টেলিভিশন

ক্যানসারের লড়াইয়ে সামিয়া, মাথা ন্যাড়া করে পাশে স্বামী-সন্তান

অক্টোবর ২০, ২০২৬
ক্যানসারের লড়াইয়ে সামিয়া, মাথা ন্যাড়া করে পাশে স্বামী-সন্তান
ক্যানসারের লড়াইয়ে সামিয়া, মাথা ন্যাড়া করে পাশে স্বামী-সন্তান
<blockquote>২০২২ সালে প্রথম কোলন ক্যানসার ধরা পড়ে সামিয়ার। চিকিৎসকের পরামর্শে ওই বছরের এপ্রিলে সিঙ্গাপুরে যান তিনি। সেখানে পরীক্ষায় জানা যায়, ক্যানসার চতুর্থ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সেখানকার চিকিৎসায় সাড়া পেয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছিলেন সামিয়া। কিন্তু নিয়মিত ফলোআপের মধ্যে জেনেটিক পরীক্ষায় আবার ক্যানসার ধরা পড়ে। এবার ওভারিয়ান ক্যানসার।</blockquote><p>ছেলের হাতে ন্যাড়া হলো মায়ের মাথা। একটু পর ছেলেও মাথা ন্যাড়া করে হাজির। মায়ের কষ্টের সময়ে তাঁকে একা থাকতে দিতে চাননি স্বামীও। তাই নিজের মাথার চুল ফেলে তিনিও দাঁড়ালেন স্ত্রীর পাশে। ক্যানসারের চিকিৎসায় চুল হারানোর কষ্টটা যেন সামিয়াকে একা বইতে না হয়, পরিবারের মানুষগুলোও ভাগ করে নিলেন সেই কষ্ট।<br> উপস্থাপক সামিয়া আফরিন এখন ডিম্বাশয় (ওভারিয়ান) ক্যানসারের চিকিৎসায় কেমোথেরাপি নিচ্ছেন। চুল পড়ে যাবে, চিকিৎসক আগেই জানিয়েছিলেন। তাই নিজেকে সেভাবেই প্রস্তুত করছিলেন। প্রথমে চুল ছোট করেন, পরে ছেলে আহানাফ আরাবির হাতে মাথা ন্যাড়া করান। একটু পর ছেলে নিজেও মাথা ন্যাড়া করে হাসিমুখে হাজির হয়। স্ত্রীকে সঙ্গ দিতে মাথার চুল ফেলে দেন স্বামী এস এম রেজাউল ইমরানও।<br> গত ১৫ সেপ্টেম্বর মাথা ন্যাড়া করার একটি ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করে নিজের অনুভূতি জানিয়েছেন সামিয়া। লিখেছিলেন, কেমোথেরাপির কারণে চুল পড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে মন খারাপ না করে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সবকিছু নিয়ে মন খারাপ করে লাভ নেই; সময়ের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারাটাই আসল।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/entertainment/tv/iyvmkh8rk9">উপস্থাপক সামিয়ার ক্যানসার ফিরে এসেছে, এবার লড়াইটা অন্য রকম</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/entertainment/tv/wqr1hbvc85">মাথার চুল ফেলে দিয়েছেন সামিয়া, জানালেন জীবনের কঠিন সময়ের কথা</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/5iqacpqb/Samia_2.jpg"><figcaption>মাথা ন্যাড়া করার আগে ও পরের সামিয়া আফরিন। ছবি: কোলাজ</figcaption></figure><blockquote>গত বছরের ২০ মার্চ ঢাকার বনানীতে ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের সহায়তায় আয়োজিত ‘রিভোগ ওয়্যার টু কেয়ার’ নামের পোশাক প্রদর্শনীতে নিজের ক্যানসারের কথা প্রকাশ্যে জানান সামিয়া। এর আগে কাছের মানুষ ছাড়া অনেকেই তাঁর অসুস্থতার কথা জানতেন না।</blockquote><p>গত ১১ অক্টোবর রাজধানীর বনানীতে নিজের বাসায় প্রথম আলোর সঙ্গে কথা হয় সামিয়ার। বললেন, ‘চুল তো মানুষের বাহ্যিক সৌন্দর্য। চুল থাকুক বা না থাকুক, আত্মবিশ্বাসটাই মূল। আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। হাঁটাচলা করতে পারছি, এটাই অনেক বড় পাওয়া।’<br><strong>একবার ক্যানসার, আবার নতুন লড়াই</strong><br>২০২২ সালে প্রথম কোলন ক্যানসার ধরা পড়ে সামিয়ার। চিকিৎসকের পরামর্শে ওই বছরের এপ্রিলে সিঙ্গাপুরে যান তিনি। সেখানে পরীক্ষায় জানা যায়, ক্যানসার চতুর্থ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অস্ত্রোপচার ও কেমোথেরাপির কথা শুনে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এমনকি কোনো চিকিৎসা না করেই দেশে ফিরে আসার কথাও ভেবেছিলেন।