বাংলাদেশ

সৌদি রুটে ১৫৯ ফ্লাইট ব্যাহত, ভোগান্তিতে প্রায় ২৩ হাজার যাত্রী

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
সৌদি রুটে ১৫৯ ফ্লাইট ব্যাহত, ভোগান্তিতে প্রায় ২৩ হাজার যাত্রী
সৌদি রুটে ১৫৯ ফ্লাইট ব্যাহত, ভোগান্তিতে প্রায় ২৩ হাজার যাত্রী
<p>সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনায় বিধিনিষেধের কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি ও ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী ১৫৯টি ফ্লাইটের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে এসব ফ্লাইটের ২২ হাজার ৭২১ জন যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। আজ শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।</p><p> বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, বাতিল ও স্থগিত হওয়া ফ্লাইটের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট রয়েছে ৮২টি। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৩৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ২০টি এবং রিয়াদ এয়ারের ১৫টি ফ্লাইট রয়েছে।</p><p>অন্যদিকে ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে ৭৭টি। এর মধ্যে ইন্ডিগোর ৩০টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৮টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৮টি, সালাম এয়ারের ৭টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট রয়েছে।</p><p>১০ অক্টোবর থেকে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতির হামলার পর ফ্লাইট পরিচালনায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এর প্রভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে সৌদি আরবের সরাসরি ফ্লাইটের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দর হয়ে চলাচলকারী ট্রানজিট ফ্লাইটগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।</p><p>এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ঢাকা থেকে দাম্মাম ও রিয়াদগামী সব ফ্লাইটের স্থগিতাদেশ আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ২৫ অক্টোবর বিমান এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।</p><p>বিমানের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, জরুরি প্রয়োজনে সৌদি আরবে যাতায়াতের জন্য যাত্রীরা জেদ্দা ও মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারবেন। যাত্রীদের বাড়তি চাপ সামাল দিতে ঢাকা থেকে জেদ্দা রুটে প্রতিদিন দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ঢাকা থেকে মদিনা রুটেও নিয়মিত ফ্লাইট চলাচল অব্যাহত রয়েছে।</p><p>স্থগিত থাকা ফ্লাইটগুলোর বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও নতুন সময়সূচি যথাসময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেছে বিমান। টিকিট ও ভ্রমণসংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য যাত্রীদের নিকটস্থ বিমানের বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগের অনুরোধ জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত এই সংস্থাটি।</p>

Prothomalo

View more
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে উন্নয়ন ও বিনিয়োগ অংশীদারত্ব জোরদার হয়েছে: হুমায়ুন কবির
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে উন্নয়ন ও বিনিয়োগ অংশীদারত্ব জোরদার হয়েছে: হুমায়ুন কবির

<p>প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের সরকারি জাপান সফরে বাংলাদেশকে উন্নয়ন সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে টোকিও। একই সঙ্গে বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও মানবসম্পদ উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। আজ শুক্রবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবরের জাপান সফরের ফলাফল তুলে ধরে তিনি এ কথাগুলো বলেন।</p><p> হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এই সফর বাংলাদেশকে উন্নয়ন সহায়তা অব্যাহত রাখা ও তা সম্প্রসারণের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের আরও বেশি সুযোগ সৃষ্টিতে জাপানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।’ প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগিতাকে পারস্পরিক কল্যাণকর অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগ অংশীদারত্বে রূপান্তরের ক্ষেত্রে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করেছে।</p><p>সফরটিকে কার্যকর ও ফলপ্রসূ হিসেবে অভিহিত করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের উন্নয়ন অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় হয়েছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদকে কেন্দ্র করে বৃহত্তর অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ভিত্তি তৈরি হয়েছে।</p><p>হুমায়ুন কবির বলেন, সফরের ফলাফল সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ পররাষ্ট্রনীতির প্রতিফলন। এই নীতিতে জাতীয় স্বার্থ, পারস্পরিক সম্মান এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, বাংলাদেশ প্রচলিত সহজ শর্তের ঋণ ও উন্নয়ন সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতা থেকে বেরিয়ে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অভিন্ন অর্থনৈতিক সুযোগের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়।</p><p>প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ বিনিয়োগের অংশীদার হবে। যার সঙ্গেই আমরা ব্যবসা করব, প্রকৃত পারস্পরিক বিনিয়োগ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতেই তা করব।’ তিনি আরও বলেন, দুই দেশের উদীয়মান সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান ও অভিন্ন অর্থনৈতিক স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে উঠবে। এখানে কোনো দেশ অধস্তন বা নির্ভরশীল অবস্থানে থাকবে না।</p><p><strong>এক লাখ কোটি ইয়েন বিনিয়োগের সম্ভাবনা</strong></p><p>সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ১ লাখ কোটি ইয়েন বা প্রায় ৬৩০ কোটি ডলারের জাপানি বেসরকারি বিনিয়োগের সম্ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। তিনি বলেন, এ ধরনের বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রায় দুই লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। হুমায়ুন কবির স্পষ্ট করেন, প্রস্তাবিত বিনিয়োগের বিষয়টি বেসরকারি খাতের সম্ভাবনাকে নির্দেশ করে, এটি কোনো সরকারি ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নয়।</p><p>কবে নাগাদ এসব বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, পারস্পরিক পরামর্শ ও মন্ত্রী পর্যায়ের যৌথ আলোচনার পর উভয় পক্ষের সুবিধাজনক সময়ে শিগগিরই জাপানের একটি অর্থনৈতিক প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, জাতীয় অগ্রাধিকার, সাশ্রয়ী হওয়ার বিষয়, প্রতিযোগিতার সক্ষমতা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির দিক বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ প্রস্তাবগুলো সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করবে।</p><p>প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার এমন বিনিয়োগকেই অগ্রাধিকার দেবে, যা ব্যয়ের বিপরীতে যথাযথ সুফল নিশ্চিত করবে এবং দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করবে।</p><p><strong>অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বিআইজি বি</strong></p><p>পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুই দেশ দীর্ঘদিনের ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ (বিআইজি বি) উদ্যোগকে ‘বিআইজি বি ফর শেয়ার্ড প্রসপারিটি’ বা অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বিআইজি বি হিসেবে উন্নীত করতে সম্মত হয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের পরিবর্তনশীল অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের প্রতিফলন ঘটেছে।</p><p>উন্নীত এই উদ্যোগে জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্পস্থাপনা, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি অবকাঠামো এবং যোগাযোগব্যবস্থার সমন্বিত উন্নয়নের পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।</p><p>হুমায়ুন কবির স্পষ্ট করেন—সফরে এই উদ্যোগের আওতায় আলোচনা বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তিনি বলেন, ‘তৃতীয় কোনো দেশ নিয়ে আলোচনা হয়নি।’ অন্য কোনো দেশকে যুক্ত করে আঞ্চলিক কোনো ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে আলোচনায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।</p><p>প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক চুক্তির ক্ষেত্রে সরকার জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করবে।</p><p><strong>বড় প্রকল্পে জাপানের সহযোগিতা অব্যাহত</strong></p><p>হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশের বড় অবকাঠামো ও উন্নয়ন অগ্রাধিকারগুলোতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে জাপান। আলোচনায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর প্রস্তুতি, ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থা বা মাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের নির্মাণ, পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় ভবিষ্যতে জাপানের সহযোগিতার বিষয় উঠে আসে।</p><p>প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অর্থনৈতিক সহনশীলতা জোরদার এবং জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে জাপানের ৫ হাজার কোটি ইয়েন বা প্রায় ৩১ কোটি ৪০ লাখ ডলারের জরুরি সহায়তা ঋণের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জাপানের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সময়মতো সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে তিনি সহজ শর্তে অর্থায়ন অব্যাহত রাখা এবং কারিগরি সহযোগিতা সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।</p><p>জাপানের ঋণের শর্তাবলি সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, সাশ্রয়ী হওয়া ও অর্থনৈতিক সুফল নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ভবিষ্যৎ অর্থায়ন ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিদ্যমান অন্যান্য বিকল্পের সঙ্গে তুলনা করে মূল্যায়ন করবে।</p><p><strong>মানবসম্পদ উন্নয়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরে গুরুত্ব</strong></p><p>প্রধানমন্ত্রীর সফরে মানবসম্পদ উন্নয়ন, কারিগরি সহযোগিতা ও শিল্পের আধুনিকায়ন গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে উঠে এসেছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইউনিক্লোর মূল প্রতিষ্ঠান ফাস্ট রিটেইলিং, মারুবেনি করপোরেশন, মিতসুবিশি করপোরেশন, টয়োটা সুশো করপোরেশনসহ জাপানের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও করপোরেশনগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেন। এসব আলোচনায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, উন্নত উৎপাদনশিল্প এবং অবকাঠামো খাতে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিষয় গুরুত্ব পায়। প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন এবং রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ নিয়েও আলোচনা হয়।</p><p>প্রধানমন্ত্রী জাপান বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরাম সংলাপে অংশ নিয়ে জাপানি ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।</p><p>হুমায়ুন কবির বলেন, করব্যবস্থা, শুল্ক ছাড়করণ, রেমিট্যান্স ও লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং সংস্কারের মাধ্যমে ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।</p><p><strong>জ্বালানি ও উৎপাদনশিল্পে সহযোগিতা</strong></p><p>সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ফুৎসুতে জেরা (জেইআরএ) এর এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং চিবা প্রিফেকচারের একটি লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করেন।</p><p>হুমায়ুন কবির বলেন, এলএনজি স্থাপনা পরিদর্শনের উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের নিজস্ব জ্বালানি অবকাঠামো পরিকল্পনার জন্য বাস্তব অভিজ্ঞতা ও কারিগরি জ্ঞান অর্জন করা; জাপান থেকে এলএনজি আমদানির বিষয়ে আলোচনা করা নয়।</p><p>প্রধানমন্ত্রী ২৯ অক্টোবর নাগোয়া শহরে টয়োটার উৎপাদন কারখানাও পরিদর্শন করেন। সেখানে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা বাংলাদেশে গাড়ি ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি উৎপাদনের কারখানা স্থাপনে তাঁদের আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেন।</p><p><strong>ছয়টি সহযোগিতা দলিল সই</strong></p><p>প্রতিমন্ত্রী জানান, সফরকালে অর্থনৈতিক সম্পর্ক, ব্যবসায়িক পরিবেশ, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, উপকূলীয় নিরাপত্তা, জলবায়ু সহযোগিতা এবং তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে ছয়টি সহযোগিতা চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। বিনিয়োগ সহায়তা এবং স্থানীয় সরকার উন্নয়নসংক্রান্ত ব্যবস্থাপনাও চূড়ান্ত করা হয়েছে।</p><p>দুই দেশ টেকসই নগরায়ণ, স্বাস্থ্যসেবা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সুরক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং ভারসাম্যপূর্ণ আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধিতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।</p><p>হুমায়ুন কবির বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান খুঁজে বের করার প্রচেষ্টায়ও বাংলাদেশ জাপানের অব্যাহত সম্পৃক্ততা চেয়েছে।</p><p>দুই প্রধানমন্ত্রী বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা, নৌ ও আকাশপথে চলাচলের স্বাধীনতা, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়েও মতবিনিময় করেন।</p>

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
হত্যা ও ডাকাতির মামলায় মাগুরা পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক গ্রেপ্তার
হত্যা ও ডাকাতির মামলায় মাগুরা পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক গ্রেপ্তার

যুবদল নেতা শাকের হোসেন হত্যা এবং দেড় শ ভরি সোনা ডাকাতির মামলায় মাগুরায় পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. মারুফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
ছাগল খুঁজতে গিয়ে চিতা বাঘের সামনে পড়েন শরীফা বেগম
ছাগল খুঁজতে গিয়ে চিতা বাঘের সামনে পড়েন শরীফা বেগম

<p>শরীফা বেগমের ছয়টি ছাগল। গোচারণভূমিতে চরা শেষে প্রতিদিন ঘরে ফিরে আসে ছাগলের দল। ২৫ অক্টোবর শরীফা বেগম খেয়াল করেন ছয়টির মধ্যে ফিরেছে পাঁচটি। অন্য ছাগলটির সন্ধানে সীমান্তের কাছে গেলেই পড়েন চিতা বাঘের সামনে। বাঘটির আক্রমণে আহত হন শরীফা বেগম। তাকে উদ্ধার করতে এসে আহত হয় আরও দুজন।</p><p> ২৫ অক্টোবর বিকেলে লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের আমঝোল সীমান্তে এ আক্রমণের ঘটনাটি ঘটে। ওই দিনই ঢাকা থেকে বন বিভাগের বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের চার সদস্য ঘটনাস্থলে যান। চিতা বাঘটির সন্ধানে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে কোনো হদিস পাওয়া না পেয়ে শুক্রবার ঢাকায় ফিরে এসেছে দলটি।</p><p> দলটির ধারণা, চিতা বাঘটি ভারতে ফিরে গেছে। এ দলের অন্যতম সদস্য বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের বন্য প্রাণী পরিদর্শক আবদুল্লাহ আস সাদিক। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, আমঝোল গ্রামের বাসিন্দা শরীফা বেগমের ছয়টি ছাগল ছিল। এর মধ্যে একটি ছাগল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ছাগলের সন্ধানে বেরিয়ে তিনি চিতা বাঘের সামনে পড়ে যান।</p><p> সাদিক বলেন, চিতা বাঘের আক্রমণে ছাগলটি মারা গেছে। পায়ের ছাপ ও ছাগলের শরীরে কামড়ের গভীরতা থেকে নিশ্চিত হয়েছেন, এটি চিতা বাঘ। সীমান্তের বাংলাদেশ অংশে অনেকে গরু, ছাগল চরাতে দেন।</p><p><strong>ডুয়ার্স বা বক্সারের জঙ্গল থেকে আসতে পারে চিতা বাঘটি</strong></p><p>আবদুল্লাহ আস সাদিক বলেন, আমঝোল সীমান্তে ভারতীয় অংশের সঙ্গেই একটি শালবন, বাঁশঝাড় ও বিস্তীর্ণ ধানিজমি আছে। এর বাইরে সীমান্তের কাছাকাছি ভারতের দুটি সংরক্ষিত বন আছে। একটি ডুয়ার্স, অন্যটি বক্সার। এ অঞ্চল ভারতীয় চিতা বাঘের প্রধান আবাসস্থল। সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া যেভাবে দেওয়া আছে তাতে বাঘ আসার সুযোগ নেই। তবে সীমান্তের ভারতীয় অংশে বেশ কিছু বড় সেগুন ও শিমুলগাছ আছে। তাঁর ধারণা, চিতা বাঘ ক্ষিপ্রতার সঙ্গে গাছ বেয়ে উঠতে পারে। বাঘটি কোনো একটি গাছ বেয়ে কাঁটাতারের বেড়ার ওপর লাফ দিয়ে বাংলাদেশ অংশে ঢুকে পড়েছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-30/2ih7bcbb/chatabagh-02.jpeg"><figcaption>লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের আমঝোল এলাকায় চিতা বাঘটির পায়ের ছাপ শনাক্ত করেছেন বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের সদস্যরা </figcaption></figure><p><strong>পাঁচ ইউনিয়নে তল্লাশি, চার দিন ধরে আতঙ্ক</strong></p><p>ঢাকা থেকে যাওয়া চার সদস্যের দলটির কার্যক্রম তদারক করছিলেন বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের প্রধান বন সংরক্ষক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বিজিবির সহায়তা নিয়ে গোতামারীসহ সীমান্তঘেঁষা পাঁচ ইউনিয়নে তল্লাশি চালিয়েছি। মানুষকে সতর্ক করতে মাইকিং করেছি। সর্বশেষ বিজিবির থার্মাল ড্রোনে বাঘটির সর্বশেষ অবস্থান ছিল সীমান্তের কাছাকাছি। সেটি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের বনে চলে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।</p><p>মিজানুর রহমান বলেন, এর আগেও ওই অঞ্চলে মাঝে মাঝে সীমান্ত পেরিয়ে চিতা বাঘ আসে। বন বিভাগ বলছে, চিতা বাঘ সাধারণত তিস্তা ও ধরলা নদীর অববাহিকা, চা–বাগান এবং উঁচু ফসলের খেত ধরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে পারে। খাবারের সন্ধানে বা আবাসস্থল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নতুন এলাকার খোঁজে এরা মাঝেমধ্যে উঁচু গাছ বেয়ে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-30/pulbqc1q/chatabagh-03.jpeg"><figcaption>চিতা বাঘের সন্ধানে লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় তল্লাশি চালান বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের সদস্যরা </figcaption></figure><p><strong>চিতা বাঘ মারতে হাজার হাজার মানুষ</strong></p><p>রংপুর বন বিভাগ বলছে, ২৫ অক্টোবর চিতা বাঘের আক্রমণে তিনজন আহত হওয়ার পর আমঝোল এলাকায় হাজার হাজার মানুষ বাঘটি পিটিয়ে মারতে লাঠিসোঁটা নিয়ে জড়ো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও চিতা বাঘটিকে নিরাপদে ফিরে যেতে সহায়তা করতে বিজিবি ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পরবর্তী সময়ে রাতে বিজিবির থার্মাল ড্রোনের মাধ্যমে সীমান্তের কাছে চিতা বাঘটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। প্রাণীটিকে নিরাপদে উদ্ধারের জন্য রংপুর সামাজিক বন বিভাগ ওই দিনই স্থানীয় বনকর্মীদের সারা রাত সে স্থানে পাহারায় রাখে।</p><p>বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ রেজা খান প্রথম আলোকে বলেন, লালমনিরহাট, পঞ্চগড়সহ সীমান্তবর্তী এলাকায় চিতা বাঘ আসা একটি স্বাভাবিক ঘটনা। কয়েক বছর আগেও পঞ্চগড়ে একটি চিতা বাঘকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।</p><p>রেজা খান বলেন, ‘বন্য প্রাণী নিয়ে আমাদের মধ্যে কোনো সংবেদনশীলতা তৈরি হয়নি। কারণ, ছোটবেলা থেকে এসব বিষয় নিয়ে আমাদেরকে সংবেদনশীল করে তোলার মতো কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে, সামাজিকভাবে আমরা বন্য প্রাণীবিমুখ হয়ে পড়েছি। কোনো নীলগাই, হরিণ, চিতা এমনকি একটি ছোট বনবিড়াল দেখলেও সবাই লাঠিসোঁটা নিয়ে হত্যা করতে নেমে যায়।’ এ ধরনের বন্য প্রাণী লোকালয়ে চলে এলে কীভাবে অগ্রিম সতর্কবাতা সবাইকে দেওয়া যায়, সেটার এক পথ খুঁজে বের করতে পরামর্শ দেন তিনি।</p>

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
অভাব ঘোচাতে বিদেশে গিয়ে ফিরলেন কফিনবন্দী হয়ে, মা–বাবার স্বপ্ন শেষ
অভাব ঘোচাতে বিদেশে গিয়ে ফিরলেন কফিনবন্দী হয়ে, মা–বাবার স্বপ্ন শেষ

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার রায়পুরের মনিরুল ইসলামকে অনেক স্বপ্ন নিয়ে মালয়েশিয়ায় পাঠিয়েছিলেন মা–বাবা। দেশে ফিরলেন লাশ হয়ে।

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
তাহসিফকে ধাওয়া দিয়েছিল ইউনিফর্ম পরা লোকজন, দাবি দীপের ও অন্যান্য খবর
তাহসিফকে ধাওয়া দিয়েছিল ইউনিফর্ম পরা লোকজন, দাবি দীপের ও অন্যান্য খবর

তাহসিফকে ধাওয়া দিয়েছিল ইউনিফর্ম পরা লোকজন, দাবি দীপের ও অন্যান্য খবর

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
নাহিদ: দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ চাই
নাহিদ: দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ চাই

নাহিদ: দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ চাই

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
নিশো, চঞ্চল, তমাকে নিয়ে ভিকির ‘খলনায়ক’
নিশো, চঞ্চল, তমাকে নিয়ে ভিকির ‘খলনায়ক’

ভিকি জাহেদের প্রথম সিনেমা ‘খলনায়ক’–এ দেখা যাবে আফরান নিশো, চঞ্চল চৌধুরী ও তমা মির্জাকে।

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
অরুণাচলের বিশিষ্ট সাংবাদিক তোঙ্গম রিনার বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপের নিন্দায় প্রেসক্লাব
অরুণাচলের বিশিষ্ট সাংবাদিক তোঙ্গম রিনার বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপের নিন্দায় প্রেসক্লাব

<p>ভারতের অরুণাচল প্রদেশের বিশিষ্ট সাংবাদিক তোঙ্গম রিনাকে ঘিরে পুলিশের পদক্ষেপের কড়া নিন্দা করেছে অরুণাচল প্রদেশ প্রেসক্লাব (এপিসি) এবং অরুণাচল প্রদেশ ইউনিয়ন অব ওয়ার্কিং জার্নালিস্টস (এপিইউডব্লিউজে)। ২২ অক্টোবর পাসিঘাটে সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্টের বিরুদ্ধে চলা বিক্ষোভে ওই এলাকায় ব্যাপক সহিংসতা ছড়ায়। সেই ঘটনার তদন্তে পুলিশ আদালতে তল্লাশি পরোয়ানার আবেদন করে। সেই তালিকায় সাংবাদিক রিনার নাম থাকা নিয়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে।</p><p> সাংবাদিক সংগঠনগুলোর দাবি এই ঘটনা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর বড় আঘাত। অভিযোগ উঠেছে সাংবাদিক পেশার সঙ্গে যুক্তদের ভয় দেখানোর জন্যই তদন্তকারী সংস্থার ক্ষমতার অপব্যবহার করা হচ্ছে। তোঙ্গম রিনা ‘দ্য অরুণাচল টাইমস’ পত্রিকার ডেপুটি এডিটর পদে কর্মরত।</p><p>ইস্ট সিয়াং জেলার মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জমা দেওয়া আবেদনপত্রে পুলিশ মোট চারজনের বাড়িতে তল্লাশির অনুমতি চায়। সেই তালিকায় দুই সক্রিয় আন্দোলনকর্মী, এক আইনজীবী এবং সাংবাদিক রিনা রয়েছেন। পুলিশ তাঁদের মোবাইল, ডিজিটাল ডিভাইস এবং অন্যান্য সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করার অনুমতি চেয়েছিল।</p><p>রিনা সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমি এ ধরনের হুমকিতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। কিন্তু তারা সমস্যা এড়াতে পারবে না, কারণ বিষয়টি শুধু আমাকে নিয়ে নয়। সাংবাদিকতা যদি অপরাধ হয়, সক্রিয়তা যদি অপরাধ, তবে যারা রাষ্ট্রের কলকবজা ব্যবহার করে সহিংসতা ছড়ায়, তারা কারা?’</p><p>সংবাদমাধ্যম সংগঠনগুলো যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাংবাদিকতা কোনো অপরাধ নয়। আন্দোলনের খবর সংগ্রহ করা বা সরকারকে প্রশ্ন করাকে অপরাধমূলক কাজ বলা যায় না। তা ছাড়া কোনো স্পষ্ট প্রমাণ ছাড়া একজন নিরপেক্ষ সাংবাদিককে তদন্তের আওতায় আনা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।</p><p>সেই সঙ্গে জানানো হয়েছে, পাসিঘাটের সহিংসতা এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনাকে উভয় সংগঠনই সমর্থন করে না। তবে নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা দমন করার জন্য তদন্তপ্রক্রিয়া ব্যবহার করা উচিত নয় বলে তাদের পক্ষ থেকে মন্তব্য করা হয়েছে।</p><p>দুই সাংবাদিক সংগঠনের তরফে রাজ্য সরকার ও পুলিশের কাছে ঘটনার স্পষ্ট ব্যাখ্যার দাবি জানানো হয়েছে। পুলিশি তালিকায় রিনার নাম যদি ভুলভাবে যুক্ত করা হয়ে থাকে, তবে তা দ্রুত সংশোধনের দাবিও উঠেছে।</p><p>পুলিশ এই ঘটনায় মোট আটটি মামলা করেছে এবং ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে তল্লাশি পরোয়ানা নিয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি। সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বাধা দিলে কড়া আন্দোলনের বার্তা দিয়েছে সংগঠনগুলো।</p><p>রিনার ওপরে বড় ধরনের হামলা হয়েছে, তাঁর সাংবাদিকতার কারণে। ২০১২ সালের জুলাই মাসে, ইটানগরে ‘দ্য অরুণাচল টাইমস’ কার্যালয়ের বাইরে পেছন থেকে রিনাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীরা। গুলিটি তাঁর পেটে বিদ্ধ হয়ে অন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং মেরুদণ্ডে আঘাত করে। পরে তাঁকে অস্ত্রোপচার ও দীর্ঘ পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।</p>

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
মূলধন বাড়াতে ৪০০ কোটি টাকার বন্ড ছাড়ছে মেঘনা ব্যাংক
মূলধন বাড়াতে ৪০০ কোটি টাকার বন্ড ছাড়ছে মেঘনা ব্যাংক

<p>মূলধন ভিত্তি শক্তিশালী করা এবং ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে মেঘনা ব্যাংক ৪০০ কোটি টাকার দ্বিতীয় সাব–অর্ডিনেটেড বন্ড ইস্যু করছে। দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ইতিমধ্যে বন্ডটি অনুমোদন করেছে।</p><p> সাত বছর মেয়াদি এ বন্ডের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ ব্যাংকটির টায়ার-২ মূলধন শক্তিশালী করার কাজে ব্যবহৃত হবে। এতে নিজেদের ঋণ ও বিনিয়োগ কার্যক্রম জোরদার হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করছে ব্যাংকটি।</p><p> এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মেঘনা ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক ব্যাংকিং পরিবেশে পর্যাপ্ত মূলধন সংরক্ষণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা পরিপালন করা ব্যাংকগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ রকম পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় সাব–অর্ডিনেটেড বন্ড ইস্যুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে মূলধন পর্যাপ্ততা বজায় রাখা এবং টেকসই ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি এ অর্থায়ন শিল্পায়ন, উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং বিদ্যমান ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণেও ভূমিকা রাখবে। এতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা থাকবে।</p><h3>বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসির অনুমোদন </h3><p>সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মেঘনা ব্যাংকের ৪০০ কোটি টাকার এই দ্বিতীয় সাব–অর্ডিনেটেড বন্ডটি দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসির অনুমোদন পেয়েছে। এ বন্ডের কুপন রেট পরিবর্তনশীল। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ছয় মাস মেয়াদি স্থায়ী আমানতের সর্বোচ্চ সুদের হারের গড়ের ভিত্তিতে বন্ডটির রেফারেন্স রেট নির্ধারিত হয়। এর সঙ্গে ৩ শতাংশ মার্জিন যোগ করে কুপন রেট নির্ধারণ করা হয়েছে।</p><p>গত ৩০ সেপ্টেম্বর বন্ডটির কুপন রেট ছিল বার্ষিক ১২ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। এর মধ্যে রেফারেন্স রেট ৯ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ এবং মার্জিন ৩ শতাংশ। রেফারেন্স রেট পরিবর্তনের সঙ্গে ভবিষ্যতে কুপন রেটও পরিবর্তিত হবে।</p><h3>বিনিয়োগের সুযোগ ও সুবিধা</h3><p>মেঘনা ব্যাংক জানিয়েছে, তাদের এ বন্ডের অভিহিত মূল্য প্রতি ইউনিট ৫ লাখ টাকা। প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে ইস্যু করা এ বন্ডে যোগ্য ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা প্রযোজ্য আইন ও শর্ত অনুযায়ী বিনিয়োগ করতে পারবে।</p><p>বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বন্ডটি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মেইন বোর্ডে তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তালিকাভুক্তির ফলে বিনিয়োগকারীরা স্টক এক্সচেঞ্জে বন্ডটি কেনাবেচার সুযোগ পাবেন। এতে বিনিয়োগের তারল্য বাড়ার পাশাপাশি দেশের পুঁজিবাজারে বিকল্প বিনিয়োগের ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত হতে পারে।</p><p>প্রযোজ্য আয়কর আইন অনুযায়ী, তালিকাভুক্তির সুবাদে ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীরা এ বন্ডে বিনিয়োগের বিপরীতে কর রেয়াতের সুযোগ পাবেন। এ ছাড়া বন্ডটিতে আবগারি শুল্ক নেই। ডিপিএস ও সাধারণ সঞ্চয়পত্রের মতো কিছু বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সীমা থাকলেও এ বন্ডে বিনিয়োগের পৃথক সর্বোচ্চ সীমা নেই।</p><p>মেঘনা ব্যাংক জানায়, প্রচলিত সঞ্চয়পত্র, স্থায়ী আমানত (এফডিআর) ও ডিপিএসের তুলনায় এ বন্ডে বেশি মুনাফা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বরের হিসাবে এটির বার্ষিক কুপন রেট ১২ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ, যা বর্তমান মেয়াদি আমানতের তুলনায় ৩ শতাংশ বেশি।</p><h3>যেভাবে মুনাফা ও মূলধন ফেরত দেবে </h3><p>সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বন্ডটির বিনিয়োগকারীরা প্রতি ছয় মাস অন্তর কুপন আয় পাবেন। আর তৃতীয় বছর শেষে মূলধন ফেরত দেওয়া শুরু হবে। শেষ পাঁচ বছরে প্রতিবছর মূল বিনিয়োগের ২০ শতাংশ করে পরিশোধ করা হবে।</p><p>বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সব মিলিয়ে মেঘনা ব্যাংকের দ্বিতীয় সাব–অর্ডিনেটেড বন্ড বিনিয়োগকারীদের জন্য বিকল্প বিনিয়োগের একটি সুযোগ তৈরি করছে। দেশের করপোরেট বন্ড বাজারের বিকাশেও এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখতে পারে।</p>

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।