<p>চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার রামপুর শ্রীশ্রী গৌর নিতাই মন্দিরে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় করা মামলায় দীর্ঘ পাঁচ বছর পর রায় দিয়েছেন আদালত। রায়ে আসামি রাজনকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বাকি ৫২ জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।</p><p> গতকাল বুধবার দুপুরে চাঁদপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শাহাদাতুল হাসান আল মুরাদ এ রায় ঘোষণা করেন।</p><p>মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৩ অক্টোবর রাতে কুমিল্লার ঘটনার জেরে হাজীগঞ্জের রামপুর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ঘটনার রাতে ১০০ থেকে ১৫০ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রামপুর শ্রীশ্রী গৌর নিতাই মন্দিরে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর করে এবং স্বর্ণালংকার, পূজার প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও দানবাক্সের নগদ টাকা লুটপাট করে নিয়ে যায়। এ সময় মন্দিরে উপস্থিত ভক্তদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করা হয়।</p><p>পরে এ ঘটনায় মন্দির কমিটির সভাপতি পাপন চন্দ্র সাহা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করে হাজীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। তদন্ত শেষে ৫৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেয় পুলিশ।</p><p>সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) মোহাম্মদ আলী বলেন, এ মামলায় ৫৩ আসামির মধ্যে আদালত ৫২ জনকে খালাস দিয়েছেন। একজনকে ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে ছয় মাসের সাজা প্রদান করেন।</p><p>রায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে হাজীগঞ্জ পূজা উদযাপন পরিষদ সভাপতি রুহি দাস বনিক বলেন, ‘আদালত যে রায় দিয়েছেন, সেটার বিরুদ্ধে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই।’</p><p>উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১৩ অক্টোবর শারদীয় দুর্গাপূজার মহাষ্টমীতে কুমিল্লা নগরের নানুয়ারদিঘির উত্তরপাড়ে দর্পণ সংঘের পূজামণ্ডপে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে কুমিল্লা ছাড়াও নোয়াখালী ও চাঁদপুরে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় মন্দির-মণ্ডপে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় কুমিল্লায় ১২টি, নোয়াখালীতে ৩২টি, চাঁদপুরে ১০টিসহ মোট ৫৪টি মামলা হয়।</p>
<p>রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ১১ মহাব্যবস্থাপককে (জিএম) উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়েছে। এ নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ আজ বৃহস্পতিবার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।</p><p> প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রূপালী ব্যাংকের জিএম মোহাম্মদ শাহেদুর রহমান ও শিকদার ফারুক এ আজম, অগ্রণী ব্যাংকের জিএম মোহাম্মদ ফজলুল করিম, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের (বিকেবি) জিএম আবু সাঈদ মো. রওশনুল হক এবং জনতা ব্যাংকের জিএম মো. আব্দুল মতিন এবং সোনালী ব্যাংকের জিএম মো. জামান মোল্লা ও মো. সাকায়েত হোসেন পাটোয়ারীকে পদোন্নতি দিয়ে নিজ নিজ ব্যাংকের ডিএমডি করা হয়েছে।</p><p>বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের জিএম আশরাফুজ্জামান খানকে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) এ রূপালী ব্যাংকের জিএম মো. ইকবাল হোসেন খানকে জনতা ব্যাংকের ডিএমডি করা হয়েছে। এ ছাড়া অগ্রণী ব্যাংকের জিএম শাহীনুর সুলতানাকে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (বিডিবিএল) এবং বেসিক ব্যাংকের জিএম মো. হাসান ইমামকে পদোন্নতি দিয়ে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ডিএমডি পদে পদায়ন করা হয়।</p><p>প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) ও মহাব্যবস্থাপক (জিএম) পদে মনোনয়ন, নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন নীতিমালা-২০২৫ এবং সরকার কর্তৃক সময়ে সময়ে জারি করা নীতিমালা ও প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চাকরি নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হবে।</p>
সর্বশেষ ২০২৩ সালে মাঠে গড়িয়েছিল প্রিমিয়ার হকি লিগ। একই বছর অনুষ্ঠিত হয় সর্বশেষ প্রথম বিভাগ হকি লিগও।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট অনুমোদন ও অন্যান্য খবর
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিক্ষকেরা শুধু পাঠদানই করেন না, তাঁরা একটি প্রজন্মের চিন্তা, মূল্যবোধ ও ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এমন আয়োজন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে শিক্ষকদের অবদানকে আরও গভীরভাবে তুলে ধরবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ড থেকে দুই দিন বয়সী এক নবজাতক চুরি হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
<p>ডিজিটাল প্রযুক্তি আর স্ক্রিন–টাইমের এই যুগে নতুন প্রজন্ম যখন বইয়ের পৃথিবী থেকে অনেকটাই দূরে সরে যাচ্ছে। এর বিপরীতে পাঠ্যবইয়ের গণ্ডি পেরিয়ে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, মানবিক মূল্যবোধ ও মুক্তচিন্তায় সমৃদ্ধ করতে চার দশকের বেশি সময় ধরে কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। চলমান বইপড়ার এ উদ্যোগে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে ১২ বছর ধরে যুক্ত রয়েছে দেশের শীর্ষ আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বিকাশ। সম্প্রতি দেশব্যাপী বই পড়া কর্মসূচির এক যুগের সফল পথচলা উপলক্ষে রাজধানীতে বিশেষ প্রীতি সম্মিলনের আয়োজন করে প্রতিষ্ঠানটি।</p><p> সম্মিলনে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ভিডিও বার্তায় অংশ নেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিকাশের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীর। দেশের বিভিন্ন স্কুলের বই পড়া কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত কয়েক শতাধিক শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে আনন্দঘন এই আয়োজনে আরও উপস্থিত ছিলেন দেশের খ্যাতনামা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও বিকাশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।</p><p> বই ও লাইব্রেরির আদলে নির্মিত মঞ্চ এবং অনুষ্ঠানস্থল শিক্ষার্থীদের সময়টাকে বইময় করে তোলে। সেই প্রাচীন যুগ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বইয়ের বিবর্তনের ভিন্নধর্মী উপস্থাপন শিক্ষার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী নাটকের অনুপ্রেরণায় এখনকার শিক্ষার্থীদের পড়ার জগৎ নিয়ে ‘অমলের পৃথিবী’ নাটিকা পরিবেশিত হয়। শিক্ষার্থীরা তাঁদের পড়া প্রিয় বইগুলোর নামও তালিকাবদ্ধ করে বিশাল একটি খাতায়। বইয়ের সঙ্গে বিকেলটা শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অতিথিদের কাছে আনন্দময় হয়ে ওঠে। </p><h3>৩ হাজার প্রতিষ্ঠানে ৪ লাখ বই, উপকৃত ৩২ লাখ পাঠক </h3><p>২০১৪ সাল থেকে টানা ১২ বছর ধরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়া কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বিকাশ। এই দীর্ঘ পথচলায় বিকাশের সহায়তায় দেশের প্রায় তিন হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠাগারে পৌঁছে গেছে চার লাখের বেশি নতুন বই। যার মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন ৩২ লাখের বেশি তরুণ পাঠক। এই কর্মসূচিতে ১১ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের বয়স ও মানসিক বিকাশের কথা মাথায় রেখে তাঁদের উপযোগী সাহিত্য, ইতিহাস, বিজ্ঞান, দর্শন ও জ্ঞানভিত্তিক বই নির্বাচন করা হয়।</p><p>প্রীতি সম্মিলনের একটি দেয়ালে ছিল শিক্ষার্থী উন্মুক্ত মারমার ছোট্ট একটি কথা, ‘যখন একটি বইয়ের পৃষ্ঠা পড়ি, তখন মনে হয়, দেখি তো সামনে আর কী আছে?’</p><p>সেই কৌতূহলের কথাই উঠে আসে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের কথায়ও!</p><p>রাজধানীর বিয়াম স্কুলের শিক্ষার্থী রিদ্বীন বলেন, ‘অনেক বই অন্যান্য লাইব্রেরিতে পাওয়া না গেলেও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে আমরা সে বইগুলো পাচ্ছি। এসব বই আমাদের জ্ঞান বাড়ায়, আমরা উপকৃত হই।’</p><p>হলিক্রস স্কুলের আরেকজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র আমাকে একটা জিনিস শিখিয়েছে—প্রতিদিনই এক পৃষ্ঠা হলেও বই পড়তে হবে। আমি এখন আমার জীবনে বই পড়াটা বাধ্যতামূলক করে নিয়েছি।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/oesoqyt1/Bkash-BSK-%E0%A7%A6%E0%A7%A8.jpg"><figcaption>চার দশকের বেশি সময় ধরে চলমান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বই পড়ার এ উদ্যোগে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে ১২ বছর ধরে যুক্ত রয়েছে দেশের শীর্ষ আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বিকাশ</figcaption></figure><h3>অর্থনৈতিক লাভের ঊর্ধ্বে জাতির আত্মিক সমৃদ্ধি </h3><p>বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের মতে, কিশোর বয়সে মননশীলতার বিকাশ সবচেয়ে দ্রুত হয়। এ সময় মানবসভ্যতার শ্রেষ্ঠ বইগুলোর সঙ্গে পরিচিত হতে পারলে তা ভবিষ্যতে তাদের চিন্তায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তিনি বলেন, ‘এই ১২ বছরে আমরা বিকাশের কাছ থেকে ৪ লাখ বই পেয়েছি, যা দেশের ৩২ লাখ ছেলেমেয়ে পড়েছে। বিকাশ যদি এই অর্থ অন্য জায়গায় বিনিয়োগ করত, তাহলে হয়তো একটু বেশি লাভবান হতো। তা না করে এখানে করেছে। এতে বিকাশ লাভবান হয়েছে কি না, জানি না; কিন্তু জাতি লাভবান হয়েছে।’</p><p>শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চাকে টেকসই উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি মনে করে বিকাশ। কেবল বাণিজ্যিক বা করপোরেট দায়বদ্ধতার ঊর্ধ্বে উঠে শিক্ষার এই আলো ছড়ানো নিয়ে কামাল কাদীর বলেন, ‘বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সঙ্গে কাজ করার একটা প্রবল আকর্ষণ সেই ছোটবেলায় লাইব্রেরিতে যাওয়া থেকেই আমার মাঝে সুপ্ত ছিল। সবকিছু লাভের দিকে তাকিয়ে আসলে করা ঠিক না। বিকাশ দেখেছে যে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের এমন একটা কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কাজ করার সুযোগ আছে। তাই এ রকম একটা মহৎ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে যুক্ত থাকার সিদ্ধান্ত আমরা নিয়েছি।’</p><figure></figure><h3>ভবিষ্যৎ সমাজ ও আলোকিত আগামী </h3><p>অনুষ্ঠানে বই পড়ার অভ্যাস ফিরিয়ে আনা এবং শিক্ষার্থীদের উচ্চমানের শিক্ষিত জনগোষ্ঠী হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, ‘সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি’ শব্দটি আজকাল ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে; কিন্তু ফ্যাশনের বাইরে গিয়েও যে বড় কন্ট্রিবিউশন করা যায়, সেটি আজ দেখতে পেলাম। একটি বই হয়তো একটি জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে, আর চার লাখ বই প্রসারিত করতে পারে অসংখ্য শিক্ষার্থীর চিন্তার দিগন্ত। বই পড়ার অভ্যাস ফিরিয়ে এনে শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে বসাতে হবে। সম্মিলিতভাবে আমাদের সবাইকে এ ধরনের যৌথ উদ্যোগ টিকিয়ে রাখতে হবে।’</p><p>সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও বিকাশের এই যৌথ প্রয়াস কেবল একটি স্কুলের শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়ার কর্মসূচি নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মুক্তচিন্তা, সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধে বলীয়ান করার এক নিরন্তর সংগ্রাম।</p>
শুধু এই ম্যাচই নয়, চলতি মৌসুমে কুমিল্লায় লিগের ম্যাচ আয়োজন নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে
<p>প্রবাসী কর্মীরা যেন বিমানবন্দরে কোনো রকম অবহেলা বা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে নজর রাখার সুপারিশ করেছে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। আজ বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়।</p><p>বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মোট ৪ লাখ ৩২ হাজার ৭৮৬ জন কর্মী পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬ হাজার ৫৯০ জন নারী কর্মী। এ সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল ২৪ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার। মন্ত্রণালয় জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে ইরান থেকে ১২ জন নারী ও ৮ জন শিশুসহ মোট ১৮৬ জনকে দেশে ফেরত আনা হয়েছে।</p><p>বৈঠকে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মপরিধি ও বাজেট বরাদ্দ পর্যালোচনা করা হয়। অনিয়ম, দুর্নীতি যাতে না হয়, সে জন্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে সুপারিশ করে কমিটি।</p><p>কমিটির সভাপতি এ কে এম ফজলুল হক মিলনের সভাপতিত্বে বৈঠকে সদস্যদের মধ্যে অংশ নেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক, গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, জসীম উদ্দিন, রফিকুল ইসলাম হিলালী, নাসির উদ্দিন আহমেদ, আনোয়ারুল ইসলাম এবং আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।</p><h3>নতুন ছয় গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/1l7jg21t/WhatsApp_Image_2026_10_08_at_10_10_34_PM.jpeg"><figcaption>বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক। সংসদ ভবন। ৮ অক্টোবর</figcaption></figure><p>এখন ২৩টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। ভবিষ্যতে আরও ছয়টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির। আজ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে এই পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।</p><p>সংসদীয় কমিটিতে দেওয়া প্রতিবেদনে বিমানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১৫ দেশের ২৩ আন্তর্জাতিক গন্তব্যে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট চলাচল করে। যেগুলো হলো—সৌদি আরবে দাম্মাম, জেদ্দা, রিয়াদ ও মদিনা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি, দিল্লি, চেন্নাই, যুক্তরাজ্যের লন্ডন ও ম্যানচেস্টার, ওমান, কুয়েত, কাতার, ইতালি, কানাডা, নেপাল, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, চীন ও জাপান। বর্তমানে বিমানের বহরে নিজস্ব ১৯টিসহ ২১টি উড়োজাহাজ রয়েছে।</p><p>প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫-২০২৬ থেকে ২০৩৪-২০৩৫ অর্থবছরের জন্য বিমানের ‘নেটওয়ার্ক অ্যান্ড ফ্লিট প্ল্যান’ অনুযায়ী বর্তমানে লাভজনক রুটগুলোতে সাপ্তাহিক ফ্রিকুয়েন্সি বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক উড়োজাহাজ সংগ্রহ সাপেক্ষে নতুন নতুন গন্তব্যে ফ্লাইট চালু করা হবে। আন্তর্জাতিক রুটে নতুন গন্তব্য হিসেবে মালে, কুনমিং, সিডনি, জাকার্তা, সিউল এবং উহানে সেবা সার্ভিস সম্প্রসারণের পরিকল্পনা আছে। বাহরাইনে আবার ফ্লাইট চালু করার পরিকল্পনা আছে তাদের। এ ছাড়া বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ক্যাটাগরি-১-এ উন্নীত হওয়া সাপেক্ষে নিউইয়র্কে ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়ে বিমানের কার্যক্রম অব্যাহত আছে।</p><p>কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্যদের মধ্যে অংশ নেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ, সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জসীম উদ্দীন আহমেদ, সুরাইয়া জেরিন, শওকত আরা আক্তার, কামরুল হাসান ও আবু তালিব।</p>
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন