গতকাল পর্যন্ত প্রায় ৮৬ শতাংশ ভোট গণনা শেষে ইসরায়েলের প্রধান তিনটি সম্প্রচারমাধ্যম এক পূর্বাভাসে জানিয়েছে, ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩ আসন পেতে পারে।
<p>জিয়াউল ফারুক অপূর্ব ও নাজনীন নীহা অভিনীত নাটক ‘ভালো আছো তো?’ এখন আলোচিত। নাটকটিতে নবনীতা চরিত্রে অভিনয় করেছেন নীহা। দেখে নিন দারুণ কিছু রঙের পোশাকে নীহার মিষ্টি কয়েকটি ছবি</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/oivsce4l/Niha-3.jpeg"><figcaption>সি গ্রিন শাড়িতে মিষ্টি সাজে নীহা</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/bumcvyn8/Niha-4.jpeg"><figcaption>কপালে কালো টিপ আর টেনে বাঁধা খোঁপায় নীহার সাজে ফুটে উঠেছে বাঙালিয়ানা</figcaption></figure><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/fashion/h8yy9swxmj">‘মন ফাগুন’ ধারাবাহিকের অভিনেত্রী সৃজলাকে নিয়ে বিগ বসে তুলকালাম</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/yxcctqit/Niha-5.jpeg"><figcaption>মিষ্টি হাসিতে মিষ্টি নীহা</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/r99wglmj/Niha-6.jpeg"><figcaption>আকাশনীল কামিজে সবুজ মেঠো পথে</figcaption></figure><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/fashion/hmqaxvlwxg">দুর্গাপূজার ছবি শেয়ার করে কোন বিশেষ স্মৃতি মনে করলেন হৃদি শেখ?</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/yi16rcgk/Niha-2.jpeg"><figcaption>পার্পল কামিজে</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/dd29umhc/Niha-1.jpeg"><figcaption>দিনের আলোয় বেগুনি রঙের পোশাক আর ঢেউখেলানো চুলের সমন্বয় নীহাকে আরও মায়াবী করে তুলেছে</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/opht2l2s/Niha-7.jpeg"><figcaption>কপালে কালো টিপ, চোখে কাজল</figcaption></figure><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/relation/t3n15rnzya">রাফসান-সুনেরাহর কি সত্যিই বাগদান হয়েছে?</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/f0u3x4jx/Niha-8.jpeg"><figcaption>সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয় নীহাকে বেশির ভাগ সময়ই ন্যাচারাল মেকআপে দেখা যায়</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/5ts39dg6/SAVE20261027184812.jpg.jpeg"><figcaption>সম্প্রতি ‘ভালো আছো তো’ নাটকে নবনীতা চরিত্রে সাধারণ সাজ-পোশাকে নীহার উপস্থিতি নজর কেড়েছে</figcaption></figure><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/recipe/gdniqvm2e9">পুচির মা প্রথমবার বানালেন যে পদ, দেখুন রেসিপি</a></aside>
অভিনয়ের পাশাপাশি ফ্যাশনেও নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করছেন অনন্যা পাণ্ডে। সম্প্রতি এল ইন্ডিয়া বিউটি অ্যাওয়ার্ডসে শ্যানেল লুকটি বেশ পছন্দ করেছেন তাঁর ফ্যাশনিস্তা ভক্তরা ।
<p>পরীক্ষামূলক আনারকলি বা ট্যাং ফল চাষে সাফল্য পেয়েছেন মেহেরপুরে চাষি মোহাম্মদ মিঠু। প্রতি বিঘায় ১০ লাখ টাকা লাভ হওয়ার সম্ভাবনা দেখে বিদেশি এ ফল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন স্থানীয় চাষিরাও। বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে…</p><figure></figure>
বাক্স খুলে পেলাম লম্বাটে, আয়তাকার একটা লাল বস্তু। চকচকে লাল রং। হাতে নিয়ে দেখি, সেটার গায়ে মৌচাকের মতো অনেকগুলো ছোট ছোট ছিদ্র। মামার কথা শুনে ছিদ্রগুলোতে ফুঁ দিতেই নানা
মিরপুর টেস্টে আজ দ্বিতীয় দিনে টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন সাদমান ইসলাম।
ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন কর অঞ্চলে ২৩৪টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে
মুম্বাইয়ের একটি গ্যারেজে বসে ১৯ বছর বয়সে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন নমিত মালহোত্রা, কয়েক দশক পর সেই স্বপ্নই তাঁকে নিয়ে গেছে হলিউডের গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে।
<p>বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব সীমিতকরণ প্রক্রিয়া রাজনৈতিক-অর্থনৈতিকভাবে হয়তো দেশ-বিদেশে সবাই প্রায় মেনে নিয়েছে, তবে এর সামাজিক ফল হতে পারে উদ্বেগজনক। সার্বভৌমত্ব সীমিতকরণ প্রক্রিয়াকে ইংরেজিতে ‘ডি-সভেরেনাইজেশন’ বলে উল্লেখ করা যায়। এটা হতে পারে স্বেচ্ছামূলকভাবে, জবরদস্তিমূলক পথেও। বাংলাদেশে উভয়ের মিশ্র পদ্ধতিতে হচ্ছে। ফলাফল একই দাঁড়াচ্ছে। </p><p>রাজনীতি ও সমাজজীবনে এ দেশে ঐতিহাসিকভাবে সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের উত্তাপ ও ব্যবহার অত্যধিক। তার আড়ালেই সার্বভৌমত্ব সংকোচন বহুকাল ধরে ধীরলয়ে এগোচ্ছে এবং এখন লাজলজ্জার মোড়ক ভেঙে সেটা বেশ স্পষ্ট অবয়ব পেয়েছে।</p><p>সার্বভৌমত্ব হাতছাড়া হওয়ার বিষয় বহু বিশ্বগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতায় আছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক অনেক কাঠামো সার্বভৌমত্বের পরম ধরন বহু আগে খাটো করেছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের অনেক আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন, বিভিন্ন সনদে সম্মতির জন্য দেশীয় বিধিবিধান সংশোধন নিয়ন্ত্রিত সার্বভৌমত্বের কথা জানায়। রাষ্ট্রসমূহ অনেক সময় লাভ-লোকসানের তুলনামূলক হিসাব কষে কর্তৃত্বের ছাড় দেয় অনেকটা জাতীয় সম্মতিতে। ইইউর মতো আঞ্চলিক ‘মুক্তাঞ্চল’ রাষ্ট্রীয় একক সার্বভৌমত্বকে সীমিত করে ভিন্ন ধাঁচের যৌথ সার্বভৌমত্বের মডেলও তুলে ধরছে।</p><p>তবে বাংলাদেশে ঘটছে ভিন্ন ধরনের কিছু। ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা যেভাবে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে শুল্কচুক্তি করল এবং এর পক্ষে যেভাবে সমাজের একটা সমর্থক গোষ্ঠী দেখা গেল কিংবা সম্প্রতি যেভাবে সৌদি আরব তথ্য-উপাত্ত না দিয়ে দুজন বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল এবং বাংলাদেশের একজন নীতিনির্ধারক যেভাবে এতে শিক্ষণীয় উপাদান দেখলেন বা অতীতে যেভাবে বাংলাদেশের নির্বাচনের সময় ভারতের পররাষ্ট্রসচিব এসে ভোটের ধরন বাতলে দিতেন, এসবই ডি-সভেরেনাইজেশনের বার্তা দেয়।</p><p>গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থাপনা লিজ, ভাড়া বা বেসরকারীকরণও সার্বভৌমত্বের কমবেশি সংকোচন কি না, সেটা বোঝা যেত, যদি ওই সব চুক্তি জনসমক্ষে আসত। রাষ্ট্রীয় সম্পদ নিয়ে বা জনগণের সম্পদ বড় আয়তনে ব্যয় হয়, এমন যেকোনো ধরনের চুক্তি যে ঘোষণা দিয়ে গোপন রাখতে হচ্ছে, সেটা স্পষ্টত সার্বভৌমত্বের ঘাটতির কথা জানায়। তবে রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব নিশ্চিতভাবে আরও বড় আয়তনে নাজুকতার কথাও বলছে, যখন সে তার স্রষ্টা মুক্তিযোদ্ধাদের লুকিয়ে গার্ড অব অনার দেয়। পিরোজপুরের মানিক পশারীর বেলায় তেমনটা বেশ স্পষ্ট দেখা গেল। এ–ও একধরনের ডি-সভেরেনাইজেশন কি না, সেটা রাষ্ট্রচিন্তায় উঠতে বাধ্য। কিন্তু এ তো স্পষ্ট, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ‘কর্তৃত্বের’ প্রয়োগ অভ্যন্তরীণভাবে যেমন বাধার মুখে সংকুচিত হচ্ছে, তেমনি আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও নিজস্ব অধিকারের সার্বভৌম প্রকাশ থমকে যাচ্ছে।</p><p>জাতীয়তাবাদী জনপদে সার্বভৌমত্বের আবেগ বেশ তীব্র থাকে। সে জন্য আস্তে আস্তে তাদের জোয়াল পরানো হয়। অভ্যস্ত হওয়ার পালা শুরু হয় সীমিত সংকোচনের মাধ্যমে। সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জকারী রাজনৈতিক শক্তি যেমন এ অবস্থা তৈরি করতে পারে, তেমনি নানান প্রাপ্তি ও সমৃদ্ধির স্বপ্নও সার্বভৌমত্বের সীমিতকরণকে গতি দিতে পারে। </p><p>একদা আমাদের এখানে ইপিজেডগুলোয় দেশীয় শ্রম আইনের ঊর্ধ্বে কিছু সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল, ইপিজেড কর্মসংস্থান বাড়াবে, প্রযুক্তি হস্তান্তর ঘটাবে। সে জন্য বিশেষ আইন করা হয় এ রকম উদ্যোগের জন্য। তাতে এসব শিল্পাঞ্চলে সংঘ গঠনের অধিকার, শ্রম পরিদর্শনের বাধ্যবাধকতা শর্তাধীন করা হয়। অর্থাৎ জাতীয় শ্রম আইন, মৌলিক অধিকারের সাংবিধানিক হাত সীমিত করা হয় সেখানে। সেটা অনেকাংশে মেনেও নিয়েছি আমরা। এভাবে এগোতে এগোতে এখন বিমান কিনব কি কিনব না, সেই নীতিনির্ধারণী ক্ষমতার বেলাতেও অন্যের নির্দেশনা শুনি। ইপিজেড গড়তে দিয়েছি আমরা হয়তো বেকারি কমানো ও প্রযুক্তিগত দারিদ্র্য ঘোচাতে; কিন্তু এত এত বোয়িং কিনছি কেন, সেটা কম নাগরিকই জানে বা জানতে চায়। তারা ডি-সভেরেনাইজেশনে অভ্যস্ত এখন।</p><p>আশপাশের কোনো দেশ সীমান্তভূমির দু–এক শতক জায়গা দখল করলে আমাদের জাতীয় অহং নিশ্চিতভাবেই জেগে উঠত এবং সেটাই সংগত। কিন্তু নীতিগত সিদ্ধান্তের অধিকার বিঘায় বিঘায় বেদখল হলেও তার ন্যায্যতা দিতে জাতীয় বুদ্ধিজীবীর অভাব হয় না আজকাল। </p><p>একসময় জনগণকে নিরন্তর বোঝানো হয়েছিল, পাটকল ও চিনিকলগুলো বন্ধ করা বা বেসরকারি খাতে দেওয়া কেন জরুরি। সেই অধ্যায়ের দু–তিন দশক পর আজ পাট ও চিনি খাতের অবস্থা স্পষ্ট। একই বুদ্ধিজীবী দল এখন বোঝাচ্ছে, বন্দর ইত্যাদি লিজ দেওয়া কতটা লাভজনক হবে। </p><p>আগের আমলে বোঝানো হয়েছিল, প্রতিবেশীদের করিডর দিয়ে আমরা কত উপায়ে লাভবান হতে পারি। অথচ শাসকগোষ্ঠীর ক্ষমতা নির্বিঘ্ন করতেই সেসব দেওয়া হচ্ছিল। একদিকে সিগন্যাল দিয়ে অন্যদিকে গাড়ি চালিয়ে চলে যাওয়া বাংলাদেশের কুলীন সমাজের কৌশল হিসেবে নতুন নয়।</p><p>আজকে গুরুত্বপূর্ণ খাত ও সংস্থা ইজারার পেছনে পণ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করার কথাই জোরেশোরে প্রচারিত হচ্ছে। বঙ্গোপসাগরে বিদেশিদের উপস্থিতি সহজতর করার কথা নিশ্চয়ই এখন আমরা কোনো বিশেষজ্ঞ থেকে জানার আশা করতে পারি না। সেটা জানবে হয়তো পরের প্রজন্ম।</p><p>গত মাসেই অন্তত কয়েক ডজন টক শো হয়েছে সৌদিদের মক্কা সামরিক জোটে যোগ দিয়ে বাংলাদেশ কীভাবে উপকৃত হতে পারে, ওই বিষয়ে। কিন্তু ওই দেশে দুজন বাংলাদেশির শিরশ্ছেদের বিষয়ে বড় রাজনৈতিক দলগুলো খুব যত্নের সঙ্গে মুখে সিলমোহর মেরে রেখেছে। অচিন্তনীয় এই রাষ্ট্রীয় অপমানে নাগরিক সমাজও নিশ্চুপ।</p><p>অনেকের হয়তো মনে আছে, ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ২০২৩ সালে কাতারে আটজন ভারতীয়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে নয়াদিল্লি অবিশ্বাস্য এক উদ্যোগে তার নাগরিকদের আইনি প্রক্রিয়ায় উদ্ধার করে বড় ধরনের দেশীয় সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছিল। যদিও পুরো ঘটনায় তাদের নাগরিকেরা ছিল অপরাধে অভিযুক্ত।</p><p>অথচ শিরশ্ছেদ হওয়ার আগে বাংলাদেশ তার নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বশির ও সুইটি আখতারের অপরাধটুকুর কথাও জানতে পারল না। আমাদের জাতীয় বিদেশনীতি কীভাবে ডি-সভেরেনাইজেশনের কবলে আছে, তার মোটাদাগের এক নজির এটা।</p><p>বাংলাদেশ এখনো বলতে পারছে না তার নাগরিকেরা প্রাণবধের শিকার হলো কেন? এ রকম ‘না জানতে পারা’ হলো ডি-সভেরেনাইজেশনের পদ্ধতিগত ফল। নীতিগত অবক্ষয়ের শিকার দেশগুলোর সরকার ক্রমে ক্রমে এভাবে আন্তর্জাতিক পরিসরে জাতীয় স্বার্থ দেখার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এমনকি তার নাগরিক সমাজও এ রকম অপমানে অভ্যস্ত হয়ে যায়। এর বড় একটা ক্ষতিকর অভ্যন্তরীণ পার্শ্বফলও থাকে। যেটা দেখলাম আমরা পিরোজপুরে।</p><p>নাগরিকদের সুরক্ষা ও সম্মান জানাতে রাষ্ট্রের অভিভাবকতুল্য ভূমিকা না থাকলে জনগণের মধ্যে স্থায়ী নৈরাজ্যিক মনস্তত্ত্ব তৈরি হয়। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গণবিশৃঙ্খলার যেসব আলামত ক্রমে বাড়ছে, তার সঙ্গে সমকালীন ‘সার্বভৌমত্ব সংকোচন’ বাস্তবতার গভীর যোগ আছে। রাষ্ট্রীয় গৌরব এবং নীতিনির্ধারকদের অভিভাবকতুল্য সামর্থ্য হারিয়ে যাচ্ছে বলেই মানুষ এখন আর স্বতঃস্ফূর্তভাবে আইন মানতে চাইছে না। </p><p>সার্বভৌমত্বের পুনঃপুন সংকোচন দেশবাসীর মন থেকে জাতীয় গৌরববোধ লুপ্ত করে। এতে সমাজ থেকে জাতীয় সরকারের নৈতিক কর্তৃত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা লোপ পেতে শুরু করে। আন্তর্জাতিক পরিসরে অপমানের ট্রমা এ রকম দেশের নাগরিক সমাজকে যেকোনো অবস্থায় প্রটোকলের বাইরে চালিত করে। মানসিক হতাশাগ্রস্ত এরূপ জনসমাজ সহিংসতার ক্ষেত্রে পরিণত হতে পারে। </p><p>সার্বভৌমত্বের সংকোচন বাংলাদেশের জনসমাজকে আত্মবিশ্বাসহীন, আত্মমর্যাদাহীন নৈরাজ্যিক এক জনগোষ্ঠীতে পরিণত করছে। অথচ এ অবস্থার জন্য দায়ী সাধারণ জনগণ নয়, কুলীন সমাজ—তথা রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকেরা।</p> <p>●<strong> আলতাফ পারভেজ</strong> গবেষক ও লেখক</p> <p><em>* মতামত লেখকের নিজস্ব</em></p>
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।