poem

অ্যান কারসনের একগুচ্ছ কবিতা

অক্টোবর ৯, ২০২৬
অ্যান কারসনের একগুচ্ছ কবিতা
অ্যান কারসনের একগুচ্ছ কবিতা
<p>২০২৬ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন অ্যান কারসন। চিত্রা প্রকাশনী থেকে ২০১৯ সালের অমর একুশে বইমেলায় রাজ রিডারে একটি  বই প্রকাশিত হয়েছিল । বইটির নাম ছিল ‘অনুবাদে আধুনিক মার্কিন কবিতা’। সেই সংকলনে সাতজন কবির স্থানসংকুলান হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন অ্যান কারসন। সেখান থেকে কারসনের কয়েকটি কবিতা তুলে ধরা হলো।</p><h3>অ্যান কারসন</h3><p>জন্মগ্রহণ করেছেন কানাডায়, ১৯৫০ সালে। মিশিগান, ম্যাকগিল কিংবা প্রিন্সটনের মতো নামকরা সব বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। ছোটবেলায় গ্রিক-ল্যাটিন পড়েছেন। নানাবিধ বিষয়বস্তু নিয়ে লিখে থাকেন। বেশ কয়েক জায়গায় ফেলোশিপ পেয়েছেন। আর পেয়েছেন ‘লানান সাহিত্য পুরস্কার।’</p><p>অ্যান স্পষ্টভাষী। মুখের ওপর কথা বলতে পছন্দ করেন। তাঁর লেখায় গতি আছে। পুরাণের প্রভাব পর্যাপ্ত। ছোট-বড় সব ধরনের কবিতাই লেখেন। তবে ছোট কবিতাগুলোর ওজন বেশি। সেগুলো একটু গভীরভাবে ভাবতে হয়। চার লাইনেই বলে ফেলবেন মহাকালের সব ঘটনা। ঈশ্বর খুঁজে বেড়াচ্ছেন বহু বছর। ‘আমার ধর্ম’ নামক কবিতাটি পড়লে অনেকটা আন্দাজ করা যাবে। </p><h3>ব্রুকলিনের ঘরে</h3><p>এই<br>মন্থর<br>দিনটি<br>বয়ে<br>চলে;<br>ঘরের<br>সাথে<br>আমি<br>শুনতে<br>পাই<br>তার<br>অক্ষের<br>পদধ্বনি;<br>একটি<br>চলমান<br>ঝলকানি<br>ছাদের<br>ওপরে<br>যা<br>দেয়<br>আমাকে<br>সেই<br>তেজি<br>নীল<br>হলুদ<br>অনুভূতি<br>যখন<br>সময়<br>বয়ে<br>চলে<br>প্রশস্ত<br>পথে<br>আমার<br>বিকেল<br>বেলায়।</p><h3>আমার ধর্ম</h3><p>ধর্ম নামক বস্তুটির কোনো মাথামুণ্ডু খুঁজে পাই না আমি<br>আর আমার কোনো কাজেও আসে না এটা<br>তাই আমি তাকে তাড়া করে ফিরি।</p><p>যখন আমরা লক্ষ্য দেখি<br>আসলে ব্যাপারটা কত সহজ হতে পারত<br>তখন আমরা নিজেরা নিজেরাই মারামারি করব।</p><p>পৃথিবীর সব মানুষকে নিয়ে আমার একটি দৃষ্টিভঙ্গি ছিল<br>যারা ঈশ্বর সন্ধান করে বেড়ায়,<br>একটি ঘরে জটলা পাকিয়েছে,<br>ঘরের পার্টিশনের এক দিকে,<br>অপর দিক থেকে স্পষ্ট দেখা যায়,<br>যে দিকটা ঈশ্বরের;<br>কিন্তু আমরা তো দৃষ্টিহীন।<br>আমাদের কাজকামও ঠিক সেই একই রকম।</p><p>এই কানার মতো হাতড়ানো আরও কিছুকাল চলে<br>যতক্ষণ না পর্যন্ত পার্টিশনের ওদিকে কিছু একটা ঘটে<br>তারপর আবার তাদের দিকে আমরা দেখতে থাকি।<br>ততক্ষণে অনেক বেশি দেরি হয়ে যায়।</p><p>আমরা দেখতে থাকি<br>কত এবড়োখেবড়ো ভাবে<br>কত সতর্কতার সাথে<br>আর কত অসুস্থভাবে<br>আমাদের অন্ধ কার্যকলাপ<br>ব্যঙ্গ করে চলেছে<br>যা ঈশ্বর চেয়েছিল;<br>কত অল্প কিছু জিনিস</p><p>আর এই বিষয়টিই<br>একটা প্রাণীর মতো<br>ঘরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে<br>আর তা বের হওয়ার জন্য দাপড়িয়ে বেড়াচ্ছে।<br>এটা আমার ভেতরটাতেও ঠুকে চলছে<br>তার রাইফেলের বাঁট দিয়ে।</p><h3>আবার বসন্তের শহরে</h3><p>‘বসন্ত সব সময় তেমনই আছে যেমনটা ছিল।’<br>এক চীনা বৃদ্ধের কাছে শুনেছিলাম।<br>জানালার কাছে বৃষ্টিগুলো<br>ঝরে পড়ছে<br>ফোঁটায় ফোঁটায়,<br>আর ফুঁসে উঠছে,<br>যেতে চেয়েছিল<br>সীমানা ছাড়িয়ে।<br>ছুটে এসেছে আমাদের কাছে।</p><h3>প্রেমনগরী</h3><p>মেয়েটি দৌড়ে ভেতরে ঢুকল।<br>ভেজা ভুট্টা।<br>হলুদ বিনুনি।<br>পাছার নিচে।</p><h3>নেকড়ে ঈশ্বর</h3><p>চিত্রকর্মের মতো মুছে যাবে<br>আমাদের নাম,<br>কেউ থাকবে না।</p><p>আমি জীবন দেখেছি<br>পথে পথে লাফিয়ে লাফিয়ে,<br>নেকড়ের মতো,<br>আর প্রশ্ন করেছি সেই মহিলাকে<br>সেই স্থান সম্বন্ধে।</p><p>তারা কেউ কেউ মনে করে<br>নেকড়ের মৃত্যু নেই<br>আর এখন শোনো, এটা শুধু একটি ক্ষেত্রেই ঘটে<br>অথচ নেকড়েরা প্রতিনিয়ত অনেক কারণে মারা যায়—<br>ভাল্লুক তাদের মেরে ফেলে,<br>বাঘ তাদের শিকার করে<br>তারা মৃগী রোগে আক্রান্ত হয়,<br>স্যামন মাছের কাঁটাও বিঁধে যায় তাদের গলায়,<br>মরার জন্য দৌড়ে যায়<br>আর এর কারণ কেউ জানে না<br>আর হয়তো তার কানের সমস্যার কথা কখনো শোননি।</p><p>তারা কানে খুব ভালো শোনে,<br>মাথার ওপর দিয়ে মেঘ উড়ে গেলেও শুনতে পায়।<br>আর কখনো কখনো এমন ঘটে, বাতাসে উড়ে আসা<br>ধুলাবালু উড়ে এসে তাদের কানে ঢুকে যায়<br>আর ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়<br>তারা পাগল হয়ে ওঠে খাড়া হয়ে দাঁড়াবার জন্য,<br>কোনো কিছুর সাহায্য না নিয়েই।<br>ক্রোধে মারা যায়।</p><p>নিজেকে টিকিয়ে রাখতে হবে<br>শুধু এটুকুই জানতে পেরেছি আমরা।</p><p>প্রথমে সে ছোট ছোট ধাপ দেয়<br>স্রোতকে কাজে লাগিয়ে।<br>তারা তাকে যে নাম ধরে<br>ডাকে, তা হলো হুইসল,<br>শব্দটির মানে ‘বসন্তে দেখে ভালো লাগল’।<br>বিষয়বস্তু যত কঠিন করবে, তত কঠিন হবে।</p>

Prothomalo

View more
কেমন ছিল ‘ডিজাইন ইন বাংলাদেশ সপ্তাহ’
কেমন ছিল ‘ডিজাইন ইন বাংলাদেশ সপ্তাহ’

রাজধানীর ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারে ৬ ও ৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হলো ‘ডিজাইন ইন বাংলাদেশ সপ্তাহ ২০২৬’। এ আয়োজনের উল্লেখযোগ্য দিক নিয়ে রইল বিস্তারিত...

অক্টোবর ৯, ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যালঘু–অধ্যুষিত ২ আসনের উপনির্বাচনে বিজেপির জয়
পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যালঘু–অধ্যুষিত ২ আসনের উপনির্বাচনে বিজেপির জয়

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুটি আসনেই উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মুসলিম ভোটার রয়েছেন। রেজিনগরে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ৭৪ শতাংশ এবং নন্দীগ্রামে প্রায় ৩০ শতাংশ।

অক্টোবর ৯, ২০২৬
নাটোরে ভটভটির ধাক্কায় আহত প্রাইভেট কারের তিন আরোহী
নাটোরে ভটভটির ধাক্কায় আহত প্রাইভেট কারের তিন আরোহী

নাটোরের লালপুরে ভটভটির ধাক্কায় একটি প্রাইভেট কারের তিন যাত্রী আহত হয়েছেন

অক্টোবর ৯, ২০২৬
৫ বছর বয়সী শিশু গাড়িতে, তবু অভিবাসীকে লক্ষ্য করে আইসিই এজেন্টের গুলি
৫ বছর বয়সী শিশু গাড়িতে, তবু অভিবাসীকে লক্ষ্য করে আইসিই এজেন্টের গুলি

আইন প্রয়োগকারী সংস্থা জানায়, ওই ডমিনিকান অভিবাসীর আঘাত গুরুতর নয়। তাঁর ঘাড় ঘেঁষে গুলিটি চলে যায়। পুলিশ তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেছে।

অক্টোবর ৯, ২০২৬
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শরিয়াহর পক্ষের শক্তিকে নির্বাচিত করার আহ্বান চরমোনাই পীরের
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শরিয়াহর পক্ষের শক্তিকে নির্বাচিত করার আহ্বান চরমোনাই পীরের

চরমোনাই পীর বলেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো সরকার এসব লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে পারেনি।

অক্টোবর ৯, ২০২৬
চালকের আসনে শাবনূর, পাশে গান শোনাচ্ছেন রবি চৌধুরী—আরও যা ঘটল
চালকের আসনে শাবনূর, পাশে গান শোনাচ্ছেন রবি চৌধুরী—আরও যা ঘটল

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে চিত্রনায়িকা শাবনূর ও সংগীতশিল্পী রবি চৌধুরী নব্বই দশকের সখ্যতা মলিন না হওয়ার প্রমাণ দিলেন

অক্টোবর ৯, ২০২৬
গ্রামের বৈঠকখানা কোথায় হারিয়ে গেল
গ্রামের বৈঠকখানা কোথায় হারিয়ে গেল

গ্রামের সেই ঘরগুলো হয়তো একদিন পুরোপুরি হারিয়ে যাবে। কিন্তু কোনো এক সন্ধ্যায়, পুরোনো বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে যদি হঠাৎ মনে হয়, ‘এখানে তো একসময় সবাই বসত’; তাহলে বুঝতে হবে, ঘরটি হারালেও তার স্মৃতি এখনো আমাদের ভেতরে বসে আছে। হয়তো সেটিই বৈঠকখানার শেষ আশ্রয়।

অক্টোবর ৯, ২০২৬
‘পয়সার বিনিময়ে সারের লাইসেন্স দেবেন, তা হবে না’, বললেন এমপি
‘পয়সার বিনিময়ে সারের লাইসেন্স দেবেন, তা হবে না’, বললেন এমপি

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে সার ডিলার নিয়োগে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) লুৎফুল্লাহেল মাজেদ।

অক্টোবর ৯, ২০২৬
কে এই ধ্রুব রাঠি
কে এই ধ্রুব রাঠি

কে এই ধ্রুব রাঠি

অক্টোবর ৯, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন