ভারত

তাঁদের আমি পাগল করে দেব: কেন মোদি-শাহকে লক্ষ্য করে এমন কথা বললেন রাহুল

নভেম্বর ৭, ২০২৬
তাঁদের আমি পাগল করে দেব: কেন মোদি-শাহকে লক্ষ্য করে এমন কথা বললেন রাহুল
তাঁদের আমি পাগল করে দেব: কেন মোদি-শাহকে লক্ষ্য করে এমন কথা বললেন রাহুল
রাহুল বলেছেন, কেন তাড়াহুড়া করে মন্ত্রিসভাকে লুকিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি হলো, কেন শিল্পপতি আদানির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে দায়ের মামলা বন্ধ হলো, সব জবাব পাওয়া যাবে।

Prothomalo

View more
৫০ হাজারে হরিণ, পালুন বাড়িতে
৫০ হাজারে হরিণ, পালুন বাড়িতে

মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় উদ্বৃত্ত চিত্রা হরিণ বিক্রি হচ্ছে ৫০ হাজার টাকা দরে। কিনতে হবে কমপক্ষে এক জোড়া।

নভেম্বর ৭, ২০২৬
কোয়ান্টাম জগৎ: কোয়ান্টাম কণারা কেন এক জায়গায় স্থির থাকতে পারে না
কোয়ান্টাম জগৎ: কোয়ান্টাম কণারা কেন এক জায়গায় স্থির থাকতে পারে না

<a href="https://www.bigganchinta.com/physics/z3pubh2dpz" target="_blank" rel=""><span>আগের পর্ব</span></a><p>পরমাণু কেন ধসে পড়ে না—তা চমৎকারভাবে ব্যাখ্যা করেছিল বোরের পরমাণু মডেল। একই সঙ্গে মডেলটি ব্যাখ্যা করেছিল, হাইড্রোজেন পরমাণু কেন স্রেফ নির্দিষ্ট রঙের আলো শোষণ বা নিঃসরণ করে। তবে সেখানে ছোট্ট একটি সমস্যাও ছিল। মডেলটি কেবল হাইড্রোজেন পরমাণুর জন্যই খাটত! পর্যায় সারণির বাকি মৌলগুলোর বিশাল তালিকার ক্ষেত্রে মডেলটি ছিল পুরোপুরি ব্যর্থ। এসব মৌলের পরমাণু কোন রঙের আলো শোষণ করবে বা নিঃসরণ করবে, তা এই মডেল দিয়ে মোটেই বোঝা যেত না।</p><p>তাই বিশ শতকের শুরুর দিকে বিজ্ঞানীরা বুঝতে শুরু করলেন, একেবারে ক্ষুদ্র স্তরের বস্তুগুলো যেন চিরায়ত পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম মানতেই চাইছে না। কিন্তু সেই সময়ও ছবিটা পুরোপুরি পরিষ্কার ছিল না। আমরা আজ যে অর্থে কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞান চিনি, তা গড়ে উঠতে আরও কিছুটা সময় লেগেছিল। এর জন্ম মোটামুটি ১০০ বছর আগে। কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানের এই জন্মের পেছনে ছিল একটি ছোট্ট কণা। বলো তো, কণাটির নাম কী?</p><p>আসলে কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানের জন্মের পেছনে ছিল মানুষের একটি চুলের প্রস্থের কাছাকাছি আকারের, কাঁটাযুক্ত একটি কণা। সেটি হলো অতি সাধারণ ফুলের পরাগরেণু!</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/acelgly87r">কোয়ান্টাম জগৎ: যেখানে লুকিয়ে আছে ভবিষ্যতের চাবিকাঠি</a></aside><blockquote>বিশ শতকের শুরুর দিকে বিজ্ঞানীরা বুঝতে শুরু করলেন, একেবারে ক্ষুদ্র স্তরের বস্তুগুলো যেন চিরায়ত পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম মানতেই চাইছে না। কিন্তু সেই সময়ও ছবিটা পুরোপুরি পরিষ্কার ছিল না।</blockquote><p>দৃশ্যটা একবার কল্পনা করার চেষ্টা করো। সময়টা ১৯২৫ সালের গ্রীষ্মকাল। জার্মান পদার্থবিদ ওয়ার্নার হাইজেনবার্গের বয়স মাত্র ২৩ বছর। কিন্তু বিরক্তিকর এই পরাগরেণুর কারণে তাঁর অ্যালার্জি বা হে ফিভার দেখা দিল। চোখমুখ ফুলে ঢোল। সঙ্গে অস্বস্তিকর হাঁচি-কাশি। মুখ ও চোখ এতই ফুলে গিয়েছিল যে তাঁর বাড়িওয়ালি পর্যন্ত মনে করেছিলেন তিনি কারোর সাথে হাতাহাতি বা মারামারি করে এসেছেন! শারীরিক কষ্ট থেকে একটু স্বস্তি পাওয়ার জন্য হাইজেনবার্গ তখন মরিয়া। তিনি সবকিছুই চেষ্টা করে দেখেছেন—অ্যাসপিরিন থেকে শুরু করে কোকেন পর্যন্ত কোনো কিছুই বাদ দেননি! শুনতে অবাক লাগলেও, সে সময় কোকেনকে হে ফিভারের বা অ্যালার্জির এক ধরনের চিকিৎসা হিসেবে সুপারিশ করা হতো!</p><p>পরাগরেণুর যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে শেষ পর্যন্ত জার্মানির উপকূলের কাছে হেলিগোল্যান্ড নামে একটি গাছপালাহীন দ্বীপে চলে গেলেন হাইজেনবার্গ। সেখানে গিয়ে প্রায় একা একা থাকতে শুরু করলেন। সেই নির্জন দ্বীপেই কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানে এক যুগান্তকারী ধারণার জন্ম দিলেন তিনি।</p><p>হাইজেনবার্গ প্রস্তাব করলেন, ইলেকট্রনকে এমন কণা হিসেবে ভাবা যাবে না, যা চিরায়ত কণার মতো নিরবচ্ছিন্ন পথে নিউক্লিয়াসকে প্রদক্ষিণ করে। ইলেকট্রনের এমন কোনো নির্দিষ্ট, একটানা গতিপথের কথা বলার দরকার নেই। বরং একটি পরমাণু সম্পর্কে আমরা যেসব বিষয় সত্যিই পর্যবেক্ষণ করতে পারি, সেগুলোর ওপরই আমাদের নির্ভর করতে হবে। যেমন—ইলেকট্রনের শক্তি এবং এক শক্তিস্তর থেকে আরেক শক্তিস্তরে কোয়ান্টাম লাফ দেওয়ার সম্ভাবনা। ইলেকট্রনের মতো কোয়ান্টাম কণারা সব সময় নিরবচ্ছিন্ন ও সুনির্দিষ্ট পথে চলে—এই পুরোনো ধারণাটিই ছুড়ে ফেলে দিলেন হাইজেনবার্গ। এর মাধ্যমেই তিনি চিরায়ত পদার্থবিজ্ঞান থেকে প্রথম স্পষ্ট বিচ্ছেদ ঘটালেন।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/qfw27qjg4u">কোয়ান্টাম বলবিদ্যার অদ্ভুত জগৎ</a></aside><blockquote>পরাগরেণুর যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে শেষ পর্যন্ত জার্মানির উপকূলের কাছে হেলিগোল্যান্ড নামে একটি গাছপালাহীন দ্বীপে চলে গেলেন হাইজেনবার্গ। সেখানে গিয়ে প্রায় একা একা থাকতে শুরু করলেন।</blockquote><p>১৯২৫ সালের এক গ্রীষ্মের রাত। নিজের ঘরের চেয়ার-টেবিলে বসে হাইজেনবার্গ তখন পাতার পাতা অঙ্ক কষে যাচ্ছেন। একসময় সমাধান মিলল। তখন ভোররাত তিনটা। হাত থেকে কলম নামিয়ে রাখলেন হাইজেনবার্গ। তারপর সামনে পড়ে থাকা নিজের গাণিতিক হিসাব-নিকেশের দিকে তাকিয়ে রইলেন। তিনি আবিষ্কার করে ফেলেছেন নতুন কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রথম পূর্ণাঙ্গ রূপ! সে তত্ত্ব বিজ্ঞানীদের এমন এক গাণিতিক কাঠামো দেবে, যা দিয়ে শুধু হাইড্রোজেন পরমাণুই নয়, অন্য সব পরমাণু, উপ-পরমাণবিক কণা এবং অণুর আচরণও ব্যাখ্যা করা সম্ভব।</p><p>স্বাভাবিকভাবেই হাইজেনবার্গ এতই উত্তেজিত ছিলেন যে আর সে রাতে ঘুমাতে পারেননি। তাই রাতের প্রায় অন্ধকারে দ্বীপের একটি পাথরের চূড়ায় উঠে গেলেন। সেখানে একা একা বসে অপেক্ষা করতে লাগলেন—কখন ভোরের সূর্য উঠবে, আর সেই সঙ্গে সূচনা হবে নতুন এক বৈজ্ঞানিক যুগের। এর সঙ্গেই সূচনা হবে নতুন কোয়ান্টাম যুগের ভোর।</p><p>হাইজেনবার্গের নতুন কোয়ান্টাম তত্ত্বে আমাদের সেই কোয়ান্টাম স্কেটবোর্ডারকে আর স্কেটবোর্ডের বাটিতে বিভিন্ন উচ্চতায় চক্কর দিতে দেখা যাবে না। আসলে সে কীভাবে বাটির চারপাশে ঘুরছে, সে সম্পর্কেই আমরা কিছু বলতে পারি না। আমরা শুধু পর্যবেক্ষণ করতে পারি, বিভিন্ন শক্তিস্তরের মধ্যে কোয়ান্টাম লাফ দেওয়ার সময় সে তার বন্ধুর সঙ্গে বল ছোড়াছুড়ি করছে কী পরিমাণ শক্তি নিয়ে এবং সেই লাফ দেওয়ার সম্ভাবনা কতটা।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/tb94bwacdh">কোয়ান্টাম জগৎ কি আসলেই অদৃশ্য</a></aside><blockquote>একসময় সমাধান মিলল। তখন ভোররাত তিনটা। হাত থেকে কলম নামিয়ে রাখলেন হাইজেনবার্গ। তারপর সামনে পড়ে থাকা নিজের গাণিতিক হিসাব-নিকেশের দিকে তাকিয়ে রইলেন।</blockquote><p>এভাবে ভাবলে হয়তো মনে খুব পরিষ্কার কোনো ছবি তৈরি হয় না। কিন্তু হাইজেনবার্গের মতো আমরাও শুধু সেই বিষয়গুলোর ওপর মন দিতে পারি, যেগুলো সত্যিই পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। তারপর সেগুলো ব্যাখ্যা করার জন্য একটি গাণিতিক মডেল তৈরি করতে পারি।</p><p>নতুন কোয়ান্টাম তত্ত্বের একটি বড় সাফল্য ছিল—সেটা কিছু গাণিতিক হাতিয়ারের যোগান দিয়েছিল। তার সাহায্যে বিভিন্ন ধরনের পরমাণু কোন কোন নির্দিষ্ট রঙের আলো শোষণ ও নির্গত করবে, তা নির্ভুলভাবে অনুমান করা সম্ভব হয়েছিল। তবে এই গাণিতিক হাতিয়ারগুলো ছিল বিমূর্ত ম্যাট্রিক্স বা সংখ্যার জটিল সারণির আকারে। এগুলো কোয়ান্টাম জগতের কোনো সহজ, চোখে দেখা যায় এমন ছবি ফুটিয়ে তুলতে পারছিল না।</p><p>মাত্র এক বছর পর, হাইজেনবার্গের এই তত্ত্বকে চ্যালেঞ্জ জানালেন অস্ট্রিয়ান-আইরিশ পদার্থবিদ আরউইন শ্রোডিঙ্গার। তিনি কোয়ান্টাম মেকানিক্সের একটি বিকল্প রূপ হাজির করলেন। মজার ব্যাপার হলো, শ্রোডিঙ্গারের তত্ত্ব এবং হাইজেনবার্গের তত্ত্ব গাণিতিকভাবে সমতুল্য ছিল। অর্থাৎ দুটির ভিত্তি একই মৌলিক নীতির ওপর দাঁড়ানো এবং দুটি একই ফলাফল বা পূর্বাভাস দেয়। কিন্তু শ্রোডিঙ্গারের পদ্ধতিটি ছিল অনেক বেশি সুন্দর ও সহজবোধ্য। শ্রোডিঙ্গারের মতে, কোয়ান্টাম কণারা কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় আটকে থাকতে চায় না। বরং এদের ভাবতে হবে স্থানজুড়ে ছড়িয়ে থাকা একটি সম্ভাবনার মেঘ হিসেবে। কোনো নির্দিষ্ট বিন্দুতে থাকা ছোট্ট কণার বদলে তারা যেন ঝাপসা একটি পিণ্ড—কোথাও স্পষ্টভাবে সীমাবদ্ধ নয়।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/4dm0codddv">কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটি কেন প্রয়োজন</a></aside><blockquote>মাত্র এক বছর পর, হাইজেনবার্গের এই তত্ত্বকে চ্যালেঞ্জ জানালেন অস্ট্রিয়ান-আইরিশ পদার্থবিদ আরউইন শ্রোডিঙ্গার। তিনি কোয়ান্টাম মেকানিক্সের একটি বিকল্প রূপ হাজির করলেন।</blockquote><p>এই ঝাপসা কোয়ান্টাম কণাকে বোঝানোর জন্য শ্রোডিঙ্গার ব্যবহার করলেন তাঁর বিখ্যাত তরঙ্গ ফাংশন বা ওয়েভ ফাংশন। সেটা ছিল কোয়ান্টাম কণার সম্ভাবনার বণ্টনের একটি চমৎকার গাণিতিক বিবরণ। একটি কোয়ান্টাম কণার তরঙ্গ ফাংশন বলে দেয় যে বিভিন্ন স্থানে খোঁজার সময় সেই নির্দিষ্ট কণাটি খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা কতটা।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-07/ma5k9s9w/14.jpg"><figcaption>ছবি ১৪: শ্রোডিঙ্গারের বিখ্যাত তরঙ্গ সমীকরণ। ১৯২৫ সালে আবিষ্কৃত এই সমীকরণটি পুরো কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানকে এক নতুন রূপ দিয়েছিল। সমীকরণের ত্রিশূলের মতো দেখতে ψ চিহ্নটিকে বলা হয় সাই। একে বলা হয় ওয়েভফাংশন। এটি আসলে কোনো দৃশ্যমান তরঙ্গ নয়; এটি নির্দেশ করে কোনো মুহূর্তে একটি অতিপারমাণবিক কণা (যেমন ইলেকট্রন) মহাশূন্যের কোথায় থাকার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি!</figcaption></figure><p>ধরো, তুমি কোনো একটি নির্দিষ্ট কোয়ান্টাম কণা খুঁজছ। বিভিন্ন জায়গায় খুঁজলে কোন জায়গায় তাকে পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি, আর কোথায় কম—কণাটির তরঙ্গ ফাংশন সেটিই জানায়। একটি কণার তরঙ্গ ফাংশনে কিছু জায়গায় উঁচু চূড়া থাকে। সেসব অঞ্চলে কণাটি পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। আবার এই চূড়াগুলোর চারপাশে লেজের মতো অংশ থাকে। সেখানে কণাটি পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম, কিন্তু একেবারে শূন্য নয়।</p><p>এই তরঙ্গ ফাংশনের কারণেই ইলেকট্রন নিজের সঙ্গেও ব্যতিচার ঘটাতে পারে। একটু আগেই আমরা ডাবল-স্লিট পরীক্ষায় এর উদাহরণ দেখেছি। সেখানে ইলেকট্রনের তরঙ্গ ছড়িয়ে পড়ে, দুটি ভাগে ভাগ হয় এবং একই সময়ে দুটি ছিদ্র দিয়েই যেতে পারে। তারপর দুটি অংশ আবার নিজেদের মধ্যে ব্যতিচার ঘটায়।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/6d299vc8tn">কোয়ান্টাম মেকানিকস কেন বলে অতীত সত্যি নয়</a></aside><blockquote>একটি কণার তরঙ্গ ফাংশনে কিছু জায়গায় উঁচু চূড়া থাকে। সেসব অঞ্চলে কণাটি পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। আবার এই চূড়াগুলোর চারপাশে লেজের মতো অংশ থাকে।</blockquote><p>শ্রোডিঙ্গার আমাদের উপহার দিয়েছেন তাঁর বিখ্যাত তরঙ্গ সমীকরণও। এই সমীকরণ বলে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কোয়ান্টাম কণার তরঙ্গ ফাংশন কীভাবে বদলায়। তরঙ্গ সমীকরণকে চিরায়ত পদার্থবিজ্ঞানের গতির সমীকরণের সঙ্গে তুলনা করা যায়। চিরায়ত পদার্থবিজ্ঞানে কোনো কণার শুরুর অবস্থান এবং তার ওপর ক্রিয়া করা সব বল যদি আমরা জানি, তাহলে গতির সমীকরণ ব্যবহার করে নিশ্চিতভাবে বলে দিতে পারি, শেষ পর্যন্ত কণাটি কোথায় গিয়ে পৌঁছাবে। তেমনি কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানে আমরা শ্রোডিঙ্গারের তরঙ্গ সমীকরণ ব্যবহার করে অন্য একটি বিষয় নিশ্চিতভাবে জানতে পারি। </p><p>কোনো কণার শুরুর তরঙ্গ ফাংশন এবং তার ওপর কাজ করা সব বাহ্যিক প্রভাব জানা থাকলে, সময়ের সঙ্গে সেই তরঙ্গ ফাংশন কীভাবে বদলাবে, তা নির্ভুলভাবে হিসাব করা যায়। তবে এখানেই রয়েছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য। চিরায়ত পদার্থবিজ্ঞান মূলত নিশ্চিত বা নির্ধারিত, কিন্তু কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞান মূলত সম্ভাবনাভিত্তিক। কারণ কোয়ান্টাম জগতে আমরা কোনো কণা ঠিক কোথায় থাকবে, তা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি না। কেবল বলতে পারি, তার সম্ভাবনার মেঘ বা তরঙ্গ ফাংশন সময়ের সঙ্গে কীভাবে বদলাবে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-07/axusciwn/15.jpg"><figcaption>ছবি ১৫: কোয়ান্টাম জগতে কণার অবস্থান কোনো নির্দিষ্ট বিন্দুতে সীমাবদ্ধ নয়। বরং, কণাটিকে কোথায় পাওয়ার সম্ভাবনা কতটা, তা ছড়িয়ে থাকে একটি বিস্তৃত অঞ্চলে। গ্রাফের চূড়াটি দেখায়, কোন অঞ্চলে কণাটিকে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি—তবে তার উপস্থিতির সম্ভাবনা অন্য অঞ্চলগুলোতেও থাকে</figcaption></figure><p>কোয়ান্টাম কণার এই ঝাপসা ও সম্ভাবনাভিত্তিক স্বভাবের পেছনে রয়েছে হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা নীতি বা আনসার্টেনিটি প্রিন্সিপল। প্রায় এক শতাব্দী আগে হাঁচির চোটে ভুগতে ভুগতে যে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানের জন্মের পথ খুলে দিয়েছিলেন, এই নীতির নামও এসেছে সেই হাইজেনবার্গের নাম থেকেই।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/4wmywedo44">কোয়ান্টাম কণাদের পথ পাড়ি দিতে কি সময় লাগে না</a></aside><blockquote>কোয়ান্টাম জগতে আমরা কোনো কণা ঠিক কোথায় থাকবে, তা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি না। কেবল বলতে পারি, তার সম্ভাবনার মেঘ বা তরঙ্গ ফাংশন সময়ের সঙ্গে কীভাবে বদলাবে।</blockquote><p>১৯২৭ সালে হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা নীতি প্রস্তাব করেন। এই নীতি বলে, কোনো কোয়ান্টাম কণার অবস্থান যত নিখুঁতভাবে জানা যাবে, তার ভরবেগ জানা যাবে তত কম নির্ভুলভাবে। আবার উল্টোটাও সত্যি। মানে, কোনো কোয়ান্টাম কণার ভরবেগ যত নিখুঁতভাবে জানা যাবে, তার অবস্থান তত অনিশ্চিত হয়ে যাবে। ভরবেগ থেকে আমরা কণাটি কত দ্রুত এবং কোন দিকে চলছে, সে সম্পর্কে জানতে পারি। এর মানে হলো, একই সময়ে কোনো কোয়ান্টাম কণার অবস্থান ও ভরবেগ—দুটিই ইচ্ছেমতো নির্ভুলভাবে জানার একটা সীমা আছে।</p><p>এখন একটা কথা বলে রাখি। এই বইজুড়ে গাদা গাদা গাণিতিক সমীকরণ থাকবে না। কারণ হাতে গোনা কিছু মানুষই সমীকরণ দেখে আনন্দ পান! তবে এখানে খুব ছোট্ট একটি সমীকরণ দেখাতে চাই। এর সাহায্যে বোঝা যাবে, কত সুন্দর ও সহজভাবে হাইজেনবার্গের নীতি এই নিশ্চয়তার সীমাকে ধরে ফেলতে পারে।</p><p>হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা নীতিকে এভাবে প্রকাশ করা যায়: Δx .Δp ≥ℏ/2। এখানে Δx হলো x-দিক বরাবর অবস্থানের অনিশ্চয়তা। আর Δp হলো x-দিক বরাবর ভরবেগের অনিশ্চয়তা। এই অনিশ্চয়তা দুটির গুণফল অবশ্যই ℏ/2-এর চেয়ে বড় বা সমান হতে হবে। এই ধ্রুবক ℏ হলো সংশোধিত প্লাঙ্ক ধ্রুবক৯। এটি কোয়ান্টাম বলবিদ্যার একটি মৌলিক ধ্রুবক। কোয়ান্টাম জগৎ বর্ণনা করা নানা সমীকরণে এই ধ্রুবকটি বারবার দেখা যায়—মনে হয় যেন সেটি সব জায়গাতেই লুকিয়ে আছে!</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/ss975jwam6">কোয়ান্টাম বলবিদ্যায় সবকিছুই কি অনিশ্চিত</a></aside><blockquote>হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা নীতিকে এভাবে প্রকাশ করা যায়: Δx .Δp ≥ℏ/2। এখানে Δx হলো x-দিক বরাবর অবস্থানের অনিশ্চয়তা। আর Δp হলো x-দিক বরাবর ভরবেগের অনিশ্চয়তা।</blockquote><p>তবে এই অনিশ্চয়তা আমাদের মাপজোখের সীমাবদ্ধতার কারণে তৈরি হয় না। আমাদের যন্ত্র যতই নিখুঁতই হোক না কেন, সমস্যাটা আসলে সেখানেই নয়। এটি কোয়ান্টাম জগতের একেবারে মৌলিক নিয়ম। কোয়ান্টাম কণাদের এই সীমা মেনেই চলতে হয়।</p><p>ধরা যাক, আমাদের লক্ষ্য হলো কোনো কোয়ান্টাম কণার অবস্থান ও ভরবেগ যতটা সম্ভব নির্ভুলভাবে জানা। সে ক্ষেত্রে আমরা সর্বোচ্চ যা করতে পারি, তা হলো হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা নীতির অসমতাকে ঠিক সমতায় নিয়ে আসা। একে খুব সহজ একটি দাঁড়িপাল্লার মতো কল্পনা করা যায়। দাঁড়িপাল্লার এক পাশে থাকবে Δx . Δp, অর্থাৎ অবস্থান ও ভরবেগের অনিশ্চয়তার গুণফল। অন্য পাশে থাকবে ħ/2। </p><p>এখন আমরা যদি কণাটির অবস্থান সম্পর্কে অনিশ্চয়তা কমিয়ে দিই, তাহলে ভরবেগ সম্পর্কে অনিশ্চয়তা বাড়াতেই হবে। আবার ভরবেগের অনিশ্চয়তা কমাতে চাইলে অবস্থান সম্পর্কে অনিশ্চয়তা বাড়বে। দুই পাশের পাল্লার ভারসাম্য ঠিক রাখতে হলে এভাবেই একটিকে কমালে অন্যটিকে বাড়াতে হবে। কোয়ান্টাম জগতে নিশ্চিতভাবে জানার সীমাটা অনেকটা এমনই—একদিকে যত বেশি নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে ততটাই অনিশ্চয়তা এসে হাজির হবে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/rrs02oirc9">কোয়ান্টাম মেকানিকস কেউ বোঝে না, বিজ্ঞানীরাও নয়!</a></aside><blockquote>এখন আমরা যদি কণাটির অবস্থান সম্পর্কে অনিশ্চয়তা কমিয়ে দিই, তাহলে ভরবেগ সম্পর্কে অনিশ্চয়তা বাড়াতেই হবে। আবার ভরবেগের অনিশ্চয়তা কমাতে চাইলে অবস্থান সম্পর্কে অনিশ্চয়তা বাড়বে।</blockquote><p>এই নীতির শেষ কথা হলো: কোনো কোয়ান্টাম কণাকে আমরা যদি একটি মাত্র বিন্দুর মধ্যে আটকে রাখতে চাই, মানে তার অবস্থান সম্পর্কে অনিশ্চয়তা কমাতে চাই, তাহলে তার ভরবেগ সম্পর্কে জানা আরও অনির্ভুল বা ত্রুটিপূর্ণ হয়ে যাবে। কারণ তখন কণাটির গতিও অনিশ্চিতভাবে বদলে যেতে পারে। ফলে কোনো কোয়ান্টাম কণাকে একটিমাত্র জায়গায় আটকে রাখা অসম্ভব। তাকে যতই একটি নির্দিষ্ট জায়গায় বন্দী করার চেষ্টা করি না কেন, তা আবার ছড়িয়ে পড়বে। ফিরে যাবে সেই ঝাপসা সম্ভাবনার মেঘে, যা ছড়িয়ে থাকে গোটা স্থানজুড়ে। কোনো কোয়ান্টাম কণাকে যদি সত্যিই আটকে রাখা হয়—যেমন একটি পরমাণুর ভেতরে আটকে থাকা ইলেকট্রন, কিংবা মানুষের তৈরি কোনো সেমিকন্ডাক্টর যন্ত্রের মধ্যে বন্দী ইলেকট্রন—তবুও তার তরঙ্গ ফাংশন সব সময়ই শূন্যের চেয়ে বড় একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ স্থানজুড়ে ছড়িয়ে থাকবে।</p><h4>সূত্র: ড্যানি হোমসের <em>ওয়ান্ডার অব কোয়ান্টাম ওয়ার্ল্ডস</em> অবলম্বনে</h4><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/quantum-tunneling">কোয়ান্টাম টানেলিং কীভাবে হয়?</a></aside>

নভেম্বর ৭, ২০২৬
ভুয়া অনলাইন চাকরির ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে বাইন্যান্সের ক্রিপ্টো হ্যাকিং
ভুয়া অনলাইন চাকরির ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে বাইন্যান্সের ক্রিপ্টো হ্যাকিং

হ্যাকাররা এক জটিল এবং বহুধাপ বিশিষ্ট অভিযানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির সিস্টেমে প্রবেশ করে। তারা প্রকৌশলীদের কম্পিউটারে ক্ষতিকারক সফটওয়্যার ডাউনলোড করিয়ে ওয়ালেট থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ক্রিপ্টো সরিয়ে নেওয়ার সুবিধা পায়।

নভেম্বর ৭, ২০২৬
ঢাকায় কোন কোন রাস্তায় যানজট হতে পারে, কীভাবে যাবেন
ঢাকায় কোন কোন রাস্তায় যানজট হতে পারে, কীভাবে যাবেন

এসব এলাকায় যাঁদের যাতায়াতের প্রয়োজন রয়েছে, তাঁদের হাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা ।

নভেম্বর ৭, ২০২৬
নাটোরে বটগাছের মগডালে উঠে যায় কিশোর, পরে যেভাবে নামানো হলো
নাটোরে বটগাছের মগডালে উঠে যায় কিশোর, পরে যেভাবে নামানো হলো

নাটোরের নলডাঙ্গায় একটি মাদ্রাসার বটগাছের মাথায় উঠে পড়ে মো. আলহাজ্ব (১৩) নামের এক কিশোর। প্রায় তিন ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে তাকে নিরাপদে নামিয়ে আনেন।

নভেম্বর ৭, ২০২৬
৪০০ বিয়ে দিয়েছেন রংপুরের এশরা বেগম, ঘটকালির বর্তমান পরিস্থিতি কেমন
৪০০ বিয়ে দিয়েছেন রংপুরের এশরা বেগম, ঘটকালির বর্তমান পরিস্থিতি কেমন

<p>সম্বন্ধ গড়তে গড়তে ৩০ বছর পার করে দিলেন রংপুরের তারাগঞ্জের <strong>এশরা বেগম</strong>। দিয়েছেন চার শতাধিক বিয়ে। এই ঘটকের গল্প শোনাচ্ছেন <strong>রহিদুল মিয়া</strong></p><p>তারাগঞ্জের ইকরচালী হাটে ভিড় বাড়ছে। পাশের হাইস্কুল মার্কেটের একটি কাপড়ের দোকানে বসে আছেন এশরা বেগম। হাতে কয়েকটি জীবনবৃত্তান্ত। পাশে বসা দুজনকে সেগুলো দেখাচ্ছেন। একজনের ছেলে বিয়ে করবেন, অন্যজন মেয়ের জন্য পাত্র খুঁজছেন। দুই পক্ষের চাহিদা মিলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন এশরা। </p><p>১৫ অক্টোবর সন্ধ্যা তখন। বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন সেই দুপুরে। ইকরচালী গ্রামের এক মেয়েকে হাজীরহাটের এক ছেলের দেখতে আসার কথা ছিল। ছেলেপক্ষের আসতে দেরি হলেও শেষ পর্যন্ত দেখা হয়েছে। দুই পক্ষেরই পরস্পরকে পছন্দ হয়েছে। এখন পরবর্তী আলোচনার অপেক্ষা।</p><p>হাটে আসা দুজনের বিষয়ে এশরা বলেন, ‘একজন ছেলের বউ খুঁজছে। তাকে দুজনের সিভি দেখালাম। পছন্দ হলে দুই পক্ষকে দেখানোর ব্যবস্থা করব।’</p><p>২৮ বছর ধরে এভাবেই এশরার দিন যাচ্ছে। পাত্র-পাত্রী খুঁজে দেওয়া, দুই পরিবারের মধ্যে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া, দেখাদেখির ব্যবস্থা করা—এসব করতে গিয়ে চার শতাধিক বিয়ে দিয়েছেন। এর মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের ৩০টি বিয়েও রয়েছে। </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-05/tedjggnd/WhatsApp-Image-2026-10-19-at-4.11.58-PM.jpeg"><figcaption>পাত্র–পাত্রীর জীবনবৃত্তান্ত নিয়ে প্রতিদিন বাড়ি থেকে বের হন এশরা বেগম</figcaption></figure><h3>পাত্রী খুঁজতে গিয়ে</h3><p>১৯৯৬ সালের দিকে একবার বাড়িতে এলেন তাঁর নন্দাই নজরুল ইসলাম। রংপুর শহরে কাপড়ের ব্যবসা করলেও ঘটক হিসেবে পরিচিত নজরুল। গ্রাম থেকে শহরের অনেক ছেলে–মেয়ের বিয়ের সম্বন্ধ করিয়ে দিয়েছেন। তিনিই এশরাকে রংপুরের মাহিগঞ্জের কাপড় ব্যবসায়ী রেজাউলের জন্য পাত্রী খোঁজার দায়িত্ব দেন।</p><p>বেশি দূর যেতে হলো না। পাশের গ্রাম উত্তরপাড়ায় বিজলী বেগমকে পাওয়া গেল। তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বিয়ের প্রস্তাব দেন। দুই পক্ষের দেখাদেখি হলো। এক মাসের মধ্যে বিয়েও হয়ে গেল।</p><p>এশরা বলেন, ‘সেই বিয়ের পর নতুন শাড়ি উপহার পেয়েছিলাম।’</p><h3>সেকাল–একাল</h3><p>পরের চারটি ঘটকালিই কিন্তু ব্যর্থ হলো। পঞ্চম ঘটকালিতে সফল হওয়ার পর নিয়মিত এই কাজ শুরু করেন। একসময় আশপাশে পরিচিতি ছড়িয়ে পড়ল। পাত্র-পাত্রী খুঁজতে মানুষ তাঁর কাছে আসতে শুরু করল। দীর্ঘ ২৮ বছরের ঘটকালিজীবনে কত পরিবারে যে বিয়ের সম্বন্ধ পাতিয়ে দিয়েছেন, তার হিসাবও রেখেছেন এশরা। চার শতাধিক বিয়ে দিয়েছেন তিনি। তবে তাঁর কাছে সংখ্যার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক তৈরি করে দেওয়া।</p><p>তারাগঞ্জের সরকারপাড়া গ্রামের আসাবুদ্দিনের পরিবারের কথাই ধরা যাক। আসাবুদ্দিনের বিয়ের ঘটকালি করেছিলেন এশরা। পরে তাঁর মেয়ে আসমা বেগমের বিয়ের সম্বন্ধও তিনিই করিয়ে দেন। অর্থাৎ এক পরিবারের দুই প্রজন্মের বিয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন এশরা।</p><p>এ ধরনের অভিজ্ঞতা তাঁর একটা নয়, যে পরিবারের মা-বাবার বিয়ে দিয়েছেন, পরে সেই পরিবারের সন্তানদের বিয়ের জন্যও ডাক পেয়েছেন। এটিই তাঁর কাছে বড় প্রাপ্তি।</p><p>এখন পাত্র-পাত্রী খোঁজার ধরন বদলেছে। এশরা বলেন, ‘এখন সবাই সৎ, কর্মজীবী ও সচ্ছল পরিবার খোঁজে। চাকরি থাকলে বেশি গুরুত্ব দেয়। বংশও দেখে, তবে কর্মসংস্থানটা ভালো করে দেখে।’</p><p>আগে পরিবারের বড়রা ছেলে পছন্দ করলেই বিয়ের আলোচনা এগোত। মেয়ের মতামত নেওয়ার চল ছিল কম। এখন সেই চিত্র বদলেছে। এশরার ভাষায়, ‘আগে বাবা, দাদা, মামারা ছেলে দেখে পছন্দ করলে বিয়ে হতো। এখন পরিবার পছন্দ করলেও মেয়ে পছন্দ না করলে বিয়ে হয় না। মেয়েদের পছন্দের গুরুত্ব অনেক বেড়েছে।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-05/an982foh/WhatsApp-Image-2026-10-19-at-4.11.59-PM.jpeg"><figcaption>এশরা বেগম</figcaption></figure><p>তবে মেয়েদের মতামতের গুরুত্ব বাড়ার পাশাপাশি ঘটকের কাজও বেড়েছে। দুই পক্ষের চাহিদা মেলানো, পাত্র-পাত্রীকে দেখানো এবং বিয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো—সবকিছুতেই আগের চেয়ে বেশি সময় দিতে হয়।</p><h3>এশরার কদর কমেছে </h3><p>ঘটকালি করতে গিয়ে কত অভিজ্ঞতা! কোনো কোনো বিয়ে অল্প চেষ্টাতেই সফল। আবার অনেক সম্বন্ধ শেষ পর্যন্ত ভেঙে গেছে। এর মধ্যে কিছু অভিজ্ঞতা তাঁকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তও করেছে।</p><p>২০২২ সালের কথা। করোনা মহামারির প্রভাব রয়ে গেছে। মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত। এশরার আয়ও কমে গিয়েছিল। সেই সময় তারাগঞ্জের চিকলীপাড়ার এক মেয়ের জন্য পার্বতীপুরের ব্যবসায়ীর সম্বন্ধ করান। কয়েক দিন ধরে দুই পক্ষের দেখাদেখির ব্যবস্থা করেন। যাতায়াতের খরচও নিজের পকেট থেকে দেন। পরে দেনদরবার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় বিয়ের আলোচনা ভেস্তে যায়।</p><p>কিন্তু এক মাস পর জানতে পারেন, দুই পক্ষ সরাসরি যোগাযোগ করে বিয়ে করে ফেলেছে। তাঁকে কিছু জানানো হয়নি, দেওয়া হয়নি কোনো সম্মানীও। এশরার হিসাবে, তখন নিজের পকেট থেকে প্রায় দুই হাজার টাকা খরচ হয়েছিল।</p><p>এমন অভিজ্ঞতা আরও হয়েছে। দুই পক্ষকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পর অনেকে নিজেরাই যোগাযোগ করে বিয়ের আয়োজন করেন। ঘটককে আর পারিশ্রমিক দেন না। এশরা বলেন, ‘দুই পক্ষকে দেখালাম, তাদের পছন্দও হলো। পরে নিজেরাই আলাপ-আলোচনা করে বিয়ে ঠিক করে। আমাকে আর টাকা দেয় না। এমন বহু ঠকেছি।’</p><p>ফেসবুক ও মুঠোফোনের যুগে ঘটকালির কাজেও পরিবর্তন এসেছে। প্রেমের বিয়ে বেড়েছে, দুই পরিবার নিজেরাই যোগাযোগ করে বিয়ের আয়োজন করছে। এশরা মনে করেন, আগের মতো ঘটকের প্রয়োজন এখন আর নেই। তাঁর কথায়, ‘আগে ঘটক ছাড়া বিয়ে কল্পনাই করা যেত না। এখন সেই দিন হারিয়ে গেছে।’</p> <h3>ঘটকালি করে যেতে চান</h3><p>জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী, ১৯৬০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তারাগঞ্জের মাটিয়ালপাড়া গ্রামে এশরার জন্ম। তবে নিজের প্রকৃত বয়স সম্পর্কে নিশ্চিত নন এশরা। মুক্তিযুদ্ধের আগেই তাঁর জন্ম হয়েছিল, সেটুকু মনে করতে পারেন।</p><p>মাত্র ১৫ বছর বয়সে পারিবারিকভাবে আলিমুদ্দিনের সঙ্গে বিয়ে হয়। ঘটকালি করেছিলেন তাঁর ফুফু। স্বামী আলিমুদ্দিন একসময় ভ্যান চালাতেন। তবে তাঁর ভ্যানটি চুরি হয়ে যায়। ধারদেনা করে কেনা ভ্যান হারানোর পর সংসারে আর্থিক টানাপোড়েন বেড়েছে। নিজেই দুই মেয়ে ও এক ছেলের বিয়ে দিয়েছেন এশরা। অবশ্য অন্য এক ঘটকের সহযোগিতা নিয়েছিলেন। বিয়ের পর সন্তানেরা এখন আলাদা সংসারে থাকেন।</p><p>এশরার ঘটকালি পেশা নিয়ে প্রথম দিকে এলাকার মানুষেরা কেউ কেউ কটূক্তি করতেন। কারণ, সাধারণত পুরুষেরাই এ কাজ করেন। তবে সময়ের সঙ্গে সেই মনোভাব বদলেছে। এখন এলাকার মানুষ তাঁকে সম্মান করেন, ভালোবাসেন।</p><p>অবশ্য এ পেশা থেকে আয় এখন আগের চেয়ে অনেক কম। এশরা বলেন, ‘ঘটকালির আয় দিয়ে এই যুগে সংসার চালানো কঠিন। মাসে একটা-দুইটা বিয়ে দেওয়াও দুষ্কর। বিয়ে হলে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পাওয়া যায়। কিন্তু পরিশ্রম অনেক। কোনো কোনো দিন নিজের টাকা খরচ করতে হয়। আর দেখা করানোর পর পছন্দ হলে কেউ ৩০০ টাকা, কেউ ৫০০ টাকা দেয়।’</p><p>তবু এ কাজ করে আনন্দ পান এশরা। তাই কাজটা করে যেতে চান। তাঁর নিজের কথায়, ‘বেঁচে থাকার আগপর্যন্ত মানুষের মধ্যে মেলবন্ধন তৈরি করে যেতে চাই।’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/travel/nltnsxnzzj">বিশ্বের যে দেশে বাংলাদেশি পাবেন ভাবেননি ‘নাদির অন দ্য গো’, সেখানেই পেলেন হাজারো বাংলাদেশি</a></aside>

নভেম্বর ৭, ২০২৬
বেসরকারি সংস্থায় ৪০০ পদে নিয়োগ, অভিজ্ঞতা ছাড়াই আবেদন
বেসরকারি সংস্থায় ৪০০ পদে নিয়োগ, অভিজ্ঞতা ছাড়াই আবেদন

ঢাকার সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট ইনোভেশন অ্যান্ড প্র্যাকটিসেস (সিদীপ) ৪০০ পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আবেদনের শেষ তারিখ ২৮ নভেম্বর ২০২৬

নভেম্বর ৭, ২০২৬
সুসিকে সরিয়ে কট্টর অভিবাসনবিরোধী মিলারকে হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ করে কী বার্তা দিচ্ছেন ট্রাম্প
সুসিকে সরিয়ে কট্টর অভিবাসনবিরোধী মিলারকে হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ করে কী বার্তা দিচ্ছেন ট্রাম্প

৪১ বছর বয়সী মিলার ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক। বিপুলসংখ্যক অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়ার পরিকল্পনা তৈরি ও বাস্তবায়নের অন্যতম রূপকার হিসেবে দেখা হয় তাঁকে।

নভেম্বর ৭, ২০২৬
হরিণ পালতে চান, কিনবেন কোথা থেকে, কী কী শর্ত মানতে হবে
হরিণ পালতে চান, কিনবেন কোথা থেকে, কী কী শর্ত মানতে হবে

জাতীয় চিড়িয়াখানায় প্রতিটি ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হয় চিত্রা হরিণ। কিনতে হবে কমপক্ষে এক জোড়া। জানতে হবে পালনের নিয়ম ও অনুমতির প্রক্রিয়া।

নভেম্বর ৭, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”

পোশাকের ট্যাবু ভেঙে ‘সংস্কৃতির সমতার’ বার্তায় যবিপ্রবিতে ‘লুঙ্গি প্যারেড’

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।