<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-04/ub56kl0d/Ctg_Raujan.jpeg"><figcaption>ভিডিওতে এসব অস্ত্র সামনে নিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে</figcaption></figure><p>‘সময় থাকতে পালিয়ে যাও, আমি তুফান’—৮ পিস্তল সামনে নিয়ে এভাবে হুমকি দেওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। পুলিশ সূত্র জানায়, হৃদয় ওরফে বুলেট হৃদয় নামের এক সন্ত্রাসী এই ভিডিও ছড়িয়েছেন।</p><p>চট্টগ্রামের দক্ষিণ রাউজানের ফজল হক বাহিনীর মো. মামুনের সহযোগী বাদশার ছেলে হৃদয় ওরফে বুলেট হৃদয়।</p><p>সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ২১ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে কাপড়ের ওপর সাজানো আটটি পিস্তল দেখা যায়। ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, ‘খেলা দেখছো কোথায়? ভালো হয়ে যা। চাঁদাবাজি বন্ধ কর। টাকা দিয়ে মরণের টিকিট আনছি। সময় থাকতে পালিয়ে যাও। আমি তুফান।’</p><p>পুলিশ সূত্র জানায়, অস্ত্রগুলো থানা লুটের অস্ত্র হতে পারে। বুলেট হৃদয়ের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মানুষকে জিম্মি করার অভিযোগ রয়েছে।</p><p>চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম আজ বুধবার দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভিডিওটি বুলেট হৃদয়ের। তবে এটি কবে ছেড়েছে, আমরা তা যাচাই করছি। ধারণা করা হচ্ছে, পুরোনো ভিডিও। তারপরও পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/7oc8q6erx4">‘তোর সময় শেষ, যা খাওয়ার খেয়ে নে’—তিন দিন আগে হুমকি পেয়েছিলেন সরোয়ার</a></aside><p>আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র বলছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে রাউজানে ২৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ২০টি হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক বিরোধের জের ধরে ঘটেছে। একই সময়ে শতাধিক গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনায় সাড়ে তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/9brhqtawer">সন্ত্রাসীদের দলে প্রশিক্ষিত শুটার, দুশ্চিন্তায় পুলিশ</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/uwc7tvkuwz">গণসংযোগের ভিড়ে পিস্তল ঠেকিয়ে খুন, সেই বাঁহাতি শুটার কেন ধরা পড়ছে না</a></aside>
কয়েক মিনিটের মধ্যেই চারজন সেনাসদস্যসহ কালো পোশাক পরা রিসালদার মোসলেহউদ্দিন জেলগেটে পৌঁছান।
<p>দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরুর সিদ্ধান্তের পর ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া’র ঘোষণাসংক্রান্ত দুদকের প্রেস ব্রিফিংয়ের বৈধতা নিয়ে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার রিটের ওপর আদেশের জন্য আগামী বুধবার দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট। শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. বশির উল্লাহ ও বিচারপতি মো. হামিদুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বুধবার আদেশের জন্য এ দিন ধার্য করেন।</p><p>সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া আবেদনকারী হয়ে গত সেপ্টেম্বরে ওই রিট দায়ের করেন। হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ গত ২৯ সেপ্টেম্বর রিটটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন। এরপর চলতি সপ্তাহে রিটটি শুনানির জন্য হাইকোর্টের নিয়মিত ওই বেঞ্চে দাখিল করা হয়।</p><p>আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন, আইনজীবী ইউসুফ আলী ও জহিরুল ইসলাম। দুদকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান খান।</p><p>পরে আইনজীবী জহিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, হাইকোর্ট রিটের শুনানি শেষে আদেশের জন্য আগামী বুধবার (১১ নভেম্বর) তারিখ ধার্য করেছেন।</p><p>রিট আবেদনকারীর আইনজীবীর ভাষ্য, দুদকের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা এবং সহকারী পরিচালক গত ২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দুটি প্রেস ব্রিফিং করেন। ব্রিফিংয়ে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগের অনুসন্ধান শুরুর সিদ্ধান্তের পর ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে’ বলে জানানো হয়। এই ব্রিফিং সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা মর্যাদা ও সুনামের সুরক্ষা এবং দুদকের তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালার লঙ্ঘন। গত ২ ও ১৩ সেপ্টেম্বরের প্রেস ব্রিফিংয়ের কর্তৃত্ব চ্যালেঞ্জ করেই আসিফ মাহমুদ রিটটি করেন।</p><p>রিটের প্রার্থনায় ২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দুদকের উপপরিচালক ও সহকারী পরিচালকের করা প্রেস ব্রিফিং সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ ও ২০১১ সালের তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালার লঙ্ঘন হওয়ায় কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে। কোনো অনুসন্ধান বা তদন্ত চলমান অবস্থায় সে বিষয়ে কোনো ধরনের প্রেস ব্রিফিং করা থেকে দুদককে বিরত রাখতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, এ বিষয়েও রিটে রুল চাওয়া হয়েছে।</p><p>রিটে চলমান কোনো অনুসন্ধান বা তদন্তের বিষয়ে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের প্রেস ব্রিফিং করা থেকে দুদককে বিরত রাখতে অন্তর্বর্তী নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে। ২ ও ১৩ সেপ্টেম্বরের ব্রিফিংয়ে আসিফ মাহমুদকে নিয়ে দুদকের দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে একই গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে রিটে।</p><p>২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এরপর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।</p><p>জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হন আসিফ মাহমুদ। তিনি শুরুতে ছিলেন শ্রম মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে। পরে ২০২৪ সালের নভেম্বরে তাঁকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর পর থেকে তিনি স্থানীয় সরকার এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।</p><p>২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আসিফ মাহমুদ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। একই বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন। তখন থেকে তিনি এনসিপির মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছেন।</p>
১৯৯৮ সালের এই দিনেই বেরিয়েছিল প্রথম আলোর প্রথম সংখ্যা।
<p>ময়মনসিংহের সদর উপজেলার কিসমত গ্রামের এক সাধারণ পরিবারের মেয়ে অরনীকা জামান আঁখি। বাবা আশরাফুজ্জামান ছিলেন কৃষক, আর মা দেলোয়ারা বেগম গ্রামীণ ব্যাংকের সদস্য। তাদের অল্প আয়ে সংসার চালানো ও পড়াশোনার খরচ চালানো কঠিন ছিল। পরিবারে অসচ্ছলতা সত্ত্বেও বাধা অতিক্রম করে অদম্য ইচ্ছা নিয়ে এগিয়েছেন অরনীকা। সব প্রতিকূলতা মাড়িয়ে পরিবারের প্রথম গ্র্যাজুয়েট সম্পন্নকারী নারী তিনি। প্রবল ইচ্ছাশক্তির জোরে নিজের ভাগ্য নিজেই বদলে নিয়েছেন এই তরুণী।<br>অসচ্ছলতার কারণে যখন আঁখির পড়াশোনা প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম, ঠিক তখনই তাঁর পাশে এসে দাঁড়ায় আইডিএলসি ও প্রথম আলো ট্রাস্ট। ২০১৮ সালে তিনি অর্জন করেন মর্যাদাপূর্ণ ‘অদ্বিতীয়া’ শিক্ষাবৃত্তি। এই বৃত্তির অর্থ তাঁর পড়াশোনা ও দৈনন্দিন খরচের চাপ পুরোপুরি দূর করে দেয়। ফলে পরিবারকে আর কোনো অর্থনৈতিক দুশ্চিন্তা করতে হয়নি। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে আঁখি পুরো মনোযোগ দেন পড়াশোনায়। চট্টগ্রামের স্বনামধন্য এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন<strong> (</strong>এইউডব্লিউতে<strong>)</strong> থেকে অর্থনীতিতে সফলভাবে স্নাতক সম্পন্ন করেন তিনি।<br>পড়াশোনা শেষ করেই পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিতে হয় আঁখিকে। অংশ নেন বিভিন্ন চাকরির ইন্টারভিউতে। শেষ পর্যন্ত নিজের অর্জিত শিক্ষাঙ্গনেই চাকরির সুযোগ করে নেন তিনি। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অ্যাডজাঙ্কট্ ম্যাথ ফ্যাকাল্টি হিসেবে যোগ দেন নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ে এইউডব্লিউতে। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের মে মাসে তিনি জুনিয়র ম্যাথ ফ্যাকাল্টি হিসেবে স্থায়ী হন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-04/31o8mwrf/____________________________4.jpeg"><figcaption>আইডিএলসি ও প্রথম আলো ট্রাস্টের অদ্বিতীয়া বৃত্তিপ্রাপ্ত অরনীকা জামান আঁখি বর্তমানে জার্মানিতে আছেন।</figcaption></figure><p>নিজের শিক্ষকতা পেশা নিয়ে আঁখি বলেন, ‘আমার ইচ্ছা ছিল পড়াশোনা শেষ করেই চাকরিতে যোগ দেওয়ার, কারণ পরিবারকে দেখাশোনা করতে হবে। প্রথমে বেসরকারি সংস্থায় কাজ করার ইচ্ছা থাকলেও পরে মনে হলো নিজের বিশ্ববিদ্যালয়েই সুযোগ পেলে সেখানে করাটাই শ্রেয়। শেষ পর্যন্ত সেখানেই সুযোগ পেয়েছি এবং শিক্ষকতা দারুণভাবে উপভোগ করছিলাম।’</p><p>নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা ছেড়ে এবার আঁখি পাড়ি জমিয়েছেন আরও বড় পরিসরে। উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে এ বছরের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি জার্মানি গেছেন। বর্তমানে তিনি জার্মানির মর্যাদাপূর্ণ বন ইউনিভার্সিটিতে<strong> </strong>অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতকোত্তর অধ্যয়নরত।</p><p>ময়মনসিংহের কিসমত গ্রামের এক সাধারণ একটি পরিবার থেকে শুরু হওয়া আঁখির এই যাত্রা প্রমাণ করে—অভাব কখনোই মেধার অন্তরায় হতে পারে না; কেবল প্রয়োজন অদম্য ইচ্ছা এবং সঠিক সুযোগ।</p>
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় নায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে বিভিন্ন এলাকায় আজ বুধবার সকাল থেকে পোশাকশ্রমিকেরা বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে ভোগড়া বাইপাস এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন তাঁরা। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
৩ নভেম্বর বেলা ১১টায় ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নদীভাঙন এলাকার দিয়াকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
আমাদের যত্নের সম্পর্কগুলো মান-অভিমানের কারণে অনেক সময় বদলে যায়, যার প্রভাব পরিবারের অন্য সদস্যদের ওপরেও পড়ে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।