<p>চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের ব্যানারে গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে মাইকিং করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। আজ রোববার বিকেলে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে।</p><p> জানা গেছে, আজ বেলা দুইটা থেকে বাঁশখালী উপজেলার কাথরিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়কে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় মাইক লাগিয়ে এ কর্মসূচি চালানো হয়।</p><p>২ মিনিট ৫৬ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, অটোরিকশায় থাকা মাইকে আগে থেকে ধারণ করা বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে। মাইকিং কর্মসূচির আয়োজক হিসেবে ‘বাঁশখালী উপজেলা ছাত্রলীগ, চট্টগ্রাম দক্ষিণ’ উল্লেখ করা হয়েছে।</p><p>জানতে চাইলে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রবিউল হক প্রথম আলোকে বলেন, মাইকিংয়ের বিষয়টি তিনি জানেন না। খোঁজ নিয়ে জানাবেন।</p>
<p>প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁনকে সংযম ও দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছে সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ। গতকাল শনিবার নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তাঁকে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার একটি কপি ছিঁড়তে দেখা যায়। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আজ রোববার এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানায় সম্পাদক পরিষদ।</p><p>বিবৃতিতে বলা হয়, কোনো সংবাদ বা সম্পাদকীয় বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করা গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে মতপার্থক্য প্রকাশের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা, শালীনতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখা জরুরি।</p><p>প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী ও সচিব পদমর্যাদার ব্যক্তি হিসেবে রাশেদ খাঁনের বক্তব্য ও আচরণে সংযম ও দায়িত্বশীলতা প্রত্যাশিত বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে সম্পাদক পরিষদ। একই সঙ্গে সাংবাদিকতার পেশাগত মান, বস্তুনিষ্ঠতা, নৈতিকতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি।</p><p>বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি উসকানিমূলক বক্তব্য, হুমকি ও হয়রানি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা সমুন্নত রাখার আহ্বান জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ।</p><p>সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর এবং সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন।</p>
<p>ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাবেক এক নেতাকে আটক করে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করেছেন ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা। আটক ব্যক্তির নাম অর্ক রায়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক। আজ রোববার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে হলের ভেতর থেকে তাঁকে আটক করা হয়।</p><p>প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অর্ক রায় মাঝেমধ্যেই হলে যাতায়াত করতেন। আজ বিকেলে হলের একটি ক্যানটিনে খাওয়ার সময় ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা তাঁকে দেখতে পেয়ে আটক করেন। পরে হল প্রশাসন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের উপস্থিতিতে তাঁকে শাহবাগ থানা–পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।</p><p>বিষয়টি নিশ্চিত করে জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক দেবাশীষ পাল বলেন, আটক ব্যক্তিকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও পুলিশ দেখবে। তিনি মাঝেমধ্যে হলে যাতায়াত করতেন বলে জানা গেছে। আজ দেখতে পেয়ে শিক্ষার্থীরা তাঁকে আটক করেন।</p><p>প্রাধ্যক্ষ আরও বলেন, ছাত্রলীগের পদধারী কারও নামেই বর্তমানে হলে সিট বরাদ্দ নেই, তাঁদের সবার সিট আগেই বাতিল করা হয়েছে। হলে এ ধরনের কেউ অবৈধভাবে অবস্থান করছেন কি না, হল প্রশাসন তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখবে।</p><p>জগন্নাথ হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ধ্রুব রায় বলেন, অর্ক রায় রাতে হলে লুকিয়ে অবস্থান করছিলেন বলে তাঁদের কাছে তথ্য ছিল। আজ দিনে প্রকাশ্যে তাঁকে ক্যানটিনে দেখতে পেয়ে আটক করা হয়। সম্প্রতি জগন্নাথ হলের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় তিনি জড়িত থাকতে পারেন বলেও অভিযোগ করেন এই ছাত্রদল নেতা।</p><p>এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি।</p>
২০১৮ সালের ৫ জুন দুই বছর মেয়াদি চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। কমিটি বাতিলের কারণ হিসেবে মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা বলছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।
<p>ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খানকে (মিল্টন)। আর সদস্যসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঢাকা–১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনকে। আগের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণার এক মাসের বেশি সময় পর নতুন নেতৃত্ব পেল বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ এই সাংগঠনিক শাখা।</p><p>আজ রোববার রাতে বিএনপির সহ–দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এই শাখায় পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি গঠন করতে হবে।</p><p>শফিকুল ইসলাম খান যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ–সভাপতি। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–১৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন তিনি। এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদ্য বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।</p><p>গত ৩০ সেপ্টেম্বর আমিনুল হক ও মোস্তফা জামানের নেতৃত্বাধীন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। ওই দিন দলের সহদপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। আমিনুল হক ওই কমিটির আহ্বায়ক এবং মোস্তফা জামান সদস্যসচিব ছিলেন।</p>
এক হাতে একটি ডিম, অন্য হাতেও তাই। মাথার ওপরও সাজানো আরও একটি ডিম। চারপাশে মুরগি, পেছনে রঙিন ক্যানভাস। এমন অদ্ভুত অথচ দারুণ মজার সাজে ধরা দিলেন অভিনেত্রী জয়া আহসান।
মুক্তিযুদ্ধ থেকে রাষ্ট্রনায়ক জিয়ার উত্থান, আর্মি স্টেডিয়ামে ৭ নভেম্বর উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন
<p>পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করাসহ বিভিন্ন দাবিতে ঢাকার সাভারের আশুলিয়া ও হেমায়েতপুরের কয়েকটি জায়গায় আজ রোববার দিনভর বিক্ষোভ হয়েছে। হেমায়েতপুর এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক দেড় ঘণ্টার মতো অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকেরা। এ সময় কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।</p><p> এমন পরিস্থিতিতে সাভারের হেমায়েতপুর ও আশুলিয়ার ১৭৭টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয় বলে আজ সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে প্রথম আলোকে জানান আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া।</p><p>মহাসড়ক অবরোধের সময় পোশাকশ্রমিকেরা হেমায়েতপুরে ঢাকা–আরিচা মহাসড়ক–সংলগ্ন একেএইচ গ্রুপের কারখানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। মহাসড়ক অবরোধের কারণে প্রায় দেড় ঘণ্টা সড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ ছিল। ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের মারধরের শিকার হন স্থানীয় এক সাংবাদিক। সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন প্রথম আলোকে এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন।</p><p>পুলিশ, শ্রমিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে সাভারের আশুলিয়া, ঢাকার মিরপুর ও গাজীপুরের কালিয়াকৈরে শ্রমিকদের বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে দুপুরে হেমায়েতপুরের কয়েকটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে একেএইচ গ্রুপের কারখানায় কাজ করছিলেন শ্রমিকেরা।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-31/324386yi/dhaka2.jpg"><figcaption>আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে পুলিশ</figcaption></figure><p>বেলা আড়াইটার দিকে ছুটি ঘোষণা করা কারখানার শ্রমিকদের একটি অংশ একেএইচ গ্রুপের কারখানার সামনে যান। তাঁরা ওই কারখানার শ্রমিকদের কারখানা থেকে বের হওয়ার আহ্বান জানান। শ্রমিকেরা বের না হওয়ায় এবং কারখানা কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা না করায় তাঁরা কারখানা চত্বরে ঢুকে কারখানার কাচ, শ্রমিকদের পরিবহনের বাস, প্রাইভেট কার ও কাভার্ড ভ্যানের কাচ ভাঙচুর করেন। এ ছাড়া কারখানার ফটকে নিরাপত্তারক্ষীদের বসার কক্ষে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। পরে তাঁরা সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় সড়কের উভয় পাশে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একপর্যায়ে কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/y3g8m2oe26">আশুলিয়ায় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ৩০ কারখানা ছুটি ঘোষণা</a></aside><p>ঘটনার তথ্য সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে প্রাইম টিভির সাভার উপজেলা প্রতিনিধি গোপাল মালাকারকে মারধর করেন বিক্ষোভকারীরা। পরে সাভার মডেল থানার পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যায়।</p><p>গোপাল মালাকার প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভিডিও করার সময় কয়েকজন বিক্ষোভকারী ভিডিও কেন করছি, এটা বলে আমাকে এলোপাতাড়ি মারধর করতে শুরু করেন। এ সময় আমার মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেন তাঁরা। যে মোবাইল দিয়ে ভিডিও করছিলাম, সেটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। পুলিশ এসে আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।’</p>
<p>নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ হত্যা মামলায় দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, তাজুল ইসলাম এ হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী। এতে সরাসরি পাঁচজন অংশ নেন। এর মধ্যে তাজুল পিস্তল দিয়ে আলিফকে গুলি করেন। জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ এসব তথ্য জানিয়েছে।</p><p>আজ রোববার বিকেলে দুর্গাপুর চৌকি আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল আমিন ভুঁইয়ার কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন দুই আসামি ইমরান ইসলাম ওরফে ইমন (২৪) ও সাব্বির আহম্মেদ (২৫)। বিকেল পৌনে চারটায় শুরু হওয়া জবানবন্দি নেওয়া হয় সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত। পরে বিচারক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।</p><p>দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, জবানবন্দিতে দুই আসামি জানিয়েছেন, তাজুল ইসলামের সঙ্গে সাংবাদিক আলিফের আগে থেকেই বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। তাঁরা তাজুলের সহযোগী হিসেবে বিভিন্ন কাজ করতেন। সীমান্ত এলাকায় তাঁদের বিভিন্ন ব্যবসা ছিল। এসব ব্যবসায় আলিফ বাধা দিতেন এবং পুলিশকে তথ্য দিতেন। এসব কারণে আলিফের প্রতি তাঁদেরও ক্ষোভ ছিল।</p><p>ওসি আরও বলেন, দুই আসামির ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি পাঁচজন অংশ নেন। তাজুল ইসলাম পিস্তল দিয়ে আলিফকে গুলি করেন। তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর লোকজন চলে এলে তাঁরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।</p><p>জবানবন্দিতে তাজুল ছাড়া আরও কয়েকজনের নাম এসেছে জানিয়ে ওসি বলেন, তদন্তের স্বার্থে তাঁদের নাম এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার করার লক্ষ্যেই তাঁদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।</p><aside><cite>খন্দকার শাকের আহমেদ, দুর্গাপুর থানার ওসি</cite>জবানবন্দিতে তাজুল ছাড়া আরও কয়েকজনের নাম এসেছে। তদন্তের স্বার্থে তাঁদের নাম এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার করার লক্ষ্যেই তাঁদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।</aside><p>পুলিশ জানায়, তাজুলের বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, অস্ত্র, মাদক, বিস্ফোরক, অপহরণ, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধে অন্তত ১৩টি মামলা রয়েছে। সীমান্তকেন্দ্রিক চোরাচালানের ঘটনায়ও তাজুলের বাহিনী জড়িত। নিজ নামে এলাকায় একটি সন্ত্রাসী বাহিনীও চালান তিনি।</p><p> সাংবাদিক আলিফের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা (খাদিজা আক্তার) এর আগে প্রথম আলোকে বলেছিলেন, তাজুলের চোরাচালান ও অস্ত্রের বিষয়ে তথ্য পেয়ে তা র্যাবকে দিয়েছিলেন আলিফ। বছর চারেক আগে তাজুলকে র্যাব (এখন এসআরবি) গ্রেপ্তার করেছিল।</p><p> দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমদের গত অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহে প্রথম আলোকে বলেছিলেন, তাজুলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের তথ্য পেয়েছিলেন আলিফ। তাঁর (তাজুল) বাড়িঘরের ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশ করেছিলেন। তাজুল মনে করতেন, তাঁর কাছে থাকা অস্ত্রের তথ্যও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দিয়েছেন আলিফ। এ নিয়ে ক্ষোভ থেকে আগেও আলিফের ওপর হামলা হয়েছিল।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/crime/6oq7banhxy">সীমান্তে অপরাধ খুঁজতে গিয়েই সন্ত্রাসীদের নিশানা হন সাংবাদিক আলিফ</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-15/86l3e2zw/WhatsApp-Image-2026-10-15-at-10.11.53-PM.jpeg"><figcaption>গুলিতে সাংবাদিক হত্যার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা। নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার তেলনজিয়া এলাকায়</figcaption></figure><p>গত ১৫ অক্টোবর রাতে দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উত্রাইল বাজারসংলগ্ন তেলনজিয়া এলাকায় গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ। তিনি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি ছিলেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। ওই পেজে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধ ও অনিয়ম নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করতেন তিনি।</p><p>হত্যাকাণ্ডের পরদিন আলিফের স্ত্রী বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় সাত থেকে আটজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।</p><p>গতকাল শনিবার ভোরে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর বাজার এলাকা থেকে ইমরান ও সাব্বিরকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল। এ নিয়ে সাংবাদিক আলিফ হত্যা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হলো। এর আগে ১৮ অক্টোবর সাজিবুল ইসলাম ওরফে অপূর্ব এবং ২০ অক্টোবর আশিকুর রহমান ওরফে প্রাঙ্গণকে গ্রেপ্তার করা হয়।</p><p>নেত্রকোনার পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘মামলার তদন্ত অনেক দূর এগিয়েছে। হত্যাকাণ্ডে আর কারা জড়িত, সে বিষয়ে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। আশা করছি, দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে পারব। এরপর সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে।’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/nur3u4f04s">‘তারা অস্ত্র নিয়ে বসে আছে, আমি গেলে গুলি করবে’—আগেই বলেছিলেন সাংবাদিক আলিফ</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-16/v0jd3az6/NetrokonaDH054820261016Screenshot20261016111150WhatsApp.jpg"><figcaption>সাংবাদিক লুৎফুজ্জামানের নিথর দেহের পাশে কাঁদছেন স্ত্রী । নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় তেলনজিয়া এলাকায়</figcaption></figure><p><strong>ঢাকায় চাকরিতে যোগ দিয়েছেন আলিফের স্ত্রী</strong><br>এদিকে নিহত আলিফের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা (খাদিজা আক্তার) রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে নার্স হিসেবে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল তাঁর চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার তিনি কাজে যোগ দেন। দুই সন্তান ও মাকে নিয়ে ঢাকায় এসেছেন আনন্দিতা।</p><p>গারো সম্প্রদায়ের এই নারীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল আলিফের সঙ্গে। বিয়ের সময় তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। পরে তাঁর নাম হয় খাদিজা আক্তার।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/i0pnmca75m">‘বাচ্চাদের খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দাও, আমার আসতে একটু দেরি হবে’</a></aside><aside><cite>আনন্দিতা সাংমা, নিহত সাংবাদিক আলিফের স্ত্রী </cite>স্বামীকে আর কখনো ফিরে পাব না; কিন্তু যারা তাঁকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করেছে, আমার দুই সন্তানকে এতিম করেছে, আমাকে স্বামীহারা করেছে, তাদের শাস্তি দেখে যেতে চাই। আমি তাদের ফাঁসি চাই।</aside><p>গতকাল শনিবার রাতে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে আনন্দিতা সাংমা বলেন, ‘প্রথম আলোতে খবর প্রকাশের পর অনেকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। একজন নারী আমাকে ফোন করে সহযোগিতার কথা বলেছেন। আমার ব্যাংক হিসাবের নম্বর চেয়েছেন। এরপর আরও অনেকে ফোন করে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। চাকরির ব্যবস্থা হওয়ায় আপাতত অন্য কারও আর্থিক সহযোগিতার প্রয়োজন নেই।’</p><p>আনন্দিতা আরও বলেন, ‘আমি চাই, তাজুল ইসলাম, শুটার শামীমসহ এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেক আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হোক। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। স্বামীকে আর কখনো ফিরে পাব না; কিন্তু যারা তাঁকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করেছে, আমার দুই সন্তানকে এতিম করেছে, আমাকে স্বামীহারা করেছে, তাদের শাস্তি দেখে যেতে চাই। আমি তাদের ফাঁসি চাই।’</p>
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।