ইসলাম

তরুণ প্রজন্ম কেন ধর্ম থেকে দূরে সরছে, সমাধান কী

অক্টোবর ২১, ২০২৬
তরুণ প্রজন্ম কেন ধর্ম থেকে দূরে সরছে, সমাধান কী
তরুণ প্রজন্ম কেন ধর্ম থেকে দূরে সরছে, সমাধান কী
বিশ বছর পর সেই সন্তান যখন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পা রাখে এবং পরিবার থেকে দূরে মুক্ত পরিবেশে বাস করতে শুরু করে, তখন সে এক সম্পূর্ণ নতুন সংস্কৃতির মুখোমুখি হয়।

Prothomalo

View more
পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীকে দিল্লির বিমানবন্দরে হেনস্থার অভিযোগ, জরিমানাও করা হলো
পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীকে দিল্লির বিমানবন্দরে হেনস্থার অভিযোগ, জরিমানাও করা হলো

আপের অভিযোগ, এটা করা হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিংয়ের বিদেশ সফর আটকাতে চেয়েও ব্যর্থ হয়ে। তাঁকে এর আগে চারবার বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

অক্টোবর ২১, ২০২৬
পরিবারটির শেষ আশা, পবিত্র বেঁচেও থাকতে পারেন
পরিবারটির শেষ আশা, পবিত্র বেঁচেও থাকতে পারেন

পবিত্রর ভগ্নিপতি তপন চন্দ্র সূত্রধর প্রথম আলোকে বলেন, রাশিয়ায় পৌঁছানোর পরের কয়েক দিন তাঁর সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ ছিল।

অক্টোবর ২১, ২০২৬
রঙিন লেহেঙ্গা, আয়নার কাজ আর সোনালি কোমরবন্ধে উৎসবের গ্ল্যামার ছড়ালেন জাহ্নবী কাপুর
রঙিন লেহেঙ্গা, আয়নার কাজ আর সোনালি কোমরবন্ধে উৎসবের গ্ল্যামার ছড়ালেন জাহ্নবী কাপুর

উৎসবের সাজে রং, নকশা আর গয়নার জমকালো আয়োজন। সবকিছু একসঙ্গে কীভাবে সামলাতে হয়, তা দেখালেন জাহ্নবী কাপুর।

অক্টোবর ২১, ২০২৬
সিপিআর শেখা কেন জরুরি, কীভাবে দেওয়া হয়
সিপিআর শেখা কেন জরুরি, কীভাবে দেওয়া হয়

<p>সিপিআর (কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন) একটি জীবন রক্ষাকারী কৌশল। সাধারণত হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে গেলে (কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট) সময়মতো সিপিআর দিয়ে প্রাণ বাঁচানো সম্ভব।</p><p>আপাতদৃষ্টিতে সম্পূর্ণ সুস্থ কোনো মানুষের যেকোনো সময়ে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা সংবাদমাধ্যমে প্রায়ই আমরা এমন খবর জেনে থাকি। অফিসে কাজ করার সময়, খেলার মাঠে বা যেকোনো জায়গায় আকস্মিক অচেতন হওয়া বা মৃত্যুর প্রধান কারণ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট। হঠাৎ এমন ঘটনা ঘটলে প্রাণ রক্ষাকারী পদ্ধতি হতে পারে সিপিআর, যদি তা সময়মতো দেওয়া যায়।</p><h3>সিপিআর কখন এবং কাদের দিতে হয়</h3><p>যদি আচমকা জ্ঞান হারিয়েছেন এমন ব্যক্তির হৃদ্‌যন্ত্র সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, ঘাড়ে হাত দিয়ে ক্যারোটিড পালস না পাওয়া যায়, তাহলে বুঝতে হবে যে তাঁর কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়েছে। তখনই অনতিবিলম্বে সিপিআর শুরু করতে হবে। হৃদ্‌যন্ত্র বন্ধ হওয়ার পরও আক্রান্ত ব্যক্তি শ্বাস নিতে পারেন, না–ও নিতে পারে। শ্বাস-প্রশ্বাস অস্বাভাবিক হতে পারে।</p><h3>সিপিআরের ধাপ কী কী</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-03-25/u3os91s1/pexels-shox-28271058.jpg"><figcaption>ক্যারোটিড পালস না থাকলে সিপিআর শুরু করতে হবে</figcaption></figure><p>প্রথমেই নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত হতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তির চেতনা আছে কি না, তা বোঝার জন্য জোরে জোরে ডাকতে হবে। ক্যারোটিড পালস অনুভব করার চেষ্টা করতে হবে। শ্বাস নিচ্ছেন কি না, তা বোঝার চেষ্টা করতে হবে। যদি আক্রান্ত ব্যক্তি সাড়া না দেন এবং ক্যারোটিড পালস না থাকে, তাহলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সিপিআর শুরু করতে হবে।</p><p>সিপিআর শুরু করার সময় একই সঙ্গে অবিলম্বে জরুরি সেবা সেন্টারে ফোন করে সাহায্য চাইতে হবে। এর জন্য সর্বোচ্চ ১০ সেকেন্ড সময় ব্যয় করা যাবে। কারণ, শুধু সিপিআর দিয়ে এ ধরনের রোগীকে বেশিক্ষণ বাঁচিয়ে রাখা যায় না। </p><p>এবার একহাতের তালু বুকের ওপর দিয়ে তার ওপরে অন্য হাতের তালু রেখে বুকের মাঝের অংশে জোরে চাপ (চেস্ট কম্প্রেশন) দেওয়া শুরু করতে হবে। প্রতি মিনিটে ১০০ থেকে ১২০ বার দিতে হবে। চাপ দেওয়ার গভীরতা হবে প্রায় ৫ থেকে ৬ সেমি (২ ইঞ্চি)। বুকে প্রতিবার ৩০টি চাপ দেওয়ার পর ২ বার কৃত্রিম শ্বাস দিতে হবে।</p><p>আক্রান্ত ব্যক্তির নাক বন্ধ করে মুখের মাধ্যমে শ্বাস দেওয়া হয়। নিশ্চিত করতে হবে যে বুক ওপরে–নিচে ওঠানামা করছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-03-25/j7lm7xoe/pexels-shox-28271070.jpg"><figcaption>ছোট শিশুর বুকে চাপ দেওয়ার সময় দুই আঙুল ব্যবহার করা হয়</figcaption></figure><p>শিশুদের ক্ষেত্রে ১৫: ২ অনুপাত ব্যবহার করা হয়। একেবারে ছোট শিশুদের বুকে চাপ দেওয়ার সময় দুই আঙুল ব্যবহার করতে হয়। শ্বাস দেওয়ার সময় মুখ-নাক ঢেকে রাখতে হয়। এর ফাঁকে ফাঁকে ২ মিনিট পরপর ক্যারোটিড পালস পরীক্ষা করতে হবে।</p><p>যদি আশপাশে এইডি যন্ত্রের (কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলে, এ বৈদ্যুতিক যন্ত্র রোগীর জীবন বাঁচাতে সাহায্য করে) ব্যবস্থা থাকে, তাহলে দ্রুত তা বুকে লাগাতে হবে। সাধারণত বিমানবন্দর, বিমান, মেট্রোস্টেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যন্ত্রটি থাকে। এটি হৃৎপিণ্ডের স্বাভাবিক ছন্দ ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। এইডি ব্যবহার করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশাবলি অনুসরণ করতে হবে।</p><p>যতক্ষণ পর্যন্ত ব্যক্তির স্বতঃস্ফূর্ত সঞ্চালন ফিরে না আসে অর্থাৎ ক্যারোটিড পালস্ সচল না হয় বা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা না করেন, ততক্ষণ পর্যন্ত সিপিআর চালিয়ে যেতে হবে।</p><h3>কাদের সিপিআর প্রশিক্ষণ জরুরি</h3><p>চিকিৎসক-নার্স, ফায়ার সার্ভিস কর্মী, ডুবুরি, উদ্ধারকর্মীসহ সব শিক্ষিত ব্যক্তির সিপিআর প্রশিক্ষণ থাকা উচিত। উন্নত দেশে স্কুল–কলেজের শিক্ষাক্রমেও সিপিআর অন্তর্ভুক্ত আছে। অপ্রশিক্ষিত কোনো ব্যক্তি কোনোভাবেই সঠিকভাবে সিপিআর দিতে পারেন না। তাই সাধারণত মানুষকে সিপিআর শেখাতে সরকারি উদ্যোগ জরুরি।</p><p><sup>লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন, বারডেম হাসপাতাল</sup></p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/health/3o2pkhb7av">তামিম ইকবালের জীবন রক্ষা করেছে সিপিআর, এটি কেন সবার জেনে রাখা জরুরি, কোথায় শিখবেন </a></aside>

অক্টোবর ২১, ২০২৬
সৌদি সংকটে প্রবাসী বাংলাদেশির বিপদে রাষ্ট্র কতটা প্রস্তুত?
সৌদি সংকটে প্রবাসী বাংলাদেশির বিপদে রাষ্ট্র কতটা প্রস্তুত?

সৌদি আরবে শ্রমবাজারের সংকট, বিমানবন্দরে হামলা বা নিরাপত্তাঝুঁকি, ফ্লাইট বাতিল, ভিসার অনিশ্চয়তা কিংবা কর্মীদের আটকে পড়া-প্রতিটি ঘটনা বাংলাদেশের সামনে একটি নির্মম প্রশ্ন তুলেছে

অক্টোবর ২১, ২০২৬
রংপুরের এক কারখানা এবার বিশ্বের সেরা নতুন ভবন
রংপুরের এক কারখানা এবার বিশ্বের সেরা নতুন ভবন

কারখানাটির নকশা করেছেন স্থপতি বায়েজিদ মাহবুব খন্দকার। তিনি ঢাকার নকশাবিদ আর্কিটেক্টসের প্রধান স্থপতি

অক্টোবর ২১, ২০২৬
যুব উন্নয়নের প্রশ্নপত্র ফাঁস: এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করল সিআইডি
যুব উন্নয়নের প্রশ্নপত্র ফাঁস: এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করল সিআইডি

গতকাল মঙ্গলবার রাতে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে সোহাগকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে দুটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।

অক্টোবর ২১, ২০২৬
ট্রাম্প প্রশাসন হঠাৎ কেন মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে চাচ্ছে
ট্রাম্প প্রশাসন হঠাৎ কেন মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে চাচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকে সম্প্রতি মিয়ানমারের কয়েকজন ব্যবসায়ীর নাম বাদ দেওয়ার ঘটনাও ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ওয়াশিংটনের মিয়ানমার নীতিতে পরিবর্তন এসেছে।

অক্টোবর ২১, ২০২৬
তিন ঘণ্টা দেরিতে ছাড়ল ট্রেন, চট্টগ্রাম স্টেশনে যাত্রীদের বিক্ষোভ
তিন ঘণ্টা দেরিতে ছাড়ল ট্রেন, চট্টগ্রাম স্টেশনে যাত্রীদের বিক্ষোভ

ট্রেন ছাড়তে দেরি হওয়ায় স্টেশনমাস্টারের কক্ষের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করেন ৭০ থেকে ৮০ জন যাত্রী। এ ছাড়া বেশ কিছু যাত্রীকে প্ল্যাটফর্মেও বিক্ষোভ করতে দেখা যায়।

অক্টোবর ২১, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন