ম্যাচ শেষে নিজের আক্ষেপের কথা লুকাননি অধিনায়ক নাজমুল। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে জয় না পাওয়াকে হতাশাজনক বলেছেন অধিনায়ক।
<p>ইরানে প্রতিবছর ১২ অক্টোবর ‘হাফিজ দিবস’ বা ‘হাফিজ মেমোরিয়াল ডে’ (Hafez Day) উদ্যাপিত হয়। চতুর্দশ শতাব্দীর বিখ্যাত পারস্য কবি হাফিজের সাহিত্যকর্ম, সুফি–দর্শন এবং অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দিনটি পালন করা হয়। এই বিশেষ দিনটির তাৎপর্য অনুধাবন করে গত ১২ অক্টোবর কলকাতায় ইরান সোসাইটিতে ছায়ানটের (কলকাতা) উদ্যোগে সোমঋতা মল্লিকের ভাবনায় ‘তরুণ ইরান-কবি কাঁদে নিরজনে’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের মূল বিষয়: নজরুল সাহিত্য ও সংগীতে ইরানীয় প্রভাব। আলোচনা, কবিতা পাঠ ও সংগীতে অংশগ্রহণ করেন বিশিষ্ট আলোচক ও ছায়ানটের (কলকাতা) শিল্পীরা।</p><p> অনুষ্ঠান শুরু হয় সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে। দুই ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইরান সোসাইটির সভাপতি মোহাম্মদ মানসুর আলম এবং ছায়ানটের (কলকাতা) সভাপতি সোমঋতা মল্লিক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ‘পুবের কলম’ পত্রিকার সম্পাদক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আহমদ হাসান ইমরান, বুদ্ধিজীবী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ওয়াএজুল হক, বিশিষ্ট লেখক ও সঞ্চালক মনিরুল ইসলাম। তাঁদের সুচিন্তিত বক্তব্য অনুষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করে। ছায়ানটের এ ধরনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সম্পর্কে তাঁরা ভূয়সী প্রশংসা করেন।</p><p>অনুষ্ঠানে নজরুল-অনূদিত কাব্যগ্রন্থ ‘রুবাইয়াৎ-ই-হাফিজ’ ও ‘রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম’ থেকে রুবাই পাঠ করেন ছায়ানটের (কলকাতা) বাচিকশিল্পীরা। অংশগ্রহণে তিস্তা দে, সোমা রায়, অন্বেষা মুখার্জী, দেবলীনা চৌধুরী, শর্মিষ্ঠা রায়, পারমিতা চৌধুরী, পিয়ালী ঘোষ, মৌমিতা ঘোষ, অনিন্দিতা ঘোষ। সোমঋতা মল্লিকের পরিচালনায় সমবেতভাবে পরিবেশিত হয় দুটি নজরুলসংগীত, যেখানে নজরুল ইরানের প্রসঙ্গের অবতারণা করেছেন অথবা ইরানীয় সুর থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। “পরি’ জাফরানি ঘাগরি” ও ‘বুলবুলি নীরব নার্গিস-বনে’—দুটি নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন চম্পা মিত্র, বিচিত্রা ঘোষ, নন্দিনী নন্দী, স্বাতী ভট্টাচার্য, সোমা রায় বর্মণ, গৌরী ধর, চন্দ্রা মজুমদার এবং সুরূপা মল্লিক। অনুষ্ঠানে সোমঋতার কণ্ঠে শোনা যায় বেশ কয়েকটি নজরুলসংগীত। ‘নাচে ইরানী মেয়ে’, ‘শুকনো পাতার নূপুর পায়ে’, ‘ফুলের জলসায় নীরব কেন কবি’—অনুষ্ঠানের বিষয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সোমঋতা চমৎকারভাবে গানগুলো নির্বাচন করেছেন।</p><blockquote>দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: dp@prothomalo.com</blockquote><p>প্রাণাধিক প্রিয় পুত্র বুলবুলের মৃত্যুর পর কাজী নজরুল ইসলামের অনূদিত কাব্যগ্রন্থ ‘রুবাইয়াৎ-ই-হাফিজ’ প্রকাশিত হয়। বইটি নজরুল উৎসর্গ করেছিলেন তাঁর প্রাণপ্রিয় পুত্র বুলবুলকে। মুখবন্ধে নজরুল লেখেন—“বাঙলার শাসনকর্ত্তা গিয়াসুদ্দিনের আমন্ত্রণকে ইরানের কবি সম্রাট হাফিজ উপেক্ষা করেছিলেন। আমার আহ্বান উপেক্ষিত হয়নি। যে পথ দিয়ে আমার পুত্রের ‘জানাজা’ (শব-যান) চ’লে গেল, সেই পথ দিয়ে আমার বন্ধু, আমার প্রিয়তম ইরানী কবি আমার দ্বারে এলেন। আমার চোখের জলে তাঁর চরণ অভিষিক্ত হ’ল।” নজরুল মূল ফারসি থেকেই হাফিজের রুবাইয়াৎ অনুবাদ করেন। হাফিজের রুবাইয়াত সম্পর্কে নজরুল লিখেছেন—“সত্যকার হাফিজকে চিনতে হলে তাঁর গজল-গান—প্রায় পঞ্চশতাধিক পড়তে হয়। তাঁর রুবাইয়াত বা চতুষ্পদী কবিতাগুলি প’ড়ে মনে হয়, এ যেন তাঁর অবসর কাটানোর জন্যই লেখা। অবশ্য এতেও তাঁর সেই দর্শন, সেই প্রেম, সেই শারাব, সাকী তেমনি ভাবেই জড়িয়ে আছে। এ যেন তাঁর অতল সমুদ্রের বুদ্বুদ-কণা। তবে এ ক্ষুদ্র বিম্ব হলেও এতে সারা আকাশের গ্রহ-তারার প্রতিবিম্ব প’ড়ে এক রামধনুর কণার মতো রাঙিয়ে তুলেছে। হয়তো ছোট বলেই এ সুন্দর।” ইরানের কবিদের প্রতি নজরুল ছিলেন অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল। ‘রুবাইয়াৎ-ই-হাফিজ’-এর মুখবন্ধে নজরুল লিখেছেন—“হাফিজকে আমরা—কাব্য-রস-পিপাসুর দল—কবি বলেই সম্মান করি, কবিরূপেই দেখি। তিনি হয়ত বা সূফী দরবেশও ছিলেন। তাঁর কবিতাতেও সে আভাস পাওয়া যায় সত্য। শুনেছি, আমাদের দেশেও মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, কেশব সেন প্রভৃতি হাফিজের কবিতা উপাসনামন্দিরে আবৃত্তি করতেন। তবু তাঁর কবিতা শুধু কবিতাই। তাঁর দর্শন ওমর খৈয়ামের দর্শন প্রায় এক। এঁরা সকলেই আনন্দ-বিলাসী। ভোগের আনন্দকেই এঁরা এই জীবনের চরম আনন্দ বলে স্বীকার করেছেন। ইরানের অধিকাংশ কবিই যে শারাব-সাকী নিয়ে দিন কাটাতেন, এত মিথ্যা নয়। তবে, এও মিথ্যা নয় যে, মদিরাকে এঁরা জীবনে না হোক কাব্যে প্রেমের আনন্দের প্রতীকরূপেই গ্রহণ করেছিলেন!”</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-13/5sd5ixp5/4.jpeg"></figure><p>শুধু ‘রুবাইয়াৎ-ই-হাফিজ’ নয়, নজরুল-অনূদিত ‘রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম’ বিশেষভাবে সমাদৃত। ‘রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম’-এর সচিত্র প্রথম সংস্করণ ১৯৫৯ সালের ডিসেম্বর মাসে (পৌষ, ১৩৬৬ বঙ্গাব্দ) প্রকাশিত হয়। ভূমিকা লিখেছিলেন সৈয়দ মুজতবা আলী এবং চিত্রায়ণ করেছিলেন খালেদ চৌধুরী। দ্বিতীয় সংস্করণ ১৩৭০ বঙ্গাব্দের কার্তিকে প্রকাশিত হয়। দ্বিতীয় সংস্করণে নজরুলের নিজের লেখা ‘ওমরের কাব্য ও দর্শন’ শিরোনামের রচনাটি ভূমিকা হিসেবে প্রথম প্রকাশিত হয়। অনুষ্ঠানে অতিথিদের হাতে ছায়ানটের (কলকাতা) পক্ষ থেকে নজরুল-অনূদিত ‘রুবাইয়াৎ-ই-হাফিজ’ তুলে দেওয়া হয়।</p><p>আসাদুল হকের লেখা ‘নজরুল যখন বেতারে’ বইটি থেকে জানা যায়, ১৯৪০ সালের ১৬ মার্চ সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে বেতারে প্রচারিত হয় সংগীতানুষ্ঠান ‘ইরানের স্বপ্ন’। পারস্যের সুরের ওপর রচিত গান দিয়ে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানটি রচনা ও সংগঠনায় ছিলেন কাজী নজরুল, বর্ণনায় ছিলেন অনিল দাস।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-13/lpepo5fy/5.jpeg"></figure><p>১৯২৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর কলকাতার এলবার্ট হলে (বর্তমান কফি হাউস) বাংলার হিন্দু-মুসলমানের পক্ষ থেকে চেতনার কবি কাজী নজরুল ইসলামকে বিপুল সমারোহে ও আন্তরিকতার সঙ্গে সংবর্ধনা জানানো হয়। সংবর্ধনা সভার সভাপতি বিজ্ঞানাচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের অভিভাষণের পর জাতির পক্ষ থেকে ‘নজরুল-সংবর্ধনা সমিতির সভ্যবৃন্দ’ কবিকে একটি মানপত্র প্রদান করেন। সভায় মানপত্রটি পাঠ করেন মি. এস ওয়াজেদ আলি। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে ইরানীয় সংস্কৃতির অত্যন্ত সার্থক সমন্বয় সাধন করেছিলেন নজরুল। সেই বিষয়টি চমৎকারভাবে মানপত্রে তুলে ধরা হয়—“তুমি বাঙলার মধুবনের শ্যামা কোয়েলার কণ্ঠে ইরানের গুলবাগিচার বুলবুলের বুলি দিয়াছ, রসালের কণ্ঠে সহকার-সাথে আঙুরলতিকার বাহুবন্ধন রচনা করিয়াছ। তুমি বাঙালির শ্যামশান্ত কণ্ঠে ইরানী-সাকীর লাল শিরাজির আবেশ-বিহ্বলতা দান করিয়াছ। আজ তোমার আসন প্রান্তে হাতের বাঁশী রাখিয়া তাহারা তোমার সম্মুখে দাঁড়াইয়াছে। তুমি তাহাদের শ্রদ্ধাসুন্দর চিত্ত-নিবেদন গ্রহণ কর।” নজরুলের বৈচিত্র্যময় সৃষ্টিশীল জীবনের এই বিশেষ দিকটি সম্পর্কে সবাইকে অবগত করার উদ্দেশ্যেই ছায়ানটের (কলকাতা) এই বিশেষ উদ্যোগ। দীর্ঘ ১৯ বছরের পথচলায় ইরান সোসাইটিতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানকে ছায়ানটের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই মনে করছেন উপস্থিত দর্শকেরা।</p>
<p>যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তা করার কঠোর নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। আজ মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানানো হয়েছে।</p><p>বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘স্থগিত থাকা (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সন্ত্রাসী রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহভাজন একদল অপরাধী নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে হয়রানির পেছনে রয়েছেন বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।’</p><p>পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের মিশনকে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে যেতে বলেছে, যাতে ‘অপরাধীদের’ শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।</p><p>গতকাল সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর থেকে হুইলচেয়ারে করে বের হওয়ার সময় অধ্যাপক ইউনূসকে হেনস্তা করার ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়, অধ্যাপক ইউনূসের দিকে এগিয়ে গিয়ে কয়েকজন লোক উচ্চস্বরে স্লোগান দিচ্ছেন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা তাঁকে উদ্দেশ করে ‘হোয়াই ইউ কাম হিয়ার’সহ নানা অপবাদসূচক কথা বলে চিৎকার করছিলেন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রবাসী সমর্থকের বিরুদ্ধে তাঁকে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে।</p>
<p> ‘আমরা বলেছিলাম যে আমি ৩ লাখ ৭৫ হাজার ভোটারের এমপি। আমার একজন প্রতিনিধি রাখেন, একজন পেশাদার ব্যবসায়ী রাখেন, সরকারদলীয় একজন রাখেন। উনি আমার কথা রাখলেন না। উনি রাখলেন তার কথা...। সর্বশেষ বলল, ওপরের খুব চাপ। কমিটিতে রাখা যাবে না। এই ওপরের চাপ কোন চাপ? উনি ওই চেয়ার থেকে বলতে পারেন কি না জানি না। কারণ, এই আসনের আমি এমপি।’</p><p> রংপুরের গঙ্গাচড়ায় সার ডিলার নিয়োগে দলীয় বিবেচনা ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে কথাগুলো বলেছেন রংপুর–১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) উদ্দেশে তিনি এ কথাগুলো বলেন।</p><p>গতকাল সোমবার বিকেলে উপজেলা চত্বরে সাংবাদিকদের কাছে সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী এ কথা বলেন। তাঁর এই বক্তব্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা–সমালোচনার সৃষ্টি হয়।</p><p>এই সংসদ সদস্যের বক্তব্য অনুযায়ী, ডিলার নিয়োগের যাচাই–বাছাই কমিটিতে ইউএনও কর্তৃক তিনজন মনোনীত ছিলেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুবেল হুসেন বলেন, উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি ছিল আট সদস্যের। এই কমিটি সার ডিলারের আবেদন যাচাই–বাছাইয়ের পরে ইউনিয়নপ্রতি তিনজনের নাম জেলায় পাঠিয়েছে।</p><p>কৃষি মন্ত্রণালয়ের ৭ অক্টোবর স্বাক্ষরিত তালিকায় জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে অনুমোদিত আবেদনকারীদের অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে বলা হয়েছে। এতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং কমিটির পক্ষে কৃষি অর্থনীতিবিদ শাহনাজ আক্তারের স্বাক্ষর রয়েছে।</p><p>সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী আরও বলেন, নতুন সার ডিলার নিয়োগে (গঙ্গাচড়ায়) পৃথিবীর নিকৃষ্টতম দলীয়করণ হয়েছে। সরকার ঘোষণা দিয়েছিল সবার আগে বাংলাদেশ। কিন্তু এই সার ডিলার নিয়োগে গঙ্গাচড়ায় সবার আগে বিএনপি প্রমাণিত হয়েছে।</p><p>সার ডিলার নিয়োগকে বানরের পিঠা ভাগ করার শামিল বলেও মন্তব্য করেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, সরকারি নীতিমালাকে তোয়াক্কা না করে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে বানরের পিঠা ভাগ হয়েছে।</p><p>সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজীর দাবি, কোলকোন্দ ইউনিয়নের চরাঞ্চলের তিনটি ওয়ার্ড ও নোহালী ইউনিয়নের চরাঞ্চলের মানুষের সার সংগ্রহের দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে ওই দুই ইউনিয়নে যোগ্য আবেদনকারীদের মধ্য থেকে ডিলার নিয়োগের অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু তা উপেক্ষা করা হয়েছে।</p><p>ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে আজ মঙ্গলবার রাতে রায়হান সিরাজী মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘সার ডিলারের আবেদন যাচাই কমিটি গঠনের সময় আমি দেশের বাইরে ছিলাম। ইউএনও আমার কথা রাখেননি। উনি (ইউএনও) রেখেছেন তার কথা, মানে ওপরের কথা।’</p><p>এ বিষয়ে জানতে চাইলে গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. জেসমিন আক্তার বলেন, ‘এমপি মহোদয় আমাকে উদ্দেশ করে যেসব কথা বলেছেন, এমন কোনো কথা তিনি আমাকে বলেননি।’</p>
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা পরিদর্শনে গিয়ে সংস্কারকাজের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম
<p> নানা আয়োজনে তেভাগা আন্দোলনের নেত্রী বিপ্লবী ইলা মিত্রের ২৪তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী মেলার শেষ দিনে আজ মঙ্গলবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলের রাওতাড়ায় ইলা মিত্রের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। সিপিবির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন ও ইলা মিত্র মেলা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব রাগিব আহসান মুন্নাসহ অন্যরা এ পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।</p><p> পরে বেলা তিনটায় রাগিব আহসানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা হয়। সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মহসীন রেজা সঞ্চালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, নওগাঁ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে খোদা বাবুল, সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এ রশীদ, আমিনুল ফরিদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুব্রত রায়, জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্মল চৌধুরী, কৃষক নেতা হাসান আলী, শ্রমিকনেতা আলীমুর রেজা রানা প্রমুখ বক্তব্য দেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/9a3ju1zi8u">নাচোলে তিন দিনব্যাপী ইলা মিত্র মেলা শুরু</a></aside><p>আবদুল্লাহ ক্বাফী বলেন, বৈবাহিক সূত্রে কমিউনিস্ট কৃষক নেতা রমেন মিত্রের সঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রামচন্দ্রপুর গ্রামে আসেন ইলা মিত্র। নিপীড়িত সাঁওতালদের আস্থা অর্জনে তিনি সাঁওতালি ভাষা শিখেছিলেন। তেভাগা লড়াই শুরু করার আগে নিজেদের জমিতে তেভাগা কায়েম করেন। গরিব কৃষকদের একজন হয়ে তাঁদের তেভাগা লড়াইকে নিজের লড়াই হিসেবে গ্রহণ করেন। নিষ্ঠুর নিপীড়ন সহ্য করেও তিনি মেহনতি মানুষের লড়াই ছাড়েননি। তিনি নাচোলে ইলা মিত্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। পাশাপাশি ইলা মিত্রের জীবনী ও কৃষকদের সংগ্রাম পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান।</p><p>সভাপতির বক্তব্যে রাকসুর সাবেক ভিপি রাগিব আহসান বলেন, ইলা মিত্র কৃষকের তেভাগার জন্য লড়েছিলেন। আজ তাঁর উত্তরসূরিরা কৃষকের ফসলের লাভজনক দামের জন্য লড়ছেন। তাঁদের আজকের দিনের লড়াইয়ে অনুপ্রেরণার উৎস ইলা মিত্র।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-13/plkcu3st/Chapainawabgonj2.jpg"><figcaption>ইলা মিত্রকে নিয়ে কবিতা আবৃত্তি করছেন সেলিনা বানু ও আবু তালেব মোল্লা। নাচোল ডাকবাংলো মাঠ, নাচোল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ</figcaption></figure><h3>বিভিন্ন সংগঠনের কর্মসূচি </h3><p>এদিকে বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে ইলা মিত্রের মৃত্যুবার্ষিকীতে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। ইলা মিত্র স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে রাওতাড়ায় সংগ্রহশালার পাশে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংসদের সভাপতি বিধান সিংয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন নাচোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রিয়াংকা দাস। অন্যদিকে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) নাচোল শাখার উদ্যোগে বেলা সাড়ে ১১টায় নাচোলে শোক র্যালি ও নাচোল বাসস্ট্যান্ডে পথসমাবেশ করা হয়।</p><p>ইলা মিত্রকে স্মরণে নাচোল ডাকবাংলো মাঠে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী মেলার শেষ দিনে আলোচনা সভার পাশাপাশি ছিল নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন। এতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী গম্ভীরা গানের আয়োজন করা হয়।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/3nnay6k9a7">নৃত্য–গান–আলোচনায় জমে উঠেছে ইলা মিত্র মেলা</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-13/vicw6538/Chapainawabgonj3.jpg"><figcaption>ইলা মিত্র মেলায় মানুষের সমাগম। নাচোল ডাকবাংলো মাঠ, নাচোল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ</figcaption></figure><h3>মেলায় সাড়া জাগিয়েছে নতুন বই </h3><p>চলতি বছর কলকাতা বইমেলায় প্রকাশিত ঢাকার ওমর তারেক চৌধুরী ও কলকাতার শুভাশিস মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত ‘শতবর্ষে ইলা মিত্র: অন্য চোখে’ বইটি তিন দিনব্যাপী মেলায় বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বইটিতে ইলা মিত্র ও নাচোল কৃষক বিদ্রোহ–বিষয়ক পূর্ব বাংলা ও ভারতের প্রায় অর্ধশত পুরোনো সংবাদের সংকলন একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মন্তব্য করেছেন বইয়ের সংগ্রহকারীরা।</p><p>মেলায় এসেছিলেন ৮৫ বছর বয়সী মো. সাধু। তিনি ইলা মিত্রের বাড়ির পাশের এলাকার বাসিন্দা। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ইলা মিত্রের স্বামী আমাদের কাছে “হাবু বাবু” নামে পরিচিত ছিলেন। স্বামী-স্ত্রী দুজনই গরিবের বন্ধু ছিলেন। মাইকে ইলা মিত্রের নাম শুইন্যা ভিতরে ঢুকনু। খুবি ভাল্লাগছে।’</p>
সানজি গ্রুপ অব কোম্পানিজের ১৬ কোটি ৬২ লাখ ৪১ হাজার ২১৫ টাকা আত্মসাৎ করার ঘটনায় গত বছরের ৪ ডিসেম্বর রাজধানীর ভাটারা থানায় মামলা করে প্রতিষ্ঠানটি।
উজ্জ্বল নীল রঙের এই গুঁড়া ত্বকের কালো দাগ, পিগমেন্টেশন ও রোদে পোড়া ভাব কমানোর উপায় হিসেবে ছড়িয়ে পড়েছে ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ও ইউটিউবে
চুল কাটতে বলায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওই ছাত্র শিক্ষকের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। কলম দিয়ে শিক্ষককে একাধিক আঘাত করে রক্তাক্ত করে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন