প্রযুক্তি

প্রোগ্রামিং ছাড়াই ব্যক্তিগত অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ তৈরির পথ সহজ করল গুগল

অক্টোবর ১৫, ২০২৬
প্রোগ্রামিং ছাড়াই ব্যক্তিগত অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ তৈরির পথ সহজ করল গুগল
প্রোগ্রামিং ছাড়াই ব্যক্তিগত অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ তৈরির পথ সহজ করল গুগল
গুগল প্লেতে নতুন সুবিধা যুক্ত করেছে গুগল। নতুন এ সুবিধা চালুর ফলে গুগল এআই স্টুডিওর সাহায্যে তৈরি অ্যাপ গুগল প্লের মাধ্যমে নিজের ফোনে চালু করা যাবে।

Prothomalo

View more
নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস: চাকরিপ্রার্থীদের কী অপরাধ
নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস: চাকরিপ্রার্থীদের কী অপরাধ

আমার নিজেরই মনে হচ্ছিল যদি দেশটা ছাড়তে পারতাম! অনেকে দেশের দূরদূরান্ত থেকে এসেছে। রংপুর, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা—কোনো জায়গা বাকি নেই।

অক্টোবর ১৫, ২০২৬
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সায়েন্স ফেলোশিপ, আবেদন করুন দ্রুত
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সায়েন্স ফেলোশিপ, আবেদন করুন দ্রুত

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন বছরের সায়েন্স ফেলোশিপে আবেদন চলছে।

অক্টোবর ১৫, ২০২৬
গ্রাহকদের মিষ্টিমুখ করিয়ে টাকা ফেরত দিচ্ছে ন্যাশনাল ব্যাংক
গ্রাহকদের মিষ্টিমুখ করিয়ে টাকা ফেরত দিচ্ছে ন্যাশনাল ব্যাংক

রাজধানীর দিলকুশা শাখায় সকালে লেনদেন শুরুর প্রথম এক ঘণ্টায় ৪০ জন গ্রাহককে ৩২ লাখ টাকার বেশি ফেরত দেওয়া হয়েছে।

অক্টোবর ১৫, ২০২৬
নারায়ণগঞ্জে বিদ্যালয়ে নারী শিক্ষককে থাপ্পড়, বিএনপি নেতাকে শোকজ
নারায়ণগঞ্জে বিদ্যালয়ে নারী শিক্ষককে থাপ্পড়, বিএনপি নেতাকে শোকজ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরে এক সহকারী শিক্ষককে থাপ্পড় মারার অভিযোগ উঠেছে ওয়ার্ড বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে।

অক্টোবর ১৫, ২০২৬
মেহজাবীনের প্রশ্ন, ‘অন্যের অসম্মান কবে থেকে আমাদের আয়ের উৎস হলো?’
মেহজাবীনের প্রশ্ন, ‘অন্যের অসম্মান কবে থেকে আমাদের আয়ের উৎস হলো?’

<p>কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তারকাদের মুখ বসিয়ে তৈরি করা হচ্ছে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও। সেসব ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সম্প্রতি অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী ও পরীমনিকে ঘিরে এমন কয়েকটি ভুয়া ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। এবার বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন মেহজাবীন। তাঁর প্রশ্ন, ‘কবে থেকে অন্য একজন মানুষের অপমান আর অসম্মান আমাদের উপার্জনের মাধ্যম হয়ে উঠল?’</p><p>আজ বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া দীর্ঘ এক পোস্টে এআই দিয়ে ভুয়া কনটেন্ট তৈরি এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী। শুধু যাঁরা এসব তৈরি করছেন, তাঁদের নয়; যাঁরা জেনেশুনে সেগুলো শেয়ার করে আরও মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন, তাঁদের বিবেকবোধ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/entertainment/tv/fzrp3uv6tt">সত্য খুব দ্রুতই আদালতে পরিষ্কার হয়ে যাবে: মেহজাবীন চৌধুরী</a></aside><p>গত ১৩ অক্টোবর একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে মেহজাবীন ও পরীমনির নামে আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। পরে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে এআই প্রযুক্তির অপব্যবহারে তৈরি ভুয়া ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার করে সেসব সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলেও জানায় প্রতিষ্ঠানটি।<br>ঘটনাটি অনুসন্ধান করেছে তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার। গতকাল বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, আলোচিত ভিডিওগুলো আসল নয়। অন্য ভিডিওতে ফেস সোয়াপ প্রযুক্তির মাধ্যমে দুই অভিনেত্রীর মুখ বসিয়ে সেগুলো তৈরি করা হয়েছে। মাছরাঙা কর্তৃপক্ষও এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।</p><p>এ ঘটনার পর আজ বৃহস্পতিবার নিজের অবস্থান জানালেন মেহজাবীন। পোস্টের শুরুতেই তিনি লিখেছেন, ‘এআই ব্যবহার করে কারও নামে মিথ্যা ও বানোয়াট কনটেন্ট তৈরি করা এবং কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়া কোনো বিনোদন নয়। এটি একটি অপরাধ।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-09-11/1xyv41mz/80298866317726276773986141827261318880786470n.jpg"><figcaption>মেহজাবীন চৌধুরী। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে </figcaption></figure><p>তবে মেহজাবীনের উদ্বেগ শুধু ভুয়া কনটেন্ট তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর মতে, যখন শত শত কিংবা হাজার হাজার মানুষ একই কনটেন্ট শেয়ার করতে থাকেন, তখন সেটি একজনের অপরাধের গণ্ডি ছাড়িয়ে বড় সামাজিক সমস্যার চিত্র তুলে ধরে। এমন পরিস্থিতিতে সমাজের মূল্যবোধ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।<br>অন্যের প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য পারিবারিক সম্পর্কের উদাহরণ দেওয়ার প্রচলিত প্রবণতাও মানতে নারাজ অভিনেত্রী। তিনি লিখেছেন, ‘এই পর্যায়ে এসে সেই পুরোনো কথাটাও আর বলতে ইচ্ছে করে না যে একবার ভাবুন তো, এমনটা যদি আপনার মা কিংবা বোনের সঙ্গে ঘটত!’</p><p>এরপরই মেহজাবীনের প্রশ্ন, ‘কারণ কাউকে মানুষ হিসেবে সম্মান করতে, তাকে আমাদের পরিবারের সদস্য হতে হবে কেন?’</p><p>সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিউ, লাইক ও শেয়ারের প্রতিযোগিতার কথাও তুলে ধরেছেন মেহজাবীন। তাঁর মতে, ট্রেন্ডিংয়ে থাকার আকাঙ্ক্ষা কিংবা কয়েক ডলার আয়ের আশায় অন্যের সম্মানহানি করার প্রবণতা উদ্বেগজনক। অনেকের জীবিকা এখন কনটেন্ট তৈরির ওপর নির্ভরশীল, সেই বাস্তবতাও স্বীকার করেছেন অভিনেত্রী। কিন্তু জীবিকার প্রয়োজনে অন্য কাউকে অপমান করার অধিকার কারও নেই বলেই মনে করেন তিনি।<br>এ ধরনের অপপ্রচারের শিকার যে কেউ হতে পারেন উল্লেখ করে মেহজাবীন জানিয়েছেন, বিষয়টি এখন আর শুধু নারী-পুরুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ভিউ ও এনগেজমেন্টের প্রতিযোগিতায় যে কেউ ক্ষতিকর কনটেন্ট ছড়ানোর অংশ হয়ে উঠতে পারেন, আবার যে কেউ এর শিকারও হতে পারেন।<br>মেহজাবীনের সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তাঁদের নিয়ে, যাঁরা এসব কনটেন্ট তৈরি না করেও স্বেচ্ছায় ছড়িয়ে দিচ্ছেন। কেউ শেয়ার করছেন, কেউ মন্তব্য করছেন, কেউ আবার অন্যদের দেখার সুযোগ করে দিচ্ছেন। ফলে একজনকে হেয় করার উদ্দেশ্যে তৈরি কনটেন্ট আরও বহু মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।<br>এর আগেও এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে সরব হয়েছিলেন মেহজাবীন। তারকাদের ছবি ও ভিডিও বিকৃত করে প্রচারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি কঠোর আইন, জনসচেতনতা ও জবাবদিহির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন।<br>আজকের পোস্টে অবশ্য আইনের পাশাপাশি মানুষের ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধকেই সামনে এনেছেন অভিনেত্রী। তাঁর বক্তব্য, প্রযুক্তির অপব্যবহার যেমন অন্যায়, তেমনি সেই অন্যায়কে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও মানুষের দায় রয়েছে।<br>পোস্টের শেষ বাক্যে তাই সরাসরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের উদ্দেশে লিখেছেন, ‘একজন অপরাধীর অপরাধে অংশ নিয়ে নিজের বিবেকহীনতার পরিচয় দেবেন কি না, ভেবে দেখতে পারেন।’</p>

অক্টোবর ১৫, ২০২৬
বদলে যাচ্ছে বড়গাঙের চেনা রূপ
বদলে যাচ্ছে বড়গাঙের চেনা রূপ

একসময় স্বচ্ছ পানির স্রোত আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ করত সিলেটের জৈন্তাপুরের বড়গাঙ। বর্ষা শেষে নদে কমেছে পানি, কোথাও কোথাও জেগে উঠেছে বালুচর।

অক্টোবর ১৫, ২০২৬
বিসিবির কাভার্ড ভ্যান থেকে রাজশাহীর ক্রিকেটারদের লাগেজ গায়েবের অভিযোগে জিডি
বিসিবির কাভার্ড ভ্যান থেকে রাজশাহীর ক্রিকেটারদের লাগেজ গায়েবের অভিযোগে জিডি

জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচ খেলে ঢাকা থেকে রাজশাহী ফেরার পথে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাভার্ড ভ্যান থেকে দলের আটটি লাগেজ গায়েব হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অক্টোবর ১৫, ২০২৬
১৯তম বিজেএস প্রিলিমিনারির সময়সূচি প্রকাশ, পরীক্ষা তিন কেন্দ্রে
১৯তম বিজেএস প্রিলিমিনারির সময়সূচি প্রকাশ, পরীক্ষা তিন কেন্দ্রে

পরীক্ষার্থীদের আসনবিন্যাস ২৯ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা কেন্দ্রের নোটিশ বোর্ড ও কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। আসনবিন্যাস থেকে পরীক্ষার্থীরা নিজেদের কেন্দ্র ও কক্ষ নম্বর জেনে নিতে পারবেন।

অক্টোবর ১৫, ২০২৬
বাংলাদেশের জেন-জি বিপ্লবই আমাদের পথ দেখিয়েছে: নেহা বোরা
বাংলাদেশের জেন-জি বিপ্লবই আমাদের পথ দেখিয়েছে: নেহা বোরা

<p>অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরা বলেছেন, বাংলাদেশের জেন-জি বিপ্লব থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন ভারতের তরুণেরাও। বিস্তারিত ভিডিওতে—</p><figure></figure>

অক্টোবর ১৫, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন