ক্রিকেট

পুরোনো অস্ত্রে ভরসা ভারতের, সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচের দলে ভুবনেশ্বর

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
পুরোনো অস্ত্রে ভরসা ভারতের, সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচের দলে ভুবনেশ্বর
পুরোনো অস্ত্রে ভরসা ভারতের, সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচের দলে ভুবনেশ্বর
ভুবনেশ্বর ভারতের হয়ে সর্বশেষ খেলেন ২০২২ সালের নভেম্বরে। সেটা ছিল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি–টুয়েন্টি ম্যাচ।

Prothomalo

View more
কাল শনিবার ব্যাংক ও শেয়ারবাজার খোলা
কাল শনিবার ব্যাংক ও শেয়ারবাজার খোলা

<p>সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও কাল শনিবার সরকারি দপ্তরের পাশাপাশি ব্যাংকে স্বাভাবিক লেনদেন। একই সঙ্গে শেয়ারবাজারে লেনদেন হবে। দুর্গাপূজার ছুটি সমন্বয়ের কারণে কাল শনিবার ব্যাংক ও শেয়ারবাজার খোলা থাকবে।    </p><p>শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের সব তফসিলি ব্যাংক ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিন বন্ধ থাকবে। তার পরের দুই দিন শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে সব মিলিয়ে টানা পাঁচ দিন (২০–২৪ অক্টোবর) ব্যাংক বন্ধ থাকবে।</p> <p>বাংলাদেশ ব্যাংক গত রোববার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে এই নির্দেশনা দিয়েছে। এতে ১৭ অক্টোবর (শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সাধারণ কর্মদিবসের মতো ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়।</p><p>৭ অক্টোবর পূজার ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার নবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে আগেই ছুটি ঘোষণা ছিল। পরদিন ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি। ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবারও নির্বাহী আদেশে ছুটি দিয়ে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর ছুটি ঘোষণা করা হয়। আর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তারা। তবে ২২ অক্টোবরের ছুটির পরিবর্তে আগামী শনিবার (১৭ অক্টোবর) সাপ্তাহিক ছুটির দিনে অফিস খোলা থাকবে</p>

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখো, বিশ্বজুড়ে... | স্টাডি অ্যাব্রোড ফেয়ার ২০২৬ | পর্ব-০২
উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখো, বিশ্বজুড়ে... | স্টাডি অ্যাব্রোড ফেয়ার ২০২৬ | পর্ব-০২

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখো, বিশ্বজুড়ে... | স্টাডি অ্যাব্রোড ফেয়ার ২০২৬ | পর্ব-০২

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
নরসিংদীতে শিয়ালের কামড়ে আহত ১০, গর্তে ফেলে মারা হলো একটি শিয়াল
নরসিংদীতে শিয়ালের কামড়ে আহত ১০, গর্তে ফেলে মারা হলো একটি শিয়াল

<p>নরসিংদীর পলাশ উপজেলার তিনটি গ্রামে শিয়ালের কামড়ে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার ভোর থেকে সকাল নয়টা পর্যন্ত উপজেলার ঘোড়াশাল পৌরসভার আটিয়াগাঁও এবং ডাঙ্গা ইউনিয়নের খিলপাড়া ও কামতাল গ্রামে এসব ঘটনা ঘটে। আটিয়াগাঁও গ্রামের লোকজন সকালে একটি শিয়ালকে গর্তে ফেলে হত্যা করেন।</p><p> শিয়ালের কামড়ে আহত ব্যক্তিরা হলেন মো. সাইফুল্লাহ (৪০), হেলেনা বেগম (৪৫), হাফিজা বেগম (৬০), খালেক মিয়া (৪০), মো. আল আমিন (৪০), তাসলিমা বেগম (৪৮), আনোয়ারা বেগম (৪৫), শাহিদা বেগম (৪৩), আবদুস সাত্তার (৬৫) ও সালেহা বেগম (৪৫)। তাঁরা ঘোড়াশাল পৌর এলাকা ও ডাঙ্গা ইউনিয়নের বাসিন্দা। তাঁরা নরসিংদী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।</p><p>আহত ব্যক্তিরা জানান, আজ ভোর সাড়ে পাঁচটা থেকে সকাল নয়টা পর্যন্ত আটিয়াগাঁও, খিলপাড়া ও কামতাল এলাকায় কয়েকটি শিয়াল একের পর এক মানুষকে কামড়াতে থাকে। তবে মোট কয়টি শিয়াল, তা কেউ জানাতে পারেননি। ভোরে কেউ নামাজ পড়তে মসজিদে যাচ্ছিলেন, আবার সকালে কেউ বাড়ির আঙিনায় বা আশপাশে কাজ করছিলেন। ওই সময় শিয়াল কামড় দেয়।</p><p>খিলপাড়া গ্রামের আহত আবদুস সাত্তার জানান, ভোরে তিনি মসজিদে নামাজ পড়তে যাচ্ছিলেন। পথে হঠাৎ একটি শিয়াল তাঁর পায়ে কামড় দেয়। আশপাশের লোকজন ছুটে এলে শিয়ালটি পালিয়ে যায়। তিনি বলেন, ‘নরসিংদী সদর হাসপাতালে গিয়ে ডাক্তার দেখিয়েছি, টিকা নিয়েছি। এলাকায় শিয়ালের আতঙ্ক আছে।’</p><p>আটিয়াগাঁওয়ের বাসিন্দা এইচ এম কাউসার হোসেন বলেন, ভোরে আটিয়াগাঁও গ্রামের খালেক মিয়া ও আরও দুই নারীকে একটি শিয়াল কামড় দেয়। স্থানীয় লোকজন শিয়ালটিকে ধাওয়া করে গ্রামের একটি বাড়ির পাশের গর্তে ফেলে হত্যা করেন।</p><p>শিয়ালের কামড়ে আহত ১০ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিপাশা মাসুক। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, হাসপাতালের র‍্যাবিস ভ্যাকসিন কেন্দ্র থেকে তাঁদের প্রত্যেককে টিকা দেওয়া হয়েছে। টিকা নিয়ে তাঁরা বাড়ি ফিরেছেন।</p>

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
মানিকগঞ্জে সার পাচারকালে সাব-ডিলার আটক, দুই লাখ টাকা জরিমানা
মানিকগঞ্জে সার পাচারকালে সাব-ডিলার আটক, দুই লাখ টাকা জরিমানা

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় সরকারি বরাদ্দের সার অন্য উপজেলায় পাচারকালে একজনকে আটক করেন স্থানীয় লোকজন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাঁকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
ককরোচদের জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কর্মসূচিতেও কেন বাধা
ককরোচদের জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কর্মসূচিতেও কেন বাধা

ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। বিরোধীদের কর্মসূচি, আজকের রাজনৈতিক তৎপরতা, বিজেপির কঠোর অবস্থানের কারণ এবং দিপকের গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কা

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
বাবার মতোই বিধ্বংসী শেবাগপুত্র, ৮ ছক্কা ও ১৯ চারে ১৭৩
বাবার মতোই বিধ্বংসী শেবাগপুত্র, ৮ ছক্কা ও ১৯ চারে ১৭৩

ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ভিনু মানকড় ট্রফিতে দিল্লির অধিনায়ক আর্যবীর। আজ চণ্ডীগড়ের বিপক্ষে খেলা তাঁর ইনিংসে ১৯টি চার ও ৮টি ছক্কা।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
ইংল্যান্ড নারী কাবাডি দলের অধিনায়ক হলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আনিসা খান
ইংল্যান্ড নারী কাবাডি দলের অধিনায়ক হলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আনিসা খান

ব্যবসা ও টেলিভিশন জগতে পরিচিতি পাওয়ার পর এবার আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে নতুন দায়িত্ব পেলেন মৌলভীবাজারের এই ব্রিটিশ-বাংলাদেশি তরুণী।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
অভিজিৎ দিপকের বাড়িতে গিয়ে কর্মসূচি বন্ধে পুলিশের নোটিশ, তিনি বললেন, ‘চাইলে আমাকে ফাঁসি দিন’
অভিজিৎ দিপকের বাড়িতে গিয়ে কর্মসূচি বন্ধে পুলিশের নোটিশ, তিনি বললেন, ‘চাইলে আমাকে ফাঁসি দিন’

<p>তবে কি ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আহ্বায়ক অভিজিৎ দিপকের শঙ্কাই সত্যি হতে চলেছে? দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে জাতীয় পতাকা তুলতে যাওয়ার আগেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে?</p><p> এমন মনে করার কারণ আজ শুক্রবার দুপুরে হঠাৎই দিল্লি পুলিশের তৎপরতা। একদল পুলিশসদস্য দিল্লির ঝান্ডেওয়ালায় যে বাড়িতে দিপকে রয়েছেন সেখানে প্রবেশ করে। তার পর একজন পুলিশ কর্মকর্তা বাড়ির ভেতরে গেছেন।</p><p> আজ শুক্রবার দুপুরে গণমাধ্যমে এই সংক্রান্ত ভিডিও ও ছবি ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, দিল্লি পুলিশের একদল সদস্য একটি বাড়িতে ঢুকছেন। সেই দলে পুরুষ ও নারী পুলিশ সদস্যরা আছেন। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বসার ঘরে অভিজিৎ দিপকের মুখোমুখি সোফায় বসে একজন পুলিশ সদস্য। তাঁর হাতে কিছু কাগজপত্র।</p><figure><blockquote><p lang="en" dir="ltr"> ATTENTION PLEASE! Delhi Police are accusing Abhijeet Dipke of talking about violence, while sidelining the ground reality and making baseless allegations against him. https://t.co/WLTFtPO5Oa</p>— Neha Bora Team (@NehaAisa) <a href="https://x.com/NehaAisa/status/2111019887569371381?ref_src=twsrc%5Etfw">October 16, 2026</a></blockquote> </figure><p>ওই ছবিসহ প্রকাশিত দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়, দিল্লি পুলিশ দিপকের বাড়ি গিয়ে তাঁকে সেন্ট্রাল পার্কে না যাওয়ার নোটিশ দিচ্ছে। দিল্লির করোলবাগ এলাকার ঝান্ডেওয়ালায় যে বাড়িতে দিপকে উঠেছেন, তা মহারাষ্ট্রের এনসিপি (শারদ পাওয়ার) দলের নেতা ও মুখপাত্র অনীশ গাওয়ান্ডের। সেখানে গিয়ে তাঁকে বলা হচ্ছে, আজ শুক্রবার বিকেল ৫টায় কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে ভারতের জাতীয় পতাকা তোলার যে কর্মসূচি তিনি নিয়েছেন তা যেন বাতিল করা হয়। পুলিশ জানায়, গোটা কনট প্লেস এলাকায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি হয়েছে। তিনি যেন আইন মেনে শান্তি শৃঙ্খলারক্ষায় সাহায্য করেন। দিপকে সেই নোটিশ দেখেছেন, কিন্তু কর্মসূচি বাতিলে রাজি হননি।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/india/1lxr46cu46">দিল্লিতে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর আগেই কেন গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কায় অভিজিৎ দিপকে</a></aside><p>পুলিশ জানিয়েছে, তারা নোটিশ দিয়ে চলে এসেছে। ককরোচ জনতা পার্টির পক্ষ থেকে পুলিশ–দিপকে কথোপকথনের এক ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। এনডিটিভিও ওই ছবি দিয়ে খবরও করেছে। তাতে লেখা হয়েছে, এক পুলিশ কর্তা দিপকেকে বলেন, তিনি যেন বিকেলে তেরঙ্গা যাত্রা বের না করেন। জবাবে দিপকে পুলিশকে বলেন, ‘আমরা কোনো লাউডস্পিকার রাখিনি। আমরা একে বিক্ষোভ সমাবেশও বলছি না। আমরা শুধু যাব। জাতীয় পতাকা উড়াব। চলে আসব। জাতীয় পতাকা ওড়ানো কি বেআইনি?’<br>ছবিতে দেখা যায়, দিপকের পরনে সাদা টি শার্ট ও নীল ডেনিম। টি শার্টের ওপর মহাত্মা গান্ধীর ছবি। তাঁর কাঁধের ওপর একটা জাতীয় পতাকা ফেলা রয়েছে। তাঁদের কথোপকথনের এক ভিডিওর উল্লেখ করে ওই প্রতিবেদনে লেখা হয়, তাঁকে দেওয়া পুলিশের কিছু কাগজপত্র দেখে দিপকে বলছেন, ‘এসব কী ধরনের অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে?’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-16/0mfll2an/CJP_India.jpg"><figcaption>দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে সিজেপির কর্মসূচি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অবস্থান। ভারত, ১৬ অক্টোবর ২০২৬</figcaption></figure><p>সেই কাগজে অভিযোগ করা হয়েছে, দিপকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে জনগণকে প্ররোচিত করছেন। এভাবে প্ররোচনা করা বেআইনি। দিপকে ওই পুলিশ কর্তাকে বলেন, ‘এ কেমন ধরনের তামাশা? এটা কি নোটিশ? নোটিশ কি এমন হয়? সাদা কাগজে যা খুশি লিখে দেওয়া কি নোটিশ?’ দিপকে আরও বলেন, ‘তামাশারও সীমা থাকা উচিত। একটাও ভিডিও কি দেখাতে পারবেন যেখানে লোকজনকে আমি হিংসাত্মক হতে প্ররোচিত করছি? চাইলে আমাকে ফাঁসিতে লটকে দিন।’ দিপকে ওই পুলিশ কর্তাকে বলেন, প্ররোচনামূলক একটাও ভিডিও দেখাতে পারবেন না।</p><p>সিজেপির এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মধ্য দিল্লিতে উত্তেজনা চলছে। আম আদমি পার্টির পক্ষ থেকে আজ দুপুরে জাতীয় পতাকা নিয়ে শোভাযাত্রা বের হয়। একটা ভিডিওতে দেখা যায়, রাজ্যসভার সদস্য সঞ্জয় সিংয়ের বাড়ি থেকে কয়েক শ ফুট লম্বা ওই পতাকা মাথায় তুলে বেশ কিছু কর্মী সমর্থক স্লোগান দিতে দিতে রাস্তা দিয়ে এগোচ্ছেন। দিপকে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলেন, তাঁদের বাড়ি ঘিরে পুলিশি তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। নম্বরপ্লেটহীন গাড়ি ঘুরে বেড়াচ্ছে। সাদা পোশাকের পুলিশ অনবরত খোঁজ খবর করছে। তাঁর শঙ্কা, শুক্রবার বিকেলের আগেই তাঁকে ও তাঁদের মতো আরো অনেককে দিল্লি পুলিশ গ্রেপ্তার করবে।</p><p>তার আগে দিপকের বাড়ি গিয়ে দিল্লি পুলিশ তাঁকে সতর্ক করে দিল। এখন দেখার, বাড়ি থেকে বেরিয়ে দিপকেরা কনট প্লেসে জাতীয় পতাকা তুলতে পোঁছতে পারেন কি না। নোটিশ উপেক্ষা করার অভিযোগে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে কি না।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/india/q3ythtgcla">সংবাদপত্র বিলি করা বালক থেকে হলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি</a></aside>

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
‘আল-আবওয়া’: নবীজির মা যেখানে মারা যান
‘আল-আবওয়া’: নবীজির মা যেখানে মারা যান

<p>‘তাঁর মা তাঁকে নিয়ে মক্কায় ফিরছিলেন; যখন তিনি আবওয়াতে পৌঁছালেন, আমিনা আবওয়াতে মৃত্যুবরণ করেন।’ (আবু নুআইম আল-ইসফাহানি, <em>দালায়িলুন নুবুওয়াত</em>, পৃষ্ঠা ১৮৫, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়া, বৈরুত, ১৯৮৬)</p><p>কে না জানতে চায় ‘আল-আবওয়া’ সম্পর্কে? একবার সে ঠিকানায় পৌঁছানোর ইচ্ছা কার না রয়েছে?</p><p>‘আবওয়া’ একটি গ্রাম, যা স্থানীয় ‘আবওয়া পাহাড়’ থেকে নামকরণ করা হয়েছে। মদিনা থেকে ২৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে মক্কা-মদিনা সড়কের ডান দিকে জাবালু আরাতের পাশে এটি অবস্থিত। (ইয়াকুত আল-হামাবি, <em>মু’জামুল বুলদান,</em> ১/৯, দারুল ফিকর, বৈরুত, ১৯৭৭)</p><p>প্রাচীন যুগে ‘তারিকুল কাওয়াফিল’ (কাফিলার পথ) কিংবা ‘তারিকুল হুজ্জাজ’ (হাজিদের পথ) নামে যে বিখ্যাত পথ ছিল, তা এ গ্রামকে ছুঁয়ে গেছে। রাবিগ থেকে এর দূরত্ব ৪৩ কিলোমিটার এবং আল-জুহফা থেকে ২৩ মাইল। (আল-আসকালানি, <em>ফাতহুল বারি,</em> ১/৭৪, দারুল মাআরিফা, বৈরুত, ১৯৬০)</p><p>হিজাজের তিহামা অঞ্চলের মাঝে এ স্থানটি পর্যাপ্ত পানি ও গাছপালার জন্য পরিচিত। এখানে ‘ওয়াদি আল-ফারা’ ও ‘ওয়াদি আল-ক্বাহা’ মিলিত হয়ে ‘ওয়াদি আবওয়া’ নামে এক নতুন উপত্যকা তৈরি করেছে, যা বর্তমানে ‘ওয়াদি আল-খারিবাহ’ নামে পরিচিত। (মুহাম্মদ আল-বিলাদি, <em>মু’জাম আল-মা’আলিম আল-জুগরাফিয়্যাহ,</em> ১/, দার মাক্কা, মক্কা, ১৯৮২)</p><p>স্থানটিতে নবীজির মায়ের কবর থাকায় এটি বিশেষভাবে প্রসিদ্ধ। এ ছাড়া ইসলামের প্রথম যুদ্ধ ‘গাজওয়া আবওয়া’ এখানেই অনুষ্ঠিত হয়। (আল-বাকরি আল-আন্দালুসি, <em>মু’জাম মা উসতুজিমা,</em> ১/১০২, আলামুল কুতুব, বৈরুত, ১৯৮৩)</p><p>এ যুদ্ধটি ‘গাজওয়া ওয়াদ্দান’ হিসেবেও পরিচিত। (ইবনে কাসির, <em>আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া,</em> ৫/১৭, দারুল ফিকর, বৈরুত, ১৯৮৬)</p><p>আবওয়া থেকে ওয়াদ্দানের দূরত্ব ছয় মাইল।</p><p>মুহাম্মদ (সা.) তাঁর মায়ের সঙ্গে ইয়াসরিব থেকে মক্কার উদ্দেশে পথ চলছিলেন। কিন্তু আবওয়ায় পৌঁছে মা অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মৃত্যুবরণ করেন। উম্মে আইমান শিশু মুহাম্মদকে নিয়ে মক্কায় আসেন। (ইবনে হিশাম, <em>আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যা,</em> ১/১৬৮, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়া, বৈরুত, ২০০১)</p><p>নবীজির জীবনে সেই স্মৃতি ছিল অমলিন। তিনি মক্কা ছেড়ে মদিনায় হিজরত করার সময় সম্ভবত দ্বিতীয়বার এ পথ মাড়িয়েছেন। এরপর বহুবার তিনি এ পথে চলেছেন। তিনি মায়ের কবর জিয়ারতে আসেন।</p><aside><cite>সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৯৭৬</cite>আমি মায়ের অনুকূলে ক্ষমা প্রার্থনা করার অনুমতি চেয়েছিলাম; আমাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। আমি আমার প্রভুর নিকট তাঁর কবর জিয়ারতের জন্য অনুমতি চেয়েছিলাম; আমাকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তোমরা কবরগুলো জিয়ারত করো, কারণ তা মৃত্যুকে স্মরণ করিয়ে দেয়।</aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/islam/uqui9pfopw">নবীজির বাবার কবর কোথায়</a></aside><p>সাহাবিরা নবীজির এমন দৃশ্য আর কখনো দেখেননি—তিনি কাঁদলেন এবং কাঁদানোর মতো এক ঘণ্টা ধরে কাঁদলেন। পরে সবাইকে কবর জিয়ারতের অনুমতি দিলেন।</p><p>সোলাইমান ইবনে বুরাইদাহ তাঁর পিতাকে উদ্ধৃত করে বলেন, ‘নবীজি একটি কবরের প্রান্তসীমায় গিয়ে থামলেন এবং বসলেন। মানুষেরা অনেকে তাঁর পাশে বসলেন। তারপর তিনি তাঁর মাথা নাড়তে লাগলেন বক্তার ন্যায়। তিনি বলেন, তারপর তিনি খুব কান্না করলেন।</p><p>‘ওমর (রা.) এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করলেন, “আল্লাহর রাসুল, কী আপনাকে এত কাঁদাল?”</p><p>‘নবীজি বললেন, “এটি আমিনা বিনতে ওয়াহাবের কবর; আমি আমার প্রভুর নিকট তাঁর কবর জিয়ারতের অনুমতি চেয়েছিলাম; আমাকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আমি তাঁর অনুকূলে ক্ষমা প্রার্থনা করার অনুমতি চেয়েছিলাম; আমাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। আমাকে তাঁর প্রতি অনুকম্পা স্পর্শ করেছিল, তাই কেঁদেছি।’”</p><p>বর্ণনাকারী বলেন, ‘ওই ঘণ্টার কান্নার মতো তাঁকে এত বেশি কাঁদতে আর কখনো দেখিনি।’ (হাকিম নিশাপুরি, <em>আল-মুসতাদরাক আলাস সহিহাইন,</em> ১/৩৭৬, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়া, বৈরুত, ১৯৯০)</p><p>আবু হোরাইরা বলেন, ‘নবীজি তাঁর মায়ের কবর জিয়ারত করে কেঁদে ফেললেন; তাঁর পাশে যাঁরা ছিলেন, তাঁরাও কাঁদলেন। পরে তিনি বললেন, “আমি মায়ের অনুকূলে ক্ষমা প্রার্থনা করার অনুমতি চেয়েছিলাম; আমাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। আমি আমার প্রভুর নিকট তাঁর কবর জিয়ারতের জন্য অনুমতি চেয়েছিলাম; আমাকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তোমরা কবরগুলো জিয়ারত করো, কারণ তা মৃত্যুকে স্মরণ করিয়ে দেয়।”’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৯৭৬)</p><p>কিশোর জীবনের স্মৃতিবিজড়িত সেই আবওয়া পরবর্তী কালেও অনেক ঘটনার জন্য ইসলামের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-16/wdo0acus/%D8%B6%D8%B1%D9%8A%D8%AD%D8%A7%D9%84%D8%B3%D9%8A%D8%AF%D8%A9%D8%A2%D9%85%D9%86%D8%A9%D8%B9%D9%84%D9%8A%D9%87%D8%A7%D8%A7%D9%84%D8%B3%D9%84%D8%A7%D9%85-1.JPG"><figcaption>নবীজির মায়ের কবর, আল-আবওয়া, রাবিগ, সৌদি আরব</figcaption></figure> <p>এক. এখানে নবীজি (সা.) দ্বিতীয় হিজরির সফর মাসে সর্বপ্রথম ‘গাজওয়া’ পরিচালনা করেন, যা ‘গাজওয়া আবওয়া’ নামে পরিচিত। এ স্থানে তিনি ৭০ জন মুহাজিরকে নিয়ে কোরাইশ বাণিজ্য কাফেলাকে বাধা দিতে ১৫ দিন অবস্থান করেছিলেন। (সাফিউর রহমান মুবারকপুরী, <em>আর-রাহিক আল-মাখতুম,</em> পৃষ্ঠা ২২৫, মাকতাবা দারুস সালাম, রিয়াদ, ২০০৫)</p><p>কিন্তু কোরাইশদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়নি। তবে এটি ছিল বনি জামরা গোত্রের এলাকা। তাদের সঙ্গে তিনি অনাক্রমণ চুক্তিতে আবদ্ধ হন। (ইবনে হিশাম, <em>আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যা,</em> ১/৫৯১)</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/islam/5lx7f1nu82">আমাদের ‘সিরাত পাঠ’ কেন ফলপ্রসূ হচ্ছে না</a></aside><p>দুই. এ স্থানে তিনি কিছু হাদিয়া গ্রহণ করেন। আবু রুহম আল-গিফারি থেকে বলেন, যখন নবীজি আবওয়ায় অবতরণ করলেন, তখন ইমা ইবনে রাহদাহ আল-গিফারি তাঁকে কিছু সবজি (মুলা) ও ৫০টি বকরি হাদিয়া দেন।</p><p>তাঁর পুত্র জুফাফ ইবনে ইমা ইবনে রাহদাহকে আরও দুটি দুধেল উটসহ নবীজির নিকট পাঠান। (আত-তাবারানি, <em>আল-মুজামুল কাবির,</em> ২২/৩১৫, মাকতাবাতুজ জাহরা, মসুল, ১৯৮৩)</p><blockquote>ইমা ইবনে রাহদাহ আল-গিফারি তাঁকে কিছু সবজি (মুলা) ও ৫০টি বকরি হাদিয়া দেন। তাঁর পুত্র জুফাফ ইবনে ইমা ইবনে রাহদাহকে আরও দুটি দুধেল উটসহ নবীজির নিকট পাঠান।</blockquote><p>তিন. এ স্থানে কিছু হাদিয়া ত্যাগ করা হয়। সা’ব ইবনে জাসসামাহ আল-লাইসি (রা.) বলেন, ‘আল-আবওয়া’ কিংবা ‘ওয়াদ্দান’ নামক স্থানে অবস্থানকালে তিনি একটি বন্য গাধা নবীজি জন্য উপঢৌকন দিয়েছিলেন। সেটি তিনি গ্রহণ না করে বললেন, ‘আমরা ইহরাম অবস্থায় না থাকলে এটি ফেরত দিতাম না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭৩৫)</p><p>চার. এই আবওয়াতে ‘রাত্রিকালীন আক্রমণে মুশরিকদের নারী ও শিশু নিহত হওয়া’ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে উল্লিখিত ‘বাইয়াতান’ শব্দগুলোর অর্থ সম্পর্কে নবীজিকে জিজ্ঞেস করা হয়।</p><p>সা’ব ইবনে জাসসামা (রা.) বলেন, ‘নবী (সা.) আবওয়া অথবা ওয়াদ্দান নামক স্থানে আমার কাছ দিয়ে পথ অতিক্রম করেন। তখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়, যে মুশরিকদের সঙ্গে যুদ্ধ হচ্ছে, যদি রাত্রিকালীন আক্রমণে তাদের নারী ও শিশু নিহত হয়, তবে কী হবে?</p><p>‘নবীজি বলেন, “তারাসহ তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।”’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৮০৪)</p><p>পাঁচ. এটি সেই স্থান, যেখানে আবু সুফিয়ান মক্কা বিজয়ের পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। (আল-ওয়াকিদি, <em>কিতাবুল মাগাজি,</em> ২/৮০৭, দারুল মাআরিফা, বৈরুত, ১৯৮৯)</p><p>বস্তুত আবওয়ার সব স্মৃতি নবীমাতাকে ঘিরে। এখানে যেন ইতিহাসের ঘটনা একটিই—নবীজির কান্না, মায়ের জন্য কান্না, কিশোরকালের কান্না, পড়ন্তকালের কান্না। তিনি নিজে কাঁদেন, কাঁদেন সহস্র সঙ্গী, কাঁদে মুমিনদের চোখ।</p><p>শুধু কাঁদে না কপটের বুক, হিংসুটের হৃদয়।</p><p>আবু সোলাইমান নবীজির কথা প্রসঙ্গে বলেন, কোরাইশরা যখন উহুদ যুদ্ধের উদ্দেশ্যে বের হলো, তারা আবওয়ায় অবতরণ করে। হিন্দা বিনতে উতবা তাঁর স্বামী আবু সুফিয়ান ইবনে হারবকে বলেন, ‘যদি তোমরা মুহাম্মদের মা আমিনার কবরটি খুঁড়ে ফেলতে পারতে! এটা তো আবওয়ায়।’ (আল-খাত্তাবি, <em>গারিবুল হাদিস,</em> ১/৩১৭, দারুল ফিকর, দামেস্ক, ১৯৮২)</p><ul><li><p><em><strong>ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক :</strong> অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়</em></p></li></ul><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/islam/zsi24u6p49">স্নেহময়ী মাতৃক্রোড়ে, নীড়ে ফেরা</a></aside>

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন