বলিউড

ষড়যন্ত্র নাকি অন্য কিছু? সাফল্য পেয়েও বলিউড ছাড়েন কমল হাসান

নভেম্বর ৭, ২০২৬
ষড়যন্ত্র নাকি অন্য কিছু? সাফল্য পেয়েও বলিউড ছাড়েন কমল হাসান
ষড়যন্ত্র নাকি অন্য কিছু? সাফল্য পেয়েও বলিউড ছাড়েন কমল হাসান
চাইলে হিন্দি সিনেমার অন্যতম বড় তারকা হয়ে উঠতে পারতেন। কিন্তু ঠিক সেই সময়েই যেন উল্টো পথে হাঁটলেন কমল হাসান।

Prothomalo

View more
সি চিন পিংয়ের পর চীনের ক্ষমতায় কে বসবেন
সি চিন পিংয়ের পর চীনের ক্ষমতায় কে বসবেন

<p>সি চিন পিং যখন চীনের প্রেসিডেন্ট এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিসিপি) সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মেয়াদের দুইবারের বাধ্যবাধকতা ভেঙে নিজেকে পুনর্বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেন, তখন থেকেই তাঁর উত্তরসূরি কে হতে পারেন—তা নিয়ে তীব্র কৌতূহল তৈরি হয়। </p><p>সি ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন সম্ভাব্য উত্তরসূরিকে ছেঁটে ফেলেছেন, কিন্তু তাঁর বয়সও বাড়ছে। এমনকি তিনি ক্ষমতা নিজের হাতে রাখতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত নিজের পছন্দের কোনো উত্তরসূরি মনোনীত করাকেই সহজ পথ বলে মনে করতে পারেন।</p><p>যদিও এখনো সর্বজনস্বীকৃত কোনো উত্তরসূরির নাম সামনে আসেনি। আগামী বছরের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সিসিপির ২১তম জাতীয় কংগ্রেসের আগে (বা পরেও) এমন কারও উত্থানের সম্ভাবনা কম। তবে পঞ্চম প্লেনামের ঠিক আগে প্রাদেশিক কর্মকর্তাদের যেভাবে ব্যাপক রদবদল করা হচ্ছে, তা কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিতে পারে।</p><p>৪ সেপ্টেম্বর ১৯৭২ সালে জন্মগ্রহণকারী জু জোংমিংকে সাংহাইয়ের ডেপুটি পার্টি সেক্রেটারি থেকে ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়। ফলে তিনি চীনের সর্ববৃহৎ শহরের সরকারের প্রধান হন। একপর্যায়ে অনেক পর্যবেক্ষক এই পদক্ষেপকে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে জু-কে সির সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে গড়ে তোলার একটি পরিকল্পিত বার্তা হিসেবে ধরে নিয়েছিলেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/3xnuxoz3ra">চীন যেভাবে মার্কিন ডলারের আধিপত্য ভাঙতে যাচ্ছে </a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/rm1eb1nqev">চীন কেন বিপুল পরিমাণে সোনা কিনছে? কাহিনি কী</a></aside><p>কিন্তু বিষয়টি এত সরল নয়। এর পর থেকেই প্রাদেশিক পদগুলোতে রদবদলের গতি আরও দ্রুত হয়েছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর আনহুই, হেনান এবং ফুচিয়েন—তিনটি প্রদেশেই নতুন পার্টি সেক্রেটারি নিয়োগ দেওয়া হয়। ১৯৬৫ সালে জন্মগ্রহণকারী লি লেচেং এবং চৌ জুয়ি যথাক্রমে আনহুই ও হেনানের দায়িত্ব নেন।</p><p>অন্যদিকে, ১৯৬৭ সালে জন্মগ্রহণকারী চাও লং ফুচিয়েনের গভর্নর থেকে পদোন্নতি পেয়ে প্রাদেশিক পার্টি সেক্রেটারি হন। (চীনের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় গভর্নরের চেয়ে পার্টি সেক্রেটারির ভূমিকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।)</p><p>এরপর, গত ২৬ অক্টোবর পঞ্চম প্লেনাম শুরু হওয়ার মাত্র দুদিন আগে অর্থাৎ ২৪ অক্টোবর, রদবদলের গতি আরও বাড়ে। ১৯৬৫ সালে জন্মগ্রহণকারী ওয়াং চিজুন হুনানের এবং ১৯৬৪ সালে জন্মগ্রহণকারী মো গাওয়ি ইউনানের পার্টি সেক্রেটারি হন। </p><p>একই সময়ে তুলনামূলক তরুণ কর্মকর্তারা গভর্নরের পদের জন্য এগিয়ে আসেন: ফুচিয়েনে ১৯৭০ সালে জন্মগ্রহণকারী গো নিংনিং, ছিংহাইয়ে ১৯৭১ সালে জন্মগ্রহণকারী জুগে ইউজিয়ে এবং হুনানে ১৯৭৩ সালে জন্মগ্রহণকারী সিয়ে ওয়েইচিয়াং গভর্নর হন।</p><blockquote>উত্তরসূরিকে রাজনৈতিকভাবে নির্ভরযোগ্য হতে হবে, কিন্তু এই নির্ভরযোগ্যতা মানে কেবল সির ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠ হওয়া নয়। সিকে বিশ্বাস করতে হবে যে এই ব্যক্তি ক্ষমতায় আসার পর তাঁর রাজনৈতিক নীতি বা অবদানকে অস্বীকার করবেন না।</blockquote><p>এটি স্পষ্টত একটি প্রজন্মগত পরিবর্তনকে নির্দেশ করে। প্রাদেশিক পার্টি সেক্রেটারির পদগুলোতে ধীরে ধীরে ১৯৬৪ থেকে ১৯৬৯ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণকারী কর্মকর্তারা জায়গা করে নিচ্ছেন, আর ১৯৭০-এর দশকে জন্মগ্রহণকারীদের জন্য খুলে যাচ্ছে গভর্নরের পদ।</p><p>ইতিমধ্যে যারা পূর্ণ প্রাদেশিক বা মন্ত্রী পদমর্যাদায় পৌঁছেছেন, তাঁদের দিকে তাকালে এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। চচিয়াংয়ের গভর্নর লিউ চিয়ে, চিয়াংসুর গভর্নর লিউ সিয়াওথাও এবং কুয়াংশির চেয়ারম্যান ওয়েই তাও—তাঁরা সবাই ১৯৭০ সালে জন্মগ্রহণ করেছেন। শানসির গভর্নর লু দোংলিয়াং জন্ম নিয়েছেন ১৯৭৩ সালে। </p><p>জু, গো, জুগে এবং সিয়ে এখন এই সারিতে যুক্ত হয়েছেন। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী চাং চেংজোং; চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পদ নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যান চেং ফু বো এবং কমিউনিস্ট ইউথ লিগের প্রথম সম্পাদক আ দোং—তাঁরা সবাই ১৯৭০ সালে জন্মগ্রহণ করেছেন।</p><p>কয়েক বছর আগেও ১৯৭০-এর দশকে জন্মগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের ‘তরুণ ক্যাডার’ হিসেবে চিহ্নিত করা হতো। আর এখন তাঁরা দলবদ্ধভাবে শীর্ষ আমলাতন্ত্রের মূল কেন্দ্রে প্রবেশ করতে শুরু করেছেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2022-10/72909ca5-ee74-4fbf-aa20-271d27538902/Chinese_Communist_Party.jpg"><figcaption>চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কংগ্রেসে ভোট হলেও প্রক্রিয়াটিকে একটি আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখা হয়</figcaption></figure><p>এভাবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি দল তৈরি হচ্ছে ঠিকই, তবে আসল প্রশ্ন হলো—সি চিন পিং কেমন ব্যক্তিকে তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে দেখতে চান? </p><p>সাধারণভাবে কর্মকর্তাদের মূল্যায়নে সির মানদণ্ড সর্বজনবিদিত: রাজনৈতিক যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে; ক্যাডারদের অবশ্যই অনুগত, সৎ এবং দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়ার মানসিকতাসম্পন্ন হতে হবে; পাশাপাশি তাঁদের পেশাগত দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের সামর্থ্য এবং বড় ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলার ক্ষমতা থাকতে হবে। তবে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হয়, যা সাধারণ জ্যেষ্ঠ পদায়নের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।</p><p>সির উত্তরসূরি নির্বাচনের আলোচনা প্রায়ই দুটি চরমপন্থায় গিয়ে ঠেকে। একদলের মতে, সি কেবল অন্ধ আনুগত্যকেই গুরুত্ব দেন। অন্যদলের মতে, তিনি সবচেয়ে দক্ষ এবং সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রার্থীকেই বেছে নেবেন।</p><p>বাস্তবে দুটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ। তবে একজন নেতা যিনি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে শাসন করেছেন এবং একটি পুরো যুগের সঙ্গে নিজের নাম, তত্ত্ব ও রাজনৈতিক ভাবধারাকে গভীরভাবে গেঁথে দিয়েছেন, তাঁর জন্য প্রথম মানদণ্ড হলো নিজের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার রক্ষা করা।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/5lbvkyywc6">চীন যেভাবে বিশ্বের সোনার পরাশক্তিতে পরিণত হলো</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/74kh3skw9t">চীন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কি আবার ভুল করতে যাচ্ছে</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/p4z9v3498z">চীন যেভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরিয়ে দিতে চায়</a></aside><p>উত্তরসূরিকে রাজনৈতিকভাবে নির্ভরযোগ্য হতে হবে, কিন্তু এই নির্ভরযোগ্যতা মানে কেবল সির ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠ হওয়া নয়। সিকে বিশ্বাস করতে হবে যে এই ব্যক্তি ক্ষমতায় আসার পর তাঁর রাজনৈতিক নীতি বা অবদানকে অস্বীকার করবেন না।</p><p>তিনি জোসেফ স্টালিনের মৃত্যুর পর নিকিতা ক্রুশ্চেভের মতো হতে পারবেন না, যিনি জীবদ্দশায় পূর্বসূরির তোষামোদি করেছিলেন কিন্তু মৃত্যুর পর তাঁর তীব্র নিন্দা করেছিলেন। আবার তিনি মাও সে–তুংয়ের পর ডেং সিয়াওপিংয়ের মতোও হতে পারবেন না, যিনি পূর্বসূরির মর্যাদা রক্ষা করলেও ক্ষমতার কাঠামো ও রাজনৈতিক আদর্শকে মৌলিকভাবে বদলে দিয়েছিলেন।</p><p>দ্বিতীয় মানদণ্ড হলো রাজনৈতিক পূর্বাভাসযোগ্যতা বা আচরণগত নিশ্চয়তা।</p><p>আজকে যে কর্মকর্তা সির প্রতি সম্পূর্ণ অনুগত, সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর তিনি একই আচরণ নাও করতে পারেন। চরম ক্ষমতা মানুষের রাজনৈতিক আচরণ বদলে দেয়—সি নিজে এটি অনেকের চেয়ে ভালো বোঝেন। একজন নির্ধারিত উত্তরসূরি হিসেবে তিনি সবার সঙ্গে নম্র ও সহযোগিতাপূর্ণ ছিলেন। কিন্তু ক্ষমতা হাতে পাওয়ার পরই তিনি দ্রুত নিজের কেন্দ্রিক একটি রাজনৈতিক অবকাঠামো গড়ে তোলেন।</p><blockquote>কয়েক বছর ধরে আমার পর্যবেক্ষণ হলো, সি সম্ভবত আরও দুই মেয়াদের জন্য অর্থাৎ ২০২৭ থেকে ২০৩৭ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবেন। এই হিসাব সঠিক হলে, এখনই নির্দিষ্ট কোনো উত্তরসূরি বেছে নেওয়ার কোনো প্রয়োজন তাঁর নেই। </blockquote><p>সি হয়তো দুটিই চান: এমন এক উত্তরসূরি যিনি ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট শক্তিশালী হবেন, আবার রাজনৈতিকভাবে তাঁর কাছে শতভাগ পূর্বাভাসযোগ্যও থাকবেন।</p><p>তৃতীয় মানদণ্ড হলো দেশ শাসনের সক্ষমতা।</p><p>২০৩০-এর দশকে চীনের নেতৃত্ব দেওয়া মানে কেবল জিডিপির প্রবৃদ্ধি সামলানো নয়। নতুন নেতাকে জটিল অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকট, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি প্রযুক্তিগত ও ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে সামরিক ও নিরাপত্তাঝুঁকি এবং ১০ কোটিরও বেশি সিসিবি সদস্য, বিশাল আমলাতন্ত্র, জটিল স্থানীয় স্বার্থ ও বৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ত অর্থনীতিসমৃদ্ধ একটি বিশাল দল-রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে।</p><p>এমন কেউ যিনি অনুগত কিন্তু অদক্ষ, তিনি শেষ পর্যন্ত সির রাজনৈতিক উত্তরাধিকার রক্ষা করতে ব্যর্থ হতে পারেন। আবার খুব বেশি শক্তিশালী ও স্বাধীনচেতা কেউ সির প্রভাব থেকে বেরিয়ে নিজের একটি রাজনৈতিক যুগ তৈরি করতে পারেন। ফলে সম্ভাব্য উত্তরসূরিকে অত্যন্ত সংকীর্ণ পথ ধরে হাঁটতে হবে।</p><p>এর জন্য প্রয়োজন সংবেদনশীল ও চ্যালেঞ্জিং পদে কাজের পূর্ব অভিজ্ঞতা। সি যদি সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের পরখ করার সময় পান, তবে তিনি সবচেয়ে সম্ভাবনাময় প্রার্থীদের বিভিন্ন কঠিন পদে দায়িত্ব দেবেন—এটাই স্বাভাবিক।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-07/fe0dc57b/2KU4KXQFTZKNHNHIOAOU4HNAIY.avif"><figcaption>চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং </figcaption></figure><p>এই কারণেই বেইজিং, সাংহাই, গুয়াংডং, চিয়াংসু এবং চচিয়াং এত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি অর্থনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু, কয়েকটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, আবার কয়েকটি দুটোই। এই প্রদেশগুলো পরিচালনা করা একটি বড় পরীক্ষা, বিশেষ করে সংকটের মুহূর্তে কর্মক্ষমতা প্রমাণের পরীক্ষা।</p><p>কারণ রুটিন কাজকর্ম পরিচালনার চেয়ে অর্থনৈতিক মন্দা, বড় কোনো দুর্ঘটনা, সামাজিক অসন্তোষ বা কোনো বিদেশি শক্তির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘাতের সময় একজন কর্মকর্তা কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেন—সেটাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।</p><p>প্রার্থীদের এই তালিকাকে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে আরেকটি প্রশ্ন যুক্ত হয়: সি চিন পিং কখন পদত্যাগ করতে চান?</p><p>কয়েক বছর ধরে আমার পর্যবেক্ষণ হলো, সি সম্ভবত আরও দুই মেয়াদের জন্য অর্থাৎ ২০২৭ থেকে ২০৩৭ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবেন। এই হিসাব সঠিক হলে, এখনই নির্দিষ্ট কোনো উত্তরসূরি বেছে নেওয়ার কোনো প্রয়োজন তাঁর নেই।</p><p>খুব আগেই উত্তরাধিকারীর নাম ঘোষণা করলে কোনো বিশেষ সুবিধা তো মিলবেই না, বরং সির বাইরে ক্ষমতার আরেকটি দ্বিতীয় কেন্দ্র তৈরি হতে পারে। কর্মকর্তারা স্বাভাবিকভাবেই সেই ব্যক্তির দিকে ঝুঁকতে শুরু করবেন। উত্তরাধিকারীর প্রভাব তাঁর আনুষ্ঠানিক পদকে ছাড়িয়ে যাবে।  </p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/19dxc7d953">মার্কিন নৌবাহিনী চরম বিপর্যয়ে, চীন যেভাবে টেক্কা দিচ্ছে</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/lfx1jd9vai">চীন হঠাৎ কেন উত্তর কোরিয়া নিয়ে এমন উদ্বিগ্ন</a></aside><p>তাই এই পর্যায়ে সি চিন পিং কোনো একজনকে বেছে না নিয়ে বরং সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের খসড়া তালিকা তৈরি করার সম্ভাবনাই বেশি। অন্যান্য যোগ্যতা ঠিক থাকলে, ১৯৬৭ থেকে ১৯৭৫ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের এই তালিকায় থাকার সম্ভাবনা বেশি। </p><p>সি যদি ২০৩৭ সালের দিকে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন, তবে তাঁদের বয়স হবে ৬৫ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। এটা শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য একটি যুক্তিযুক্ত বয়সসীমা, যদিও তা সি বা তাঁর পূর্বসূরি হু জিনতাওয়ের ক্ষমতা গ্রহণের সময়ের চেয়ে কিছুটা বেশি। তবে এটি সির জন্য সুবিধাজনকও হতে পারে; কারণ একজন প্রবীণ নেতার পক্ষে সির নিজস্ব উত্তরাধিকার থেকে বিচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকবে।</p><p>আমার ধারণা, ২১তম সেন্ট্রাল কমিটির বয়সের মূল কেন্দ্রবিন্দু ১৯৬৪ থেকে ১৯৭৪ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণকারীদের দিকে ঝুঁকে পড়বে স্পষ্টভাবেই। সি এবং হাতে গোনা কয়েকজন শীর্ষ নেতা ছাড়া ১৯৫০-এর দশকে জন্মগ্রহণকারী কর্মকর্তারা সেন্ট্রাল কমিটি থেকে অনেকটাই অদৃশ্য হয়ে যাবেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-07/2aczn9pa/M23DO254IRJMBMTD3B6C465AGU.jpg"><figcaption>চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠাতে দাঁড়িয়ে আছেন চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং </figcaption></figure><p>১৯৬০-এর দশকের শেষের দিকে জন্মগ্রহণকারীরা পূর্ণ সদস্যপদের মূল ভিত্তি হবেন, আর ১৯৭০-এর দশকে জন্মগ্রহণকারীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।</p><p>১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণকারী চাও, বেইজিংয়ের মেয়র ইন ইয়ং এবং শানসির গভর্নর চাও গাংয়ের মতো ব্যক্তিত্বরা যদি বড় সংখ্যায় প্রবেশ করতে শুরু করেন, তবে তাঁরা স্বাভাবিকভাবেই ২০৩০-এর দশকের শীর্ষ পর্যায়ের প্রার্থী তালিকার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠবেন।</p><p>আর জু, লু, লিউ চিয়ে বা লিউ সিয়াওথাওয়ের মতো ১৯৭০-পরবর্তী কর্মকর্তারা যদি ২১তম পার্টি কংগ্রেসেই পলিটব্যুরোতে প্রবেশ করেন, তবে বার্তাটি আরও শক্তিশালী হবে।</p><p>তবে শেষ পর্যন্ত যা–ই ঘটুক না কেন, আমি মনে করি না যে ২১তম পার্টি কংগ্রেস বাইরের বিশ্বকে স্পষ্ট করে দেবে যে সি চিন পিংয়ের উত্তরসূরি কে হতে যাচ্ছেন। এটি বড়জোর আমাদের জানাতে পারে যে দৌড়ের শেষ ধাপে কারা টিকে আছেন।</p><ul><li><p><strong>দেং ইউওয়েন</strong> চীনা লেখক।</p><p><em>ফরেন পলিসি</em> থেকে সংক্ষেপে অনূদিত।</p></li></ul>

নভেম্বর ৭, ২০২৬
ঢোলের তালে লাঠিখেলা, শত বছর পরও জমজমাট এই মেলা
ঢোলের তালে লাঠিখেলা, শত বছর পরও জমজমাট এই মেলা

মাগুরার ডুমুরশিয়ায় ১০৬তম লাঠিখেলার মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একটি পরিবারের উদ্যোগে শুরু হওয়া এই আয়োজন এখন এলাকার মানুষের প্রাণের উৎসব।

নভেম্বর ৭, ২০২৬
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রায়গঞ্জে পত্রিকা বিক্রেতাদের মিষ্টিমুখ করাল বন্ধুসভা
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রায়গঞ্জে পত্রিকা বিক্রেতাদের মিষ্টিমুখ করাল বন্ধুসভা

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার পত্রিকা বিক্রেতাদের মিষ্টিমুখ করানো হয়েছে। প্রথম আলো রায়গঞ্জ বন্ধুসভা এ আয়োজন করে। ৫ নভেম্বর সকালে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে উপজেলার চান্দাইকোনা বাজারের পত্রিকা স্ট্যান্ডে গিয়ে বন্ধুসভার সদস্যরা তাঁদের মিষ্টিমুখ করান।

নভেম্বর ৭, ২০২৬
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে দুই নেতার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে দুই নেতার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

<p>জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেখুন ভিডিওতে...</p><figure></figure>

নভেম্বর ৭, ২০২৬
রান্নাঘরে বানর
রান্নাঘরে বানর

দুপুরে খাওয়ার পর আপু আর আমি টিভি দেখছিলাম। আম্মু তখন ঘুমাচ্ছিল আর বাবা ছিল অফিসে। একসময় আমি টয়লেটে গেলাম, হঠাৎ জানালার দিকে চোখ পড়তেই দেখি, কিসের যেন ছায়া

নভেম্বর ৭, ২০২৬
প্রায় দুই লাখ টাকার শাড়ি পরে মিস ইউনিভার্সে অংশ নিতে গেলেন ভারতের কাজিয়া
প্রায় দুই লাখ টাকার শাড়ি পরে মিস ইউনিভার্সে অংশ নিতে গেলেন ভারতের কাজিয়া

<p>মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতার ৭৫তম আসরে অংশ নিতে পুয়ের্তো রিকোর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীরা। কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হবে তাঁদের আনুষ্ঠানিকতা ও নানা কার্যক্রম। ২৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালে। এবার ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন কেরালার মডেল <strong>কাজিয়া লিজ মেজো</strong></p><p>৫ নভেম্বর নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন কাজিয়া লিজ মেজো। ছবিতে দেখা গেছে, ভারতের জাতীয় পতাকা হাতে (একদল সদস্যদের সঙ্গে) পুয়ের্তো রিকোর উদ্দেশে যাত্রা করছেন কাজিয়া। তবে তাঁর সাজের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে মেরুন রঙের একটি শাড়ি। </p><h3>১ লাখ ৪২ হাজার রুপির শাড়িতে কাজিয়া</h3><p>বিমানবন্দরে যাওয়ার সময়ের সাজের ছবি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শেয়ার করেছেন কাজিয়া। মেরুন রঙের শাড়িটির নকশা করেছেন সামান্থা চৌহান। অর্গানজা ও র-সিল্ক কাপড়ের মিশ্রণে তৈরি শাড়িটিতে আছে সোনালি জরির সূক্ষ্ম কারুকাজ। </p><p>ডিজাইনারের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে শাড়িটির দাম ১ লাখ ৪২ হাজার ভারতীয় রুপি। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর দাম প্রায় ১ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-07/zhox29mh/A_queen_carries_more_than_a_crown__she_carries_the_dreams_and_hopes_of_a_nation_____Draped_in___2_.jpg"><figcaption>এয়ারপোর্ট লুকের এই ছবি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শেয়ার করেছেন কাজিয়া</figcaption></figure><p>শাড়িটির মূল কাপড়ে আছে অনুজ্জ্বল বা ম্যাট ফিনিশ। পাড়ে সূক্ষ্ম কারুকাজের পাশাপাশি আঁচলজুড়ে আছে ঘন এমব্রয়ডারির কাজ। সব মিলিয়ে শাড়িটিতে ঐতিহ্যবাহী নকশার সঙ্গে আভিজাত্যের ছাপও স্পষ্ট। </p><p>শাড়ির সঙ্গে পাথর বসানো নেকলেস ও মিলিয়ে কানের দুল পরেছিলেন কাজিয়া। হাতে ছিল একাধিক চুড়ি। চুলের স্বাভাবিক কোঁকড়া ভাব বজায় রেখে খোলা রেখেছিলেন। মাথায় ছিল মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়ার মুকুট। </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-07/m4obblpw/A_queen_carries_more_than_a_crown__she_carries_the_dreams_and_hopes_of_a_nation_____Draped_in_.jpg"><figcaption>কাজিয়ার শাড়িটির নকশা করেছেন ডিজাইনার সামান্থা চৌহান</figcaption></figure><p>কাজিয়ার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে শেয়ার করা এক পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়েছে, ঐতিহ্যবাহী সাজে ও গৌরবের মুকুট মাথায় নিয়ে মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া ২০২৬ কাজিয়া লিজ মেজো ভারতের প্রতিনিধিত্ব করতে পুয়ের্তো রিকোর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন। </p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/fashion/yst3qtz6b1">ফাইনালে আশা জাগিয়ে কোন রাউন্ডে বাদ পড়লেন মিথিলা</a></aside><h3>কে এই কাজিয়া লিজ মেজো</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-07/h8vkmysd/Devil_in_disguise__Dress____lethangdesign_03_Photo____tutim_pic_Makeup_____duonghoaiphuc_Hair____1_.jpg"><figcaption>আইন বিষয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি মডেলিং করছেন কাজিয়া</figcaption></figure><p>কাজিয়া লিজ মেজোর বাড়ি ভারতের কেরালায়। ২০০৭ সালে জন্ম নেওয়া এই মডেলের শৈশব কেটেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে। পড়াশোনা করেছেন এমিরেটস ন্যাশনাল স্কুল, সেন্ট জোসেফস স্কুল ও আবুধাবি ইন্ডিয়ান স্কুলে। বর্তমানে আইন বিষয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি মডেলিং করছেন তিনি।</p><p>শাস্ত্রীয় নৃত্যে ১২ বছরের প্রশিক্ষণ আছে কাজিয়ার। গান গাওয়ার পাশাপাশি বেহালা ও ড্রামসও বাজাতে পারেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-07/jn5wzvl3/Golden_hour__golden_dreams__and_a_queen_who_makes_the_world_stand_still____Gown____gem_bridal_M.jpg"><figcaption>মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী রাজ্যভিত্তিক শিরোপাজয়ী কাজিয়া</figcaption></figure><p>এটাই তাঁর প্রথম আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা নয়। মাত্র ১৭ বছর বয়সে ২০২৪ সালে ‘মিস টিন ডিভা’ খেতাব জেতেন কাজিয়া। পরের বছর ‘মিস টিন ইন্টারন্যাশনাল’ প্রতিযোগিতায় ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে প্রথম রানারআপ হন। চলতি বছরের শুরুতে জেতেন ‘মিস ইউনিভার্স কেরালা ২০২৬’ খেতাব। এর মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতাটির ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী রাজ্যভিত্তিক শিরোপাজয়ী হন তিনি।</p><p>এবার মিস ইউনিভার্সের আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন কাজিয়া। আগের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবারও নতুন কোনো অর্জন তাঁর ঝুলিতে যোগ হয় কি না, সেটিই দেখার বিষয়।</p><p><sup>সূত্র: এনডিটিভি</sup></p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/style/pcihmp297i">এবারের মিস ইউনিভার্সে কী হয়েছিল মেক্সিকান সুন্দরী ফাতিমা বশের সঙ্গে?</a></aside>

নভেম্বর ৭, ২০২৬
শুনতে চাইলে প্রকৃতির গল্পও শোনা যায়
শুনতে চাইলে প্রকৃতির গল্পও শোনা যায়

প্রকৃতির প্রতিটি বদলের পেছনে একটা গল্প থাকে, আর সেই গল্পে জড়িয়ে থাকে মানুষও। পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে সেই গল্প খুঁজছেন বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ ড. রেজা খান।

নভেম্বর ৭, ২০২৬
৮০ কোটি টাকায় বাংলা প্রযুক্তি, ব্যবহার সামান্য
৮০ কোটি টাকায় বাংলা প্রযুক্তি, ব্যবহার সামান্য

বাংলা প্রযুক্তি উন্নয়নে ১৫৮ কোটি টাকার প্রকল্পের মেয়াদ বাড়লেও টুলগুলোর কার্যকারিতা ও ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

নভেম্বর ৭, ২০২৬
দুবার নোবেলজয়ী বিরল বিজ্ঞানী তিনি, কেন তাঁকে সিসার তৈরি বদ্ধ কফিনে সমাহিত করা হলো
দুবার নোবেলজয়ী বিরল বিজ্ঞানী তিনি, কেন তাঁকে সিসার তৈরি বদ্ধ কফিনে সমাহিত করা হলো

মানব ইতিহাসে বিজ্ঞান গবেষণার এক উজ্জ্বলতম নক্ষত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয় মেরি কুরিকে। আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিপ্লব এসেছে তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে।

নভেম্বর ৭, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”

পোশাকের ট্যাবু ভেঙে ‘সংস্কৃতির সমতার’ বার্তায় যবিপ্রবিতে ‘লুঙ্গি প্যারেড’

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।