কুশল

ভালোবাসার আলিঙ্গন, অপ্রত্যাশিত বিপদ: এক আলিঙ্গনেই ভাঙল পাঁজরের ৫ হাড়

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
ভালোবাসার আলিঙ্গন, অপ্রত্যাশিত বিপদ: এক আলিঙ্গনেই ভাঙল পাঁজরের ৫ হাড়
ভালোবাসার আলিঙ্গন, অপ্রত্যাশিত বিপদ: এক আলিঙ্গনেই ভাঙল পাঁজরের ৫ হাড়
মানসিক প্রশান্তি দিতে পারে, কাছের মানুষের সঙ্গে তৈরি করতে পারে আবেগের সংযোগ। কিন্তু সেই পরিচিত আলিঙ্গনই যদি গুরুতর শারীরিক আঘাতের কারণ হয়, তাহলে অবাক হওয়ারই কথা।

Prothomalo

View more
মালয়েশিয়া ভ্রমণ: কালের যাত্রাধ্বনি-৫
মালয়েশিয়া ভ্রমণ: কালের যাত্রাধ্বনি-৫

<p>মালাক্কা থেকে পেনাংয়ে যাওয়ার ডোমেস্টিক ফ্লাইট নেই। হয় কুয়ালালামপুর ফিরে ফ্লাইট ধরে যেতে হবে, নয়তো বাস কিংবা ট্যাক্সি। আমরা ট্যাক্সি নিয়েই বেরিয়ে পড়লাম।</p><p> রাতের অন্ধকারে গাড়ি এগিয়ে চলল উত্তরের দিকে। পেনাংয়ে যাওয়ার পথটা বেশ দীর্ঘ। প্রায় পাঁচ শ কিলোমিটার। আমাদের সারথি (ট্যাক্সিচালক) সিম্বে দা জানালেন, বিরতি ও যানজটের ওপর নির্ভর করে ছয় ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে।</p><p> রাতের যাত্রায় বাইরের দৃশ্য খুব একটা চোখে পড়ে না। জানালার ওপারে অন্ধকার, এদিকে সারা দিন ঘোরাঘুরির ক্লান্তি। কখন যে রাত পেরিয়ে ভোর হয়ে এল, বুঝতেই পারিনি। সকালে পেনাংয়ে পৌঁছে কোপিতিয়ামে কায়া টোস্ট, আধা সেদ্ধ ডিম আর কফি দিয়ে নাশতা সেরে নিলাম।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/zwzt8u43/%E0%A7%A8.-%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AD%E0%A7%87%E0%A6%A4%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BF-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BF-%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%96.jpeg"><figcaption>মন্দিরের ভেতরে সারি সারি বুদ্ধের মুখ। ছবি: লেখক </figcaption></figure><p>এবার আমাদের গন্তব্য কেক লোক সি মন্দির। সকালবেলায় মন্দির দেখতে যাওয়ার মধ্যে আলাদা একটা স্বস্তি ছিল। দিনের ব্যস্ততা তখনো শুরু হয়নি। মন্দিরের বিশাল চত্বরজুড়ে চীনা বৌদ্ধ স্থাপত্যের নিদর্শন। বাঁকানো ছাদ, রঙিন কারুকাজ আর বুদ্ধমূর্তিতে সাজানো প্রার্থনাকক্ষগুলোর মধ্যে ঘুরতে ঘুরতে চোখ আটকে গেল সাততলা প্যাগোডাটিতে। চীনা, থাই ও বার্মিজ স্থাপত্যরীতির মিশেলে তৈরি এই স্থাপনার প্রত্যেকটা স্তরের গড়ন আলাদা। আরও ওপরে করুণার বোধিসত্ত্ব গুয়ানইনের বিশাল ব্রোঞ্জমূর্তি। এত বৈচিত্র্যময় স্থাপত্য একই মন্দিরচত্বরে পাশাপাশি দেখে মনে হচ্ছিল, পেনাংয়ের ইতিহাসে ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতির যে মেলবন্ধন, কেক লোক সি যেন তারই অপূর্ব প্রকাশ।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/yvdg40h9/%E0%A7%A9.-%E0%A6%9C%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%9C-%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%B0%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A7%8B%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%8F%E0%A6%B2%E0%A7%87-%E0%A6%9A%E0%A7%8B%E0%A6%96%E0%A7%87-%E0%A6%AA%E0%A7%9C%E0%A7%87-%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%A3-%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%9F%E0%A6%BF.jpeg"><figcaption>জর্জ টাউনের বন্দরগুলোতে এলে চোখে পড়ে দারুণ জেটি। ছবি: লেখকের সৌজন্যে </figcaption></figure><p>মন্দির দেখা শেষ হলে সিম্বে দা আমাদের নিয়ে গেলেন তাঁর পরিচিত এক মালয় বাড়িতে। জায়গাটির নাম এয়ার ইতাম। পাহাড়ঘেরা এই জনপদে কৃষিকাজ ও ফলের বাগানের পুরোনো ঐতিহ্য রয়েছে। মালয় পরিবারটি আতিথেয়তার কোনো কমতি রাখল না। গোলাপি পেয়ারা আর ভেষজ পাতার একটি পানীয় দেওয়া হলো। নাম জানি না, তবে দারুণ ছিল খেতে। পরে কলাপাতায় পরিবেশিত হলো মালয়েশিয়ার ঐতিহ্যবাহী খাবার নাসি লেমাক। নারকেলের দুধে রান্না করা সুগন্ধি ভাতের সঙ্গে সাম্বাল, ডিম, চিনাবাদাম আর ছোটমাছ। পেনাং শহরকে চেনার পাশাপাশি মালয় পরিবারের আতিথেয়তা এক অনন্য অভিজ্ঞতা।</p><p>বিশ্রাম শেষে এবার বেরিয়ে পড়লাম জর্জ টাউনের উদ্দেশে। আমাদের সঙ্গে মালয় পরিবারটির দুজন সদস্য যোগ দিলেন। সকালে মন্দিরে যে অভিজ্ঞতা হয়েছিল, বিকেলের দিকে শহর ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা একেবারে অন্য রকম।</p><aside><a href="https://nagorik.prothomalo.com/travel/l5etpar3n1">মালয়েশিয়া ভ্রমণ: কালের যাত্রাধ্বনি-১</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/ictx70dy/%E0%A7%AA.-%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%AA%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%87-%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A7%9F%E0%A6%BE-%E0%A6%9F%E0%A7%8B%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%9F-%E0%A6%86%E0%A6%A7%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A7-%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%AE-%E0%A6%95%E0%A6%AB%E0%A6%BF%E0%A5%A4-%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%90%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B9%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A7%80-%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0.jpeg"><figcaption>কোপিতিয়ামে কায়া টোস্ট, আধা সেদ্ধ ডিম, কফি। পেনাংয়ের ঐতিহ্যবাহী খাবার। ছবি: লেখক </figcaption></figure><p>১৭৮৬ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি পেনাংয়ে বাণিজ্যিক ঘাঁটি তৈরি করার পর শহরটির উপযোগিতা বাড়তে থাকে। বন্দরের টানে চীনা ও ভারতীয় ব্যবসায়ীরা এখানে আসেন। মালয় অধিবাসীদের সঙ্গে তাঁদের জীবন ও কাজের যোগাযোগ তৈরি হয়।</p><p>আজকের পেনাং বন্দর অবশ্য সেই পুরোনো জেটি আর পালতোলা জাহাজের জগতে আটকে নেই। মালাক্কা প্রণালির পাশে আধুনিক কনটেনার টার্মিনাল, পণ্যবাহী জাহাজ, ফেরি ও ক্রুজ টার্মিনাল মিলিয়ে এটা উত্তর মালয়েশিয়ার বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বারগুলোর একটি। বন্দরের কার্যক্রম দ্বীপের জর্জ টাউনেই সীমাবদ্ধ নয়। কার্গো টার্মিনালের বড় অংশ মূল ভূখণ্ডের বাটারওয়ার্থ ও প্রাই এলাকায়।</p><p>পেনাং বন্দরকে শুধু পণ্য ওঠানামার জায়গা বললে ভুল হবে। এই দ্বীপে কারা এসেছে, কারা বসতি গড়েছে, আর কীভাবে ভিন্ন ভিন্ন ভাষা-সংস্কৃতির মানুষ একই শহরের অংশ হয়ে উঠেছে, এটা সেই দীর্ঘ ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/me81wox6/%E0%A7%AB.-%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%9C%E0%A7%81%E0%A6%82-%E0%A6%B0%E0%A7%81-%E0%A6%AF%E0%A7%87%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87-%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%87-%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%87-%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A6%A5.jpeg"><figcaption>তানজুং রু, যেখানে সমুদ্র নিজেই মেলে ধরে বালির পথ। ছবি: লেখক </figcaption></figure><p>পরদিন পেনাংয়ের ফোর্ট কর্নওয়ালিস, চিয়ং ফাট জে ব্লু ম্যানশন আর ক্ল্যান জেটি দেখে আমরা রওনা দিলাম কুয়ালা পেরলিসের দিকে। সেখান থেকে ফেরি ধরে যাব লংকাউই।</p><p>মালয়েশিয়া আসার পর থেকে পুরোটা সময় ছোটমামা আর সিম্বেদা আমাদের সঙ্গে ছিলেন। ছোটমামা খুব ভালো মালয় বলেন। তাই স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলা, কোথাও যাওয়ার জন্য পথঘাট বুঝে নিতে আলাদা কোনো অসুবিধে হয়নি। কুয়ালা পেরলিসে এসে সেই সঙ্গের ইতি টানতে হলো।</p><p>মামা আর সিম্বেদার কাছে থেকে বিদায় নিয়ে লংকাউইগামী যাত্রীবাহী ফেরিতে উঠলাম। মন খারাপ হলে দূর দিগন্তে তাকিয়ে থাকতে ভালো লাগে। মামাকে ছেড়ে, পেরলিসের উপকূল পেছনে রেখে এগোতে থাকলাম লংকাউইয়ের দিকে। স্থলপথের সঙ্গে সমুদ্রযাত্রার একটা মৌলিক পার্থক্য আছে। এখানে রাস্তার বাঁক ধরে গন্তব্যের দিকে যাওয়া যায় না। জলরাশির বিস্তারের মধ্যে ধীরে ধীরে বদলে যেতে থাকে দিগন্ত। ঘণ্টা দেড়েক পর কুয়াহ বন্দর চোখে পড়ল।</p><aside><a href="https://nagorik.prothomalo.com/travel/t0n7cmgq9k">মালয়েশিয়া ভ্রমণ: কালের যাত্রাধ্বনি–২</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/tvf6fpzr/%E0%A7%AC.-%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%9C%E0%A7%81%E0%A6%82-%E0%A6%B0%E0%A7%81-%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%AA%E0%A7%87-%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%96%E0%A6%95.jpeg"><figcaption>তানজুং রু দ্বীপে লেখক। ছবি: লেখকের সৌজন্যে </figcaption></figure><p>বন্দরে নেমে প্রথমেই গেলাম ইগল স্কয়ারে। সমুদ্রের কাছে বিশাল বড় ভাস্কর্য। লংকাউইয়ের নামটা এই ঈগলের কাছে ঋণী। মালয় ভাষায় ‘হেলাং’অর্থ ঈগল। আর ‘কাউই’হলো লালচে-বাদামি রং।</p><p>কুয়াহ শহর ঘুরে ঘুরে দেখলাম বন্দরকেন্দ্রিক জনপদের বাণিজ্যিক রূপ। একসময় কুয়াহতে ছিল মৎস্যজীবী জেলেদের বসতি। সমুদ্রপথে যোগাযোগ সহজ বলে পরবর্তী সময়ে এখানে বন্দরনগরী গড়ে ওঠে। ১৯৮৭ সালের লংকাউইকে শুল্কমুক্ত দ্বীপ ঘোষণা করা হয়। তারপর থেকে পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে কুয়াহ হয়ে ওঠে লংকাউই দ্বীপপুঞ্জের প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র।</p><p>লংকাউইয়ের অসংখ্য দ্বীপের মধ্যে থাকার জন্য পছন্দ তানজুং রু। কুয়াহতে জনপরিবহন খুব একটা নেই। অগত্য গ্রাব নিয়েই পৌঁছে গেলাম রিসোর্টে। একটু জিরিয়ে বেরিয়ে পড়লাম সমুদ্রসৈকতের উদ্দেশে। লংকাউইয়ের উত্তর প্রান্তে এসে চোখে পড়ে বিস্তৃত বালুকাবেলা, নীল সমুদ্র আর দূরে নীলাভ জলে ভেসে থাকা দ্বীপগুলো।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/wohip7pl/%E0%A7%AD.-%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%AD%E0%A7%87%E0%A6%B8%E0%A7%87-%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE-%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A1%E0%A6%BC%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A7%8B-%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A6%B2-%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%97%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%B0.jpeg"><figcaption>সমুদ্রের বুকে ভেসে থাকা পাহাড়গুলো নীল দিগন্তের নিজস্ব স্বাক্ষর। ছবি: লেখক </figcaption></figure><p>যদিও দ্বীপপুঞ্জটির শিলা ও ভূপ্রকৃতি পৃথিবীর প্রাচীন ইতিহাস ধরে রেখেছে। তানজুং রুসহ উত্তর-পূর্ব লংকাউইয়ের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে চুনাপাথরের কার্স্ট দেখা যায়। সমুদ্রে জমে থাকা ক্যালসিয়াম কার্বনেট পলির সঙ্গে মিশে দীর্ঘ ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় চুনাপাথরে পরিণত হয়েছে। পরে ভূত্বকের পরিবর্তন, উত্থান, জল ও আবহাওয়ার দীর্ঘ ক্ষয় সেই শিলাগুলোকে ভিন্ন ভিন্ন আকৃতি দিয়েছে। কোথাও তৈরি হয়েছে গুহা, কোথাও খাড়া পাহাড়ি দেয়াল, আবার কোথাও সমুদ্রের মধ্যে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/2hfhrkkd/%E0%A7%A7%E0%A7%A6.-%E0%A6%86%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B6%E0%A6%9B%E0%A7%8B%E0%A6%81%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A5%A4-%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A1%E0%A6%BC%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BC-%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%A1%E0%A6%BC%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%87-%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%98-%E0%A6%AC%E0%A6%A8-%E0%A6%86%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%8F%E0%A6%95%E0%A6%B8%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A7%87-%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%96%E0%A6%BE-%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A7%9F.jpeg"><figcaption>আকাশছোঁয়া স্কাইব্রিজ। পাহাড়ের মাথায় দাঁড়িয়ে মেঘ, বন আর সমুদ্রকে একসঙ্গে দেখা যায়। ছবি: লেখক </figcaption></figure><p>বেলাভূমিতে দাঁড়িয়ে এসব কথা ভাবলে দৃশ্যটা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। চোখের সামনে যেসব পাথুরে দ্বীপ, সেগুলো প্রাগৈতিহাসিক সাক্ষী। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে কাটিয়ে সন্ধের সূর্যকে বিদায় দিয়ে ঘরে ফিরলাম। ততক্ষণে রিসোর্টে রাতের খাবার তৈরির ধুম পড়ে গেছে। খাবারের নামগুলো বেশ মজার। মি গুলং, ইকান বাকর, পেক ঙা। সর্বোপরি রয়েছে মালয়েশিয়ায় সিগনেচার আইটেম ‘কোকোনাট স্টিকি রাইস’।</p><aside><a href="https://nagorik.prothomalo.com/travel/l563xn37sv">মালয়েশিয়া ভ্রমণ: কালের যাত্রাধ্বনি–৩</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/qizx81se/%E0%A7%AE.-%E0%A6%A6%E0%A7%80%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%98-%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%9F-%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%B8%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A7%82%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%98%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%AB%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE.jpeg"><figcaption> দীর্ঘ সময় সমুদ্রে কাটিয়ে সন্ধের সূর্যকে বিদায় দিয়ে ঘরে ফিরলাম। ছবি: লেখক </figcaption></figure><p>রাত কাটল তানজুং রু রিসোর্টে। ঘরের জানালা দিয়ে সমুদ্র দেখা যায়। দিনের বেলায় সমুদ্রের সামনে দাঁড়িয়ে যে অসীম বিস্তার দেখেছি, রাতে দেখলাম ঘরের ভেতর থেকে, জানালার ফ্রেমে। দেখার জায়গা বদলেছে, সমুদ্র রয়ে গেছে একই। তবু রাতের দৃশ্যটা আলাদা করে মনে থাকল।</p><p>পরদিন সকালে লংকাউই স্কাই ব্রিজের কোল ঘেষে পৌঁছে গেলাম পদাং মাতসিরাত বিমানবন্দরে। কুয়ালালামপুরের উড়ান ধরবার আগে দ্বীপটির সঙ্গে পরিচয়পর্ব এখানেই শেষ হলো।</p><p>অল্প সময় ঘুরে যতটুকু বুঝেছি, দ্বীপটির ভূপ্রকৃতি সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে ধরা দিয়েছিল তানজুং রুতে। সমুদ্রে ভেসে থাকা চুনাপাথরের দ্বীপ, পায়ের কাছে নেমে আসা নীল জল আর দীর্ঘ বালুকাবেলা। লংকাউইকে মনে রাখার জন্য এই দৃশ্যই যথেষ্ট। শেষ</p><p>*অমৃতা ইশরাত: ব্যাংকার ও লেখক</p><aside><a href="https://nagorik.prothomalo.com/travel/pmgy2pfr1b">মালয়েশিয়া ভ্রমণ: কালের যাত্রাধ্বনি–৪</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/3nvszu6g/%E0%A7%AF.-%E0%A6%B2%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%89%E0%A6%87%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%9F%E0%A6%BE-%E0%A6%8F%E0%A6%87-%E0%A6%88%E0%A6%97%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%8B%E0%A6%A3%E0%A7%80.jpeg"><figcaption>লংকাউইয়ের নামটা এই ইগলের কাছে ঋণী। ছবি: লেখক </figcaption></figure>

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
চট্টগ্রাম বন্দরে ৩৯৩ জনের চাকরি, আবেদন ৮ ডিসেম্বরের পর্যন্ত
চট্টগ্রাম বন্দরে ৩৯৩ জনের চাকরি, আবেদন ৮ ডিসেম্বরের পর্যন্ত

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ২২টি পদের জন্য ৩৯৩ কর্মী নিয়োগ দেবে, আবেদন ৮ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার পিএইচডি ফেলোশিপ, অনুদান ৬০ হাজার ডলার
যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার পিএইচডি ফেলোশিপ, অনুদান ৬০ হাজার ডলার

<p>যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের জন্য গ্র্যাজুয়েট ফেলোশিপ আবেদন আহ্বান করেছে। এ ফেলোশিপে পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ ৬০ হাজার ডলার অনুদান পাবেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিকস, স্বয়ংক্রিয় যানবাহন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গবেষণারত শিক্ষার্থীরা এ ফেলোশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য এ সুযোগ উন্মুক্ত।</p><p><strong>ফেলোশিপের সুযোগ-সুবিধা—</strong></p><p>এ ফেলোশিপের আওতায় নির্বাচিত প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য সর্বোচ্চ ৬০ হাজার ডলার দেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে এ অর্থ ব্যবস্থাপনা করা হবে। শিক্ষার্থীদের ভাতা, টিউশন ফি ও বাধ্যতামূলক ফি পরিশোধে এ অর্থ ব্যবহার করা যাবে। ফেলোশিপের অংশ হিসেবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের এনভিডিয়ার নির্ধারিত গবেষণা কার্যালয়ে সরাসরি উপস্থিত হয়ে গ্রীষ্মকালীন ইন্টার্নশিপ করতে হবে। ফেলোশিপের শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে এ ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করতে হবে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/higher-education/vwa87lwbks">চিকিৎসাশিক্ষায় ৬৩ শতাংশই ছাত্রী, ডেন্টাল ও নার্সিংয়েও এগিয়ে</a></aside><p><strong>আবেদনের যোগ্যতা—</strong></p><p>এনভিডিয়ার এ ফেলোশিপের জন্য আবেদনকারীদের কম্পিউটার সায়েন্স, কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং, সিস্টেম আর্কিটেকচার, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পিএইচডি করতে হবে। আবেদনের আগে পিএইচডির প্রথম বছর সম্পন্ন করার পাশাপাশি গবেষণাপত্র বা অভিসন্দর্ভের বিষয়ে সক্রিয়ভাবে গবেষণায় যুক্ত থাকতে হবে।</p><p>ফেলোশিপের ৯ মাসের পুরস্কারকালজুড়ে আবেদনকারীকে পূর্ণকালীন পিএইচডি শিক্ষার্থী হিসেবে থাকতে হবে। এ সময়ের মধ্যে পিএইচডি সম্পন্ন করার পরিকল্পনা থাকলে আবেদন করা যাবে না। নির্বাচিত প্রার্থীদের নির্ধারিত গবেষণা কার্যালয়ে সরাসরি উপস্থিত হয়ে গ্রীষ্মকালীন ইন্টার্নশিপ করার সক্ষমতা থাকতে হবে।</p><p>এনভিডিয়ার পূর্ণকালীন কর্মী এবং প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের নিকটাত্মীয়রা এ ফেলোশিপের জন্য যোগ্য নন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-07-22/w8ioo0gf/%E0%A6%9B%E0%A6%AC%E0%A6%BF-%E0%A6%B8%E0%A6%AC.png"></figure><p><strong>যেসব কাগজপত্র লাগবে—</strong></p><p>আবেদনের সঙ্গে সর্বোচ্চ দুই পৃষ্ঠার গবেষণার সারসংক্ষেপ বা অভিসন্দর্ভের প্রস্তাব জমা দিতে হবে। এর সঙ্গে তথ্যসূত্র যুক্ত করা যাবে, যা দুই পৃষ্ঠার সীমার মধ্যে গণনা করা হবে না। এ ছাড়া যোগাযোগের তথ্যসহ জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) দিতে হবে।</p><p>আবেদনকারীর জন্য অন্তত দুটি সুপারিশপত্র প্রয়োজন। এর মধ্যে একটি আবেদনকারীর গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক বা অধ্যাপকের কাছ থেকে হতে হবে। সর্বোচ্চ তিনটি সুপারিশপত্র জমা দেওয়া যাবে। পাশাপাশি নির্ধারিত গ্রীষ্মকালীন ইন্টার্নশিপে সরাসরি অংশগ্রহণের বিষয়ে সম্মতি নিশ্চিত করতে হবে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/higher-education/uj8maasa2b">কোটি টাকার ফেলোশিপ-বৃত্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডির সুযোগ পেলেন আশফাকুর রহমান </a></aside><p><strong>আবেদনের প্রক্রিয়া</strong></p><p><a href="https://webportalapp.com/sp/login/nvidia_grad_fellow_2027" target="_blank" rel="nofollow">পোর্টালে প্রোফাইল তৈরি</a> করে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করতে হবে। এরপর গবেষণার সারসংক্ষেপ বা অভিসন্দর্ভের প্রস্তাব, সিভি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতে হবে।</p><p>আবেদনের শেষ তারিখ</p><p>১৫ জানুয়ারি ২০২৭</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/higher-education/5dp552hmbv">উন্নত ক্যারিয়ার গঠনে যে ১০ বিদেশি ভাষা শিক্ষা এগিয়ে রাখবে আপনাকে </a></aside>

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
ব্যালন ডি’অর জয়ের পর কি তাহলে ‘স্যার’ হ্যারি কেইন
ব্যালন ডি’অর জয়ের পর কি তাহলে ‘স্যার’ হ্যারি কেইন

লন্ডনে গতকাল রাতে ২০২৬ ব্যালন ডি’অর জেতেন বায়ার্ন মিউনিখের তারকা হ্যারি কেইন।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
সৌদি-হুতি যুদ্ধে বাংলাদেশের শ্রমিক কেন আলোচনার কেন্দ্রে
সৌদি-হুতি যুদ্ধে বাংলাদেশের শ্রমিক কেন আলোচনার কেন্দ্রে

এই যুদ্ধে সম্পদ ও সামরিক ব্যয়ের হিসাবও সরল নয়। সৌদি আরবকে বিস্তৃত তেল অবকাঠামো, বিমানবন্দর, বন্দর ও নগরজীবন রক্ষা করতে হয়।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
৯০০ টাকায় লাগিয়েছিলেন দুটি গাছ, এখন বছরে বিক্রি ৩২ লাখ টাকা
৯০০ টাকায় লাগিয়েছিলেন দুটি গাছ, এখন বছরে বিক্রি ৩২ লাখ টাকা

৯০০ টাকায় লাগিয়েছিলেন দুটি গাছ, এখন বছরে বিক্রি ৩২ লাখ টাকা

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
সবুজের সান্নিধ্য পেতে আলুটিলায়
সবুজের সান্নিধ্য পেতে আলুটিলায়

<p>প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা খাগড়াছড়ির অন্যতম পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র আলুটিলা। স্থানীয় পর্যটনের একটি আকর্ষণীয় স্থান। পাহাড়ি পরিবেশের সান্নিধ্য পেতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এখানে আসেন ভ্রমণপিপাসুরা। পর্যটকদের এমন উপস্থিতিতে প্রতিদিন বিকেলে মুখর হয়ে ওঠে আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্র।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/buceqbdk/1.-Rangamati-Alutila-tourists-crowds-natural-beauty26102026.jpg"><figcaption>পাহাড়ের সবুজ মনোরম দৃশ্য উপভোগ করছেন এক পর্যটক </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/we6gtyij/2.-Rangamati-Alutila-tourists-crowds-natural-beauty26102026.jpg"><figcaption>পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতেও অনেকে বেছে নেন এই স্থান। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/hz6ri6k0/3.-Rangamati-Alutila-tourists-crowds-natural-beauty26102026.jpg"><figcaption> ঝুলন্ত সেতুতে হেঁটে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছেন বিভিন্ন বয়সী পর্যটক </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/jeoiec0l/4.-Rangamati-Alutila-tourists-crowds-natural-beauty26102026.jpg"><figcaption>হলুদ ফুলের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন পর্যটকেরা </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/by4qizp0/5.-Rangamati-Alutila-tourists-crowds-natural-beauty26102026.jpg"><figcaption>পরিবারের সবাই মিলে ঘুরতে এসেছেন </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/gq1dtsjc/6.-Rangamati-Alutila-tourists-crowds-natural-beauty26102026.jpg"><figcaption>বিশেষ করে সরকারি ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকদের সমাগম বেশি দেখা যায়। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/6zfjukno/7.-Rangamati-Alutila-tourists-crowds-natural-beauty26102026.jpg"><figcaption>পর্যটনকেন্দ্রের দোকানগুলো থেকে কেনাকাটা সারছেন দর্শনার্থীরা </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/ev5d9b1e/8.-Rangamati-Alutila-tourists-crowds-natural-beauty26102026.jpg"><figcaption> বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে দর্শনার্থীর উপস্থিতি </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/hvbnzc1u/9.-Rangamati-Alutila-tourists-crowds-natural-beauty26102026.jpg"><figcaption>সবুজের মাঝের সুন্দর মুহূর্তকে ক্যামেরাবন্দি করে রাখার চেষ্টা </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/4mmz63w1/10.-Rangamati-Alutila-tourists-crowds-natural-beauty26102026.jpg"><figcaption>পরিবারের সদস্যদের ছবি তুলছেন এক নারী </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/fyc4eiu9/11.-Rangamati-Alutila-tourists-crowds-natural-beauty26102026.jpg"><figcaption>পাহাড়ের পটভূমিতে একসঙ্গে ছবি তুলে ভ্রমণের মুহূর্ত স্মরণীয় করে রাখছেন চার বন্ধু </figcaption></figure>

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
সকালে দিনমজুরি, বিকেলে রিকশা চালিয়ে চলে মজিবুরের সংসার
সকালে দিনমজুরি, বিকেলে রিকশা চালিয়ে চলে মজিবুরের সংসার

মজিবুর রহমানের পৈতৃক বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার লুধুয়া গ্রামে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
সৌদিতে প্রবাসীদের মৃত্যুদণ্ড: ‘ভাষা বোঝেন না, আইনজীবী পান না, লাশও ফেরে না’
সৌদিতে প্রবাসীদের মৃত্যুদণ্ড: ‘ভাষা বোঝেন না, আইনজীবী পান না, লাশও ফেরে না’

<p>সৌদি আরবে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বিদেশিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনা, যার মধ্যে সম্প্রতি দুই বাংলাদেশিও রয়েছেন। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই ৫৯ বিদেশি নাগরিকের এ সর্বোচ্চ সাজা কার্যকর করা হয়েছে। বিশেষ করে মাদকসংক্রান্ত অপরাধে মৃত্যুদণ্ড প্রদান, বিদেশি আসামিদের ক্ষেত্রে বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, নির্যাতনের অভিযোগ এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগের সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। এ প্রেক্ষাপটে দেশটির বিচারব্যবস্থা ও মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগের পদ্ধতি নিয়ে তৈরি ধারাবাহিকের আজ প্রকাশিত হলো শেষ পর্ব।</p><p>গত বছরের মে মাসের কোনো একদিন। সৌদি আরবে এক ইথিওপীয় বন্দীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। এর আগে দেশে থাকা মাকে ফোন করে তিনি বলেছিলেন, পরদিন সকালে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হবে। সেদিনই হবে তাঁর শেষ নিশ্বাস। কথাটা শুনেই শুরু হয় মায়ের ‘গগনবিদারী কান্না’।</p><p>ঘটনাটি এখানেই শেষ নয়। ওই ইথিওপীয়র মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়; কিন্তু সপ্তাহের পর সপ্তাহ গেলেও লাশ পরিবারের হাতে আসেনি। এদিকে ছেলেকে শেষবারের মতো দেখার অপেক্ষা করে করে মায়ের মধ্যে তীব্র মানসিক অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দেয়; শেষে তাঁকে ভর্তি করতে হয় হাসপাতালের মনোরোগ বিভাগে।</p><p>ঘটনাটি লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালকে জানিয়েছিলেন ইথিওপীয় সম্প্রদায়ের একজন সদস্য। তাঁর নিজের ভাইও সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায় ছিলেন। তিনি বলেন, ‘ওরা (সৌদির শাসকেরা) শুধু আমাদের ভাইদের মারছে না, আমাদেরও মারছে।’</p><p>উল্লেখ্য, সৌদি আরবের খামিস মুশাইত কারাগারেই এখন মৃত্যুদণ্ড মাথায় নিয়ে বন্দী আছেন ৫৮ ইথিওপীয়।</p><blockquote>সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডের হিসাব খুললে বিদেশিদের সংখ্যা পড়বে চোখে পড়ার মতো। দেশটির মোট ৩ কোটি ৫৩ লাখ জনসংখ্যার প্রায় ৪৪ শতাংশ, অর্থাৎ ১ কোটি ৫৭ লাখের মতো মানুষ বিদেশি। অথচ ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত শুধু মাদক অপরাধেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে ৫৯৭ জনের; তাঁদের প্রায় ৭৫ শতাংশই প্রবাসী।</blockquote><p>হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া ইথিওপীয় বন্দীর ঘটনাটি কোনো ব্যতিক্রম নয়। সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডের হিসাব খুললে বিদেশিদের সংখ্যা পড়বে চোখে পড়ার মতো। দেশটির মোট ৩ কোটি ৫৩ লাখ জনসংখ্যার প্রায় ৪৪ শতাংশ, অর্থাৎ ১ কোটি ৫৭ লাখের মতো মানুষ বিদেশি/প্রবাসী। অথচ ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত শুধু মাদক অপরাধেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে ৫৯৭ জনের; তাঁদের প্রায় ৭৫ শতাংশই বিদেশি (অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য)।</p><p>বার্লিনভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ইএসওএইচআরের তথ্য, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি–জুন) মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ১০৮ জনের মধ্যে ৫৯ জন (প্রায় ৫৪ শতাংশ) বিদেশি। একই সময়ে মাদক অপরাধে কার্যকর করা ৭১টি মৃত্যুদণ্ডের ৪৯টি বিদেশির।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/9tt7u059dj">সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড: দেশটির আইন কী বলে, আদালতে কী ঘটে</a></aside><p><strong>কোন দেশের কতজন</strong></p><p>এই হিসাবে চোখ রাখলে ছবিটা আরও স্পষ্ট হয়। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, গত দশকে শুধু মাদক অপরাধে ১৫০ জন সৌদি নাগরিকের পাশাপাশি যাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ১৫৫ জন পাকিস্তানি, ৬৬ জন সিরীয়, ৫০ জন জর্ডানি, ৩৯ জন ইয়েমেনি, ৩৩ জন মিসরীয়, ৩২ জন নাইজেরীয়, ২২ জন সোমালীয় ও ১৩ জন ইথিওপীয়।</p><p>এ ছাড়া ইরান, আফগানিস্তান, চাদ, বাহরাইন, লেবানন, সুদান, তুরস্ক, ভারত ও ফিলিস্তিনের নাগরিকদেরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। অর্থাৎ এ সময়ে পাকিস্তানি নাগরিকের সংখ্যা সৌদি নাগরিকের সংখ্যাও ছাড়িয়ে গেছে।</p><p>তবে এ হিসাবের একটি সীমা আছে, যা অ্যামনেস্টি স্বীকার করেছে। তাদের বিশ্লেষণ শুধু সৌদি কর্তৃপক্ষ সরকারি সংবাদ সংস্থার মাধ্যমে যেসব মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা প্রকাশ করেছে, সেগুলোর ওপর দাঁড়িয়ে; প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে বেশি। গ্রেপ্তার, তদন্ত, বিচার ও সাজার প্রতিটি ধাপে বৈষম্য ঘটছে কি না, সে তথ্য এতে ধরা পড়ে না। অপরাধের ঘটনা, গ্রেপ্তার, অভিযোগ বা সাজার সরকারি পরিসংখ্যানও সংস্থাটির হাতে নেই। সে কারণে অ্যামনেস্টি বিদেশিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্য নিয়ে স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি তুলেছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/video/international/plcunr0ajc">সৌদিতে এ বছরের প্রথম ৬ মাসে ৫৯ বিদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, আছে বাংলাদেশিও</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/nhk0r4jk/crown-prince.jpg"><figcaption>সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান</figcaption></figure><p><strong>বিচারের আগেই শুরু হয় ঝুঁকি</strong></p><p>এই প্রবাসীদের বিপন্নতা শুরু হয় বিচারের অনেক আগে, দেশ ছাড়ার সময় থেকেই। সৌদি আরবের মোট কর্মী বাহিনীর প্রায় ৭৭ শতাংশ অভিবাসী শ্রমিক। অ্যামনেস্টির বিশ্লেষণে, তাঁদের অসুবিধা শুরু হয় নিজ দেশে, প্রতারণামূলক নিয়োগপদ্ধতিতে; সৌদি আরবে এসে তা ধরে রাখে কাফালা বা স্পনসরশিপ ব্যবস্থা।</p><p>কাফালা এমন এক সীমাবদ্ধ ও শোষণমূলক অভিবাসন ব্যবস্থা, যা আফ্রিকা ও এশিয়ার দেশগুলোর অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর বিশেষভাবে নেতিবাচক প্রভাব বা চাপ ফেলে।</p><p>আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) নির্দেশিকা অনুযায়ী, হুমকি, বলপ্রয়োগ, জবরদস্তি বা প্রতারণার মাধ্যমে কাউকে শোষণের উদ্দেশ্যে নিয়োগ, পরিবহন বা আশ্রয় দেওয়া মানব পাচারের সংজ্ঞায় পড়ে। এই শোষণের মধ্যে যেমন জোরপূর্বক শ্রম আছে, তেমনি আছে অবৈধ কাজে বাধ্য করাও।</p><p>আইওএম সৌদিপ্রবাসীদের ঝুঁকির কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে অনিয়মিত অভিবাসন; গৃহকর্ম, সমুদ্রে কাজ বা অনানুষ্ঠানিক খাতের মতো চোখের আড়ালের কাজ; নিয়োগকর্তার অনুচিত নিয়ন্ত্রণ, নিয়োগে দুর্নীতি, তৃতীয় পক্ষের দালালের ওপর নির্ভরতা এবং রাষ্ট্রীয় সুরক্ষায় ফাঁক অন্যতম।</p><aside><cite></cite>সৌদি গিয়ে কোনো আইনি জটিলতা বা অপরাধে জড়িয়ে পড়লে, নিজেদের সহায়-সম্বল ও শিক্ষার অভাবে প্রবাসীরা ভালো কোনো আইনজীবী নিয়োগ করতে পারেন না বা সঠিকভাবে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে পারেন না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তাঁদের কনস্যুলার সহায়তা পাওয়ার সুযোগও কমে যায়। এতে ন্যায্য বিচারের অধিকার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।</aside><p>এ ঝুঁকি শুধু তত্ত্বের কথা নয়। অ্যামনেস্টির নথিবদ্ধ মামলাগুলোর দুটিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বলেছেন, তাঁদের জোর করে নিষিদ্ধ মাদক বহন করানো হয়েছিল; কিন্তু আদালত সেই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেননি, মেনেও নেননি। সংস্থাটির নথিবদ্ধ তথ্য বলছে, সৌদি আরবে অভিবাসী শ্রমিকেরা নিয়োগ-দালালদের হাতে প্রতারিত হয়েছেন, অতিরিক্ত ঘণ্টা কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন এবং মজুরি চুরির শিকার হয়েছেন। কিছু ক্ষেত্রে তা সম্ভবত শ্রম শোষণের উদ্দেশ্যে মানব পাচারের শামিল।</p><p>জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরাও বলেছেন, মৃত্যুদণ্ডের প্রভাব বিদেশি নাগরিকদের ওপর অসমভাবে পড়ে। সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর ওপর এ অসম প্রভাব বন্ধের আহ্বান তাঁরা জানিয়েছেন। কারণ, বিচার ও আপিলের সময় কার্যকর আইনি সুরক্ষা জোগাড় করা এসব মানুষের পক্ষে প্রায়ই সম্ভব হয় না।</p><p>আবার যখন কেউ একই সঙ্গে একাধিক পরিচয়ের কারণে বৈষম্যের শিকার হন, তখন ওই সব সমস্যার একটি অন্যটিকে আরও তীব্র বা জোরালো করে তোলে। যেমন একজন শুধু অভিবাসী হওয়ার কারণেই বিভিন্ন অসুবিধায় পড়তে পারেন। কিন্তু তিনি যদি একই সঙ্গে কোনো একটি নির্দিষ্ট জাতিসত্তার হন এবং নারী (লিঙ্গ) হন, তাহলে তাঁর জন্য আইনি সহায়তা পাওয়া, কাজের জায়গায় অধিকার আদায় করা বা বৈষম্য এড়ানো দ্বিগুণ বা তিন গুণ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। অর্থাৎ এখানে একটি অসুবিধা অন্য অসুবিধাটিকে হালকা না করে বরং বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/ceh1ce4a/king-salman.jpg"><figcaption>সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ</figcaption></figure><p><strong>আদালতে একা, ভাষা না জানা</strong></p><p>এ বিপন্নতা আদালতে কেমন চেহারা নেয়, তা বুঝতে ইএসওএইচআর ও জেপিপির (জাস্টিস প্রজেক্ট পাকিস্তান) সহায়তায় মিসর, ইথিওপিয়া, জর্ডান, পাকিস্তান ও সোমালিয়ার ২৫ বিদেশির মামলা নথিবদ্ধ করেছে অ্যামনেস্টি। তাঁরা সবাই মাদক অপরাধে দোষী সাব্যস্ত; কেউ এখন মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায়, কারও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়ে গেছে।</p><p>গ্রেপ্তার হওয়া থেকে রায় পর্যন্ত এবং কারও ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পরও সৌদি বিচারব্যবস্থার ভেতর দিয়ে সংশ্লিষ্ট বন্দী ও তাঁদের পরিবারগুলো কীভাবে পথ চলেছে, সেটা খতিয়ে দেখেছে অ্যামনেস্টি। সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে ১৩ জনের পরিবার, ৪ জনের নিজ সম্প্রদায়ভুক্ত সদস্য ও ১ জন কনস্যুলার কর্মকর্তার। আরও ১৫ জনের আদালতের নথিও পর্যালোচনা করা হয়েছে।</p><p>পর্যালোচনার ফলাফল হলো, কম পড়াশোনা, ভাষাজ্ঞান আর টাকার অভাব থাকার কারণে এসব মানুষের দ্বিগুণ ক্ষতি হচ্ছে। প্রথমত, অভিবাসনের সময় ক্ষতি। টাকাপয়সা কম থাকায় এবং নিজের অধিকার বা নিয়মকানুন ভালোভাবে না বোঝায় সৌদি আরবে যাওয়ার শুরুতেই তাঁরা দালালদের প্রতারণা বা শোষণের শিকার হচ্ছেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/9v9wjre6oy">সৌদিতে ‘দণ্ডপ্রাপ্তদের’ তালিকায় আরও ২০ বাংলাদেশি, নজরুল-সুইটির মতো তাঁদের শাস্তিও জানায়নি</a></aside><blockquote>মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার খবর অনেক পরিবার পেয়েছে অন্য বন্দীদের ফোনকলে কিংবা গণমাধ্যমে, যখন সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থায় তা প্রকাশ করেছে।</blockquote><p>দ্বিতীয়ত, সৌদিতে গিয়ে কোনো আইনি জটিলতা বা অপরাধে জড়িয়ে পড়লে, নিজেদের সহায়-সম্বল ও শিক্ষার অভাবে প্রবাসীরা ভালো কোনো আইনজীবী নিয়োগ করতে পারেন না বা সঠিকভাবে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে পারেন না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তাঁদের কনস্যুলার সহায়তা পাওয়ার সুযোগও কমে যায়। এতে ন্যায্য বিচারের অধিকার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।</p><p>ওই ২৫ জনের অনেকে একা বিচারব্যবস্থার ভেতর দিয়ে গেছেন; আদালতের নথি বা নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তাঁরা বুঝতে পারেননি, সেগুলো হাতেও পাননি। কনস্যুলার সহায়তা পাননি। সৌদি ফৌজদারি ব্যবস্থা, সংস্কৃতি ও ভাষার সঙ্গে পরিচয়হীনতা, গ্রেপ্তারের সময় নিজের অধিকার সম্পর্কে সীমিত ধারণা, পর্যাপ্ত দোভাষী ও আইনজীবী ছাড়া আদায় করা স্বীকারোক্তির ঝুঁকি এবং সহায়তার অভাব—সব মিলিয়ে জটিল আইনি প্রক্রিয়া সামলে কার্যকর আত্মপক্ষ সমর্থন তাঁদের জন্য অত্যন্ত কঠিন, কিছু ক্ষেত্রে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।</p><figure></figure><p>কাগজে অধিকার আছে। সৌদি আরবের ২০১৩ সালের ‘ফৌজদারি কার্যবিধি’ তদন্ত ও বিচার—দুই ধাপেই আসামিদের আইনি সহায়তার অধিকার দেয়, নির্যাতনও নিষিদ্ধ করে। কিন্তু ইএসওএইচআর খামিস মুশাইত, নাজরান ও তাবুক কারাগারের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দীদের মামলায় যে চিত্র নথিবদ্ধ করেছে, তা ভিন্ন। তাঁদের পেশাদার দোভাষী নেই, আইনি সহায়তা নেই, বিচারপ্রক্রিয়া তাঁরা বোঝেননি, আত্মপক্ষ সমর্থনের কার্যকর সুযোগ পাননি। অনেক ক্ষেত্রে বন্দীরা নিজেরাই জানতেন না, তাঁদের দণ্ড কবে বহাল হলো কিংবা ক্ষমার আবেদন কবে নাকচ হলো।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/y2jv6bo5/saudi-flag.jpg"><figcaption>সৌদি আরবের জাতীয় পতাকা</figcaption></figure><p><strong>একসঙ্গে সরানো হয়, তারপর একে একে...</strong></p><p>২০২৪ সালের ডিসেম্বরে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা তিন মিসরীয়র আসন্ন মৃত্যুদণ্ড নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানান। ৩ ডিসেম্বর এ তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। তাবুক কারাগারে মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায় থাকা অন্তত ৪০ মিসরীয়র একটি বড় দলের অংশ ছিলেন তাঁরা।</p><p>ওই বছরের নভেম্বরে আরব, আফ্রিকা ও এশিয়ার (দক্ষিণ এশিয়াসহ) বিভিন্ন দেশের কয়েকজন বন্দীর সঙ্গে উল্লিখিত তিন মিসরীয়কে সরিয়ে নেওয়া হয় একটি আলাদা ওয়ার্ডে, যেখানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য সহবন্দীদের একে একে নিয়ে যেতে দেখেছেন তাঁরা। আর অন্য বন্দীরা নিজেদের পালার আতঙ্কে কাটিয়েছেন। অ্যামনেস্টির হিসাবে ২০২৪ সাল থেকে ওই মিসরীয়দের ২৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে; ১৯ জন এখনো দণ্ড কার্যকর হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন (তথ্য অ্যামনেস্টির)।</p><p>নভেম্বর মাসেই জাতিসংঘের দুজন বিশেষ দূত সৌদি আরবের সরকারকে যৌথভাবে চিঠি পাঠিয়ে তিন মিসরীয়র পাশাপাশি আরও ২৯ বিদেশি পুরুষের মৃত্যুদণ্ডের প্রসঙ্গ তোলেন। এঁদের ২৮ জন ছিলেন মিসরীয়, একজন জর্ডানি। ইএসওএইচআরের সাম্প্রতিক তথ্য হলো, তাবুক কারাগারে এখন আটজন মিসরীয় মৃত্যুদণ্ড মাথায় নিয়ে বন্দী আছেন।</p><p>একই ধরনের অপরাধে দণ্ডিত বিদেশি বন্দীদের একসঙ্গে বিচ্ছিন্ন ওয়ার্ডে সরিয়ে নেওয়ার রীতি—যেমন তাবুকে মিসরীয়, নাজরানে ইথিওপীয় ও সোমালীয়দের ক্ষেত্রে ঘটেছে। এটাকে বন্দীরা ও তাঁদের পরিবারগুলো আসন্ন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার অশুভ ইঙ্গিত হিসেবে দেখে। ইএসওএইচআরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা বন্দীরাও বলেছেন, তাঁরা প্রতিনিয়ত মৃত্যুদণ্ডের আতঙ্কে আছেন। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ আসন্ন মৃত্যুদণ্ডের আগাম খবর না দেওয়ার চর্চাকে বারবার নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এটি দুর্ব্যবহারের একটি রূপ, যা নির্যাতন ও নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণের চূড়ান্ত নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে।</p><aside><cite></cite>আমরা ভেঙে পড়েছিলাম, বিশেষ করে এ জন্য যে শোক করার মতো সামনে ভাইয়ের মরদেহ নেই। কোনো শেষবিদায়ের আয়োজনও নেই।</aside><p><strong>‘তোমার পালা এসেছে’: অনিশ্চয়তা আর আতঙ্কের আমৃত্যু প্রহর</strong></p><p>বন্দীদের পরিবারগুলো অনেক সময় জানতেই পারে না, কবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে। অ্যামনেস্টি বলছে, সৌদি আইনে বন্দী বা তাঁর পরিবারকে আগাম নোটিশ দেওয়ার স্পষ্ট বিধান নেই। বড়জোর মৃত্যুদণ্ডের ২৪ ঘণ্টা আগে বন্দী নিজে ফোন করে খবর দিতে পারেন বলে জানিয়েছে বন্দীদের পরিবারগুলো। কারও ক্ষেত্রে কারা কর্মকর্তারা আগের দিন জানিয়ে দিয়েছেন, ‘তোমার পালা এসেছে।’ বহু বন্দী পরিবারকে সহবন্দীদের কীভাবে মাঝরাতে, কোনো পূর্বাভাস ছাড়া সেল থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা বলেছেন।</p><figure></figure><p>আবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার খবর অনেক পরিবার পেয়েছে অন্য বন্দীদের ফোনে কিংবা গণমাধ্যমে, যখন সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থায় তা প্রকাশ করেছে। পাকিস্তানি এক বন্দীর ক্ষেত্রে পরিবার কয়েক দিন পর খবর জেনেছে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার অপেক্ষায় থাকা অন্যদের ফোনকলে। কারও কারও ক্ষেত্রে কারা কর্মকর্তারাই তাঁদের দিয়ে খবরটা পৌঁছে দিতে বলেছেন। দূরত্ব আর ফোনে বিরল যোগাযোগের কারণে এমন পরিবারগুলোকে বছরের পর বছর অনিশ্চয়তা নিয়ে কাটাতে হয়।</p><p>যাঁদের প্রিয়জন (বন্দী) বছরের পর বছর মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায় রয়েছেন, তাঁদের (বন্দী) জন্য মামলার অগ্রগতির তথ্যের স্বচ্ছতার অভাব, অনিয়মিত যোগাযোগ আর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার নিরন্তর ভয় মিলে তৈরি হয় ‘আমৃত্যু উদ্বেগ ও হতাশার’ অবস্থা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আর্থিক চাপ—গ্রেপ্তারের পর পরিবার হারিয়েছে তার প্রধান উপার্জনকারীকে। আর দূর থেকে প্রিয়জনের শারীরিক ও মানসিক অবনতি দেখার কষ্ট তো আছেই।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/cn46j6ej/execution-protest.jpg"><figcaption>সৌদি আরবে শিয়া ধর্মীয় নেতা নিমর আল-নিমরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রতিবাদে লেবাননের নাবাতিয়েহ শহরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। ১৩ জানুয়ারি ২০১৬</figcaption></figure><p><strong>ফেরে না লাশ</strong></p><p>কিছু পরিবারের জন্য যন্ত্রণা আরও বাড়িয়েছে মরদেহ আটকে রাখা। সৌদি আইনে মরদেহ হস্তান্তরেরও নিশ্চয়তা নেই।</p><p>অ্যামনেস্টির নথিবদ্ধ ২৫ জনের তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে। তিনটি ক্ষেত্রেই সৌদি আরব মরদেহ পরিবারকে ফেরত দেয়নি, কবর কোথায় তা–ও জানায়নি। এতে পরিবারগুলো নিজেদের সংস্কৃতি ও ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী শোক পালনের মৌলিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত হয়েছে, বলেছে সংস্থাটি।</p><p>বন্দী জর্ডানের নাগরিক হুসেইন আবু আল-খায়েরের পরিবারের কাছে এই কষ্টের চেহারা আরও জটিল। মাদক অপরাধে মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করার সময় তিনি তাঁর মামলার অবস্থা নিয়ে পরস্পরবিরোধী খবর পেয়েছিলেন। ২০২৩ সালের মার্চে কোনো আগাম নোটিশ ছাড়াই তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। খবরটি শুনে রাজধানী আম্মানে তাঁর পরিবার প্রথমে নীরবে বসে ছিল, তারপর ‘পাগলের মতো চিৎকার’ শুরু করে—বলেছেন তাঁর বোন। তাঁর ভাষ্য, ‘আমরা ভেঙে পড়েছিলাম, বিশেষ করে এ জন্য যে শোক করার মতো সামনে ভাইয়ের মরদেহটি নেই। কোনো শেষবিদায়ের আয়োজনও নেই।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/6f0vollg/General-Court-in-Riyadh.jpg"><figcaption>সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত আদালতের বহিরাঙ্গন</figcaption></figure><p><strong>বাংলাদেশি পরিবারগুলোর উদ্বেগ</strong></p><p>সৌদি আরবে প্রবাসীদের বিচারপ্রক্রিয়া ও মৃত্যুদণ্ডের যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার প্রত্যক্ষ প্রভাব ও উদ্বেগ বাংলাদেশি পরিবারগুলোর ওপরও গভীরভাবে এসে পড়ে।</p><p>সৌদিতে বিদেশি কর্মীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক বাংলাদেশের, অন্তত ২৫ লাখ। এরপর ভারত, পাকিস্তান, ইয়েমেন ও মিসরের। ইএসওএইচআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ১০৮ জনের মধ্যে বাংলাদেশের নাগরিকও আছেন। সম্প্রতি পবিত্র মক্কার একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’ করার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে; তাঁরা ওই ছয় মাসের হিসাবের বাইরে। ওই সময়ে কতজন বাংলাদেশির সাজা কার্যকর হয়েছে, তা জানা যায়নি।</p><p>আগেই বলা হয়েছে, সৌদি আরবের আদালত ও বিচারব্যবস্থায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রবাসীরা ঠিক কী ধরনের বৈষম্য ও আইনি সংকটের মুখোমুখি হন, সেটি বিস্তারিত পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করার জন্য অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ২৫টি মামলা বেছে নথিভুক্ত করেছে। মামলাগুলো মিসর, ইথিওপিয়া, জর্ডান, পাকিস্তান ও সোমালিয়ার বন্দীদের নিয়ে। মাদক অপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া যেসব দেশের নাগরিকের নাম সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, তার মধ্যেও বাংলাদেশ নেই। এর মানে এই নয় যে বাংলাদেশিরা এই হিসাবের বাইরে। কারণ, ইএসওএইচআরের তালিকায় তাঁদের নাম আছে। বরং সমস্যা তথ্যের অভাব।</p><p>ইএসওএইচআর জানিয়েছে, ১০৮টির মধ্যে ৯১টি (৮৪ দশমিক ২ শতাংশ) মামলা সম্পর্কে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তারা কোনো তথ্য জানতে বা নথিবদ্ধ করতে পারেনি। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের হাতেও গ্রেপ্তার, অভিযোগ বা সাজার সরকারি পরিসংখ্যান নেই। ফলে বাংলাদেশি বন্দীর সংখ্যা, অভিযোগের ধরন, আইনজীবী ও দোভাষীর সুযোগ কিংবা কনস্যুলার সহায়তা নিয়ে কোনো উত্তর নেই।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/gnqfixfp/Protest-executions.webp"><figcaption>নিমর আল-নিমরের মৃত্যুদণ্ডের প্রতিবাদে সৌদি নারীদের বিক্ষোভ; কাতিফ, ৮ জানুয়ারি ২০১৬</figcaption></figure><p><strong>পরিশেষ</strong></p><p>জাতিসংঘের বর্ণবৈষম্য বিলোপ কমিটি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সৌদি আরবের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় বর্ণ ও জাতিগত বৈষম্য চিহ্নিত করেছে। কমিটির উদ্বেগ, শিয়া সংখ্যালঘু, অভিবাসী শ্রমিক ও গৃহকর্মীরা (নারীসহ) সেখানে যথেচ্ছ আটক, নির্যাতন ও দুর্ব্যবহারের শিকার হচ্ছেন।</p><p>এই কমিটি মৃত্যুদণ্ডে স্থগিতাদেশ আরোপ করে বিলোপের পথে এগোতে সৌদি আরবের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। দেশটিতে বিচারপ্রক্রিয়া ও মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বৈষম্য বা পক্ষপাতিত্ব হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি নিরপেক্ষ ও স্পষ্ট তদন্ত দাবি করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও।</p><p>ভাষা না বোঝা, আইনজীবী না পাওয়া, শেষ খবরটুকুও দেরিতে আসা, আর লাশ না ফেরা—ধাপগুলো আসলে একই শিকলে বাঁধা। অ্যামনেস্টির ভাষায়, সৌদি আরবে গ্রেপ্তার বা আটক হওয়া প্রবাসীরা একই সঙ্গে একাধিক জটিল এবং পরস্পর সম্পর্কিত সমস্যার মুখোমুখি হন। তাঁরা অপরিচিত বিচারব্যবস্থার মুখোমুখি হন, সেখানকার ভাষা ও সংস্কৃতি বোঝেন না, এসবের পাশাপাশি তাঁদের কোনো আইনি বা দোভাষীর সাহায্য দেওয়ার মানুষও থাকে না। এই সব কটি বাধা একত্রে মিলে তাঁদের নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করা বা জীবন বাঁচানোর লড়াইকে প্রায় অসম্ভব করে তোলে।</p><p>অন্যদিকে এই শিকলের শেষ প্রান্তে বসে আছেন সেই ইথিওপীয় মা (প্রতিবেদনের শুরুতে উল্লেখ করা), যিনি ছেলের মুখে ‘শেষ নিশ্বাস’-এর কথা শুনেছিলেন। কয়েক সপ্তাহ পরও লাশ না পেয়ে শেষ পর্যন্ত তাঁকে হাসপাতালের মনোরোগ বিভাগে ভর্তি হতে হয়েছে।</p><p><strong>তথ্যসূত্র:</strong></p><p>১. ডব্লিউআইপিওর নিবন্ধ—Law of Criminal Procedure (promulgated by Royal Decree No. M/39 of 28 Rajab 1422 (16 October 2001)), Saudi Arabia;</p><p>২. অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদন—Saudi Arabia: ‘If We Had Money and a Lawyer, Maybe My Brother Would Be Alive’: Saudi Arabia’s Execution Crisis, 7 July 2025</p><p>৩. এমইএনএ (মিনা) রাইটস গ্রুপ, এএলকিউএসটি ফর হিউম্যান রাইটস এবং ইউরোপিয়ান সৌদি অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস (ইএসওএইচআর)—তিনটি মানবাধিকার সংস্থার যৌথভাবে তৈরি করা প্রতিবেদন—Death penalty in Saudi Arabia: joint submission to the Special Rapporteur on extrajudicial, summary or arbitrary executions, March 10, 2026; এবং</p><p>৪. ইএসওএইচআরের প্রতিবেদন—108 Saudi Arabia: Executions in the First Half of 2026.</p>

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”