জেলা

মাল্টা ৫০০ টাকায় বিক্রি হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়: বাণিজ্যমন্ত্রী

অক্টোবর ৮, ২০২৬
মাল্টা ৫০০ টাকায় বিক্রি হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়: বাণিজ্যমন্ত্রী
মাল্টা ৫০০ টাকায় বিক্রি হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়: বাণিজ্যমন্ত্রী
<p>বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, শুল্ক পরিশোধের পরও মাল্টা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। পবিত্র রমজান বা অন্য কোনো উপলক্ষকে কেন্দ্র করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা অতিরিক্ত মুনাফা আদায়ের চেষ্টা বরদাশত করা হবে না। সারা বছর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে ভৌগোলিক সুবিধাপ্রাপ্ত এলাকাভিত্তিক কৃষি উৎপাদনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে যাচ্ছে সরকার।</p><p>আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কনফারেন্স হলে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির উদ্যোগে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ও বাজার স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণে ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি বলেন, কোন অঞ্চলে কোন সময়ে কোন ফসল উৎপাদন হবে, তা নির্ধারণ করে পরিকল্পিতভাবে খাদ্য ও সবজি উৎপাদন করা গেলে বছরের বিভিন্ন সময়ে বাজারে পণ্যের ঘাটতি ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।</p><p>বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আসন্ন রমজান উপলক্ষে চিনি, ছোলা, খেজুর, পেঁয়াজ ও ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের যথেষ্ট মজুত রয়েছে দেশে। কোনো ধরনের সরবরাহ ঘাটতি নেই। এ ছাড়া পাইপলাইনেও আমদানির পণ্য চালান রয়েছে। ফলে রমজান কিংবা অন্য সময়ে কোন ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃতভাবে অথবা জোটবদ্ধভাবে যদি দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়িয়ে দেয়, তাহলে সরকার তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/5yirf64g0e">৮৭ টাকায় আনা মাল্টা বাজারে কেন ৫২০ টাকা কেজি</a></aside><p>চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হকের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি ও পোর্ট ইউজার্স ফোরামের চেয়ারম্যান আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী, চেম্বারের সাবেক সভাপতি আলী আহমেদ, চেম্বার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. আমজাদ হোসেন চৌধুরী, বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি সেলিম রহমান, খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি এম এ সালাম, বিপিএএমইএর প্রথম সহসভাপতি শহীদুল্লাহ চৌধুরী, কমিশনার অব কাস্টমস মুহা. মাহবুবুর রহমান, সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এম এ ছালাম, সাবেক পরিচালক এস এম আবু তৈয়ব, রেজাউল করিম প্রমুখ।</p>

Prothomalo

View more
পাঠাওয়ের ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁসের দাবি, পাঠাও বলেছে, কিছু ব্যক্তিগত তথ্য দুর্বৃত্তদের হাতে গেছে
পাঠাওয়ের ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁসের দাবি, পাঠাও বলেছে, কিছু ব্যক্তিগত তথ্য দুর্বৃত্তদের হাতে গেছে

<p>ডিজিটাল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান পাঠাও-এর প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্য নিজেদের কাছে থাকার দাবি করেছে একটি চক্র। এসব তথ্যের মধ্যে মুঠোফোন নম্বর, ই-মেইল, জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর, ড্রাইভিং লাইসেন্স, অবস্থান, ফেসবুক পরিচিতি ও বাসার ঠিকানা রয়েছে বলে দাবি করে তারা। এসব তথ্য প্রকাশ না করার বিনিময়ে পাঠাওয়ের কাছে ৪ লাখ ডলারও চাওয়া হয়েছে।</p><p> সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক প্ল্যাটফর্ম ডেইলি ডার্ক ওয়েব গতকাল বুধবার সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) বিষয়টি সামনে এনেছে। ডার্ক ওয়েবে করা ওই পোস্টের একটি স্ক্রিনশটও প্রকাশ করেছে ডেইলি ডার্ক ওয়েব। তবে দাবিটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।</p><p> বিষয়টি নিয়ে জানতে পাঠাওয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফাহিম আহমেদের মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও জবাব পাওয়া যায়নি। </p><p>তবে বুধবার সেবা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনায় পাঠাও জানিয়েছে, গত ৪ অক্টোবর সাইবার নিরাপত্তাজনিত একটি ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। এতে প্ল্যাটফর্মটির বিভিন্ন সেবা বিঘ্নিত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই সেবাগুলো পুনরায় চালু করা হলেও সিস্টেম পুরোপুরি স্থিতিশীল করার কাজ চলছে।</p><p>বুধবার পাঠাও এর ভেরিভায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, গত ৪ অক্টোবর সাইবার নিরাপত্তাজনিত একটি ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। ঘটনার সময় কিছু ব্যক্তিগত তথ্য, যার মধ্যে নাম, ই-মেইল ঠিকানা ও ফোন নম্বর রয়েছে, দুর্বৃত্তদের হাতে গেছে বলে তারা জানতে পেরেছে।</p><p>বিবৃতিতে পাঠাও আরও বলে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদারে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে।</p><p>ডার্ক ওয়েবের ওই পোস্টে দাবি করা হয়েছে, তাদের কাছে পাঠাওয়ের প্রায় ১৩৩ গিগাবাইট তথ্য রয়েছে। এতে প্রায় ২৫ কোটি রেকর্ড ও ৫৯১টি তথ্যভান্ডার রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় তথ্যভান্ডারে ১ কোটি ৯০ লাখ ৬৩ হাজার ৯১৮টি হিসাবের তথ্য রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।</p><p>এ ছাড়া ১ কোটি ৯০ লাখের বেশি এনআইডি নম্বর ও মুঠোফোন নম্বর, ১ কোটি ৯০ লাখের বেশি ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য, প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যবহারকারীর ছবি এবং প্রায় ৫৭ লাখ বাসার ঠিকানা থাকার দাবি করা হয়েছে।</p><p>পাঠাওয়ের অভ্যন্তরীণ ও ব্যবসায়িক তথ্যও নিজেদের কাছে থাকার দাবি করেছে ওই গোষ্ঠী। এর মধ্যে কর্মীদের তথ্য, প্রশাসনিক প্রবেশাধিকারের নথি, ব্যবসায়ীদের ব্যাংক হিসাব ও ব্যাংকের শাখা শনাক্তকরণ নম্বর, অর্থ লেনদেনের তথ্য, পণ্য সরবরাহের অবস্থান-সংক্রান্ত তথ্য এবং চালকদের যাত্রার নথি থাকার কথা বলা হয়েছে।</p><p>পোস্টে পাঠাওয়ের কাছে ৪ লাখ ডলারও দাবি করা হয়েছে। অর্থ পরিশোধ না করলে এনআইডি, ব্যাংক, কর্মী ও প্রশাসনিক তথ্য প্রকাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।</p><p>এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা প্রথম আলোকে বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উচিত অবিলম্বে একটি স্বাধীন ডিজিটাল ফরেনসিক তদন্তের ব্যবস্থা করা, প্রাসঙ্গিক সার্ভার ও অ্যাক্সেস লগসহ সব ডিজিটাল আলামত সংরক্ষণ করা এবং প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক ও আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা। ডিজিটাল আলামতের সুরক্ষা, নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা এবং প্রমাণভিত্তিক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।</p>

অক্টোবর ৯, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী করা হয়েছে গিয়াস উদ্দিনকে
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী করা হয়েছে গিয়াস উদ্দিনকে

<p>গিয়াস উদ্দিনকে (রিমন) প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁকে সচিব পদমর্যাদা দিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।</p><p> আজ বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গিয়াস উদ্দিনকে চুক্তি ভিত্তিতে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।</p><p>প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গিয়াস উদ্দিনকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল অথবা তাঁর সন্তুষ্টি সাপেক্ষে (যেটি আগে ঘটে) প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়) পদে সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হলো।</p>

অক্টোবর ৯, ২০২৬
যুদ্ধে নতুন কৌশল: ইউক্রেনের পরিবহনব্যবস্থায় হামলা বাড়াচ্ছে রাশিয়া
যুদ্ধে নতুন কৌশল: ইউক্রেনের পরিবহনব্যবস্থায় হামলা বাড়াচ্ছে রাশিয়া

<p>ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে ক্রামাতোরস্ক শহরে রাশিয়ার গাইডেড বোমা হামলায় অন্তত ৩৩ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার চালানো এ হামলায় আহত হয়েছেন ১৮ জন। এটি চলতি বছর রাশিয়ার চালানো বড় হামলাগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেছে ইউক্রেন সরকার।</p><p> ক্রামাতোরস্ক শহর ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলে অবস্থিত। এই অঞ্চলের বেশির ভাগ এলাকা দখল করে রেখেছে রুশ বাহিনী। এখন গুরুত্বপূর্ণ ক্রামাতোরস্ক শহর দখলের দিকে নজর দিয়েছে তারা। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ চলছে।</p><p> ক্রামাতোরস্কের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাস্তায় থাকা দুটি বাসে ওই বোমা হামলা চালানো হয়। বাস দুটিতে অনেক যাত্রী ছিলেন। ইউক্রেন পুলিশের প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, রাস্তায় বাসের পোড়া কাঠামো পড়ে আছে। সড়কে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে কয়েকটি মরদেহও ছিল।</p><p>এই হামলা পরিকল্পিতভাবে বেসামরিক মানুষকে হত্যার উদ্দেশ্যে চালানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে ইউক্রেন সরকার। স্থানীয় গভর্নর ভাদিম ফিলাশকিন বলেন, রুশ বাহিনীর কাছে যাত্রীবাহী বাস আকর্ষণীয় লক্ষ্যবস্তু। কারণ, একটি হামলাতেই যত বেশি সম্ভব মানুষকে হত্যা করা যায়।</p><p>বোমা হামলার পর ক্রামাতোরস্কসহ আরেক গুরুত্বপূর্ণ শহর স্লোভিয়ানস্কের কর্তৃপক্ষকে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান গভর্নর ফিলাশকিন। তিনি বলেন, ‘ইউক্রেনের নাগরিকদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলার কোনো অধিকার আমাদের নেই।’</p><p>হামলার বিষয়ে মস্কোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। রাশিয়া বেসামরিক মানুষদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কথা বরাবরই অস্বীকার করে এসেছে। এ ছাড়া রাশিয়া চাচ্ছে, এই যুদ্ধ বন্ধের আগে পুরো দোনেৎস্ক অঞ্চলকে মস্কোর হাতে ছেড়ে দিতে হবে কিয়েভকে। তবে এই দাবি মানবে না ইউক্রেন।</p><p>ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পরদিন হামলাটি চালানো হলো। আগের দিনের হামলায় ১২ জন নিহত হন। এদিন ইউক্রেনের আবাসিক অবকাঠামো, জ্বালানি স্থাপনা ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছিল রাশিয়া।</p><p>রাশিয়ার এই হামলা নিয়ে কিয়েভভিত্তিক চিন্তন প্রতিষ্ঠান ‘পেনটা’র প্রধান ভলোদিমির ফেসেঙ্কো আল–জাজিরাকে বলেন, এটা রাশিয়ার নতুন একটি কৌশল। তারা ইউক্রেনকে বিদ্যুৎবঞ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে। এখন তারা পরিবহনব্যবস্থা ধসিয়ে দেওয়ার জন্য অবকাঠামোর ওপর হামলা চালাচ্ছে।</p>

অক্টোবর ৯, ২০২৬
রাজবাড়ীতে নিখোঁজের তিন দিন পর কলেজছাত্রের বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার
রাজবাড়ীতে নিখোঁজের তিন দিন পর কলেজছাত্রের বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার

<p>রাজবাড়ীতে নিখোঁজের তিন দিন পর চৌধুরী ফুয়াদ হাসান ওরফে রোহান (১৯) নামের এক কলেজছাত্রের বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদসী ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের বাড়ির কাছের একটি ডোবা থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।</p><p> ফুয়াদ হাসান উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের ফরহাদ চৌধুরীর ছেলে। তিনি রাজবাড়ী শহরের একটি বেসরকারি টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।</p><p> ফুয়াদের দাদা মরহুম রোকন উদ্দিন চৌধুরী রাজবাড়ী জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তাঁর ফুফাতো ভাই আরিফুল ইসলাম বর্তমানে রাজবাড়ী জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।</p><p>ফুয়াদ হাসানের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার দুপুরে খাওয়ার সময় ফুয়াদের মুঠোফোনে একটি কল আসে। খাবার খেয়ে তিনি দ্রুত বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। বিকেল চারটা পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাঁর মুঠোফোনে কল করেন। তবে তাঁর দুটি ফোনই বন্ধ পাওয়া যায়। তিনি একটি অ্যানড্রয়েড ও একটি বাটন ফোন ব্যবহার করতেন।</p><p>আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও পরিচিতদের কাছে খোঁজ করেও সন্ধান না পাওয়ায় পরদিন মঙ্গলবার পরিবারের পক্ষ থেকে সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরের একটি ডোবায় স্থানীয় লোকজন একটি বস্তা ভাসতে দেখেন। বস্তা থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ায় সন্দেহ হলে তাঁরা লাঠি দিয়ে বস্তাটিতে ধাক্কা দেন। এ সময় বস্তার ভেতর থেকে মানুষের একটি পা বেরিয়ে আসে। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তাবন্দী লাশটি উদ্ধার করে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি ফুয়াদের বলে শনাক্ত করেন। রাত আটটার দিকে পুলিশ ফুয়াদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।</p><p>ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মীর মুনির হোসেন বলেন, ফুয়াদের লাশটি একটি বস্তার ভেতরে রাখা হয়েছিল। আরেকটি বস্তায় মাটি ভরে লাশের বস্তার সঙ্গে বেঁধে সেটি ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। লাশটি ফুলে ওঠার পর বস্তাটি পানিতে ভেসে উঠলে স্থানীয় লোকজন সেটি দেখতে পান।</p><p>পুলিশ সুপার বলেন, ৫ অক্টোবর থেকে কলেজছাত্র ফুয়াদ নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজের পর থেকেই পুলিশ বিভিন্ন বিষয় সামনে রেখে তদন্ত করছে। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনের তথ্য, পারিবারিক বিরোধ, প্রেমঘটিত কোনো বিষয় ছিল কি না এবং বন্ধুদের মধ্যে কোনো বিরোধ ছিল কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।</p><p>মীর মুনির হোসেন বলেন, ‘এখনো হত্যার কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে বিষয়টি নিয়ে পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে।’</p>

অক্টোবর ৮, ২০২৬
চট্টগ্রামে ‘কিশোর গ্যাং’ নেতাকে জুলাই যোদ্ধা দাবি মেয়রের, অভিযানের পর ওসি বদলি
চট্টগ্রামে ‘কিশোর গ্যাং’ নেতাকে জুলাই যোদ্ধা দাবি মেয়রের, অভিযানের পর ওসি বদলি

চট্টগ্রামে ‘কিশোর গ্যাং’ নেতাকে জুলাই যোদ্ধা দাবি মেয়রের, অভিযানের পর ওসি বদলি

অক্টোবর ৮, ২০২৬
একাধিক আলামতে আসামি সিদ্ধার্থ-মুগ্ধর ডিএনএর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে: পুলিশ
একাধিক আলামতে আসামি সিদ্ধার্থ-মুগ্ধর ডিএনএর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে: পুলিশ

<p>রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় উদ্ধার কয়েকটি আলামতে গ্রেপ্তার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডিএনএ পাওয়া গেছে। খেজুরের বীজ, কামড় দেওয়া শসার অংশ ও সিগারেটের ফিল্টারে পাওয়া জৈবিক নমুনার সঙ্গে তাঁদের ডিএনএ মিলে গেছে বলে জানিয়েছেন রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী।</p><p> বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে সনাতন চক্রবর্তী প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঢাকার সিআইডি ফরেনসিক ল্যাবে ওদের (সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ) ডিএনএ পরীক্ষা করানো হয়েছে। সেখান থেকে প্রতিবেদন আজ হাতে পেয়েছি। আলামতে পাওয়া খেজুরের বিচি, শসা ও সিগারেটের অংশে তাদের ডিএনএর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।’</p><p>তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পরে গণপতি চক্রবর্তীর শয়নকক্ষে খেজুরের বিচি, কামড় দেওয়া শসার অংশ ও সিগারেটের মুড়া পাওয়া গিয়েছিল। ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা এসব আলামতসহ বিভিন্ন নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকার উদ্দেশে নেওয়া হয়। পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকার সিআইডি কার্যালয়ে তাঁদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়।</p><p>ডিবি পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে ৩৫টির বেশি আলামত সংগ্রহ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ফল কাটার চাকু, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম, সিগারেটের শেষাংশ, নানরুটি, শসা, খেজুর, বেসিনের দাগ এবং নিহত শিশুর খাতায় পাওয়া একটি লেখাসহ বিভিন্ন আলামত রয়েছে। এসব আলামত কয়েক দফায় ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/49ja1y3jjf">রংপুরে চার খুন: এক ভরি উদ্ধার, বাকি স্বর্ণালংকার কোথায়, কী বলছে পুলিশ</a></aside><p>গত ২১ আগস্ট দিবাগত রাতে রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, কলেজপড়ুয়া মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ১২ বছরের ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে রংপুর নগরের কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তাঁদের প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।</p><p>পুলিশ জানিয়েছে, সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। মামলাটি প্রথমে নগরের কোতোয়ালি থানা-পুলিশ তদন্ত করলেও পরে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় রংপুর ডিবিকে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/rud5dw8e0b">রংপুরে চার খুন: ডিএনএ পরীক্ষার জন্য দুই আসামিকে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে</a></aside>

অক্টোবর ৮, ২০২৬
জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের অবস্থান, অভিযানে মিলল পিস্তল, বন্দুক ও গুলি
জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের অবস্থান, অভিযানে মিলল পিস্তল, বন্দুক ও গুলি

<p>চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি একনলা বন্দুক, ১৬টি গুলিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।</p><p> আজ বৃহস্পতিবার বেলা তিনটার দিকে সলিমপুর ইউনিয়নের আলীনগর বাহাদুরঘোনা এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।</p><p> গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রাসেল (৩০), মোরশেদ (২৮), বাবু (২৫) ও সাব্বির (৩২)।</p><p>পুলিশ জানায়, জঙ্গল সলিমপুরের পাহাড়ি এলাকায় সন্ত্রাসীদের অবস্থান ও অস্ত্র মজুতের তথ্য পেয়ে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করেন। পরে ধাওয়া করে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।</p><p>অভিযানে থাকা ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আলমগীর প্রথম আলোকে বলেন, বাহাদুরঘোনা এলাকায় একদল সন্ত্রাসী সংঘবদ্ধ হয়ে অবস্থান করছে এমন খবর পেয়ে তাঁরা সেখানে অভিযান চালান। সেখান থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।</p>

অক্টোবর ৮, ২০২৬
লিথুয়ানিয়ার চাওয়া বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, এফবিসিসিআই চায় ভিসা সহজ হোক
লিথুয়ানিয়ার চাওয়া বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, এফবিসিসিআই চায় ভিসা সহজ হোক

<p>বাংলাদেশে প্রযুক্তি, পরিবহন ও লজিস্টিকস খাতে বিনিয়োগ-বাণিজ্য বাড়াতে আগ্রহী লিথুয়ানিয়া। এ জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চায় উত্তর-পূর্ব ইউরোপের দেশটি।</p><p> আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হকের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে এ আগ্রহের কথা জানান লিথুয়ানিয়ার পররাষ্ট্রবিষয়ক ভাইস মিনিস্টার ভিডমান্টাস ভার্বিকাস। রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআইয়ের কার্যালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানায়।</p><p>লিথুয়ানিয়ার এমন আগ্রহকে স্বাগত জানিয়েছেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক। এ জন্য দেশটির ভিসাপ্রক্রিয়া সহজ করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের জন্য ভিন্ন দেশে গিয়ে ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা বেশ কষ্টসাধ্য।</p><p>ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশ লিথুয়ানিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক। তিনি বলেন, লিথুয়ানিয়ার উন্নত প্রযুক্তি, পরিবহন ও লজিস্টিকস খাতের অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশ লাভবান হতে পারে।</p><p>লিথুয়ানিয়ার পররাষ্ট্রবিষয়ক ভাইস মিনিস্টার জানান, তাঁদের মূল লক্ষ্য হলো ইউরোপের পাশাপাশি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাজার সম্প্রসারণ। বাংলাদেশ এ অঞ্চলের একটি কৌশলগত বাণিজ্যকেন্দ্র। সে জন্য ঢাকায় ভিসা সেবাকেন্দ্র চালু করা কিংবা শেনজেনভুক্ত অন্য কোনো দেশের কনস্যুলেটের মাধ্যমে ভিসা জটিলতা সহজ করার উপায় খোঁজা হচ্ছে।</p><p>লিথুয়ানিয়ায় আগামী বছর অনুষ্ঠিতব্য ‘ডিজিটেক সামিট’ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরামে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানান ভিডমান্টাস ভার্বিকাস।</p><p>বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের মহাসচিব মো. আলমগীর, ভারতে নিযুক্ত লিথুয়ানিয়ার ডেপুটি হেড অব মিশন লুকাস কিসিয়েলিউস, পররাষ্ট্রবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব ইন্দো-প্যাসিফিক রিজিওনের অ্যাটাচে মিস. ক্রিসটিনা প্রমুখ।</p>

অক্টোবর ৮, ২০২৬
অর্থনীতির গতি আরও কমেছে, পাঁচ কারণে উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা
অর্থনীতির গতি আরও কমেছে, পাঁচ কারণে উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা

<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/i3y2pkr5/WhatsApp-Image-2026-10-08-at-11.16.36-PM.jpeg"></figure><p>পণ্যের নতুন ক্রয়াদেশ, উৎপাদন, কাঁচামাল ও প্রস্তুত পণ্যের মজুত এবং আমদানি কমে যাওয়ায় গত সেপ্টেম্বরে দেশে শিল্প উৎপাদন খাতের ব্যবসার গতি কমেছে। এ সময় সেবা খাতও সংকোচনের ধারা থেকে বের হতে পারেনি। আর নির্মাণ খাতও নতুন করে সংকোচনের ধারায় চলে গেছে। শুধু কৃষি খাত সম্প্রসারণের ধারায় ছিল। ফলে উৎপাদন, নির্মাণ ও সেবা খাতের দুর্বলতার কারণে গত মাসে সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতির গতি আরও কমে গেছে। এ তথ্য উঠে এসেছে পিএমআইয়ের মূল্যায়নে।</p><p> পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স বা পিএমআইয়ের মাধ্যমে প্রতি মাসে অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি প্রকাশ করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার গত মাসের পিএমআই প্রকাশ করেছে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সূচকের অবস্থানের তথ্য জানানো হয়। পিএমআইয়ের মূল্যায়নে দুই বছর ধরে অর্থনীতি উত্থান–পতনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ গত সেপ্টেম্বরে পিএমআই মান কমে ৪৮ দশমিক ৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগস্টে পিএমআই মান ছিল ৪৯ দশমিক ৯ পয়েন্ট।</p><p>ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের সংগঠন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ যৌথভাবে পিএমআই প্রণয়ন করছে।</p><p>অর্থনীতির প্রধান খাত কৃষি, ব্যবসা, নির্মাণ, উৎপাদন ও সেবা খাতের ৪০০টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীদের মতামতের ভিত্তিতে এই সূচকের মান নির্ধারণ করা হয়। সূচক তৈরির ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কাঁচামাল ক্রয়, পণ্যের ক্রয়াদেশ, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। মূলত পিএমআই মান শূন্য থেকে ১০০ নম্বরের মধ্যে পরিমাপ করা হয়। সূচকের মান ৫০-এর বেশি হলে অর্থনীতির সম্প্রসারণ এবং ৫০-এর নিচে হলে সংকোচন বোঝায়।</p><p>গত মাসে পিএমআইয়ের জরিপে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীরা পাঁচ কারণে ব্যবসা–বাণিজ্য ও অর্থনীতি নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সেগুলো হচ্ছে দফায় দফায় জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, কাঁচামাল ও পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি, ভোক্তাদের দুর্বল ক্রয়ক্ষমতা, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ঘাটতি এবং ব্যাংকঋণপ্রাপ্তির সীমাবদ্ধতা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে ব্যবসা–বাণিজ্যের আগাম পরিকল্পনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। জ্বালানি ও অন্যান্য ব্যয়ের চাপ অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে মনে করেন তাঁরা।</p><p>বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জরিপে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যবসায়িক আস্থার ক্ষেত্রে সতর্কতার চিত্র দেখা যাচ্ছে। ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা মূলত অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি, নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ, অর্থায়নে সহজ প্রবেশাধিকার এবং ব্যয়চাপ হ্রাসের ওপর নির্ভর করবে—এমনটা বলছেন ব্যবসায়ীরা। তবে কিছু প্রতিষ্ঠান নিশ্চিত অর্ডার, নির্ভরযোগ্য ক্রেতা এবং আসন্ন শীতকাল ও ব্যবসার মৌসুমে চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনায় আগামী মাসগুলোতে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের উন্নতির আশা প্রকাশ করেছে।</p><p>উৎপাদন খাতের পিএমআই গত মাসে ২ দশমিক ৬ পয়েন্ট কমে ৪৪ দশমিক ৮–এ দাঁড়িয়েছে, যা পিএমআইয়ের পতনে বড় ভূমিকা রেখেছে। গত আগস্টে উৎপাদন খাতের পিএমআই মান ছিল ৪৭ দশমিক ৪ পয়েন্ট। একইভাবে গত মাসে নির্মাণ খাতের পিএমআই মান ৩ দশমিক ৮ পয়েন্ট কমে ৪৮ দশমিক ৫ পয়েন্টে নেমেছে।</p><p>এ ছাড়া সেবা খাত টানা দুই মাস ধরে সংকোচন পর্যায়ে রয়েছে। গত মাসে খাতটির পিএমআই মান ৪৯ পয়েন্টে নেমেছে। এ খাতে নতুন ব্যবসা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম সংকোচনে ফিরে এসেছে। কর্মসংস্থানে সংকোচনের গতি কিছুটা কমেছে। অন্যদিকে কৃষি খাতে টানা ১৩ মাস সম্প্রসারণের ধারা অব্যাহত আছে। যদিও এই খাতের পিএমআই মান আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৩ পয়েন্ট কমে ৫৫ দশমিক ২ হয়েছে। এই খাতে নতুন ব্যবসা, ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও কর্মসংস্থানে সম্প্রসারণের গতি কমেছে।</p><p>পিএমআই মান নিয়ে পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ এক বিবৃতিতে বলেন, সেপ্টেম্বরের পিএমআই থেকে দেখা যাচ্ছে, উৎপাদন, নির্মাণ ও সেবা খাতের দুর্বলতার কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি এখনো চাপের মধ্যে রয়েছে। কৃষি খাতের অব্যাহত সম্প্রসারণ অর্থনীতিতে কিছুটা স্থিতিশীলতা ধরে রেখেছে। মাসরুর রিয়াজ আরও বলেন, সবগুলো খাতেই সামান্য ইতিবাচক প্রত্যাশা অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের একটি সম্ভাবনাময় ভিত্তি তৈরি করছে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি পুনরুদ্ধারে অভ্যন্তরীণ ও রপ্তানি চাহিদা জোরদার করা, নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা কমানো এবং ব্যয়বৃদ্ধির চাপ নিয়ন্ত্রণ করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।</p>

অক্টোবর ৮, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন