<p>কক্সবাজারে হোটেলে আগুন, রক্ষা পেলেন ৩০০ পর্যটক। পাবনায় ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শিক্ষক আটক, মাদ্রাসায় আগুন। এছাড়াও দিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর শুনুন অডিও সংবাদে</p><figure></figure>
এর আগে কুয়েতের আল-কাদসিয়া ক্লাবের কাছে ৩-০ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল ফর্টিস। দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের এফসি গোয়ার কাছে হারে ২-১ ব্যবধানে।
<p>চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষের পর একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন লেগেছে। আজ শুক্রবার রাত পৌনে আটটার দিকে উপজেলার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের জাফর আহমদ ডিগ্রি কলেজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। তাঁদের সবাই অটোরিকশার যাত্রী। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত ব্যক্তিদের পরিচয় জানা যায়নি।</p><p>পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চট্টগ্রামমুখী একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা অটোরিকশাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এর পরপরই বাসটিতে আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই আনুমানিক ২৭ বছর বয়সী এক তরুণ নিহত হন। আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে নেওয়ার পর দুই বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়। আহত অন্য পাঁচজনকে উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।</p><p>দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ লোকজন মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ সময় রাত আটটা থেকে সাড়ে নয়টা পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাতকানিয়া থানা-পুলিশের একটি টহল গাড়ি ঘটনাস্থলে গেলে উত্তেজিত লোকজন গাড়িটি ভাঙচুর করেন। এতে এক পুলিশ সদস্য আহত হন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-23/7g227mcr/WhatsApp-Image-2026-10-23-at-10.44.31-PM.jpeg"><figcaption>দুর্ঘটনায় দুমড়েমুচড়ে যাওয়া অটোরিকশা</figcaption></figure><p>পরে রাত সাড়ে নয়টার দিকে সাতকানিয়া থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরোধকারীদের সরিয়ে দেয়। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।</p><p>দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল আবছার প্রথম আলোকে বলেন, বাসটিতে কী কারণে আগুন লেগেছে, তা জানা যায়নি। সাতকানিয়া ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।</p>
<p>দেশে জ্বালানি তেল ও এলপিজি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষ কষ্টে আছে বলে উল্লেখ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘এখন একজন মানুষ বাজারে গেলে একটা বা দুইটা আইটেমের বেশি সবজি কিনতে পারে না। একটা মধ্যবিত্ত পরিবার মাসে যে ডিম খেত, তা অর্ধেকের বেশি তাদের নামিয়ে আনতে হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য মধ্যবিত্তেরও ক্রয়ক্ষমতার ঊর্ধ্বে চলে গিয়েছে।’</p><p>বাজেটের পর কোনো কিছুর দাম বাড়েনি, বাড়বে না—সংসদের বাজেট অধিবেশনে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের এই বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, ‘মহান জাতীয় সংসদে সংসদে দাঁড়িয়ে তাঁরা এ ধরনের মিথ্যা ও প্রতারণামূলক কথা জনগণকে বলেছেন।’</p><p>আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এনসিপির প্রচারপত্র বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নাহিদ ইসলাম এ কথা বলেন। আইনশৃঙ্খলার অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের প্রতিবাদে ৩০ অক্টোবর এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার উদ্যোগে শাহবাগে অনুষ্ঠেয় গণবিক্ষোভ কর্মসূচির প্রচারের জন্য সপ্তাহজুড়ে প্রচারপত্র বিতরণ করবে দলটি।</p><p>প্রচারপত্র বিতরণ কর্মসূচি কারওয়ান বাজারে শুরু করার কারণ সম্পর্কে নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘কারওয়ান বাজার ঢাকার কাঁচাবাজার, সবজি—সবকিছুর একটা কেন্দ্র। এখানে আমরা চাঁদাবাজি, দখলদারির কথা শুনি। সে জন্য আমরা কারওয়ান বাজার থেকে শুরু করছি। বাংলাদেশের যেসব জায়গায় চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস, দখলদার, সিন্ডিকেটবাজরা আধিপত্য বিস্তার করে জনগণের দুর্ভোগ তৈরি করছে, তার বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং এসব সন্ত্রাস-দখলদার বাহিনীকে প্রতিহত করতে হবে।’</p><p>দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি খুব খারাপ বলে মন্তব্য করেন নাহিদ। তিনি বলেন, দেশে একদিকে সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের ঠেকানো যাচ্ছে না, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ, বিরোধী দল ও সাংবাদিকদের ওপর দমন-পীড়ন চলছে। দেশে এখন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই, যদি গণমাধ্যম বস্তুনিষ্ঠ তথ্য পরিবেশন করতে চায়। দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে জনগণ অসহায় বোধ করছে।</p><p>বর্তমান সরকারকে ‘গণবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, এই সরকারকে অগণতান্ত্রিক সরকারও বলা যায়, যেহেতু তারা সংস্কার বাস্তবায়ন করেনি। গণবিরোধী ও গণতন্ত্রবিরোধী সরকারের বিরুদ্ধে সর্বাত্মকভাবে প্রতিরোধ ছাড়া জনগণের অধিকার আদায় হবে না। ঢাকা মহানগরের মানুষ চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও দখলদারদের কারণে নিরুপায় হয়ে পড়েছে।</p><p>সার্বিকভাবে ব্যর্থতার কারণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেন নাহিদ ইসলাম।</p><p><strong>‘উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে’</strong></p><p>বর্তমান বিরোধী দল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে এক হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই বক্তব্য নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাব দেন নাহিদ। তিনি বলেন, ‘সরকারপ্রধানের জায়গা থেকে যে বক্তব্যটা এসেছে, তা একেবারে অনাকাঙ্ক্ষিত। একটা কথা আছে উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানো। নির্বাচনের আগে সুস্পষ্টভাবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংককে কাছে টানার জন্য তারা হেন কাজ নেই, যা করেনি। এখনো তারা আওয়ামী লীগ ও ভারতের সঙ্গে একধরনের সমঝোতা করে দেশ চালাচ্ছে। গঙ্গা চুক্তি নবায়ন নিয়ে কী হবে, সেটা তারা এখনো বলতে পারছে না।’</p><p>এবারের দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ার বিন্দুমাত্র কৃতিত্বও সরকারের নয় বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর ভাষ্য, ‘সরকার দেশের মানুষের কোনো ধরনের নিরাপত্তাই দিতে পারেনি, পারছে না। বরং সাধারণ মানুষ, বিভিন্ন বিরোধী দল, আমাদের মাদ্রাসার ছাত্ররা রাজনৈতিক-সামাজিকভাবে এই পূজায় সহযোগিতা করেছে এবং হিন্দু ভাইবোনেরাও সাদরে এই সহযোগিতা নিয়েছেন।’</p><p>অনুষ্ঠানে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন জানান, ৩০ অক্টোবর বেলা তিনটায় শাহবাগে এনসিপির গণবিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। সবাইকে সেই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।</p><p>এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। তাঁদের দুজনের নাম উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঢাকা শহরের মানুষকে চাঁদাবাজ, দখলদার ও সন্ত্রাসীদের হাত থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য আমাদের দুই কান্ডারি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও আসিফ মাহমুদের নেতৃত্বে ঢাকা শহরে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, দখলদার ও মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযান ও গণবিক্ষোভ চলমান থাকবে।’</p><p>বক্তব্য পর্ব শেষে কারওয়ান বাজারে ঘুরে ঘুরে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হাতে প্রচারপত্র তুলে দেন নাহিদসহ এনসিপির নেতারা।</p>
<p>বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, ভাঙ্গা-কুয়াকাটা মহাসড়ক প্রকল্পটি ৩ নভেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উঠবে। এটা পাস হয়ে গেলে সর্বোচ্চ ২-৩ বছরের মধ্যে সড়ক উন্নয়নের কাজ শেষ হওয়ার কথা। এ সড়কের কাজ বাস্তবায়ন হলে কুয়াকাটার জন্য বিরাট সম্ভাবনা তৈরি হবে।</p><p>আজ শুক্রবার দুপুরে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী ‘পর্যটন কার্নিভ্যাল’-এ যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে পর্যটনমন্ত্রী এ কথা বলেন। আজ এই কার্নিভ্যাল শুরু হয়।</p><p>রশিদুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের সরকার আসার পর বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিকেরা আমাদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। এর কারণ হলো তাঁরা এ দেশে কিছু করতে চান। আপনারা জেনে খুশি হবেন, বিনিয়োগ করার জন্য চার-পাঁচটা জায়গার নাম সবার আগে আসে। এর মধ্যে একটা হলো কক্সবাজার, এরপর হলো কুয়াকাটা, সুন্দরবন, সিলেট ও সাজেক। এ রকম পাঁচ-ছয়টা জায়গা নিয়ে তাঁরা (বিনিয়োগকারীরা) খুব আগ্রহী।’</p><p>পর্যটনমন্ত্রী বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের আমরা সব সময় উদ্বুদ্ধ করতে চাই। বিনিয়োগকারীদের আমরা সব ধরনের সহায়তা করতে চাই। কক্সবাজারের পর কুয়াকাটা হচ্ছে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র। কুয়াকাটার উন্নয়নে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’</p><p>মতবিনিময় সভায় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, বর্তমান সরকার সব কর্মকাণ্ড মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে গ্রহণ করেছে। এতে প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতা কমবে। কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক পরিকল্পনাবিদ দিয়ে পরিকল্পনা করে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।</p><p>বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা জেসমিন, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ, বরিশাল জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান, পটুয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসক স্নেহাংশু সরকার কুট্রি প্রমুখ। এ সময় পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক চৌধুরী আশরাফুল করিম, পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবু ইউসুফসহ বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলার বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।</p>
<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-23/q8kybnep/Screenshot__441_.png"></figure><p>নেত্রকোনায় গত ১১ বছরে আলোচিত ১১ জনের হত্যাকাণ্ডের রহস্য এখনো পুরোপুরি উদ্ঘাটন হয়নি। এর মধ্যে চলতি বছরেই ঘটেছে চারটি হত্যাকাণ্ড। বাকিগুলো ২০১৫ সাল থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে। এসব ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কোনোটির অভিযোগপত্র জমা পড়েনি। রহস্য উদ্ঘাটন না করেই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে দুটি মামলায়। </p><p>নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন এক দম্পতি, অবসরপ্রাপ্ত কলেজশিক্ষক, ব্যবসায়ী, শিশু ও ইজিবাইকচালক। সবশেষ এই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন একজন সাংবাদিক। এসব হত্যা মামলার তেমন কোনো অগ্রগতি নেই, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তও করা যায়নি। এতে স্বজনদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা।</p><p>এ বিষয়ে প্রথম আলোকে নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাগুলো তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ কাজ করছে। আশা করা যাচ্ছে, মামলাগুলোর রহস্য উদ্ঘাটন করে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।</p><p>১১ বছরের মধ্যে সবচেয়ে পুরোনো হত্যা মামলাটি ২০১৫ সালের। ওই বছরের ২৩ অক্টোবর দুর্গাপুর পৌর শহরের ব্যবসায়ী অরুণ কুমার সাহা (৭৪) ও তাঁর স্ত্রী হেনা রানী সাহাকে (৬৫) নিজেদের বাসার শয়নকক্ষে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অরুণ সাহা মধ্যবাজার এলাকার সুবর্ণা প্লাজা ও সুবর্ণা বস্ত্রালয়ের মালিক ছিলেন। ঘটনার তিন দিন পর তাঁদের বড় ছেলে সুজিত কুমার সাহা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।</p><p>পুলিশ ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের বরাতে জানা গেছে, অরুণ ও হেনা দম্পতি হত্যা মামলাটি প্রথমে দুর্গাপুর থানা-পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে। পরে ২০১৫ সালের নভেম্বরে সিআইডি এবং ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্তের দায়িত্ব নেয়। এ মামলায় মোট ৯ বার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়।</p><p>সর্বশেষ পিবিআইয়ের পরিদর্শক অভি রঞ্জন দেব ২০২৪ সালের জুনে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন। তদন্ত কর্মকর্তা তখন প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ঘটনার সময় অপরাধস্থল ও প্রয়োজনীয় আলামত সংরক্ষণ করা হয়নি। এ কারণে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়নি।</p><aside><cite>সুজিত কুমার সাহা, নিহত অরুণ কুমার সাহা ও হেনা রানী সাহার ছেলে</cite>পুলিশ দীর্ঘদিন তদন্ত করেও রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি। আমি চাই, আমার মা–বাবার হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন হোক।</aside><p>মামলাটি নিয়ে হতাশা দেখা দিয়েছে ছেলে সুজিত কুমার সাহার মধ্যে। তিনি বলেন, ‘পুলিশ দীর্ঘদিন তদন্ত করেও রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি। আমি চাই, আমার মা–বাবার হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন হোক।’</p><p>২০২১ সালের ২১ ডিসেম্বর কলমাকান্দার রংছাতি ইউনিয়নের তেরোতোপা গ্রামের গরু ব্যবসায়ী মো. মজিবুর রহমানকে (৫০) হত্যার পর তাঁর হাত-পা বেঁধে লাশে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় তাঁর বড় ভাই বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। পরে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি। রহস্য উদ্ঘাটন করতে না পেরে সংস্থাটি প্রায় এক বছর আগে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়।</p><p>মামলার বাদী আতাউর রহমান বলেন, ‘পুলিশ যেহেতু রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি, তাই পরে আর নারাজি দিইনি।’</p><p>২০২২ সালের ৪ জানুয়ারি দুর্গাপুর উপজেলার পূর্ব নলোয়াপাড়া গ্রামের ইজিবাইকচালক মজিবুর রহমানের (২৪) গলাকাটা লাশ কলমাকান্দার একটি ধানখেত উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর বাবা মামলা করেন। মামলার কোনো অগ্রগতি নেই।</p><p>২০২৫ সালের ১০ জানুয়ারি নেত্রকোনা শহরের বড়বাজার এলাকায় নিজ বাসায় খুন হন অবসরপ্রাপ্ত কলেজশিক্ষক দিলীপ কুমার সাহা রায় (৭১)। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী বিভা সাহা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।</p><p>মামলার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। বিভা সাহা বলেন, ‘স্বামীকে তো আর ফিরে পাব না। কিন্তু আমি চাই, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।’</p><p>২০২৫ সালের ১৬ জুন মদনের দেওসহিলা গ্রামে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হয় ছয় বছরের শিশু সৌরভ মিয়া। পরে প্রতিবেশী বনার চৌধুরীর গোয়ালঘর থেকে তার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সৌরভের বাবা বাদী হয়ে প্রতিবেশী মো. জিয়াকে প্রধান আসামি করে সাতজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। তবে হত্যাকাণ্ডের রহস্য এখনো উদ্ঘাটিত হয়নি। তবে জিয়াসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা কারাগারে আছেন। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এখনো হয়নি।</p><p>২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর রাতে মোহনগঞ্জ পৌর শহরের থানা রোডের একটি দোকান থেকে মুদিদোকানি নারায়ণ পালের (৪৪) গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। তাঁর দোকানটি থানার কাছেই।</p><p>ঘটনার দুই দিন পর অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নারায়ণের স্ত্রী লিপি রানী পাল। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী সহজ-সরল মানুষ ছিলেন। কারও সঙ্গে তাঁর শত্রুতা ছিল না। আমি ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি চাই।’</p><p>চলতি বছরের ৪ মে কলমাকান্দার হুগলি জসিউড়া গ্রামে বাড়ির উঠান থেকে নিখোঁজ হয় পাঁচ বছরের শিশু জান্নাত আক্তার। দুই দিন পর বাড়ির পেছনের ধানখেত থেকে তার খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা আসাদ মিয়া প্রতিবেশী মো. মজিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার কোনো অগ্রগতি নেই।</p><p>চলতি বছরের ২৫ জুলাই রাতে নেত্রকোনা সদর উপজেলার দুয়ানী দুধকুড়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের নিজ ঘরে ঘুমাতে যান মাহফুল মিয়া (৩৬)। পরদিন ভোরে তাঁর মা বিছানায় ছেলের গলাকাটা লাশ দেখতে পান। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা হয়েছে। তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।</p><p>১৫ অক্টোবর রাতে দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের তেলনজিয়া এলাকায় গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির (৪২)। হত্যাকাণ্ডের পরদিন আলিফের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা দুর্গাপুর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় সাত থেকে আটজনকে আসামি করে মামলা করেন। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।</p><p>একই দিন নেত্রকোনা-মোহনগঞ্জ সড়কের পাশে সদর উপজেলার সিংহের বাংলার নোয়াপাড়া এলাকায় একটি জঙ্গল থেকে রুকন মিয়া (৩৫) নামের এক ইজিবাইকচালকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁর হাত-পা ও মুখে স্কচটেপ প্যাঁচানো ছিল।</p><p>এ ঘটনায় রুকনের স্ত্রী মিনা আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেছেন। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।</p>
<p>প্রায় দুই মাস বন্ধ থাকার পর আবার নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে। আজ শুক্রবার রাত ৮টায় ৩৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এসেছে দেশটি থেকে। এর আগে গত ২৭ আগস্ট থেকে নেপাল থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।</p><p>বাংলাদেশের একমাত্র বিদ্যুৎ সঞ্চালন কোম্পানি পাওয়ার গ্রিড পিএলসি সূত্র এটি নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানায়, গত ১৫ জুন থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করে নেপাল। চুক্তি অনুসারে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করার কথা। কিন্তু গত ২৭ আগস্ট নেপালে ভয়াবহ বন্যার কারণে দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ হলে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। আজ সন্ধ্যা ৭টা থেকে আবার সরবরাহ শুরু করে, যার ফলে ৮টা থেকে ৩৮ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।</p><p>ভারতের সঞ্চালনব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি হয়। নেপালে গত ২৬ আগস্ট ভোটেকোশি নদী এলাকায় আঘাত হানা ভয়াবহ বন্যায় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো বন্ধ হয়ে যায়। এতে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এরপর ২৮ আগস্ট থেকে বাংলাদেশে সরবরাহ বন্ধ হয়। ভারতের সঞ্চালনব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয় গত জুনে।</p><p>বর্ষা মৌসুমে নেপাল গড়ে প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করে। তা কমে প্রায় ৬৫০ মেগাওয়াটে নেমে যায়। এখন আবার এটি বাড়ছে।</p><p>নেপাল বহু বছর ধরে, বিশেষ করে শুষ্ক শীতের মাসগুলোয় বিদ্যুৎ আমদানির ওপর নির্ভর করে আসছিল। দেশটি এখন নিজেকে আঞ্চলিক বিদ্যুৎ রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে। এমন সময়ে নেপালে আঘাত হানা ওই দুর্যোগে দেশটির বিদ্যুৎ রপ্তানিতে বিঘ্ন দেখা দেয়।</p>
<p>জাতীয় নির্বাচনে নিজেদের ভুলত্রুটি ও দুর্বলতার জায়গাগুলো চিহ্নিত করা গেছে বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে যেন একই ভুলের পুনরাবৃত্তি না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।</p><p>আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান এ কথা বলেন।</p><p>সম্মেলনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আগামীর সিটি নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন জামায়াতের আমির। জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে, কিন্তু তা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। জনগণ আমাদের বলে, ভোট আপনাদের দিয়েছিলাম, কিন্তু আপনারা তা রক্ষা করতে পারলেন না। তখন আমাদের বলতে হয়, আমাদের দুর্বলতা ছিল।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-23/ao59hc30/jamat-2.jpeg"><figcaption>সম্মেলনে জামায়াতের রুকনরা। বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬</figcaption></figure><p>সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘সামনে সিটি নির্বাচনে আমাদের সর্বোচ্চ দিয়ে ও দিনরাত একাকার করে কাজ করতে হবে। জাতীয় নির্বাচনের ভুলগুলো নিয়ে পর্যালোচনা হয়েছে। এবার এগুলোর আলোকে কাজ করলে আশা করি আর ভুল হবে না।’ এ সময় তিনি সিটি নির্বাচনে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে প্রাচীর গড়ে তোলার এবং কোনো ছাড় না দেওয়ার কথা বলেন।</p><p>শফিকুর রহমান আরও বলেন, তাঁরা আর বসে বসে তামাশা দেখবেন না। সংগতভাবেই প্রতিবাদ করবেন এবং যেখানে সামর্থ্য থাকবে, সেখানে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে সৎ, যোগ্য ও খোদাভীরু নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার জন্য নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-23/x7vo86rj/jamat-3.jpeg"><figcaption>জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তরের রুকন সম্মেলনে দলের নেতারা। বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬</figcaption></figure><p>এ সময় ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের উদ্যোগে তৈরি ‘নাগরিক সেবা’ নামের একটি অ্যাপ উদ্বোধন করেন শফিকুর রহমান।</p><p>সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারও আসন্ন মেয়র নির্বাচনে দলের নেতা-কর্মীদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আগামীর মেয়র নির্বাচনে শক্তিশালী ভূমিকা পালনের মাধ্যমে নেতা-কর্মীদের ত্যাগ-তিতিক্ষার প্রমাণ দিতে হবে। এতে মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচনে যথাযথ সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।</p><p>সম্মেলন দুই ভাগে বিভক্ত ছিল। সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ছিল নির্বাচনী সেশন। সেখানে ২০২৭-২০২৮ সেশনের জন্য ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির নির্বাচনে রুকনরা (শপথধারী কর্মী) ভোট দেন। নির্বাচন পরিচালনা করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসেন। ১৩ হাজারের বেশি রুকন ভোট দিয়েছেন বলে জানিয়েছে জামায়াত।</p><p>বেলা ১১টা থেকে সাংগঠনিক সেশন অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মুহাম্মদ রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান।</p>
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন