টঙ্গীতে সাত বছরের শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষক মোসলেম আহম্মদ গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন
<p>বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্লস পিএলসির (বিএসসিপিএলসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে যোগ দিয়েছেন তারঘীবুল ইসলাম। আজ সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর আগে তিনি একই প্রতিষ্ঠানের মহাব্যবস্থাপক (চালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিসিএস (টেলিকম) ক্যাডারের ২০তম ব্যাচের কর্মকর্তা।</p><p> বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্লস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি) দেশের একমাত্র আন্তর্জাতিক সাবমেরিন কেব্ল অপারেটর। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অধীন রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক সাবমেরিন কেব্লের মাধ্যমে দেশে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথ সরবরাহ করে থাকে।</p><p>বিএসসিপিএলসির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তারঘীবুল ইসলাম টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডে নেটওয়ার্ক পরিকল্পনা, করপোরেট কৌশল ও কোম্পানি সচিবসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে পরিচালিত সাসেক ইনফরমেশন হাইওয়ে প্রকল্পে প্রকল্প ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করেছেন তিনি।</p><p>নব্বইয়ের দশকের শেষ ভাগে একটি মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরে সহকারী ব্যবস্থাপক (ইঞ্জিনিয়ারিং) হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি মোবাইল ও টেরেস্ট্রিয়াল টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, করপোরেট কৌশল এবং টেলিযোগাযোগ নীতি নিয়ে কাজ করেছেন।</p><p>বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, তারঘীবুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট (আইবিএ) থেকে এমবিএ এবং অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব মেলবোর্ন থেকে পাবলিক পলিসি ও ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এ ছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট থেকে প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট প্রফেশনাল (পিএমপি) সনদ লাভ করেন।</p>
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় স্বামীর বাসা থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলামের (২৩) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। এতে তাঁর স্বামীসহ সাতজনকে আসামি করা হয়েছে।
২০২৬ ব্যালন ডি’অর কে জিতবেন, সেই উত্তর মিলবে আজ রাতে লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে। যেখানে ঘোষণা করা হবে এবারের বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের নাম।
রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ এবং সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এ আয়োজনে কথা বলেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকেরা
<p>চাচাতো ভাইবোন দুজন পৃথিবীতে এসেছিল একই দিন। আবার সবাইকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে একসঙ্গে পানিতে ডুবে মারা গেছে দুজন। আজ সোমবার গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।</p><p> পানিতে ডুবে মারা যাওয়া আবদুল্লাহ আল আরাফ ও মিফতাহুল জান্নাতের বয়স এক বছর আট মাস। আরাফ আবদুর রাজ্জাকের ছেলে আর জান্নাত আশরাফুল ইসলামের মেয়ে।</p><p>পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ১০টার দিকে আরাফ ও জান্নাত পরিবারের সদস্যদের অজান্তে খেলতে বের হয়। দীর্ঘ সময় তাদের দেখতে না পেয়ে পরিবারের লোকজন তাদের খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। দুপুরের দিকে বাড়ির পাশের ডোবার পানিতে দুজনকে ভাসতে দেখেন স্থানীয় লোকজন।</p><p>খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন ডোবার পানি থেকে দুই শিশুকে উদ্ধার করেন। পরে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।</p><p>এদিকে একই দিনে জন্ম নেওয়া চাচাতো ভাইবোনের একসঙ্গে মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবারে চলছে মাতম। আশপাশের লোকজন ওই বাড়িতে ভিড় জমান। তাঁরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন।</p><p>গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজ আলম পরিবারের বরাত দিয়ে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, পরিবারের অজান্তে খেলতে গিয়ে দুই শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।</p>
<p>ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বর্জ্যবাহী গাড়ি দায়িত্বপ্রাপ্ত চালকের বদলে অন্যদের দিয়ে চালানোসহ বিভিন্ন অনিয়মের নিয়ে প্রথম আলোতে প্রতিবেদন প্রকাশের পর তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সংস্থাটি। তিন সদস্যের কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।</p><p> আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) করপোরেশনের সচিব মো. মশিউর রহমান খানের সই করা এক দপ্তর আদেশে এ কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়। আদেশে ১৭ অক্টোবর প্রথম আলোতে প্রকাশিত ‘বেতন নেন চালক, ময়লার গাড়ি চালান অন্যরা, প্রাণ যায় মানুষের’ শীর্ষক প্রতিবেদনের উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, প্রকাশিত সংবাদের ফলে করপোরেশনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। সংবাদটির বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য কমিটি গঠন করা হলো।</p><p>কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিমকে। অন্য দুই সদস্য হলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিনুল ইসলাম ও সাধারণ প্রশাসন শাখার সহকারী সচিব মুহম্মদ মোতালেব। কমিটি সংবাদে উঠে আসা বিষয় পর্যালোচনা ও তদন্ত করে প্রশাসকের কাছে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেবে।</p><p>প্রথম আলোর অনুসন্ধানে দক্ষিণ সিটির বর্জ্য পরিবহনের ২২টি গাড়ি দায়িত্বপ্রাপ্ত চালকের বদলে অন্যদের দিয়ে চালানোর তথ্য পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এমন গাড়ি অন্তত ৫৬টি। বরাদ্দপ্রাপ্ত চালকদের একাংশ নিজেরা গাড়ি না চালিয়েও বেতন নিচ্ছেন। গাড়ি চালাচ্ছেন তাঁদের রাখা সহকারী বা বহিরাগত ব্যক্তিরা। পাশাপাশি বরাদ্দের জ্বালানি পুরোটা না তুলে বাকি অংশের টাকা ভাগাভাগির অভিযোগও উঠে আসে।</p><p>অনুসন্ধানে ২০১৭ সাল থেকে চলতি বছরের ৪ অক্টোবর পর্যন্ত দক্ষিণ সিটির ময়লার গাড়িসংশ্লিষ্ট ১৬টি দুর্ঘটনায় অন্তত ১৮ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়। এগুলোর অন্তত তিনটি ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত চালকের বদলে অন্য ব্যক্তি গাড়ি চালাচ্ছিলেন।</p><p>ওই প্রতিবেদন তৈরির সময় ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম প্রথম আলোকে বলেছিলেন, সহকারীকে গাড়ি চালাতে দিলে সংশ্লিষ্ট চালকের পাশাপাশি তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।</p>
শাড়িকাণ্ডে নতুন মামলা, তানজিন তিশার সিনেমায় অভিষেকও অনিশ্চিত
<p>জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় মো. হোসেন নামের মালবাহী ট্রাকের এক চালককে হত্যার মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত।</p><p> আজ সোমবার দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার চার নম্বর বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলমের আদালত আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। একই সঙ্গে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ২৫ নভেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেন।</p><p>বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. আনিসুর রহমান। তিনি বলেন, ৩৪ জন আসামির মধ্যে শুরু থেকে ২২ জন পলাতক রয়েছেন। কারাগার থেকে সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলক, সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খানসহ ৯ জনকে উপস্থিত করা হয়েছে। জামিনে থেকে দুজন আদালতে হাজিরা দেন। এ ছাড়া মুহাম্মদ বদিউল আলম ওরফে বদিউজ্জামান অন্য মামলায় কারাগারে আটক থাকায় আদালতে উপস্থিত করা হয়নি।</p><p>এদিকে আসামিদের পক্ষের আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী, ফারজানা ইয়াসমিন রাখী, আহসান হাবীব, খায়রুল ইসলাম, তরিকুল ইসলামসহ অনেকেই তাঁদের অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করে চার্জ গঠনের আদেশ দেন। চার্জ গঠনের সময়ে উপস্থিত আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচারের প্রার্থনা করেন।</p><p>মামলার অন্য আসামিরা হলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান, আসিফ আহম্মেদ, তারেকুজ্জামান রাজিব, শেখ বজলুর রহমান, নুর মোহাম্মদ সেন্টু, তোফায়েল সিদ্দিক ওরফে তুহিন, রহমান মিয়া ওরফে এ কে এম অহিদুর রহমান, পলাশ, ওলিউর রহমান, খলিলুর রহমান, ইমন, এস এম রিয়াজুল হক, মাসুদুর রহমান, আব্দুস সাত্তার ভূইয়া ওরফে এম এ সাত্তার, পারভেজ ওরফে গোল্ডেন পারভেজ, সুমন মিয়া ওরফে কাইল্লা সুমন, মিলন হোসেন, সোহেল ওরফে ভূইয়া সোহেল ওরফে বুনিয়া সোহেল, সলিম উল্লাহ, ইরফান, মুহাম্মদ বদিউল আলম ওরফে বদিউজ্জামান, ফুরকান হোসেন, শাহজাহান খান, সাজ্জাদ হোসেন, ফারুক হোসেন ও নাইমুল হাসান।</p><p>মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিতে নিহত হন মো. হোসেন। তিনি পেশায় ট্রাকচালক ছিলেন। সেদিন তিনি গাবতলীতে ট্রাক রেখে বাসায় ফিরছিলেন। চাঁদ উদ্যান এলাকায় তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট নিহত ব্যক্তির মা রীনা বেগম বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।</p><p>২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক আকরামুজ্জামান আদালতে শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।</p>
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”