প্রতিমা তৈরিতে বিশেষ ধরনের এঁটেল মাটি লাগে। বাঁশ, খড়, শণ, সুতলি, নাড়া, চট, রংসহ নানা উপকরণ প্রয়োজন হয়।
<p>একটি সরকারি চাকরির জন্য কতটা পরিশ্রম করতে হয়, কতটা অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, তা যাঁরা পরীক্ষা দেন তাঁরাই ভালো জানেন। অনেকের জন্য পরীক্ষার প্রস্তুতির পাশাপাশি থাকে দূরের জেলা থেকে ঢাকায় আসার খরচ, আবাসনের ব্যবস্থা এবং সেই সঙ্গে যুক্ত হয় পরিবারের প্রত্যাশা পূরণের চাপ।</p><p>যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে যাওয়া প্রার্থীদেরও এমন প্রস্তুতি ছিল। ১১তম গ্রেডের এই পদে প্রতিটি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন করেছিলেন ১ হাজার ২৬২ জন। মোট শূন্য পদ ২৪২টি। তার মানে বিপুল প্রার্থী আবেদন করেছেন। কিন্তু পরীক্ষার দিন কেন্দ্রে পৌঁছে তাঁরা জানতে পারলেন, পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।</p><p>কারণ, পরীক্ষার আগের রাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র। ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নপত্রের সঙ্গে পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের মিল পাওয়ার পর পরীক্ষা স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ।</p><p>এখানে প্রশ্ন শুধু প্রশ্নপত্র ফাঁসের নয়। যাঁরা মাসের পর মাস প্রস্তুতি নিয়ে, অর্থ খরচ করে পরীক্ষার কেন্দ্রে পৌঁছালেন, তাঁদের এই ভোগান্তির দায় নেবে কে? যাঁরা প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত, তাঁদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার দায়িত্ব যাঁদের, তাঁদের ব্যর্থতার মূল্য কেন চাকরিপ্রার্থীদের দিতে হবে?</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/a5orp6iezs">প্রাথমিকের প্রশ্নপত্র ফাঁস কি বন্ধ হবে না</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/editorial/%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%A8%E0%A6%AA%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0-%E0%A6%AB%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%B8-2">চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস</a></aside><p>প্রতিবছর দেশে আনুমানিক ২০ থেকে ২২ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করেন। তাঁদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের কর্মসংস্থান হয় বিদেশে। বাকিদের কাজের সুযোগ খুঁজতে হয় দেশের শ্রমবাজারে। কাজের সুযোগ ও চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে সরকারি চাকরি অনেক তরুণের কাছে কাঙ্ক্ষিত হয়ে ওঠে।<br>বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, দেশে বেকারের সংখ্যা প্রায় ২৬ লাখ ২৪ হাজার। তবে এই হিসাব দিয়ে কর্মসংস্থানের পুরো চিত্র বোঝা যায় না।</p><p>পরীক্ষা স্থগিতের পর বিষয়টি নিয়ে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের একজন পরিচালকের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি জানান, ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের সঙ্গে পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের মিল পাওয়ায় পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। দূর–দূরান্ত থেকে ঢাকায় এসে কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়া প্রার্থীদের ভোগান্তির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি ‘দুর্ঘটনা’। দুর্ঘটনা ঘটলে সবাইকেই ভুগতে হয়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-10/x9ftqeag/WhatsApp-Image-2026-10-10-at-11.53.31.jpeg"><figcaption>সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে পরীক্ষা বাতিল হওয়ার ঘটনায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে পরীক্ষার্থীরা। বেলা সাড়ে ১১টায় </figcaption></figure><p>প্রশ্ন হলো, এই দুর্ঘটনা কি চাকরিপ্রার্থীরা ঘটিয়েছেন? যাঁরা মাসের পর মাস প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করেছেন, যাঁরা দূর–দূরান্ত থেকে কেন্দ্রে পৌঁছেছেন, তাঁরা কি প্রশ্নপত্র তৈরি করেছেন, ছাপিয়েছেন কিংবা বিতরণ করেছেন? অবশ্যই না। তাহলে অন্যের ব্যর্থতার দায় তাঁদের বহন করতে হবে কেন?</p><p>প্রশ্নপত্র তৈরি, মুদ্রণ, সংরক্ষণ ও বিতরণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যকার কোনো পর্যায় থেকেই যে প্রশ্নপত্র বাইরে এসেছে তা জানার জন্য ‘রকেট সায়েন্টিস্ট’ হওয়া লাগে না। কীভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হলো, তা তদন্ত করে বের করতে হবে। কারও অবহেলা বা যোগসাজশ ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।</p><p>একটি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। সেই নিরাপত্তাব্যবস্থা ব্যর্থ হলে পরীক্ষা স্থগিত করা প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু পরীক্ষা স্থগিতের কারণে যে ভোগান্তি তৈরি হলো, তার দায় কি সবাইকে সমানভাবে নিতে হবে? যাঁরা কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নন, তাঁদের কেন সময়, অর্থ ও শ্রমের ক্ষতি মেনে নিতে হবে?</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/editorial/%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%A8%E0%A6%AA%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0-%E0%A6%AB%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%B8">চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/editorial/%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%A8%E0%A6%AA%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0-%E0%A6%AB%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%B8-2">পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস</a></aside><p>এখানেই ‘দুর্ঘটনা’ শব্দটি যথেষ্ট নয়। দুর্ঘটনা বললেই ঘটনার কারণ ব্যাখ্যা হয়ে যায় না, দায়িত্বও শেষ হয়ে যায় না।</p><p>দেশে সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে এর আগেও বড় ধরনের অভিযোগ ও তদন্তের ঘটনা ঘটেছে। পিএসসির অধীন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগও সামনে এসেছে। এসব ঘটনা থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের শিক্ষা নেওয়ার কথা। প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা, দায়িত্বের প্রতিটি ধাপে নজরদারি এবং অনিয়মের ঝুঁকি কমানোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা।</p><p>তারপরও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় এমন ঘটনা ঘটল কেন? আগের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাগুলোর পর প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল? এবার সেই ব্যবস্থায় কোথায় ঘাটতি ছিল? দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের কারও অবহেলা বা যোগসাজশ ছিল কি না? এসব প্রশ্নের উত্তর অধিদপ্তরকেই দিতে হবে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-10/jizfr5mh/WhatsApp_Image_2026_10_10_at_11_52_52_AM.jpeg"><figcaption>সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার ঘটনায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ অবরোধ করে পরীক্ষার্থীরা। বেলা সাড়ে ১১টা </figcaption></figure><p>প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে পরীক্ষা স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ হয়তো অন্যায্য প্রতিযোগিতা ঠেকিয়েছে। কিন্তু তাতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের উৎস বন্ধ হয়েছে, এমন নিশ্চয়তা নেই। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এই নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার ঘটনায় শুধু নতুন পরীক্ষার তারিখ ঘোষণার অপেক্ষায় থাকলে চলবে না। প্রশ্নপত্র ফাঁসের উৎস খুঁজে বের করতে হবে। নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা চিহ্নিত করতে হবে। তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।</p><p>একটি পরীক্ষা স্থগিত হওয়া কর্তৃপক্ষের জন্য প্রশাসনিক জটিলতা হতে পারে। কিন্তু একজন চাকরিপ্রার্থীর জন্য তা কয়েক মাসের প্রস্তুতি, ধার করা টাকা, দূরের পথ পাড়ি দেওয়া এবং পরিবারের প্রত্যাশা নিয়ে কেন্দ্রে পৌঁছানোর পর হতাশ হয়ে ফিরে যাওয়া। পরীক্ষা আবার নেওয়া সম্ভব, কিন্তু মানুষের হারানো সময় ও অর্থ ফিরিয়ে দেওয়া যায় না।</p><ul><li><p><strong>সৈয়দ রিফাত মোসলেম</strong> প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক</p><p>মতামত লেখকের নিজস্ব</p></li></ul>
<p>কুমিল্লায় বাসায় ফেরার পথে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ উঠেছে অটোরিকশার চালকের বিরুদ্ধে। গ্রেপ্তার হয়েছেন সন্দেহভাজন চালক। বিস্তারিত দেখুন ভিডিও প্রতিবেদনে… </p><figure></figure>
মা ইলিশ রক্ষায় গত বুধবার মধ্যরাত থেকে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞা চলবে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত।
শাহবাগ থানার কর্তব্যরত উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল খালেক প্রথম আলোকে বলেন, শিল্পকলার সামনে থেকে আয়াস নামে একজনকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি মুছে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
ঘটনার পর পাল্টা গুলি ছুড়েছে বিজিবি। পাশাপাশি সীমান্তে বিজিবির টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
উয়েফা নেশনস লিগে পর্তুগাল জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যান ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। সৌদি লিগে আল নাসরের হয়ে গতকাল রাতে মাঠে নেমেছিলেন।
নতুন গণভোটের প্রয়োজনীয়তা নির্ভর করবে কয়েকটি বিষয়ের ওপর—প্রস্তাবিত সাংবিধানিক পরিবর্তনের প্রকৃতি, রাজনৈতিক সমঝোতা এবং জনগণের সরাসরি অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তা। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের মতামত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সেই মতামত গ্রহণের প্রক্রিয়াও হতে হবে সুস্পষ্ট, কার্যকর ও যুক্তিসংগত।
সরকারি ছুটির দিন শনিবার সকাল থেকেই রাজধানীর মেট্রোরেল স্টেশনগুলোয় ছিল বাড়তি ভিড়।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন