লাতিন আমেরিকা

বিজয়ী ভাষণে লুলা বললেন, ব্রাজিলের গণতন্ত্র সুরক্ষিত হয়েছে

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
বিজয়ী ভাষণে লুলা বললেন, ব্রাজিলের গণতন্ত্র সুরক্ষিত হয়েছে
বিজয়ী ভাষণে লুলা বললেন, ব্রাজিলের গণতন্ত্র সুরক্ষিত হয়েছে
নির্বাচনে লুলা নাটকীয় জয় পেয়েছেন। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে তিনি কট্টর ডানপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোকে সামান্য ব্যবধানে হারিয়েছেন।

Prothomalo

View more
বেনামে কোম্পানির মালিক হওয়া যাবে না, সংশোধন হচ্ছে আইন
বেনামে কোম্পানির মালিক হওয়া যাবে না, সংশোধন হচ্ছে আইন

<p>আন্তর্জাতিক গেটওয়ে কোম্পানি ইন্টারন্যাশনাল ভয়েস কে টেল লিমিটেডের প্রায় ১২৬ কোটি টাকার টেলিযোগাযোগ বিল বকেয়া ছিল। কোম্পানিটির মালিকানা হস্তান্তর দেখানো হয় এমন তিন ব্যক্তির নামে, যাঁরা বাস্তবে এ বিষয়ে কিছু জানতেন না। তাঁদেরই একজন সাখাওয়াত হোসেন।</p><p> ২০২৫ সালের ১৮ মার্চ হাইকোর্ট বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) ৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত করে প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করার নির্দেশ দেন। পরে তদন্তে ওঠে আসে, ঘটনার নেপথ্যে ছিল আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। কোম্পানির প্রকৃত মালিক কে, তা শনাক্ত করার আইনি ব্যবস্থা না থাকায় এমন ঘটনা ঘটার সুযোগ তৈরি হয়েছিল।</p><p>একইভাবে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সরাসরি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শেয়ার ধারণ করেছিলেন। ইসলামী ব্যাংকে তাঁদের সম্মিলিত শেয়ার ছিল প্রায় ৩০ শতাংশ এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে প্রায় ২২ শতাংশ। ব্যাংকগুলোর পর্ষদে এস আলমের জামাতা বেলাল আহমেদসহ তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্য ছিলেন। বেশির ভাগ শেয়ার নামে-বেনামে নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর ব্যাংকগুলো থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণও বের করে নেয় এস আলম গ্রুপ, যা এখনো উদ্ধার করা যায়নি।</p><p>বেনামি শেয়ারের মালিকানা নিয়ে দেশের বাইরে যুক্তরাজ্যেও একটি বহুল আলোচিত ঘটনা রয়েছে। দেশটির আদালতে এটি অ্যান্ড্রু রুহান ও অ্যান্থনি স্টিভেন্স মামলা নামে পরিচিত। ঘটনাটি ২০০৪-২০০৫ সালের। দেশটির ব্যবসায়ী অ্যান্ড্রু রুহান কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লন্ডনের তিনটি হোটেল কেনেন। হোটেলগুলো অ্যান্থনি স্টিভেন্সের মালিকানাধীন বলে সবাই জানতেন। পরে আদালতে প্রমাণিত হয়, সেগুলোর প্রকৃত মালিক অ্যান্ড্রু রুহান। হোটেলগুলোর কেনাবেচা থেকে রুহান বিপুল মুনাফা করেন। আদালত তাঁর গোপনে অর্জিত মুনাফার হিসাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।</p><blockquote>* কাগজে শেয়ারের মালিক একজন, কিন্তু কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ অন্যজনের হাতে—এমন গোপন মালিকানা শনাক্ত করতে আইনে নতুন ধারা যুক্ত হচ্ছে।* ৪০টি ধারায় পরিবর্তন এনে ৩৫ বছর পর কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ আইন সংশোধনের উদ্যোগ।</blockquote><p>আন্তর্জাতিকভাবে এ ধরনের ঘটনাকে বলা হয় বেনামি বা মনোনীত শেয়ারধারীর আড়ালে প্রকৃত মালিকানা। এ ধরনের ঘটনা দেশে আর ঘটতে দিতে চায় না সরকার। কাগজে শেয়ারের মালিক একজন, কিন্তু কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ অন্যজনের হাতে—এমন গোপন মালিকানা শনাক্ত করতে তাই কোম্পানি আইনে নতুন ধারা যুক্ত হচ্ছে।</p><p>এটিসহ ৪০টি ধারায় পরিবর্তন এনে ৩৫ বছর পর কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। আইন প্রণয়নের পর দুবার ছোট সংশোধন হয়েছে। বড় ধরনের সংশোধন হচ্ছে এবারই। সংশোধনীর প্রাথমিক খসড়ায় এবার কোম্পানির প্রকৃত মালিকানা প্রকাশ, ডিজিটাল ব্যবস্থায় নিবন্ধন ও নথি সংরক্ষণ এবং ব্যবসা পরিচালনার প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।</p><p>খসড়াটি এখন চূড়ান্ত হওয়ার পর্যায়ে রয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে আন্তমন্ত্রণালয়ের বৈঠক হওয়ার কথা আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে। এরপর এটি মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেলে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে তা সংসদে উত্থাপন করা হবে। এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর খসড়াটি নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।</p><p>বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, আইন সংশোধন হলে কাগজে-কলমে কোম্পানির শেয়ারের মালিক একজন, কিন্তু বাস্তবে অন্যজন; এমন পরিস্থিতি আর থাকবে না। অর্থাৎ প্রকৃত মালিকের নাম, পরিচয় ও প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশ করতে হবে, এমন ধারা সংযোজন করা হচ্ছে কোম্পানি আইনে। আর কোম্পানির সংঘস্মারক সংশোধনের এখতিয়ার আসছে আদালতের বদলে যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধকের (আরজেএসসি) কাছে।</p><p>কোম্পানির প্রকৃত মালিকানা শনাক্ত করা, ডিজিটাল ব্যবস্থায় নিবন্ধন ও নথি সংরক্ষণ এবং ব্যবসা পরিচালনার প্রশাসনিক জটিলতা কমানোই সংশোধনীর প্রধান লক্ষ্য। এবারের সংশোধনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে বাণিজ্য সহজকীকরণ, সেবাগুলোকে ডিজিটাল ব্যবস্থায় রূপান্তর ও স্বচ্ছতা। তার অংশ হিসেবেই কোম্পানির প্রকৃত মালিকানা শনাক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।</p><p>নতুনভাবে ৩৪(ক) ধারা যুক্ত করে বলা হয়, শুধু কাগজে-কলমে শেয়ারধারী ব্যক্তিই নন, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোম্পানির মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তিকেও প্রকৃত মালিক হিসেবে গণ্য করা হবে। মালিকানা পরিবর্তন হলে ৩০ দিনের মধ্যে নতুন ঘোষণা দিতে হবে এবং নির্ধারিত ফরমে কোম্পানিকে এসব তথ্য জমা দিতে হবে নিবন্ধকের কাছে। প্রকৃত মালিকানার ঘোষণা না দিলে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে। ব্যর্থতা অব্যাহত থাকলে প্রতিদিন বাড়তি জরিমানা গুনতে হবে ১০০ টাকা করে।</p><p>নতুন এ ধারা কার্যকর হলে অন্যের নামে শেয়ার রেখে প্রকৃত মালিকানা গোপন করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। তাঁদের মতে, অর্থ পাচার ও গোপন নিয়ন্ত্রণ শনাক্ত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্যও কোম্পানির মালিকানা–সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া সহজ হবে।</p><h3>আদালতের বদলে আরজেএসসির নিবন্ধক </h3><p>বর্তমানে যেসব ক্ষেত্রে সংঘস্মারক সংশোধনে আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন হয়, সেসব ক্ষেত্রে নিবন্ধকের অনুমোদনের ব্যবস্থা আনার কথা বলা হয়েছে। কোম্পানির উদ্দেশ্য পরিবর্তন, ব্যবসার ক্ষেত্র সম্প্রসারণ, নতুন ব্যবসা যুক্ত করা বা কোনো উদ্যোগ বিক্রি বা একীভূত হওয়ার মতো বিষয়ে আদালতের পরিবর্তে সিদ্ধান্ত দেবেন নিবন্ধক। বলা হয়েছে, ব্যবসা সহজ করা এবং সংঘস্মারক সংশোধনের জটিলতা কমাতেই এ পরিবর্তন করা উচিত।</p><p>তবে এ ক্ষেত্রে কোম্পানির সদস্য, ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন এমন ব্যক্তি এবং পাওনাদারদের স্বার্থরক্ষার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পাওনা পরিশোধ বা পাওনাদারকে নিরাপত্তা দেওয়ার বিধানও প্রস্তাব করা হয়েছে। নিবন্ধকের সিদ্ধান্তে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে নির্ধারিত মাশুল দিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে আপিল করতে পারবেন। অর্থাৎ আদালতের পরিবর্তে প্রশাসনিক অনুমোদন ও আপিলের কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সময় কমানো সম্ভব হবে।</p><aside><cite>ফজলুল হক, প্রশাসক, এফবিসিসিআই</cite>কোম্পানি আইনকে যুগোপযোগী করা আরও আগেই দরকার ছিল। এক যুগের বেশি সময় ধরে এ নিয়ে কাজ চলছে। তবে এবার যে গতিতে এগোচ্ছে, আইন সংশোধন হবেই।</aside><p>এদিকে কোম্পানি নিবন্ধন ও নথি সংরক্ষণে কাগজের ওপর নির্ভরতা কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। কাগজের পাশাপাশি ইলেকট্রনিক মাধ্যমে রেকর্ড, নোটিশ, চুক্তি, ফরম সংরক্ষণ করতে হবে।</p><p>আবার শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রেও ডিজিটাল যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। বর্তমানে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় হস্তান্তরকারীর স্বাক্ষর যাচাইয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। নতুন খসড়ায় সশরীর উপস্থিতির পাশাপাশি ইলেকট্রনিক মাধ্যমেও সত্যতা নিশ্চিত করতে হবে। বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে দূতাবাসের অনুমোদিত কর্মকর্তার মাধ্যমে নথি সত্যায়নের ব্যবস্থাও বহাল রাখার প্রস্তাব রয়েছে।</p><h3>জরিমানা বাড়বে, সময়সীমা ৩০ দিন </h3><p>কিছু ক্ষেত্রে আইন অমান্যের জরিমানা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদ্যমান কোম্পানির নামের সঙ্গে বিভ্রান্তিকরভাবে কোনো কোম্পানির নাম মিলে গেলে নিবন্ধন পাবে না নতুন কোম্পানি। যদি নিবন্ধিত হয়েই যায়, কোম্পানিকে নাম পরিবর্তনের নির্দেশ দেবে সরকার। এ নির্দেশ অমান্য করলে বর্তমানে প্রতিদিন কোম্পানির জন্য ৫০০ টাকা এবং দায়ী কর্মকর্তার জন্য ১০০ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। তা বাড়িয়ে যথাক্রমে ৫ হাজার ও ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।</p><p>এ ছাড়া ‘সচিব’ শব্দের পরিবর্তে ‘কোম্পানি সচিব’ ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি সচিব পদের সঙ্গে বিভ্রান্তি দূর করার প্রস্তাব রয়েছে।</p><p>একক মালিকানার ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের কোম্পানি কাঠামোয় আনার সুযোগ বাড়াতে এক ব্যক্তির কোম্পানি নিয়ে বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে এ ধরনের কোম্পানিকে পরে প্রাইভেট বা পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরের সুযোগও রাখার কথা বলা হয়েছে।</p><p>পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির নামে ‘পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি’ বা ‘পিএলসি’, প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির নামে ‘লিমিটেড’ বা ‘লি.’এবং এক ব্যক্তির কোম্পানির নামে ‘ওয়ান পারসন কোম্পানি’ বা ‘ওপিসি’ ব্যবহারের বিধান থাকছে আগের মতোই।</p><p>বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) প্রশাসক ফজলুল হক প্রথম আলোকে বলেন, কোম্পানি আইনকে যুগোপযোগী করা আরও আগেই দরকার ছিল। এক যুগের বেশি সময় ধরে এ নিয়ে কাজ চলছে। তবে এবার যে গতিতে এগোচ্ছে, আইন সংশোধন হবেই।</p><p>ফজলুল হক আরও বলেন, আইনের সঠিক প্রয়োগের জন্য আরজেএসসিকে শক্তিশালী ও গতিশীল করা অতীব জরুরি। শেয়ার হস্তান্তরে সশরীর উপস্থিতি ছাড়া দপ্তরটির সব কাজই অনলাইনে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করতে হবে।</p>

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
ডেটিং অ্যাপে পরিচয়, তারপর খুন, পর্দায় জাদুবিদ্যার ভয়ংকর ফাঁদের গল্প
ডেটিং অ্যাপে পরিচয়, তারপর খুন, পর্দায় জাদুবিদ্যার ভয়ংকর ফাঁদের গল্প

২০১৭ সালের হত্যাকাণ্ডের পেছনে পরে সামনে আসে কথিত জাদুবিদ্যা, ভ্যাম্পায়ার পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি, যৌন নির্যাতন ও হত্যার পরিকল্পনার ভয়ংকর এক কাহিনি।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
মাসরিকের স্বপ্নের পাশে বন্ধুরা
মাসরিকের স্বপ্নের পাশে বন্ধুরা

চলতি বছর লালমনিরহাটের দুরাকুঠি উচ্চবিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসিতে জিপিএ–৫ পেয়েছে মাহমুদ আল হাসান মাসরিক। বর্তমানে রংপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে ভর্তি হয়েছে। তার বাবা অটোরিকশাচালক এরশাদ আলী ও মা মাজেদা বেগম গৃহিণী।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশেও তথ্য দেয়নি সিলেট জেলা প্রশাসন
বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশেও তথ্য দেয়নি সিলেট জেলা প্রশাসন

সিলেট জেলা প্রশাসনের এলআর ফান্ডের আয়-ব্যয়ের হিসাব জানতে প্রায় চার মাস আগে আবেদন করেছিলেন প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক। এরপর কী ঘটেছিল, সেই অভিজ্ঞতাই লিখেছেন তিনি।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দরে আবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি হুতিদের
রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দরে আবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি হুতিদের

সৌদি আরবের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের পাম্পিং স্টেশনগুলোয় বেশ কয়েকটি ড্রোন হামলার কথাও জানান হুতিদের মুখপাত্র।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
ঢাকা কর অঞ্চল-৬–এর অধীন চাকরি, পদ ৪১
ঢাকা কর অঞ্চল-৬–এর অধীন চাকরি, পদ ৪১

<p>ঢাকা কর অঞ্চল-৬–এর অধীন ১৩ থেকে ২০ গ্রেডে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। মোট পদসংখ্যা ৪১। আবেদনের শেষ তারিখ ১৪ নভেম্বর ২০২৬।</p><h3>চাকরির বিবরণ</h3><p> ১. পদের নাম: কম্পিউটার অপারেটর<br> পদসংখ্যা: ১<br> বেতন স্কেল ও গ্রেড<br> (গ্রেড–১৩) ২৪,০০০–৫৮,০০০ টাকা।<br> ২. পদের নাম: প্রধান সহকারী<br> পদসংখ্যা: ৮<br> বেতন স্কেল ও গ্রেড<br> (গ্রেড–১৩) ২৪,০০০–৫৮,০০০ টাকা।<br> ৩. পদের নাম: সাঁটলিপিকার কাম কম্পিউটার অপারেটর<br> পদসংখ্যা: ২<br> বেতন স্কেল ও গ্রেড<br> (গ্রেড–১৩) ২৪,০০০–৫৮,০০০ টাকা।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/chakri/chakri-news/migv2f6fyu">৭৫ বছর ছাঁটাই ছাড়াই চলছে কোম্পানিটি; পরিচালনা পদ্ধতি দেখতে ভিড় সিইওদের</a></aside><p>৪. পদের নাম: সাঁটমুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর<br>পদসংখ্যা: ৯<br>বেতন স্কেল ও গ্রেড<br>(গ্রেড–১৪) ২৩,৫০০–৫৬,৮০০ টাকা।<br>৫. পদের নাম: অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক<br>পদসংখ্যা: ১০<br>বেতন স্কেল ও গ্রেড<br>(গ্রেড–১৬) ২১,৯০০–৫২,৯০০ টাকা।<br>৬. পদের নাম: গাড়িচালক<br>পদসংখ্যা: ২<br>বেতন স্কেল ও গ্রেড<br>(গ্রেড–১৬) ২১,৯০০–৫২,৯০০ টাকা।<br>৭. পদের নাম: অফিস সহায়ক<br>পদসংখ্যা: ৯<br>বেতন স্কেল ও গ্রেড<br>(গ্রেড–২০) ২০,০০০–৪৮,৪০০ টাকা।</p><p><strong>বয়সসীমা<br></strong>১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ১৮–৩২ বছর।<br>আবেদনের নিয়ম<br>পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক প্রার্থীকে <a href="https://tax6.teletalk.com.bd/" target="_blank" rel="nofollow">ওয়েবসাইটে আবেদনপত্র পূরণ</a> করতে হবে।</p><h3>আবেদন ফি</h3><p>১ থেকে ৬ নম্বর পদ: ১১২ টাকা;<br>৭ নম্বর পদ: ৫৬ টাকা।<br><strong>আবেদনের সময়সীমা<br></strong>আবেদনপত্র জমাদান শুরুর তারিখ ও সময়: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১০টা।<br>আবেদনপত্র জমাদানের শেষ তারিখ ও সময়: ১৪ নভেম্বর ২০২৬, বিকেল ৪টা।<br><a href="https://tax6.teletalk.com.bd/docs/TAX620261018.pdf" target="_blank" rel="nofollow">বিস্তারিত দেখুন এই ঠিকানায়</a>।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/higher-education/5dp552hmbv">উন্নত ক্যারিয়ার গঠনে যে ১০ বিদেশি ভাষা শিক্ষা এগিয়ে রাখবে আপনাকে </a></aside>

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ, মাদ্রাসার পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা
প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ, মাদ্রাসার পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা

গাজীপুরের সদর উপজেলায় একটি মাদ্রাসার পরিচালক ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
মালয়েশিয়া ভ্রমণ: কালের যাত্রাধ্বনি–৪
মালয়েশিয়া ভ্রমণ: কালের যাত্রাধ্বনি–৪

অমৃতা ইশরাতের লেখা মালয়েশিয়ার মালাক্কা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে। এতে ক্রাইস্ট চার্চ, স্ট্যাডথুয়স, আ ফামোসা দুর্গ, সেন্ট পলস হিল এবং ভাসমান মসজিদে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করা হয়েছে।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
সম্পাদকের শুভবিবাহ
সম্পাদকের শুভবিবাহ

<p>যাঁরা লেখালেখি নিয়ে কাজকর্ম করেন, তাঁদের অনেক সমস্যা!</p><p>ধরেন কোনো কথাপ্রসঙ্গে আপনি একটা গালি দিয়ে একটা লাইন লিখলেন। তাঁরা সেইটার রিঅ্যাকশন দেওয়ার আগে বলবে, ‘পদাশ্রিত নির্দেশক সব সময় শব্দের সাথে বসে, আর এখানে চন্দ্রবিন্দু হবে না, কমার পরে স্পেস‌ও নাই। আবার আপনি ইনভার্টেড কমাও দিছেন!’</p><p>শব্দ আর লেখার ভুলের যন্ত্রণায় জীবনে বাক্‌স্বাধীনতা পড়ে হুমকির মুখে। মন খুলে লেখাও যায় না—‘ঘোড়ার আন্ডা এত চিন্তা ক‌ইরা কী কথা ক‌ওন যায়? ধুর!’</p><p>: এই বাক্যে ‘কী’ না, হবে ‘কি’! আর ঘোড়ার ডিম বলবেন, আন্ডাতে জগাখিচুড়ি হচ্ছে।</p><p>: পারবো না এত বানান থেকে করতে। চ্যাটজিপিটি ও হাসে। কয়—তুই আজকাল কি অনেক ভুল করছিস?</p><p>: *পারব না, *চ্যাটজিপিটিও। এত টাইপো! ছি ছি...</p><p>হায় মাবুদ! কিন্তু লাভ নাই। বানান ভুল হবেই। আরে ভাই, বানান তো আর ফেরেশতা না যে ভুল হবে না। তা ছাড়া বিজ্ঞানী ডোনাল্ড বসু ট্রাম্প বলেছেন, ভুল হচ্ছে একটা নাইস অ্যান্ড অ্যাট্রাকটিভ ব্যাপার! যত করবে তত শিখবে। না শিখলেও ভুল করতে হবে, যাতে পরেরবার শেখা যায়। আমাদের টার্গেট সব সময় নেক্সট! </p><p>সেবার আমার এক সম্পাদক বড় ভাইয়ের জন্য মেয়ে দেখতে আমি, বড় ভাই আর তার এক বন্ধু গেলাম। মেয়ে অনার্সে পড়ে। বসার ঘরে দেয়ালে নানান রকম হাতের কাজের কারুকার্য। কোনোটায় সেলাই করে লেখা, কোনোটায় আবার আঁকা। মোটামুটি মুগ্ধ হয়ে দেখছি আর নাশতা চিবাচ্ছি। হঠাৎ বড় ভাইয়ের খাওয়া বন্ধ হয়ে গেল, চোখ স্থির, হাত খানিক কাঁপছে। ভাইয়ের মৃগীরোগ আছে নাকি? না তো!</p><p>: কী হ‌ইছে ভাই? শরীর খারাপ লাগছে?</p><p>ওনার বন্ধু বলল, ‘গত রাতে উল্টাপাল্টা কিছু খেয়েছিলি? কী রে! কথা বল!’ </p><p>ভাইয়ের মুখে কোনো রা নেই‌, চোখ এখনো এক দিকে স্থির, হাতে ধরে রাখা বিস্কুট মুখেও যাচ্ছে না, প্লেটে নামছেও না। ভাই কথা বলার চেষ্টা করছেন, কিন্তু শব্দ আসি আসি করেও বেরোচ্ছে না।</p><aside><cite></cite>‘ওখানে লেখা—ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যাই না, ভালোবেসে ঘর বাঁধলেই সুখী হ‌ওয়া যাই না।’</aside><p>বন্ধু ভাইয়ের হাত পানি দিয়ে মালিশ করতে লাগলেন। ভাই মনে হয় একটু স্বাভাবিক হচ্ছেন। এই তো…একটু একটু শব্দ বের হচ্ছে।</p><p>বলুন ভাই, কেমন লাগছে…</p><p>ভাই আঙুল উঁচিয়ে দেয়ালে সাজানো একটা ওয়ালমেট দেখিয়ে বললেন, ‘ওখানে লেখা—ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যাই না, ভালোবেসে ঘর বাঁধলেই সুখী হ‌ওয়া যাই না।’</p><p>বন্ধু ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে আছে, আমি বন্ধুর দিকে তাকিয়ে আছি, ভাই ওয়ালমেটের দিকে তাকিয়ে আছে, মেয়ে তখন আমাদের সামনে এসে পরস্পর মুখ চাওয়াচাওয়ি দেখে ভিরমি খেয়ে গেছে। কী বলবে বুঝতে না পেরে ফ্লোরের দিকে তাকিয়ে আছে। </p><p>বিস্কুটটা খানিক কসরত করে গলাধঃকরণ করে বাকিটা কোনোরকমে প্লেটে রেখে ভাই মেয়েটির দিকে তাকিয়ে, ‘আসি, ভালো থাকবেন। আসসালামু আলাইকুম।’ বলেই হনহন করে বেরিয়ে গেলেন। বেরিয়ে বন্ধুকে বললেন, ‘দ্রুত হাঁট, চল বাসায় চলে যায়’ বলেই নিজের মুখ চেপে ধরলেন।</p><p>নাহ্‌, এ–যাত্রায় মনে হয় আর বিয়ে খাওয়া হলো না।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/dyjhf6zp9h">একটি আনপেইড ইন্টার্নশিপের গল্প</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/l2v7tpucaz">চাঁদ দখল</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/9yko8mw3h1">সবজান্তা সমীপেষু</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/kjqv1isuow">বন্ধু ফার্মেসি</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/g9j6k83pp1">ডাব সমাচার</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/6dfwgsqw20">Lieসেন্স</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/d4fl17cod8">রসচিঠি</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/u86yf3kq5z">অজুহাতের কামব্যাক</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/6ivlyjbko1">চাঁদা নিয়ে বিখ্যাত কবি–সাহিত্যিকেরা যা লিখতেন</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/72zdocu7yj">এলাকার ট্যালেন্টেড বড় ভাই রবীন্দ্রনাথ</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/l7r2uxvti0">রস+আলো নোবেল ২০২৬</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/dkgc2prfwa">কোথায় কোথায় কালি মাখানো যায়?</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/z87t7zqecu">স্মার্টফোনের অবসর চেয়ে আবেদন</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/88lpnc5wio">রসচিঠি ২০</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/trarpa7245">দুটি কলেজের সংঘর্ষ বন্ধ করার বিভিন্ন পদ্ধতি</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/bwluvlmmu8">বিবাহিত পুরুষ চেনার সহজ উপায়</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/mrplq2ed70">ইলিশ আছে, ইলিশ হ্যাজ!</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/kdnfiunl2l">চাঁদাবাজের বর্ণ পরিচয়</a></aside>

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন