রাজধানীতে ৯৮টি কেন্দ্রে গতকাল শনিবার বাছাই পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছিল। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাওয়ায় একেবারে শেষমুহূর্তে তা স্থগিত করা হয়।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের আলোচনার মধ্যে গতকাল শনিবার শেষ মুহূর্তে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।
‘স্বপ্ন দেখো, জীবন গড়ো’ স্লোগানকে বুকে ধারণ করে নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর ও পাবনায় অনুষ্ঠিত হলো এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা উৎসব।
<p>কখনো কখনো অপেক্ষার আয়ু খুব বেশি হয় না। অ্যান্থনি গর্ডনের জন্য যেমন হলো না। আন্তর্জাতিক বিরতিতে ইংল্যান্ডের জার্সিতে গোলের পর গোল করেছেন। সেই ছন্দ সঙ্গে নিয়েই ফিরেছিলেন বার্সেলোনায়। আন্তর্জাতিক বিরতি শেষে ক্লাবের হয়ে প্রথম গোল পেতে অপেক্ষা করতে হলো মাত্র ৭৮ সেকেন্ড! যেন মাঠে নেমেই জানিয়ে দিলেন, এত দিন যে গোলের দেখা মেলেনি, আজ বুঝি তার সব সুদ একসঙ্গে মেটানোর দিন।</p><p>গর্ডনের সেই ঝলমলে সূচনার পথ ধরেই হেতাফেকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে বার্সেলোনা। গোল পেয়েছেন গাব্রিয়েল জেসুস ও জুলস কুন্দেও। লা লিগায় মৌসুমের প্রথম আট ম্যাচের আটটিতেই জিতেছে কাতালান ক্লাবটি। ২৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষেও তারাই। </p><p>বার্সেলোনার জার্সিতে লা লিগায় প্রথম গোল, অথচ গর্ডনের উদ্যাপন দেখে মনে হয়নি তা। যেন বিশেষ কিছু নয়, জানতেন গোল পাবেনই। গোলের পরও থামেননি ইংলিশ ফরোয়ার্ড। ১২ মিনিট পর বাঁ দিক থেকে ভেতরে ঢুকে বক্সে দারুণ একটি ক্রস পাঠিয়েছিলেন। দানি ওলমো সামান্য ছোঁয়াও দিয়েছিলেন বলে, কিন্তু বলটি লক্ষ্যে থাকেনি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-10/4wvr4dpb/FBL_ESP_LIGA_BARCELONA_GETAFE_164942.jpg"><figcaption>গর্ডনের গোলের পর বার্সেলোনার উদযাপন</figcaption></figure><p>এরপর গাভির হেড ঠেকিয়ে দেন সোরিয়া। হেতাফে গোলরক্ষক তখন পর্যন্ত নিজের দলকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন প্রাণপণে। কিন্তু বার্সেলোনার আক্রমণের ঢেউ ঠেকিয়ে রাখা তো সহজ নয়। ৩০ মিনিটে নিজেদের বক্সে বলের নিয়ন্ত্রণ হারান জাইদ রোমেরো। সুযোগের অপেক্ষায় থাকা গাব্রিয়েল জেসুস আর ভুল করেননি, ২-০। রাফিনিয়া নেই, কিন্তু গোল করার লোকের অভাব নেই বার্সেলোনার।</p><p>প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্যবধান বাড়ানোর আরেকটি সুযোগ এসেছিল কুন্দের সামনে। রদ্রির ভাসানো ক্রসে অফসাইড ফাঁদ এড়িয়ে একেবারে ফাঁকায় বল পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শট নিতে একটু বেশি সময় নিয়ে ফেলেন। সোরিয়ার জন্য কাজটা তাতে সহজ হয়ে যায়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-10/bpheerlo/2026_10_10T183501Z_980299879_UP1EMAA1BMMRE_RTRMADP_3_SOCCER_SPAIN_BAR_GET.JPG"><figcaption>জেসুসের গোল উদযাপন</figcaption></figure> <p>বিরতির পর আবার গর্ডনের পালা। লামিনে ইয়ামালের নিখুঁত থ্রু পাস ধরে ছুটেছিলেন গোলের দিকে। কিন্তু এবারও দেয়াল হয়ে দাঁড়ান সোরিয়া। বক্সের বাইরে পর্যন্ত ছুটে এসে গর্ডনের সামনে থেকে বল কেড়ে নেন তিনি। তবে বার্সেলোনার গোলের খিদে তখনো মেটেনি। ৭৩ মিনিটে ডান দিক থেকে ইয়ামালের ক্রস, আর আড়াল থেকে বেরিয়ে এসে কুন্দের নিখুঁত ফিনিশিং। ৩-০। ম্যাচের বাকি সময়টা তখন অনেকটাই আনুষ্ঠানিকতা।</p><p>শেষ দিকে ইয়ামালও গোলের খাতায় নাম লেখাতে চেয়েছিলেন। তাঁর ভলি অল্পের জন্য দূরের পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।</p>
<p>রাজধানীর মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীকে। গতকাল শনিবার বিকেল পাঁচটায় তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।</p><p>এর আগে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে বনানীর ওল্ড ডিওএইচএস খেলার মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বেলা আড়াইটার দিকে সেখানে তাঁর মরদেহ নেওয়া হয়। বন্ধু, স্বজন, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় তাঁকে শেষবিদায় জানান।</p><p>গতকাল বেলা ১১টার দিকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে লন্ডন থেকে তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মরদেহ ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখান থেকে মরদেহ নেওয়া হয় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের কার্যালয়ে। দুপুর ১২টা থেকে ১২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত সেখানে তাঁর মরদেহ রাখা হয়। পরে মরদেহ নেওয়া হয় তাঁর বাসায়। পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা সেখানে তাঁকে শেষবারের মতো দেখেন।</p><p>ব্যক্তিগত সফরে লন্ডনে থাকা তৌফিক ইমরোজ খালিদী ১ অক্টোবর রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে স্থানীয় সেন্ট বার্থোলোমিউস হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে। পরদিন স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২৩ মিনিটে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।</p>
