বাংলাদেশ

মন্ত্রীর আগ্রহে নেওয়া ৩৬৭ কোটি টাকার সাইলো প্রকল্প বাতিল, ১৫ একর জমিতে এখন কী হবে

নভেম্বর ১, ২০২৬
মন্ত্রীর আগ্রহে নেওয়া ৩৬৭ কোটি টাকার সাইলো প্রকল্প বাতিল, ১৫ একর জমিতে এখন কী হবে
মন্ত্রীর আগ্রহে নেওয়া ৩৬৭ কোটি টাকার সাইলো প্রকল্প বাতিল, ১৫ একর জমিতে এখন কী হবে
নওগাঁয় ৩৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৮ হাজার টন ধারণক্ষমতার স্টিল সাইলো নির্মাণ প্রকল্প বাতিল করেছে সরকার। অধিগ্রহণ করা জমিতে সিএসডি নির্মাণের পরামর্শ।

Prothomalo

View more
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর: কোথায় সম্ভাবনা, কোথায় পরীক্ষা
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর: কোথায় সম্ভাবনা, কোথায় পরীক্ষা

সফরের একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয় বা ‘বিগ-বি’ উদ্যোগকে ‘বিগ-বি ফর শেয়ার্ড প্রসপারিটি’ কাঠামোয় সম্প্রসারণ।

নভেম্বর ১, ২০২৬
সাতক্ষীরায় ১১–দলীয় জোটের লংমার্চের বাস খাদে, পথচারী নিহত
সাতক্ষীরায় ১১–দলীয় জোটের লংমার্চের বাস খাদে, পথচারী নিহত

সাতক্ষীরায় খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের পাশের খাদে বাস পড়ে এক পথচারী নিহত হয়েছেন। খুলনায় ১১–দলীয় জোটের লংমার্চ কর্মসূচি শেষে বাসটি সাতক্ষীরায় ফিরছিল।

নভেম্বর ১, ২০২৬
‘জম্বির মতো ডাইভ দিতাম, প্রতি রাতে কাঁদতাম’: আঙুল ভেঙেও যেভাবে আর্জেন্টিনার জন্য লড়েছিলেন মার্তিনেজ
‘জম্বির মতো ডাইভ দিতাম, প্রতি রাতে কাঁদতাম’: আঙুল ভেঙেও যেভাবে আর্জেন্টিনার জন্য লড়েছিলেন মার্তিনেজ

একজন গোলকিপারের জন্য হাতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র আর কী হতে পারে! সেই হাতের আঙুলই যখন স্বাভাবিকভাবে কাজ করে না, তখন প্রতিটি সেভই হয়ে ওঠে একেকটি যুদ্ধ।

নভেম্বর ১, ২০২৬
বাগ্‌দানের চার মাসেই বিচ্ছেদের গুঞ্জন, জিয়া শঙ্করের রহস্যময় পোস্ট
বাগ্‌দানের চার মাসেই বিচ্ছেদের গুঞ্জন, জিয়া শঙ্করের রহস্যময় পোস্ট

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক মন খারাপের পোস্ট শেয়ার করায় এমন আলোচনার জন্ম হয়েছিল ভারতীয় অভিনেত্রী জিয়া শঙ্করকে ঘিরে।

নভেম্বর ১, ২০২৬
জীবন কীভাবে মোড় নেয়, ভাবলে অবাক লাগে
জীবন কীভাবে মোড় নেয়, ভাবলে অবাক লাগে

<p>এ বছর ব্যালন ডি’অর জিতেছেন ইংলিশ ফুটবলার <strong>হ্যারি কেইন</strong>। কৈশোরে তাঁকেও কিন্তু অনেক বাধা, বিপত্তি, সংশয় পেরিয়ে আসতে হয়েছে। পড়ুন প্লেয়ারস ট্রিবিউন–এ প্রকাশিত তাঁর লেখার নির্বাচিত অংশের অনুবাদ।</p><p>ছোটবেলায় ‘ব্যর্থতা’ ব্যাপারটা ছিল খুব অদ্ভুত। </p><p>একটা ঘটনা বলি। আমাদের চিংফোর্ডের বাড়ির ঠিক পেছনেই একটা পার্ক ছিল। বাবা-ভাইয়ের সঙ্গে প্রায়ই সেখানে ফুটবল খেলতে যেতাম। কোনো গোলপোস্ট ছিল না, ছিল না খেলার উপযোগী কোনো নির্দিষ্ট মাঠও। একটু ঘাস আর দুটা গাছ পেলেই আমরা খুশি। তখন আমি আর্সেনালের যুব দলে খেলতাম। বয়স আট। একদিন বাবার সঙ্গে পার্কে যাচ্ছি। আচমকা বাবা বললেন, ‘তোমাকে একটা কথা বলার ছিল।’ </p><p>‘হ্যাঁ, বলো।’ </p><p>মনে আছে, এরপর বাবা কাঁধে হাত রাখলেন। বললেন, ‘শোনো হ্যারি, আর্সেনাল তোমাকে আর দলে রাখছে না।’ </p><p>সেই মুহূর্তে আমার কেমন লেগেছিল, তা ঠিক মনে করতে পারি না। সত্যি বলতে, এর অর্থ কী, সেটাও হয়তো তখন ভালোভাবে বুঝতাম না। বয়সটাই তো কম। তবে বাবার প্রতিক্রিয়া আমার মনে আছে। আর সেটা আমার মনে কী প্রভাব ফেলেছিল, সেটাও মনে আছে। বাবা আমাকে দোষারোপ করেননি। আর্সেনালকেও দোষ দেননি। এমনকি তাঁকে খুব একটা বিচলিতও মনে হয়নি। শুধু বলেছিলেন, ‘চিন্তা কোরো না, হ্যারি। আমরা আরও পরিশ্রম করব। সামনে এগিয়ে যাব। অন্য কোনো ক্লাব খুঁজে নেব। ঠিক আছে?’</p><p>এখন পেছন ফিরে তাকালে মনে হয়, আমার আরও বেশি মন খারাপ হওয়ার কথা ছিল। যে বাবা মরিয়া হয়ে চান, তাঁর সন্তান পেশাদার ফুটবলার হোক, তাঁর প্রতিক্রিয়া হয়তো অন্য রকম হতে পারত। কিন্তু আমার বাবা ছিলেন আলাদা। যা-ই ঘটুক না কেন, তিনি কখনো আমার ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি করেননি। সব সময় ইতিবাচক ছিলেন। যেকোনো পরিস্থিতিতে তাঁর মুখে কথা ছিল একটাই, ‘তো চলো, কাজে নেমে পড়ি।’ </p><p>আমরা সেটাই করেছিলাম।</p><p>আর্সেনাল ছাড়ার পর কিছুদিন এদিক-ওদিক খেলেছি। পরে নিজের এলাকার দলে ফিরে যাই। সেখান থেকে ওয়াটফোর্ডের এক স্কাউটের নজরে পড়ি। তিনি আমাকে ট্রায়ালে অংশ নেওয়ার প্রস্তাব দেন। জীবন কীভাবে মোড় নেয়, ভাবলে অবাক লাগে! ওয়াটফোর্ডের হয়ে টটেনহামের বিপক্ষে খেলার পরই টটেনহামের যুব একাডেমিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ পাই।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/travel/ubot77q13o">মিরপুরের ব্যতিক্রমী বিনোদনকেন্দ্র ওয়াওজা এন্টারটেইনমেন্ট মিউজিয়াম হলে কী কী আছে, কেন যাবেন</a></aside><p>মনে আছে, প্রথমবার যখন আর্সেনালের বিপক্ষে খেলতে নামি, তখনো আমার মধ্যে একধরনের জেদ কাজ করছিল। শুনতে হাস্যকর লাগতে পারে। প্রতিবার তাদের বিপক্ষে খেলতে নামলেই মনে মনে বলতাম, ‘বটে! এবার দেখা যাবে কে পারে আর কে পারে না।’</p><p>এখন পেছন ফিরে তাকালে মনে হয়, ওই ঘটনা আমার জীবনে সেরা স্মৃতিগুলোর একটা। কারণ, এর মাধ্যমে এমন এক জেদ ও তাড়না তৈরি হয়েছিল, যা আগে টের পাইনি।</p><h3>ফুটবলকে নতুন চোখে দেখা </h3><p>দ্য ডেন স্টেডিয়ামে আমার প্রথম দিককার একটা ম্যাচের কথা মনে পড়ে। রেফারি একটি ভুল সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন। মাত্র একটি ভুল সিদ্ধান্ত! আর তাতেই দর্শকেরা মাঠের মধ্যে একের পর এক জিনিস ছুড়ে মারতে শুরু করেন। যে যা হাতের কাছে পাচ্ছিলেন, তা-ই! পরিস্থিতি সামলে দর্শকদের শান্ত করতে পাঁচ মিনিটের জন্য খেলা বন্ধ রাখতে হয়েছিল।</p><p>ভাবুন তো, আমার বয়স তখন ১৮। চারদিকে তাকিয়ে মনে হচ্ছিল, ‘বাপরে! কী অবিশ্বাস্য!’</p><p>মৌসুম যত এগোচ্ছিল, আমরা ধীরে ধীরে নিচের দিকে নামছিলাম। এরই মধ্যে ড্রেসিংরুমে সতীর্থদের কেউ কেউ বলতে শুরু করল, ‘যদি আরও নিচে নামি, আমাদের বেতন অর্ধেক হয়ে যাবে।’ কিংবা ‘এর চেয়ে খারাপ অবস্থায় গেলে আমার চুক্তিই বাতিল হয়ে যাবে।’</p><p>তাঁদের অনেকের ঘরে ছোট ছোট সন্তান ছিল। তখনই খেলাটাকে আমি অন্যভাবে দেখতে শুরু করি। বুঝতে পারি, সবাই শুধু আনন্দের জন্য ফুটবল খেলে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাদের পরিবারের জীবিকা, ভরণপোষণ। বুঝতে শুরু করি, পুরো ব্যাপারটা কতটা অনিশ্চিত ও নাজুক। ফুটবলে তুমি দিনের পর দিন যে অর্জনের জন্য পরিশ্রম করেছ, মুহূর্তেই সব হারিয়ে যেতে পারে।</p><p>সেই অভিজ্ঞতা আমাকে বুঝিয়েছিল, শিশুসুলভ ভাবনা নিয়ে চলার দিন শেষ।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-31/17yh2r8n/740970-01-02.jpg"><figcaption>হ্যারি কেইন</figcaption></figure><h3>খারাপ সময়ে ঘুরে দাঁড়ানো </h3><p>সবচেয়ে খারাপ সময়টা সম্ভবত কেটেছে লেস্টার সিটিতে। সেখানে কিছুতেই মূল দলে জায়গা করে নিতে পারছিলাম না। আমার ক্যারিয়ারে সেই প্রথমবারের মতো নিজের সামর্থ্য নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল। এতই হতাশ ছিলাম যে বাবাকে বলেছিলাম, আমি ক্লাব ছেড়ে চলে যেতে চাই।</p><p>বাবা বলেছিলেন, ‘দেখো, পরিশ্রম করে যাও। কাজ চালিয়ে যাও। সামনে এগোও। সব ঠিক হয়ে যাবে।’</p><p>কয়েক সপ্তাহ পর আবারও নিজের ফ্ল্যাটে বসে আছি। তখন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ফুটবল লিগ—এনএফএল নিয়ে বেশ আগ্রহী ছিলাম। একদিন হঠাৎ টম ব্র্যাডিকে নিয়ে তৈরি একটি প্রামাণ্যচিত্র চোখে পড়ে।</p><p>প্রামাণ্যচিত্রটি আমাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। জীবনের প্রায় পুরোটা সময়ই মানুষ টম ব্র্যাডির সামর্থ্য নিয়ে সন্দেহ করেছে। এমনকি কলেজে পড়ার সময়ও কোচেরা তাঁকে সরিয়ে অন্য একজন কোয়ার্টারব্যাককে সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছিল।</p><p>প্রামাণ্যচিত্রে এনএফএল ড্রাফটের আগে স্কাউটদের তোলা একটি ছবিও দেখানো হয়েছিল। উদাম গায়ে টম ব্র্যাডি। একজন কোচকে বলতে শোনা যায়, ‘ও বেশ লম্বা, রোগা–পাতলা। দেখে মনে হয়, জীবনে কখনো জিমেও যায়নি।’</p><p>তাঁর মধ্যে আমি নিজের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পেয়েছিলাম। আমাকে নিয়েও মানুষ সব সময় একই ধরনের ধারণা পোষণ করত। বলত, ‘ওকে দেখে তো স্ট্রাইকার মনেই হয় না।’</p><p>ব্র্যাডির গল্প আমাকে সত্যিই অনুপ্রাণিত করেছিল। নিজের ওপর তাঁর ছিল অগাধ বিশ্বাস। আর ভালো করার জন্য তিনি প্রায় নেশাগ্রস্তের মতো একটানা পরিশ্রম করে গেছেন। বিষয়টি আমার সঙ্গে গভীরভাবে মিলে যায়।</p><p>শুনতে অদ্ভুত লাগতে পারে, কিন্তু সেদিন লেস্টারে নিজের সোফায় বসে থাকতে থাকতে আমার মাথার ভেতর যেন হঠাৎ একটা আলো জ্বলে উঠল। আচমকা নিজেকে বললাম, ‘আমি পারব। যতটা সম্ভব কঠোর পরিশ্রম করব। সুযোগ একদিন আসবেই। আর সেই সুযোগ আমি কাজে লাগাব।’</p><p>এর কয়েক ম্যাচ পর আমরা খেলতে নেমেছিলাম আমার সাবেক ক্লাব মিলওয়ালের বিপক্ষে। তাদের এক লম্বা-চওড়া ডিফেন্ডার সম্ভবত আমাকে ভয় দেখানোর জন্যই বলল, ‘এই যে হ্যারি, আমি কিন্তু এখনো কোনো হলুদ কার্ড পাইনি।’</p><p>আমি বললাম, ‘...আচ্ছা, তো?’</p><p>‘না মানে...তোমাকে দিয়েই প্রথম হলুদ কার্ডটা পাওয়ার কথা ভাবছি কি না...’</p><p>থ্রো-ইন থেকে বল এল। আমরা দুজনই হেড করার জন্য লাফ দিলাম। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে কনুইয়ের ধাক্কাধাক্কিও হলো। আর কী আশ্চর্য! আমার কনুই গিয়ে লাগল ঠিক তাঁর পাঁজরে। অবশ্যই ইচ্ছা করে নয়, দুর্ঘটনাবশত। সে ব্যথায় কুঁকড়ে মাটিতে পড়ে গেল। আর আমি তাঁকে ডিঙিয়ে চলে গেলাম।</p><p>কিছুই বলিনি। শুধু পাশ কাটিয়েছি। এভাবেই তাঁকে, নিজেকে এবং সবাইকে বুঝিয়ে দিতে চেয়েছিলাম—কারও চোখ রাঙানি আমি আর ভয় পাই না।</p>

নভেম্বর ১, ২০২৬
মানুষের মুক্তির চিরন্তন আকাঙ্ক্ষা ও আমাদের গ্রামের স্বপ্ন
মানুষের মুক্তির চিরন্তন আকাঙ্ক্ষা ও আমাদের গ্রামের স্বপ্ন

<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-31/oiiqxasa/ag.jpg"><figcaption>আমাদের গ্রাম ক্যানসার কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার ক্যানসারের সচেতনতার বাড়াতে রিকশাচিত্র</figcaption></figure><p>মানুষের ইতিহাস মূলত মুক্তির অন্বেষণের ইতিহাস। ক্ষুধা, ভয়, অজ্ঞতা, পরাধীনতা ও অপমান থেকে মুক্ত হয়ে মানুষ নিজের জীবনকে নিজের মতো করে গড়ে তুলতে চেয়েছে। কখনো এই আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে স্বাধীনতার সংগ্রামে, কখনো শিক্ষার আন্দোলনে, কখনো সামাজিক ন্যায়বিচারের দাবিতে। আবার কখনো তা প্রকাশ পেয়েছে একজন মায়ের সন্তানের চিকিৎসা পাওয়ার চেষ্টায় কিংবা একজন তরুণের নিজের গ্রামেই সম্মানজনক জীবিকা খুঁজে নেওয়ার স্বপ্নে। মুক্তির এই বৃহৎ আদর্শ তাই প্রতিদিনের জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো ভাবনা নয়। মানুষের ছোট ছোট প্রয়োজন, অধিকার ও সম্ভাবনার মধ্যেই তার গভীরতম অর্থ লুকিয়ে থাকে।</p><p>মুক্তি বলতে আমরা প্রায়ই বাইরের কোনো শৃঙ্খল ভাঙাকে বুঝি। কিন্তু মানুষের জীবনে এমন অনেক শৃঙ্খল আছে, যা চোখে দেখা যায় না। চিকিৎসার খরচের ভয়, নিজের অধিকার না জানার অসহায়ত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নিতে না পারা কিংবা জন্মস্থানের কারণে সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়াও মানুষকে পরাধীন করে রাখে। যে মানুষ অসুস্থ হলে চিকিৎসা নিতে পারেন না, তিনি কতটা স্বাধীন? যে নারী নিজের স্বাস্থ্যসমস্যার কথা বলতে সংকোচ ও অবহেলার মুখোমুখি হন, তাঁর মুক্তি কত দূরে? এসব প্রশ্ন আমাদের উন্নয়নের প্রচলিত ধারণাকে নতুন করে বিবেচনা করতে শেখায়।</p><blockquote>গ্রাম খাদ্য উৎপাদন করে, শ্রম জোগায়, সংস্কৃতিকে ধারণ করে এবং সমাজের বন্ধন টিকিয়ে রাখে। অথচ শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, তথ্য, প্রযুক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগের বড় অংশ কেন্দ্রীভূত থাকে শহরে। ফলে গ্রামের মানুষকে মৌলিক প্রয়োজন মেটাতেও বারবার দূরে যেতে হয়। এই যাত্রার সঙ্গে যুক্ত হয় অর্থ ব্যয়, সময়ের অপচয়, কর্মহানি ও অনিশ্চয়তা।</blockquote><p>বাংলাদেশের গ্রামীণ মানুষের জীবনে এই প্রশ্নগুলো বিশেষভাবে সামনে আনে। গ্রাম খাদ্য উৎপাদন করে, শ্রম জোগায়, সংস্কৃতিকে ধারণ করে এবং সমাজের বন্ধন টিকিয়ে রাখে। অথচ শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, তথ্য, প্রযুক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগের বড় অংশ কেন্দ্রীভূত থাকে শহরে। ফলে গ্রামের মানুষকে মৌলিক প্রয়োজন মেটাতেও বারবার দূরে যেতে হয়। এই যাত্রার সঙ্গে যুক্ত হয় অর্থ ব্যয়, সময়ের অপচয়, কর্মহানি ও অনিশ্চয়তা—ভৌগোলিক দূরত্ব তখন সামাজিক ও অর্থনৈতিক বঞ্চনার রূপ নেয়। মানুষের ঠিকানা তাঁর সম্ভাবনার সীমানা নির্ধারণ করতে শুরু করে।</p><p>‘আমাদের গ্রাম—উন্নয়নের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি’ প্রকল্পের ভিশন এই বাস্তবতার মধ্যেই অর্থবহ হয়ে ওঠে: শহরের সুযোগ-সুবিধা গ্রামীণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। এই ভাবনার কেন্দ্রে রয়েছে মানুষের সমান মর্যাদা ও সুযোগের স্বীকৃতি। একজন মানুষ গ্রামে জন্মেছেন বলে তাঁর ভালো চিকিৎসা, মানসম্মত শিক্ষা, প্রয়োজনীয় তথ্য কিংবা দক্ষতা অর্জনের অধিকার কমে যেতে পারে না। তাঁর প্রয়োজনের গুরুত্ব শহরের মানুষের প্রয়োজনের সমান। উন্নয়নের দায়িত্ব হলো এই সমতার বাস্তব ভিত্তি তৈরি করা, যাতে বসবাসের স্থান মানুষের জীবনমানের বিরুদ্ধে স্থায়ী বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।</p><p>তবে শহরের সুযোগ গ্রামে পৌঁছানোর অর্থ গ্রামকে অপরিকল্পিতভাবে শহরের অনুকরণে বদলে দেওয়া নয়। গ্রামের নিজস্ব পরিবেশ, সামাজিক সম্পর্ক, উৎপাদনব্যবস্থা ও সাংস্কৃতিক শক্তিকে সম্মান করেই প্রয়োজনীয় সেবা ও জ্ঞান সহজলভ্য করতে হবে। মানুষ যেন নিজের শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত থেকে উন্নত জীবন বেছে নিতে পারেন। কাজ বা শিক্ষার জন্য অন্যত্র যাওয়ার স্বাধীনতা যেমন থাকবে, তেমনি নিজের এলাকায় থেকে মর্যাদার সঙ্গে বাঁচার বাস্তব সুযোগও থাকবে। বাধ্য হয়ে স্থানান্তরিত হওয়া এবং নিজের ইচ্ছায় নতুন পথ বেছে নেওয়ার মধ্যে যে পার্থক্য, মুক্তির প্রশ্নটি সেখানেও উপস্থিত।</p><blockquote>এই ভিশনে জ্ঞান ও তথ্যের ভূমিকা মৌলিক। প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাবে মানুষ অনেক সময় এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন, যা তাঁর ক্ষতি বাড়ায়। রোগ সম্পর্কে ভুল ধারণা, সেবার ঠিকানা না জানা কিংবা কোনো সুবিধা পাওয়ার প্রক্রিয়া না বোঝা তাঁকে অন্যের ওপর নির্ভরশীল করে তোলে। সহজ ভাষায়, নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া তাই ক্ষমতায়নের একটি বাস্তব উপায়। প্রযুক্তি এখানে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হতে পারে।</blockquote><p>এই ভিশনে জ্ঞান ও তথ্যের ভূমিকা মৌলিক। প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাবে মানুষ অনেক সময় এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন, যা তাঁর ক্ষতি বাড়ায়। রোগ সম্পর্কে ভুল ধারণা, সেবার ঠিকানা না জানা কিংবা কোনো সুবিধা পাওয়ার প্রক্রিয়া না বোঝা তাঁকে অন্যের ওপর নির্ভরশীল করে তোলে। সহজ ভাষায় নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া তাই ক্ষমতায়নের একটি বাস্তব উপায়। প্রযুক্তি এখানে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হতে পারে। তবে প্রযুক্তির মূল্য নির্ধারিত হবে মানুষ সেটি বুঝতে, ব্যবহার করতে এবং তার মাধ্যমে নিজের সমস্যার সমাধান করতে পারছেন কি না, তার ভিত্তিতে।</p><p>স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে মানুষের মুক্তির প্রশ্নটি আরও গভীর। অসুস্থতা শরীরের পাশাপাশি মানুষের আয়, সম্পর্ক, আত্মবিশ্বাস ও ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করে। বিশেষত ক্যানসারের মতো রোগের আশঙ্কা পরিবারকে ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিতে পারে। আমাদের গ্রাম ক্যানসার কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের মানবিক তাৎপর্য এখানেই। মানুষের কাছাকাছি সেবা, রোগের ইতিহাস মনোযোগ দিয়ে শোনা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা বোঝানো, চিকিৎসার পথ দেখানো এবং পরবর্তী পদক্ষেপে সহায়তা করা—এসবের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা আস্থার সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে। রোগী তখন একটি রোগের পরিচয় ছাড়িয়ে পূর্ণ মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি পান।</p><p>চিকিৎসার উদ্দেশ্য জীবন দীর্ঘ করার চেষ্টার সঙ্গে জীবনের অভিজ্ঞতাকে সহনীয় ও মর্যাদাপূর্ণ করে তোলাও। সব রোগ নিরাময় করা সম্ভব না হলেও মানুষের কথা শোনা, সত্য ব্যাখ্যা করা, ব্যথা কমানো এবং সিদ্ধান্তে তাঁকে অংশ নিতে দেওয়া সম্ভব। স্বাস্থ্যসেবার কারণে যেন অপ্রয়োজনীয় ভয় বা অপমান সৃষ্টি না হয়, সে দায়িত্বও প্রতিষ্ঠানের। একজন মানুষ যখন বুঝতে পারেন তাঁর কী হয়েছে, কী করা প্রয়োজন এবং কোথায় সহায়তা পাবেন, তখন অসহায়ত্ব কিছুটা কমে। এই বোঝাপড়া ও আস্থাও মুক্তির অভিজ্ঞতার অংশ।</p><p>শিক্ষা, দক্ষতা ও জীবিকার সুযোগ একই আদর্শের অন্য প্রকাশ। গ্রামের তরুণদের সামনে যদি বাস্তবসম্মত প্রশিক্ষণ ও কাজের পথ তৈরি হয়, তাঁরা নিজের পরিবার ও সমাজের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারেন। নারীরা জ্ঞান, আয় ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ পেলে পরিবারের ভেতরে এবং সমাজে তাঁদের অবস্থান শক্তিশালী হয়। পাঠাগার, সামাজিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যসচেতনতা ও স্থানীয় উদ্যোগ মানুষের চিন্তার পরিসর প্রসারিত করে। উন্নয়ন তখন কিছু সেবা গ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; মানুষ নিজের প্রয়োজন প্রকাশ করতে, সংগঠিত হতে এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণে অংশ নিতে শেখেন।</p><blockquote>স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে মানুষের মুক্তির প্রশ্নটি আরও গভীর। অসুস্থতা শরীরের পাশাপাশি মানুষের আয়, সম্পর্ক, আত্মবিশ্বাস ও ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করে। বিশেষত ক্যানসারের মতো রোগের আশঙ্কা পরিবারকে ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিতে পারে। আমাদের গ্রাম ক্যানসার কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের মানবিক তাৎপর্য এখানেই।</blockquote><p>এ কারণে আমাদের গ্রামের মতো উদ্যোগে স্থানীয় মানুষকে অংশীদার হিসেবে গ্রহণ করা অপরিহার্য। তাঁদের অভিজ্ঞতা, সমস্যা বোঝার ক্ষমতা ও প্রস্তাব পরিকল্পনার ভিতকে শক্ত করে। বাইরে থেকে আসা বিশেষজ্ঞের জ্ঞানের সঙ্গে স্থানীয় জীবনের জ্ঞানের সংযোগ ঘটলে সমাধান অধিক কার্যকর হয়। কোনো সেবা কেন ব্যবহৃত হচ্ছে না, মানুষ কোথায় সংকোচ বোধ করছেন কিংবা কোন সময়ে সেবা পেলে সুবিধা হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর মানুষের কাছেই থাকে। তাঁদের কথা শোনার নিয়মিত ব্যবস্থা উন্নয়নকে বাস্তব জীবনের সঙ্গে যুক্ত রাখে।</p><p>একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের নিজের ভেতরেও মুক্তির আদর্শের প্রতিফলন প্রয়োজন। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, পারস্পরিক সম্মান এবং দায়িত্বশীল আচরণ ছাড়া মানবিক ভিশন টেকসই হয় না। কর্মীদের মর্যাদা রক্ষা, সম্পদের সঠিক ব্যবহার, সবার জন্য ন্যায্য নিয়ম এবং ভুল থেকে শেখার পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। যে প্রতিষ্ঠান মানুষের কথা শোনার অঙ্গীকার করে, তার ব্যবস্থাপনাতেও শোনার সংস্কৃতি থাকতে হয়। আদর্শের বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হয় প্রতিদিনের আচরণে; একটি অভ্যর্থনা, একটি ব্যাখ্যা কিংবা একটি অভিযোগের প্রতি সৎ মনোযোগেও তার পরীক্ষা হয়।</p><p>মানুষের মুক্তির চিরন্তন আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে আমাদের গ্রাম প্রকল্পের স্বপ্নের মিল এখানেই—মানুষ যেন বঞ্চনার মধ্যে নিজের ভাগ্যকে অনিবার্য বলে মেনে নিতে বাধ্য না হন। তিনি যেন জানেন, শেখার পথ আছে, সেবা পাওয়ার অধিকার আছে, নিজের কথা বলার জায়গা আছে এবং সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা আছে। এই স্বপ্ন পূরণের কোনো চূড়ান্ত দিন নেই; প্রতিটি প্রজন্মকে তাকে নতুন বাস্তবতায় এগিয়ে নিতে হয়। আমাদের গ্রাম সেই যাত্রায় একটি দায়িত্বশীল প্রয়াস, যেখানে উন্নয়নের প্রতিটি পদক্ষেপ বিচার করা হয় মানুষের ভয় কতটা কমল, সক্ষমতা কতটা বাড়ল এবং জীবন কতটা মর্যাদাপূর্ণ হলো, সেই প্রশ্নে।</p><p>লেখক: প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, আমাদের গ্রাম ক্যানসার কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, রামপাল, বাগেরহাট</p>

নভেম্বর ১, ২০২৬
বৃষ্টিস্নাত বিকেলে বন্ধুসভার পাঠচক্রে সুকুমার রায়
বৃষ্টিস্নাত বিকেলে বন্ধুসভার পাঠচক্রে সুকুমার রায়

বিশ্বসাহিত্যের আনন্দময় ও ব্যতিক্রমী সৃষ্টির জগতে যাঁর অবস্থান স্বতন্ত্র, সেই ছড়াসাহিত্যিক ও শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায়ের জন্মদিন উপলক্ষে এবারের পাঠচক্রে বিশেষ আয়োজন করা হয়। বন্ধুরা তাঁর লেখা বিভিন্ন কবিতা পাঠ করেন।

নভেম্বর ১, ২০২৬
বাইন্যান্স থেকে ৬০০ কোটি ডলারের বেশি ক্রিপ্টো চুরির পেছনে দায়ী উত্তর কোরিয়া: এফবিআই
বাইন্যান্স থেকে ৬০০ কোটি ডলারের বেশি ক্রিপ্টো চুরির পেছনে দায়ী উত্তর কোরিয়া: এফবিআই

বাইন্যান্স থেকে ৬০০ কোটি ডলারের বেশি ক্রিপ্টো সম্পদ চুরির ঘটনায় উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। চুরি হওয়া সম্পদের ৯০ শতাংশ পুনরুদ্ধারে ৬৩৪ কোটি ডলারের বেশি ব্যয়ে টোকেন কেনার উদ্যোগ নিয়েছে বাইন্যান্স।

নভেম্বর ১, ২০২৬
ভাবুক সম্রাট
ভাবুক সম্রাট

চিন্তা নাই বাসা থেকে ভেবে, প্রস্তুতি নিয়ে বেরোইছি।

নভেম্বর ১, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”

পোশাকের ট্যাবু ভেঙে ‘সংস্কৃতির সমতার’ বার্তায় যবিপ্রবিতে ‘লুঙ্গি প্যারেড’

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।