বাংলাদেশ

বাক্‌স্বাধীনতা ক্ষুণ্নের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই, রাষ্ট্রদ্রোহিতার বিধান নিয়ে রিট খারিজ

নভেম্বর ১, ২০২৬
বাক্‌স্বাধীনতা ক্ষুণ্নের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই, রাষ্ট্রদ্রোহিতার বিধান নিয়ে রিট খারিজ
বাক্‌স্বাধীনতা ক্ষুণ্নের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই, রাষ্ট্রদ্রোহিতার বিধান নিয়ে রিট খারিজ
<p>রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ ও শাস্তি সম্পর্কিত দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারার বৈধতা নিয়ে করা রিট সরাসরি খারিজ করে হাইকোর্ট দেওয়া পূর্ণাঙ্গ আদেশ প্রকাশিত হয়েছে। বিচারপতি রাজিক–আল–জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ৩১ আগস্ট ওই আদেশ দেন।</p><p>চার পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ আদেশ রোববার হাতে পেয়েছেন বলে জানান রিট আবেদনকারী আইনজীবী ইশরাত হাসান। তিনি <em>প্রথম আলো</em>কে বলেন, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।</p><p>ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৬ ধারার সঙ্গে ১৮৬০ দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারা অসাংবিধানিক ও আইনগত কার্যকারিতাহীন ঘোষণা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান চলতি বছরের জানুয়ারিতে রিটটি করেন। রিট আবেদনকারীর ভাষ্য, রাষ্ট্রদ্রোহের সংজ্ঞা ও শাস্তি নির্ধারণের ওই বিধান (১২৪ক ধারা) সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে নিশ্চয়তা দেওয়া বাক্‌স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর অযৌক্তিক ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিধিনিষেধ আরোপ করে।</p><p>১২৪ক ধারার ভাষ্য, কোনো ব্যক্তি যদি কথার মাধ্যমে, তা মৌখিক বা লিখিত যেভাবেই হোক, অথবা কোনো চিহ্ন, দৃশ্যমান উপস্থাপনা কিংবা অন্য কোনো উপায়ে, আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত সরকারের প্রতি ঘৃণা বা অবজ্ঞা সৃষ্টি করে বা সৃষ্টির চেষ্টা করে কিংবা সরকারের প্রতি অসন্তোষ উসকে দেয় বা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে সেই ব্যক্তি যাবজ্জীবন বা অন্য কোনো মেয়াদে কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তৎসহ তাকে জরিমানায়ও দণ্ডিত করা যাবে।</p><h3>যে কারণে রিট খারিজ</h3><p>দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারা এবং চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্স্বাধীনতা সম্পর্কিত সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ আদেশে তুলে ধরা হয়েছে। সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদের দফা (১) অনুযায়ী চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে উল্লেখ করে পূর্ণাঙ্গ আদেশে বলা হয়, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদের দফা (২) অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের বাক্স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে আইনের মাধ্যমে আরোপিত যুক্তিসংগত বিধিনিষেধ সাপেক্ষে এসব স্বাধীনতা ভোগ করতে হবে। এখন প্রশ্ন হলো, ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারা দেশের সংবিধানের ৩৯(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো যুক্তিসংগত বিধিনিষেধ আরোপ করেছে কি না?</p><p>দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারা এবং এর ব্যাখ্যাগুলো উল্লেখ করে আদেশে আদালত বলেছেন, দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারায় রাষ্ট্রদ্রোহের সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে। ধারাটির তৃতীয় ব্যাখ্যায় বলেছে, সরকারের প্রশাসনিক বা অন্য কোনো কার্যক্রমের প্রতি অসম্মতি প্রকাশ করে কোনো মন্তব্য করা হলে এবং এর মাধ্যমে সরকারের প্রতি ঘৃণা, অবজ্ঞা বা অসন্তোষ সৃষ্টি করা বা সৃষ্টির চেষ্টা না করা হলে—তা এই ধারার অধীন অপরাধ বলে গণ্য হবে না।</p><p>আদালত বলেছেন, দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারার কারণে কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা সংবিধান ৩৯ অনুচ্ছেদে নিশ্চয়তা দেওয়া বাক্স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন—এমন সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ রিটে করা হয়নি। ধারাটি প্রয়োগের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা নাগরিকের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে সরকার কারও বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে—এমন অভিযোগও করা হয়নি। এ পর্যায়ে আবেদনটির কোনো সারবত্তা পাওয়া যাচ্ছে না। সে অনুসারে রিটটি সরাসরি খারিজ করা হলো।</p><p>আদালতে রিটের পক্ষে আইনজীবী ইশরাত হাসান নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জামিলা মমতাজ শুনানিতে ছিলেন।</p>

Prothomalo

View more
সংগ্রামী মায়ের পাশে মানবিক হাত
সংগ্রামী মায়ের পাশে মানবিক হাত

জীবনের এতগুলো দায়িত্ব পালন করার পরও তাঁর সংগ্রাম থেমে থাকেনি। বর্তমানে নিজের প্রতিবন্ধী ছেলের দেখাশোনা, ভরণপোষণ এবং সংসারের যাবতীয় দায়িত্ব তাঁকেই সামলাতে হচ্ছে। প্রতিনিয়ত দারিদ্র্য ও প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকা এই মায়ের পরিবারের জন্য এক দিনের খাবারের ব্যবস্থা করেছে ময়মনসিংহ বন্ধুসভা।

নভেম্বর ১, ২০২৬
মজুরি বোর্ড গঠিত, কত দিন লাগতে পারে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে
মজুরি বোর্ড গঠিত, কত দিন লাগতে পারে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে

<p>শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে সরকার তড়িঘড়ি করে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। এই বোর্ড আলাপ–আলোচনা করে একটা খসড়া মজুরি কাঠামো শ্রম মন্ত্রণালয়কে প্রেরণ করবে। তারপর তা চূড়ান্ত করে মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করলে সেই অনুযায়ী বাড়তি মজুরি পাবেন পোশাকশ্রমিকেরা।</p><p>আজ রোববার শ্রম মন্ত্রণালয় দুই পৃথক প্রজ্ঞাপনে নিম্নতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করার পাশাপাশি তৈরি পোশাকশিল্পের নিম্নতম মজুরি বোর্ডের জন্য মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধি নিয়োগ করা হয়। ছয় সদস্যের বোর্ডের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমান। একটি প্রজ্ঞাপনে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের স্থায়ী সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে যথাক্রমে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন আহমেদকে বোর্ডের নিরপেক্ষ সদস্য করা হয়েছে।</p><p>এদিকে আরেকটি প্রজ্ঞাপনে তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য গঠিত নিম্নতম মজুরি বোর্ডে মালিকপক্ষের প্রতিনিধিত্বকারী সদস্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিজিএমইএ পরিচালক এ বি এম সামছুদ্দিন। আর শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিত্বকারী সদস্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশন (বিজিআইডব্লিউএফ) সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার।</p><p>প্রজ্ঞাপনে কত দিনের মধ্যে মজুরি আলোচনা শেষ করতে হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া নেই। তবে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ অনুযায়ী, কোনো শিল্প খাতের মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য সরকার থেকে নির্দেশ পাওয়ার পর ছয় মাসের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামোর সুপারিশ করার বিধান রয়েছে। তবে বোর্ডের অনুরোধে সময় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।</p><p>সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করার পর বোর্ডের চেয়ারম্যান সভা আহ্বান করেন। সভায় চেয়ারম্যান শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে মজুরি প্রস্তাব জমা দেওয়ার অনুরোধ করেন। প্রস্তাব জমা হওয়ার পর বোর্ডের সদস্যরা আলোচনা করেন। অনেক সময় মজুরি বোর্ডের সদস্যরা প্রয়োজন মনে করলে এক বা একাধিক শিল্পাঞ্চল পরিদর্শন করেন। বোর্ডে আলোচনায় ঐকমত্যের ভিত্তিতে নতুন মজুরি কাঠামোর খসড়া চূড়ান্ত হয়। সেই খসড়ার ওপর আপত্তি বা সুপারিশ নেওয়া হয়। তারপর চূড়ান্ত খসড়া মন্ত্রণালয় পাঠায় নিম্নতম মজুরি বোর্ড।</p><p>তৈরি পোশাকশিল্পে সর্বশেষ নিম্নতম মজুরি বোর্ড হয়েছিল ২০২৩ সালে। ওই বছরের ১ ডিসেম্বর মজুরি কাঠামো কার্যকর করার আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল। ২০২৩ সালের মজুরি বোর্ড ছয়টি সভা করে ওই বছরের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নিম্নতম মজুরির সুপারিশ করেছিল। এরপর ডিসেম্বরে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।</p><p>শ্রম আইন ও গত মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, নবগঠিত মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম আগামী বছরের এপ্রিলে শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর শ্রম আইন সংশোধন করে শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময়কাল পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করেছে।</p><p>পোশাকশ্রমিকদের সর্বশেষ ন্যূনতম মজুরি কার্যকর হয় ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে। তবে শ্রম আইন সংশোধন হওয়ার পর নাকি, আগে থেকে তিন বছরের সময় গণনা করা হবে তা নিয়ে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের ভিন্নমত ছিল। যদিও শ্রমিক আন্দোলনের মুখে সেই ভিন্নমত টেকেনি।</p><p>শ্রমিক সংগঠন ইন্ডাস্ট্রি অল বাংলাদেশ কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন স্বপন প্রথম আলোকে বলেন, চলতি বছর ডিসেম্বরে নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকর করতে হলে গত মে মাসেই মজুরি বোর্ড গঠন করা দরকার ছিল। সেটি না হওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে একধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়। বোর্ড গঠনে দেরি হলেও আগামী মাসের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত করা সম্ভব।</p><p>জানতে চাইলে নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রথম আলোকে বলেন, ‘নতুন মজুরি কাঠামো কীভাবে হবে সে বিষয়ে আইন ও বিধিমালায় সুস্পষ্টভাবে বলা আছে। ফলে কবে নতুন মজুরি কাঠামো দেবে সেটি বোর্ডের সিদ্ধান্ত। তবে সেটি বাস্তবায়নে আমাদের সময় দিতে হবে। আইন অনুযায়ী আরও দুই বছর পর নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা ছিল আমাদের। তবে বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে শ্রমিকদের জীবন চালাতে কষ্ট হচ্ছে। এটি সত্য। একই সঙ্গে শিল্পের সক্ষমতা ও মালিকদের সঙ্গে দর–কষাকষির জন্যও সময় দরকার।’</p><p>তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জন্য ১৯৯৪ সালে প্রথমবার নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার। সেই বোর্ড ৯৩০ টাকা নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করে। ২০০৬ সালে সেটি বৃদ্ধি করে ১ হাজার ৬৬২ টাকা ৫০ পয়সা করা হয়। ২০১০ সালের মজুরি বোর্ডে শ্রমিকের নিম্নতম মজুরি ৩ হাজার টাকা করা হয়। ২০১৩ সালের মজুরি বোর্ড ৫ হাজার ৩০০ টাকা নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করে। সর্বশেষ ২০১৮ সালের মজুরি বোর্ড পোশাকশ্রমিকদের জন্য ৮ হাজার টাকা নিম্নতম মজুরি চূড়ান্ত করে। তার মধ্যে মূল মজুরি ৪ হাজার ১০০ টাকা।</p><p>জানতে চাইলে সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শ্রমিকনেত্রী নাজমা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ‘মজুরি বোর্ড গঠন করতে সরকারের বিলম্ব হয়েছে। সে জন্য শ্রমিকদের একটি অংশ আন্দোলনে নেমেছেন। এখন আমাদের চাওয়া যত দ্রুত সম্ভব আলোচনা করে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত করা হোক।’</p>

নভেম্বর ১, ২০২৬
দেশে আলু চাষ কমছে, পেঁয়াজের বাড়ছে; কারণ কী
দেশে আলু চাষ কমছে, পেঁয়াজের বাড়ছে; কারণ কী

<p>দেশে এক বছরে পেঁয়াজ উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ছয় লাখ টন। সেই সঙ্গে বেড়েছে আমন ধান, রসুন, শীতকালীন মরিচ, ভুট্টা ও সয়াবিনের উৎপাদন। তবে একই সময়ে আলু উৎপাদন কমেছে প্রায় তিন লাখ টন। গম উৎপাদনও কিছুটা কমেছে।</p><p> বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) কৃষি বিভাগের ত্রৈমাসিক (এপ্রিল-জুন) প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এতে ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে বিভিন্ন ফসলের আবাদ ও উৎপাদনের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।</p><p> বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছিল ৩২ লাখ ২১ হাজার টন, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ লাখ ২০ হাজার টনে। অর্থাৎ এক বছরে পেঁয়াজ উৎপাদন বেড়েছে ৫ লাখ ৯৯ হাজার টন বা ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ।</p><p>আলোচ্য সময়ে পেঁয়াজ আবাদের জমির পরিমাণও বেড়েছে। আগের অর্থবছরে যেখানে ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৫৯৯ একর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছিল, সেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে হয়েছে ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৭৮৭ একরে। পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ায় চলতি অর্থবছরে দেশে পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়নি বলে দাবি করেছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।</p><p>পেঁয়াজের পাশাপাশি রসুন ও শীতকালীন মরিচের উৎপাদনও বাড়ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে রসুন উৎপাদিত হয়েছিল ৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬৮২ টন। গত অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ৬ লাখ ৫ হাজার ৪৪৬ টন। অন্যদিকে একই সময়ে শীতকালীন মরিচের উৎপাদন ৫ লাখ ৬১ হাজার ৩৯৭ টন থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ১৬ হাজার ৩৪০ টনে।</p><blockquote>* এক বছরে পেঁয়াজ উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৬ লাখ টন বা ১৮.৬%।* একই সময়ে আলুর উৎপাদন কমেছে ৩ লাখ ১ হাজার টন।* আমন ধানের উৎপাদন বেড়েছে ৮ লাখ ৪৫ হাজার টন, গমের কমেছে ১৩ হাজার টন।</blockquote><p>তবে আলু উৎপাদনে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে ১ কোটি ১৫ লাখ ৭৩ হাজার টন আলু উৎপাদন হয়েছিল, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কমে হয়েছে ১ কোটি ১২ লাখ ৭২ হাজার টন। অর্থাৎ এক বছরে আলু উৎপাদন কমেছে ৩ লাখ ১ হাজার টন। একই সময়ে আলু আবাদের জমির পরিমাণও কমেছে।</p><p>কৃষি অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, কৃষিপণ্যের উৎপাদন হ্রাস–বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাজারমূল্য বড় ভূমিকা রাখে। পেঁয়াজ ও আলু উৎপাদনে সে প্রভাবই দেখা গেছে বলে মনে করেন তাঁরা।</p><p>জানতে চাইলে কৃষি অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘কৃষকেরা আগের বছরে পেঁয়াজের ভালো দাম পেয়েছিলেন। তাই পরেরবার উৎপাদন বাড়াতে আগ্রহী হয়েছেন। তা ছাড়া হিমাগারে পেঁয়াজ সংরক্ষণের ব্যবস্থাও ভালো হয়েছে।’</p><p>তবে আলুর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ঠিক উল্টো ছিল বলে মনে করেন জাহাঙ্গীর আলম খান। তাঁর মতে, গত দুই বছর কৃষকেরা আলুর ন্যায্য দাম পাননি। হিমাগারে সংরক্ষণ করেও তাঁদের লোকসান হয়েছে। তাই আলুর চাষ কমিয়েছেন চাষিরা।</p><p><strong>আমন ধানের উৎপাদন বেড়েছে</strong></p><p>ধানের মধ্যে আমনের উৎপাদনে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে আমন ধান উৎপাদিত হয়েছিল ১ কোটি ৬৫ লাখ ১৪ হাজার টন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৭৩ লাখ ৫৯ হাজার টনে। অর্থাৎ এক বছরে আমন উৎপাদন বেড়েছে ৮ লাখ ৪৫ হাজার টন। এ ক্ষেত্রে অনুকূল আবহাওয়া ভূমিকা রেখেছিল বলে মনে করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।</p><p>এদিকে গম উৎপাদন কমেছে। আগের অর্থবছরে যেখানে দেশে ১০ লাখ ৪১ হাজার টন গম উৎপাদিত হয়েছিল সেখানে পরের অর্থবছরে তা কমে হয়েছে ১০ লাখ ২৮ হাজার টন। অর্থাৎ এক বছরে গম উৎপাদন কমেছে ১৩ হাজার টন বা ১ দশমিক ২ শতাংশ। একই সময়ে গমের আবাদি জমির পরিমাণ ৬ লাখ ৯৩ হাজার ৭২৪ একর থেকে কমে ৬ লাখ ৮৫ হাজার ১৫৬ একর হয়েছে।</p><p>অন্যান্য ফসলের মধ্যে শীতকালীন ভুট্টার উৎপাদন বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শীতকালীন ভুট্টা উৎপাদন হয়েছিল ৪৮ লাখ ৭৩ হাজার টন। গত অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ৫০ লাখ ৪৮ হাজার টন। সয়াবিনের উৎপাদনও বেড়েছে। আগের অর্থবছরে ১ লাখ ৮ হাজার টন সয়াবিন উৎপাদন হয়, যা পরের অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ৩৬ হাজার টন।</p><p><strong>কৃষিশ্রমিকের মজুরি</strong></p><p>ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষিশ্রমিকের মজুরির তথ্যও প্রকাশ করেছে বিবিএস। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, দেশে গত মার্চ মাসে পুরুষ কৃষিশ্রমিকের দৈনিক গড় মজুরি ছিল ৬২৮ টাকা এবং নারী শ্রমিকের ৪৬১ টাকা।</p><p>জুন মাসে এক বেলা খাবারসহ পুরুষ কৃষিশ্রমিকের দৈনিক মজুরি ছিল ৬২২ টাকা, নারীর ৪৩৭ টাকা। দুই বেলা খাবারসহ পুরুষ শ্রমিকের মজুরি ছিল ৬৩৯ টাকা এবং নারী শ্রমিকের ৪৬০ টাকা। আর তিন বেলা খাবারসহ পুরুষ শ্রমিক পেয়েছেন ৬৬৪ টাকা, নারী শ্রমিক ৫১৫ টাকা।</p><p>বিবিএস জানিয়েছে, দেশের প্রতিটি উপজেলা থেকে নমুনাভিত্তিতে ১০ জন করে কৃষিশ্রমিকের সাক্ষাৎকার নিয়ে মজুরির তথ্য সংগ্রহ করা হয়। কোনো এলাকায় কৃষিশ্রমিক পাওয়া না গেলে কৃষিকাজে দৈনিক শ্রমিক নিয়োগ করেছেন এমন কৃষকদের কাছ থেকেও তথ্য নিয়েছে বিবিএস।</p>

নভেম্বর ১, ২০২৬
অস্থিরতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ
অস্থিরতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

<p>পোশাকশ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে শ্রমিকদের আন্দোলনকে ব্যবহার করে রাজধানীর মিরপুর, সাভার ও গাজীপুরে সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। </p><p>আজ রোববার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।</p><p> ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে এ বৈঠক হয়। এতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং বিএনপির শ্রমিক সংগঠন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।</p><p>স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘শ্রমিকদের আন্দোলনকে ব্যবহার করে যারা দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনিভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা পেয়েছি। ইতিমধ্যে সব বাহিনীকে সে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা বেশ কিছুদিন ধরে লক্ষ করছি, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অনেকে এ অস্থিরতা সৃষ্টির সঙ্গে সম্পৃক্ত। কিছু আওয়ামী লীগ-সমর্থক ব্যবসায়ীরও ইন্ধন ছিল। আমরা তাঁদের চিহ্নিত করেছি।’</p><p>সরকারের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায়, কয়েক দিন ধরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন পর্যবেক্ষণ করছিল সরকার। আন্দোলনটি শ্রমিকদের প্রকৃত অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ, নাকি এর নেপথ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা রয়েছে, তা বোঝার চেষ্টা করা হয়। সরকার নিশ্চিত হয়েছে, এ আন্দোলনের পেছনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। ইতিমধ্যে এ ঘটনায় অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-01/mqmyh31i/Untitled-5.jpg"><figcaption>রোববার রাতে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তৈরি পোশাকশিল্পের পর্যালোচনা-সংক্রান্ত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ</figcaption></figure><p>সূত্রগুলোর ভাষ্য, আওয়ামী লীগ-সমর্থক ব্যবসায়ীদের মালিকানাধীন পোশাক কারখানাগুলোর বেশির ভাগ সকালে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে শ্রমিকেরা রাস্তায় নামার সুযোগ পান।</p><p>আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, ঢাকা ও গাজীপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা যুক্ত হয়েছেন। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ছাত্রলীগের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সাজমুল ইসলাম একটি মিছিলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে মিছিল করার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় সেখান থেকে আওয়ামী লীগ, শ্রমিক লীগ ও ছাত্রলীগের ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজধানীর মিরপুর থেকে এসব সংগঠনের আরও ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/6upjlmbuka">পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী</a></aside><p>এ পরিস্থিতিতে আজ দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। শ্রমিক আন্দোলনের পরিস্থিতির কারণে নিজের সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরও বাতিল করেন শ্রমমন্ত্রী। এর আগে সকালে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন শ্রমমন্ত্রী।</p><p>আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সরকার আগেই সংবাদমাধ্যম এবং শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় রোববার মজুরি বোর্ড গঠনের কথা জানিয়েছিল। এরপরও শ্রমিকদের সড়কে অবস্থানের কারণে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এ সময় আন্দোলনরত শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।</p>

নভেম্বর ১, ২০২৬
অন্য আসামিদের সঙ্গে জিয়াউলকে আনলে সবাই আক্রান্ত হতে পারেন—এই বুদ্ধি কোথায় পেলেন: প্রসিকিউশনকে প্রশ্ন ট্রাইব্যুনালের
অন্য আসামিদের সঙ্গে জিয়াউলকে আনলে সবাই আক্রান্ত হতে পারেন—এই বুদ্ধি কোথায় পেলেন: প্রসিকিউশনকে প্রশ্ন ট্রাইব্যুনালের

<p>অন্য আসামিদের সঙ্গে একই গাড়িতে সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে আনা-নেওয়া করা হলে সেই গাড়ির সবাই আক্রান্ত হতে পারেন—এমন বুদ্ধি প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ) কোথায় পেয়েছে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।</p><p> রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার একজন আসামি জিয়াউল আহসান। ট্রাইব্যুনাল-২-এ আজ রোববার এই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানির দিন ধার্য ছিল।</p><p>শাপলা চত্বরের এই মামলার মোট ৪১ আসামির মধ্যে জিয়াউল আহসানসহ ১১ জন গ্রেপ্তার আছেন। আজকের শুনানিতে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক ও জিয়াউল আহসান ছাড়া অন্য নয় আসামিকে হাজির করা হয়। শহীদুল হক অসুস্থ থাকায় তাঁকে আজ ট্রাইব্যুনালে আনা হয়নি। আর জিয়াউল আহসানকে না আনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চান ট্রাইব্যুনাল।</p><p>প্রশ্ন করে ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘আমরা যদি একজন আসামিকে জেল থেকে নিয়ে আসি, তাহলে সেটা অ্যাবিউজ অব পাওয়ার (ক্ষমতার অপব্যবহার) হবে?’ তখন প্রসিকিউটর মোহাম্মদ জহিরুল আমিন বলেন, ‘আসামি যদি গড়িমসি করেন, বিচার ব্যাহত করতে চান?’</p><p>জবাবে ট্রাইব্যুনাল বলেন, কোনো আসামি কি নিজের ইচ্ছায় আসতে চায়? তাদের আনতে হয়।</p><p>পরে ট্রাইব্যুনাল বলেন, তামীম (প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম), আপনি আসেন। কোথায় ভার্চ্যুয়ালের কথা বলা আছে?</p><p>আসামি জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে না আনার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম বলেন, জিয়াউল আহসানকে একাই একটি গাড়িতে আনা-নেওয়া করা হতো। একা গাড়িতে আনা-নেওয়া করায় জীবননাশের আশঙ্কা করে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেন জিয়াউল। তাঁর আবেদন ছিল, অন্য আসামিদের সঙ্গে যেন তাঁকে আনা-নেওয়া করা হয়।</p><p>প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার বলেন, জিয়াউল নিরাপত্তাহীনতার যে কথা বলেছেন, সেটার সঙ্গে প্রসিকিউশন একমত। পাশাপাশি প্রসিকিউশন আবেদন করেছে, অন্য সব আসামির সঙ্গে জিয়াউলকে আনা-নেওয়া করলে অন্যরাও আক্রান্ত হতে পারেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর জিয়াউলকে কারাগার থেকে ভার্চ্যুয়ালি বিচারকাজে অংশ নেওয়ার আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। এই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে জিয়াউলকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়নি।</p><p>এদিকে শতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও খুনের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করার সময় আসামি জিয়াউল আহসান আজ ট্রাইব্যুনাল-১-এ ভার্চ্যুয়ালি হাজির ছিলেন।</p><p>অন্যদিকে ট্রাইব্যুনাল-২ বলেন, অন্য আসামিদের সঙ্গে একই গাড়িতে জিয়াউলকে আনা-নেওয়া করা হলে সেই গাড়ির সবাই আক্রান্ত হতে পারেন—এমন বুদ্ধি প্রসিকিউশন কোথায় পেয়েছে।</p><p>এর জবাবে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার বলেন, তাঁর বক্তব্য ঠিকই আছে। যেহেতু জিয়াউল আহসান নিজের জীবননাশের আশঙ্কা করছেন, সেহেতু অন্যদের সঙ্গে আনলে তাঁরাও একই ধরনের ঝুঁকিতে থাকেন।</p><p>ট্রাইব্যুনাল বলেন, এ বিষয়ে তাঁরা আরও শুনতে চান। এ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে ১২ নভেম্বর।</p><p>এ মামলায় আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির ছিলেন আসামি সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক কৃষিমন্ত্রী মো. আবদুর রাজ্জাক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মো. শামসুল হক টুকু, শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি মোহা. আবদুল জলিল মণ্ডল, একাত্তর টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু ও একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।</p>

নভেম্বর ১, ২০২৬
অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অব্যাহতি পাওয়া জামায়াত নেতার বাড়ি ভাঙচুর
অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অব্যাহতি পাওয়া জামায়াত নেতার বাড়ি ভাঙচুর

অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অব্যাহতি পাওয়া জামায়াত নেতার বাড়ি ভাঙচুর

নভেম্বর ১, ২০২৬
নেতানিয়াহুকে হটাতে আরব দলগুলোকে সঙ্গে চান ইয়ার গোলান, নেতাদের সঙ্গে বৈঠকও করছেন
নেতানিয়াহুকে হটাতে আরব দলগুলোকে সঙ্গে চান ইয়ার গোলান, নেতাদের সঙ্গে বৈঠকও করছেন

<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-31/7njh1otz/Yair-Golan.jfif"><figcaption>রাআম দলের প্রধান মনসুর আব্বাসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ডেমোক্র্যাটস দলের চেয়ারম্যান ইয়ার গোলান। ২৯ অক্টোবর ২০২৬</figcaption></figure><p> ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হটাতে আরব-ইসরায়েলি রাজনৈতিক দলগুলোর জোট ‘জয়েন্ট লিস্ট’–এর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন ডেমোক্র্যাটস দলের চেয়ারম্যান ইয়ার গোলান। সম্ভাব্য জোট সরকার গঠনের বিষয়ে তিনি জয়েন্ট লিস্টের দুই নেতা ইউসেফ জাবারিন ও আহমাদ তিবির সঙ্গে কথা বলেছেন। হাদাশ, তাআল ও বালাদ দলের সমন্বয়ে গঠিত এই জোট মূলত আরব–ইসরায়েলি জনগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে রাজনীতি করে।</p><p> গত সপ্তাহের অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনে নেতানিয়াহুর ক্ষমতাসীন জোট সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন পেতে ব্যর্থ হয়। এর পর থেকে তাঁকে হটাতে গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের জোর তৎপরতা চলছে। আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোটে আছেন গোলান। তিনি আগেই আরেক আরব দল রাআমের চেয়ারম্যান মনসুর আব্বাস এবং অন্যান্য বিরোধী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। নেতানিয়াহুবিরোধী শিবিরের মধ্যে গোলানই একমাত্র নেতা, যিনি সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সঙ্গে প্রকাশ্যে সহযোগিতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/7bk9qdxsqe">নেতানিয়াহুকে সরাতে এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের প্রস্তাব আনতে পারে বিরোধী জোট</a></aside><p>এর আগে মিডল ইস্ট আইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জয়েন্ট লিস্টের নেতা আহমাদ তিবি বিরোধী জোটের নেতা গাদি আইজেনকটকে রাজনৈতিক সাহস দেখিয়ে সংখ্যালঘু সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাআল পার্টির প্রতিষ্ঠাতা তিবি বলেন, এবার নেসেটে ফিলিস্তিনি আরব প্রতিনিধিদের সঙ্গে সহযোগিতা না করার কোনো গণতান্ত্রিক যুক্তি নেই। তিনি নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সঙ্গে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করে দেন। নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে আইজেনকট এগিয়ে এলে তাঁরা বাইরে থেকে সেই সরকারকে সমর্থন দিতে প্রস্তুত বলে জানান।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/tq7g9eddfc">আরেকটি নির্বাচন আয়োজন ভুল হবে বলে আইজেনকট সরকার গঠনে কি আরব দলের সঙ্গে জোটের ইঙ্গিত দিলেন</a></aside><p><br>ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের ১২০ আসনের মধ্যে জয়েন্ট লিস্ট ১১টি এবং রাআম ৮টি আসন পেয়েছে। সব মিলিয়ে আরব দলগুলোর আসন দাঁড়িয়েছে ১৯টিতে। বিপরীতে নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট পেয়েছে ৫৩টি এবং আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। এই বিরোধী জোটে ইয়ার গোলানের দল দ্য ডেমোক্র্যাটস পেয়েছে ৮টি আসন। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন কোনো পক্ষের হাতেই নেই। ফলে আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া নেতানিয়াহুর বিদায় নিশ্চিত করে বিকল্প সরকার গড়া বিরোধীদের পক্ষে কার্যত অসম্ভব।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/75dmmzx96e">ইসরায়েলের নির্বাচনে ‘কিংমেকার’ কে এই আব্বাস, নেতানিয়াহুকেও সরিয়েছিলেন তিনি</a></aside>

নভেম্বর ১, ২০২৬
সাফল্য ধরে রেখে এইচএসসিতেও জিপিএ–৫ পেলেন অদম্য মেধাবী সাদিয়া তাসনিম
সাফল্য ধরে রেখে এইচএসসিতেও জিপিএ–৫ পেলেন অদম্য মেধাবী সাদিয়া তাসনিম

<p>সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এসএসসির পর এইচএসসিতেও জিপিএ–৫ পেয়েছেন সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার অদম্য মেধাবী মোছা. সাদিয়া তাসনিম সিথি। তিনি উপজেলা সদর ধানগড়া মহিলা কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এর আগে উপজেলা সদরের ধানঘরা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষাতেও জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন।</p><p> এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলের পর কলেজে পড়ার খরচ চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছিলেন মা–বাবাসহ পরিবারের সবাই। এ সময় তাঁর পাশে দাঁড়ায় প্রথম আলো। ‘ব্র্যাক ব্যাংক-প্রথম আলো ট্রাস্টের’ বৃত্তি লাভ করায় পড়ালেখার খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তা দূর হয় তাঁর।</p><p>সাদিয়া উপজেলার রায়গঞ্জ পৌরসভার ঝাপড়া চকমথুর এলাকার মো. সরওয়ার্দী সরকার ও মোছা. ফেরদৌসী বেগম দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান। বসতবাড়ি আর সামান্য চাষের জমি তাঁদের সম্বল। পরিবারের বড় ছেলে সুলতানুল আরেফিন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির শিক্ষার্থী।</p><p>পড়ালেখায় বরাবরই ভালো সিথি। ধানগড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বর্তমানে রাজশাহী শহরে থেকে কোচিং করছেন সাদিয়া তাসনিম।</p><p>এইচএসসি পরীক্ষার ফল ঘোষণার পর মুঠোফোনে কথা হয় সাদিয়ার সঙ্গে। ভালো ফলের জন্য মা–বাবা ও শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই সফলতা আমাকে আমার ভবিষ্যৎ গড়তে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। জীবনের প্রতিকূলতায় কিছু মাধ্যম থাকে, যার মাধ্যমে মহান আল্লাহ তা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করেন। ঠিক সে রকমই আমার পাশে ছিল ব্র্যাক ব্যাংক-প্রথম আলো ট্রাস্ট, যার সমর্থন মূলত আমাকে এ পর্যন্ত আসতে অনুপ্রাণিত করেছে। আশা করি, তাদের সমর্থন আমাকে ভবিষ্যতেও এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।’</p><p>সিথির মা বলেন, ‘দুই সন্তানই পড়াশোনায় ভালো। ছেলেটা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছে। মেয়েটাও এবার আইএ পরীক্ষায় ভালো ফল করেছে। এখন অপেক্ষা ভালো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার।’ এ জন্য সবার কাছে মেয়ের জন্য দোয়া কামনা করেন তিনি। মেয়ের এইচএসসি পড়ালেখার সময় ব্র্যাক ব্যাংক-প্রথম আলো ট্রাস্ট বৃত্তি দিয়ে খুব উপকার করেছে বলে জানান তিনি।</p><p>রায়গঞ্জ উপজেলা সদর ধানগড়া মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মাসুদ রানা বলেন, অদম্য মেধাবী সাদিয়া তাসনিম জিপিএ-৫ পেয়ে কলেজের সুনাম বৃদ্ধি করেছেন।</p>

নভেম্বর ১, ২০২৬
এক দিনের নোটিশে বাসাছাড়া, কাল সেমিস্টার ফাইনাল
এক দিনের নোটিশে বাসাছাড়া, কাল সেমিস্টার ফাইনাল

<p>ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার ও পরিবেশনা কলা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আনিয়া আক্তার। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে আসন না পেয়ে বাধ্য হয়ে প্রায় দুই বছর ধরে রাজধানীর আজিমপুর সরকারি কলোনিতে সাবলেট থাকতেন। কিন্তু সরকারি আবাসন থেকে সাবলেট ও ভাড়াটেদের সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশের পর হঠাৎ করেই বাসা ছাড়তে হয়েছে তাঁকে। আগামীকাল তাঁর সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা। এর মধ্যে নতুন বাসা খোঁজা, জিনিসপত্র সরানো এবং পড়াশোনার প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে দিশাহারা এই শিক্ষার্থী।</p><p> গত বৃহস্পতিবার আনিয়াকে জানানো হয়, ভাড়াটেদের বাসা ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ এসেছে। তখন তিনি নাটকের মহড়ায় ছিলেন। পরদিন শুক্রবার রাতে বাড়িওয়ালা (সরকারি আবাসনে বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তি) তাঁকে জানান, ৩১ অক্টোবরের মধ্যেই বাসা ছাড়তে হবে। কীভাবে জিনিসপত্র সরাবেন, কোথায় যাবেন—তা নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা জানালেও বাড়িওয়ালার কাছ থেকে কোনো সহায়তা পাননি বলে জানান তিনি।</p><p>আনিয়া বলেন, ‘২ নভেম্বর (সোমবার) থেকে আমার সেমিস্টার ফাইনাল। জিনিসপত্র গোছাব কখন, যাব কীভাবে, কোথায় যাব? এসব বলার পর বাড়িওয়ালার স্ত্রী বলেন, কিছু করার নেই। যদি ধরা পড়ে যাই, আমাদের বাসা বাতিল হতে পারে, আমার স্বামীর চাকরি নিয়ে সমস্যা হতে পারে।’</p><p>গতকাল শনিবার আজিমপুর সরকারি কলোনিতে সাবলেটে থাকা শিক্ষার্থীদের বাসা ছাড়তে দেখা যায়। সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, ৩১ অক্টোবরের পর সরকারি ফ্ল্যাটে সাবলেট বা ভাড়াটে পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট সরকারি চাকরিজীবীর বাসা বরাদ্দ বাতিলসহ শাস্তিমূলক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে অনেক শিক্ষার্থী নতুন বাসা না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-01/9e6z8gd5/House-shifting%E2%80%932.jpeg"><figcaption>নির্দেশনা অনুযায়ী আবাসন এলাকা ছেড়ে যাচ্ছেন ভাড়াটেরা। কেউ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় আবার কেউ ভ্যানে করে খাট-বিছানাসহ ঘরের প্রয়োজনীয় আসবাব নিয়ে নতুন গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। ঢাকা, ৩১ অক্টোবর ২০২৬</figcaption></figure><p><strong>সারা রাত চেষ্টা করেও ট্রাক পাওয়া যায়নি</strong></p><p>আনিয়া জানান, মাসের শুরুতেই তিনি বাসাভাড়া অগ্রিম দিয়েছিলেন। অথচ তাঁকে বাসা ছাড়ার জন্য কার্যত এক দিনের সময় দেওয়া হয়। ঢাকায় একা থাকা এই শিক্ষার্থীর জিনিসপত্রও ছিল অনেক। পরিবেশনা কলার শিক্ষার্থী হওয়ায় নাটকের কাজের বিভিন্ন সরঞ্জামও তাঁকে সরাতে হয়েছে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি কখনো ট্রাক ম্যানেজ করিনি। জানি না কীভাবে কী করতে হয়। সারা রাত তিন-চারটা অ্যাপে চেষ্টা করেও ট্রাক পাইনি।’</p><p>পরদিন সবকিছু গুছিয়ে শনিবার দুপুর দুইটা পর্যন্ত বসে ছিলেন আনিয়া। কিন্তু জিনিসপত্র কোথায় নেবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। একবারে সব সরিয়ে নিতে বলা হয়েছিল। হঠাৎ এ ধরনের পরিস্থিতিতে কাউকে সাহায্যের জন্য পাওয়াও কঠিন। শেষ পর্যন্ত তাঁর জিনিসপত্র এক বন্ধুর বাসায় রেখেছেন। নিজে উঠেছেন মোহাম্মদপুরে এক আত্মীয়র বাসায়। এতে জিনিসপত্র স্থানান্তরের জন্য বড় অঙ্কের টাকা খরচ হয়েছে। নিজে উপার্জন না করায় পরিবারের ওপরও এর আর্থিক চাপ পড়েছে।</p><p><strong>পড়ার পরিবেশ নেই, সামনে পরীক্ষা</strong></p><p>আনিয়ার সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা এখন পরীক্ষা। আগামীকাল থেকে তাঁর সেমিস্টার ফাইনাল শুরু হবে। ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা ব্যস্ত সূচি। এই সময়ের মধ্যে নতুন বাসা খোঁজা, বাসা বদলানো ও পড়াশোনা—সবকিছু একসঙ্গে সামলানো তাঁর পক্ষে কঠিন।</p><p>আনিয়া যে আত্মীয়র বাসায় উঠেছেন, সেখানে থাকার জায়গাটি মূলত একটি ডাইনিংরুম। সেখানে আলো ও পাখার ব্যবস্থা নেই। ঘরটি পরিষ্কার করতেও তাঁকে সারা রাত ব্যয় করতে হয়েছে। শিশুসহ সেই পরিবারের পাঁচজন সদস্য এ বাসায় থাকেন। ফলে নিজের মতো করে পড়াশোনার পরিবেশ তৈরি করার কোনো সুযোগ নেই।</p><p>আক্ষেপ করে আনিয়া বলেন, ‘আগামীকাল পরীক্ষা, এখন বাসা খুঁজব নাকি পরীক্ষার পড়া পড়ব?’ তিনি জানান, বন্ধুর বাসায় ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকতে পারবেন কি না, তা জানতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বন্ধুরও নিজস্ব সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফলে সেখানেও দীর্ঘদিন থাকার নিশ্চয়তা নেই।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-01/pux13u6h/House-shifting%E2%80%933.jpeg"><figcaption>আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী আবাসনের (জোন-বি) প্রধান ফটক দিয়ে ভারী আলমারি, চেয়ার ও তোশক-লেপবোঝাই ভ্যান টেনে নিয়ে যাচ্ছেন এক চালক। শেষ দিনে তড়িঘড়ি করে বাসা বদল করতে গিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন ভাড়াটিয়া ও ভ্যানচালকেরা। ঢাকা, ৩১ অক্টোবর ২০২৬</figcaption></figure><p><strong>নিরাপত্তা ও যাতায়াতের দুশ্চিন্তা</strong></p><p>আজিমপুর সরকারি কলোনিতে থাকার একটি বড় সুবিধা ছিল নিরাপত্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি অবস্থান। আনিয়ার নাটকের মহড়া অনেক সময় রাত ১২টা পর্যন্ত চলে। মোহাম্মদপুর থেকে এত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন তিনি। আনিয়া বলেন, ‘রাত ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মোহাম্মদপুরে আসা একজন নারীর জন্য কতটুকু নিরাপদ, এটাও তো বুঝতে হবে।’</p><p>আনিয়ার হিসাব অনুযায়ী, মোহাম্মদপুর থেকে প্রতিদিন রিকশায় যাতায়াতেই প্রায় ৪০০ টাকা খরচ হয়। এর সঙ্গে খাবারের ব্যয়ও রয়েছে। আবাসন বদলের কারণে শুধু থাকার জায়গাই হারাননি, বেড়েছে দৈনন্দিন খরচও।</p><p>ছাত্রী হোস্টেলকে বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করলেও খরচের কারণে সেখানে ওঠা কঠিন। তাঁর ভাষ্য, এক কক্ষে তিন থেকে চারটি বিছানা থাকে। বিছানার সঙ্গে যুক্ত টেবিলে বসেই পড়তে হয়। শুধু থাকার জন্য মাসে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা ব্যয় করা একজন শিক্ষার্থীর পক্ষে কঠিন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-01/tnjd0pq3/House-shifting%E2%80%934.jpeg"><figcaption>১২ নম্বর ভবনের প্রবেশমুখে রাখা প্লাস্টিকের আলমারি এবং সামনে দাঁড়িয়ে থাকা রিকশায় স্তূপ করে রাখা গৃহস্থালির নানা জিনিসপত্র। ৩১ অক্টোবরের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে বাসা খালি করার তোড়জোড় দেখা যায় সর্বত্র। ঢাকা, ৩১ অক্টোবর ২০২৬</figcaption></figure><p><strong>আবাসনসংকটের চাপে শিক্ষার্থীরা</strong></p><p>আনিয়ার মতে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে আসন না পাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের আশপাশে সাবলেট থাকতে হয়। বিশেষ করে ছাত্রীদের জন্য দূরে থাকা কঠিন। কিন্তু বিকল্প না থাকায় অনেককে অস্বাস্থ্যকর ও অস্বস্তিকর পরিবেশেও থাকতে হয়।</p><p>আজিমপুর কলোনিতে থাকাকালে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা ছিল। শরীয়তপুর থেকে বাবা খাবার নিয়ে এলেও তাঁকে নিজের কক্ষে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি ছিল না বলে জানান আনিয়া। রান্নাঘর ও ফ্রিজ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও অসহযোগিতার অভিযোগ করেন তিনি। তারপরও কলোনিতে থাকাটাকে তুলনামূলক নিরাপদ মনে হতো তাঁর। এখন সেই আশ্রয় হারিয়ে পরীক্ষা, খরচ ও নিরাপত্তা—তিনটি দুশ্চিন্তা একসঙ্গে সামলাতে হচ্ছে।</p><p>আনিয়ার অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, আবাসনসংকট শুধু মাথা গোঁজার জায়গার অভাব নয়; এটি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, মানসিক সুস্থতা, আর্থিক সামর্থ্য ও নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত। সরকারি আবাসনে ভাড়া দেওয়ার নিয়ম বাস্তবায়নের পাশাপাশি আবাসনহীন শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা কতটা জরুরি, তাঁর পরিস্থিতি সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-01/d0aww9cr/House-shifting%E2%80%935.jpeg"><figcaption>সরকারি আবাসন থেকে নিজেদের মালপত্র সরিয়ে নিচ্ছেন সাবলেট থাকা ভাড়াটেরা। একজনের হাতে প্লাস্টিকের ঝুড়ি, অন্যজন কাঁধে তোশক নিয়ে রিকশার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। ঢাকা, ৩১ অক্টোবর ২০২৬</figcaption></figure><p><strong>হোস্টেলে ফিরছেন ছাত্রীরা</strong></p><p>আজিমপুরের ছাত্রী হোস্টেলগুলোতেও আবার আসন খুঁজতে শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা। সরকারি আবাসিক কলোনিতে সাবলেট থাকা ছাত্রীদের বাসা ছাড়ার নোটিশের পর হোস্টেলগুলোতে তাঁদের আসন খোঁজাখুঁজি বেড়েছে।</p><p>আজিমপুরে আনুষ্ঠানিক নাম না থাকলেও ‘মুগ্ধ ছাত্রী হোস্টেল’ নামে পরিচিত একটি হোস্টেল পরিচালনা করেন মুক্তা। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, একসময় ছাত্রীরা মূলত তাঁদের হোস্টেলগুলোতেই থাকতেন। কিন্তু আজিমপুরে নতুন সরকারি কলোনি গড়ে ওঠার পর সেখানকার বাসিন্দারা সাবলেট ও ফ্ল্যাট ভাড়া দিতে শুরু করেন। এরপর গত তিন-চার বছরে হাজার হাজার ছাত্রী হোস্টেল ছেড়ে কলোনিতে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেন।</p><p>মুক্তা জানান, গত ১৭ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী কলোনি পরিদর্শন করেন। এর পর থেকেই ছাত্রীদের বাসা ছাড়ার মৌখিক নোটিশ আসতে শুরু করে। গত বৃহস্পতিবার সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির পর ছাত্রীরা আবার হোস্টেলে আসন খুঁজতে শুরু করেন। তবে গতকাল থেকে তাঁদের হোস্টেলে ওঠার সংখ্যা অনেক বেড়েছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-01/oybkilm2/House-shifting%E2%80%936.jpeg"><figcaption>ভ্যানে ড্রয়ার, স্যুটকেসসহ ভারী আসবাবপত্র তুলছেন শ্রমিকেরা। পাশে দাঁড়িয়ে মুঠোফোনে কথা বলার পাশাপাশি মালপত্র ও পোষা বিড়ালের দিকে খেয়াল রাখছেন বাসা ছেড়ে দেওয়া এক তরুণী। ঢাকা, ৩১ অক্টোবর ২০২৬</figcaption></figure><p>ছাত্রীরা কলোনিতে চলে যাওয়ায় হোস্টেল পরিচালনাকারীদেরও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে বলে জানান মুক্তা। তাঁর ভাষ্য, হোস্টেল ব্যবসায় তাঁর প্রায় এক কোটি টাকা বিনিয়োগ ছিল। কিন্তু ছাত্রী না থাকায় ব্যবসা সংকুচিত করতে হয়েছে। আগে ২৫টি ভবনে কার্যক্রম থাকলেও এখন তা কমে ১০টি ফ্ল্যাটে এসে ঠেকেছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।</p><p>মুক্তা বলেন, ‘আমাদের ৪৫ জন কর্মী ছিলেন, এখন মাত্র তিনজন আছেন।’ তাঁর মতে, এই খাতের সঙ্গে যুক্ত অন্য উদ্যোক্তারাও একই পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন। ব্যবসা সংকুচিত হওয়ায় অনেক কর্মী কাজ হারিয়েছেন, যার প্রভাব পড়েছে তাঁদের পরিবারের ওপরও।</p><p>তবে শিক্ষার্থীরা আবার হোস্টেলে ফিরতে শুরু করায় নতুন করে আবাসনের চাহিদা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন মুক্তা। তিনি জানান, তাঁর হোস্টেলে পর্যাপ্ত আসন ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। দুই, তিন ও চার আসনের কক্ষে থাকার ব্যবস্থা আছে। প্রতি আসনের ভাড়া দুই থেকে তিন হাজার টাকা। খাবারের জন্য মিলের ব্যবস্থা রয়েছে। চাইলে শিক্ষার্থীরা নিজেরা বাজার করে রান্নাও করতে পারবেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/4mgf9emi1r"> হঠাৎ উচ্ছেদ নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাসা ছাড়তে এক মাস সময় দেওয়ার দাবি</a></aside>

নভেম্বর ১, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

পোশাকের ট্যাবু ভেঙে ‘সংস্কৃতির সমতার’ বার্তায় যবিপ্রবিতে ‘লুঙ্গি প্যারেড’

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।