<p>ভাঙচুরের পর সংস্কার শেষ করে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবন বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে কর্তৃপক্ষকে। তবে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা চালু করতে এখনো প্রয়োজন আসবাব ও চিকিৎসাসরঞ্জাম। বিস্তারিত ভিডিওতে...</p><figure></figure>
<h3>ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ১ : ১ টটেনহাম</h3><p>জয়টা প্রায় পেয়েই গিয়েছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। এগিয়ে ছিল তারা, প্রতিপক্ষ খেলছিল ১০ জন নিয়ে। ওল্ড ট্রাফোর্ডে তখন জয়ের অপেক্ষা। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সব হিসাব এলোমেলো করে দিলেন ডোমিনিক সোলাঙ্কি। যোগ করা সময়ে তাঁর গোলে টটেনহামের সঙ্গে ১-১ ড্র করে মাঠ ছেড়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।</p> <p>প্রিমিয়ার লিগে টানা তিন ম্যাচ জয়হীন থাকার পর জয়ে ফেরার সুযোগ ছিল মাইকেল ক্যারিকের দলের সামনে। সুযোগটা নিতে পারেনি ইউনাইটেড।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-10/6z1762vj/85fd69d5c25ceee9a3fc41522a80438a46d5c8a6886d5b046150a92b4e944afc-859-482.webp"><figcaption>এমবেউমোর গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ইউনাইটেড।</figcaption></figure> <p>প্রথমার্ধে অবশ্য ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল টটেনহামের হাতেই। একের পর এক আক্রমণে ইউনাইটেডের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখলেও গোলের দেখা পায়নি অতিথিরা। বরং দ্বিতীয়ার্ধে সুযোগ কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যায় স্বাগতিকেরা। কিন্তু ম্যাচের শেষ দিকে এসে সেই লিড ধরে রাখতে পারেনি তারা।</p><p>৭৩ মিনিটে মাতেউস কুনিয়ার পাস থেকে বল পেয়ে বক্সের ভেতর দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নেন এমবেউমো। এরপর বাঁ পায়ে নিচু শটে গোল, ১-০। ইউনাইটেডের সমর্থকদের মনে তখন স্বস্তি, জয়ে ফেরার আশা।</p><p>কিন্তু সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৭৮ মিনিটে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ডিফেন্ডার লুক শ এবং টটেনহামের মিডফিল্ডার রদ্রিগো বেন্তাকুরের মধ্যকার একটি ফাউলকে কেন্দ্র করে এই হাতাহাতির সূত্রপাত। বেন্তাকুরের একটি কঠিন ট্যাকলের পর শ ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে ধাক্কা দেন। এরপর দুজনে মুখোমুখি হয়ে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন এবং মুহূর্তেই দুই দলের খেলোয়াড় ও বেঞ্চের সদস্যরা সেখানে জড়ো হয়ে এক হাতাহাতি শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত বেন্তাকুর মেজাজ হারিয়ে লুক শ-কে ঢুস মারেন। রেফারি তাঁকে লাল কার্ড দেখালে ১০ জনের দলে পরিণত হয় টটেনহাম। তখন মনে হচ্ছিল, ম্যাচের বাকি সময়টা সামলে তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে সমস্যা হবে না ইউনাইটেডের।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-10/j0bievqa/i.jpg"><figcaption>সোলাঙ্কির গোলের পর ইউনাইটেডের উদযাপন।</figcaption></figure> <p>কিন্তু যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে সান্দ্রো তোনালির ক্রস থেকে হেডে গোল হিসাব পাল্টে দেন সোলাঙ্কি। বাতাসে ইউনাইটেডের ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে হারিয়ে বল জালে পাঠান টটেনহাম ফরোয়ার্ড। গোলরক্ষক সেন লেমেন্সের কিছুই করার ছিল না। সাত হলুদ কার্ড ও এক লাল কার্ডের ম্যাচটা শেষ হয় ১-১ সমতায়।</p><p>এই ড্রয়ের পর ছয় ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার ১১ নম্বরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। অন্যদিকে তিন পয়েন্ট নিয়ে ১৮ নম্বরে টটেনহাম। লিগে এখনো জয়ের দেখা পায়নি তারা। তবে ওল্ড ট্রাফোর্ড থেকে পাওয়া এই এক পয়েন্টই আপাতত তাদের তলানির দিক থেকে এক ধাপ ওপরে তুলে দিয়েছে।</p>
দেশের ৫০৩টি উপজেলায় সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে চাকরিজীবীদের বেতন মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
দুর্গাপূজায় সম্প্রীতি রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে নেতা-কর্মীদের সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছে বিএনপি। গুলশানে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন