নিহতের গলায় ফাঁস লাগানোর দাগ রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গৃহবধূর এই মৃত্যু সন্দেহজনক। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, এটা তো একটা ধর্মীয় অনুষ্ঠান, উৎসব তো বটেই, কিন্তু সেটা সেকেন্ডারি। প্রাইমারি হচ্ছে ধর্মীয় যে ঐতিহ্য, সেটাকে ঠিকঠাক রাখা।
চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে সাপটি মেরে ফেলতে উদ্যত হয়। পরে বন বিভাগের হস্তক্ষেপে প্রাণে বেঁচে যায় পরিবেশের জন্য উপকারী বিষধর সাপটি।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর হামলা হতে পারে। পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য হলেও তেলের মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কায় শোধনাগার এড়াতে চান কর্মকর্তারা।
সু চির সঙ্গে কথা হওয়ার পর ছেলে কিম বলেন, ‘আবার মায়ের কণ্ঠ শুনতে পারার অনুভূতিটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’
ওয়ানডেতে দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরি। হ্যারি ব্রুকের ব্যাটে একের পর এক রেকর্ড গড়েছে ইংল্যান্ড; কিন্তু রাওয়ালপিন্ডিতে গতকাল দিন শেষে সব আলো কেড়ে নিয়েছে শ্রীলঙ্কা।
<p>২০২৬ সালের ২৩ অক্টোবর কবি শামসুর রাহমানের ৯৭তম জন্মবার্ষিকী। ২০২৯ সালে শততম হবে। অর্থাৎ শামসুর রাহমানের মৃত্যুর প্রায় দুই দশক পর তাঁর জন্মবার্ষিকী নিয়ে কথা বলা কেবল একজন প্রয়াত কবিকে স্মরণ করার জন্য নয়; বরং এটি আমাদের বর্তমানকে বোঝার একটি সাহিত্যিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রয়াস হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। আর একই সঙ্গে এটিও মনে করিয়ে দিতে চাই, কবির শততম জন্মবার্ষিকীর জন্য আমরা কতটা প্রস্তুত। প্রস্তুতিস্বরূপ অন্তত তিনটি কাজ করা প্রয়োজন: সাহিত্য সংরক্ষণ ও প্রকাশ, চর্চা ও প্রসার এবং স্মৃতি রক্ষা। শামসুর রাহমানের মতো এই উচ্চতার কবির জন্য এর থেকে কম কিছু হওয়া উচিত নয়।</p><p>সাহিত্য সংরক্ষণের জন্য কবির প্রকাশিত ও অপ্রকাশিত সব কবিতা, প্রবন্ধ, অনুবাদ এবং চিঠি ইত্যাদি সংগ্রহ করে নির্ভরযোগ্য ‘রচনাবলি’ প্রকাশ করা প্রয়োজন। এই কাজটি খুবই দ্রুত হওয়া উচিত৷ কারণ, কাজটি দ্রুত হলেই কবির পরিবার–পরিজন খুব বেশি সাহায্য করতে পারবে। সংরক্ষণের অভাবে বহু মাস্টারপিস কালের গহ্বরে হারিয়ে গেছে। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডিজিটাল আর্কাইভও খুব জরুরি। এমনটা হলে নতুন প্রজন্মের পাঠকের কাছে খুব সহজে পৌঁছে যাবে। এসবের পাশাপাশি কবির শ্রেষ্ঠ কবিতাগুলো বিভিন্ন ভাষায় না হলেও অন্তত ইংরেজিতে অনুবাদ করা প্রয়োজন। এমনটা হলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিভিন্ন দেশের বড় বড় কবিদের সঙ্গে কবি শামসুর রাহমানের তুলনামূলক অধ্যয়ন হওয়ার সুযোগ হয়ে উঠবে।</p><blockquote>কবির জন্ম-মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর কবিতা নিয়ে আবৃত্তি অনুষ্ঠান, সেমিনার ও সাহিত্য আড্ডার আয়োজন করা। বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ চাইলে দীর্ঘমেয়াদি ‘কবি শামসুর রাহমান ফেলোশিপ’ চালু করতে পারে। যেখানে নিয়মিত সেমিনার-সিম্পোজিয়াম হতে পারে। আর এমনটা হলে কবির সাহিত্যকর্মের ওপর গবেষণা হওয়ার একটা বন্দোবস্ত হবে। উন্মোচিত হবে নতুন নতুন দিক।</blockquote><p>দ্বিতীয় বিষয়টি হলো চর্চা ও প্রসার। কবির জন্ম-মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর কবিতা নিয়ে আবৃত্তি অনুষ্ঠান, সেমিনার ও সাহিত্য আড্ডার আয়োজন করা। বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ চাইলে দীর্ঘমেয়াদি ‘কবি শামসুর রাহমান ফেলোশিপ’ চালু করতে পারে। যেখানে নিয়মিত সেমিনার-সিম্পোজিয়াম হতে পারে। আর এমনটা হলে কবির সাহিত্যকর্মের ওপর গবেষণা হওয়ার একটা বন্দোবস্ত হবে। উন্মোচিত হবে নতুন নতুন দিক।</p><p>তৃতীয়টি হলো স্মৃতিরক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করা, যেখানে কবির ব্যবহৃত জিনিসপত্র, খাতা, কলম ও দুর্লভ ছবি ইত্যাদি সহকারে একটি সংগ্রহশালা থাকবে। নরসিংদীর রায়পুরায় পাড়াতলী কলিম উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ে ‘কবি শামসুর রাহমান স্মৃতি গ্রন্থাগার’ ২০০৯ সালে নির্মিত হলেও তা আলোর মুখ আর দেখেনি কখনো।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-08-16/7cj5isqn/1.webp"><figcaption>শ্যামলীর বাসায় টেবিলে লিখছেন কবি শামসুর রাহমান। ২০০০ সালের ১ জানুয়ারি </figcaption></figure><p>এরপরও প্রস্তুতিস্বরূপ এই মহাযজ্ঞ আয়োজন করা চাট্টিখানি কথা নয়। কারণ, শামসুর রাহমান প্রতিভাবান কবি। আর প্রতিভাবানরা সহজে কোনো কিছু মেনে নেন না। সমাজের সেলাই করা কাপড়ের মধ্যে নিজেদের ঢুকিয়ে দেন না। তাই প্রতিভাবান কবিদের যথেষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বী থাকে। জীবদ্দশাতে তো বটেই; মৃত্যুর পরেও তা চলমান থাকতে পারে। উদাহরণ হিসেবে মহাকবি জন মিল্টনের কথাই ধরা যাক। সমসাময়িক রাজনৈতিক বৈরিতার সম্মুখীন হওয়ার পরও সাহিত্যিক প্রতিদ্বন্দ্বী বিশেষ করে কুৎসা তাঁকে খানিকটা পর্দার আড়ালে নিয়ে চলে যায়। এই কাজ জারি থাকে বহু বছর। এমনকি টি এস এলিয়টও অনেক সময় ধরে মিল্টন–বিরোধী সমালোচনায় নিয়োজিত ছিলেন। যদিও পরবর্তী সময়ে তিনি তাঁর নিজের ভুল বুঝতে পেরেছিলেন। যেমনটা বুঝতে পেরেছিলেন কবিগুরু নিজেও: মাইকেল মধুসূদন দত্তের মেঘনাদবধ কাব্যের কড়া সমালোচনা করেছিলেন প্রথম জীবনে। কিন্তু সেই মিল্টনই ইংরেজি ভাষার শ্রেষ্ঠ কবি। সেই মধুসূদনই বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ কবি।</p><blockquote>শামসুর রাহমানের কবিতা বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে আমরা দেখি জাতীয়তাবাদী সমালোচনা খুব অগ্রাধিকার পাচ্ছে। সেটা হয়তো সময়ের দাবি ছিল। আবার পুরাণভিত্তিক সমালোচনার ক্ষেত্রেও দেখি কোনো না কোনোভাবে জাতীয়তাবাদী সমালোচনা ঠাঁই করে নিয়েছে। এমনটা চলতে থাকলে দেখা যাবে মুষ্টিমেয় কবিতার মধ্যেই পাঠক ও সমালোচক ঘুরপাক খাচ্ছে। তাই এখন সময় এসেছে শামসুর রাহমানের কবিতাকে বিভিন্ন সমালোচনার লেন্স দিয়ে দেখার।</blockquote><p>শামসুর রাহমানেরও প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছে। সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা রাজনৈতিক বাইনারির অংশ। সেখানে কাব্য ও শিল্প অনুপস্থিত। উপস্থিত রয়েছে আদর্শগত ও রাজনৈতিক পার্থক্য। রাজনৈতিক ও আদর্শিক মেরুকরণের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে ব্যক্তি মূল্যায়ন। ফলে শামসুর রাহমানের কবিতার নান্দনিকতা, আধুনিকতা বা শব্দের কারিগরি নিয়ে আলোচনা তেমন হয়নি বললেই চলে। এরপরও উল্লেখযোগ্য কাজ করেছেন হুমায়ুন আজাদ: শামসুর রাহমান/নিঃসঙ্গ শেরপা নামক একটি গুরুত্বপূর্ণ সমালোচনা গ্রন্থ রচনা করেছেন ১৯৮৩ সালে। পরবর্তী সময়ে গাজী আজিজুর রহমান আরেকটি বই লেখেন কবিদের কবি: জীবনানন্দ দাশ, শামসুর রাহমান, আবুল হাসান ২০১০ সালে। এই বইয়েও ছোট পরিসরে শামসুর রাহমান নিয়ে বেশ ভালো কাজ হয়েছে। এই দুটি বই ছাড়া শামসুর রাহমানের সাহিত্যকর্মের ওপর তেমন কোনো সিরিয়াস কাজ হয়েছে বলে মনে হয় না। এ ছাড়া বিভিন্ন পত্রিকা, লিটল ম্যাগাজিন, মাসিক, ত্রৈমাসিক ইত্যাদি বিভিন্ন জায়গায় শামসুর রাহমানকে নিয়ে অসংখ্য লেখা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। সেসব প্রয়াসও খুব খারাপ নয়। তবে এখন একটু ভিন্নভাবে কাজ করার সময় এসেছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2023-10/4966c44b-de79-404a-92f2-7c56c53e1d86/f438e8dda15f3708e2d7e5927e8803e6_5db0720c2efe1.jpg"><figcaption>কবি শামসুর রাহমান</figcaption></figure><p>শামসুর রাহমানের কবিতা বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে আমরা দেখি জাতীয়তাবাদী সমালোচনা খুব অগ্রাধিকার পাচ্ছে। সেটা হয়তো সময়ের দাবি ছিল। আবার পুরাণভিত্তিক সমালোচনার ক্ষেত্রেও দেখি কোনো না কোনোভাবে জাতীয়তাবাদী সমালোচনা ঠাঁই করে নিয়েছে। এমনটা চলতে থাকলে দেখা যাবে মুষ্টিমেয় কবিতার মধ্যেই পাঠক ও সমালোচক ঘুরপাক খাচ্ছে। তাই এখন সময় এসেছে শামসুর রাহমানের কবিতাকে বিভিন্ন সমালোচনার লেন্স দিয়ে দেখার। লেন্সগুলো আধুনিক নয় তবে তা কখনো শামসুর রাহমানের ওপর তেমনভাবে প্রয়োগ করা হয়নি। কিংবা খুব কম বাঙালি কবি–সাহিত্যিকের কপালেই তা জুটেছে। যেমন উত্তর-ঔপনিবেশিক সমালোচনা, মার্ক্সবাদী সমালোচনা, আধুনিকতাবাদী ও অস্তিত্ববাদী সমালোচনা, আর্কিটাইপাল সমালোচনা, আন্তপাঠিক সমালোচনা বা ইন্টারটেক্সচুয়াল সমালোচনা ইত্যাদি।</p><p>জাতীয়তাবাদী সমালোচনা তাঁর কবিতায় বাঙালি জাতীয় পরিচয়, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনাকে বুঝতে সাহায্য করেছে। আর পুরাণভিত্তিক সমালোচনার মাধ্যমে তাঁর কবিতায় পৌরাণিক চরিত্র, প্রতীক ও আখ্যানের পুনর্ব্যবহার এবং সেগুলোর নতুন অর্থ নির্মাণ বিশ্লেষণও করা হয়েছে খানিকটা; যদিও এই দুই ক্ষেত্রেই আরও বিশদভাবে কাজ করার সুযোগ আছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2022-10/093fa07d-3334-4bf2-bb35-2a85bab3f6f5/Dsc_0121.jpg"><figcaption>শামসুর রাহমান (২৩ অক্টোবর ১৯২৯—১৭ আগস্ট ২০০৬)</figcaption></figure><p>আর অন্যদিকে উত্তর-ঔপনিবেশিক সমালোচনা সাংস্কৃতিক আধিপত্য, রাজনৈতিক দমন ও প্রতিরোধের দিকগুলো সাধারণত উন্মোচন করে। শামসুর রাহমানের কবিতাতেও বিস্তর সুযোগ রয়েছে। মার্ক্সবাদী সমালোচনা শ্রেণিবৈষম্য, শোষণ, ক্ষমতা ও সামাজিক অন্যায়ের বিশ্লেষণেও কার্যকর হতে পারে। আধুনিকতাবাদী ও অস্তিত্ববাদী সমালোচনার সাহায্যে নগরজীবন, নিঃসঙ্গতা, ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য ও অস্তিত্বের সংকট অনুধাবন করার জন্য শামসুর রাহমান হয়তো বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ কবি। এই সময়ে খুব বেশি আলোচিত হচ্ছে পরিবেশগত সমালোচনা বা ইকোক্রিটিসিজম। আর জোরেশোরে খুব উচ্চারিত হচ্ছে উত্তর-মানবতাবাদ বা পোস্টহিউম্যানিজম। এসব তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগের সময়ও এসেছে।</p><p>তাই শামসুর রাহমানের ৯৭তম জন্মবার্ষিকী যতটা না কবির নিজের তার চেয়েও অনেক বেশি পাঠক ও সমালোচকের। আর সময় যত যাবে এই দায়ের বোঝা ততই বাড়বে।</p>
<figure></figure>
১৫ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর থেকেই বক্স অফিসে দাপট দেখাচ্ছে ছবিটি। প্রথম সপ্তাহে ভারতের বাজারের পাশাপাশি বিদেশের বাজার থেকেও এসেছে বিপুল অর্থ।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন