<p>স্থপতিদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, কর্মসংস্থান এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষার পথ সহজ করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, সরকার স্থাপত্য শিক্ষা ও স্থপতিদের পেশাকে উচ্চমর্যাদায় মূল্যায়ন করে। দেশের তরুণ স্থপতিরা যেন মেধার স্বাক্ষর রেখে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় সব নীতিগত ও অবকাঠামোগত সহায়তা দেওয়া হবে।</p><p> শুক্রবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ (আইএবি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ আর্চ সামিট ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহদী আমিন এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর যেসব নীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তার মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে দেশের সামগ্রিক স্থাপত্য ও অবকাঠামোগত দৃশ্যপটে বড় রূপান্তর আসবে।</p><p>এই রূপান্তরের অংশ হিসেবে রূপকল্প বাস্তবায়নে এবং বিশ্বমানের আইকনিক স্থাপনা গড়ে তুলতে দেশের স্থপতিদের এগিয়ে আসার আহ্বান মাহদী আমিন। তরুণ স্থপতিদের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে তিনি জানান, দেশে প্রতিবছর প্রায় এক হাজার নতুন স্থপতি স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করছেন। তাদের দেশীয় বাজারে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি বিদেশে উচ্চতর মাস্টার্স ও পিএইচডি অর্জনের পথ সহজ করতে সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে। এ সময় তিনি দেশে বসেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ের স্থাপত্য নকশা করার সুযোগ তৈরি করতে বাংলাদেশি ডিগ্রির বৈশ্বিক স্বীকৃতি নিশ্চিতের তাগিদ দেন।</p><p>এ লক্ষ্যে ক্যানবেরা অ্যাকর্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়াতে আইএবি, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলকে (বিএসি) যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।</p><p>স্থাপত্য শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারি সহায়তার কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, পাঠ্যক্রম আধুনিকায়ন, স্টুডিও ও ল্যাব–সুবিধা বৃদ্ধি এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত অনুকূলে আনতে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগ ও অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দে সরকার প্রস্তুত রয়েছে।</p><p>আইএবির সভাপতি স্থপতি প্রফেসর শরীফ শামস ইমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আখতার হোসেন খান, দক্ষিণ আফ্রিকার স্থপতি কেভিন বিংহ্যাম, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এম মাহবুবুর রহমান, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ফুয়াদ হাসান মল্লিক, স্থপতি মাহমুদুল আনোয়ার রিয়াদ এবং স্থপতি প্রফেসর সাইফুল ইসলাম।</p>
<p>এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ–৫ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হচ্ছে শিখো–প্রথম আলো জিপিএ–৫ প্রাপ্ত কৃতী সংবর্ধনা ২০২৬। এসব আয়োজনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ, বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা আর নানা মুহূর্তে মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। আজ শুক্রবার মেহেরপুর, মাদারীপুর ও নরসিংদীতে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের চিত্র</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-09/zeydv9js/1.jpg"><figcaption>শিখো–প্রথম আলো জিপিএ–৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন শিল্পীরা। মেহেরপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-09/wsynf4dc/2.jpg"><figcaption>সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন কৃতী শিক্ষার্থীরা। মাদারীপুর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন প্রাঙ্গণে</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-09/kztnofsy/3.jpg"><figcaption> সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে একসঙ্গে ছবি তোলে কৃতী শিক্ষার্থীরা। মেহেরপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-09/vfhe5ng4/4.jpg"><figcaption> সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন শিল্পীরা। মেহেরপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-09/1cwgjufi/5.jpg"><figcaption>সেলফি তুলে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের স্মৃতি ধরে রাখছেন শিক্ষার্থীরা। মাদারীপুর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন প্রাঙ্গণে</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-09/it09gusw/6.jpg"><figcaption>সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দলীয় নৃত্য পরিবেশন করেন শিল্পীরা। মাদারীপুর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন প্রাঙ্গণে</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-09/v7hgxqlg/7.JPG"><figcaption> সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসে সেলফি তুলছে একদল শিক্ষার্থী। নরসিংদীর ড্রিম হলিডে পার্কে</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-09/tfyawl0o/8.JPG"><figcaption>সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা। নরসিংদীর ড্রিম হলিডে পার্কে</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-09/wl5vjvdt/9.JPG"><figcaption>জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। নরসিংদীর ড্রিম হলিডে পার্কে</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-09/b1pwav01/10.JPG"><figcaption> সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন দুই শিল্পী। নরসিংদীর ড্রিম হলিডে পার্কে</figcaption></figure>
ব্লেন্ডারস চয়েস-দ্য ডেইলি স্টার ওটিটি অ্যান্ড ডিজিটাল কনটেন্ট অ্যাওয়ার্ডসের পঞ্চম আসর বসেছিল আজ।
<p>বরগুনার আমতলী উপজেলার ইউনুস আলী খাঁন ডিগ্রি কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতাসহ চার শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে। পরে তাঁদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়।</p><p> শুক্রবার দুপুরে এই চারজনকে তুলে নিয়ে উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে মারধর করা হয় বলে তাঁদের পরিবার অভিযোগ করেছে। পরে রাত ৯টার দিকে তাঁদের আমতলী থানায় সোপর্দ করা হয়।</p><p> স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার আমতলী উপজেলার মহিষকাটার ইউনুস আলী খাঁন ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ ও আনন্দ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জালাল উদ্দীন ফকির। প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষ হতে না হতেই কয়েকজন নবীন শিক্ষার্থী ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।</p><p>এ ঘটনার জেরে শুক্রবার দুপুরে কলেজের সামনে থেকে গুলিশাখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. জসিম উদ্দিন, কুকুয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম ও আমতলী উপজেলা যুবদলের সভাপতি পদপ্রত্যাশী ফাহাদ ফকিরসহ বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা ইউনুস আলী খাঁন কলেজ শাখা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল কাজী ও নবীন শিক্ষার্থী সুজাকে আমতলী বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে যান। জুমার নামাজ শেষে চুনাখালী মসজিদের সামনে থেকে মো. আসিফ ও মো. তামিম নামের দুই শিক্ষার্থীকেও বিএনপির নেতা–কর্মীরা ধরে নিয়ে যান বলে নাম না প্রকাশ করার শর্তে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান।</p><p>বিএনপির কার্যালয়ে নিয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জালাল উদ্দীন ফকিরের উপস্থিতিতে তাঁদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছে আসিফের পরিবার।</p><p>নাম প্রকাশ না করা শর্তে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, কলেজ ও মসজিদের সামনে থেকে ছাত্রদের তুলে নেওয়া হয়। পুলিশের সামনে এসব ঘটনা ঘটলেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।</p><p>কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল কাজীর বাবা মো. মাহবুব কাজী বলেন, ‘আমার ছেলেকে বিএনপির কিছু নেতা–কর্মী মহিষকাটা থেকে তুলে নিয়েছে। এখন বিএনপির পার্টি অফিসে আছে। তবে শুনেছি, তাদের থানায় দেওয়া হবে।’</p><p>ইউনুস আলী খাঁন কলেজের অধ্যক্ষ মো. জাকারিয়া বলেন, ‘বিএনপি নেতা জসিম উদ্দিন, মাহবুব আলম ও জালাল ফকিরের ছেলে ফাহাদ ফকিরের নেতৃত্বে নেতা–কর্মীরা সাইফুল কাজী ও সুজা নামের দুই ছাত্রকে তুলে নিয়েছেন। তাঁদের থানায় না দিয়ে কোথায় রাখা হয়েছে বা তাঁদের সঙ্গে কী করা হয়েছে, তা আমি জানি না।’</p><p>আমতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জালাল উদ্দীন ফকির ছাত্রদের নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, দলীয় নেতা–কর্মীরা তাদের এনে ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি না এবং কাদের ইন্ধনে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে, তা জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।</p><p>আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, চারজনকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে। শনিবার তাঁদের আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হবে।</p>
<p>বৈদেশিক কর্মসংস্থান, তৈরি পোশাকশিল্পে নারীর অংশগ্রহণ এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দারিদ্র্য বিমোচনে বিশ্বে অনুসরণযোগ্য মডেল হয়ে ওঠার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। এ জন্য সামাজিক সুরক্ষার সঙ্গে উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আয় বৃদ্ধির কার্যকর সংযোগ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।</p><p> রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে বিচ্ছিন্ন সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী কর্মসূচির পরিবর্তে কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীল বিনিয়োগ এবং করের আওতা সম্প্রসারণের সঙ্গে সমন্বিত সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ।</p><p> শুক্রবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে চুলালংকর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের আঞ্চলিক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে এ অভিমত তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।</p><p> ‘সবার জন্য এশিয়া: সরকারি সেবা, সামাজিক সুরক্ষা ও অভিন্ন সমৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি’ শীর্ষক সম্মেলনে এশিয়ায় বৈষম্য কমানো এবং সরকারি সেবা ও সামাজিক সুরক্ষার মাধ্যমে অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।</p><p>বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি অনুষদ ও অক্সফাম ইন এশিয়া যৌথভাবে সম্মেলনটির আয়োজন করে। ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক সভার আগে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও উন্নয়নকর্মীরা অংশ নেন।</p><p>‘অর্থনৈতিক সমতা অর্থায়ন: সরকারি সেবায় সম্পদ আহরণ’ শীর্ষক তৃতীয় অধিবেশনে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পাশাপাশি বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো নিয়েও আলোচনা করেন। তিনি বলেন, করোনা মহামারি এবং আগের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা মানুষের অর্থনৈতিক সংকট বাড়িয়ে দিয়েছিল। তার উপস্থাপনায় উদ্ধৃত হিসাব অনুযায়ী, এ সময়ে নতুন করে আনুমানিক ৭০ লাখ থেকে এক কোটি মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েন।</p><p>সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী কর্মসূচির সমন্বয়হীনতার কথা তুলে ধরে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, এসব কর্মসূচিতে সহায়তা পাওয়ার যোগ্য অনেকে বাদ পড়েন, আবার অযোগ্য ব্যক্তিরাও সুবিধা পান। ফলে যাদের সহায়তা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তাদের কাছে সরকারি সহায়তা যথাযথভাবে পৌঁছানো নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।</p><p>এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানুষের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তাঁর মতে, সামাজিক সুরক্ষাকে শুধু আর্থিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কর্মসংস্থান, আয় বৃদ্ধি ও উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। এতে দারিদ্র্য কমানোর পাশাপাশি মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়বে এবং উন্নয়নের সুফল আরও বিস্তৃত হবে।</p><p>বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও তৈরি পোশাকশিল্পের ভূমিকা তুলে ধরে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, দেশের বিপুল শ্রমশক্তিকে মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় দেশগুলোর শ্রমবাজারের সঙ্গে যুক্ত করার ফলে বিদেশে কর্মসংস্থান ও প্রবাসী আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশ বিপুলসংখ্যক নারীর কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।</p><p>নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পরিবারগুলোর আয় ও জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কর্মসংস্থানের এ দুটি অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তার এবং মানুষের আয়ের সুযোগ বাড়ানো দারিদ্র্য বিমোচনকে আরও টেকসই করতে পারে।</p><p>সামাজিক সুরক্ষার পরিধি বাড়াতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। এ কর্মসূচির মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সরকারি অর্থ সরাসরি নারীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকার থেকে ব্যক্তি পর্যায়ে সরাসরি অর্থ প্রদানের এ ব্যবস্থাকে ‘জিটুপি’ বলা হয়।</p><p>তার উপস্থাপনায় উদ্ধৃত প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা ১ কোটি ৬১ লাখে পৌঁছাতে পারে। ফলে দেশের দারিদ্র্যের হার ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট কমার সম্ভাবনা রয়েছে।</p><p>কৃষকদের সহায়তায় কৃষক কার্ড কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা। এ কর্মসূচির লক্ষ্য হলো যোগ্য কৃষকদের নগদ প্রণোদনা দেওয়া এবং কৃষিসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়ানো। উপস্থাপনায় উদ্ধৃত অর্থনৈতিক প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে এ কর্মসূচির ফলে প্রচলিত পরিস্থিতির তুলনায় কৃষি উৎপাদন ও প্রকৃত মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ০ দশমিক ৭ থেকে ১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।</p><p>দারিদ্র্য বিমোচন ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণের সম্পর্কও তুলে ধরেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। এ প্রসঙ্গে তিনি ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের প্রস্তাবিত কর্মসূচি এবং পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রার কথা উল্লেখ করেন।</p><p>বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর সামাজিক অগ্রগতি ধরে রাখতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। এ জন্য ছয়টি প্রস্তাব তুলে ধরেন তিনি।</p><p>প্রথম প্রস্তাবে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য সহজ শর্তে অর্থায়নের একটি বিশেষ বহুপক্ষীয় তারল্য–সহায়তা তহবিল গঠনের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। দ্বিতীয় প্রস্তাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার সময় খাদ্য ও সারের সরবরাহ নিশ্চিতে চালানের বিপরীতে গ্যারান্টি ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্ব দেন।</p><p>তৃতীয় প্রস্তাবে বড় ধরনের বৈশ্বিক সংকটের সময় দেশগুলোর ঋণ পরিশোধ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালুর কথা বলেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তাঁর মতে, এ ধরনের ব্যবস্থা বহিঃস্থ সংকটে পড়া দেশগুলোকে তাৎক্ষণিক আর্থিক চাপ সামলে জরুরি জনসেবা ও উন্নয়ন ব্যয় অব্যাহত রাখার সুযোগ দেবে।</p><p>চতুর্থ প্রস্তাবে উন্নত দেশগুলোর অব্যবহৃত বিশেষ উত্তোলন অধিকার (এসডিআর) আর্থিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে পুনর্বণ্টনের ওপর জোর দেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। পঞ্চম প্রস্তাবে জলবায়ু অর্থায়নে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডের সম্পদ বণ্টনে ভারসাম্য আনা এবং কার্বন বাজারের কার্যকারিতা বাড়ানোর কথা বলেন।</p><p>ষষ্ঠ প্রস্তাবে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা ও আঞ্চলিক মুক্তবাণিজ্য চুক্তি জোরদারের আহ্বান জানান রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তার মতে, এর মাধ্যমে সরবরাহব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারের মধ্যে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।</p><p>সম্মেলনে অক্সফামের ‘জন্ম থেকেই কারসাজির শিকার: এশিয়ায় বৈষম্য কীভাবে ভবিষ্যৎ কেড়ে নেয় এবং কোন পাঁচটি সরকারি সেবা তা বদলাতে পারে’ শীর্ষক নীতিপত্রের তথ্যও উপস্থাপন করা হয়। এতে এশিয়ায় আয় ও সম্পদ বৈষম্যের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও অন্যান্য মৌলিক সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।</p><p>নীতিপত্রে উদ্ধৃত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এশিয়ার সবচেয়ে ধনী ১০ শতাংশ মানুষের হাতে জাতীয় আয়ের ৬০ থেকে ৭৭ শতাংশ কেন্দ্রীভূত। বিপরীতে, সবচেয়ে দরিদ্র অর্ধেক মানুষের আয় জাতীয় আয়ের মাত্র ১২ থেকে ১৫ শতাংশ।</p><p>এতে বলা হয়, ২০২৫ সালে এশিয়ার শতকোটিপতিদের মোট সম্পদ এক দশকে ১২০ শতাংশের বেশি বেড়ে ৩ লাখ ৪০ হাজার কোটি থেকে ৪ লাখ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে এ অঞ্চলে সম্পদবৈষম্য পরিমাপের গিনি সহগ বেড়ে শূন্য দশমিক ৭২ হয়েছে।</p><p>নীতিপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, ক্রমবর্ধমান বৈষম্যের কারণে ২৫ কোটির বেশি মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি। উন্নয়নশীল এশিয়ার ৫০ কোটির বেশি মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে রয়েছেন অথবা দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে আছেন, যা এ অঞ্চলের মোট জনসংখ্যার ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ।</p><p>সরকারি ঋণের সুদ পরিশোধের চাপও সামাজিক খাতে ব্যয় বাড়ানোর পথে বড় বাধা হিসেবে উঠে আসে। উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ২১০ কোটির বেশি মানুষ এমন দেশগুলোতে বসবাস করেন, যেখানে সরকারি ঋণের সুদ পরিশোধে স্বাস্থ্য বা শিক্ষা খাতের যেকোনো একটির ব্যয়ের চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় হয়।</p><p>এশিয়ার নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ২০২২ সালে ৪৪ হাজার ৩৫০ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছেছিল। সম্মেলনে উপস্থাপিত নীতিপত্রে সতর্ক করা হয়, রাজস্ব ব্যয় সংকোচনের নীতি সরকারি বিনিয়োগ ও সামাজিক খাতের ব্যয় সীমিত করে দিতে পারে।</p><p>এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামাজিক সুরক্ষার ঘাটতিও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। উপস্থাপিত হিসাব অনুযায়ী, এ অঞ্চলের আনুমানিক ৪৬ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ, অর্থাৎ প্রায় ২১০ কোটি, কোনো ধরনের সামাজিক সুরক্ষা সুবিধার আওতায় নেই।</p><p>এ অঞ্চলের ৩৭টি অর্থনীতিতে মোট দেশজ উৎপাদনের তুলনায় গড় কর-রাজস্বের অনুপাত ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) সদস্যদেশগুলোতে এ হার ৩৩ দশমিক ৯ শতাংশ।</p><p>অক্সফামের নীতিপত্রে প্রাক্কলন করা হয়েছে, এশিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের সম্পদের ওপর বছরে ২ থেকে ৫ শতাংশ হারে কর আরোপ করা হলে ৭৯ হাজার ২০০ কোটি মার্কিন ডলার পর্যন্ত রাজস্ব আদায় সম্ভব হতে পারে। এ অর্থ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও অন্যান্য সরকারি সেবা সম্প্রসারণে অতিরিক্ত অর্থ জোগাতে পারে।</p><p>জলবায়ু পরিবর্তন ও ডিজিটাল বৈষম্যও সম্মেলনে আলোচনায় আসে। উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে জলবায়ুজনিত দুর্যোগে এশিয়ার আনুমানিক ৬ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ায় ৩৩ কোটি নারী মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।</p><p>নারীদের অবৈতনিক পরিচর্যা ও গৃহস্থালি কাজের অর্থনৈতিক গুরুত্বও তুলে ধরা হয়। সম্মেলনে উপস্থাপিত তথ্যে আরও বলা হয়, নারীদের ওপর অসমভাবে চাপিয়ে দেওয়া এ ধরনের কাজের বোঝা কমানো গেলে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক সুফল সৃষ্টি হতে পারে।</p><p>সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ইয়র্কের অধ্যাপক কেট পিকেট। তার বক্তব্যের বিষয় ছিল ‘বৈষম্যের সংকট: বৈশ্বিক প্রমাণ, এশিয়ার বাস্তবতা এবং সরকারগুলোর করণীয়’।</p><p>‘শিক্ষা ও স্বাস্থ্য: সমতাভিত্তিক সমাজের ভিত্তি’ শীর্ষক প্রথম অধিবেশনে অংশ নেন থাইল্যান্ডের ন্যাশনাল হেলথ ফাউন্ডেশনের সভাপতি ড. সোমসাক চুনহারাস এবং শ্রীলঙ্কার গ্রামীণ উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা ও জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নবিষয়ক মন্ত্রী ড. উপালি পান্নালিগে।</p><p>‘সমতার অবকাঠামো গড়ে তোলা: সামাজিক সুরক্ষা, পরিচর্যা ও ডিজিটাল সরকারি সেবা’ শীর্ষক দ্বিতীয় অধিবেশনে বক্তব্য দেন লাও উইমেনস ইউনিয়নের নিনপাসেউথ জাইয়াফোনেসি এবং থাইল্যান্ডের ন্যাশনাল ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের (এনইএসডিসি) সুফান্নাদা লোওয়াচাই।</p><p>সমতার অর্থায়ন ও সরকারি সেবার জন্য সম্পদ আহরণবিষয়ক তৃতীয় অধিবেশনে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের পাশাপাশি বক্তব্য দেন ইউনাইটেড নেশনস ইউনিভার্সিটির গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডেভিড ম্যাককয় এবং ফিলিপাইনের প্রতিনিধি জুড অ্যাসিডরে।</p><p>সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন চুলালংকর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি অনুষদের ডিন অধ্যাপক নোপফল উইটভোরাপং, অক্সফাম ইন্টারন্যাশনালের এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক জন স্যামুয়েল এবং অক্সফাম এশিয়ার অ্যাডভোকেসি ও প্রচারাভিযান বিভাগের প্রধান মুস্তাফা তালপুর।</p>
অধিনায়ক শাই হোপের বিধ্বংসী এক সেঞ্চুরিতে ২৫০ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে ভারতকে হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাতে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে এখন ১–১ সমতা।
<p>যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আজ শুক্রবার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। আদালতটির একজন সাবেক বিচারক নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ওয়াশিংটন। এর ফলে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়তে পারে।</p><p> আইসিসির ডেপুটি প্রসিকিউটর নাজহাত শামীম খান নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এতে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ হবে না।</p><p> ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত আইসিসি যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার করে থাকেন। ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে এই আদালতের বিরোধিতা করে আসছে। এর আগেও আইসিসির প্রসিকিউটর ও বিচারকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন।</p><p> তবে আজকের নিষেধাজ্ঞা আরও বিস্তৃত। এতে আইসিসিকে বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়া কোম্পানিগুলোকেও শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে।</p><p>মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কখনো আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে মার্কিন নাগরিকদের বিচার করতে দেবেন না।...এ কারণে আজ যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। এই দুর্বৃত্ত আদালতের সঙ্গে লেনদেন নিষিদ্ধ করা হবে। তাদের সম্পদের পথ বন্ধ করা হবে এবং কার্যক্রম চালানোর সক্ষমতা পঙ্গু করে দেওয়া হবে।’</p><p>এই নিষেধাজ্ঞার ‘নিন্দা করা উচিত’ মন্তব্য করে আইসিসির ডেপুটি প্রসিকিউটর নাজহাত শামীম খান বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পরিসরে আইনের শাসন এবং একটি স্বাধীন বিচারিক প্রতিষ্ঠানের কাজ দুর্বল করাই এই নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য।...আমাদের সব মামলা, তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম চলতে থাকবে।’</p><aside><cite>মার্কো রুবিও, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, যুক্তরাষ্ট্র</cite>হয় আইসিসি তার হুমকি বন্ধ করবে, না হলে আমরা (যুক্তরাষ্ট্র) আইসিসির অস্তিত্ব শেষ করে দেব।</aside><p>ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ দেশটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কঠোর সমালোচনা করেছে ওয়াশিংটন।</p><p>অতীতে আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের কর্মকাণ্ড তদন্ত করেছিলেন আইসিসি। যুক্তরাষ্ট্র এর বিরোধিতা করেছিল। পরে ওই তদন্ত বন্ধ করে দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত।</p><p>আইসিসির সদস্যদেশ ১২৫টি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সব দেশ এর সদস্য। ন্যাটোর সদস্যদের মধ্যে শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক আইসিসির সদস্য নয়।</p><p>যুক্তরাষ্ট্রের অনেক গুরুত্বপূর্ণ মিত্র অতীতে প্রকাশ্যে আইসিসির প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানিয়েছে। আদালতটির সদর দপ্তর নেদারল্যান্ডসে। দেশটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটো দুই জোটেরই সদস্য।</p><p>দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজীবী নাভি পিল্লাই আজ নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আইসিসির আপিল বিভাগের বিচারক ছিলেন।</p><p>নোবেল কমিটি বলেছে, পিল্লাইকে পুরস্কার দেওয়ার মধ্য দিয়ে তারা বিশ্বকে একটি কথা মনে করিয়ে দিতে চেয়েছে। তা হলো, বিচারক ও আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন রাজনৈতিক আক্রমণের মুখে রয়েছে।</p><blockquote>যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সাধারণত মার্কিন কোম্পানিগুলো কাজ করতে পারে না। এর ফলে ব্যাংকগুলো হিসাব বন্ধ করতে পারে। বিমা কোম্পানি সেবা বন্ধ করতে পারে। সফটওয়্যার কোম্পানিও সহযোগিতা স্থগিত করতে পারে।</blockquote><p>নোবেল কমিটি আরও বলেছে, ‘যে আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা হয় এবং নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা ন্যায়বিচার পান, তা শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়ে তোলার অন্যতম শর্ত।’</p><p>মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা এমনভাবে দেওয়া হয়েছে, যাতে আইসিসি ও এর সদস্যদেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি দূর করার উদ্যোগ নিতে পারে। এ সময় আদালতের কিছু কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।</p><p>নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পরপরই কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।</p><p>মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় চারটি সাধারণ লাইসেন্স দিয়েছে। এর ফলে আইসিসির টেলিযোগাযোগ ও সফটওয়্যার-সংক্রান্ত কিছু লেনদেন করা যাবে। পেনশনের অর্থ পরিশোধ এবং আদালতের হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু লেনদেনও এর আওতায় পড়বে।</p><h3>মিত্রদের ওপর চাপ বাড়াবে যুক্তরাষ্ট্র </h3><p>যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সাধারণত মার্কিন কোম্পানিগুলো কাজ করতে পারে না। এর ফলে ব্যাংকগুলো হিসাব বন্ধ করতে পারে। বিমা কোম্পানি সেবা বন্ধ করতে পারে। সফটওয়্যার কোম্পানিও সহযোগিতা স্থগিত করতে পারে।</p><p>ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও আইসিসির কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। পরে জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর সেগুলো তুলে নেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প আবার ক্ষমতায় ফেরার কয়েক দিনের মধ্যেই ওয়াশিংটন নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে।</p><aside><cite>নাজহাত শামীম খান, ডেপুটি প্রসিকিউটর, আইসিসি</cite>আন্তর্জাতিক পরিসরে আইনের শাসন এবং একটি স্বাধীন বিচারিক প্রতিষ্ঠানের কাজ দুর্বল করাই এই নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য।...আমাদের সব মামলা, তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম চলতে থাকবে।</aside><p>আদালতের ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে, এমন আশঙ্কায় আইসিসির কর্মকর্তারা কয়েক মাস ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাঁরা অফিসের কম্পিউটারে মাইক্রোসফটের সফটওয়্যারের বদলে ওপেন সোর্স বা উন্মুক্ত সফটওয়্যার ব্যবহারের দিকে যান। ব্যাংকিং ও স্বাস্থ্যবিমার জন্যও নতুন ব্যবস্থা করেন।</p><p>আইসিসির রেজিস্ট্রার ওসভালদো জাভালা গিল চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে একটি ‘ব্লকিং মেকানিজম’ বা প্রতিরোধমূলক আইনি ব্যবস্থা ব্যবহারের প্রস্তুতি নিতে বলেন। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নিজ দেশের সীমানার বাইরেও যে প্রভাব ফেলতে পারে, তা থেকে ইউরোপের দেশগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে।</p><blockquote>আইসিসির সদস্যদেশ ১২৫টি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সব দেশ এর সদস্য। ন্যাটোর সদস্যদের মধ্যে শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক আইসিসির সদস্য নয়।</blockquote><p>মার্কো রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আশা করেছিল আইসিসি এবং আদালতটির প্রতিষ্ঠাকালীন রোম সংবিধির (রোম স্ট্যাটিউট) সদস্যদেশগুলো ওয়াশিংটনের উদ্বেগের সমাধান করবে। এ কারণে নিষেধাজ্ঞা আরোপে বিলম্বও করা হয়েছিল। কিন্তু তারা তা করতে ব্যর্থ হয়েছে।</p><p>রুবিও বলেন, ‘হয় আইসিসি তার হুমকি বন্ধ করবে, না হলে আমরা আইসিসির অস্তিত্ব শেষ করে দেব।...আমরা আশা করি, আমাদের মিত্ররা, যাদের অনেকে আইসিসির সদস্য এবং নিজেদের প্রতিরক্ষার জন্য মার্কিন সেনাসদস্যদের ওপর নির্ভরশীল, তারা এই আদালতকে নিয়ন্ত্রণে আনবে।’</p><p>মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা এই পদক্ষেপ এমনভাবে সাজিয়েছি, যাতে সদস্যদেশগুলো আলোচনার সুযোগ পায় এবং আমাদের উদ্বেগের সমাধান দিতে পারে।...এসব প্রচেষ্টা সফল না হলে আমরা পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও পদক্ষেপ নেব।’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/l3s91f7xp5">শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন মানবাধিকারকর্মী নাভি পিল্লাই</a></aside>
মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ভয়, লজ্জা, কুসংস্কার ও বৈষম্য দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
মানসিক অসুস্থতাকে ঘিরে ভয়, লজ্জা, কুসংস্কার ও বৈষম্য দূর করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন