সোমবার ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে এ আবেদনের ওপর শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। শেয়ার অবমুক্ত করার আবেদনের বিরোধিতা করবে দুদক।
হুরুন ইন্ডিয়ার ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, শাহরুখের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার কোটি রুপি বা ১৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।
প্রতিষ্ঠানটির ১৫ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও প্রথম ব্যাচের সব শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনা নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছে।
<p>দ্রুত পরিবর্তনশীল কর্মক্ষেত্রে কর্মীদের মানসিক চাপ কমাতে বড় ভরসা হয়ে উঠছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। দেশের বেসরকারি খাতের প্রায় ৫৫ শতাংশ বা অর্ধেকের বেশি কর্মী বর্তমানে এআই ব্যবহার করছেন। আর যাঁরা এআই ব্যবহার করছেন, তাঁদের প্রায় সবাই এর সুফল নিয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক মতামত দিয়েছেন।</p><p> বহুজাতিক বিমা প্রতিষ্ঠান মেটলাইফ বাংলাদেশের করা সর্বশেষ ‘এমপ্লয়ি বেনিফিট ট্রেন্ডস স্টাডি (ইবিটিএস) ২০২৬’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।</p><p> রোববার দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে মেটলাইফ বাংলাদেশের কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে এই জরিপের তথ্য প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মেটলাইফ বাংলাদেশের হেড অব মার্কেটিং অ্যান্ড প্রোডাক্ট নওফেল আনোয়ার, হেড অব কমিউনিকেশনস সাইফুর রহমান প্রমুখ।</p><p>চলতি বছরের আগস্ট মাসে মেটলাইফের ইবিটিএস ২০২৬ জরিপটি করা হয়। জরিপে দেশের বিভিন্ন খাতের মোট ৭০৯ জনের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে পূর্ণকালীন কর্মী ছিলেন ৫৮৩ জন এবং নিয়োগকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সুবিধাসংক্রান্ত মূল সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ছিলেন ১২৬ জন। তৈরি পোশাক খাত, এনজিও, ব্যাংক, দ্রুত বর্ধনশীল ভোগ্যপণ্য (এফএমসিজি), টেলিকম, খুচরা বিক্রেতা প্রভৃতি খাতের কর্মীরা জরিপে তথ্য দিয়েছেন।</p><p>জরিপের তথ্য অনুযায়ী, এআই ব্যবহারকারীদের প্রায় ৯১ শতাংশ মনে করেন যে এটি তাঁদের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ ছাড়া দৈনন্দিন কাজে এআই ব্যবহারের ফলে কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যে ও কর্মদক্ষতায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসছে। যেমন ৫৪ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন যে এআই টুলস তাঁদের কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত মানসিক চাপ কমাতে সরাসরি সাহায্য করছে। প্রায় ৪৮ শতাংশ কর্মী মনে করেন এআই তাঁদের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহায়তা করছে।</p><p>আবার দেখা গেছে ৪৬ শতাংশ কর্মী মনে করেন, কর্মক্ষেত্রে এআই-এর ক্রমবর্ধমান ব্যবহার তাঁদের কাজের অতিরিক্ত বোঝা বা হাতাশা থেকে মুক্ত রাখে। আর প্রায় ৪০ শতাংশ কর্মী জানান, এআই তাঁদের গতানুগতিক কাজের চাপ কমিয়ে আরও বেশি অর্থবহ ও সৃজনশীল কাজে মনোনিবেশ করার সুযোগ করে দিচ্ছে। এ ছাড়া ৩৪ শতাংশ কর্মী মনে করেন এটি তাঁদের মানসিক ক্লান্তি কমানোর পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও ইতিবাচক প্রভাব রাখছে।</p><p><strong>পিছিয়ে আছে করপোরেট সমর্থন</strong></p><p>প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বর্তমানে কর্মীরা এআই ব্যবহারে বেশ দক্ষ। দৈনন্দিন কাজে এআই ব্যবহারকারীদের প্রায় ৮৪ শতাংশই এটি ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। তা সত্ত্বেও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছুটা ধীরগতি বা ব্যবধান রয়ে গেছে। জরিপে অংশ নেওয়া নিয়োগকর্তাদের মধ্যে মাত্র ৫৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠান বর্তমানে কর্মীদের দৈনন্দিন কাজে এআই ব্যবহারে উৎসাহ বা সুযোগ দিচ্ছেন।</p><p>যেসব প্রতিষ্ঠান এখনো কর্মক্ষেত্রে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালুর সঙ্গে যুক্ত নয়, তাদের জন্য আশার কথা হলো এই খাতের প্রায় ৬২ শতাংশ প্রতিষ্ঠানই অদূর ভবিষ্যতে এআই টুলস গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। তারা আগামী ১ থেকে ৫ বছরের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে।</p><p><strong>কর্মীরা চান ‘কেয়ার কালচার’</strong></p><p>গবেষণায় দেখা গেছে, কর্মক্ষেত্রে মানসিক শান্তি ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহানুভূতিশীল সংস্কৃতি বা ‘কেয়ার কালচার’-এর বড় ভূমিকা রয়েছে। জরিপে দেখা গেছে, যেসব প্রতিষ্ঠানে কর্মীরা মনে করেন তাঁদের প্রতি নিয়োগকর্তা বা ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপকদের সহানুভূতি ও যত্ন রয়েছে, সেখানে চাকরির সন্তুষ্টির হার অনেক বেশি। জরিপে এই সন্তুষ্টির হার ৯২ শতাংশ পর্যন্ত পাওয়া গেছে।</p><p>মেটলাইফের জরিপ অনুযায়ী ২০২৬ সালে প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের সার্বিক কাজের সন্তুষ্টির হার হয়েছে ৮৩ শতাংশ। ২০২৫ সালে এই হার ছিল ৭৮ শতাংশ।</p><p><strong>সুরক্ষামূলক সুবিধার বড় ঘাটতি</strong></p><p>প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্মীরা জীবনবিমা, মৃত্যুর বিমা, অক্ষমতা ও গুরুতর অসুস্থতার মতো যেসব সুরক্ষাগুলোকে অত্যন্ত জরুরি বা ‘মাস্ট-হ্যাভ’ মনে করেন এবং নিয়োগকর্তারা বাস্তবে যা প্রদান করেন, তার মধ্যে একটি বড় ব্যবধান রয়ে গেছে।</p><p>উদাহরণস্বরূপ দেখা যায়, জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৭৩ শতাংশ কর্মী জীবন বিমা অত্যন্ত জরুরি মনে করলেও মাত্র ৩৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে এর বাস্তব প্রয়োগ রয়েছে। একইভাবে স্থায়ী পঙ্গুত্ব ও গুরুতর অসুস্থতার বিমা সুবিধার ক্ষেত্রেও কোম্পানিগুলোর সুবিধা প্রদানে বড় ঘাটতি রয়েছে।</p><p>মেটলাইফ বাংলাদেশের হেড অব মার্কেটিং অ্যান্ড প্রোডাক্ট নওফেল আনোয়ার বলেন, করোনার সময় থেকে স্বাস্থ্য নিয়ে মানুষের উদ্বেগ ও সচেতনতা বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গু নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এ ছাড়া দেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কিডনি রোগী, হৃদ্রোগ, ক্যানসারসহ জটিল রোগে আক্রান্ত মানুষ উদ্বেগে রয়েছেন। এসব রোগের চিকিৎসা বেশ ব্যয়বহুল। এ জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রতিষ্ঠান থেকে বিশেষ সুবিধা প্রত্যাশা করেন। কর্মীরা এ ধরনের সুবিধা যত বেশি পাবেন, তত বেশি প্রতিষ্ঠানের প্রতি অনুগত হন।</p>
কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলে রেসিং সান্তান্দারকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে লা লিগায় নিজেদের জয়ধারা অব্যাহত রেখেছে রিয়াল মাদ্রিদ।
জাতীয় যুব সম্মেলনে গঙ্গার পানিবণ্টন, সংবিধান সংস্কার ও মাতারবাড়ী চুক্তি নিয়ে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
<p>নিজের বাড়িতে ফিরতে না পারলে মানুষ কোথায় আশ্রয় খোঁজে? আফগান চলচ্চিত্র নির্মাতা শাহরভানু সাদাতের কাছে সেই আশ্রয় তাঁর নিজের শরীর। অন্যদিকে নির্বাসিত ইরানি নির্মাতা মোহাম্মদ রাসুলোফের কাছে বড় হয়ে উঠেছে ভাষার সংকট। মাতৃভাষার সূক্ষ্ম অনুভূতি অন্য ভাষায় কতটা প্রকাশ করা সম্ভব? বাস্তুচ্যুতির এই দুই অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে তাঁদের নির্মিত দুটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে।</p><p>গত ৩০ অক্টোবর ৩৯তম টোকিও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের হিউলিক হলে ডিসপ্লেসমেন্ট ফিল্ম ফান্ডের (ডিএফএফ) সহায়তায় নির্মিত পাঁচটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের জাপান প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়। প্রদর্শনী শেষে আলোচনায় অংশ নেন তহবিলের সহপ্রতিষ্ঠাতা অস্ট্রেলীয় অভিনেত্রী কেট ব্ল্যানশেট, ‘সেন্স অব ওয়াটার’-এর পরিচালক মোহাম্মদ রাসুলোফ ও ‘সুপার আফগান জিম’-এর পরিচালক শাহরভানু সাদাত। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাপানি অভিনেতা কোজি ইয়াকুশো।<br> ২৬ অক্টোবর শুরু হওয়া উৎসবের এই আয়োজনে গুরুত্ব পায় বাস্তুচ্যুত নির্মাতাদের কাজের সুযোগ ও স্বাধীনভাবে গল্প বলার অধিকার।</p><p>প্রদর্শিত পাঁচটি চলচ্চিত্র হলো মারিনা এর গরবাচের ‘রোটেশন’, শাহরভানু সাদাতের ‘সুপার আফগান জিম’, হাসান কাট্টানের ‘অ্যালাইজ ইন এক্সাইল’, মো হারাওয়ের ‘হুইসপার্স অব আ বার্নিং সেন্ট’ এবং মোহাম্মদ রাসুলোফের ‘সেন্স অব ওয়াটার’।</p><p><br>একই দিন টোকিও মিডটাউন হিবিয়া হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ব্ল্যানশেট ও দুই নির্মাতার সঙ্গে ছিলেন রটারডাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্লেয়ার স্টুয়ার্ট এবং ইউনিক্লোর মূল প্রতিষ্ঠান ফাস্ট রিটেইলিংয়ের পরিচালক ও সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার কোজি ইয়ানাই।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-01/bc0rznqo/91q4agpr.JPG"><figcaption>জাপানি অভিনেতা কোজি ইয়াকুশো, কেট ব্লানচেট, টিফের পরিচালক হিসামাতসু তাকেওসহ ডিএফএফ ফিল্ম ফান্ড সংশ্লিষ্ট অন্যরা</figcaption></figure><p><strong>যেভাবে শুরু চলচ্চিত্র তহবিল</strong><br>ডিসপ্লেসমেন্ট ফিল্ম ফান্ডের ভাবনা আসে কয়েক বছর আগে গ্লোবাল রিফিউজি ফোরামে। সেখানে দেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়া কয়েকজন চলচ্চিত্র নির্মাতার কাজ সম্পর্কে জানতে পারেন ব্ল্যানশেট। তাঁদের আবার চলচ্চিত্র নির্মাণের সুযোগ করে দিতেই উদ্যোগটি নেন তিনি। পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ বেশি এবং সীমাবদ্ধতা তুলনামূলক কম হওয়ায় প্রথমে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রকে বেছে নেওয়া হয়।<br>২০২৫ সালে ব্ল্যানশেট ও রটারডাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের হুবার্ট বালস ফান্ড যৌথভাবে অনুদান কর্মসূচি ঘোষণা করে। ওই বছরের ৫৪তম রটারডাম উৎসবে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ডিএফএফের। কৌশলগত অংশীদার হয় জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর। ব্ল্যানশেট এক দশকের বেশি সময় ধরে সংস্থাটির শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কাজ করছেন।</p><p>প্রতিষ্ঠাতা অংশীদার হিসেবে যুক্ত হয় মাস্টার মাইন্ড, ইউনিক্লো, ড্রোম এন দাদ, টেমার ফ্যামিলি ফাউন্ডেশন ও আমাহোরো কোয়ালিশন। ইউনিক্লো তহবিলটির প্রচারণায়ও সহযোগিতা করছে।</p><p>প্রথম পর্যায়ে ২০২৫ সালে অনুদান পান পাঁচ নির্মাতা—মারিনা এর গরবাচ, মো হারাওয়ে, হাসান কাট্টান, মোহাম্মদ রাসুলোফ ও শাহরভানু সাদাত। তাঁদের চলচ্চিত্রগুলোর বিশ্ব প্রিমিয়ার হয় ২০২৬ সালের রটারডাম উৎসবে।<br>দ্বিতীয় পর্যায়ে এ বছরের কান চলচ্চিত্র উৎসবে নতুন পাঁচ নির্মাতার নাম ঘোষণা করা হয়। তাঁরা হলেন মোহাম্মদ আমের, আনেমারি জাসির, আকুয়ল দে মাবিয়র, বাও নগুয়েন ও রিথি পান।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-01/d8tzp8sx/q3thfzai.JPG"><figcaption>সংবাদ সম্মেলনে ইরানি নির্মাতা মোহাম্মদ রসুলফ</figcaption></figure><p><strong>নির্বাসনে ভাষা, নিজের শরীরে আশ্রয়</strong><br>ইরানি নির্মাতা মোহাম্মদ রাসুলোফের কাছে অভিবাসন নতুন মানুষ ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ। কিন্তু নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে দেশ ছাড়তে হলে সেই অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। নির্বাসনের বিচ্ছিন্নতাবোধ থেকেই তিনি নির্মাণ করেছেন ‘সেন্স অব ওয়াটার’।<br>সংবাদ সম্মেলনে রাসুলোফ জানান, তিন বছর আগে তাঁকে ইরান ছেড়ে নির্বাসনে যেতে হয়। বিদেশে বসবাস শুরুর প্রায় দেড় বছর পর ডিএফএফ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে।<br>দেশ ছাড়ার পর ভাষার গুরুত্ব নতুন করে উপলব্ধি করেন তিনি। তাঁর মতে, ভাষা ও সংস্কৃতি শুধু বক্তব্যের অর্থ নয়, অনুভূতির গভীরতাও বহন করে। অনুবাদে মাতৃভাষার সূক্ষ্মতা হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তাঁকে ভাবিয়েছে। সেই অভিজ্ঞতাই চলচ্চিত্রে তুলে ধরেছেন।</p><p>আফগান নির্মাতা শাহরভানু সাদাতের ‘সুপার আফগান জিম’ তৈরি হয়েছে অন্য এক উপলব্ধি থেকে। শরণার্থী জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমার মতো যার ফেরার কোনো ঘর নেই, তার কাছে আমার আসল ঘর ছিল আমার নিজের শরীর।’<br>ইরানে জন্ম নেওয়া সাদাত পরে আফগানিস্তানে ফিরে যান। কিন্তু প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আবার দেশ ছাড়তে হয় তাঁকে। আশ্রয় নেন জার্মানিতে।<br>সাদাত জানান, আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন জায়গায় লিঙ্গবৈষম্য ও পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার কারণে নারী হিসেবে নিজের ওপর আস্থা রাখতে পারেননি। ১৯ বা ২০ বছর বয়সে ফ্রান্সে গিয়ে নারীদের মাথা উঁচু করে হাঁটতে দেখে তাঁর ভাবনায় পরিবর্তন আসে।<br>নিজের শরীরে স্বাচ্ছন্দ্য ফিরে পাওয়া এবং নিজের মধ্যে আশ্রয় খোঁজার অভিজ্ঞতাই ‘সুপার আফগান জিম’-এর বিষয়। সাদাতের মতে, এটি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত গল্প নয়; আফগানিস্তানসহ বিশ্বের বহু নারীর অভিজ্ঞতার সঙ্গেও মিলে যায়। নিজের জায়গা হারানো মানুষের অনুভূতি তুলে ধরতে চান তিনি।<br><strong>পর্দায় যুদ্ধের ক্ষত ও মানুষের সহনশীলতা</strong><br>আলোচনায় জাপানি অভিনেতা কোজি ইয়াকুশো পরেছিলেন ইউনিক্লোর দাতব্য প্রকল্প ‘পিস ফর অল’-এর টি-শার্ট। তিনি জানান, এই প্রকল্পের টি-শার্ট বিক্রির অর্থ শরণার্থী সহায়তায় ব্যয় হবে।<br>রাসুলোফের ‘সেন্স অব ওয়াটার’ সম্পর্কে ইয়াকুশো বলেন, ছবিটির শান্ত বর্ণনায় ভালোবাসা, যন্ত্রণা ও প্রধান চরিত্রের গভীর মানসিক ক্ষত ফুটে উঠেছে।<br>পাঁচটি চলচ্চিত্রের মধ্যে সাদাতের কাজটি বিশেষ ভারসাম্য এনেছে বলেও মনে করেন তিনি। দীর্ঘ যুদ্ধের ক্ষত বহন করা কাবুলে মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে সংগ্রামের দৃশ্য তাঁকে মনে করিয়ে দিয়েছে মানুষের সহনশীলতার কথা।</p><p>ইয়াকুশোর মন্তব্যের পর তাঁর সঙ্গে আবার কাজ করার ইচ্ছা জানান ব্ল্যানশেট।<br>টোকিওর আগে চলচ্চিত্রগুলো সাও পাওলো ও লন্ডনের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে বলে জানান ব্ল্যানশেট। সংবাদ সম্মেলনে তিনি রটারডাম, সান সেবাস্তিয়ান ও এল গুনায় প্রদর্শনীর কথাও উল্লেখ করেন।<br>বাস্তুচ্যুতিকে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যত বেশি সম্ভব দর্শকের কাছে চলচ্চিত্রগুলো পৌঁছানো প্রয়োজন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-01/la2srm4q/2686d60c_fb8d_4d04_a21b_17835637236b.jpeg"></figure><p><strong>গল্প বলার স্বাধীনতাই সবচেয়ে জরুরি</strong><br>ব্ল্যানশেটের বক্তব্যে বারবার উঠে আসে বাস্তুচ্যুত মানুষের বহুমাত্রিক পরিচয়ের কথা। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি ৬৭ জনের একজন বাস্তুচ্যুত। কিন্তু তাঁদের জীবন শুধু সংকটের গল্পে সীমাবদ্ধ নয়। প্রত্যেকের পেশা, ব্যক্তিগত জীবন, সম্পর্ক ও স্বপ্ন রয়েছে।<br>কোজি ইয়ানাইয়ের সঙ্গে আলোচনায় চলচ্চিত্রগুলোকে মূলধারার দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছেন বলে জানান ব্ল্যানশেট। এ কারণেই ডিএফএফের অনুদানপ্রাপ্ত নির্মাতাদের বিষয় নির্বাচনে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের চলচ্চিত্র যে শুধু বাস্তুচ্যুতি নিয়েই হতে হবে, এমন কোনো শর্ত নেই। নিজেদের অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধি থেকে অন্য গল্পও বলতে পারেন তাঁরা।<br>আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রসঙ্গও আসে সংবাদ সম্মেলনে। শরণার্থী পরিচালক ও প্রযোজকদের চলচ্চিত্র অস্কারে জমা দেওয়ার নিয়ম পরিবর্তন নিয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ব্ল্যানশেট বলেন, বাস্তুচ্যুতির কারণে যাঁদের কর্মজীবন বাধাগ্রস্ত হয়েছে, তাঁদের কাজের স্বীকৃতি ছোট পদক্ষেপ মনে হলেও এর গভীর তাৎপর্য রয়েছে। যৌথ প্রযোজনা ও সাংস্কৃতিক কূটনীতির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সহযোগিতা আরও বাড়বে বলে আশা করেন তিনি।</p><p>দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার ওপর গুরুত্ব দেন কোজি ইয়ানাই। তিনি জানান, ইউনিক্লো ২০ বছরের বেশি সময় ধরে শরণার্থীদের সহায়তা করছে। ডিএফএফের কাজের প্রচার ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে চান তাঁরা। একাডেমির মতো আন্তর্জাতিক পরিসরে তহবিলটির কাজের স্বীকৃতি পাওয়ার উদ্যোগেও সমর্থন দিতে আগ্রহী তিনি।<br>টোকিওতে পাঁচটি চলচ্চিত্রের এই প্রদর্শনী তাই শুধু বাস্তুচ্যুতির অভিজ্ঞতা তুলে ধরেনি, সামনে এনেছে ঘর হারানো মানুষের নিজের গল্প বলার অধিকারও। রাসুলোফ খুঁজেছেন মাতৃভাষার অনুভূতি ধরে রাখার পথ, সাদাত খুঁজেছেন নিজের শরীরে আশ্রয়। ডিএফএফ তাঁদের হারানো বাড়ি বা শহর ফিরিয়ে দিতে পারে না, কিন্তু চলচ্চিত্র নির্মাণের সুযোগ করে দেয়। সেই সুযোগেই নিজেদের গল্প বলার নতুন আশ্রয় খুঁজে পান বাস্তুচ্যুত নির্মাতারা।</p>
<p>শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে সরকার তড়িঘড়ি করে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। এই বোর্ড আলাপ–আলোচনা করে একটা খসড়া মজুরি কাঠামো শ্রম মন্ত্রণালয়কে প্রেরণ করবে। তারপর তা চূড়ান্ত করে মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করলে সেই অনুযায়ী বাড়তি মজুরি পাবেন পোশাকশ্রমিকেরা।</p><p>আজ রোববার শ্রম মন্ত্রণালয় দুই পৃথক প্রজ্ঞাপনে নিম্নতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করার পাশাপাশি তৈরি পোশাকশিল্পের নিম্নতম মজুরি বোর্ডের জন্য মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধি নিয়োগ করা হয়। ছয় সদস্যের বোর্ডের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমান। একটি প্রজ্ঞাপনে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের স্থায়ী সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে যথাক্রমে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন আহমেদকে বোর্ডের নিরপেক্ষ সদস্য করা হয়েছে।</p><p>এদিকে আরেকটি প্রজ্ঞাপনে তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য গঠিত নিম্নতম মজুরি বোর্ডে মালিকপক্ষের প্রতিনিধিত্বকারী সদস্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিজিএমইএ পরিচালক এ বি এম সামছুদ্দিন। আর শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিত্বকারী সদস্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশন (বিজিআইডব্লিউএফ) সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার।</p><p>প্রজ্ঞাপনে কত দিনের মধ্যে মজুরি আলোচনা শেষ করতে হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া নেই। তবে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ অনুযায়ী, কোনো শিল্প খাতের মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য সরকার থেকে নির্দেশ পাওয়ার পর ছয় মাসের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামোর সুপারিশ করার বিধান রয়েছে। তবে বোর্ডের অনুরোধে সময় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।</p><p>সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করার পর বোর্ডের চেয়ারম্যান সভা আহ্বান করেন। সভায় চেয়ারম্যান শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে মজুরি প্রস্তাব জমা দেওয়ার অনুরোধ করেন। প্রস্তাব জমা হওয়ার পর বোর্ডের সদস্যরা আলোচনা করেন। অনেক সময় মজুরি বোর্ডের সদস্যরা প্রয়োজন মনে করলে এক বা একাধিক শিল্পাঞ্চল পরিদর্শন করেন। বোর্ডে আলোচনায় ঐকমত্যের ভিত্তিতে নতুন মজুরি কাঠামোর খসড়া চূড়ান্ত হয়। সেই খসড়ার ওপর আপত্তি বা সুপারিশ নেওয়া হয়। তারপর চূড়ান্ত খসড়া মন্ত্রণালয় পাঠায় নিম্নতম মজুরি বোর্ড।</p><p>তৈরি পোশাকশিল্পে সর্বশেষ নিম্নতম মজুরি বোর্ড হয়েছিল ২০২৩ সালে। ওই বছরের ১ ডিসেম্বর মজুরি কাঠামো কার্যকর করার আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল। ২০২৩ সালের মজুরি বোর্ড ছয়টি সভা করে ওই বছরের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নিম্নতম মজুরির সুপারিশ করেছিল। এরপর ডিসেম্বরে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।</p><p>শ্রম আইন ও গত মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, নবগঠিত মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম আগামী বছরের এপ্রিলে শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর শ্রম আইন সংশোধন করে শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময়কাল পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করেছে।</p><p>পোশাকশ্রমিকদের সর্বশেষ ন্যূনতম মজুরি কার্যকর হয় ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে। তবে শ্রম আইন সংশোধন হওয়ার পর নাকি, আগে থেকে তিন বছরের সময় গণনা করা হবে তা নিয়ে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের ভিন্নমত ছিল। যদিও শ্রমিক আন্দোলনের মুখে সেই ভিন্নমত টেকেনি।</p><p>শ্রমিক সংগঠন ইন্ডাস্ট্রি অল বাংলাদেশ কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন স্বপন প্রথম আলোকে বলেন, চলতি বছর ডিসেম্বরে নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকর করতে হলে গত মে মাসেই মজুরি বোর্ড গঠন করা দরকার ছিল। সেটি না হওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে একধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়। বোর্ড গঠনে দেরি হলেও আগামী মাসের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত করা সম্ভব।</p><p>জানতে চাইলে নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রথম আলোকে বলেন, ‘নতুন মজুরি কাঠামো কীভাবে হবে সে বিষয়ে আইন ও বিধিমালায় সুস্পষ্টভাবে বলা আছে। ফলে কবে নতুন মজুরি কাঠামো দেবে সেটি বোর্ডের সিদ্ধান্ত। তবে সেটি বাস্তবায়নে আমাদের সময় দিতে হবে। আইন অনুযায়ী আরও দুই বছর পর নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা ছিল আমাদের। তবে বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে শ্রমিকদের জীবন চালাতে কষ্ট হচ্ছে। এটি সত্য। একই সঙ্গে শিল্পের সক্ষমতা ও মালিকদের সঙ্গে দর–কষাকষির জন্যও সময় দরকার।’</p><p>তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জন্য ১৯৯৪ সালে প্রথমবার নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার। সেই বোর্ড ৯৩০ টাকা নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করে। ২০০৬ সালে সেটি বৃদ্ধি করে ১ হাজার ৬৬২ টাকা ৫০ পয়সা করা হয়। ২০১০ সালের মজুরি বোর্ডে শ্রমিকের নিম্নতম মজুরি ৩ হাজার টাকা করা হয়। ২০১৩ সালের মজুরি বোর্ড ৫ হাজার ৩০০ টাকা নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করে। সর্বশেষ ২০১৮ সালের মজুরি বোর্ড পোশাকশ্রমিকদের জন্য ৮ হাজার টাকা নিম্নতম মজুরি চূড়ান্ত করে। তার মধ্যে মূল মজুরি ৪ হাজার ১০০ টাকা।</p><p>জানতে চাইলে সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শ্রমিকনেত্রী নাজমা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ‘মজুরি বোর্ড গঠন করতে সরকারের বিলম্ব হয়েছে। সে জন্য শ্রমিকদের একটি অংশ আন্দোলনে নেমেছেন। এখন আমাদের চাওয়া যত দ্রুত সম্ভব আলোচনা করে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত করা হোক।’</p>
জীবনের এতগুলো দায়িত্ব পালন করার পরও তাঁর সংগ্রাম থেমে থাকেনি। বর্তমানে নিজের প্রতিবন্ধী ছেলের দেখাশোনা, ভরণপোষণ এবং সংসারের যাবতীয় দায়িত্ব তাঁকেই সামলাতে হচ্ছে। প্রতিনিয়ত দারিদ্র্য ও প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকা এই মায়ের পরিবারের জন্য এক দিনের খাবারের ব্যবস্থা করেছে ময়মনসিংহ বন্ধুসভা।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।