অটোমোবাইল ও জ্বালানিতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
<p>ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি প্লাস্টিকের খেলনা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। নিহত শ্রমিকের নাম সাকিব হাসান (১৮)। এ ঘটনায় দগ্ধ হয়েছেন আরও দুই শ্রমিক। তাঁদের মধ্যে মানিক আহমেদের (৪০) শরীরের প্রায় পুরোটাই পুড়ে গেছে। দগ্ধ অপর শ্রমিক হলেন রাকিব হোসেন (১৮)।</p><p> আজ সোমবার দুপুর ১২টার দিকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার নারিকেলবাগ এলাকার শাহজাহান মজুমদারের আটতলা ভবনের আমান প্লাস্টিক কারখানায় আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে বেলা দুইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।</p><p>নারিকেলবাগ এলাকার বাসিন্দা সোবহান আলী বলেন, দুপুর ১২টার দিকে কারখানাটিতে আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় কারখানা থেকে সাকিব হাসানের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আহত দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।</p><p>ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের গণমাধ্যম বিভাগের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম বলেন, সোমবার দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে তাঁরা আগুন লাগার খবর পান। এর সাত মিনিট পর অর্থাৎ ১২টা ৩২ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। প্রথমে পাঁচটি ইউনিট কাজ শুরু করলেও পরে আরও তিনটি ইউনিট যোগ দেয়।</p><p>ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান বলেন, ওই ভবনে প্লাস্টিকের খেলনা তৈরি করা হতো। খেলনা তৈরিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। আগুন লাগার পর শ্রমিকেরা ছুটোছুটি করে ভবন থেকে বেরিয়ে যান। পরে সেখান থেকে এক শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয় আরও দুজনকে।</p><p>কাজী নজমুজ্জামান আরও বলেন, আহত দুজনকে প্রথমে পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে শতভাগ দগ্ধ হওয়া মানিক আহমেদকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়।</p><p>কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল কুদ্দুছ বলেন, ভবনটিতে রাসায়নিক মিশিয়ে খেলনা তৈরি করা হতো। রাসায়নিকের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।</p><p>এর আগে গত ৪ এপ্রিল কেরানীগঞ্জের কদমতলী আমবাগিচা ডিবজলের গলিতে অবস্থিত মেসার্স এসার গ্যাস প্রো ফ্যাক্টরিতে আগুন লাগে। ওই ঘটনায় ছয়জনের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ, যাঁদের মধ্যে একজন শিশু ও দুজন নারী ছিলেন।</p>
ধর্ষণের অভিযোগ এনে শিশুটির মা মামলা করলে তাতে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
<p>আইনজীবী হিসেবে সনদ নিয়ে আইন পেশা ছাড়া চাকরি বা ব্যবসা কিংবা অন্যান্য পেশায় নিয়োজিত আইনজীবীদের বিষয়ে আইন–বিধি অনুসারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের বিষয়ে নির্দেশনা চেয়ে রিট হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী আবেদনকারী হয়ে আজ সোমবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি করেন।</p><p> রিটের প্রার্থনায় দেখা যায়, উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত বা সতর্কতা কমিটি গঠনের পাশাপাশি বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় ওই বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কমিটির চেয়ারম্যানদের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে। গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দ্বৈত পেশা বা ব্যবসায় নিয়োজিত আইনজীবী যদি সনদ বা লাইসেন্স সমর্পণ না করেন, এ ধরনের পেশা বা ব্যবসা পরিচালনা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশনা বা সতর্কবার্তা দিতে হবে। এ নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ও শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার আরজিও রয়েছে রিটে।</p><p>সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূইয়া আবেদনকারী হয়ে রিট আবেদনটি করেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, শুনানির জন্য বিচারপতি আহমেদ সোহেলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চে চলতি সপ্তাহে রিটটি উপস্থাপন করা হবে।</p><p>এর আগে আইনজীবী যাঁরা আইন পেশার সনদ নিয়ে আইন পেশা ছাড়া চাকরি/ব্যবসা ও অন্যান্য পেশায় নিয়োজিত আছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ১৯৭২ বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স অ্যান্ড বার কাউন্সিল আদেশের ৭০ অনুচ্ছেদ ও আচরণবিধি অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি বার কাউন্সিলের সচিব বরাবর আবেদন দেন রিট আবেদনকারী।</p><p>আবেদনে ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূইয়া উল্লেখ করেন, ‘আইন পেশা একটি মহান ও মর্যাদাপূর্ণ পেশা হিসেবে আমাদের প্রত্যেকেরই দায়িত্ব রয়েছে এ পেশার মর্যাদাকে অক্ষুণ্ন রাখা। আইনজীবীদের অনেকেই আইন পেশার সনদপ্রাপ্ত হয়ে আইন পেশার পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি, ঠিকাদারি, আদম ব্যবসা, গাড়ির শোরুম, বিদেশে অবস্থান করে চাকরি, পরিবহন ব্যবসা, ইট, বালু, সিমেন্টের ব্যবসা, মোবাইলের ফ্লেক্সিলোড ও বিকাশ এজেন্টের দোকান এবং কেউ কেউ আইন পেশার সনদ সারেন্ডার (সমর্পণ) না করে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক/প্রতিষ্ঠান, বিমা, ইনস্যুরেন্স কোম্পানি, ওষুধের ফার্মেসি, মুঠোফোন সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানে ফুলটাইম বা পার্ট টাইম চাকরি করছেন বলে জানতে পেরেছেন, যা বার কাউন্সিল আইন ও আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘিত হওয়ায় আইন পেশার মর্যাদা ভুলুণ্ঠিত হচ্ছে। এতে ফল না পেয়ে গত ১২ আগস্ট বার কাউন্সিলের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কমিটির চেয়ারম্যানদের বরাবর আইনি নোটিশ পাঠানো হয়।’</p><p>এ অবস্থায় ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি করা আবেদন নিষ্পত্তিতে নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে রিটটি করেছেন বলে জানান আইনজীবী ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূইয়া।</p>
সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মুন্সিগঞ্জ জেলা এনসিপি আয়োজিত জেলার একটি পার্টি সেন্টারে এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
<p>বিংশ শতাব্দী মানব ইতিহাসের সবচেয়ে টালমাটাল সময়। দুই দুইটা বিশ্বযুদ্ধ, বছরের পর বছর দুই পরাশক্তির ঠান্ডা যুদ্ধ, প্রযুক্তির অবিশ্বাস্য উন্নয়ন আর বিশ্বায়নে মাত্র এক শতকেই মানুষের সভ্যতার খোলনলচে পাল্টে গেছে। যেই হারে দুনিয়া, প্রযুক্তি আর প্রতিবেশ বদলেছে, সেই হারে মানুষের মননের পরিবর্তন না হওয়ায় নানা রকম টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। গত শতকের একেকটি বছর আগের শতকগুলোর কয়েক দশকের চেয়ে বেশি যুগ পরিবর্তনের প্রভাব রেখেছে।</p><p>এহেন শতকের কোনো একটি বছর যদিও আলাদা করা মুশকিল। তবে সেই শতকেরও অন্যতম যুগসন্ধিক্ষণ ১৯৭১। বাংলাদেশের স্বাধীনতার বছর। লাখো প্রাণ আর কোটি মানুষের বাস্তুহারা হবার বিনিময়ে নতুন এক দেশ। অবশ্য বৈশ্বিক পর্যায়ে নিশ্চিতভাবেই অনেকে বলবেন নিক্সন শকের কথা। সে বছরই ডলারের বিপরীতে সোনার মজুতের বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ফিয়াট মানি ব্যবস্থার ঘোষণা দেয়। এর ফলে বিশ্ববাণিজ্য, ঋণব্যবস্থা আর মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রাস্ফীতির চেহারা চিরতরে পাল্টে যায়।</p><p> তবে এই দুটি দুনিয়া পরিবর্তনকারী ঘটনার পাশাপাশি সে বছর দর্শনশাস্ত্রেও একটা যুগান্তকারী ঝাঁকি লাগে। এক তরুণ অস্ট্রেলীয় দার্শনিক এমন এক ছোট কিন্তু ঝাঁজালো রচনা লেখেন, যাতে নীতিশাস্ত্র, ধনী–গরিবের সম্পর্ক ও দায়িত্ব এবং বিশেষত নীতিবোধ ও চ্যারিটিকে সেক্যুলার দৃষ্টিতে দেখার নতুন এক ধারণার উদ্ভব হয়।</p><p>জীবিত দার্শনিকদের মধ্যে তর্কযোগ্যভাবে সবচেয়ে বেশি প্রভাবশালী, পিটার সিঙ্গারের ১৯৭২ সালে ‘ফিলোসফি অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্স’ জার্নালে প্রকাশিত ঐতিহাসিক প্রবন্ধ ‘ফ্যামিন, অ্যাফ্লুয়েন্স, অ্যান্ড মোরালিটি’ কেবল আধুনিক পাশ্চাত্য নীতিশাস্ত্রের গতিপথই বদলে দেয়নি, বরং জন্ম দিয়েছিল আজকের বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তোলা ‘কার্যকর পরার্থপরতা’ আন্দোলনের।</p><p>তরুণ সিঙ্গার সেই প্রবন্ধটি লিখেছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধকে কেন্দ্রে রেখে, যেই রচনার শুরুতেই তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের নভেম্বরে যখন আমি লিখছি তখন খাবার, আশ্রয় আর চিকিৎসার অভাবে পূর্ববাংলায় মানুষ মরছে। এই মৃত্য আর এই ভোগান্তি অবধারিত তো নয়ই, এবং কোনো বিচারেই একে অপ্রতিরোধযোগ্য বলার জো নেই। মানুষের সিদ্ধান্ত আর উদ্যোগ এসব মর্মান্তিক ভোগান্তির অবসান ঘটাতে পারে।</p><p>দুর্ভাগ্যজনকভাবে, মানুষ সেই সঠিক সিদ্ধান্ত আর উদ্যোগগুলো নিতে পারছে না। আমাদের অসীম লোভ আর দায়িত্বহীনতা দিনকে দিন অবস্থা খারাপ করছে। ধনী দেশগুলোকে ধিক্কার দিয়ে সিঙ্গার বলেন, আমাদের চোখের সামনে একটা শিশু ডুবে মারা যাচ্ছে, অথচ স্রেফ কাপড়টা নোংরা হবে বলে আমরা পানিতে ঝাঁপ দিয়ে তাকে বাঁচাচ্ছি না।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/memoir/%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6-%E0%A6%A6%E0%A6%B0%E0%A6%A6%E0%A6%BF-%E0%A6%AA%E0%A6%BF%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%B9%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%B8">বিদায়, বাংলাদেশ-দরদি পিটার হ্যাজেলহার্টস</a></aside><p>সিঙ্গারের প্রবন্ধটি ছিল একই সঙ্গে আবেগ ও বাস্তবতার মিশেল। তিনি উপাত্ত দিয়ে দেখান যে ১৯৭১ সালের নভেম্বরে ছয় মাসের বেশি সময় ধরে শিবিরে থাকা ৯০ লাখ বাঙালি শরণার্থীকে এক বছর বাঁচিয়ে রাখার প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৪৬ কোটি ৪০ লাখ পাউন্ড, অথচ সব আন্তর্জাতিক উৎস থেকে সংগৃহীত মোট সহায়তার পরিমাণ ছিল ৬ কোটি ৫০ লাখ, যা প্রয়োজনের সাত ভাগের এক ভাগও না। আর তা হবে নাই–বা কেন? অন্যতম বড় ত্রাতা ব্রিটিশ সরকারও যে পরিমাণ ত্রাণ দিয়েছিল, এর চেয়ে অনেক গুণ টাকা (৪৪ কোটি পাউন্ড) দিয়ে তারা বাস্তবায়ন করেছিল কনকর্ড সুপারসনিক বিমান প্রকল্প।</p><p>সৈয়দ মুজতবা আলীর পণ্ডিতমশাইয়ে ছাত্ররা আঁক কষে বের করেছিল যে সাহেবের কুকুরের এক ঠ্যাংয়ের পেছনে রাহা খরচ ছিল পণ্ডিতমশাইয়ের আটজনের পরিবারের মাসিক আয়ের সমান, আর সিঙ্গার হিসাব কষে দেখিয়েছিলেন, ৯০ লাখ শরণার্থীর চেয়ে একটামাত্র সুপারসনিক বিমানের মূল্য ব্রিটিশ সরকারের কাছে ৩০ গুণ বেশি। পূর্ববাংলার মানুষের সেই মৃত্যু কোনো অনিবার্য প্রাকৃতিক নিয়তি ছিল না, তা ছিল ধনী দেশ ও সচ্ছল নাগরিকদের ভুল অগ্রাধিকার এবং নৈতিক নিষ্ক্রিয়তার সরাসরি ফল।</p><p>সিঙ্গারের দর্শন মূলত তিনটি সিদ্ধান্তের ওপর দাঁড়ানো। প্রথমত, খাদ্য, আশ্রয় ও চিকিৎসার অভাবে মানুষের যন্ত্রণাভোগ ও মৃত্যু ঘটা নৈতিকভাবে খারাপ। এই ব্যাপারে কোনো যদি–কিন্তু নাই। দ্বিতীয়ত, জীবনের মতো চূড়ান্ত গুরুত্বপূর্ণ কোনো কিছু বিসর্জন না দিয়ে যদি এমন খারাপ ঘটনা রোধ করার ক্ষমতা কারও থাকে, তবে তা রোধ করা মহত্ত্ব নয়, বরং নৈতিক কর্তব্য। এই কর্তব্য যারা করবে না, যেমন সামর্থ্য থাকতেও অসহায় মানুষকে দান অথবা সাহায্য না করা, তিরস্কারের যোগ্য। তিনি মনে করেন, দান করাকে প্রশংসনীয় ভাবলেও দান না করাকে স্বাভাবিক ধরে নেওয়ার যে মানসিকতা, তা বদলাতে হবে।</p><p>তৃতীয়ত, ভৌগোলিক দূরত্ব বা নৈকট্য এই নৈতিক বাধ্যবাধকতা বিন্দুমাত্র কমায় না। সুদূর আফ্রিকাতে বা এশিয়া মহাদেশের কোনো দেশে, একটি শিশুর দারিদ্র্যের কারণে মৃত্যু হলে, সেই দায়বদ্ধতা ইউরোপ বা আমেরিকার একজন ধনী মানুষের ওপরও বর্তায়।</p><p>সিঙ্গারের এই ধারণাগুলো সেক্যুলার ও বস্তুবাদী নীতির ওপর দাঁড়ালেও ধর্মীয় দর্শনের দানের ধারণার সঙ্গে কিছু জায়গায় মিলে যায়। উল্লিখিত প্রবন্ধটিতেই তিনি টমাস একুইনাস অ্যামব্রোসের প্রাকৃতিক আইনের উদ্ধৃতি টেনে মনে করিয়ে দিলেন, মানুষের প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রাচুর্য প্রাকৃতিক অধিকার বলেই দরিদ্রদের প্রাপ্য। ‘তুমি যে রুটি আটকে রাখো তা ক্ষুধার্তের প্রাপ্য, যে পোশাক তুমি আলমারিতে বন্ধ করে রাখো তা বস্ত্রহীনের প্রাপ্য, এবং যে অর্থ তুমি মাটিতে পুঁতে রাখো তা নিঃস্ব মানুষের মুক্তি।’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/15u81m8f3c">১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ থেকে যে শিক্ষা পাওয়া যায়</a></aside><p>অবশ্য, খ্রিষ্টীয় তাত্ত্বিকদের উল্লেখ করলেও সিঙ্গারের দর্শনের সঙ্গে আরও অনেক বেশি মিল পাওয়া যায় ইসলাম ধর্মের জাকাত প্রথার। জাকাত ইসলামে কোনো ঐচ্ছিক নয়, বরং পাঁচটি মূল ভিত্তির একটি। কোন সম্পদের ওপর কোন হারে জাকাত আদায় করতে হবে, তাও ইসলামে সুস্পষ্ট। জাকাত আদায় না করা ইসলামে গুরুতর গুনাহ। তবে সিঙ্গারের নীতিতে দাতাকে জোর করার কোনো উপায় নেই, বরং তার নৈতিকতাকে জাগ্রত করে যত দূর সম্ভব দান করানোটাই উদ্দেশ্য।</p><p>বস্তুবাদী দর্শনের সঙ্গে ধর্মীয় দর্শনের সংশ্লেষে নীতিবোধের চর্চার পাশাপাশি সিঙ্গারের দর্শন পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে সম্পদের উৎপাদন ও প্রবৃদ্ধিকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভাবার মানসিকতাকেও প্রশ্ন করেন। সিঙ্গারের ‘প্রেফারেন্স ইউটিলেটারিয়ানিজম’ তথা স্বার্থ-অগ্রাধিকারভিত্তিক উপযোগবাদ বরং জোর দিতে চায় যে সেই সম্পদ মানুষের জীবনকে কতটা উন্নত করছে, কাদের কষ্ট কমাচ্ছে এবং কাদের স্বার্থ উপেক্ষিত হচ্ছে। এই দর্শনে কোনো কাজের নৈতিক মান নির্ধারিত হয় তার চূড়ান্ত ফলাফলের নিরিখে।</p><p>সিঙ্গারের ‘স্বার্থের সম-বিবেচনা নীতি’ মনে করে বর্ণ, লিঙ্গ, জাতীয়তাবাদভেদে যন্ত্রণা একটি বৈশ্বিক ব্যাপার। এ কারণে নৈতিক মর্যাদাবোধ ভাষা বা বুদ্ধিমত্তা নয়, বরং নির্ভর করে সংবেদনশীলতার ওপর। এই সংবেদনশীলতাও কেবল মনুষ্য প্রজাতিতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং দুনিয়ার সব প্রাণীর জন্য প্রযোজ্য। সিঙ্গারের দর্শনের নীতিসমূহের হৃদয় হচ্ছে সংবেদনশীলতা।</p><blockquote>‘কাউকে মাছ দিলে তার এক বেলা খাবার জুটবে, কিন্তু তাকে মাছ ধরা শিখিয়ে দিলে সে আজীবনের জন্য ক্ষুধা থেকে মুক্তির উপায় পাবে’—চীনা প্রবাদের এই কথাটিই সিঙ্গার বলেছেন আধুনিক বাস্তবতার উপযোগী তথ্য-প্রমাণ দিয়ে। এই ধারণাকে তাত্ত্বিক কাঠামো দিয়েছেন, বাস্তব প্রয়োগেও রাখছেন অগ্রণী ভূমিকা।</blockquote><p>এসব নীতির ওপর ভিত্তি করে, ২০০৯ সালে প্রকাশিত হয় তার বই ‘দ্য লাইফ ইউ ক্যান সেভ’, এবং ২০১৫ সালে ‘দ্য মোস্ট গুড ইউ ক্যান ডু’। আর, মার্ক্স যেমনটা বলতেন যে দার্শনিকের কাজ কেবল দুনিয়াকে বিশ্লেষণ নয়, বরং এর পরিবর্তন করা, সিঙ্গারও সেই পথেই হেঁটেছেন। চার্লি ব্রেসলারের সঙ্গে ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত তাঁর অলাভজনক সংস্থা ‘দ্য লাইফ ইউ ক্যান সেভ’ গত এক দশকেরও বেশি সময়ে ২২টি পরীক্ষিত উচ্চ প্রভাবশালী সংস্থার জন্য ১২ কোটি ডলারেরও বেশি তহবিল সংগ্রহ করেছে, যেখানে সংস্থার নিজস্ব পরিচালনায় ব্যয় হওয়া প্রতি এক ডলারের বিপরীতে সুপারিশকৃত দাতব্য সংস্থাগুলোর জন্য আনুমানিক ৯ দশমিক ১৯ ডলার অনুদান সৃষ্টি হয়েছে।</p><p>১৯৭১ সালের তরুণ সিঙ্গার আজকের দিনে জ্ঞানবৃদ্ধে পরিণত হয়েছেন, পৃথিবীর অবস্থা কোনো কোনো দিক দিয়ে আগের চেয়ে অনেক খারাপ হয়েছে, তবে সিঙ্গারের দার্শনিক লড়াই চলছে। যেই অসহায় বাংলাদেশকে নিয়ে সিঙ্গার ক্ষোভে, অসহায়ত্বে আবেগঘন অথচ বাস্তব লড়াইয়ের দিশা দিয়েছিলেন, সেই বাংলাদেশ তাঁর শত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে উন্নয়নের মডেল হয়েছে বিগত পাঁচ শতকে। সিঙ্গারের যাত্রা আর বাংলাদেশ একসঙ্গে পথ পেরিয়েছে।</p><p>সিঙ্গারের চিন্তা ও কাজের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ গোটা দুনিয়ার উন্নয়ন ভাবনায়। কেবল দান-খয়রাতের মাধ্যমে সামাজিক পিরামিডের পাটাতনে থাকা মানুষের টেকসই উন্নয়ন যে সম্ভব, তা এখন প্রায় সর্বজনস্বীকৃত। এমনকি শুধু ঋণ দিয়েও নয়। সিঙ্গার নিছক দান-খয়রাত না করে বিপন্ন মানুষের মধ্যে বিপদ কাটিয়ে ওঠার সক্ষমতা তৈরির জন্য কাজ করার কথা বলেছেন।</p><p>বিশ্বের শীর্ষ এনজিও ও উন্নয়ন সংস্থাগুলো ক্রমেই সেদিকে হাঁটতে শুরু করেছে। অতিদারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে আটকে থাকা মানুষদের কাছে উৎপাদনশীল সম্পদ হস্তান্তর, ঋণ-বিমার মতো সেবা পৌঁছানো এবং তাদের কৌশলগত ও মানসিক সহায়তা বা প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে নিজের ওপর ভর করেই নিজের ভাগ্যোন্নয়নের মডেল আজ সারা বিশ্বে বাস্তবায়িত হচ্ছে।</p><p>‘কাউকে মাছ দিলে তার এক বেলা খাবার জুটবে, কিন্তু তাকে মাছ ধরা শিখিয়ে দিলে সে আজীবনের জন্য ক্ষুধা থেকে মুক্তির উপায় পাবে’—চীনা প্রবাদের এই কথাটিই সিঙ্গার বলেছেন আধুনিক বাস্তবতার উপযোগী তথ্য-প্রমাণ দিয়ে। এই ধারণাকে তাত্ত্বিক কাঠামো দিয়েছেন, বাস্তব প্রয়োগেও রাখছেন অগ্রণী ভূমিকা।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/nu6mu6yq5z">২০৩৪ সালে আমরা কেমন অর্থনীতি চাই</a></aside><p>পিটার সিঙ্গার ব্যক্তিগত দানের ওপর গুরুত্ব দেন, কিন্তু সেই দান সঠিক চ্যানেলে না গেলে যে খুব বেশি একটা লাভ হয় না এবং সবচেয়ে বেশি যাদের দরকার তাদের কাছে পৌঁছে না এই ব্যাপারেও তিনি সতর্ক করেন। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, আমাদের মতো গরিব দেশেও প্রতিবছর প্রচুর টাকা জাকাত দেওয়া হয়, কিন্তু এর একটা বড় অংশই পরিকল্পনাহীনভাবে দেওয়ায় খুব একটা কাজে আসে না।</p><p>নিশ্চিতভাবেই পিটার সিঙ্গারের দর্শনের প্রচুর সমালোচনা আছে। রাষ্ট্রকে দায়মুক্তি দেওয়ার, কাঠামোগত শোষণ এবং ঐতিহাসিক অন্যায্যতাকে পাশ কাটিয়ে কেবল ব্যক্তির নৈতিকতাকে উন্নত করে উন্নয়নের প্রচেষ্টা টেকসই তো নয়ই, কারও কারও কাছে তা অসৎ চেষ্টাও। তবে, সেই সমালোচনাকে মাথায় নিয়েও সবচেয়ে অসহায় মানুষ শুধু নয়, প্রাণিকুল এবং পরিবেশসহ নানা সংকটে থাকা পৃথিবীকে বাঁচানোর চেষ্টায় এই দর্শন জরুরি।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/memoir/3484idzznl">অধ্যাপক আনিসুর রহমান ‘দারিদ্র্য নিরসন’ কথাটায় বিশ্বাস করতেন না</a></aside><p>সবচেয়ে জরুরি জীবনের সুখ ও তৃপ্তি খোঁজা। আপনার হাতের আইফোনের বদলে নতুন মডেলের একটি আইফোন হয়তো আপনাকে সাময়িক সুখ দেবে, সমাজের বিষাক্ত প্রতিযোগিতায় কয়েক মুহূর্তে জেতার আনন্দ দেবে। কিন্তু নতুন আইফোনের সেই টাকাটা বাঁচিয়ে দিতে পারত কয়েক হাজার মানুষকে, যারা হয়তো সামান্য খাবার, চিকিৎসা আর আশ্রয়ের অভাবে ধুঁকে মরছে। মানুষের জীবন বাঁচানোর এই তৃপ্তি, নৈতিক দায়িত্ব পালনের এই সুখানুভূতির সঙ্গে কিছুর তুলনা হয় না। যক্ষের মতো সম্পদ আগলে রেখে আর ক্লেদাক্ত প্রতিযোগিতার বদলে সুখের ভাগাভাগি করার এই অনির্বচনীয় অনুভূতি মানুষ হিসেবে আমাদের পূর্ণতা দেয়।</p><p>ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে কিছুদিনের মধ্যেই পিটার সিঙ্গার বাংলাদেশে আসছেন বলে জানা গেছে। যেই বাংলাদেশের ইতিহাস ও অগ্রযাত্রায় এই দার্শনিকের যাত্রা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত, তাঁর এ দেশে আসাটা অনুপ্রেরণার হবে।</p><ul><li><p><strong>সৈয়দ ফায়েজ আহমেদ</strong> লেখক ও গবেষক</p></li></ul>
<p>সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ। ইউরোপের ছোট্ট দেশ স্লোভেনিয়ার ডোমেইন নিবন্ধন দপ্তরে হঠাৎ করেই শুরু হলো এক অভূতপূর্ব কর্মব্যস্ততা। দেশটির সরকারি ডোমেইন রেজিস্ট্রেশনের সার্ভার ‘রেজিস্টারডটএসআই’–তে যেন আছড়ে পড়ল এক অদৃশ্য সুনামি। দপ্তরের মুখপাত্র ক্লারা হারমান আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে একটি বিস্ময়কর তথ্য জানান।</p><p>ওই এক মাসেই স্লোভেনিয়ার কান্ট্রি কোড অর্থাৎ ডটএসআই–যুক্ত ওয়েবসাইটের ঠিকানা নিবন্ধিত হয়েছে প্রায় ৪৪ হাজার। অথচ ঠিক তার আগের মাস আগস্টে এই নিবন্ধনের সংখ্যা ছিল দুই হাজারের কম। গাণিতিক হিসাবে এই বৃদ্ধির হার ২ হাজার ১০০ শতাংশের বেশি। সবচেয়ে বড় চমকটি আসে ৩০ সেপ্টেম্বর। ওই এক দিনেই বিশ্বজুড়ে মানুষ ১১ হাজার ডটএসআই–যুক্ত ডোমেইন কিনে নেন।</p><p>মনে প্রশ্ন জাগতে পারে—ইউরোপের একটি ছোট্ট দেশের ডোমেইন নিয়ে হঠাৎ বিশ্বজুড়ে এত মাতামাতির কারণ কী?</p><p>এই প্রশ্নের উত্তরটা লুকিয়ে আছে আটলান্টিকের ওপারে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ঘোষণার মধ্যে। স্লোভেনিয়ার কান্ট্রি কোড হলো এসআই। অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প বহুল প্রচলিত প্রযুক্তি ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই)-এর নাম পুরোপুরি বদলে ফেলে এর নতুন নাম দিয়েছেন সুপার ইন্টেলিজেন্স (এসআই)।</p><p><strong>হোয়াইট হাউসের বৈঠক</strong></p><p>গত ২৯ সেপ্টেম্বর ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে প্রযুক্তিজগতের শীর্ষ প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ে একটি বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকেন। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজে এই বৈঠককে একটি ‘অসাধারণ সমাবেশ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। শুধু তা-ই নয়, এই বৈঠকে উপস্থিত অতিথিদের তিনি বর্ণনা করেছেন ‘আমেরিকার স্বর্ণযুগ গড়ে তোলা’ মানুষ হিসেবে। সেই আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকায় ছিলেন বিশ্বের প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণকারী সবচেয়ে বড় বড় প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক, এনভিডিয়া, স্পেসএক্স, মেটা এবং গুগলের মতো টেক-জায়ান্টদের শীর্ষ নির্বাহীরা।</p><p>প্রযুক্তিজগতের মহারথীদের নিয়ে করা এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায় ৩০ মিনিট সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাব দেন। বিবিসি তাদের বিস্তারিত প্রতিবেদনে লিখেছে, ট্রাম্প সংবাদমাধ্যমকে জানান, শীর্ষ নির্বাহীরা ‘নৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক’ একটি দলিলে সই করেছেন। এই দলিল মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সম্ভাব্য ও ভবিষ্যৎ–ঝুঁকির বিরুদ্ধে একধরনের ‘সুরক্ষা’ হিসেবে কাজ করবে বলে দাবি করা হয়েছে।</p><p>মজার বিষয় হলো, ওই দলিল ট্রাম্প নিজেই অনলাইনে প্রকাশ করে দিয়েছেন। সেই চুক্তিতে ট্রাম্পের সঙ্গে স্বাক্ষর করেছেন গুগলের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাই, অ্যানথ্রপিকের দারিও আমোদেই, মেটার মার্ক জাকারবার্গ, ওপেনএআইয়ের প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান, স্পেসএক্সের ইলন মাস্ক এবং এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং। ট্রাম্প অত্যন্ত গর্বভরে এই চুক্তিকে ‘একদিক থেকে সংবিধানের মতো’ বলে মন্তব্য করেছেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/qcjcb605/Trump%E2%80%93tech-executives-2.jpg"><figcaption>হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ নেতাদের জন্য আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, মেটার সিইও মার্ক জাকারবার্গ, স্পেসএক্সএআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও ইলন মাস্ক এবং এনভিডিয়ার প্রেসিডেন্ট ও সিইও জেনসেন হুয়াং। ওয়াশিংটন ডিসি, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬</figcaption></figure><p>স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে, এত ঢাকঢোল পিটিয়ে যে চুক্তি স্বাক্ষরিত করা হলো, সেই চুক্তিতে আসলে কী আছে? বিবিসির বিবরণ অনুযায়ী, এই চুক্তির মূল কথা হলো—কোম্পানিগুলো নিজ নিজ উদ্ভাবিত প্রযুক্তির নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেরাই গ্রহণ করছে। তাদের তৈরি করা মডেল যেন ঠিক প্রত্যাশামতোই কাজ করে এবং বিপথে না যায়, সে জন্য প্রয়োজনীয় রক্ষাকবচ বসানো এবং কোনো ত্রুটি বা সমস্যা দেখা দিলে তা দ্রুত শনাক্ত করে সারিয়ে তোলার অঙ্গীকার রয়েছে ওই দলিলে।</p><p>কোম্পানিগুলো প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তারা ‘স্বাধীন নিরীক্ষকদের’ সঙ্গে মিলে কাজ করবে এবং যাচাই করে দেখবে, এআই–ব্যবস্থা যেন তার নির্ধারিত কাজের গণ্ডির বাইরে গিয়ে অন্য কোনো সংবেদনশীল প্রযুক্তিগত ব্যবস্থায় অনধিকার প্রবেশ না করে বা ঢুকে না পড়ে। প্রখ্যাত আইনি পরামর্শক সংস্থা ফ্রেশফিল্ডস এই চুক্তির একটি সারাংশ তৈরি করেছে, যেখানে এই অঙ্গীকারগুলোর সঙ্গে অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষণের প্রক্রিয়া এবং বোর্ড-স্তরের তদারকির কথাও যোগ করা হয়েছে।</p><p>তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই চুক্তি সম্পূর্ণ একটি স্বেচ্ছামূলক চুক্তি। এটি ট্রাম্প প্রশাসনের কোনো আইন বা নির্দেশিকা নয়; বরং এটি প্রযুক্তি–শিল্পের নিজেদেরই স্বাক্ষরিত এক অঙ্গীকারনামামাত্র।</p><p>ট্রাম্প সাংবাদিকদের আরও বলেন, তিনি এআই সরঞ্জামের সার্বিক নিরাপত্তা দেখভালের জন্য একটি নতুন বোর্ড গঠন করবেন। তবে সেই বোর্ডের সদস্য কারা হবেন, তা নিয়ে তিনি এখনো কিছুই খোলাসা করেননি।</p><p>মেটার প্রধান মার্ক জাকারবার্গ হোয়াইট হাউসের বৈঠকটিকে ‘ঐতিহাসিক আলাপ’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, এই চুক্তি মার্কিন নাগরিক ও সাধারণ গ্রাহকদের মনে এই আস্থা তৈরি করবে, প্রযুক্তিটি যেমন কথা দিচ্ছে, ঠিক তেমনই কাজ করছে।</p><p>অন্যদিকে অ্যানথ্রপিকের প্রধান দারিও আমোদেই এই চুক্তিকে ‘নিরাপদে জেতার’ একটি উপায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, আমোদেইয়ের কথাটি মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের এক মন্তব্যেরই প্রতিধ্বনি, যেখানে ট্রাম্প স্পষ্টভাবেই বলেছিলেন, বিশ্বজুড়ে এআইয়ের দৌড়ে যে জিতবে, সে-ই ভবিষ্যতের পৃথিবীতে জিতবে।</p><blockquote>স্লোভেনিয়ার ডোমেইন বাজারের এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের প্রধানের একটি সাধারণ শব্দের ঘোষণাও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কত দূর পর্যন্ত ঢেউ তুলতে পারে।</blockquote><p><strong>বিশেষজ্ঞ মহলের সংশয়</strong></p><p>হোয়াইট হাউসে স্বাক্ষরিত এই ‘অ্যাকর্ড’ বা চুক্তি নিয়ে প্রযুক্তি কোম্পানির প্রধানেরা ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যতই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করুন না কেন, সবাই কিন্তু এতে আশ্বস্ত হতে পারেননি। বিবিসির প্রতিবেদনে তিনজন প্রথিতযশা শিক্ষাবিদের মন্তব্য তুলে ধরা হয়েছে এবং অবাক করার বিষয় হলো—তাঁরা তিনজনই এই চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে অত্যন্ত সংশয়ী।</p><p>সিঙ্গাপুরের প্রখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ন্যানইয়াং টেকনোলজিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এআই পরিচালনা ও নীতিবিষয়ক গবেষক হোসে মিগুয়েলিতো এনরিকেজ তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেছেন, এই চুক্তিতে একটি ‘উদীয়মান ঐকমত্য’ দেখা যায় ঠিকই, যা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর এক টেবিলে বসার প্রমাণ দেয়। কিন্তু সমস্যা হলো, যদি ভবিষ্যতে কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে বা এআই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখন এই এআই নির্মাতারা কীভাবে আইনিভাবে জবাবদিহি করবে বা আদৌ করবে কি না, তা এ চুক্তির কোথাও বলা নেই।</p><p>অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক কিমবারলি ওয়েদারল্যাল এই চুক্তির সমালোচনায় আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি সরাসরি এ চুক্তিকে ‘গভীরভাবে অপ্রভাবশালী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, এই চুক্তির ভাষা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে মনে হয়, কোম্পানিগুলো নিজেরাই নিজেদের সুবিধামতো ঠিক করে নিতে পারবে, ‘নিরাপত্তা বলতে কী বোঝায়’।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/3izep24h/Trump%E2%80%93tech-executives-3.jpg"><figcaption>যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির মেলন অডিটোরিয়ামে এআই-চালিত নতুন সরকারি ওয়েবসাইট ‘আমেরিকা.জিওভি’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাক্ষরিত একটি নির্বাহী আদেশ দেখাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬</figcaption></figure><p>ওয়েদারল্যাল বলেন, যদি কোনো কোম্পানি এই চুক্তি ভাঙে, তবে তার পরিণতি কী হবে বা তাদের কোনো শাস্তি দেওয়া হবে কি না, সে কথারও কোনো উল্লেখ নেই এখানে। তাঁর চূড়ান্ত মূল্যায়ন হলো, এই চুক্তি আসলে উপেক্ষা করাই ভালো। কারণ, এটি মূল সমস্যা থেকে অন্যদিকে নজর ঘোরানোর একটি ব্যাপার ছাড়া আর কিছুই নয়।</p><p>অন্যদিকে মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জিনি প্যাটারসন আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিকের প্রতি আলোকপাত করেছেন। তিনি বলেন, আইনি বাধ্যবাধকতা ছাড়া এ ধরনের স্ব-নিয়ন্ত্রণের ফলে কোম্পানিগুলো নিজেদের ব্যবসায়িক সুবিধার্থে শুধু ‘ন্যূনতম রক্ষাকবচ’ রাখতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে এআইয়ের বিভিন্ন মডেলে গোলযোগ দেখা দেওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এআই ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ চলে যাওয়ার যেসব নজির ইতিমধ্যে দেখা গেছে, তাতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শৃঙ্খলাবোধ ও নৈতিকতার ঘাটতিই ফুটে ওঠে বলে তিনি জোরালো অভিমত ব্যক্ত করেন।</p><p>বিশেষজ্ঞদের এই সংশয়ের পেছনে কিন্তু নিছক তত্ত্বগত ভয় নয়; বরং কিছু জ্বলন্ত বাস্তব ঘটনাও রয়েছে। বিবিসি তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, হোয়াইট হাউসের ওই হাই-প্রোফাইল বৈঠকের ঠিক আগের দিন, অর্থাৎ সোমবারই ওপেনএআই নিরাপত্তাজনিত গভীর উদ্বেগের কারণে তাদের সর্বশেষ প্রধান মডেল জিপিটি-৬.১ অ্যাস্ট্রার প্রকাশ চূড়ান্ত মুহূর্তে বাতিল করেছে।</p><p>প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তা-ব্যবস্থা ও স্বচ্ছতা এর আগেও বিশ্বজুড়ে কড়া নজরদারি ও সমালোচনার মুখে পড়েছিল। বিশেষ করে অস্ট্রেলীয় সরকারের একটি সুরক্ষিত প্ল্যাটফর্মে ওপেনএআইয়ের মডেলের বিনা অনুমতিতে অনধিকার প্রবেশের মতো গুরুতর ঘটনা ঘটেছে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। এসব ঘটনাই প্রমাণ করে, শুধু মুখের কথায় বা একটি স্বেচ্ছাচুক্তিতে স্বাক্ষর করলেই এআইয়ের মতো জটিল প্রযুক্তির ঝুঁকি রাতারাতি উধাও হয়ে যায় না।</p><p><strong>এআই নীতির দিকবদল</strong></p><p>ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই নতুন এআই নীতিকে বুঝতে হলে একটু পেছনের দিকে তাকাতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে বড় ধরনের এক দিকবদল স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আবার ক্ষমতায় আসার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর পূর্বসূরি জো বাইডেনের এআই-সংক্রান্ত নির্বাহী আদেশটি বাতিল করে দেন।</p><p>ইয়াহু নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাইডেনের সেই আদেশে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট রিপোর্টিংয়ের ব্যবস্থা ছিল এবং যেকোনো নতুন মডেলের নিরাপত্তা-পরীক্ষার যাবতীয় তথ্য ফেডারেল কর্তৃপক্ষকে বাধ্যতামূলকভাবে দিতে হতো। সেটি ছিল আইনের কঠোর প্রয়োগ।</p><p>কিন্তু ট্রাম্পের আমলে করা এবারের এই নতুন অ্যাকর্ড বা চুক্তিটি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছামূলক। এখানে কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। ফলে পর্যবেক্ষকদের মনে খুব স্বাভাবিক ও যৌক্তিক একটি প্রশ্ন ওঠে: এখানে আসল খবর কোনটি? মার্কিন প্রশাসনের কি এআই কোম্পানিগুলোর বাধ্যতামূলক জবাবদিহি থেকে সরে এসে কেবল স্বেচ্ছা-অঙ্গীকারের ওপর ভরসা করাটা আসল খবর, নাকি স্রেফ প্রযুক্তিটির নতুন একটি নাম দেওয়াটাই মূল এজেন্ডা?</p><blockquote>শুধু মুখের কথায় বা একটি স্বেচ্ছামূলক চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেই এআইয়ের মতো জটিল প্রযুক্তির ঝুঁকি রাতারাতি উধাও হয়ে যায় না।</blockquote><p><strong>নির্বাহী আদেশে শুধু শব্দের বদল</strong></p><p>হোয়াইট হাউসে প্রযুক্তি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের একই দিনে ডোনাল্ড ট্রাম্প আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাহী আদেশে সই করেন। আন্তর্জাতিক আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ফ্রেশফিল্ডসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ওই আদেশের শিরোনাম দেওয়া হয়েছে ‘ইনাগুরেটিং দ্য এরা অব সুপার ইন্টেলিজেন্স (সুপার ইন্টেলিজেন্স যুগের উদ্বোধন)’। এই আদেশের ২ নম্বর ধারায় একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সব ফেডারেল সংস্থাকে বলা হয়েছে, যেসব নথি, প্রতিবেদন ও ওয়েবসাইট সরাসরি আইনের অংশ নয় (নন-স্ট্যাটিউটরি), সেখানে এখন থেকে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এআই’-এর বদলে বাধ্যতামূলকভাবে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এসআই’ লিখতে হবে।</p><p>বিবিসি জানিয়েছে, এর ফলে এখন থেকে মার্কিন সরকারের সব চিঠিপত্র, ওয়েবসাইট ও সরকারি প্রতিবেদনে এসআই শব্দটি বসবে এবং সংস্থাগুলো আর ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ শব্দটির ব্যবহারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেবে না। ট্রাম্পের আদেশের ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রযুক্তির সক্ষমতা যত দ্রুত বাড়ছে, তাতে প্রযুক্তিটি এখন আর ‘শুধু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ থাকছে না; বরং এটি মানবসভ্যতার জন্য একটি ‘সুপার ইন্টেলিজেন্সের নতুন যুগ’ তৈরি করছে।</p><p>তবে আপাতদৃষ্টিতে এটি একটি বিশাল পরিবর্তন মনে হলেও এর আইনি দিকটি বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজনেশনের প্রতিবেদনে এ বিষয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়েছে। তারা বলছে, ট্রাম্পের আদেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, নতুন শব্দ ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বলতে বর্তমান ফেডারেল আইনে এআইয়ের যে সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া আছে, ঠিক সেই একই প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাকেই বোঝাবে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/a0ao9dyx/Trump%E2%80%93tech-executives-4.jpg"><figcaption>প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ নেতাদের মধ্যাহ্নভোজ শেষে হোয়াইট হাউসের ড্রাইভওয়েতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন মেটার সিইও মার্ক জাকারবার্গ। পাশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটন ডিসি, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬</figcaption></figure><p>এর সহজ অর্থ হলো—আইনের চোখে বা প্রযুক্তিগত সংজ্ঞায় আসলে কিছুই বদলায়নি। যা বদলেছে, তা হলো কেবল কাগজে লেখা একটি শব্দ। সিএনবিসি তাদের পর্যবেক্ষণে আরও একটি সূক্ষ্ম বিষয় তুলে ধরেছে—প্রযুক্তি নির্বাহীদের সঙ্গে সই করা অ্যাকর্ডের মূল নথিতে নাম বদলের কোনো ঘোষণা বা নির্দেশিকা নেই, নতুন এই ‘এসআই’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে কেবল দলিলের শিরোনামে।</p><p>মজার ব্যাপার হলো, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি আদেশের সই নিয়ে অনলাইন দুনিয়ায় বেশ হাসাহাসি ও ট্রলের সৃষ্টি হয়েছে। বিবিসি জানিয়েছে, ট্রাম্পের ওই আদেশের স্বাক্ষরের ঠিক নিচে খোদ দেশের নাম ‘ইউনাইটেড স্টেটস’ বানানটি ভুল লেখা হয়েছে। একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রযুক্তিগত নির্দেশিকা, যেখানে একটি শব্দ ভবিষ্যতে কীভাবে লিখতে হবে তা নির্ধারণ করে দেওয়া হচ্ছে, সেই আদেশের আনুষ্ঠানিক দলিলে খোদ দেশের নামের বানান ভুল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক কটাক্ষ চলছে। অনেকেই বলছেন, কথাটা শুনতে ছোট মনে হলেও এর মধ্যে একধরনের চরম বিড়ম্বনা ও প্রশাসনিক গাফিলতির চিত্রই ফুটে উঠেছে।</p><p><strong>‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বনাম ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’</strong></p><p>নাম পরিবর্তনের এই আগ্রহ ট্রাম্পের হঠাৎ করেই তৈরি হয়নি। এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এক ভাষণে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ‘কৃত্রিম’ বা আর্টিফিশিয়াল শব্দটিতে এই অভাবনীয় প্রযুক্তিকে কিছুটা ‘নকল’ বা সস্তা শোনায়। বিবিসির উদ্ধৃতিতে ট্রাম্পের সেই ভাষণের বক্তব্য ছিল, এই প্রযুক্তি কোনোভাবেই নকল নয়; বরং এটি অত্যন্ত বিস্ময়কর একটি উদ্ভাবন।</p><p>দ্য হিল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প সে সময় আশা প্রকাশ করেছিলেন, শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নথিতেই নয়; বরং আগামীতে বিশ্বের সব গুরুত্বপূর্ণ নথিতেও এই শব্দ বদলে যাবে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, ওই একই ভাষণে ট্রাম্প এআই নিয়ন্ত্রণ বা তদারকির বিষয়ে যেকোনো ধরনের ‘বৈশ্বিক পরিকল্পনা’ বা গ্লোবাল রেগুলেশন পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।</p><p>কিন্তু প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা বলছেন, ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দটি কিন্তু বিজ্ঞান বা প্রযুক্তির দুনিয়ায় একেবারে নতুন কোনো উদ্ভাবিত শব্দ নয়। দ্য হিল ও মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস তাদের দুটি পৃথক প্রতিবেদনেই এই সত্যটি মনে করিয়ে দিয়েছে। তারা বলছে, এই শব্দটি অনেক আগে থেকেই এমন এক চূড়ান্ত পর্যায়ের এআইকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যা মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে সব দিক থেকে ছাড়িয়ে যায়।</p><p>জনপ্রিয় অনলাইন বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়ায় একে একটি অনুমানভিত্তিক ধারণা (হাইপোথেটিক্যাল কনসেপ্ট) হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যেখানে তাত্ত্বিক আলোচনায় বলা হয়, এমন ব্যবস্থা নিজের বুদ্ধি ও সক্ষমতা নিজেই বাড়িয়ে নিতে পারে এবং মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। একে কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা (এজিআই) বা তার চেয়ে উচ্চতর স্তর হিসেবে ধরা হয়।</p><blockquote>আইনের চোখে বা প্রযুক্তিগত সংজ্ঞায় আসলে কিছুই বদলায়নি। যা বদলেছে, তা হলো কেবল কাগজে লেখা একটি শব্দ।</blockquote><p>তাহলে এই নাম বদলে আসলে সমস্যাটা কোথায় তৈরি হচ্ছে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আজকের দিনে আমরা যে চ্যাটবট বা ছবি আঁকার সফটওয়্যার ব্যবহার করছি, তাকে এখনই ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বললে মূলত একটি ভবিষ্যৎ কল্পনাকে বর্তমানের বাস্তবতা হিসেবে চালানোর চেষ্টা করা হয়। একই শব্দ যদি বর্তমানের দুর্বল এআই এবং ভবিষ্যতের অতিমানবিক এআই—দুই অর্থেই চলতে থাকে, তবে সাধারণ মানুষ তো বটেই, খোদ নীতিনির্ধারকেরাও চরমভাবে গুলিয়ে ফেলতে পারেন।</p><p>ট্রাম্পের হয়তো আপত্তি ছিল যে ‘কৃত্রিম’ শব্দটি প্রযুক্তিকে ছোট করে দেখায়। কিন্তু তিনি এর যে বিকল্প শব্দ সামনে এনেছেন, তার দাবি আরও অনেক বড় ও ভয়ংকর: এই প্রযুক্তির কেবল বুদ্ধিমত্তাই নেই; বরং এটি মানুষকেও ছাড়িয়ে গেছে। যাঁরা এই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ ঝুঁকি নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন, তাঁদের মূল ভয় ঠিক ওই মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে ছাড়িয়ে যাওয়াকে ঘিরেই।</p><p>এখন প্রশ্ন হলো, ট্রাম্প চাইলেই কি এই শব্দ বিশ্বজুড়ে চালু হবে? এ নিয়ে প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞদের মধ্যে স্পষ্ট মতভেদ আছে। বিবিসির প্রতিবেদনে মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জিনি প্যাটারসন বলেন, যেহেতু বড় বড় প্রযুক্তি-নেতারা শব্দটি গ্রহণ করেছেন, তাই যুক্তরাষ্ট্র হয়তো বিশ্বজুড়ে এই ‘পরিভাষা ঠিক করে দেওয়ার অবস্থানেই’ আছে।</p><p>ইতিমধ্যে সিলিকন ভ্যালির শীর্ষ দুই মুখ মার্ক জাকারবার্গ, ইলন মাস্কসহ কয়েকজন এই শব্দ তাঁদের আলোচনায় ব্যবহার করতেও শুরু করেছেন। তবে অন্য কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ট্রাম্পের ওই জাতিসংঘ-ভাষণের পরই দ্বিমত পোষণ করে বলেছিলেন, শব্দটি রাতারাতি ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পাবে বলে তাঁরা মনে করেন না। কারণ, বিজ্ঞানীদের কাছে এটি সাধারণত আরও উন্নত ও ভবিষ্যতের এক ব্যবস্থার নাম হিসেবেই চালু আছে।</p><blockquote>বর্তমান বিতর্কটি কোনোভাবেই শব্দ বা নাম নিয়ে নয়; বরং বিতর্কটি হলো প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে।</blockquote><p><strong>ডেটা সেন্টার, জনমত এবং মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের সমীকরণ</strong></p><p>রাজনীতিবিদ ও প্রযুক্তি-নেতারা যা-ই ভাবুন না কেন, সাধারণ মানুষের মত কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের উদ্ধৃত ইউগভ জরিপের তথ্যে দেখা গেছে, চলতি সপ্তাহে ৫৩ শতাংশ উত্তরদাতা এখনো ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’-কে ভালো ও উপযুক্ত শব্দ বলে মনে করেন। অন্যদিকে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’-এর পক্ষে মত দিয়েছেন মাত্র ৯ শতাংশ মানুষ।</p><p>সিএনবিসির এক বিশ্লেষণে পুরো ঘটনাটিকে আসন্ন মার্কিন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে দেখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। এ অবস্থায় এআইয়ের অত্যন্ত দ্রুত অগ্রগতি এবং এর প্রভাব নিয়ে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের যে উদ্বেগ, তা নির্বাচনী আলোচনাকে ক্রমে প্রভাবিত করছে। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সিনেট গোয়েন্দা কমিটির ডেমোক্র্যাট ভাইস চেয়ারম্যান মার্ক ওয়ার্নার এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ ধরনের পদক্ষেপকে ‘অগম্ভীর বা লঘু’ বলে মন্তব্য করেছেন।</p><p>সাধারণ মানুষের এই উদ্বেগের একটি অত্যন্ত বড় ও দৃশ্যমান জায়গা হলো ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা ডেটা সেন্টার। এআই মডেলগুলোকে প্রশিক্ষণ দিতে এবং চালাতে বিশাল আকারের ডেটা সেন্টার প্রয়োজন হয়, যা প্রচুর বিদ্যুৎ ও পানি খরচ করে।</p><p>বিবিসি জানিয়েছে, ম্যারিস্ট পোল, এনপিআর ও পিবিএস নিউজের এক যৌথ জরিপে দেখা গেছে, ৬৫ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার নিজেদের এলাকার আশপাশে নতুন করে ডেটা সেন্টার বসানোর তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তাঁদের আপত্তির মূল কারণ হলো—এসব ডেটা সেন্টারের বিপুল বিদ্যুৎ খরচ এবং স্থানীয় পরিবেশ ও জনজীবনের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/uaouxoqj/Trump%E2%80%93tech-executives-5.jpg"><figcaption>হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ নেতাদের সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটন ডিসি, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬</figcaption></figure><p>ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে এর আগেই কড়া ভাষায় বলেছিলেন, যেসব মানুষ ভবিষ্যতে ‘পিছিয়ে ও গরিব’ থাকতে চান, কেবল তাঁরাই নিজ এলাকায় ডেটা সেন্টারের বিরোধিতা করবেন। হোয়াইট হাউসের বৈঠকের পর ট্রাম্প সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, ধনী ও ক্ষমতাবান প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এসব স্থানীয় সম্প্রদায়কে বিপুল পরিমাণ অর্থসহায়তা দেবে।</p><p>আশ্চর্যজনকভাবে ডেটা সেন্টার বিতর্কেও এই নাম বদলের প্রসঙ্গটি টেনে আনা হয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এনভিডিয়ার প্রধান জেনসেন হুয়াং হোয়াইট হাউসের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের বলেন, এই সুবিশাল ডেটা সেন্টারগুলোর নাম হওয়া উচিত ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফ্যাক্টরি’।</p><p>হুয়াংয়ের যুক্তি হলো, এই ডেটা সেন্টারগুলো মূলত যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন করে শিল্পায়িত করছে এবং অর্থনীতিজুড়ে বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি করছে। অর্থাৎ, সহজ কথায় বলতে গেলে—যে বিশাল বৈদ্যুতিক স্থাপনাকে স্থানীয় মানুষ পরিবেশবিনাশী বা বিদ্যুৎ-খেকো দানব বলে মনে করে ভয় পাচ্ছে, তাকে এখন কারখানা বা ফ্যাক্টরি নামে ডাকার এক মনস্তাত্ত্বিক চেষ্টা চলছে।</p><p>অ্যাক্সিওস এই পুরো প্রচেষ্টাকে এআইয়ের বর্তমান ‘টক্সিক ব্র্যান্ডিং (ক্ষতিকর বিপণন ব্যবস্থাপনা)’ ঝেড়ে ফেলার এক পরিকল্পিত উদ্যোগ বলে আখ্যা দিয়েছে। এটি অবশ্য সংবাদমাধ্যমের নিজস্ব পর্যবেক্ষণ। তবে হোয়াইট হাউসের সরকারি ভাষ্য হলো—এই নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ মূলত প্রযুক্তির অভাবনীয় অগ্রগতি ও অসীম সম্ভাবনার একটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।</p><p><strong>ক্যালিফোর্নিয়ার পাল্টা অবস্থান</strong></p><p>ফেডারেল স্তরে ট্রাম্পের এই নির্দেশনার পর যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই তীব্র প্রতিবাদ উঠেছে। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের গভর্নর গ্যাভিন নিউজম গত বুধবার একটি পাল্টা নির্বাহী আদেশে সই করেছেন। ওই আদেশে রাজ্যের অধীন সব সরকারি সংস্থাকে তাদের দাপ্তরিক কাজে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ ও ‘এআই’ শব্দই চালু রাখার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফেডারেল সরকার ভিন্ন শব্দ ব্যবহার করলেও ক্যালিফোর্নিয়া তা মানবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। বলা বাহুল্য, বিশ্বের প্রযুক্তি খাতের প্রধান স্নায়ুকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সিলিকন ভ্যালি এই ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যেই অবস্থিত।</p><p>গভর্নর নিউজমের আদেশের ভাষা ছিল বেশ ঝাঁজালো ও আক্রমণাত্মক। তাঁর আদেশে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে, কোনো কিছুর নাম বদলের চেষ্টা করে ‘স্পষ্টভাবে নথিভুক্ত উদীয়মান নিরাপত্তা ও সুরক্ষা-ঝুঁকি’ মোকাবিলায় নীতিনির্ধারকদের নিষ্ক্রিয়তা ও কাপুরুষতা আড়াল করা যায় না। তাঁর সোজা যুক্তি হলো—বর্তমান বিতর্কটি কোনোভাবেই শব্দ বা নাম নিয়ে নয়; বরং বিতর্কটি হলো প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে।</p><p>দ্য উইক-এর এক গভীর বিশ্লেষণে এ ঘটনাকে ‘টেকনো-ন্যাশনালিজম’ বা প্রযুক্তি-জাতীয়তাবাদ এবং বিভক্ত শব্দভান্ডারের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির সঙ্গে জুড়ে দেখা হয়েছে। তারা বলছে, যদি এক দেশের ফেডারেল সংস্থা একটি প্রযুক্তিকে এসআই বলে, তার অঙ্গরাজ্য যদি এআই বলে, আবার ইউরোপের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো ও এশিয়ার গবেষকেরা যদি একই প্রযুক্তিকে ভিন্ন ভিন্ন নামে ডাকতে শুরু করেন, তাহলে আন্তর্জাতিক আইন প্রণয়ন, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং বৈশ্বিক সমঝোতায় অভিন্ন ভাষার এক বিরাট অভাব তৈরি হতে পারে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সহযোগিতা ও নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে সেটা মোটেও কোনো সুখবর নয়।</p><p>[তথ্যসূত্র: বিবিসি, আনাদোলু এজেন্সি, সিএনবিসি, অ্যাক্সিওস, দ্য হিল, ফ্রেশফিল্ডস, নিউজনেশন, দ্য উইক]</p>
আমরা দেখতে পাই, হাসসান ইবনে সাবিতের মতো কবিদের রাসুল (সা.) মসজিদে নববিতে মিম্বর বানিয়ে দিয়েছেন এবং তাঁদের কবিতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি সাংবাদিকতার কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”