জেলা

বরগুনায় এসএসসিতে মানবিক বিভাগে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া কথামনি ম্যাজিস্ট্রেট হতে চায়

অক্টোবর ৬, ২০২৬
বরগুনায় এসএসসিতে মানবিক বিভাগে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া কথামনি ম্যাজিস্ট্রেট হতে চায়
বরগুনায় এসএসসিতে মানবিক বিভাগে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া কথামনি ম্যাজিস্ট্রেট হতে চায়
শিখো–প্রথম আলো জিপিএ–৫ প্রাপ্ত কৃতী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উচ্ছ্বাসের সঙ্গে কথাগুলো বলছিল কথামনি হালদার। সংবর্ধনায় বাবা ও ছোটবোনকে নিয়ে এসেছিল সে।

Prothomalo

View more
সাইবার অপরাধ যেন রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার না হয়
সাইবার অপরাধ যেন রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার না হয়

<p>সাইবার অপরাধ দমনে শক্তিশালী আইন প্রয়োজন হলেও এর অস্পষ্ট ও বিস্তৃত বিধান যেন রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার না হয়। প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় এমন মত উঠে এসেছে। বক্তারা বলেন, অপরাধী দমনে রাষ্ট্রকে ক্ষমতা দিতে হবে, তবে সেই ক্ষমতার ওপর কার্যকর বিচারিক তদারকি ও সুনির্দিষ্ট সীমারেখা থাকতে হবে।</p><p> আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এবি পার্টি লইয়ার্স আয়োজিত ‘প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন: নিরাপত্তা বনাম হেনস্তা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এ কথাগুলো বলেন।</p><p>বক্তারা বলেন, হ্যাকিং, অনলাইন প্রতারণা, ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, ম্যালওয়্যার, র‌্যানসমওয়্যার, সাইবার হয়রানি ও শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তার মতো বাস্তব হুমকি মোকাবিলায় কার্যকর আইন দরকার; কিন্তু ‘গুজব’, ‘মিসইনফরমেশন’, ‘অপমান’ বা ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ বক্তব্যের মতো অস্পষ্ট সংজ্ঞার সুযোগে বৈধ রাজনৈতিক সমালোচনা বা জনস্বার্থের বক্তব্যকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার সুযোগ রাখা উচিত নয়।</p><p>ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, ২০২৬ সালের প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনটি ২০১৮ সালের আইন, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশ ও পরবর্তী সংশোধনীর ধারাবাহিকতার সর্বশেষ সংস্করণ। এতে ভুল থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের ক্ষমতা আরও কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠার ঝুঁকিও আছে। প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলোকে এমনভাবে করা উচিত নয়, যাতে তা পূর্ববর্তী ফ্যাসিস্ট সরকারের আইন ও চর্চার ধারাবাহিকতা হিসেবে বিবেচিত হয়।</p><p>এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, সাইবার অপরাধ দমনের নামে নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক ভিন্নমত দমন করা যাবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ইমোজি, রাজনৈতিক সমালোচনা কিংবা সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলাকে সাইবার অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার সুযোগ রাখা উচিত নয়।</p><p>আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, সাধারণ নাগরিক সরকারের সমালোচনা করতে পারবেন কি না, সন্ত্রাসকে সন্ত্রাস বললে তাঁদের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ হবে কি না, পুলিশ আসামি ছেড়ে দিয়েছে বললে পুলিশের মানহানি হবে কি না, এসব প্রশ্নেরও স্পষ্ট উত্তর থাকতে হবে।</p><p>আগের সরকার ডিজিটাল আইন নিয়ে যে ভুল করেছিল, বর্তমান সরকার যেন একই পথে না হাঁটে—এমন আহ্বান জানিয়ে এবি পার্টির এই নেতা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রণীত সাইবার অধ্যাদেশে থাকা ইতিবাচক বিষয় বাদ দিয়ে আবার কেন সংশোধন করা হচ্ছে, সরকারকে তার ব্যাখ্যা দিতে হবে।</p><p>প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর খসড়া নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি), ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ননপ্রফিট ল (আইসিএনএল)–সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও শ্রেণি-পেশার মানুষের উদ্বেগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী সাইবার সিকিউরিটি আইন প্রয়োজন। হ্যাকিং, ফাইন্যান্সিয়াল ফ্রড, আইডেন্টিটি থেফট এবং ক্রিটিক্যাল ইনফ্রাস্ট্রাকচারের ওপর সাইবার হামলার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে কঠোর ব্যবস্থা নিতেই হবে। তবে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে নাগরিকের স্বাধীনতাকে অনিরাপদ করে তোলা যাবে না।</p><h3>সরকারের প্রতি পাঁচ আহ্বান </h3><p>সাইবার সুরক্ষা আইন চূড়ান্ত করার আগে সরকারের প্রতি পাঁচটি আহ্বান জানান আবদুল্লাহ আল মামুন। এগুলো হলো ব্যাপক ও অর্থবহ জনপরামর্শ করা; ‘গুজব’, ‘ভুল তথ্য’ ও ‘রাষ্ট্রবিরোধী’র মতো অস্পষ্ট শব্দের অপব্যবহার বন্ধ করা; কনটেন্ট বন্ধ বা সরানোর ক্ষেত্রে আদালতের অনুমোদন ও কার্যকর বিচারিক পর্যালোচনা নিশ্চিত করা; সরকারের সমালোচনা, ভিন্নমত, সাংবাদিকতা ও জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশকে সাইবার অপরাধ গণ্য না করা এবং নাগরিকের ডিজিটাল অধিকার রক্ষায় স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।</p><p>মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক যোবায়ের আহমেদ ভূইয়া, সঞ্চালনা করেন আব্বাস ইসলাম খান। স্বাগত বক্তব্য দেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন।</p>

অক্টোবর ৬, ২০২৬
প্রাথমিকের শিক্ষক পদে যোগ দেননি ৯১৮ জন ও অন্যান্য খবর
প্রাথমিকের শিক্ষক পদে যোগ দেননি ৯১৮ জন ও অন্যান্য খবর

প্রাথমিকের শিক্ষক পদে যোগ দেননি ৯১৮ জন ও অন্যান্য খবর

অক্টোবর ৬, ২০২৬
শুধু পড়াশোনা নয়, যেখানে শিক্ষার্থীরা নিচ্ছে ভবিষ্যতের প্রস্তুতি | স্টেপিং-স্টোন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল বাংলাদেশ
শুধু পড়াশোনা নয়, যেখানে শিক্ষার্থীরা নিচ্ছে ভবিষ্যতের প্রস্তুতি | স্টেপিং-স্টোন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল বাংলাদেশ

মানসম্মত ও সাশ্রয়ী শিক্ষার বিকল্প পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে ২০২০ সালে যাত্রা শুরু করে স্টেপিং-স্টোন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল বাংলাদেশ

অক্টোবর ৬, ২০২৬
প্রেম করছি না, আমি সুপার সিঙ্গেল: কনা
প্রেম করছি না, আমি সুপার সিঙ্গেল: কনা

<p>প্রেম করছেন? সংগীতশিল্পী দিলশাদ নাহার কনা জানালেন, তিনি প্রেম করছেন না। তিনি ‘সুপার সিঙ্গেল’। সম্প্রতি প্রথম আলো ডটকমের নিয়মিত আয়োজন ‘মেরিল ক্যাফে লাইভ’–এ এক প্রশ্নের জবাবে প্রেমের গুঞ্জন ওড়ালেন ‘দুষ্টু কোকিল’ গায়িকা।</p><p>অনুষ্ঠানের ‘হিউমার বনাম রিউমার’ পর্বে উপস্থাপক মৌসুমী মৌ জানতে চান, কনা প্রেম করছেন কি না?—উত্তরে তিনি বলেন, ‘নাহ্‌। আমি প্রেম করছি না। এটা রিউমার। আমি সুপার সিঙ্গেল।’</p><p>তবে ভবিষ্যতে প্রেমের সম্ভাবনাকে একেবারে উড়িয়ে দেননি কনা। কেউ তাঁকে পছন্দ করলে বিষয়টি সম্পর্কে গড়াতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, হতে পারে তো অবশ্যই।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-01-04/wnpxeenk/60887110514772457937617426067559076875951477n.jpg"><figcaption>সংগীতশিল্পী কনা</figcaption></figure><aside><a href="https://www.prothomalo.com/entertainment/d6197p9s34">বিবাহবিচ্ছেদের ঘোষণা দিলেন গায়িকা কনা</a></aside><p>কেমন ছেলে পছন্দ—এমন প্রশ্নের উত্তরে নির্দিষ্ট কোনো তালিকা দেননি কনা। বরং সম্পর্কের ক্ষেত্রে বোঝাপড়া ও মানিয়ে নেওয়াকে গুরুত্ব দিয়েছেন। </p><p>কনা বলেন, তিনি অনেক কিছু সহ্য করতে পারেন। অনেক বেশি মানিয়ে নিতে পারেন। তাঁর বন্ধুরাও তাঁকে বলেন, তিনি এত বেশি বোঝেন বলেই অনেক সময় ঝামেলায় পড়েন। </p><p>কনার ভাষায়, ‘আমি তো এ রকমই। আমি মানুষটা এ রকমই। আমি এ রকম একটা মানুষ চাই, যে আমাকে ভালোবাসবে। আমি তাকে যে রকম ভালোবাসব।’</p><p>জীবনসঙ্গীর কাছে তাঁর চাওয়াটা খুব সহজ। মানুষটি যেন তাঁর সঙ্গে থাকতে চান। কনা বলেন, ‘আমি চাই যে মানুষটা আমার সঙ্গে থাকতে চাইবে। আমি তোমার সঙ্গেই থাকব। এটুকু হয়ে গেলে বাকিটা তো...।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-12-04/n6hyn8i7/konasinger176011079137404028766081447711478610729.jpg"><figcaption>সংগীতশিল্পী কনা</figcaption></figure><p>দুজন মানুষ একসঙ্গে থাকলে কিছুটা ত্যাগ ও সমঝোতা থাকবেই—এমনটাই মনে করেন কনা। তাঁর ভাষায়, ‘স্যাক্রিফাইস, কম্প্রোমাইজ হলে দুনিয়াতে কিছু নাই। দুজন একসঙ্গে থাকতে গেলে ওটা ম্যাচ হয়েই যাবে।’</p><p>২০১৯ সালের এপ্রিলে গোলাম মোহাম্মাদ ইফতেখার গহিনকে বিয়ে করেন কনা। প্রায় ছয় বছর সংসারের পর ২০২৫ সালের ১৬ জুন তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান কনা নিজেই। সেখানে তিনি জানান, সিদ্ধান্তটি দুজনের জন্যই কঠিন ছিল। তবে পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে তাঁরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-01-26/t3fku2fb/konasinger176934215838178412008174448051478610729.jpg"><figcaption>সংগীতশিল্পী কনা</figcaption></figure><p>বিচ্ছেদের খবর প্রকাশের পর কনাকে ঘিরে নতুন সম্পর্কের গুঞ্জনও ছড়ায়। বছরের শেষ দিকে মেহেদিরাঙা হাতের একটি ছবি প্রকাশের পর বিয়ের গুঞ্জন নতুন করে আলোচনায় আসে। পরে জানা যায়, ছবিটি কনার ‘মেহেন্দি’ গানের শুটিংয়ের অংশ ছিল। ছবিটির সঙ্গে তাঁর বিয়ের কোনো সম্পর্ক ছিল না।</p><p>এর মধ্যে প্রকাশিত হয় তাঁর ও সৈয়দ অমির দ্বৈত গান ‘আমপাতা জোড়া জোড়া’।</p><p>গানটির কথা লিখেছেন স্নেহাশীষ ঘোষ। এরপর কনা ও এলিটা করিমের দ্বৈত গান ‘বন্ধু প্রিয়’ প্রকাশিত হয়। সোহেল আরমানের কথায় গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন বাপ্পা মজুমদার।</p>

অক্টোবর ৬, ২০২৬
বস্ত্র খাতের সমস্যা সমাধানে বিরোধী দলের সহযোগিতা চাইলেন বিটিএমএর নেতারা
বস্ত্র খাতের সমস্যা সমাধানে বিরোধী দলের সহযোগিতা চাইলেন বিটিএমএর নেতারা

<p>বস্ত্র খাতের সমস্যা সমাধানে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের কাছে নীতিসহায়তার জন্য সহযোগিতা চাইলেন বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর শীর্ষ নেতারা।</p><p> বিরোধী দলের নেতার আমন্ত্রণে আজ মঙ্গলবার মিন্টো রোডে তাঁর সরকারি বাসভবনে বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করে। বিটিএমএর পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।</p><p> বিরোধী দলের নেতার কাছে বস্ত্র খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, সম্ভাবনা ও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে বিটিএমএর প্রতিনিধিদল। তারা বিরোধী দলের কাছে রপ্তানিমুখী শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল নিশ্চিতকরণ, বস্ত্র খাতের সক্ষমতা সংরক্ষণ, স্থানীয় মূল্য সংযোজন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সুরক্ষা, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও সংরক্ষণ, সরকারি রাজস্ব সুরক্ষা এবং বন্ড সুবিধার অপব্যবহার ও অবৈধ আমদানি প্রতিরোধ করতে প্রয়োজনীয় নীতিসহায়তার জন্য সহযোগিতা চায়।</p><p>সভার শুরুতে বিরোধী দলের নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান জানান, দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে বস্ত্র খাত সম্পর্কিত সব ধরনের উদ্যোগ ও নীতিসহায়তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদানে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন তিনি।</p><p>শফিকুর রহমান আরও বলেন, সমন্বিত ও ভারসাম্যপূর্ণ নীতির মাধ্যমে বস্ত্র খাতকে শক্তিশালী করা এবং দেশের রপ্তানি সক্ষমতা ও শিল্পভিত্তি আরও দৃঢ করা সম্ভব। বিটিএমএর প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করবেন বলে জানান তিনি।</p><p>সভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বস্ত্র খাতের প্রণোদনা, গ্যাস ও বিদ্যুৎ, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ–পরবর্তী চ্যালেঞ্জ, কর ও শুল্ক এবং বিভিন্ন নীতিগত জটিলতা নিয়ে আলোচনা হয়।</p><p>বিটিএমএর সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম বলেন, বস্ত্র খাতের সমস্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সরকারের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে তাঁরা একাধিকবার বৈঠক করেছেন। কিছু সমস্যা ইতিমধ্যে সমাধান হয়েছে। অন্য সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।</p><p>সভায় বিটিএমএর প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন সাবেক সহসভাপতি হোসেন মেহমুদ, বর্তমান পর্ষদের পরিচালক শাহিদ আলম, ইশতিয়াক আহমেদ, সাবেক পরিচালক মোশারফ হোসেন প্রমুখ। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুর মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, মাইশা গ্রুপে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক ভূঁইয়া প্রমুখ।</p>

অক্টোবর ৬, ২০২৬
জন্মনিবন্ধন প্রক্রিয়া হতে হবে সহজ, নির্ভুল
জন্মনিবন্ধন প্রক্রিয়া হতে হবে সহজ, নির্ভুল

<p>জন্মনিবন্ধনের মাধ্যমে একজন নাগরিকের আইনি পরিচয়ের সূচনা হয়। জন্মনিবন্ধনের সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সুরক্ষা, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, বিবাহনিবন্ধন, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ ১৮টি নাগরিক সেবা ও অধিকার যুক্ত। অন্যদিকে উত্তরাধিকার, সরকারি ভাতাসহ বিভিন্ন অধিকার সুরক্ষার জন্য প্রয়োজন মৃত্যুনিবন্ধন। তাই যথাযথ জাতীয় পরিকল্পনার স্বার্থে জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন নির্ভুল হতে হবে। নিবন্ধনপ্রক্রিয়া এমন হতে হবে, যেন নাগরিকেরা সহজেই সেবা পেতে পারেন।</p><p> আজ মঙ্গলবার জাতীয় জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথা বলেন। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘নির্ভুল নিবন্ধন, নিশ্চিত সুশাসন’। রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়, জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন।</p><p>অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, নির্ভুল জন্মনিবন্ধন না হলে একটি এলাকায় কত শিশু জন্ম নিচ্ছে, কতটি স্কুল-হাসপাতাল প্রয়োজন কিংবা কত মানুষকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনা দরকার, সরকারের পক্ষে এসব পরিকল্পনা করা সম্ভব নয়। অন্যদিকে নির্ভুল মৃত্যুনিবন্ধনের মাধ্যমে বোঝা যায় কোন এলাকায় কোন কোন রোগের ঝুঁকি বেশি এবং সেসব রোগ প্রতিরোধে কী কী পরিকল্পনা নেওয়া প্রয়োজন।</p><p>অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান বলেন, ‘দেশের মোট জনসংখ্যা এবং জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনের ডেটাবেজে থাকা সংখ্যার মধ্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে। তাই প্রশ্ন ওঠে, আমরা যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছি, তা আসলে কতটা কার্যকর হচ্ছে। ব্রিটিশ আমলে ১৮৭৩ সালে জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। বাস্তবতা হলো, প্রায় দেড় শ বছরেও আমরা জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনের কাজটি পুরোপুরি নির্ভুলভাবে করতে পারিনি। এটাই আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনের প্রক্রিয়াকে আরও নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য করতে হবে।’</p><p>বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ২৫ কোটি জন্মনিবন্ধন রয়েছে। অথচ জনশুমারির তথ্য অনুযায়ী, দেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি। মূলত দ্বৈত নিবন্ধনের কারণেই এই অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে। জনসংখ্যার অনুপাতে খাদ্যচাহিদা নির্ধারণসহ বিভিন্ন জাতীয় পরিকল্পনা করতে সঠিক নিবন্ধন জরুরি। তিনি নাগরিকদের সময়মতো জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন করার বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।</p><p>সভাপতির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের যথাযথ প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেন। তিনি জানান, সরকার ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডি, ওয়ান ওয়ালেট’ বাস্তবায়নের যে উদ্যোগ নিয়েছে, সেখানে জন্মনিবন্ধনও সম্পৃক্ত। ফলে ডিজিটাল সুশাসনের সুবিধা পেতে নাগরিকদের জন্মনিবন্ধন নির্ভুল হওয়া আবশ্যক।</p><p>ডেটাবেজ নির্ভুল হওয়া কতটা জরুরি, সেই গুরুত্ব তুলে ধরে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা বলেন, নাগরিকেরা কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেলে কেবল সিস্টেম তৈরি করে কোনো লাভ নেই; সিস্টেমকে হতে হবে নাগরিকবান্ধব।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/vzv3oobfgc">জন্মসনদে কারও নাম ‘লক্জ্ক্’, কারও ‘ক্‌জ্‌ক্‌ল্‌জ্‌’, কারও ‘দতককা’, ভোগান্তি নাগরিকের </a></aside><p>মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) ফারাহ শাম্মী বলেন, এলাকায় কতটি স্কুল-হাসপাতাল প্রয়োজন এবং কোন এলাকায় কী ধরনের রোগের ঝুঁকি বেশি, এসব তথ্য জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনের মাধ্যমেই সুস্পষ্টভাবে বোঝা যায়। ফলে জাতীয় পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য যথাযথ নিবন্ধন প্রয়োজন।</p><p>সূচনা বক্তব্যে রেজিস্ট্রার জেনারেল আবু নছর মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, নির্ভুল জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনের ক্ষেত্রে জনবলসংকট একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া প্রধান কার্যালয়ে জায়গা–সংকট ও লজিস্টিক সহায়তারও ঘাটতি রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে গিয়ে অতীতে ভুয়া জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনের ঘটনাও ঘটেছে। প্রতিটি ইউনিয়নে ২০ থেকে ২৫ জন উদ্যোক্তা সম্পৃক্ত করা গেলে জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন, পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্রের আবেদন সহজ হবে এবং নাগরিকদের ভোগান্তিও কমবে।</p><p>অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধিদলের উন্নয়ন সহযোগিতা বিভাগের প্রধান মিখাল ক্রেজা বলেন, অনেক নাগরিকের সরাসরি ডিজিটাল সেবায় প্রবেশাধিকার নেই। ফলে তাঁদের পরিবারের সদস্য বা অন্যদের সহায়তা নিতে হয়। এমন একটি ডিজিটাল ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যা নাগরিকদের ক্ষমতায়িত করবে এবং পরনির্ভরশীলতা কমাবে।</p><p>বাংলাদেশে ইউনিসেফের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ নির্ভুল জন্মনিবন্ধনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, কোথায় নতুন বিদ্যালয় হবে, কোথায় স্বাস্থ্যসেবা বেশি প্রয়োজন, কত টিকা সংগ্রহ করতে হবে কিংবা জনগোষ্ঠীর জন্য কতটা সামাজিক সুরক্ষা দরকার—এসব পরিকল্পনার মূল ভিত্তিই হলো নির্ভুল জন্মনিবন্ধন। তাই প্রতিটি পরিবারের জন্য জন্মনিবন্ধন প্রক্রিয়াকে সহজ, সাশ্রয়ী ও সময়োপযোগী করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।</p><p>অনুষ্ঠানে নির্ভুল জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন নিশ্চিত করা এবং সনদ সংশোধনের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তিতে বিশেষ অবদানের জন্য দেশের ১৩টি নিবন্ধন কার্যালয় ও চারজন কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করা হয়।</p>

অক্টোবর ৬, ২০২৬
এবার বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতা ঝোলানো ছবি ফেসবুকে, ক্ষোভ
এবার বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতা ঝোলানো ছবি ফেসবুকে, ক্ষোভ

<p>ঝিনাইদহ শহরে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতা ঝোলানো অবস্থার একটি ছবি আজ মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে কে বা কারা জুতা ঝুলিয়েছে, তা জানা যায়নি। এ ছাড়া জুতা ঝোলানোর সময় দেখেছেন, এমন কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।</p><p> শহরের প্রবেশদ্বার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নামে নির্মিত চত্বরে এই ভাস্কর্য রয়েছে। এ ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।</p><p> ঘটনাটি জানার পর বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামালুজ্জামান লোক পাঠিয়ে সেটা নামিয়েছেন বলে জানান। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি দেখার পর তিনি শামীম হোসেন নামের একজনকে সেখানে পাঠান। শামীম সেখানে গিয়ে জুতা নামিয়ে এসেছেন।</p><p>এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কামালুজ্জামান বলেন, এটা খুবই দুঃখজনক। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।</p><p>স্থানীয় একাধিক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সকালে তাঁরা দোকান খুলতে এসে বিষয়টি দেখেন। তখনই এ নিয়ে আলোচনা–সমালোচনা শুরু হয়। কিছুক্ষণ পরই একজন এসে জুতাটি নামিয়ে ফেলেন। এর বেশি কেউ বলতে চাননি।</p><p>কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ঝিনাইদহ তথা গোটা দেশের গর্ব। মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন দিয়ে তিনি বীরত্বপূর্ণ ইতিহাস রচনা করেছেন। এর আগেও তাঁর নামে নির্মিত স্থাপনা ভেঙে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। আর আজকের এ ঘটনাও অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। যারা এ ধরনের জঘন্য কাজ করেছে, তদন্ত করে দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তাঁরা।</p><p>ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন জানান, বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। ইতিমধ্যে এ নিয়ে তাঁরা বৈঠকে বসেছেন। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। যারাই জড়িত থাকুক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি জানান।</p><p>ঝিনাইদহ-ঢাকা মহাসড়কের মাঝখানে স্থাপন করা হয় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের এই ভাস্কর্য। ২০১৭ সালের ২৬ মার্চ তৎকালীন জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ ও পৌরসভার মেয়র সাইদুল করিম ভাস্কর্যের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে নির্মাণাধীন অবস্থায় থমকে যায় ভাস্কর্য তৈরির পুরো প্রক্রিয়া।</p><p>ভাস্কর্যটি পূর্ণাঙ্গ রূপ না পাওয়ায় অযত্ন–অবহেলায় পড়ে থাকে দীর্ঘদিন। ভাস্কর্যের বেদির ওপরে ফেলা হতো ময়লা–আবর্জনা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের পতনের পর ভাস্কর্যটি দুই দফা ভাঙচুর করা হয়। গত জুলাই মাসে এটি অপসারণের জন্য ভাঙচুর করা হয়। কিন্তু ওই ভাঙচুরের দায় কেউ নেয়নি। বিষয়টি নিয়ে খবর প্রকাশিত হলে ভাঙচুর বন্ধ হয়।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/jxbu4h7oa6">ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য পুনর্নির্মাণের দাবি নাগরিক প্রতিনিধিদলের</a></aside>

অক্টোবর ৬, ২০২৬
টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা
টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা

অনুষ্ঠানে টেকসই, জলবায়ু–সহিষ্ণু পানি ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত পরিকল্পনার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকলের কাজের মধ্যে সমন্বয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

অক্টোবর ৬, ২০২৬
বাংলাদেশে জার্মানির লুফথানসার বিনিয়োগ চায় সরকার
বাংলাদেশে জার্মানির লুফথানসার বিনিয়োগ চায় সরকার

<p>দেশকে এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে জার্মানভিত্তিক উড়োজাহাজ সংস্থা লুফথানসার কাছ থেকে রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও সংস্কারকেন্দ্র (এমআরও) স্থাপনে বিনিয়োগ চায় সরকার। একই সঙ্গে দেশে দক্ষ জনবল তৈরিতেও জার্মানির এই সংস্থার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ।</p><p> আজ মঙ্গলবার বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত রুডিগার লটজের নেতৃত্বে লুফথানসার একটি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয় বলে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।</p><p>সাক্ষাৎকালে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বাংলাদেশ ও জার্মানির বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতে বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। লুফথানসাকে বিশ্বের অন্যতম প্রখ্যাত এভিয়েশন প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের এভিয়েশন হাবের অগ্রযাত্রায় একটি পূর্ণাঙ্গ এমআরও স্থাপনে লুফথানসার বড় বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া দেশেই দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ক্ষেত্রেও লুফথানসার কারিগরি সহযোগিতা চান মন্ত্রী।</p><p>বৈঠকে বাংলাদেশে আসা কার্গো ও ডাকের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেওয়া ‘উচ্চ ঝুঁকির কার্গো ও ডাক’ (এইচআরসিএম) মর্যাদা প্রত্যাহারের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। ২০১৭ সাল থেকে এই মর্যাদা বহাল রয়েছে। এ বিষয়ে বিমানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নিরাপত্তার বিষয়ে সব পর্যবেক্ষণ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া নিরাপত্তা নিরীক্ষায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯০ শতাংশের বেশি নম্বর পেয়েছে। এ পরিস্থিতিতে এইচআরসিএম মর্যাদা প্রত্যাহারে জার্মানির সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ।</p><p>বৈঠকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর আধুনিকায়নের বিষয়েও আলোচনা হয়। মন্ত্রী বলেন, বিমানের উন্নয়নে ১০টি এয়ারবাস কেনার চুক্তি সইয়ের প্রক্রিয়া চলছে। তবে এসব উড়োজাহাজের সরবরাহের সময় এগিয়ে আনা জরুরি। ২০৩০ সালের আগেই এয়ারবাসের উড়োজাহাজগুলো সরবরাহ শুরু করার ওপর জোর দেন তিনি।</p><p>সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ বাড়ানো এবং পর্যটন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও উভয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করেছে।</p>

অক্টোবর ৬, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন