সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনায় বিধিনিষেধের কারণে ঢাকা থেকে এ পর্যন্ত ১৪৬টি সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইট স্থগিত বা বাতিল হয়েছে। ফলে এসব ফ্লাইটের ২২ হাজার ২৪১ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন।
প্রথম আলোর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২৫ অক্টোবর ১০টি পরিবারের ১০ জন গৃহিণীর প্রত্যেককে ২০টি করে মোট ২০০টি কোয়েল পাখির বাচ্চা ও আবাসন উপহার দেওয়া হয়েছে।
আজ তৌসিফের জন্মদিন। জন্মদিনে স্বামীর অভিনীত কাজগুলোর মধ্য থেকে নিজের পছন্দের ১০টির নাম জানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী জারা মাহবুব।
<p>ব্যালন ডি’অরের ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় লড়াইটা আসলে শেষ পর্যন্ত নেমে এসেছিল তিনজনে—হ্যারি কেইন, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লামিনে ইয়ামাল। পারফরম্যান্সে কেউ কারও চেয়ে খুব একটা পিছিয়ে ছিলেন না। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক থিয়েরি অঁরি বারবার তাই বলেছেন, ‘ভেরি ক্লোজ।’ অর্থাৎ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই।</p><p>সেই লড়াইয়ে ইয়ামাল ও এমবাপ্পেকে দর্শক বানিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম ব্যালন ডি’অর জিতেছেন কেইন। সিদ্ধান্তটি নিয়ে বড় কোনো বিতর্কও নেই। অনেক বিশেষজ্ঞের মতেই যোগ্য খেলোয়াড়ের হাতেই উঠেছে পুরস্কার।</p><p>তবু প্রশ্ন থেকে যায়। ইয়ামাল ও এমবাপ্পেকে পেছনে ফেললেন কীভাবে কেইন?</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/2ahf33pb/750649-01-02.jpg"><figcaption>সেরা উদীয়মান তরুণের পুরস্কার কোপা ট্রফি জয়ের পর মঞ্চে লামিনে ইয়ামাল</figcaption></figure><p>উত্তর খুঁজতে তিনজনের মৌসুমের দিকে তাকাতে হবে।</p><p>২০২৫-২৬ মৌসুমে বার্সেলোনা ও স্পেনের হয়ে ৫৭ ম্যাচে ২৫ গোল করেছেন ইয়ামাল। করিয়েছেন আরও ২০টি। বার্সেলোনাকে জিতিয়েছেন লা লিগা ও স্প্যানিশ সুপার কাপ। স্পেনকে বিশ্বকাপও।</p><p>এমবাপ্পে মৌসুম শেষ করেছেন ৫৮ গোল নিয়ে। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ৪২ গোল। লা লিগায় সর্বোচ্চ ২৫টি, চ্যাম্পিয়নস লিগে ১৫টি। বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জেতার পাশাপাশি ২২ গোল নিয়ে হয়েছেন বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ফ্রান্সকে তুলেছেন সেমিফাইনালে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/609bx8ws/750491-01-02.jpg"><figcaption>এবারও ব্যালন ডি’অর জিততে পারলেন না কিলিয়ান এমবাপ্পে</figcaption></figure><p><br>আর কেইন? ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ৬৫ ম্যাচে ৭৩ গোল! সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৮টি। অর্থাৎ ৮১ গোলে সরাসরি অবদান। এমবাপ্পের ক্ষেত্রে সংখ্যাটি ৭১, ইয়ামালের ৪৫। এখানেই প্রথম বড় ব্যবধান।</p><h3>ভোটের অঙ্কে ইয়ামালের সর্বনাশ</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2024-07/50a5f506-b6ec-4047-be9a-ebaa4664409b/New%20Phototastic%20Collage.jpg"><figcaption> রদ্রি ও লামিনে ইয়ামাল।</figcaption></figure><p>ব্যালন ডি’অর দেয় ফরাসি সাময়িকী ‘ফ্রান্স ফুটবল’। সাময়িকীটির প্রধান সম্পাদক ভিনসেন্ট গার্সিয়া ফরাসি সংবাদমাধ্যম লেকিপকে জানিয়েছেন, কেইনের জয় মোটেও সহজ ছিল না। স্পেনের দুই তারকার মধ্যে ভোট ভাগাভাগি হওয়ায় সুবিধা পেয়েছেন ইংলিশ স্ট্রাইকার।<br>গার্সিয়ার ভাষায়, ‘আমি মন থেকে বিশ্বাস করি, রদ্রি, লামিন ইয়ামাল থেকে কিছু ভোট কেড়েছেন। বিশ্বকাপজয়ী স্পেন জাতীয় দলে রদ্রি ও লামিনের মধ্যে স্পষ্ট ভোট ভাগাভাগি হয়েছে, আর এই ভাগাভাগির মাশুল তাদের বড়ভাবেই গুনতে হলো।’<br>অর্থাৎ মাঠে বিশ্বকাপ জিতে ইয়ামাল যা অর্জন করেছিলেন, ভোটের লড়াইয়ে তার পুরো সুফল পাননি।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/football/8wf198055f">কেইন ও পুতেয়াসের মুখে ব্যালন ডি’অর জয়ের হাসি</a></aside><h3>৭৩ গোলের অবিশ্বাস্য মৌসুম</h3><p>ব্যালন ডি’অরের পারফরম্যান্স বিবেচনার সময়সীমা ছিল ২০২৫ সালের ৩ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৯ জুলাই। এই সময়ে কেইনের ৭৩ গোলের মধ্যে ৬১টিই বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের অন্য যেকোনো ফুটবলারের চেয়ে ১৯ গোল বেশি। এই পরিসংখ্যানের মাহাত্ম্য বুঝতে ইতিহাসের দিকে তাকানো যাক।</p><p>ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে খেলা ফুটবলারদের মধ্যে এক মৌসুমে ৭০ গোলের বেশি করার কীর্তি এর আগে ছিল শুধু লিওনেল মেসির। সেই মৌসুমে ব্যালন ডি’অরও জিতেছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। কেইন এবার সেই বিরল উচ্চতায় পৌঁছেছেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-09-18/xq40iart/A-positive-way-to-end-this-World-Cup.-Congrats-bukayosaka87-on-a-brilliant-hat-trick-Thank-you.jpg"><figcaption>বায়ার্ন মিউনিখের ইংলিশ তারকা হ্যারি কেইন</figcaption></figure><p>শুধু গোল নয়, শিরোপাও জিতেছেন। বায়ার্নকে জিতিয়েছেন বুন্দেসলিগা, জার্মান কাপ ও জার্মান সুপার কাপ। চ্যাম্পিয়নস লিগে তুলেছেন সেমিফাইনালে। সেখানে পিএসজির কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে বায়ার্ন। অন্যদিকে ইয়ামালের বার্সেলোনা ও এমবাপ্পের রিয়াল মাদ্রিদ বিদায় নিয়েছে কোয়ার্টার ফাইনালেই।</p><h3>বিশ্বকাপের হিসাবেও কেইন পিছিয়ে নেই</h3><p>ইয়ামালের সবচেয়ে বড় অর্জন বিশ্বকাপ জয়। তবে টুর্নামেন্টে গোল করেছেন মাত্র একটি। মৌসুমের শেষ দিকে চোটেও পড়েছিলেন।</p><p>এমবাপ্পে বিশ্বকাপে দুর্দান্ত খেললেও ফ্রান্সকে শিরোপা জেতাতে পারেননি। রিয়ালের হয়েও জেতেননি কোনো ট্রফি।</p><p>কেইনের ইংল্যান্ডও বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছিল। তবে ফ্রান্সকে হারিয়ে তৃতীয় হয়েছে। বিশ্বকাপে ৬ গোল করেছেন কেইন। ইংল্যান্ডের হয়ে পুরো মৌসুমে ১২টি। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও গড়েছেন।<br>অর্থাৎ তিনজনের মধ্যে বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ পেয়েছেন শুধু ইয়ামাল। কিন্তু পুরো মৌসুমের ধারাবাহিকতায় কেইনের পাল্লাই ভারী।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/football/dceu5978eb">ব্যালন ডি’অর জয়ের পর কি তাহলে ‘স্যার’ হ্যারি কেইন</a></aside><p>ব্যালন ডি’অর শুধু কয়েকটি অসাধারণ মুহূর্তের পুরস্কার নয়। পুরো মৌসুমের শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি। সেই বিচারে কেইনের ৭৩ গোল, তিনটি ঘরোয়া শিরোপা এবং বিশ্বকাপ ও চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে ওঠা একসঙ্গে বড় পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।<br>ইয়ামালের বিশ্বকাপ আছে। এমবাপ্পের গোলের রেকর্ড আছে। কিন্তু কেইনের আছে গোল, শিরোপা ও ধারাবাহিকতা। তিনের এমন সমন্বয়ই তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে সোনালি বলের কাছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/football/z3pbxxhodu">মেসি এবার ব্যালন ডি’অরে পঞ্চম, অন্যরা কে কত নম্বরে</a></aside>
<p>শুভসন্ধ্যা। রাজনীতি, জাতীয়, আইনশৃঙ্খলা, বিনোদনসহ আলোচিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আজ মঙ্গলবার দিনভর প্রথম আলো অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে নানা খবর। এর অনেকগুলোই হয়তো আপনার চোখ এড়িয়ে গেছে। সন্ধ্যার অবসরে চোখ বুলিয়ে নিন সারা দিন প্রথম আলো অনলাইনে প্রকাশিত আলোচিত পাঁচ খবরে:</p><h3>ঢাকার পূর্বাঞ্চল ও চট্টগ্রামের একাংশে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, দুই ঘণ্টা পর সরবরাহ শুরু</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/jxgjlb2n/WhatsApp-Image-2026-10-27-at-3.05.40-PM.jpeg"><figcaption>ছবি: প্রথম আলো গ্রাফিক্স </figcaption></figure><p>দেশের বড় একটি অঞ্চলে বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার বেলা পৌনে একটার দিকে ঢাকার পূর্বাঞ্চল ও চট্টগ্রামের একাংশে বিদ্যুৎ চলে যায়। সচিবালয়, বাংলাদেশ ব্যাংকেও বিদ্যুৎ চলে যায়। বেলা আড়াইটার দিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি বলছে, বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণ এখনো জানা যায়নি।<br><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/kc2mnlkc4m" target="_blank">বিস্তারিত পড়ুন</a>: </p><h3>সৌদিতে প্রবাসীদের মৃত্যুদণ্ড: ‘ভাষা বোঝেন না, আইনজীবী পান না, লাশও ফেরে না’</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/hkvytu1i/saudi_law_02.jpg"><figcaption>প্রতীকী ছবিতে মৃত্যুদণ্ড</figcaption></figure><p>গ্রেপ্তার হওয়া থেকে রায় পর্যন্ত এবং কারও ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পরও সৌদি বিচারব্যবস্থার ভেতর দিয়ে সংশ্লিষ্ট বন্দী ও তাঁদের পরিবারগুলো কীভাবে পথ চলেছে, সেটা খতিয়ে দেখেছে অ্যামনেস্টি। সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে ১৩ জনের পরিবার, ৪ জনের নিজ সম্প্রদায়ভুক্ত সদস্য ও ১ জন কনস্যুলার কর্মকর্তার। আরও ১৫ জনের আদালতের নথিও পর্যালোচনা করা হয়েছে। পর্যালোচনার ফলাফল হলো, কম পড়াশোনা, ভাষাজ্ঞান আর টাকার অভাব থাকার কারণে এসব মানুষের দ্বিগুণ ক্ষতি হচ্ছে।<br><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/rkosffnr41" target="_blank">বিস্তারিত পড়ুন</a>:</p><h3>শ্যালিকাকে বিয়ে, মুখে চুনকালি মাখিয়ে যুবক ও তাঁর দুই স্ত্রীকে গ্রামছাড়া</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/fbytehmk/Naugaon.jpg"><figcaption>আপন দুই বোনকে বিয়ে করায় মুখে চুন-কালি মাখিয়ে নওগাঁর মহাদেবপুরে এক দম্পতিকে গ্রামছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে</figcaption></figure><p>নওগাঁয় প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কে থাকা অবস্থায় আপন শ্যালিকাকে বিয়ে করায় এক যুবক ও তাঁর দুই স্ত্রীর মুখে চুনকালি মাখিয়ে এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে গ্রামছাড়া করার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার রাতে জেলার মহাদেবপুর উপজেলার একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।<br><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/kwsnkoqkux" target="_blank">বিস্তারিত পড়ুন:</a></p><h3>অভিষেকের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি, নিউজিল্যান্ডকে টি–টুয়েন্টি শেখাল ভারত</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/pp6cydg7/HVoO6OXbwAAoIfm.jpg"><figcaption>৩৫ বলে সেঞ্চুরি করেছেন অভিষেক</figcaption></figure><p>দলটি টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে তুলেছিল ১৯৮ রান। তবে সেই রান ১৩.২ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়েই পেরিয়ে গেছে ভারত। নিউজিল্যান্ডকে তাদেরই দেশের মাটিতে নতুন ধারার টি–টুয়েন্টি শিখিয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজটা দুই ম্যাচ হাতে রেখেই জিতে গেল ভারত। রান তাড়ায় ভারতের দুই ওপেনার অভিষেক শর্মা ও বৈভব সূর্যবংশী যেভাবে ব্যাটিং করেছেন, তাতে বোলারদের জন্য শুধুই মায়াই হতে পারে। দুজনে মিলে ওপেনিং জুটিতে রান তুলেছেন ১৩৩, আর সেটা মাত্র ৪৪ বলে।<br><a href="https://www.prothomalo.com/sports/cricket/3np71rz8xf" target="_blank">বিস্তারিত পড়ুন</a>:</p><h3>সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন কাঠামোয় বাড়তি বেতন রোববার, অনেকের বেতন নির্ধারণে জটিলতা</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2020-12/614f1f56-0436-44d5-bd9e-5fdd0cbcf173/451c7e8d-3819-4f50-80df-9f0604330e9b.jpg"></figure><p>নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী আগামী ১ নভেম্বর চার মাসের বকেয়াসহ সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের বেতন দেবে সরকার। কিন্তু অনেক সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারী তা পাবেন না। কারণ, অনেকেই নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করতে পারেননি। নতুন বেতনকাঠামোর জটিলতা দূর করতে অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের কাছে আবেদন করলেও গত সোমবার পর্যন্ত এর সুরাহা হয়নি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।<br><a href="https://www.prothomalo.com/business/economics/s7qtj2rv4j" target="_blank">বিস্তারিত পড়ুন</a>: </p>
‘ক্রসফায়ারের’ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
<p>২০০ বছরের পুরোনো হাটের নাম ‘রামসুন্দর মিস্ত্রির হাট’। পরে পরিচিতি পায় থানার হাট নামে।</p><p>প্রবীণদের স্মৃতিতে সেই বটতলার হাটটি এখনো জমজমাট। গাছের চারপাশে ছোট ছোট ঝুপড়ি। মাটির ঘরে বিক্রেতাদের পসরা। মটকায় রাখা শুঁটকি। পাশে চাল-ডাল, সুপারি আর মাছ-মাংসের দোকান। দিনভর হাঁকডাক, বেচাকেনা–গল্প।</p><p>বিকেল হলে বটতলায় বসত গানের আসর। হারমোনিয়াম বাজিয়ে গাইতেন শিল্পীরা। গান শুনতে মানুষ জড়ো হতেন। সন্ধ্যা নামলেও হাটের আসর সাঙ্গ হতো না। বিক্রেতারা চেরাগ জ্বালিয়ে দিতেন। দিনের আয়োজন তখন আলো পেত ছোট ছোট শিখায়। কেনাবেচা চলত সেই আলোতেই।</p><p>ইতিহাস গ্রন্থে চট্টগ্রামের পটিয়ার এই হাটের নাম পাওয়া যায় ‘রামসুন্দর মিস্ত্রির হাট’। পরে পরিচিতি পায় থানার হাট নামে। দীর্ঘ পথচলায় হাটটির সঙ্গে জড়িয়েছে পটিয়ার গ্রামের উৎপাদন, মানুষের প্রয়োজন আর বহু পরিবারের জীবিকা। গ্রামের পথ পেরিয়ে কৃষকেরা আসতেন ফসল নিয়ে। বেচাকেনার ফাঁকে পরিচিতজনের সঙ্গে দেখা–সাক্ষাতেরও কেন্দ্র হয়ে ওঠে হাটটি।</p><p>আরাকান সড়কের ধারে ছিল এই হাট। পথের যাত্রী, গ্রামের কৃষক আর নানা এলাকার ব্যবসায়ীর আনাগোনায় একসময় মুখর বটতলা এখন নীরব। পটিয়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে গাছটি দাঁড়িয়ে আছে একা। তার নিচে আর হাট বসে না। পুরোনো হাটের স্মৃতি খুঁজতে সেখানে কথা বললাম প্রবীণ শিক্ষক ও বাসিন্দাদের সঙ্গে। তাঁদের কথায় ফিরে এল ঝুপড়ি, মাটির ঘর, গানের আসর আর চেরাগের আলোয় কেনাবেচার সেই দিনগুলো।</p><p>ষোড়শ শতাব্দীর শেষভাগ থেকে সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত (১৫৮১-১৬৬৬ খ্রিষ্টাব্দ) চট্টগ্রাম অঞ্চল সরাসরি আরাকান রাজাদের অধীনে শাসিত হতো। সে সময় চট্টগ্রাম এবং মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের যাতায়াতের প্রধান সড়ক ছিল আরাকান সড়ক। বহু বদলের পর এটি এখন চট্টগ্রাম–কক্সবাজার সড়ক হিসেবে পরিচিত। সাবেক এই আরাকান রোডের ধারেই বসত রামসুন্দর মিস্ত্রির হাট। </p><p>হাটের চারপাশের জনজীবন বুঝতে ফিরে তাকাতে হয় আরাকান সড়কের দিকেও। এই পথের গাছপালা আর গ্রামীণ সৌন্দর্যের একটি ছবি পাওয়া যায় সাহিত্যিক ও সাংবাদিক দক্ষিণারঞ্জন বসু সম্পাদিত <em>ছেড়ে আসা গ্রাম</em> বইতে। তিনি স্মৃতিচিত্রে বলছেন, ‘সুদীর্ঘ আট-দশ হাত চওড়া আরাকান সড়কের দু-ধারে সারবন্দি বড় বড় গাছ-অশ্বত্থ, বট, আম, সোনালু আর গামার। নব কিশলয়ে ফুলে ফুলে তাদের বসন্তশ্রী মনে জাগায় সৃষ্টিকর্তার রস মাধুর্য। কৃষ্ণচূড়ার মঞ্জরি রং ধরায় মানুষের মনে, ভোরের স্নিগ্ধ বাতাস বকুল ফুল কুড়োবার জন্যে ডাকে।’</p><p>আরাকান সড়কের ধারে বটতলায় গড়ে ওঠা বাণিজ্য মানুষের প্রয়োজনেই বিস্তৃত হয়েছে। সময়ের সঙ্গে হাটের ঠিকানা বদলেছে। কিন্তু প্রায় দুই শ বছরের পুরোনো এই বাণিজ্যকেন্দ্রের সঙ্গে গ্রামের সম্পর্ক ছিন্ন হয়নি। এখনো এখানে আসে খেতের ফসল, পুকুরের মাছ, ঘরে পালিত গবাদিপশু। পণ্যের হাতবদলের সঙ্গে কৃষক পান ফসলের দাম। ব্যবসায়ীর লাভ হয়। শ্রমিক পান মজুরি। হাটের কেনাবেচা এভাবেই ছড়িয়ে পড়ে বহু পরিবারের সংসারে।</p><p><strong>রামসুন্দর মিস্ত্রির হাট থেকে থানার হাট</strong></p><p>পটিয়ার প্রবীণদের বর্ণনা অনুযায়ী, থানা প্রতিষ্ঠার আগেই পটিয়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের সামনের এলাকায় হাটটি বসিয়েছিলেন রামসুন্দর মিস্ত্রি নামের এক জমিদার। স্থানীয় প্রশাসনিক ইতিহাসের বিবরণে পটিয়ায় থানা প্রতিষ্ঠার সাল উল্লেখ করা হয়েছে ১৮৪৫। প্রবীণদের ভাষ্য, পরে থানাকে ঘিরে হাটের বিস্তার ঘটে। মানুষের মুখে পরিচিতি পায় থানার হাট নামে।</p><p>হাটের স্মৃতি খুঁজতে বটতলায় গিয়ে কথা হলো মো. মিজানুর রহমানের সঙ্গে। পটিয়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক তিনি। এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীও ছিলেন। তাঁর স্কুলজীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বটতলার বাজার।</p><p>এক টাকায় এক সের গরুর মাংস কেনার কথা মনে আছে তাঁর। মিজানুর রহমান বলেন, ‘তখন স্কুলে পড়ি। সালটা ১৯৭৫-৭৬। সে সময় বটগাছের নিচেই বসত হাট। সপ্তাহে দুই দিন—সোম ও শুক্রবার। প্রতিদিন ভোর থেকে শুরু হতো কেনাবেচা। দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসত হাটে। শঙ্খ নদের পাড়ে হওয়া সবজি নিয়েও আসতেন কৃষকেরা। জিনিসপত্রের দাম স্বাভাবিকভাবেই ছিল কম।’</p><p>থানার হাটের বিস্তারে যাতায়াতের ভূমিকা ছিল বড়। কাছেই রেলস্টেশন। কিছুটা দূরে চাঁনখালী খাল। প্রবীণদের স্মৃতিতে আছে খালে নৌকা ভেড়ার দৃশ্য। ট্রেনে আসত গরু-ছাগল। গরুর গাড়ি ও জিপেও আসতেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।</p><p>পটিয়ার পাশাপাশি বোয়ালখালী, আনোয়ারা, সাতকানিয়া, বাঁশখালী ও চকরিয়া উপজেলা থেকে মানুষ আসতেন। ফলে স্থানীয় উৎপাদক বেশি ক্রেতার কাছে পণ্য বিক্রির সুযোগ পেতেন। এলাকার মানুষও পেতেন দূরের পণ্য। জলপথ, সড়ক ও রেলের সংযোগে হাটটি হয়ে উঠেছিল আঞ্চলিক বাণিজ্যের কেন্দ্র।</p><p><strong>বিনোদনের কেন্দ্র</strong></p><p>পটিয়া সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল আলিমের স্মৃতিতে পুরোনো হাটের আরেক ছবি আছে। বিকেলে বটগাছের নিচে বসত গানের আসর। হারমোনিয়াম বাজিয়ে গাইতেন শিল্পীরা। পুরুষেরা নারীর বেশে নেচেও আনন্দ দিতেন হাটে আসা মানুষকে। তিনি নিজেও এমন আয়োজন দেখেছেন। অধ্যাপক আবদুল আলিম জানালেন, গান ও নাচ দেখতে মানুষ জড়ো হতেন। ভিড় বাড়লে বেচাকেনাও বাড়ত। সন্ধ্যা নামলে কুপি জ্বালিয়ে চলত কেনাবেচা। হাট তাই শুধু পণ্য বিনিময়ের জায়গা ছিল না। পরিচিতজনের সঙ্গে দেখা, গল্প আর লোকজ বিনোদনেরও উপলক্ষ ছিল।</p><p><strong>সময়ের সঙ্গে পালাবদল</strong></p><p>জীবনের ৯ দশক পেরিয়েছেন আবদুস সোবহান। বয়সের ভারে ভারী বোঝা বহনের শক্তি কমেছে। হাটে ঘুরে বাজার করার টানটুকু কমেনি। তাই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে এসেছেন থানার হাটে। শৈশব থেকে চেনা এই হাটের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ জীবনের কত স্মৃতি। বটতলা থেকে রেলস্টেশনের পেছনের আজকের বাজার—হাট যতবার ঠিকানা বদলেছে, সোবহানও সেই পথে হেঁটেছেন।</p><p>হাটে ঘুরতে ঘুরতে দেখতে দেখতে সোবহান ফিরে গেলেন পুরোনো দিনে। তাঁর ছোটবেলার বাজার ছিল ছোট পরিসরের। সময়ের সঙ্গে দোকান বেড়েছে। পণ্যের তালিকাও দীর্ঘ হয়েছে। তিনি জানালেন, তখন গাছের চারা মিলত না। এখন চারা ও বীজ পাওয়া যায়। মুদিদোকানে এসেছে নানা রকমের পণ্য। শৈশবের পরিচিত হাটটি তাঁর চোখের সামনেই বড় হয়েছে, বদলে নিয়েছে নিজের চেহারা।</p><p>পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৯ সালের দিকে হাটটি বর্তমান ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চত্বরে নেওয়া হয়। সেখানে ছিল ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত। আদালত নির্মাণের প্রয়োজনে আবারও স্থানান্তর করা হয়। পটিয়া রেলস্টেশনের পেছনে প্রায় চার একর জায়গায় গড়ে ওঠে নতুন থানার হাট।</p><figure></figure><p>হাটের একটি অংশ নিয়ে যাওয়া হয় পটিয়া সরকারি কলেজের দক্ষিণ পাশে। সেই জায়গাও পুরোনো থানার হাট নামে পরিচিত। কিছু অবকাঠামো আছে। কিন্তু নিয়মিত কেনাবেচার আগের ব্যস্ততা নেই। পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরোনো থানার হাট এবার ৫২ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে।</p><p>পুরোনো ও নতুন—দুই জায়গায় বাণিজ্যের ধরনও আলাদা হয়েছে। কোথাও গুরুত্ব পেয়েছে মৌসুমি পশুর বাজার। কোথাও নিয়মিত কেনাবেচা হয়। পৌরসভা ও থানার হাট পৌর বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, হাটবারে নতুন থানার হাটে দুই থেকে আড়াই লাখ ক্রেতা-বিক্রেতা সমবেত হন। এক হাজারের বেশি বিক্রেতা পণ্য নিয়ে বসেন। আর ক্রেতাদের মধ্যে ৪০ শতাংশই নারী।</p><p><strong>মাঠের ফসল, ঘরের সম্বল</strong></p><p>থানার হাটের পসরা আসে মূলত পটিয়ার বিভিন্ন গ্রাম থেকে। সেখানে মিষ্টিকুমড়া, আলু, টমেটোসহ নানা সবজির আবাদ হয়। গোবিন্দারখিলের কৃষক আবু তোরবের প্রায় চার কানি জমি। কখনো মিষ্টিকুমড়া, কখনো আলু-টমেটো, কখনো ধান। ফলানো ফসল নিয়ে আসেন থানার হাটে। চাষের কথা বলতে বলতে তিনি খুলে বসেন সংসারের গল্পও। এই ফসলের আয়েই দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। এখন ঘরে তিনি আর তাঁর স্ত্রী। আয় অল্প, তাতেই দিন চলে।</p><p>কৃষকের জমি থেকে হাটের দোকান পর্যন্ত পণ্য পৌঁছানোর কাজে আছেন ব্যবসায়ীরাও। আবদুল হাকিম আখ আনেন চন্দনাইশ থেকে। পটিয়ার এই বাসিন্দা প্রায় ৩৫ বছর ধরে আখ বিক্রি করছেন। বাবার হাত ধরে ব্যবসায় এসেছিলেন। এখন প্রতি হাটবারে তাঁর বেচাকেনা হয় ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা।</p><p>মাঠের ফসলের বাইরে হাটের আরও পণ্য আছে। কেলিশহরের কুমারপাড়ায় এই হাটের জন্যই তৈরি হয় মাটির হাঁড়ি, পাতিল, থালা ও ঢাকনা। এই পাড়ার বাসিন্দা পাখিজা বেগম (৫০) চার দশক ধরে মাটির তৈজসপত্র তৈরি করছেন। তাঁর তৈরি পাত্র খুচরা বিক্রেতারা কিনে নিয়ে যান থানার হাটে। পাখিজার মাস শেষে সব খরচ বাদে থাকে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা। মাটিকে গৃহস্থালির পাত্র করে তোলার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা আছে তাঁর; তবে উপার্জন সামান্য।</p><p><strong>পুরোনো হাটের নতুন দিনের আশা</strong></p><p>একসময় নৌকা ও গরুর গাড়িতে পণ্য আসত থানার হাটে। এখন বদলেছে পরিবহনের ধরন, বেড়েছে মানুষের সমাগম। সেই সঙ্গে হাটকে আরও গোছানো করে তোলার প্রয়োজনও এসেছে। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও পর্যাপ্ত জায়গা নিশ্চিত হলে কৃষক, ব্যবসায়ী ও ক্রেতা—সবার জন্যই কেনাবেচা সহজ হবে।</p><p>থানার হাট পৌর বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলামের সঙ্গে হাটের অতীত ও বর্তমান নিয়ে আলাপ হলো। তিনি বলেন, ‘প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে থানার হাট গ্রামের উৎপাদন আর মানুষের জীবিকার মধ্যে যোগসূত্র হয়ে আছে। কৃষক এখানে ফসলের ক্রেতা পান, ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করেন। এই ঐতিহ্য নিয়ে আমরা গর্ব করি।’</p><p>হাটটিকে আরও সুন্দর ও গোছানো করে গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। প্রায় চার একর আয়তনের এই হাটের কিছু অংশ দখল হয়ে গেছে বলে জানালেন নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, দখল হওয়া অংশ উদ্ধার হলে চলাচলের পরিসর বাড়বে। ময়লা-আবর্জনা ফেলা এবং নিয়মিত অপসারণের ভালো ব্যবস্থাও প্রয়োজন। স্থানীয় প্রশাসন ও ব্যবসায়ীরা মিলে কাজ করলে এই পুরোনো হাট আগামী প্রজন্মের জন্য আরও সমৃদ্ধ বাণিজ্যকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।</p><p>বটতলার হাট আজ পটিয়ার পৌর এলাকার বড় বাজার। এই যাত্রা গ্রামের সঙ্গে শহরের সম্পর্ক বদলে যাওয়ারও গল্প। পটিয়া শহর বেড়েছে, মানুষের চাহিদা বেড়েছে। সেই চাহিদার জোগান দিতে গ্রামও তার উৎপাদন নিয়ে এগিয়ে এসেছে। প্রায় দুই শ বছরের থানার হাট দাঁড়িয়ে আছে এই দুইয়ের সংযোগস্থলে। তাকে ঘিরে আগামী দিনের সম্ভাবনাও এখানেই—পটিয়া যত এগোবে, তার গ্রামের মানুষ সেই অগ্রযাত্রার কতটা অংশীদার হতে পারবেন।</p>
আজ মঙ্গলবার দুপুরে স্থাপনাটির নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয় স্থানীয় প্রশাসন। এ সময় ওই স্থানে একটি ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয়।
<p>পাঠকের পাঠানো ছবি থেকে বাছাই করা ছবি নিয়মিত প্রকাশিত হয় নাগরিক সংবাদে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/dhpbfqj3/201.jpeg"><figcaption> ভোরের স্নিগ্ধ আলোতে শিশিরভেজা ধানের খেত। বালিগ্রাম, বাকেরগঞ্জ, বরিশাল</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/spy4tiqa/202.jpg"><figcaption>বরেন্দ্র অঞ্চলে আমন ধান পাকা শুরু হয়ে গেছে। ধান পাকার আগে খেতে কারেন্ট পোকা (বাদামি গাছফড়িং) আক্রমণ করে। কারেন্ট পোকার আক্রমণ ঠেকাতে খেতে কীটনাশক দিতে যাচ্ছেন এক কৃষক। ছবিটি সম্প্রতি নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলা থেকে তোলা</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/glznp9zr/203.jpg"><figcaption>উত্তর জনপদে ভোরের দিকে হালকা কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে ফসলের মাঠ। কুয়াশার চাদর ভেদ করে সূর্যের ম্লান আলো জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। ভেলারহাট, রুহিয়া, ঠাকুরগাঁও। ছবিটি সম্প্রতি তোলা</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/5zdd656d/204.jpg"><figcaption>ফুটপাতে চায়ের দোকান। জীবিকার তাগিদে রাস্তার মাঝখানে চা, পান–সিগারেটের দোকান দিয়ে বসেছেন তিনি। সম্প্রতি রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বছিলা সড়কের তিন রাস্তার মোড় থেকে তোলা</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/ldv9m4uk/205.jpg"><figcaption>বিনা পারিশ্রমিকে স্থিরভাবে দাঁড়িয়ে জমির বপন করা বীজ পাহারায় কাকতাড়ুয়া। বেতুয়া, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ। ছবিটি সম্প্রতি তোলা</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/ojg3x0ok/206.jpg"><figcaption>নৌকায় ভেসে লাল শাপলার বিলে মুগ্ধ পর্যটকেরা। বর্ষা শেষে শরতের আবহে প্রকৃতি যখন নতুন রূপে সাজে, তখন বরিশালের উজিরপুরের সাতলা বিল হয়ে ওঠে লাল শাপলার অপূর্ব এক রাজ্য। ছবিটি সম্প্রতি তোলা</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/sj5kp8p8/207.jpg"><figcaption>সবুজের বুকে রূপপুর: সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত! রূপপুর, পাবনা</figcaption></figure>
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”