এআই

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে ঢাকায় এআই বিজনেস সামিট

নভেম্বর ৪, ২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে ঢাকায় এআই বিজনেস সামিট
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে ঢাকায় এআই বিজনেস সামিট
আগামীকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হতে যাচ্ছে ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’।

Prothomalo

View more
প্রথম আলোর ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সেরা কর্মী যাঁরা
প্রথম আলোর ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সেরা কর্মী যাঁরা

<p>প্রথম আলোর ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে বছরের সেরা কর্মীদের পুরস্কৃত করা হয়েছে। আজ বুধবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত এ সম্মেলনে সেরা কর্মীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন সম্পাদকসহ প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মীরা।</p><p>এবার রিপোর্টিং বিভাগের সেরা কর্মীর পুরস্কার পেয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মো. মহিউদ্দিন। সেরা নবীন কর্মীর পুরস্কার পেয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক সৈয়দ রিফাত মোসলেম।</p><p>সমন্বিত বার্তা বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন সহকারী বার্তা সম্পাদক মো. আবু হুরাইরাহ। বিশাল বাংলা বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম। ইংরেজি ওয়েব বিভাগে পেয়েছেন সহসম্পাদক নওরিন আহমেদ।</p><p>এ বছর ডিজিটাল বিজনেস বিভাগে সেরা কর্মীর পুরস্কার পেয়েছেন ডিজিটাল বিজনেস কনটেন্টের প্রধান খায়রুল আলম, অ্যাডভার্টাইজমেন্ট অ্যান্ড বিজনেস ডেভেলপমেন্ট বিভাগের সহকারী মহাব্যবস্থাপক নর্মদা দাশ মিথুন, আর্টস অ্যান্ড গ্রাফিকস বিভাগের গ্রাফিক ডিজাইনার মো. মাইদুল ইসলাম।</p><p>আলোকচিত্রী বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন নিজস্ব ফটোসাংবাদিক মো. তানভীর আহাম্মেদ, ভিডিও বিভাগের কনটেন্ট ডিস্ট্রিবিউশন এক্সিকিউটিভ মো. সাকিল আহমেদ, তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে এন্টারপ্রাইজ অ্যাপ্লিকেশনস ম্যানেজার মামুনুর রহমান খাঁন, অর্থ ও হিসাব বিভাগের অ্যাকাউন্টস রিসিভেবল উপব্যবস্থাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং হালফ্যাশনের জুনিয়র কনটেন্ট ক্রিয়েটর কানিজ ফাতেমা।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-04/zoiz1zyd/Prothom-Alo28th05.jpg"></figure><p>প্রথম আলোর প্রতিনিধিদের মধ্যে এবার সেরা কর্মীর পুরস্কার পেয়েছেন কক্সবাজার জেলার নিজস্ব প্রতিবেদক আবদুল কুদ্দুস রানা ও সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি ইমতিয়াজ উদ্দিন।</p><p>এ ছাড়া এবার সেরা বিভাগের পুরস্কার পেয়েছে রিপোর্টিং বিভাগ।</p><p>বিভাগভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয়েছে যথাক্রমে সমন্বিত ডেস্ক, অ্যাডভার্টাইজমেন্ট অ্যান্ড বিজনেস ডেভেলপমেন্ট বিভাগ এবং মানবসম্পদ বিভাগ।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-04/itv52ny9/Prothom-Alo28th02.jpg"></figure><p>সহকর্মীদের ‘নিজের লেখা প্রতিযোগিতা’য় সাংবাদিকতা বিভাগের মধ্যে প্রথম হয়েছেন ভিডিও বিভাগের এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার মোহাম্মদ ইব্রাহীম আশিক; দ্বিতীয় সমন্বিত বার্তা বিভাগের উপবার্তা সম্পাদক কাজী আলিম-উজ-জামান এবং যৌথভাবে তৃতীয় হয়েছেন রিপোর্টিং বিভাগের বিশেষ প্রতিবেদক মানসুরা হোসাইন ও সমন্বিত বার্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক সাইফুল ইসলাম। এই প্রতিযোগিতায় সাংবাদিকতাবহির্ভূত বিভাগ (জেনারেল ও ব্যবসায়) থেকে প্রথম হয়েছেন তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার মো. আবিদুর রহমান, দ্বিতীয় অনলাইন গ্রাফিকস সেকশনের অনলাইন গ্রাফিক ডিজাইনার মো. মাহাফুজার রহমান এবং তৃতীয় হয়েছেন তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের এন্টারপ্রাইজ অ্যাপ্লিকেশনস ম্যানেজার মামুনুর রহমান খাঁন।</p><p>‘প্রথম আলোকে কতটা জানি’ কুইজ প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছেন ডিজিটাল কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট বিভাগের নির্বাহী মো. আবু তাহের, দ্বিতীয় হেড অব অনলাইন শওকত হোসেন মাসুম এবং তৃতীয় হয়েছেন প্রথমা ডটকমের গ্রাফিক ডিজাইনার মো. আল-মামুন।</p>

নভেম্বর ৪, ২০২৬
ঢাকা দক্ষিণে ডেঙ্গুর বেশি ঝুঁকিতে ২৯ ওয়ার্ড
ঢাকা দক্ষিণে ডেঙ্গুর বেশি ঝুঁকিতে ২৯ ওয়ার্ড

<p>এডিস মশার লার্ভার ঘনত্বের বিবেচনায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ২৯টি। আরও ২৮টি ওয়ার্ড মাঝারি ঝুঁকিতে রয়েছে। </p><p>সংস্থাটির ২ হাজার ২৫০টি বাড়িতে জরিপ চালায়। এর মধ্যে ৩২২টিতে এডিসের লার্ভা ও পিউপা পাওয়া গেছে। অর্থাৎ জরিপের আওতায় আসা প্রতি সাতটি বাড়ির প্রায় একটিতে এর উপস্থিতি মিলেছে।</p><p>মশার প্রজননস্থলের মধ্যে রয়েছে বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বালতি, ড্রাম, মগ ও ফুলের টব। ভবনের বেজমেন্টে জমে থাকা পানিতেও লার্ভা পাওয়া গেছে। ডিএসসিসি বলছে, নিজ বাড়ির আঙিনা ও পাত্রে জমে থাকা পানির বিষয়ে নাগরিকেরা সচেতন হলে মশার প্রজননস্থলের বড় অংশ শুরুতেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।</p><p>আজ বুধবার নগর ভবন মিলনায়তনে ‘বর্ষাকালীন এডিস মশার লার্ভা জরিপ ২০২৬’-এর ফলাফল প্রকাশ ও পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে বক্তব্য দেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-04/c7byfddd/WhatsApp-Image-2026-11-04-at-8.23.54-PM.jpeg"></figure><p>ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বিস্তার রোধে গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত ১২ দিন এই জরিপ চালানো হয়। প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে ৩০টি করে বাড়ি নমুনা হিসেবে নেওয়া হয়। ডিএসসিসি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার ৩৬ জন মাঠকর্মী এতে অংশ নেন। করপোরেশনের ভাষ্য, দৈবচয়নের ভিত্তিতে নমুনা বাছাই করে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে জরিপটি পরিচালিত হয়েছে।</p><p><strong>অধিক ও মাঝারি ঝুঁকিতে ৭৬ শতাংশ ওয়ার্ড</strong></p><p>জরিপে লার্ভার ঘনত্ব অনুযায়ী ওয়ার্ডগুলোকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। অধিক ও মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ দুই শ্রেণিতে রয়েছে মোট ৫৭টি ওয়ার্ড, যা দক্ষিণ সিটির মোট ওয়ার্ডের ৭৬ শতাংশ। বাকি ১৮টি ওয়ার্ডকে ‘সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।</p><p>অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলো হলো ১, ২, ৯, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ৩১, ৫৩, ৫৪, ৫৫, ৫৬, ৫৮, ৫৯, ৬০, ৬১, ৬২, ৬৫ ও ৭১।</p><p>মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলো হলো ৪, ৫, ৬, ৮, ১০, ১৮, ২৩, ২৯, ৩০, ৩২, ৩৩, ৩৫, ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪৩, ৪৬, ৫১, ৫২, ৫৭, ৬৪, ৬৭, ৬৮, ৬৯, ৭৩ ও ৭৫।</p><p>তথ্য সংগ্রহে ‘কবো টুলবক্স’ নামের ডিজিটাল ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে। পরে ব্রেটো ইনডেক্স, হাউস ইনডেক্স, কনটেইনার ইনডেক্স ও পিউপা ইনডেক্সের মাধ্যমে ফলাফল বিশ্লেষণ করা হয়। তবে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ওয়ার্ডভিত্তিক সূচকের মান কিংবা কোন মানদণ্ডে তিনটি ঝুঁকিশ্রেণি নির্ধারণ করা হয়েছে, তা উল্লেখ করা হয়নি।</p><p><strong>বালতি-ড্রামেও মশার প্রজনন</strong></p><p>জরিপের ফলাফলে প্লাস্টিকের বালতিতে লার্ভার উপস্থিতির হার দেখানো হয়েছে ১৪ দশমিক ২১ শতাংশ। প্লাস্টিকের ড্রামে এই হার ১১ দশমিক ২২ শতাংশ, বেজমেন্টের জমা পানিতে ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ, প্লাস্টিকের মগে ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ এবং ফুলের টবে ৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ।</p><p>এসব তথ্যের ভিত্তিতে করপোরেশন নাগরিক সচেতনতার মাধ্যমে প্রায় অর্ধেক এডিস মশার বিস্তার ও ডেঙ্গু প্রতিরোধের কথা বলেছে।</p><p>বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ হলো, মশার প্রজনন ঠেকাতে বাড়ি ও আশপাশের পানি জমতে পারে, এমন অপ্রয়োজনীয় পাত্র সরিয়ে ফেলতে হবে। প্রয়োজনীয় পানির পাত্র ঢেকে রাখতে হবে এবং সপ্তাহে অন্তত একবার খালি করে ঘষে পরিষ্কার করতে হবে। পাত্রের গায়ে লেগে থাকা ডিম দূর করতেও ঘষে পরিষ্কার করা জরুরি। সংস্থাটি বলছে, এডিসের ডিম শুষ্ক অবস্থায়ও কয়েক মাস টিকে থাকতে পারে।</p><p><strong>ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ অভিযান</strong></p><p>ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, বাসাবাড়ি ও কর্মস্থলের আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং সপ্তাহে অন্তত এক দিন জমে থাকা পানি অপসারণের অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।</p><p>জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ মশকনিধন অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চলছে বলে জানান প্রশাসক। শিশুদের ডেঙ্গু থেকে সুরক্ষায় প্রতি শনিবার করপোরেশনের নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির সময় সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আঙিনা ও শৌচাগার পরিষ্কারের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।</p>

নভেম্বর ৪, ২০২৬
মেট্রোরেলসহ তিন প্রকল্পের জন্য কোরিয়ার কাছে অর্থ চেয়েছে বাংলাদেশ
মেট্রোরেলসহ তিন প্রকল্পের জন্য কোরিয়ার কাছে অর্থ চেয়েছে বাংলাদেশ

এক্সপোর্ট–ইমপোর্ট ব্যাংক অব কোরিয়া (কেক্সিম), কোরিয়া ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন (কেআইসি), শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি ও প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে গতকাল মঙ্গলবার বৈঠক করেছে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল।

নভেম্বর ৪, ২০২৬
ওয়ানডেতে রান তাড়া করতে নেমে এখন কোহলিই ১ নম্বর
ওয়ানডেতে রান তাড়া করতে নেমে এখন কোহলিই ১ নম্বর

<p>ওয়ানডেতে রানের হিসাবে এখনো শচীন টেন্ডুলকার তাঁর চেয়ে এগিয়ে। তবে সেঞ্চুরির হিসাবে টেন্ডুলকারকে বিরাট কোহলি পেছনে ফেলেছেন অনেক আগেই। টেন্ডুলকারের ৪৯ সেঞ্চুরির বিপরীতে কোহলির এখন ৫৫টি। তবে একটা জায়গায় কোহলির শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে সংশয় মুছে গেছে অনেক আগেই। ওয়ানডেতে রানতাড়ায় তাঁর চেয়ে ভালো ব্যাটসম্যান আর কে আছেন! এবার সেই শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি মিলল পরিসংখ্যানেও। ওয়ানডেতে দ্বিতীয় ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের মালিক এখন কোহলি।</p><p>অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে আজ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে জেকব ডাফির একটি শর্ট বল পুল করতে গিয়েছিলেন কোহলি। ব্যাটের সামনের অংশে লেগে বল জমা পড়ে ডিপ স্কয়ার লেগে দাঁড়ানো ফিল্ডারের হাতে। ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়ার স্বপ্নটা পূরণ হলো না কোহলির। ফিরতে হলো হতাশ মুখে। তবে মাঠ ছাড়ার আগে নিজের নাম তুলে ফেলেছেন নতুন এক রেকর্ডের পাতায়।</p> <p>বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ভারতের ১৮৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় কোহলি খেলেছেন ৫১ বলে ৭৪ রানের ঝলমলে ইনিংস। ১৩টি চার ও একটি ছক্কায় সাজানো ইনিংসটি তাঁকে নিয়ে গেছে ওয়ানডের দ্বিতীয় ইনিংসে রানের শীর্ষে। এত দিন জায়গাটি ছিল শচীন টেন্ডুলকারের।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-04/qedyla7b/814207-01-02.jpg"><figcaption>বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ভারতের ১৮৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় কোহলি খেলেছেন ৫১ বলে ৭৪ রানের ঝলমলে ইনিংস। </figcaption></figure> <p>ওয়ানডে ক্যারিয়ারে রানতাড়ায় ২৩২ ইনিংসে ব্যাট করে টেন্ডুলকারের সংগ্রহ ৮ হাজার ৭২০ রান। সেঞ্চুরি ১৭টি, ফিফটি ৫২টি। কোহলি তাঁকে ছাড়িয়ে গেলেন অনেক কম ইনিংসে। ১৬ বছরের ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৬৯ বার ব্যাট করে তাঁর রান এখন ৮ হাজার ৭৪১। সেঞ্চুরি ৩০টি, ফিফটি ৪৬টি।</p><p>অর্থাৎ, টেন্ডুলকারের চেয়ে ৬৩ ইনিংস কম খেলেই তাঁকে পেছনে ফেলেছেন কোহলি। এখন তাঁর সামনে আরও বড় হাতছানি, দ্বিতীয় ইনিংসে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ৯ হাজার রানের মাইলফলক ছোঁয়ার। কোহলি ও টেন্ডুলকারের পর এ তালিকায় ৩ নম্বরে আছেন আরেক ভারতীয় রোহিত শর্মা। ১৬৩ ইনিংসে ৬ হাজার ৮০১ রান করেছেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক। সেঞ্চুরি ১৯টি, ফিফটি ৪০টি।</p> <p>নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে আরও একটি রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন কোহলি। ওয়ানডেতে ৩ নম্বরে ব্যাটিং করে ১৩ হাজার রান করা প্রথম ব্যাটসম্যান এখন তিনি। ম্যাচের আগে এই মাইলফলক স্পর্শ করতে তাঁর প্রয়োজন ছিল মাত্র ১২ রান। ভারতের ইনিংসের সপ্তম ওভারে নিজের ১৩তম বলে সেই মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-04/gmaqk485/814126-01-02.jpg"><figcaption>ওয়ানডেতে ৩ নম্বরে ব্যাটিং করে ১৩ হাজার রান করা প্রথম ব্যাটসম্যান এখন কোহলি।</figcaption></figure> <p>৩ নম্বরে ২৫১ ইনিংসে কোহলির রান ১৩ হাজার। গড় ৬১.৬১। সেঞ্চুরি ৪৮টি, ফিফটি ৭০টি। এই পজিশনে তাঁর ধারেকাছে শুধু একজনই। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং। ৩৩০ ইনিংসে ১২ হাজার ৬৬২ রান নিয়ে ক্যারিয়ার শেষ করেছেন তিনি। গড় ৪২.৪৮।</p><p>ওয়ানডেতে ৩ নম্বরে ১০ হাজার রানের বেশি আছে শুধু কোহলি ও পন্টিংয়ের। তালিকার পরের নাম কুমার সাঙ্গাকারা। শ্রীলঙ্কার এই কিংবদন্তির রান ৯ হাজার ৭৪৭। দক্ষিণ আফ্রিকার জ্যাক ক্যালিস ৭ হাজার ৭৭৪ রান নিয়ে আছেন চারে।</p><p>ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সামগ্রিক পরিসংখ্যানেও টেন্ডুলকারের সঙ্গে তাঁর তুলনাটা বেশ আকর্ষণীয়। কোহলি এখন পর্যন্ত ৩১৫ ম্যাচে করেছেন ১৫ হাজার ৮০ রান। গড় ৫৯.১৪, স্ট্রাইক রেট ৯৪.৩০। সেঞ্চুরি ৫৫টি, ফিফটি ৭৯টি। অন্যদিকে টেন্ডুলকারের ৪৬৩ ম্যাচে রান ১৮ হাজার ৪২৬। গড় ৪৪.৮৩, স্ট্রাইক রেট ৮৬.২৪। সেঞ্চুরি ৪৯টি, ফিফটি ৯৬টি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-04/htl5y7hb/814127-01-02.jpg"><figcaption>৩ নম্বরে ২৫১ ইনিংসে কোহলির রান ১৩ হাজার। গড় ৬১.৬১। সেঞ্চুরি ৪৮টি, ফিফটি ৭০টি। </figcaption></figure> <p>কোহলির এত অর্জনের ম্যাচটা ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে ৫ উইকেটে জিতেছে ভারত। টস জিতে নিউজিল্যান্ডকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে ১৮৫ রানে গুটিয়ে দেয় ভারত। পরে কয়েক দফা বৃষ্টি হানা দিলে তাদের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩২ ওভারে ১৪৩ রানের। ৫৬ বল বাকি থাকতে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় সফরকারীরা।</p>

নভেম্বর ৪, ২০২৬
মার্কিন কংগ্রেসের স্পিকার হয়ে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন হাকিম জেফ্রিস
মার্কিন কংগ্রেসের স্পিকার হয়ে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন হাকিম জেফ্রিস

<p>মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ২০১৩ সালে যোগ দেন হাকিম জেফ্রিস। এর কিছুদিন পর তাঁর শুরুর দিকের রাজনৈতিক মুরব্বি কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গ ডেমোক্র্যাটের সঙ্গে কথা বলেন।</p><p>‘আমার মনে হয়, ও-ই সেই মানুষ,’ বলেছিলেন সাবেক কংগ্রেস সদস্য এডি বার্নিস জনসন। সেখানে ছিলেন কংগ্রেস সদস্য ইমানুয়েল ক্লিভার। তাঁর মনে আছে, প্রতিনিধি পরিষদের অধিবেশনকক্ষে নিজের চিরচেনা আসনে বসেই জনসন এ কথা বলেছিলেন।</p><p>কয়েক মাসের মধ্যে ওই কৃষ্ণাঙ্গ ডেমোক্র্যাটরা নিয়মিত নৈশভোজে বসতে শুরু করেন। আলোচনার বিষয় ছিল জেফ্রিসের ভবিষ্যৎ। তাঁদের পরিকল্পনা ছিল, ন্যান্সি পেলোসি অবসর নিলে জেফ্রিস তাঁর জায়গায় স্পিকার হবেন। তাঁরা চেয়েছিলেন, জেফ্রিস যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হোন। আলোচনায় অংশ নেওয়া একাধিক ব্যক্তি এ কথা জানিয়েছেন।</p><p>প্রায় দেড় দশক পর, বড় কোনো অঘটন না ঘটলে আগামী জানুয়ারিতে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন জেফ্রিস। প্রেসিডেন্টের উত্তরাধিকারের ক্রমে ভাইস প্রেসিডেন্টের পরেই স্পিকারের অবস্থান। স্পিকার হলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছর নতুন শক্তি পাওয়া ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতৃত্ব কার্যত জেফ্রিসের হাতে থাকবে।</p><p>ক্লিভার এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এই প্রশাসনের অনেকেরই রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমানো উচিত নয়।’ তাঁর ধারণা, জেফ্রিস ও ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প প্রশাসনকে কঠিন চাপে ফেলবেন।</p><p><strong>আদর্শ ও প্রজন্মের ব্যবধান</strong></p><p>স্পিকার পদ এখনো নিশ্চিত হয়নি। ডেমোক্রেটিক সমাজতন্ত্রীদের একদল নতুন সদস্য প্রতিনিধি পরিষদে আসছেন। তাঁদের অভিযোগ, বর্তমান নেতৃত্ব সময়ের দাবি মেটাতে পারেনি। একসময় জেফ্রিসকেও দলের প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্বের বিরুদ্ধে উঠে আসা নেতা হিসেবে দেখা হতো। এখন ইসরায়েল ও সবার জন্য মেডিকেয়ারের মতো বিষয়ে তাঁর অবস্থান দলের প্রচলিত ধারার কাছাকাছি। এ কারণে দলের আন্দোলনপন্থী অংশ তাঁকে নিয়ে সন্দিহান।</p><p>জেফ্রিস আগে করপোরেট আইনজীবী ছিলেন। তিনি ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেন। দলের কেউ কেউ ব্যক্তিগত আলাপে বলেছেন, তিনি সিদ্ধান্ত নিতে বেশি দ্বিধা করেন। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠদের মতে, স্পিকার হলে তিনি দৃঢ়ভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। ট্রাম্প প্রশাসন ও বড় মার্কিন কোম্পানি, দুই পক্ষের সঙ্গেই বড় ধরনের সংঘাতে যেতে তিনি প্রস্তুত।</p><p>ঘনিষ্ঠরা বলছেন, জেফ্রিস সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক দাবিকে দলের কর্মসূচির কেন্দ্রে আনতে চান। ধনীদের ওপর কর বাড়াতে চান। বড় কোম্পানির প্রধান নির্বাহীদের তলব করতে চান। বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিরোধ এড়িয়ে চলার যে নীতি ডেমোক্র্যাটরা কয়েক দশক ধরে অনুসরণ করেছে, এতে তা বদলে যাবে।</p><p>২০১৯ সালে ডেমোক্র্যাটরা ন্যূনতম মজুরি যতটা বৃদ্ধি করতে চেয়েছিল, জেফ্রিস তার চেয়ে অনেক বেশি বৃদ্ধি করতে চান। সুপ্রিম কোর্টের জন্য কঠোর নৈতিক আচরণবিধি চালু করতে চান। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারেও লাগাম টানতে চান। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ দুই বছরে প্রশাসনের ওপর কংগ্রেসের কড়া নজরদারিতেও তিনি দলের নেতৃত্ব দেবেন।</p><p>সম্প্রতি সিএনএনের মানু রাজুকে ডেমোক্র্যাট নেতা জেফ্রিস বলেন, মার্কিন জনগণের হতাশার যথেষ্ট কারণ আছে। তারা চায় চলতি ব্যবস্থা ভাঙুক। তারা বড় পরিবর্তন চায়।</p><p>ঘনিষ্ঠদের মতে, নির্বাচিত হলে জেফ্রিসের সামনে দুটি কাজ থাকবে। ভোটাররা চান, ডেমোক্র্যাটরা সাহসী পদক্ষেপ নিয়ে বাস্তব পরিবর্তন আনুক। সেই প্রত্যাশা তাঁকে পূরণ করতে হবে। একই সঙ্গে তাঁকে খেয়াল রাখতে হবে, কোনো পদক্ষেপের কারণে যেন দুই বছর পর দল আসন না হারায়।</p><p>এ জন্য দলের বামপন্থী অংশের কিছু দাবিতে জেফ্রিসকে রাশ টানতে হবে। যেমন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিই বিলুপ্ত করার পক্ষে ডেমোক্র্যাটদের ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা কম। সবার জন্য মেডিকেয়ার চালুর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। তাঁর মিত্ররা বলছেন, ইসরায়েল-সংক্রান্ত নীতিতে ভোটাভুটি তিনি যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলবেন।</p><p>একজন মধ্যপন্থী ডেমোক্র্যাট সিএনএনকে বলেন, ‘তিনি সাহসী ও বিচক্ষণ পদক্ষেপ নেবেন। বেপরোয়া হবেন না। যেসব ভোটে বড় বিভাজন তৈরি হতে পারে, সেগুলো এড়ানোর চেষ্টা করবেন। জীবনযাত্রার খরচ কমানোতেই তাঁর মনোযোগ থাকবে। সংস্কৃতি নিয়ে রাজনৈতিক সংঘাতে তিনি জড়াবেন না।’</p><p>কলোরাডোর কংগ্রেস সদস্য জেসন ক্রো বলেন, জেফ্রিস স্পষ্ট করেছেন, ডেমোক্র্যাটরা পরিবারের দৈনন্দিন সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব দিয়েই জিতবে। ক্ষমতায় গিয়েও তারা সেসব বিষয়কে অগ্রাধিকার দেবে। ক্রোর মতে, সরকারি স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বৃদ্ধি করলে মানুষের খরচ কমতে পারে।</p><p>ক্রো বলেন, ‘আমার মনে হয়, মার্কিনরা সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার দিকে এগোতে প্রস্তুত। সেখানে পৌঁছানোর একাধিক পথ আছে।’ ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী মার্কিনদের মেডিকেয়ারের আওতায় আনতে একটি বিলের যৌথ প্রস্তাবক তিনি।</p><p>জেফ্রিসের সামনে প্রজন্মগত চ্যালেঞ্জও আছে। আলোচনার সঙ্গে পরিচিত ব্যক্তিদের মতে, প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা কমিটির সভাপতিদের মেয়াদে নতুন সীমা বসানোর পরিকল্পনা করছেন। জ্যেষ্ঠতাকে এত দিন গুরুত্ব দিয়ে আসা দলটির জন্য এটি বড় পরিবর্তন। এই নির্বাচনে প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যে মনোভাব দেখা গেছে, পরিকল্পনাটিতে তার প্রতিফলন আছে। বর্তমান সভাপতিরা অবশ্য অল্প সময়ের জন্য ছাড় পেতে পারেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-04/wpjlirzg/Supporters-react.jpg"><figcaption>টেক্সাসের অস্টিনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক সিনেট প্রার্থী ও টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি জেমস তালারিকোর বিজয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তাঁর সমর্থকেরা। ৩ নভেম্বর ২০২৬ </figcaption></figure><p>ভোটারদের আরেকটি অগ্রাধিকার হলো, কংগ্রেস সদস্যদের শেয়ার কেনাবেচা নিষিদ্ধ করা। জানুয়ারিতে প্রতিনিধি পরিষদের আচরণবিধিতে এই নিষেধাজ্ঞা যোগ করা যাবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। কিছু সদস্য আগামী বছর আলাদা একটি বিল পাস করতে চান। তাতে আইনপ্রণেতাদের পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের শেয়ার কেনাবেচার ওপরও কড়া বিধিনিষেধ থাকবে। তবে আলোচনার সঙ্গে পরিচিত ব্যক্তিদের মতে, বিলটির আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা কম।</p><p>শেয়ার কেনাবেচা নিয়ে এই মতভেদ আগামী বছরের একটি বড় চ্যালেঞ্জের আভাস দেয়। দীর্ঘদিনের অনেক সদস্য ধীরগতির পরিবর্তনে অভ্যস্ত। তাঁদের প্রতিরোধ সামলাতে হবে জেফ্রিসকে।</p><p>ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করাও কঠিন হবে। ট্রাম্প সম্প্রতি নিজেকে ‘মিস্টার ভেটো’ বলেছেন। তাঁর কাছ থেকে খুব সামান্য সহযোগিতা মিলবে বলে মনে করেন ডেমোক্র্যাটরা। একেবারেই সহযোগিতা না-ও মিলতে পারে।</p><p>অন্য পক্ষের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টাতেও জেফ্রিসকে সমস্যায় পড়তে হয়েছে। গ্রীষ্মে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে ব্যক্তিগত বৈঠক করেন তিনি। এ নিয়ে উদারপন্থী ডেমোক্র্যাটরা তীব্র সমালোচনা করেন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা-সংক্রান্ত একটি আইন নিয়ে জেফ্রিস ও কুশনার ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছিলেন।</p><p>পরে জেফ্রিস সিএনএনকে বলেন, ‘সমস্যা সমাধান করা আমাদের দায়িত্ব। সে জন্য কখনো কখনো অন্য পক্ষের লোকজনের সঙ্গেও বসতে হয়।’</p><p><strong>স্পিকার হওয়ার পথে</strong></p><p>প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের শীর্ষ নেতা হওয়ার আগে জেফ্রিসের সমর্থকেরা তাঁকে বিভিন্ন পদে যাওয়ার কথা বলেছিলেন। সে সময়ের কয়েকটি উদ্যোগের কথা একাধিক ব্যক্তি স্মরণ করেছেন।</p><p>কৃষ্ণাঙ্গ গির্জার কয়েকজন নেতা জেফ্রিসকে নিউইয়র্ক নগরের সাবেক মেয়র বিল ডি ব্লাজিওর বিরুদ্ধে প্রার্থী হতে বলেছিলেন। ২০১৯ সালে কংগ্রেস সদস্য এলাইজাহ কামিংসের মৃত্যুর পর প্রতিনিধি পরিষদের তদারকি কমিটিতে ডেমোক্র্যাটদের শীর্ষ পদে তাঁকে দেখতে চেয়েছিলেন কয়েকজন সহকর্মী। ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নির্বাচনী দৌড় থেকে সরে যেতে বাধ্য হন। তখন কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে জেফ্রিসকে প্রেসিডেন্ট পদেও লড়তে বলেছিলেন।</p><p>জেফ্রিস সব প্রস্তাবই ফিরিয়ে দেন। তাঁর দীর্ঘদিনের লক্ষ্য ছিল বলে মনে হয় প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার হওয়া।</p><p>ওহাইওর কংগ্রেস সদস্য জয়েস বিটি বলেন, ‘তিনি কংগ্রেশনাল ব্ল্যাক ককাসের সভাপতি হতে পারতেন। শুরুতেই দলের ভোট সংগঠনের দায়িত্বে থাকা ডেমোক্র্যাট হুইপও হতে পারতেন। তবে তিনি খুব হিসাব করে এগোন।’</p><blockquote>প্রায় দেড় দশক পর, আগামী জানুয়ারিতে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পথে জেফ্রিস। প্রেসিডেন্টের উত্তরাধিকারের ক্রমে ভাইস প্রেসিডেন্টের পরেই স্পিকারের অবস্থান। স্পিকার হলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছরে নতুন শক্তি পাওয়া ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতৃত্ব কার্যত জেফ্রিসের হাতে থাকবে।</blockquote><p>প্রতিনিধি পরিষদের বিচারবিষয়ক কমিটিতে দক্ষতা দেখিয়ে জেফ্রিস দলের ভেতর ওপরে উঠেছেন। ট্রাম্পের প্রথম অভিশংসনের সময় সেখানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এর আগে মাদক-সংক্রান্ত আইন ও দণ্ডাদেশ সংস্কার নিয়ে রিপাবলিকানদের সঙ্গে সমঝোতা করেছিলেন।</p><p>বিটি ও জেফ্রিস ২০১৩ সালে একসঙ্গেই কংগ্রেসে যোগ দেন। বিটি বলেন, ‘তিনি ঘরে ঢুকলেই মনে হয় এই মানুষটার কোনো ভয় নেই।’</p><p>ব্রুকলিনের জেফ্রিস ট্রাম্পের আমলেই ব্যাপক পরিচিতি পান। ২০২০ সালে সিনেটে ট্রাম্পের অভিশংসন বিচারে তিনি অভিযোগ তুলে ধরেন। পেলোসি নিজে তাঁকে এ দায়িত্বের জন্য বেছে নিয়েছিলেন। সিনেটের অধিবেশনকক্ষে তিনি প্রয়াত র‍্যাপার দ্য নটোরিয়াস বি আই জির কথা উদ্ধৃত করেন। ঘটনাটি বেশ আলোচিত হয়।</p><p>গানের প্রতি জেফ্রিসের ভালোবাসার কথা দলে অনেকেই জানেন। আশির দশকে ব্রুকলিনে কিশোর বয়সে তিনি ‘কিড ফ্রেশ’ নামে একবার র‍্যাপের লড়াইয়ে অংশ নেন। ক্লিভার তাঁকে বলেন ‘হিপহপের প্রধানমন্ত্রী’।</p><p>প্রথম অভিশংসনের পর থেকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে জেফ্রিসের আক্রমণ আরও তীক্ষ্ণ হয়েছে। ট্রাম্প তাঁর বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কটাক্ষ করলে জেফ্রিস জবাবে তাঁকে বলেন, ‘১৬০০ পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউয়ে বসা সবচেয়ে নির্বোধ ব্যক্তি।’ এই ঠিকানাতেই হোয়াইট হাউস। গ্রীষ্মে তিনি ট্রাম্পকে বলেন, ‘একজন দুর্বল, বেসামাল, ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ছড়ানো ৮০ বছর বয়সী ব্যর্থ প্রেসিডেন্ট।’</p><p>জেফ্রিস ও পেলোসি দুজনের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন ডেমোক্র্যাটদের এক জ্যেষ্ঠ সহকারী। তিনি সিএনএনকে বলেন, ‘তিনি লড়তে ভালোবাসেন। মুখোমুখি হতেও ভালোবাসেন। তাঁর মধ্যে দুঃসাহস আর আত্মবিশ্বাস আছে।’</p><p>দলীয় নেতা হিসেবে জেফ্রিসের মেয়াদে কিছু বিরোধও হয়েছে। কয়েকজন ডেমোক্র্যাট চার্লি কার্ককে নিয়ে তীব্র মতবিরোধের কথা স্মরণ করেন। গত বছর কার্ক হত্যার পর তাঁর ‘জীবন ও উত্তরাধিকার’কে সম্মান জানাতে একটি প্রস্তাব আনে রিপাবলিকানরা। দুই দলের মানুষকেই লক্ষ্য করে যে রাজনৈতিক সহিংসতা হয়েছে, তার নিন্দায় ঐক্য দেখাতে জেফ্রিস ও তাঁর নেতৃত্বের দল প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিতে রাজি হন।</p><p>এ সিদ্ধান্তে কংগ্রেশনাল ব্ল্যাক ককাসের সদস্যরা ক্ষুব্ধ হন। তাঁদের অভিযোগ, প্রস্তাবে কার্কের প্রশংসা করা হয়েছে। অথচ কৃষ্ণাঙ্গ মার্কিনদের বিরুদ্ধে তাঁর যেসব বক্তব্যকে তাঁরা বিদ্বেষপূর্ণ মনে করেন, সেগুলো উপেক্ষা করা হয়েছে।</p><p>কার্ক নাগরিক অধিকার আইনকে ‘বিরাট ভুল’ বলেছিলেন। তিনি আরও দাবি করেছিলেন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন ও মিশেল ওবামার মতো কৃষ্ণাঙ্গ নেতাদের বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা এত কম যে রাজনীতিতে তাঁদের গুরুত্ব দেওয়ার কারণ নেই।</p><p>প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিলেন কংগ্রেস সদস্য ট্রয় কার্টার। তিনি সে সময় লিখেছিলেন, ‘এসব কথার ক্ষতি আছে। এর মধ্যে সেই বিভাজনের মনোভাবই আছে, যা একসময় জিম ক্রো ব্যবস্থাকে শক্তি জুগিয়েছিল। তখন বর্ণবাদ ও বিদ্বেষকে আইনে ঢুকিয়ে মানুষের অধিকার ও মর্যাদা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-04/3t1yo661/US-Senate-candidate-Abdul-El-Sayed.jpg"><figcaption>যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ের পর মিশিগানের ডেট্রয়েটে নির্বাচনী রাতের সমাবেশে প্রতিক্রিয়া জানান ডেমোক্রেটিক সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ। ৪ নভেম্বর ২০২৬ </figcaption></figure><p>ভোটের পর এক বৈঠকে ব্ল্যাক ককাসের কয়েকজন সদস্য জেফ্রিসকে সরাসরি প্রশ্ন করেন। রিপাবলিকানদের প্রস্তাবটি তিনি যেভাবে সামলেছেন, তা নিয়ে তাঁরা আপত্তি জানান। নিজের সিদ্ধান্ত জানাতে তিনি এত দেরি করেছিলেন কেন, সেটিও তাঁরা জানতে চান। বৈঠক সম্পর্কে জানেন এমন একাধিক ব্যক্তি এ কথা বলেছেন।</p><p>একজন বলেন, ‘ব্ল্যাক ককাসকে আগে কখনো এত প্রকাশ্যে জেফ্রিসের সমালোচনা করতে দেখিনি।’</p><p>২০২৭ সাল সামনে রেখে দেখা যাচ্ছে, সেই দূরত্ব অনেক আগেই কেটে গেছে। সে সময় দুই পক্ষের আলোচনায় যুক্ত একজনের মতে, ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত জেফ্রিসের প্রতি সদস্যদের আস্থা বাড়িয়েছে। তিনি বলেন, ‘তাঁরা তাঁদের উদ্বেগ জানিয়েছিলেন। জেফ্রিস সেগুলোর জবাব দিয়েছিলেন।’</p><p>আগামী বছর এই প্রভাবশালী গোষ্ঠীতে কৃষ্ণাঙ্গ আইনপ্রণেতার সংখ্যা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি হতে পারে। আর তাঁদের মধ্য থেকেই আসতে পারেন দেশের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার।</p><p><strong>ডেমোক্র্যাটদের নতুন নেতৃত্ব</strong></p><p>জেফ্রিস দলীয় নেতা নির্বাচিত হওয়ার কিছুদিন পর তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মী হেনরি কুয়েলার তাঁকে অবিলম্বে মার্কিন সীমান্তে যেতে বলেন। কুয়েলার টেক্সাসের কংগ্রেস সদস্য।</p><p>সময়টা ২০২২ সাল। কুয়েলারের মতো ডেমোক্র্যাটরা মনে করতেন, বাইডেনের সীমান্তনীতি বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছে। তাঁদের মতে, ক্ষমতায় ফিরতে হলে সীমান্ত এলাকার মানুষের সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হয়, তা বুঝতে হবে।</p><p>জেফ্রিস কুয়েলারের নিজ শহর লারেডোতে যান। রাতে সীমান্ত ঘুরে দেখেন। তাঁদের চোখের সামনেই চোরাচালানের চেষ্টা হয়। তিনি স্থানীয় অলাভজনক সংস্থাগুলোর সঙ্গেও দেখা করেন। সেসব সফরে মানবিক বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।</p><p>কুয়েলার বলেন, ‘ডেমোক্র্যাটদের দিয়ে সীমান্ত নিরাপত্তা কথাটা বলাতেই পারতাম না।’ লারেডো সফরের পর জেফ্রিসের ভাষায় পরিবর্তন শুনি। তাঁকে “সীমান্ত নিরাপত্তা” বলতে শুনেছি। তাঁকে এটাও বলতে শুনেছি, অভিবাসীদের সঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ আচরণ করতে হবে।’</p><p>জেফ্রিসের ঘনিষ্ঠরা বলছেন, ডেমোক্রেটিক পার্টির দুর্বল হয়ে পড়া ভাবমূর্তি কীভাবে ফেরানো যায়, তা নিয়ে তিনি কয়েক বছর ধরে কাজ করছেন। ট্রাম্পকে হারানোর পাশাপাশি ভোটারদের আস্থা ফেরানোও তাঁর লক্ষ্য।</p><aside><cite>মানু রাজু, প্রধান কংগ্রেসবিষয়ক সংবাদদাতা, সিএনএন</cite>মার্কিন জনগণের হতাশার যথেষ্ট কারণ আছে। তারা চায় চলতি ব্যবস্থা ভাঙুক। তারা বড় পরিবর্তন চায়। </aside><p>সাম্প্রতিক নির্বাচনে দল কোথায় ভুল করেছে, তা তিনি দেখেছেন। বিশেষ করে ২০২৪ সালে। পরে যাঁরা ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন, তাঁদের ক্ষোভের আভাস তখন প্রায় সবাই উপেক্ষা করেছিলেন।</p><p>এর পর থেকে জেফ্রিস ও তাঁর নেতৃত্বের দল ভোটারদের আস্থা ফেরাতে কাজ করছে। তারা ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া সমালোচনা করেছে। সুযোগ পেলেই রিপাবলিকানদের সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছে। নিজেদের বক্তব্য ভোটারদের কাছে পৌঁছানোও তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।</p><p>জেফ্রিস প্রায়ই সহকর্মীদের বলেন, একজন সাধারণ মার্কিন নাগরিক সপ্তাহে প্রায় চার মিনিট রাজনীতির দিকে মন দেন। এর সাড়ে তিন মিনিটই যায় ট্রাম্পকে নিয়ে। তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে পরিচিতদের মতে, তিনি বলেছেন, ‘সপ্তাহে ওই ৩০ সেকেন্ডের জন্যই আমাদের লড়াই।’</p><p>সেই লড়াইয়ে রিপাবলিকানদের করছাড়ের বিলের বিরুদ্ধে জেফ্রিস প্রতিনিধি পরিষদে প্রায় ৯ ঘণ্টা বক্তৃতা দেন। স্বাস্থ্যসেবার ভর্তুকি নিয়ে বিরোধে সরকার ঐতিহাসিক ৪৩ দিন অচল ছিল। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়েও তিনি সর্বাত্মক লড়াইয়ে নামেন।</p><p>কয়েকজন সহকর্মী তাঁর আরেকটি গুণের কথা বলেছেন। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য ম্যাডেলিন ডিনের ভাষায়, তাঁর মধ্যে আছে ‘মার্কিন আশাবাদ’। এমন এক সময়ে তিনি এই আশাবাদ ধরে রেখেছেন, যখন দুই দলেরই বহু রাজনীতিক দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীরভাবে হতাশ।</p><p>ডিন ক্যাপিটলে ৬ জানুয়ারির হামলার রাতের কথা স্মরণ করেন। দাঙ্গাবাজদের ভবন থেকে সরানো হচ্ছিল। তখন তিনি ও অন্য সদস্যরা একটি সুরক্ষিত কক্ষে আশ্রয় নিয়েছিলেন। কক্ষে উপস্থিত ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে জেফ্রিসই ছিলেন সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ। ডিন তাঁর কাছে যান। আইনপ্রণেতাদের অধিবেশনকক্ষে ফিরে ইলেক্টোরাল ভোট গণনা আবার শুরু করার সুযোগ দিতে বলেন।</p><p>ডিনের মনে আছে, তিনি বলেছিলেন, ‘হাকিম, ওরা আমাদের এখান থেকে তাড়িয়ে দিতে পারে না।’</p><p>জেফ্রিস রাজি হন। পরে তৎকালীন কংগ্রেস সদস্য লিজ চেনির সঙ্গে সুর মিলিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ফিরে যাব। আমাদের কাজ শেষ করব।’</p>

নভেম্বর ৪, ২০২৬
সোমালিয়ার গৃহযুদ্ধ, কেনিয়ার শরণার্থী শিবির পেরিয়ে প্রথম হিজাব পরা নারী মার্কিন কংগ্রেস সদস্য হয়েছিলেন বিপুল ভোটে পুনর্নির্বাচিত ইলহান
সোমালিয়ার গৃহযুদ্ধ, কেনিয়ার শরণার্থী শিবির পেরিয়ে প্রথম হিজাব পরা নারী মার্কিন কংগ্রেস সদস্য হয়েছিলেন বিপুল ভোটে পুনর্নির্বাচিত ইলহান

মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন ইলহান ওমার। গৃহযুদ্ধ, শরণার্থী শিবির পেরিয়ে প্রথম হিজাব পরা নারী মার্কিন কংগ্রেস সদস্য হয়েছিলেন তিনি।

নভেম্বর ৪, ২০২৬
নাসির উদ্দিনের মামলায় পরীমনির জামিন বাতিল, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
নাসির উদ্দিনের মামলায় পরীমনির জামিন বাতিল, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

<p>ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় আদালতে হাজির না হওয়ায় চিত্রনায়িকা পরীমনির জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে…</p><figure></figure>

নভেম্বর ৪, ২০২৬
মোস্তাফিজের বিগব্যাশ অভিষেকে অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসীদের জন্য বিশেষ ছাড়
মোস্তাফিজের বিগব্যাশ অভিষেকে অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসীদের জন্য বিশেষ ছাড়

বিগ ব্যাশের ১৬তম আসর ১২ ডিসেম্বর শুরু হয়ে চলবে আগামী বছরের ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত। এর আগে আইএল টি–টুয়েন্টিতে দুবাই ক্যাপিটালসের হয়ে খেলবেন মোস্তাফিজ।

নভেম্বর ৪, ২০২৬
টেকনাফে চার যুবককে পাহাড়ে নিয়ে নির্যাতন, দুজনের মরদেহ উদ্ধার
টেকনাফে চার যুবককে পাহাড়ে নিয়ে নির্যাতন, দুজনের মরদেহ উদ্ধার

কক্সবাজারের টেকনাফে মাদক–সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চার যুবককে একটি পাহাড়ে নিয়ে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। তাঁদের মধ্যে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নভেম্বর ৪, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”

পোশাকের ট্যাবু ভেঙে ‘সংস্কৃতির সমতার’ বার্তায় যবিপ্রবিতে ‘লুঙ্গি প্যারেড’

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।