রাজনীতি

উচ্চকক্ষ নিয়ে আলোচনা লংমার্চে হবে না, কমিটিতে আসুন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
উচ্চকক্ষ নিয়ে আলোচনা লংমার্চে 
হবে না, কমিটিতে আসুন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
উচ্চকক্ষ নিয়ে আলোচনা লংমার্চে হবে না, কমিটিতে আসুন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
<p>আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন নিয়ে বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটিতে আলোচনায় আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, উচ্চকক্ষের ক্ষমতা কী হবে, সংবিধান সংশোধনী উচ্চকক্ষে যাবে কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন। এসব বিষয়ের সমাধান লংমার্চে হবে না।</p><p>আজ শনিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ‘স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সাংবিধানিক সংকট ও বাকশাল’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সালাহউদ্দিন আহমদ এসব কথা বলেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের আয়োজনে ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ সেমিনার সিরিজের প্রথম পর্ব ছিল এটি। জাদুঘরের মনসুন থিয়েটারে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।</p><p>সেমিনারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার গণতান্ত্রিক সংস্কার চায়। সংবিধানে এমনভাবে সংশোধনী আনতে চায়, যাতে প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী হয় এবং প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার ভারসাম্য বা ‘চেক অ্যান্ড ব্যালান্স’ থাকে। এ ক্ষেত্রে বিরোধী দলের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, ঐকমত্য ও সমঝোতার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করা গেলে সেটি জাতির জন্য সবচেয়ে কল্যাণকর হবে। তাঁরা রাজনৈতিক বিভক্তি চান না।</p><p>সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। গত ১৩ জুলাই জাতীয় সংসদে সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। বিরোধী দলের জন্য আরও পাঁচটি পদ শূন্য রাখা হয়েছে। তবে বিরোধী দল ওই কমিটিতে প্রতিনিধি দেয়নি। তাদের দাবি, গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই জাতীয় সনদের সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে।</p><p>অন্যদিকে সরকার সংসদে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সংস্কার বাস্তবায়ন করতে চায়। এ নিয়ে মতপার্থক্যের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য লংমার্চসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। শনিবারও তাদের খুলনা-কুষ্টিয়া অভিমুখী লংমার্চ কর্মসূচি ছিল।</p><p><strong>ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন</strong></p><p>সেমিনারে দেশের বিভিন্ন সময়ের সাংবিধানিক সংকটের উদাহরণ তুলে ধরেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বাকশালের পরে সবচেয়ে বড় সাংবিধানিক সংকট তৈরি করেছিল সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী। এই সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছিল। তাঁর মতে, এর ফলে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নষ্ট হয় এবং শেষ পর্যন্ত গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমি রচিত হয়। ছাত্র-জনতা একত্র হয়ে একদলীয় স্বৈরতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী সরকারব্যবস্থার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালে দেশ সেই সংকট থেকে মুক্ত হয়।</p><p>স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে যাতে দেশে এ রকম আরেকটি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে ব্যবস্থা করতে হবে। তাঁরা সেই গণতান্ত্রিক সংস্কার চান। ভবিষ্যতে স্বৈরতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং স্বৈরশাসকের উত্থানের পথ বন্ধ করতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন রাজনৈতিক ঐক্য।</p><p>প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করার লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তাঁরা চান গণতন্ত্রকে পাহারা দেওয়ার জন্য ‘ওয়াচডগ’ হিসেবে কাজ করার মতো স্বাধীন গণমাধ্যম, স্বাধীন বিচার বিভাগ, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা থাকবে। এর বাইরে অন্যান্য সাংবিধানিক সংশোধনী হতে হবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা, মানুষের আকাঙ্ক্ষা এবং সময় ও তারুণ্যের চাহিদা অনুযায়ী।</p><p>প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতার পাশাপাশি জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠান নির্মাণের সঙ্গে সঙ্গে তার জবাবদিহি নিশ্চিত করা না হলে সেই প্রতিষ্ঠানও স্বৈরতান্ত্রিক হয়ে উঠতে পারে। তাঁরা অবশ্যই বিচার বিভাগের স্বাধীনতা চান এবং তা নিশ্চিত করবেন। এখনো বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আছে। আইন মন্ত্রণালয় শুধু ‘পোস্ট অফিসের’ কাজ করে।</p><p>শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামল নিয়েও কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির মধ্য দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান স্বৈরতান্ত্রিক চরিত্র অর্জন করেছিলেন—এমন বক্তব্যের সঙ্গে তিনি একমত নন। সালাহউদ্দিন বলেন, তখন শূন্য সাংবিধানিক অবস্থায় অন্য কোনো উপায় ছিল না। তবে তাঁর মতে, শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক চরিত্রে স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতা ছিল। এর বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে। পরবর্তী সময়ে তাঁর কন্যা শেখ হাসিনাও এই চরিত্র ধারণ করেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।</p><p><strong>প্রতিষ্ঠান গড়ার তাগিদ আসিফ নজরুলের</strong></p><p>সেমিনারে প্রধান বক্তা ছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। তিনি বলেছেন, জুলাই জাতীয় সনদে প্রস্তাবিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার সুযোগ রয়েছে। এখন যে ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে, সেখানে সরকারি দল বা বিরোধী দল—যেকোনো পক্ষ চাইলে অচলাবস্থা তৈরি করতে পারবে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-31/f9pw3a2g/WhatsApp_Image_2026_10_31_at_7_24_58_PM.jpeg"><figcaption>সেমিনারে প্রধান বক্তা ছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। ৩১ অক্টোবর</figcaption></figure><p>অধ্যাপক আসিফ নজরুলের মতে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার ক্ষেত্রে অন্তত সরকারি দল ও বিরোধী দলের ঐকমত্য থাকতে হবে। তা না হলে কী ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, তা সবার জানা।</p><p>একটি দেশের উন্নয়নে কার্যকর প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব তুলে ধরে সরকারের উদ্দেশে আসিফ নজরুল বলেন, ‘আপনারা কতগুলো প্রতিষ্ঠান গড়ে দিয়ে যান। আপনাদের কাছে অনেক বড় একটা সুযোগ এসেছে।’</p><p>আসিফ নজরুল বলেন, যত ভালো কথা লেখা হোক, যত সম্পদ থাকুক কিংবা যত সৎ প্রধানমন্ত্রীই থাকুন না কেন, প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা না হলে দেশের উন্নতি হবে না। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান।</p><p>তাঁর মতে, দুটি প্রতিষ্ঠান সরকারকে প্রকৃত জবাবদিহির মধ্যে রাখতে পারে। এ জন্য উচ্চ আদালতকে স্বাধীন, ক্ষমতাশালী ও দায়িত্বশীল করতে হবে। একই সঙ্গে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। তিনি বিচারক নিয়োগে আইন প্রণয়ন, ধাপে ধাপে অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ উচ্চ আদালতের হাতে দেওয়া এবং সংসদীয় কমিটিগুলোর তলব করার ক্ষমতা বাড়াতে আইন প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দেন।</p><p><strong>ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় সংস্কার প্রস্তাব</strong></p><p>১৯৭২ সালের সংবিধান নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য বেশ কিছু প্রস্তাব তুলে ধরেন আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, ওই সংবিধানের অন্যতম বড় দুর্বলতা ছিল প্রধানমন্ত্রীর হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়া। এ সমস্যা সমাধানে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা জরুরি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-31/tx58f777/WhatsApp_Image_2026_10_31_at_7_24_56_PM.jpeg"><figcaption>জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের আয়োজনে ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ সেমিনার সিরিজের প্রথম পর্ব ছিল এটি। জাদুঘরের মনসুন থিয়েটারে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।</figcaption></figure><p>এ ক্ষেত্রে সংবিধান প্রণয়নের সময় সুরঞ্জিত সেনগুপ্তসহ কয়েকজন গণপরিষদ সদস্যের দেওয়া ভিন্নমতের প্রস্তাবগুলো পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।</p><p>আসিফ নজরুল আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন, বিচারপতি নিয়োগে আইন প্রণয়ন, বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে অধস্তন আদালতের বিচারকদের অগ্রাধিকার দেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ বিরোধী দলকে দেওয়ার প্রস্তাব করেন। এ ছাড়া উচ্চকক্ষের সদস্যদের জন্য বেতন, গাড়ি ও বাড়ির ব্যবস্থা না রাখার প্রস্তাবও তুলে ধরেন তিনি।</p><p>১৯৭২ সালের সংবিধান নিয়ে পরস্পরবিরোধী মূল্যায়নের সমালোচনা করে আসিফ নজরুল বলেন, ১৭ বছর ধরে শুনতে হয়েছে, ১৯৭২ সালের সংবিধান পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সংবিধান। এখন আবার শোনা যাচ্ছে, এটি সবচেয়ে নিকৃষ্ট সংবিধান। আবেগ থেকে বেরিয়ে এসে বস্তুনিষ্ঠভাবে ওই সংবিধানকে উপলব্ধি করার চেষ্টা করতে হবে।</p><p>আসিফ নজরুলের মতে, সংবিধান প্রণয়নের সময় গণপরিষদে একটি দলের প্রাধান্য ছিল। জনগণের মতামত নেওয়ার সুযোগ ছিল সীমিত। বিরোধী মতামতকেও যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তবে ১৯৭২ সালের সংবিধানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিধানও ছিল। সংবিধানের প্রস্তাবনা, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি, মৌলিক অধিকার এবং বিশেষ করে প্রতিরোধমূলক আটক, কালো আইন প্রণয়ন ও জরুরি অবস্থা জারির সুযোগ না থাকার বিষয়গুলোকে ওই সংবিধানের শক্তিশালী দিক হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।</p><p>একই সঙ্গে আসিফ নজরুল বলেন, সংবিধান প্রণয়নের অল্প সময়ের মধ্যেই দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়।</p><p>সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন সাবেক সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য ফিরোজ আহমেদ ও আইনজীবী হাবিবুর রহমান। সভা প্রধান হিসেবে বক্তব্য দেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক এহ্সান মাহমুদ।</p>

Prothomalo

View more
পুরোনো বাস দিয়ে ছয় রুটে নতুন ব্যবস্থা চালু রোববার
পুরোনো বাস দিয়ে ছয় রুটে নতুন ব্যবস্থা চালু রোববার

শুরুতে পুরোনো বাস দিয়েই এই সেবার যাত্রা শুরু হবে। বাসগুলো রং করে নামানো হচ্ছে। পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ছয়টি কোম্পানিকে।

নভেম্বর ১, ২০২৬
পল্টনে সাবেক অতিরিক্ত আইজিপির গাড়ির ধাক্কায় রিকশাচালক আহত, চালকের আসনে ছিলেন ছেলে
পল্টনে সাবেক অতিরিক্ত আইজিপির গাড়ির ধাক্কায় রিকশাচালক আহত, চালকের আসনে ছিলেন ছেলে

<p>রাজধানীর পল্টনে কালভার্ট রোডে আজ শনিবার রাতে একটি প্রাইভেট কারের ধাক্কায় এক রিকশাচালক গুরুতর আহত হয়েছেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ পরিত্যক্ত অবস্থায় গাড়িটি হেফাজতে নেয়।</p><p>মতিঝিল ট্রাফিক পুলিশের একটি সূত্র বলছে, গাড়ির চালকের আসনে ছিলেন পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) সিবগাতুল্লাহর ছেলে। দুর্ঘটনার পর গাড়ি রেখে তিনি পালিয়ে যান।</p><p>পল্টন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি গাড়ি উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, গাড়িটির মালিক পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) সিবগাতুল্লাহ। তবে গাড়িটি কে চালাচ্ছিলেন, তা নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি।</p><p>পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আজ রাত সাড়ে আটটা থেকে নয়টার মধ্যে পল্টন টাওয়ার থেকে প্রায় ১০০ মিটার ডান দিকে শাখা সড়কে ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৯-৭০৭৭ নম্বরের একটি গাড়ি একটি রিকশাকে পাশ থেকে ধাক্কা দেয়। এতে রিকশাচালক গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতালে) নিয়ে যান।</p><p>এদিকে গত ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে বারিধারা ডিপ্লোমেটিক জোনের ১ নম্বর সড়কে ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন মেহেদী হাসান (২৪) নামের এক নির্মাণশ্রমিক। এ সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার উঠে যায় সেই ফুটপাতে। ঘটনাস্থলেই মারা যান মেহেদী। এ ঘটনায় গুলশান থানায় মামলা করেন নিহত মেহেদীর ভাই মোক্তাদীর ইসলাম। গাড়িচালক হিসেবে আকাশ মারক (৪৪) নামের এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। </p><p>দুর্ঘটনার পর গাড়ির চালকের আসনে থাকা এক কিশোরকে আটকও করেছিলেন উপস্থিত লোকজন। পরে পুলিশ তাকে হেফাজতে নিলেও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে পুলিশ ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে কিশোরের সম্পৃক্ততা পায়। পরে তাকে আইনের সংস্পর্শে আনা হয়।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/crime/hy6m1wr0dj">বারিধারায় গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু: চালকের আসনে ছিল কিশোর, মামলায় আসামি আরেকজন </a></aside>

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
খোলাবাজারে ডলারের দাম বেড়ে ১২৮ টাকা ৫০ পয়সা, বেড়েছে ব্যাংকেও
খোলাবাজারে ডলারের দাম বেড়ে ১২৮ টাকা ৫০ পয়সা, বেড়েছে ব্যাংকেও

<p>হঠাৎ খোলাবাজারে ডলারের দাম বাড়তে শুরু করেছে। পূজার ছুটিসহ বিভিন্ন কারণে নগদ ডলারের দাম বাড়ার পাশাপাশি ব্যাংকিং চ্যানেলেও ডলারের দাম বাড়তে শুরু করেছে। এতে আমদানি খরচও বেড়ে যাচ্ছে। ডলারের দাম বাড়ার কারণে অন্যান্য বৈদেশিক মুদ্রার দামও বেড়ে গেছে। ব্যাংকগুলো এখন নগদ ডলার বিক্রি করছে ১২৬ টাকা ৫০ পয়সায়। আর খোলাবাজারে প্রতি ডলারের দাম উঠেছে ১২৮ টাকা ৫০ পয়সা।</p><p><strong>ব্যাংকে ডলারের দাম</strong></p><p>ব্যাংকগুলোর ঘোষিত দাম পর্যলোচনায় দেখা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সিটি ব্যাংক বিদেশফেরত মানুষের কাছ থেকে নগদ ডলার কিনেছে ১২৪ টাকা ৭৫ পয়সা দামে, তবে বিক্রি করেছে ১২৬ টাকায়। একই দিন ব্র্যাক ব্যাংক বিদেশফেরত যাত্রীদের ডলার কিনেছে ১২৫ টাকা ৫০ পয়সা দামে, বিক্রি করেছে ১২৬ টাকা ৫০ পয়সা দামে। একই দিন ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) ডলার কিনেছে ১২৫ টাকায়, বিক্রি করে ১২৬ টাকা ২৫ পয়সা দামে। তবে অগ্রণী ব্যাংক নগদ ডলার কিনেছে ১২৩ টাকায়, বিক্রি করেছে ১২৪ টাকা দরে।</p><p>এদিকে ব্যাংকগুলোতে আমদানির জন্য কেনা ডলারের দামও বেড়েছে। ১৯ অক্টোবর ব্যাংকগুলো একে অপরের থেকে ডলার কিনেছে সর্বোচ্চ ১২৩ টাকা ৬০ পয়সা দরে, যা গত বৃহস্পতিবার বেড়ে হয়েছে ১২৩ টাকা ৯৯ পয়সা। এই সময়ে প্রতিদিনই ৫ পয়সা থেকে ২০ পয়সা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।</p><p><strong>খুচরা বাজার আরও চড়া</strong></p><p>ব্যাংকে ডলারের দাম ১২৬ টাকা ৫০ পয়সার মধ্যে থাকলেও খুচরা বাজারের দাম আরও চড়া। বৃহস্পতিবার মতিঝিলের খোলাবাজার ও মানি চেঞ্জারে ডলার বিক্রি হয়েছে ১২৮ টাকা ৫০ পয়সা দামে। আর মানি চেঞ্জারগুলো গ্রাহকের কাছ থেকে ডলার কিনেছে সর্বোচ্চ ১২৮ টাকায়। বাংলাদেশ ব্যাংক ও ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের পর বিদেশ থেকে যাত্রী আসা–যাওয়া উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গেছে। তাতে খোলাবাজারে ডলারের কিছুটা সংকট দেখা দিয়েছে। ১০ দিন আগেও খোলাবাজারে প্রতি ডলারের দাম ছিল ১২৭ থেকে ১২৭ টাকা ৫০ পয়সা। ১০ দিনের ব্যবধানে খোলাবাজারে প্রতি ডলারের দাম সর্বোচ্চ ১ টাকা বেড়েছে। ব্যাংকেও একই সময়ের ব্যবধানে সর্বোচ্চ ১ টাকা দাম বেড়েছে ডলারের।</p>

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
চাকরি হারালেন ‘ডিবি’র হারুনসহ ৮ পুলিশ কর্মকর্তা ও অন্যান্য খবর
চাকরি হারালেন ‘ডিবি’র হারুনসহ ৮ পুলিশ কর্মকর্তা ও অন্যান্য খবর

<p>চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে ২২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম পাস করেছে। এ ছাড়া দিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর শুনুন অডিও সংবাদে...</p><figure></figure>

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
মাস্টহেড পিআরের চিফ স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড গ্রোথ অফিসার আশিক ইকবাল
মাস্টহেড পিআরের চিফ স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড গ্রোথ অফিসার আশিক ইকবাল

আশিক ইকবাল পুবলিসিস মিডিয়া (স্টারকম ওয়ার্ল্ডওয়াইড), মেটলাইফ, এআইএস, সিন্দাবাদ ডটকম, স্যামসাং ইলেকট্রনিকস এবং বাংলালিংকের (ভিওন) মতো দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেছেন।

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
‘জনগণের কাছে একটা কার্ড আছে, সেটি হলো লাল কার্ড’
‘জনগণের কাছে একটা কার্ড আছে, সেটি হলো লাল কার্ড’

সাত দফা দাবিতে ১১ দলের লংমার্চের পথসভায় যশোরের মুড়লী মোড়ে এ হুঁশিয়ারি দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
কেশবপুরে ধানখেতে পাওয়া গেল দুই নারী–পুরুষের অর্ধগলিত লাশ
কেশবপুরে ধানখেতে পাওয়া গেল দুই নারী–পুরুষের অর্ধগলিত লাশ

<p>যশোরের কেশবপুর উপজেলায় ধানখেতে অজ্ঞাতনামা দুই নারী–পুরুষের অর্ধগলিত লাশ পাওয়া গেছে। শনিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের একটি ধানখেতে পড়ে থাকা অবস্থায় লাশ দুটি হেফাজতে নেয় কেশবপুর থানা–পুলিশ।</p><p>পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের একটি ধানখেতে শনিবার সন্ধ্যায় দুজন নারী–পুরুষের লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ দুটি হেফাজতে নেয়। নিহত দুই নারী-পুরুষের বয়স আনুমানিক ৫০ বছর।</p><p>শনিবার রাত ১০টার পর কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, নিহত পুরুষের পরনে লুঙ্গি ও গায়ে গামছা আছে। আর নিহত নারীর পরনে ম্যাক্সি। পুলিশের ফরেনসিক দল যশোর থেকে আসার পরে লাশ দুটি উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন করা হবে। নিহত দুজনকে এলাকাবাসী চিনতে পারছেন না। মৃত্যুর কারণ এখনো বলা যাচ্ছে না। লাশ দুটির ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।</p>

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
‘ডিবি’র হারুনসহ পুলিশের সাত কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত, একজন অবসরে
‘ডিবি’র হারুনসহ পুলিশের সাত কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত, একজন অবসরে

অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিতির দায়ে চাকরি হারালেন হারুন অর রশীদসহ পুলিশের সাত কর্মকর্তা

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন সাবিনা-কৃষ্ণাদের টাঙ্গাইল
পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন সাবিনা-কৃষ্ণাদের টাঙ্গাইল

প্রথম আলো–স্টার নিউজ নারী ফুটবল টুর্নামেন্টের প্রথম আসরের শিরোপা জিতেছে টাঙ্গাইলের মরহুম ফরহাদ হোসেন তালুকদার ফুটবল একাডেমি

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”

পোশাকের ট্যাবু ভেঙে ‘সংস্কৃতির সমতার’ বার্তায় যবিপ্রবিতে ‘লুঙ্গি প্যারেড’

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।