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়নি। এসময় পাচারকারীদের আস্তানা থেকে রান্নার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন তৈজসপত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

নভেম্বর ৭, ২০২৬
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে নারীদের মিছিল
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে নারীদের মিছিল

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ানতোর বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে মিছিল করেছেন শত শত নারী। শনিবার এই বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

নভেম্বর ৭, ২০২৬
খুলনায় ফের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভাঙচুর-লুট
খুলনায় ফের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভাঙচুর-লুট

খুলনায় আবারও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুর পৌনে ১টার দিকে নগরীর ২৭৫ নম্বর খানজাহান আলী সড়কের নিউ অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশনে এ ঘটনা ঘটে। তবে এতে কেউ হতাহত হননি।

নভেম্বর ৭, ২০২৬
জুয়ার আসরে পুলিশের অভিযান, তথ্যদাতা সন্দেহে সাংবাদিককে মারধর
জুয়ার আসরে পুলিশের অভিযান, তথ্যদাতা সন্দেহে সাংবাদিককে মারধর

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে জুয়ার আসরে পুলিশের অভিযান নিয়ে তথ্য দেওয়ার সন্দেহে আব্দুল্লাহ ফারুক হোসেন নামে এক সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

নভেম্বর ৭, ২০২৬