<br>সামিয়া বলেন, ‘চিকিৎসক দেবর যখন প্রথম খবরটা দিল, ভেবেছিলাম, যখন হয়েই গেছে, তখন আর কী করা যাবে! সন্ধ্যায় সেজেগুজে দাওয়াত খেতেও গিয়েছি। কিন্তু সিঙ্গাপুরে গিয়ে যখন শুনলাম ক্যানসার চতুর্থ পর্যায়ে, অস্ত্রোপচার করতে হবে, কেমোথেরাপি দিতে হবে, তখন ভেঙে পড়ি। অনেক কান্নাকাটি করেছি। মনে হয়েছিল, চিকিৎসা নিলে আমার পুরো জীবনযাপন বদলে যাবে।’</p><aside><cite>আহানাফ আরাবি, সামিয়া আফরিনের ছেলে</cite>মাকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্যই চুল কেটে দিই। নিজের চুলও কেটে ফেলি। ভালোই লেগেছে। ক্যাম্পাসে গেলে বন্ধুরা চুল ফেলে দেওয়ার কারণ জানতে চেয়েছে। মায়ের কথা বলার পর সবাই সাপোর্ট করেছে।</aside><p>পরে সিঙ্গাপুরের এক চিকিৎসক সামিয়াকে ইমিউনোথেরাপির পরামর্শ দেন। ব্যয়বহুল এই চিকিৎসা নিতে রাজি হন সামিয়া। শুরু হয় ক্যানসারের বিরুদ্ধে তাঁর নতুন লড়াই।<br>২১ দিন পরপর দেওয়া এই চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছিল তীব্র। প্রথম থেরাপির পর ঢোক গিলতে পারতেন না, ত্বকে হতো চুলকানি। সিঙ্গাপুরে যাওয়ার সময় হেঁটে চলাফেরা করলেও ফেরার সময় হুইলচেয়ারের প্রয়োজন হয়েছিল। ২০২৩ সালে দেশে ফেরার পরও নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগেছেন। একসময় পাতলা পায়খানার সমস্যায় ডায়াপার পরে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় তাঁকে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/entertainment/tv/amm8rc4wff">চতুর্থ পর্যায়ের ক্যানসার থেকে ফিরে আসার গল্প বললেন উপস্থাপক সামিয়া</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-03-23/h2tvn8b1/428604039102313118936768896280076996997854244n.jpg"><figcaption>সামিয়া আফরিন</figcaption></figure><p>যন্ত্রণার তীব্রতা বোঝাতে গিয়ে সামিয়া বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে সন্তান প্রসবের সময় যে যন্ত্রণা হয়, অনেকটা সে রকম যন্ত্রণা হতো।’<br>তবু চিকিৎসা চালিয়ে গেছেন। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার সময় প্রথম দিকে স্বামী, ননদসহ পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে যেতেন। পরে একাই যাতায়াত শুরু করেন সামিয়া। পরিবারের অন্যদের কাজ থাকত, আর নিজেরও শক্ত থাকার ইচ্ছা ছিল।<br>চিকিৎসায় সাড়া পেয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছিলেন সামিয়া। কিন্তু নিয়মিত ফলোআপের মধ্যে জেনেটিক পরীক্ষায় আবার ক্যানসার ধরা পড়ে। এবার ওভারিয়ান ক্যানসার। গত ২২ জুলাই সিঙ্গাপুরে অস্ত্রোপচার করিয়েছেন। এখন দেশে চলছে কেমোথেরাপি। আগামী ডিসেম্বর মাসে ছয়টি কেমোথেরাপির কোর্স শেষ হওয়ার কথা।<br>এবারের চিকিৎসার অভিজ্ঞতা নিয়ে সামিয়া বলেন, ‘খাবারে স্বাদ-গন্ধ কিছুই পাই না। মুখ লাল হয়ে যায়, মাথা চুলকায়। তবে কাউকে এই যন্ত্রণা বলে বোঝানো যাবে না। যিনি এর মধ্য দিয়ে যাবেন, তিনিই বুঝবেন।’</p><p>জেনেটিক পরীক্ষায় শরীরে জিনগত ত্রুটি ধরা পড়েছে বলে জানান সামিয়া। ভবিষ্যতে শরীরের অন্য কোথাও ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তবু আশা ছাড়তে চান না। বললেন, ‘আশা করছি, শরীরে আর ক্যানসার ফিরে আসবে না।’</p><aside><cite>সামিয়া আফরিন, উপস্থাপক</cite>চুল তো মানুষের বাহ্যিক সৌন্দর্য। চুল থাকুক বা না থাকুক, আত্মবিশ্বাসটাই মূল। আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। হাঁটাচলা করতে পারছি, এটাই অনেক বড় পাওয়া।</aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/4ff97ha2/Samia_7.jpeg"><figcaption>বাবার কাছ থেকেই মানসিকভাবে শক্ত থাকার শিক্ষা পেয়েছেন সামিয়া। ছবি: মানসুরা হোসাইন</figcaption></figure><p><strong>পরিবারের শক্তিই ভরসা</strong><br>স্বামী, দুই ছেলে এবং বাবা অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী আবদুর রহিম ও গৃহিণী মা জীবন নাহারকে নিয়ে বনানীতে থাকেন সামিয়া। ২৭ বছরের দাম্পত্য জীবনে স্বামী রেজাউল ইমরানকে প্রতিটি কঠিন সময়ে পাশে পেয়েছেন। নিজের বাবা ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের কাছ থেকেও শুরু থেকেই সহযোগিতা পাচ্ছেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/entertainment/entertainment-interview/abng2g7e3i">সবকিছু সহজ করতে গিয়ে জীবনটাই জটিল হয়ে গেছে</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/entertainment/tv/d8jdzmpfw3">জীবন সব সময় আমাদের ইচ্ছেমতো গল্প লেখে না : সামিয়া আফরিন</a></aside><p>পরিবারের কারও ক্যানসার হলে তার প্রভাব যে সবার ওপর পড়ে, তা জানেন বড় ছেলে আহানাফ আরাবি। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ পড়ছেন তিনি। মায়ের প্রথমবার ক্যানসার ধরা পড়ার সময় কানাডায় পড়াশোনা করছিলেন। মায়ের পাশে থাকতে পড়াশোনা ছেড়ে দেশে ফিরে আসেন। পরে দেশে নতুন করে পড়াশোনা শুরু করেন।</p><p>মায়ের মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া এবং নিজের চুল ফেলে দেওয়ার কারণ জানিয়ে আহানাফ বলেন, ‘মাকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্যই চুল কেটে দিই। নিজের চুলও কেটে ফেলি। ভালোই লেগেছে। ক্যাম্পাসে গেলে বন্ধুরা চুল ফেলে দেওয়ার কারণ জানতে চেয়েছে। মায়ের কথা বলার পর সবাই সাপোর্ট করেছে।’<br>মায়ের অসুস্থতা তাঁর নিজের জীবনেও কীভাবে প্রভাব ফেলে, তা বোঝাতে গিয়ে আহানাফ বলেন, ‘যা-ই করি, মাথায় থাকে মায়ের তো ক্যানসার।’</p><p>সামিয়ার পরিবারে আরও একজন সন্তান রয়েছে, যার দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। নিজের ভাইয়ের ছেলে আয়মান আওসাফের আইনি অভিভাবকত্ব নিয়েছেন সামিয়া। আয়মান এখন ও লেভেলে পড়ছে।<br>সামিয়া মনে করেন, ক্যানসারের চিকিৎসায় শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি মানসিক চাপ সামলানোও জরুরি। রোগী অনেক সময় অল্পতেই রেগে যান, কাউকে সহ্য করতে পারেন না, কোনো কিছু মেনে নিতে চান না। এ সময় পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ও মানসিক সমর্থন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।</p><p><strong>কষ্টের কথা নয়, শক্ত থাকার বার্তা</strong><br>গত বছরের ২০ মার্চ ঢাকার বনানীতে ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের সহায়তায় আয়োজিত ‘রিভোগ ওয়্যার টু কেয়ার’ নামের পোশাক প্রদর্শনীতে নিজের ক্যানসারের কথা প্রকাশ্যে জানান সামিয়া। এর আগে কাছের মানুষ ছাড়া অনেকেই তাঁর অসুস্থতার কথা জানতেন না।</p><p>এর পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্যানসার নিয়ে নিয়মিত লিখছেন তিনি। বিশেষ করে রোগের সঙ্গে বসবাস করেও কীভাবে মানসিকভাবে শক্ত থাকা যায়, সে বিষয়ে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন ফেসবুকে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/3piy3ijy/Samia_6.jpeg"><figcaption>২০২২ সালে প্রথম ক্যানসার ধরা পড়ে সামিয়ার। ছবি: মানসুরা হোসাইন</figcaption></figure><p>সামিয়া বলেন, ফেসবুকে অনেকেই ক্যানসারের যন্ত্রণার কথা লেখেন। কিন্তু তিনি শুধু কষ্টের কথা জানাতে চান না। তাঁর পোস্ট পড়ে কোনো রোগী বা তাঁর পরিবারের সদস্য যদি সামান্যও মানসিক শক্তি পান, সেটাই তাঁর কাছে বড় অর্জন।<br>ফেসবুক পোস্টে অনেকেই বাজে বা নেতিবাচক মন্তব্য করেন। তবে নিজের পোস্টের মন্তব্যে এমন ঘটনা খুব কমই দেখেছেন বলে জানান সামিয়া। এটাকেও বড় পাওয়া মনে করেন তিনি।<br>নিয়মিত ব্যায়াম করা ও খাদ্যাভ্যাস ঠিক রাখার বিষয়ে বরাবরই সচেতন ছিলেন সামিয়া। তবু ক্যানসার তাঁর জীবনে ফিরে এসেছে। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে বুঝিয়েছে, অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই শুধু চিকিৎসার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; প্রতিদিনের জীবনটাকেও নতুন করে গুছিয়ে নিতে হয়।<br>সামিয়া আগে থেকেই ‘পারপাস বাই সামিয়া’ নামে একটি পডকাস্ট করছেন। সেখানে ক্যানসারে আক্রান্ত ব্যক্তিরা নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন, যা অন্যদের সাহস জোগাতে পারে। উজ্জ্বলা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবেও ক্যানসার রোগীদের জন্য মেডিক্যাল ক্যাম্প আয়োজন ও তহবিল সংগ্রহের কাজ করছেন তিনি।<br>ক্যানসারের চিকিৎসা ব্যয় কমানো ও সচেতনতা তৈরিতে ভবিষ্যতে আরও কাজ করতে চান সামিয়া। তাঁর কথায়, ‘একসময় ক্যানসারকে অনেক দূরের বিষয় বলে মনে হতো। এখন প্রায় প্রতিটি ঘরেই ক্যানসার ঢুকে যাচ্ছে।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/um9ewhpr/Samia-8.jpeg"><figcaption>নিজের কথা বলতে গিয়ে কান্না আটকাতে পারেননি সামিয়া। ছবি: মানসুরা হোসাইন</figcaption></figure><p>তবে আপাতত চিকিৎসার বাইরে নতুন কোনো কাজে যুক্ত হতে চান না। কেমোথেরাপি শেষ হওয়া পর্যন্ত উপস্থাপনা কিংবা অন্য কাজ নিয়ে ভাবছেন না তিনি।<br>সামিয়া গান শুনতে ও নিজেও গাইতে ভালোবাসেন। বারান্দার গাছপালার সঙ্গে সময় কাটান। তাঁর দুই বিড়ালকেও খাওয়ান। তাদের সঙ্গে সময় কাটে দিনের একটা বড় অংশ।</p><p><strong>বাবার চোখেও পানি</strong><br>কথা বলতে বলতে একপর্যায়ে মেয়ের পাশে এসে বসেন সামিয়ার বাবা আবদুর রহিম। মেয়ের চিকিৎসার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ক্যানসারের চিকিৎসাটা অনেক ব্যয়বহুল। মেয়ের জন্য আমাদের যে কষ্ট, সেই কষ্টটা নিজেদের মধ্যেই রাখি। সবার কাছে আমার মেয়ের জন্য দোয়া চাই।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/x707n62t/Samia_9.jpeg"><figcaption>সামিয়া ছাদ ও বারান্দার গাছপালার সঙ্গে সময় কাটাতে পছন্দ করেন। ছবি: মানসুরা হোসাইন</figcaption></figure><p>সামিয়া জানিয়েছেন, বাবার কাছ থেকেই মানসিকভাবে শক্ত থাকার শিক্ষা পেয়েছেন তিনি। অথচ মেয়ের অসুস্থতার কথা বলতে গিয়ে সেই বাবাও আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি। চোখে পানি ছলছল করছিল তাঁর।<br></p><p>ক্যানসারে চাচা, ফুফুসহ একাধিক স্বজন হারিয়েছেন সামিয়া। নিজের অসুস্থতা নিয়ে পরিবারের সামনে শক্ত থাকার চেষ্টা করেন তিনি। সামিয়া বলেন, ‘আমি অসুস্থ, এটা মানসিকভাবে কখনোই ভাবতে চাই না। বাবা, মা বা স্বামীর সামনে আরও বেশি শক্ত থাকার চেষ্টা করি। দেখা যায়, তাঁরা এসে উল্টো কান্নাকাটি করছেন। তবে আমি ভালো আছি, শক্ত আছি—এটা প্রমাণ করাটাও অনেক কঠিন কাজ।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/gcdt3c68/Samia_11.jpeg"><figcaption>নিজেকে ‘ট্রিট’ দিতে সামিয়া থাইল্যান্ড ঘুরতে গেছেন। ছবি: সামিয়ার সৌজন্যে</figcaption></figure><p>সেদিন কথার একপর্যায়ে সামিয়া জানিয়েছিলেন, নিজেকে ‘ট্রিট’ দিতে একাই থাইল্যান্ড ঘুরতে যাবেন। পরে থাইল্যান্ডে পৌঁছে হোয়াটসঅ্যাপে কথা হয় সামিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, ১৩ অক্টোবর তিনি থাইল্যান্ডে পৌঁছেছেন। দেশে ফিরবেন ২৩ অক্টোবর। এরপর ২৫ অক্টোবর আবার কেমোথেরাপি নেবেন।<br>ক্যানসারের চিকিৎসা চলছে, শরীরেও নানা কষ্ট। তবু সামিয়া চান না, অসুস্থতাই হয়ে উঠুক তাঁর পুরো পরিচয়। পরিবারের মানুষ পাশে আছেন, তাঁদের উদ্বেগ ও চোখের পানি সামলে তিনিও চেষ্টা করছেন নিজের মতো করে বাঁচতে। বারান্দার গাছপালা, গান আর দুই বিড়ালকে ঘিরে সাজিয়ে নিচ্ছেন দিনগুলো। ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ের পাশাপাশি এভাবেই নিজের জীবনের স্বাভাবিক ছন্দটুকু ধরে রাখতে চান সামিয়া।</p>

Prothomalo

View more
দুই কোরালের ওজন সাড়ে ২৩ কেজি, বিক্রি হলো ৩০ হাজার টাকায়
দুই কোরালের ওজন সাড়ে ২৩ কেজি, বিক্রি হলো ৩০ হাজার টাকায়

কেউ মাছটি স্পর্শ করে দেখছেন, কেউ কোলে নিয়ে ছবি তুলছেন। মাছের ওজন ও দাম জিজ্ঞেস করতে দেখা যায় কয়েকজনকে। পরে মাছটি বিক্রি হয়ে যায়।

অক্টোবর ২০, ২০২৬
মহানবমীর পূজায় শান্তি ও সম্প্রীতি কামনা
মহানবমীর পূজায় শান্তি ও সম্প্রীতি কামনা

দুর্গাপূজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তিথি মহানবমী। এদিন দেবী দুর্গার আরাধনার মধ্য দিয়ে অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভশক্তির বিজয় কামনা করেন ভক্তরা।

অক্টোবর ২০, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীতে পৌঁছেছেন, যোগ দিয়েছেন জনসভায়
প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীতে পৌঁছেছেন, যোগ দিয়েছেন জনসভায়

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো রাজশাহী সফরে এসেছেন তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে তিনি রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে সামরিক বিমানে অবতরণ করেন।

অক্টোবর ২০, ২০২৬
কাইলি জেনার, নাকি ৬১৮ কোটি টাকার ব্রা, আলোচনায় কোনটি
কাইলি জেনার, নাকি ৬১৮ কোটি টাকার ব্রা, আলোচনায় কোনটি

<p>ব্রা–টির দামের পাশাপাশি কাইলি জেনারকে মডেল হিসেবে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও আলোচনা, সমালোচনা হচ্ছে। </p><p>বছরের পর বছর ধরে ফ্যাশন ও সৌন্দর্যপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের ফ্যাশন শোর অন্যতম আকর্ষণ ‘ফ্যান্টাসি ব্রা’। এটি পরার সুযোগ পাওয়াটাকে ধরা হয় মডেলদের জন্য বিশেষ সম্মান ও ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। </p><p>প্রথমবারের মতো আইকনিক সেই অন্তর্বাস পরে ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের র্যাম্পে হাঁটলেন মার্কিন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও প্রসাধনসামগ্রী ব্যবসায়ী কাইলি জেনার। ১৯৯৬ সালে প্রথম এই ব্রা পরে র্যাম্পে হেঁটেছিলেন মডেল ক্লদিয়া শিফার।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-20/04qbiogy/0304fc06-7081-4897-9dad-b9370ae4dbfc.jpg"><figcaption>১৯৯৬ সালে প্রথম এই ব্রা পরে র্যাম্পে হেঁটেছিলেন মডেল ক্লদিয়া শিফার</figcaption></figure><p>একই বছর পরে বিভিন্ন সময়ে আলেসান্দ্রা অ্যামব্রোসিও ও আদ্রিয়ানা লিমার মতো মডেলও এটি পরেছিলেন। সর্বশেষ ২০১৮ সালে মডেল এলসা হস্ককে এই বিশেষ ব্রা পরতে দেখা গিয়েছিল। আট বছর পর আবারও ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের মঞ্চে ফিরে এল এই ব্রা, মডেল হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে কাইলি জেনারকে। </p><p>ফ্যান্টাসি ব্রার সঙ্গে কাইলি পরেছিলেন রুপালি থং, সাদা মিনিস্কার্ট। পায়ে ছিল স্বচ্ছ হিল। আর পিঠে জুড়ে ছিল বড়, সাদা পালকের ডানা—তাঁর সাজে ফুটে উঠেছিল ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের র্যাম্পের চিরচেনা আবেদন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/style/40rra8sn9b">মিমের মতো করে আপনিও কি পূজায় সাজতে চান</a></aside><p>এবারের ‘ফ্যান্টাসি ব্রা’র আনুমানিক মূল্য ৫ কোটি মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি টাকায় ৬১৮ কোটি ৬০ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের সঙ্গে এটি যৌথভাবে বানিয়েছেন জ্যাকব অ্যান্ড কোংয়ের নকশাকার জ্যাকব আরাবো। </p><p>বিলাসবহুল ঘড়ি আর গয়নার ব্র্যান্ডটির বিরল গয়নার সংগ্রহ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে তৈরি হয়েছে এর নকশা। মূল্যবান ধাতু ও রত্ন দিয়ে তৈরি ব্রাটিতে রয়েছে ক্রিস্টালের কাজ। নিচের দিকে ঝুলে থাকা ঝালর এর সৌন্দর্যে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা। </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-20/d32el23o/anonyig_io_Instagram_kyliejenner_4011497627385571320_12281817.jpg"><figcaption>এবারের ফ্যান্টাসি ব্রাতে কোনো কাপড় ব্যবহার করা হয়নি</figcaption></figure><p>এবারের ফ্যান্টাসি ব্রাতে কোনো কাপড় ব্যবহার করা হয়নি। হিরা ও ১৮ ক্যারেটের সাদা সোনা দিয়ে এটি তৈরি করা হয়েছে। ব্রাটি এমনভাবে নকশা করা হয়েছে, যাতে র্যাম্পে হাঁটার সময় কাইলি জেনারের শরীরের নড়াচড়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এটিও স্বাভাবিকভাবে নড়তে পারে। </p><p>ব্রাটি তৈরি করেছেন ১৫ জন দক্ষ কারিগর। পুরো কাজ শেষ করতে তাঁদের সময় লেগেছে এক হাজার ঘণ্টার বেশি। জ্যাকব অ্যান্ড কোংয়ের দাবি, এটিই এ পর্যন্ত তৈরি সবচেয়ে মূল্যবান ফ্যান্টাসি ব্রা।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/style/jqh5i804e9">পূজার আগে মেরুন ফিটেড গাউনে অভিনেত্রী মন্দিরা চক্রবর্তী, দেখুন ১০টি ছবি</a></aside><p>নকশাকারীর তথ্য অনুযায়ী, ১৮ ক্যারেট সোনা ও ৪ হাজার ৪১০টি হিরা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বিশেষ এই ব্রা। হিরা এবং সোনা মিলিয়ে ওজন হয়েছে ১ হাজার ৩৭৩ দশমিক ৩৯ ক্যারেট। </p><p>তবে সবকিছুর কেন্দ্রে ছিল ৭৫ দশমিক ৫৪ ক্যারেটের উজ্জ্বল কাটের বিরল, গাঢ় হলুদ রঙের হিরাটি। যেটা ‘ফ্যান্সি ভিভিড ইয়েলো’ শ্রেণির। গয়না নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, শুধু এই হীরাটির দামই ২ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি টাকায় ২৭২ কোটি ১৮ লাখ ৬৪ হাজার ২০০ টাকা।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-20/6ho0f8yu/anonyig.ioInstagramjacobandco4011517445369041567209426397.jpg"><figcaption>ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের সঙ্গে এটি যৌথভাবে বানিয়েছেন জ্যাকব অ্যান্ড কোংয়ের নকশাকার জ্যাকব আরাবো</figcaption></figure><p>দামের পাশাপাশি কাইলি জেনারকে মডেল হিসেবে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও আলোচনা, সমালোচনা হচ্ছে। কার্ডাশিয়ান পরিবারের তারকা কাইলি জেনারকে বেছে নেওয়ার কারণেই এ মিশ্র প্রতিক্রিয়া। </p><p>সামাজিক মাধ্যমে কেউ কেউ সিদ্ধান্তটিকে স্বাগত জানালেও অনেকের প্রশ্ন, দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাশন জগতে কাজ করা অভিজ্ঞ সুপারমডেলদের কাউকে কেন এই সুযোগ দেওয়া হলো না। </p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/fashion/3tp37p615d">পূজার মধ্যে কোন স্মৃতি ভাগ করে নিলেন মনামী ঘোষ, দেখুন ১২টি ছবি</a></aside><p>ব্রিটিশ সামাজিক মাধ্যম কৌশলবিদ, বিপণন বিশেষজ্ঞ ও কনটেন্ট নির্মাতা জোয়েল মারলিনারসনের মতে, কাইলিকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তটি ছিল সুপরিকল্পিত। এর মধ্য দিয়ে মডেলিং ও সামাজিক মাধ্যমের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।</p><p>বিবিসি নিউজবিটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ‘কাইলি এমন এক নতুন যুগের প্রতিনিধিত্ব করেন, যেখানে ব্র্যান্ডগুলো গতানুগতিক মডেলের সংজ্ঞায় কে মানানসই সে বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে কাকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করা যাবে, সেটিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।’ </p><p>মারলিনারসনের মতে, তরুণ দর্শকদের সঙ্গে কাইলির ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। তাঁদের অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে তাঁকে অনুসরণ করে। কার্ডাশিয়ান বোনদের নিয়ে তৈরি রিয়েলিটি শো দেখতে দেখতেই বড় হয়েছে এই প্রজন্ম।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-20/8txh5auk/anonyig_io_Instagram_kyliejenner_4011497507587808954_12281817.jpg"><figcaption>কাইলি জেনারকে মডেল হিসেবে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও আলোচনা, সমালোচনা হচ্ছে</figcaption></figure><p>ফ্যাশন জগতের পুরোনো অনুরাগীদের প্রতিক্রিয়া ভিন্ন। যাঁদের স্মৃতিতে নাওমি ক্যাম্পবেলের মতো কিংবদন্তি সুপারমডেলদের স্বর্ণযুগ এখনো উজ্জ্বল, তাঁদের কাছে কাইলিকে এই বিশেষ সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ফ্যাশনের পরিচিত ঐতিহ্যের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। </p><p>কাইলিকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে অনেকেই লিখেছেন, প্রকৃত মডেলদের প্রতিভা ও দক্ষতাকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, একসময়ের আভিজাত্যপূর্ণ এই ফ্যাশন শো এখন মডেলিং দক্ষতার চেয়ে সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয়তাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/fashion/76c1qfiajh">ধূসর টি-শার্ট থেকে বিলাসবহুল ফ্যাশনে, মার্ক জাকারবার্গের বদলে যাওয়া স্টাইল</a></aside><p>তবে ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের প্রধান সৃজনশীল কর্মকর্তা অ্যাডাম সেলম্যানের মতে, কাইলি কেবল ফ্যাশন তারকা নন, তিনি ‘সংস্কৃতির এক শক্তিশালী প্রভাবক’ (ইনফ্লুয়েন্সার)। তাঁর প্রভাব ফ্যাশন, সংস্কৃতি ও টেলিভিশনের গণ্ডিও ছাড়িয়ে গেছে। </p><p>এতে করেই বোঝা যায় ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের মতো দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডগুলো কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না। এমন কাউকে সামনে আনতে চায়, যাঁকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ তৈরি হবে, সংবাদমাধ্যমে শিরোনাম হবে এবং দর্শকদের আকৃষ্ট করে রাখতে পারবে অনেকক্ষণ।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-20/va0ngjjh/anonyig.ioInstagramkyliejenner401149751901307113312281817.jpg"><figcaption>সামাজিক মাধ্যমে কেউ কেউ সিদ্ধান্তটিকে স্বাগত জানালেও অনেকের প্রশ্ন, দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাশন জগতে কাজ করা অভিজ্ঞ সুপারমডেলদের কাউকে কেন এই সুযোগ দেওয়া হলো না</figcaption></figure><p>উল্লেখ্য, দর্শকসংখ্যা কমে যাওয়া, যৌন বৈষম্য, সেকেলে উপস্থাপনা ও বৈচিত্র্যের অভাব নিয়ে সমালোচনার মুখে ২০১৮ সালের পর ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের ফ্যাশন শো বন্ধ হয়ে যায়। ২০২৪ সালে ‘সব ধরনের নারীকে উদ্যাপন’ করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে আবারও ফিরে আসে এই আয়োজন। </p><p>সে বছর প্লাস-সাইজ মডেল অ্যাশলি গ্রাহামসহ বিভিন্ন গড়ন ও বৈশিষ্ট্যের মডেলদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বৈচিত্র্যের ওপর গুরুত্ব দেয় ব্র্যান্ডটি। সমালোচনাকারীরা এটাও বলছে, ফ্যান্টাসি ব্রাকে ঘিরে এই বিপুল আলোচনা সমাজের বাস্তবতা থেকে আমাদের বিচ্ছিন্নতারই প্রমাণ। </p><p>যেখানে মানুষ ঠিকমতো খাবার কিনতে পারছে না, ঘরের বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার সামর্থ্যও অনেকের নেই, সেখানে আমরা কোন বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছি এবং কোথায় অর্থ ব্যয় করছি, তা নিয়ে ভাবার সময় এসে গেছে।</p><p><sup>সূত্র: বিবিসি, বাজার</sup></p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/fashion/6ocqh809z4">লন্ডনে এইচঅ্যান্ডএমের ফ্যাশন শোয়ে হঠাৎ যে কারণে প্রতিবাদ</a></aside>

অক্টোবর ২০, ২০২৬
অস্বীকার, প্রতিহিংসা ও ঘৃণার সংস্কৃতি
অস্বীকার, প্রতিহিংসা ও ঘৃণার সংস্কৃতি

১৯৯৯ সালের জুনে কুমানোভা চুক্তি ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১২৪৪ নম্বর প্রস্তাবের মাধ্যমে কসোভোতে ডিডিআর প্রক্রিয়া শুরু হয়।

অক্টোবর ২০, ২০২৬
পঞ্চগড় বন্ধুসভার সাংগঠনিক সভা ও নতুন সদস্যদের পরিচিতি
পঞ্চগড় বন্ধুসভার সাংগঠনিক সভা ও নতুন সদস্যদের পরিচিতি

নতুন বন্ধুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও উচ্ছ্বাসে পুরো আড্ডা হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও আনন্দমুখর। পরিচয় পর্বের পাশাপাশি গান, আবৃত্তি আর আন্তরিক আলোচনায় তৈরি হয় বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ। হাসি-আনন্দ, সৃজনশীলতা ও পারস্পরিক সম্প্রীতিতে ভরপুর এই আয়োজন নতুন বন্ধুদের বন্ধুসভার কার্যক্রমের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি একসঙ্গে পথচলার নতুন প্রত্যয় জোগায়।

অক্টোবর ২০, ২০২৬
এমটিএম অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের অভিষেক অনুষ্ঠিত
এমটিএম অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের অভিষেক অনুষ্ঠিত

গত শনিবার রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে অনুষ্ঠিত এই অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

অক্টোবর ২০, ২০২৬
অশুভ শক্তি ভারত ভাঙার চক্রান্ত করছে: আন্দোলনকারীদের দিকে ইঙ্গিত করে মোহন ভাগবত
অশুভ শক্তি ভারত ভাঙার চক্রান্ত করছে: আন্দোলনকারীদের দিকে ইঙ্গিত করে মোহন ভাগবত

মোহন ভাগবত বলেন, ভারতের অগ্রগতিতে ঈর্ষান্বিত অশুভ শক্তি দেশ ভাঙার চক্রান্ত করছে। তাদের চক্রান্তে একদল মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে।

অক্টোবর ২০, ২০২৬
৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়, প্রকল্প বাতিল
৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়, প্রকল্প বাতিল

৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়, প্রকল্প বাতিল

অক্টোবর ২০, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন