পরিবেশ

মহাবিপন্ন বৃক্ষ চালমুগরা

অক্টোবর ২৫, ২০২৬
মহাবিপন্ন বৃক্ষ চালমুগরা
মহাবিপন্ন বৃক্ষ চালমুগরা
চালমুগরা মহাবিপন্ন উদ্ভিদ হলেও গাছটি চমৎকার ঔষধি গুণসম্পন্ন। এই গাছ বিচিত্র রোগে মহৌষধ হিসেবে কাজ করে।

Prothomalo

View more
নেতানিয়াহুর কপালে কী আছে
নেতানিয়াহুর কপালে কী আছে

নেতানিয়াহুর কপালে কী আছে

অক্টোবর ২৫, ২০২৬
কেরানীগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করল বন্ধুসভা
কেরানীগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করল বন্ধুসভা

২৪ অক্টোবর দুপুরে বিদ্যালয়ে গিয়ে পাঠাগারটির কার্যক্রম শুরু করেন বন্ধুসভার সদস্যরা। প্রথম আলোর ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘একটি ভালো কাজ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ। এতে খুশি বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

অক্টোবর ২৫, ২০২৬
‘অনলাইন সার্টিফিকেটের’ গুরুত্ব কতখানি
‘অনলাইন সার্টিফিকেটের’ গুরুত্ব কতখানি

<p>‘পড়ালেখা করেছ, ডিগ্রি নিয়েছ—তা তো বুঝলাম; কিন্তু আর কী করেছ?’ নিয়োগদাতাদের কাছে আজকাল এই প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রির পাশাপাশি বিভিন্ন অনলাইন কোর্সের সনদও কি আপনাকে এগিয়ে রাখতে পারে? উত্তর দিয়েছেন গ্রামীণফোনের চিফ হিউম্যান রিসোর্সেস অফিসার (সিএইচআরও) <strong>সৈয়দা তাহিয়া হোসেন</strong>।</p><p>করপোরেট প্রতিষ্ঠানে এখন একাডেমিক ডিগ্রির পাশাপাশি নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত বা ব্যবহারিক দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল মার্কেটিং, ডেটা অ্যানালিটিকস বা নতুন নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবনের ফলে প্রথাগত একাডেমিক সিলেবাস অনেক সময় কিছুটা পিছিয়ে পড়ে। এই ক্ষেত্রে গুগল, কোর্সেরা বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব একাডেমি থেকে প্রাপ্ত অনলাইন সার্টিফিকেটগুলো শিক্ষার্থীর প্র্যাকটিক্যাল স্কিল বাড়াতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখে। একজন প্রার্থী যদি ডিজিটাল বা প্রযুক্তিগত নির্দিষ্ট কোনো কাজের ওপর বিশেষায়িত সার্টিফিকেট অর্জন করেন, তবে তা প্রমাণ করে তিনি সময়ের পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন। </p><h3>হাতে-কলমে দক্ষতা জরুরি </h3><p>ইন্টারভিউ বোর্ডে প্রার্থীর অনলাইন সার্টিফিকেশনের মূল্যায়ন করার সময় প্রতিষ্ঠান শুধু এটি দেখে না যে সার্টিফিকেটটি কোথা থেকে নেওয়া হয়েছে। বরং দেখা হয় প্রার্থী কতটুকু কার্যকর প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জন করেছেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কোনো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মের অনলাইন ডিগ্রি বা স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের কোর্স, যেখান থেকেই শেখা হোক না কেন, প্রার্থী যদি বাস্তবেই সেই টুলের ব্যবহার করতে পারেন এবং সমস্যা সমাধান করতে পারেন, তবেই সার্টিফিকেটের প্রকৃত মূল্য তৈরি হয়। ধরা যাক, আপনি ‘ভিডিও এডিটিং’-এর ওপর একটা কোর্স করেছেন। কিন্তু আপনি কি আদৌ এডিটিংয়ের কাজটা জানেন, আপনার কাজের একটা পোর্টফোলিও যদি উপস্থাপন করতে পারেন, সেটা হবে আরও কার্যকর। </p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/style/nvon8h9qhn">নিউইয়র্কে মাসাবার পরনে লাল পাড় সাদা রঙের পোশাকটি কি শাড়ি, নাকি অন্য কিছু</a></aside><h3>আত্ম–উন্নয়ন ও কৌতূহলের প্রকাশ </h3><p>নিজের উদ্যোগেই কোনো বিষয় অনলাইন থেকে শিখে নেওয়া এবং সনদ অর্জন করা একজন প্রার্থীর ‘স্বাচ্ছন্দ্যে শেখার তাগিদ’ ও কৌতূহলের ইঙ্গিত দেয়। এইচআর ও নিয়োগকর্তারা এ গুণটিকে বেশ মূল্যায়ন করেন। কারণ, এর মাধ্যমে বোঝা যায় প্রার্থী পড়াশোনা শেষ করার পরও ঘরে বসে না থেকে নিজের যোগ্যতা ও দক্ষতা বাড়াতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।</p><h3>ফ্রিল্যান্সিং ও আন্তর্জাতিক কাজের সুযোগ </h3><p>অনলাইন সার্টিফিকেশন প্রার্থীর কাজের সুযোগ কেবল দেশের সীমানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ রাখে না। বিশ্বব্যাপী রিমোট বা ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে এসব সনদ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। ঘরে বসেই আন্তর্জাতিক বাজারে সেবা দেওয়া, অর্থ উপার্জন করা এখন আর কোনো বিরল উদাহরণ নয়।</p><h3>কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও জেনারেটিভ টুলের সঠিক ব্যবহার </h3><p>বর্তমানে অনেকেই বিভিন্ন অনলাইন কাজ বা কোর্সে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করছেন। তবে শুধুই সার্টিফিকেট বা এআই-ভিত্তিক রেডিমেড উত্তরের ওপর নির্ভর না করে, বিষয়টির ভেতরের মেকানিজম বা মূল বিষয়বস্তু বোঝা উচিত। ইন্টারভিউ বোর্ডে একজন অভিজ্ঞ নিয়োগকর্তা ঠিকই যাচাই করে নিতে পারেন, প্রার্থীর ‘আইডিয়া’ কতখানি মৌলিক।</p>

অক্টোবর ২৫, ২০২৬
লক্ষ্মীবাজারের প্রিন্স অব ওয়েলস: দেড় শ বছরের স্বাদের গল্প
লক্ষ্মীবাজারের প্রিন্স অব ওয়েলস: দেড় শ বছরের স্বাদের গল্প

পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে ছোট্ট একটি বেকারি বয়ে চলেছে দেড় শ বছরের ইতিহাস। দেশভাগ, মুক্তিযুদ্ধ আর সময়ের পরিবর্তনের সাক্ষী এই প্রতিষ্ঠান আজও ধরে রেখেছে ঐতিহ্যবাহী কেকের স্বাদ।

অক্টোবর ২৫, ২০২৬
মক্কা চুক্তির পর এবার কেন ‘বদর চুক্তি’, নিশানায় কে
মক্কা চুক্তির পর এবার কেন ‘বদর চুক্তি’, নিশানায় কে

<p>দোহায় চুক্তির সই শুকানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তকমা লেগে গেল: আরও একটি ‘মুসলিম ন্যাটো’। এটি একটি ভুল চুক্তির জন্য সম্পূর্ণ ভুল একটি তকমা। </p><p>গত বুধবার তুরস্ক, কাতার, পাকিস্তান এবং ইন্দোনেশিয়া যৌথ উৎপাদন, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং সামরিক প্রশিক্ষণের ওপর ‘বদর’ নামে একটি প্রতিরক্ষাশিল্প–বিষয়ক সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছে। কাতার, পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং ইন্দোনেশিয়ার উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী এতে নিজ নিজ দেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন। এতে কোনো যৌথ প্রতিরক্ষা বা একে অপরকে সামরিক সুরক্ষার ধারা নেই। আর সেটিই আসল বিষয়।</p><p>গত ৭ আগস্ট সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তান যে ‘মক্কা’ চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল, সেটি হলো একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি—যেখানে কোনো একটি দেশের ওপর হামলা বাকিদের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হয়। হুতিদের সৌদি আরবে সাম্প্রতিক হামলার পর চলতি মাসেই চুক্তিটি সক্রিয় করা হয়েছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/fqshy2y5wv">মক্কা চুক্তি: বাংলাদেশের কী করা উচিত</a></aside><p>বদর চুক্তি পুরোপুরি ভিন্ন একটি কাজ করে। মক্কা চুক্তি ঠিক করে—কে কার পাশে দাঁড়াবে, আর বদর চুক্তি উত্তর খোঁজে—কে কী নির্মাণ করবে।</p><p>‘বদর’ নামটি হয়তো ঐতিহাসিক ও বিস্তৃত কোনো ব্যাখ্যার জন্ম দিতে পারে। তুর্কি কর্মকর্তারা জানান, আরবি ‘বদর’ (যার অর্থ পূর্ণচন্দ্র) শব্দটি এই চার দেশের পরিপূরক প্রচেষ্টাকে তুলে ধরে। এর ঐতিহাসিক নামটির সুর কিছুটা সামরিক হলেও চুক্তির বিষয়বস্তু সম্পূর্ণ শিল্পকেন্দ্রিক। তাই রূপক বা কবিতা দিয়ে নয়, চুক্তিটিকে তার অনুচ্ছেদ দিয়ে বিচার করা উচিত।  </p><p>এই অনুচ্ছেদগুলো মূলত বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় প্রকল্পকে একটি একক কাঠামোর অধীন আনার বিষয়ে কথা বলে, এবং এই প্রকল্পগুলো অত্যন্ত বাস্তব। তুরস্ক ইস্তাম্বুলে দুটি বাবর-ক্লাস কর্ভেট তৈরি করে সরবরাহ করেছে এবং বাকি দুটি সম্পন্ন করতে করাচি শিপইয়ার্ডকে আধুনিকায়ন করেছে। ইন্দোনেশিয়ার পিনদাদ-এর সঙ্গে যৌথভাবে কাপলান এমটি ট্যাংক তৈরি করছে তুরস্ক।</p><blockquote>বদর চুক্তিকে সরাসরি কোনো উন্মুক্ত ক্লাব হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি, এবং আমি যোগদানের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার ঘোষণা দেখতে পাইনি। তবে সামরিক চুক্তির চেয়ে শিল্প–সংক্রান্ত চুক্তিগুলোর সম্প্রসারণ বেশ সহজ। তাই নজর রাখুন—যে দেশগুলো ইতিমধ্যেই তুর্কি সরঞ্জাম কিনছে এবং মক্কা চুক্তির যে সদস্যরা নিজেদের শিল্পকে বদরের সঙ্গে যুক্ত করতে চায়, তাদের ওপর। </blockquote><p>কাতারে আসেলসান এবং বারজান হোল্ডিংস মিলে ‘বারক’ পরিচালনা করছে, যা স্থানীয়ভাবে অস্ত্রব্যবস্থা তৈরি করে। কাতারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গত সপ্তাহে জানান যে একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা উৎপাদন হাব তৈরি হতে যাচ্ছে। সমঝোতা স্মারকটি সহযোগী ও অংশীদার দেশগুলোর প্রয়োজন মেটাতেও কাজ করবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা রপ্তানিসহ চার দেশের বাইরের বড় কোনো লক্ষ্যের ইঙ্গিত দেয়।</p><p>তবে এর গঠন কাঠামোর দিকে লক্ষ করা যেতে পারে। এই প্রকল্পগুলো হলো চাকার স্পোকের মতো, আর তুরস্ক হলো এর কেন্দ্র (হাব)। বদর চুক্তির আসল উদ্ভাবন হলো সেই স্পোকগুলোকে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত করা। </p><p>যদি পাকিস্তানি প্রকৌশল, কাতারি মূলধন এবং ইন্দোনেশিয়ান উৎপাদন খাত আঙ্কারাকে মধ্যস্থতাকারী না বানিয়ে সরাসরি একই প্রকল্পে কাজ শুরু করতে পারে, তবে বদর এমন কিছু অর্জন করবে যা কোনো দ্বিপক্ষীয় চুক্তি দিয়ে সম্ভব ছিল না।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-09-05/txl879ej/05092026-cm-5.jpg"><figcaption>‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষরের পর সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (মাঝে), তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান (বাঁয়ে) এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ</figcaption></figure><p>সময়টাও গুরুত্বপূর্ণ। কাতারে ২০১৭ সালের অর্থনৈতিক অবরোধ, ২০২৫ সালে দোহায় ইসরায়েলি হামলা এবং চলতি বছরে ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ উপসাগরীয় অঞ্চলের রাজধানীগুলোকে শিখিয়েছে যে বিদেশি সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভরশীল হওয়া কেবল অস্ত্র কেনার বিষয় নয়, এটি একটি বড় নিরাপত্তাহীনতা। মূল সামরিক সরঞ্জামের মতোই এর খুচরা যন্ত্রাংশ, সফটওয়্যার এবং রক্ষণাবেক্ষণ সমান গুরুত্বপূর্ণ।</p><p>সৌদি আরবের অনুপস্থিতি কোনো অবহেলা বা দূরত্ব নয়; কারণ আঙ্কারা ও ইসলামাবাদের সঙ্গে রিয়াদের প্রতিরক্ষাশিল্প সহযোগিতা ইতিমধ্যেই মক্কা চুক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। পাকিস্তান দুটি কাঠামোতেই রয়েছে—একটিতে নিরাপত্তা প্রদানকারী এবং অন্যটিতে শিল্প অংশীদার হিসেবে। এই দ্বৈত ভূমিকাটিই বদর চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সত্য।</p><p>পরবর্তী সময়ে কে আসছে? সম্প্রসারণের বিষয়টি প্রথমত মক্কা চুক্তির প্রশ্ন। মিসর সবচেয়ে আলোচিত প্রার্থী; বাংলাদেশ ও সিরিয়া সদস্যপদ বিবেচনায় থাকার কথা স্বীকার করেছে; আর বিশ্লেষকেরা কাতারকে এতে যুক্ত হওয়ার স্বাভাবিক দাবিদার হিসেবে দেখছেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/tl6wj1br7h">মক্কা চুক্তি আসলে কাদের স্বার্থের পক্ষে যাবে</a></aside><p>বদর চুক্তিকে সরাসরি কোনো উন্মুক্ত ক্লাব হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি, এবং আমি যোগদানের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার ঘোষণা দেখতে পাইনি। তবে সামরিক চুক্তির চেয়ে শিল্প–সংক্রান্ত চুক্তিগুলোর সম্প্রসারণ বেশ সহজ। তাই নজর রাখুন—যে দেশগুলো ইতিমধ্যেই তুর্কি সরঞ্জাম কিনছে এবং মক্কা চুক্তির যে সদস্যরা নিজেদের শিল্পকে বদরের সঙ্গে যুক্ত করতে চায়, তাদের ওপর।</p><p>প্রতিবেশীরা এটিকে কীভাবে দেখছে? এই লেখার সময়ে আমি বদর চুক্তি নিয়ে ভারত বা ইসরায়েলের কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য খুঁজে পাইনি। তবে মক্কা চুক্তিতে তাদের প্রতিক্রিয়া থেকে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝা যায়।</p><p>নয়াদিল্লি জানিয়েছিল তারা চুক্তিটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং জাতীয় নিরাপত্তায় এর প্রভাব পরীক্ষা করছে। একই সঙ্গে ভারতীয় বিশ্লেষকেরা উল্লেখ করেছেন যে ভারত ভারতের জায়গায় থেকেও সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঊর্ধ্বতন ইসরায়েলি কর্মকর্তা মক্কা চুক্তিকে ইসরায়েলবিরোধী জোট আখ্যা দিয়ে বলেছিলেন, মিসর এতে যোগ দিলে তা অবাক করার মতো কিছু হবে না।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-08-09/0gw20kg6/Saudi-Arab-turkey-pak-03.jpg"><figcaption>যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই অনুষ্ঠানে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফসহ তিন দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ৭ আগস্ট ২০২৬, মক্কা</figcaption></figure><p>আশা করা যায় বদর চুক্তিকেও একই দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা হবে এবং সেই মূল্যায়নে বিষয়ের চেয়ে বাড়িয়ে দেখার প্রবণতাই বেশি থাকবে। প্রতিরক্ষা ধারা ছাড়া একটি সমঝোতা স্মারক কখনোই একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির কাজ করতে পারে না।</p><p>আসল পরীক্ষাগুলো অনেক শান্ত ও কঠিন। প্রথমত, বদর কি এমন কোনো প্রকল্প তৈরি করতে পারবে, যেখানে অন্তত তিনটি সদস্যদেশ যুক্ত থাকবে? দ্বিতীয়ত, কর্মসংস্থান, মেধাস্বত্ব এবং উৎপাদনের দায়িত্ব কি সমানভাবে ভাগ করা হবে, নাকি মূল চাবিকাঠি কেন্দ্রবিন্দুতেই থেকে যাবে? তৃতীয়ত, মূল উপব্যবস্থাগুলোতে পশ্চিমাদের লাইসেন্সিং সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে চুক্তিটি টিকে থাকতে পারবে কি না? প্রযুক্তি হস্তান্তর প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির চেয়ে অনেক ধীরগতিতে এগোয়।</p><p>পূর্ণ চাঁদ রাতের আকাশে মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্যই আলো ছড়ায়। বদর একটি দীর্ঘস্থায়ী শিল্প ভিত্তি হয়ে উঠবে নাকি ক্ষণস্থায়ী আলো হয়ে থাকবে, তা দোহার আনুষ্ঠানিক সভাঘরে নয়, বরং কারখানার মেঝেতে নির্ধারিত হবে।</p><ul><li><p><strong>মনসুর কায়সার</strong> ইসলামাবাদভিত্তিক লেখক ও পররাষ্ট্রবিষয়ক বিশ্লেষক। <em>মিডল ইস্ট মনিটর</em> থেকে সংক্ষেপে অনূদিত।</p></li></ul>

অক্টোবর ২৫, ২০২৬
ঢাকা মহানগর ও ঢাকা জেলাবাসীর জন্য ৩৭ পদে চাকরির সুযোগ
ঢাকা মহানগর ও ঢাকা জেলাবাসীর জন্য ৩৭ পদে চাকরির সুযোগ

কর কমিশনারের কার্যালয়, কর অঞ্চল-৯, ঢাকায় ৩৭টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে।

অক্টোবর ২৫, ২০২৬
দাউদকান্দি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রসূতি অস্ত্রোপচার বন্ধ, ট্রমা সেন্টারও অচল
দাউদকান্দি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রসূতি অস্ত্রোপচার বন্ধ, ট্রমা সেন্টারও অচল

এর মধ্যে চিকিৎসকের পদ ২০টি, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ১২টি, ডেন্টাল সার্জনের ২টি এবং আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকের একটি পদ আছে।

অক্টোবর ২৫, ২০২৬
আজ আবার কমল সোনার দাম, চার দিনে ৭ হাজার ১৭৩ টাকা
আজ আবার কমল সোনার দাম, চার দিনে ৭ হাজার ১৭৩ টাকা

দেশের বাজারে চার দিনে তিন দফায় ভরিতে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ১৭৩ টাকা কমেছে সোনার দাম। আজ রোববার ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম কমে হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা। বিশ্ববাজারেও কমছে সোনার দাম।

অক্টোবর ২৫, ২০২৬
মোটরসাইকেলের সামনে নম্বরপ্লেট, খরচের বোঝা কার, আরএফআইডি কাজ করল না কেন
মোটরসাইকেলের সামনে নম্বরপ্লেট, খরচের বোঝা কার, আরএফআইডি কাজ করল না কেন

গত আগস্ট পর্যন্ত দেশে মোটরসাইকেল প্রায় ৫১ লাখ। প্রতিদিন নতুন ৮০০ মোটরসাইকেল নামছে। রাজধানীতে মোটরসাইকেল সাড়ে ১৩ লাখের মতো।

অক্টোবর ২৫, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন