রাজনীতি

কড়া বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

অক্টোবর ২০, ২০২৬
কড়া বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
কড়া বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
কড়া বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Prothomalo

View more
কানাডার ১৯ শিক্ষার্থীর প্রথম বাংলাদেশ সফর
কানাডার ১৯ শিক্ষার্থীর প্রথম বাংলাদেশ সফর

এডমন্টনের ১৯ শিক্ষার্থী প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে শিক্ষা সফরে আসছেন। ম্যাকইউয়ান ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি আয়োজিত এই সফরে শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সমাজ সম্পর্কে জানবে।

অক্টোবর ২০, ২০২৬
পুচির মায়ের ‘সিগনেচার ডিশ’ কি জানেন, দেখে নিন রেসিপিতে
পুচির মায়ের ‘সিগনেচার ডিশ’ কি জানেন, দেখে নিন রেসিপিতে

<p>তাঁর আসল নাম তাপসী দাস। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি পরিচিত ‘পুচির মা’ হিসেবে। মূলত পুচি তাঁর প্রথম পোষা বিড়ালের নাম। ২০১৯ সাল থেকে বানাচ্ছেন নিত্যজীবনে ঘটা সব মজার ভিডিও। দেশে–বিদেশে তাঁর রয়েছে অসংখ্য অনুসারী। দুর্গাপূজা উপলক্ষে নকশার পাঠকদের জন্য তিনি বানিয়েছেন চারটি পদ।</p><h3>নিরামিষ পনির </h3><p><strong>উপকরণ</strong></p><ul><li><p>রান্নার পনির: ২৫০ গ্রাম কিউব করে কাটা</p></li><li><p>আস্ত জিরা: আধা চা-চামচ</p></li><li><p>গোলমরিচ: আধা চা-চামচ</p></li><li><p>জিরা আধা: চা-চামচ</p></li><li><p>কাজুবাদাম: ৬-৭টি</p></li><li><p>টমেটো: ১টি</p></li><li><p>কাঁচা মরিচ: ৪-৫টি</p></li><li><p>তেল বা ঘি: সিকি কাপ</p></li><li><p>ক্যাপসিকাম কিউব করে কাটা: আধা কাপ</p></li><li><p>পেঁয়াজ: আধা কাপ</p></li><li><p>পানি: অল্প পরিমাণে</p></li><li><p>লবণ: স্বাদমতো</p></li><li><p>চিনি: ১ চা-চামচ</p></li><li><p>গরমমসলা গুঁড়া: আধা চা-চামচ।</p></li></ul><figure><img alt="পুচির মায়ের ‘সিগনেচার ডিশ’ কি জানেন, দেখে নিন রেসিপিতে " src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/bs5b39ce/LABL3505.jpg"><figcaption>নিরামিষ পনির</figcaption></figure><p><strong>প্রণালি</strong></p><p>তাওয়ায় আস্ত জিরা, গোলমরিচ ও জিরা হালকা ভেজে নিন। সেগুলো ঠান্ডা করে গুঁড়া করে নিতে হবে। একটা ব্লেন্ডারে আগে থেকে ভিজিয়ে রাখা কাজুবাদাম, টমেটো, কাঁচা মরিচ একসঙ্গে ব্লেন্ড করে নিন। চুলায় আরেকটি পাত্রে তেল বা ঘি দিয়ে দিন। সেখানে পনির কিউবগুলো হালকা বাদামি করে ভেজে তুলে নিতে হবে। গরম তেলে ব্লেন্ড করে রাখা কাজু বাদামবাটার মিশ্রণ দিয়ে দিন। ঢাকনা দিয়ে কষিয়ে নিন। তারপর তেল ভেসে উঠলে সেখানে কিউব করে কাটা ক্যাপসিকাম ও পেঁয়াজ দিয়ে দিন। এরপর পানি ও লবণ, চিনি দিয়ে দিন। ঢাকনা দিয়ে ৪–৫ মিনিট রান্না করে নিন। সবকিছু সেদ্ধ হয়ে এলে সেখানে ভেজে রাখা পনির দিয়ে দিন। নেড়েচেড়ে সব একসঙ্গে রান্না করে নিন। ভেজে রাখা গরমমসলার গুঁড়ার মিশ্রণটি ওপরে ছড়িয়ে দিন। এবার গরম-গরম পরিবেশন করুন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/recipe/7x5lfkqvpq">মিষ্টি আলু দিয়ে বানানো যায় মজার নাড়ু, দেখুন রেসিপি</a></aside><h3>লুচি</h3><p><strong>উপকরণ</strong></p><ul><li><p>ময়দা: ২ কাপ</p></li><li><p>লবণ: স্বাদমতো</p></li><li><p>তেল: ২ টেবিল চামচ</p></li><li><p>গরম পানি: অল্প পরিমাণে।</p></li></ul><figure><img alt="পুচির মায়ের ‘সিগনেচার ডিশ’ কি জানেন, দেখে নিন রেসিপিতে " src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/0bda0wjr/000_LABL3577__11_.jpg"><figcaption>পুচির মায়ের বানানো লুচি</figcaption></figure><p><strong>প্রণালি</strong></p><p>একটি পাত্রে ময়দা, লবণ ও তেল মিলিয়ে নিন। এরপর অল্প অল্প করে গরম পানি দিয়ে নরম ডো বানিয়ে নিতে হবে। ভেজা কাপড় দিয়ে ঢেকে রেখে দিন ৩০ মিনিট। লুচির জন্য ছোট ছোট করে রুটির মতো বেলে নিন। গরম ডুবো তেলে ভেজে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে ফুলকো লুচি।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A7%9C%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A7%9C%E0%A7%87-%E0%A6%AE%E0%A7%8B%E0%A7%9F%E0%A6%BE-%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A7%9C%E0%A7%81">কুড়মুড়ে মোয়া নাড়ু</a></aside>

অক্টোবর ২০, ২০২৬
পুরোনো প্রেমের গুঞ্জনের মাঝেই লাল-সাদায় ধরা দিলেন শুভশ্রী-রাজ, উৎসবের সাজে নজর কাড়ল যে খুঁটিনাটি
পুরোনো প্রেমের গুঞ্জনের মাঝেই লাল-সাদায় ধরা দিলেন শুভশ্রী-রাজ, উৎসবের সাজে নজর কাড়ল যে খুঁটিনাটি

ব্যক্তিগত জীবন ঘিরে নানা গুঞ্জনের মাঝেও উৎসবের সাজে নজর কাড়লেন শুভশ্রী গাঙ্গুলী ও রাজ চক্রবর্তী। সাদা-লাল শাড়ি, সাদা পাঞ্জাবি আর সাজে দুজনের লুকেই ফুটে উঠল সাবেকি বাঙালিয়ানা, সঙ্গে রঙের মেলবন্ধন।

অক্টোবর ২০, ২০২৬
পরিকল্পনা ছাড়া দেশের শিল্প খাতে বড় কিছু হবে না
পরিকল্পনা ছাড়া দেশের শিল্প খাতে বড় কিছু হবে না

<p>বস্ত্র খাতের ব্যবসার পাশাপাশি চীনের সঙ্গে নানা ধরনের ব্যবসা করেন বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি (বিসিসিসিআই) <strong>মোহা. খোরশেদ আলম</strong>। চীনের ব্যবসা–বাণিজ্য, বিনিয়োগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিষয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে সম্প্রতি কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন <strong>শুভংকর কর্মকার</strong>।</p><p>দেশে চীনা ব্যাংকের শাখা খুলতে গত মাসে আপনারা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দিয়েছেন। হঠাৎ করে চীনা ব্যাংকের শাখা আনতে উদ্যোগী হলেন কেন?</p><p><strong>খোরশেদ আলম:</strong> চীন আমাদের শীর্ষ বাণিজ্য অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে বছরে ২০ বিলিয়ন বা ২ হাজার কোটি ডলারের বেশি বাণিজ্য হয়। বাংলাদেশে শ্রীলঙ্কার মতো দেশেরও একটি ব্যাংক আছে—ব্যাংক অব শ্রীলঙ্কা। আমরা চীন থেকে এত পণ্য আমদানি করছি, সেখানে চীনের একটি ব্যাংক থাকলে বেশ কিছু সুবিধা হবে। আমদানি-রপ্তানির খরচ কমবে।</p><p>চীনা ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হলে কীভাবে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের সুবিধা হবে, একটু ব্যাখ্যা করবেন?</p><p><strong>খোরশেদ আলম:</strong> মনে করেন, চীনে আমাদের প্রায় ৭০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই অর্থ যদি চীনা মুদ্রা ইউয়ানে আমাদের ব্যাংক হিসাবে জমা থাকে, তাহলে চীন থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ওই ইউয়ান ব্যবহার করা সম্ভব হবে। সে ক্ষেত্রে আমদানি-রপ্তানির অর্থ ডলারে, কিংবা ডলার থেকে ইউয়ান বা টাকায় রূপান্তর করতে হবে না। মধ্যবর্তী ব্যাংকের কমিশন ও মুদ্রা বিনিময়ের খরচ কমে আসবে। এতে গড়ে প্রায় ১ শতাংশ অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব। এই দুর্দিনে ১ শতাংশ অর্থও কম নয়। আরেকটা বিষয় হলো, আমাদের ব্যাংকগুলোর অনেকের পুঁজি নেই, ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল দিতে পারছে না। চীনা ব্যাংক এলে তারা নিশ্চিতভাবে পুঁজি নিয়ে আসবে। তারা তো টাকা নিয়ে এসে বসে থাকবে না। ব্যাংক চালাতে হলে সেই টাকা বিনিয়োগ করবে, ঋণ দেবে ও লাভ করবে। সেখান থেকে আমাদের কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুঁজি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। এই উদ্দেশ্যেই আমরা চীনা ব্যাংক চালুর প্রস্তাব করছি।</p><p>চীন এখন বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদেশি বিনিয়োগের উৎস। গত বছর চীনের নিট এফডিআইয়ের পরিমাণ গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ছিল। চীনারা এখন কোন ধরনের শিল্পে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে?</p><p><strong>খোরশেদ আলম:</strong> চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও বাগেরহাটের মোংলায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে। ইনভেস্ট বাংলাদেশ বা সাবেক বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) হিসাবে, আনোয়ারায় চীনা বিনিয়োগ ১৩০ কোটি ডলার হতে পারে। যদিও অর্থনৈতিক অঞ্চলের অবকাঠামোর নির্মাণকাজ শেষ হবে ২০৩১ সালে।</p><p>চীনারা মূলত টেক্সটাইল ও চামড়া খাতে বিনিয়োগে বেশি আগ্রহী। বস্ত্র খাতে কাপড় উৎপাদনে তাদের আগ্রহ বেশি। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বড় বাজার এবং পোশাক রপ্তানির সুযোগ তাদের এই খাতে বিনিয়োগ বেশি আকৃষ্ট করছে। আরেকটি সম্ভাবনাময় খাত হলো, পোশাকশিল্পের বর্জ্য থেকে ফাইবার তৈরি। চীনা কিছু প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ থেকে পোশাকশিল্পের ঝুট কিনে ফাইবার তৈরি করে ভিয়েতনামে রপ্তানি করছে। পরে সেই ফাইবার দিয়ে সুতা ও সোয়েটার তৈরি হচ্ছে। দেশে এ ধরনের কাজ করা গেলে বাংলাদেশেই মূল্য সংযোজন করা সম্ভব। এ ছাড়া তারা লিথিয়াম ব্যাটারি, সৌরবিদ্যুৎ ও হাসপাতাল সরঞ্জাম উৎপাদনেও আগ্রহ দেখাচ্ছে। বিশেষ করে লিথিয়াম ব্যাটারি উৎপাদনে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা চলছে।</p><p>উচ্চ শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনের অনেক পণ্য রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যদি চীনারা বাংলাদেশে প্রযুক্তি নিয়ে এসে সেসব পণ্য ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ হিসেবে তৈরি করে তবে দ্রুত রপ্তানি বাড়বে। কারণ, তাদের বাজার তো প্রস্তুতই আছে। আমি মনে করি, এমনটা করলে বাংলাদেশের জন্য ভালো হবে।</p><p>প্রযুক্তির দিক থেকে চীন অনেক এগিয়ে রয়েছে। আনোয়ারা ও মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলে চীন থেকে হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিতে বিনিয়োগ আকর্ষণ করা যায় না?</p><p><strong>খোরশেদ আলম:</strong> অবশ্যই আমাদের সেই চেষ্টা করা উচিত। তবে সমস্যা হচ্ছে, দেশে হাইটেক শিল্পের জন্য দক্ষ জনবলের সংকট রয়েছে। সেই সংকট দূর করতে হলে অর্থনৈতিক অঞ্চলের আশপাশে পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা দরকার। সেখানে চীনারা তাদের চাহিদামতো বিষয়ে জনবল তৈরির সুযোগ পাবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, অর্থনৈতিক অঞ্চলের আশপাশে শ্রমিকদের জন্য কোয়ার্টার বানাতে হবে। আনোয়ারার আশপাশে তো বাড়িঘর নেই, ৩০-৪০ মাইল দূর থেকে শ্রমিক নিতে হবে। এটি বেশ ব্যয়সাধ্য হবে। এ ছাড়া স্কুল, হাসপাতাল বাজার ইত্যাদি সুযোগ–সুবিধাও নিশ্চিত করা জরুরি।</p><p>চীন থেকে আমরা কী ধরনের বিনিয়োগ চাই, সেই বিষয়ে সরকারের দিক থেকে কোনো গাইডলাইন আছে কি? </p><p><strong>খোরশেদ আলম:</strong> বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু খাত সুনির্দিষ্ট থাকা ভালো। এখন যদি চীনের কোনো উদ্যোক্তা বলেন, ‘আমি একটা স্পিনিং মিল করব।’ তাহলে আমাদের জিজ্ঞাসা করতে হবে, কী জন্য? সেই উদ্যোক্তা যদি বলেন, স্থানীয় বাজারে সুতা বিক্রি করবেন। তাহলে আমাদের বলতে হবে, এই বিনিয়োগ আমাদের দরকার নেই। আর যদি চীনা উদ্যোক্তা বলেন, পণ্যটি ভিয়েতনাম, চীন, দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি করবেন তাহলে ঠিক আছে। তা ছাড়া চীনের উদ্যোক্তারা যদি লিথিয়াম ব্যাটারি বানাতে চান, তাহলে স্বাগত জানানো উচিত। সৌরবিদ্যুতের প্যানেল বানাতে চাইলেও দ্রুত অনুমতি দেওয়া দরকার। কারণ, এসব খাতে আমাদের বিনিয়োগ দরকার। এ ছাড়া চীনের উদ্যোক্তারা ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেল কিংবা গাড়ি তৈরি করতে চাইলেও স্বাগত জানানো উচিত।</p><p>এ দেশে চীনা বিনিয়োগ এনে সেখানে তৈরি পণ্য চীনে রপ্তানির সুযোগ আছে কি?</p><p><strong>খোরশেদ আলম:</strong> বর্তমানে চীনে ছোট ছোট কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তারা এখন বলপেনের মতো কলম বানাতে চায় না। সিরামিকের কাপ বানাতে আগ্রহী নয়। প্লাস্টিকের বোতলসহ ছোটখাটো পণ্য বানাতেও তাদের আগ্রহ নেই। তারা চায়, মোবাইলের মতো উচ্চ প্রযুক্তির পণ্য বানাতে, যেটার দাম বেশি। ফলে তাদের দেশে চাহিদা আছে, এমন পণ্য আমাদের দেশে উৎপাদন করে রপ্তানি করা সম্ভব। সেটি আমাদের বিনিয়োগেও সম্ভব। যেমন চীনা সারা বিশ্ব থেকে তাদের চাহিদার ৩০ শতাংশ তৈরি পোশাক আমদানি করে। ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ড থেকে চীনে প্রচুর পরিমাণে তৈরি পোশাক রপ্তানি হলেও বাংলাদেশ থেকে খুব বেশি রপ্তানি হয় না। চীনের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। বিনা শুল্কে বাংলাদেশের পণ্য চীনের বাজারে বিক্রির সুযোগ দিতে কুনমিংয়ে বিনা মূল্যে একটি স্থায়ী প্রদর্শনকেন্দ্র ও একটি গুদাম পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সেখানে আমরা বাংলাদেশের পণ্য প্রদর্শন করে রপ্তানি বাড়াতে পারি।</p><p>বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চীনের বিনিয়োগকারীদের প্রধান প্রধান বাধা কোথায়? </p><p><strong>খোরশেদ আলম:</strong> চীনের বিনিয়োগকারীদের এই মুহূর্তে বড় অভিযোগ হচ্ছে, জ্বালানিসংকট। তারা বলছে, জ্বালানি না পেলে বিনিয়োগ করবে কীভাবে। দ্বিতীয়ত, কারিগরিভাবে দক্ষ শ্রমিকের ঘাটতিও তাদের জন্য উদ্বেগের। এ ছাড়া ব্যাংক–সুবিধা পাবে কি না, এসব নিয়েও তাদের মধ্যে কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েছে। সেই সঙ্গে নিরাপত্তা ও চাঁদাবাজি নিয়েও তাদের উদ্বেগ রয়েছে। আমাদেরই এক সদস্য সম্প্রতি আমার কাছে একটা অভিযোগ করেছেন। নরসিংদীর মাধবদীতে একটি ব্যাটারি তৈরির কারখানায় চাঁদা দাবি করা হয়েছে কিন্তু ওই ব্যবসায়ী ভয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ করতে চান না।</p><p>দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাংয়ের বিনিয়োগ এনে শিল্প খাতের চেহারা বদলে দিয়েছে ভিয়েতনাম। চীন থেকে এমন কোনো বিনিয়োগ আনার সুযোগ কী আছে। যার মাধ্যমে আমাদের শিল্প খাতে বড় পরিবর্তন ঘটতে পারে?</p><p><strong>খোরশেদ আলম:</strong> বড় পরিবর্তনের জন্য যে পরিকল্পনা দরকার, তা আমাদের নেই। মোংলার অর্থনৈতিক অঞ্চল যেটা সম্প্রতি চীনকে দেওয়া হয়েছে, প্রথমে সেটি ভারতকে দেওয়া হয়েছিল। এক দশক অপেক্ষার পর গত জুলাইয়ে আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। তো এত দিন জমিটা ফেলে রাখা হলো কেন? এতগুলো বছর জমি ফেলে রেখে কোনো আউটপুট তো আসেনি। তাই আমি মনে করি, যথাযথ পরিকল্পনা ছাড়া দেশের শিল্প খাতে বড় কিছু হবে না।</p><p>চীনের মতো দক্ষ জনবল তৈরির উপায় কী?</p><p><strong>খোরশেদ আলম:</strong> আমাদের দেশে সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্ম আছে। এই প্রজন্মকে কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ করে গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। এরপর সেই দক্ষতা ব্যবহার করে আমরা আমাদের শিল্পকারখানাগুলোর অনেক বেশি প্রতিযোগিতাসক্ষম করতে পারি। পাশাপাশি উচ্চ প্রযুক্তির শিল্প চালানোর জন্য দক্ষ জনবল তৈরি করতে হবে। তার জন্য চীন কীভাবে প্রযুক্তির ব্যবহার করে উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে এনেছে, সেটি আমাদের রপ্ত করতে হবে। প্রয়োজনে চীনা বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আসতে হবে। তাহলেই দেশের অর্থনীতির উন্নতি দ্রুতগতিতে হবে বলে আমি মনে করি।</p>

অক্টোবর ২০, ২০২৬
নতুন চাকরিতে যোগ দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে আনোয়ার নিহত
নতুন চাকরিতে যোগ দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে আনোয়ার নিহত

নাটোরের বনপাড়ায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত বাগমারার আনোয়ার হোসেন নতুন চাকরিতে যোগ দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এখন লাশের অপেক্ষায় স্বজনেরা, গ্রামজুড়ে শোকের মাতম।

অক্টোবর ২০, ২০২৬
পূজার ছুটিতে পাহাড়, নদী, ঝরনা দেখতে পর্যটকদের ভিড়, মুখর খাগড়াছড়ি
পূজার ছুটিতে পাহাড়, নদী, ঝরনা দেখতে পর্যটকদের ভিড়, মুখর খাগড়াছড়ি

পার্কজুড়ে স্থানীয় ও দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের ভিড়। কেউ পার্কটিতে ছবি তুলতে ব্যস্ত, কেউ বন্ধু বা স্বজনদের সঙ্গে মেতে উঠেছেন আড্ডায়।

অক্টোবর ২০, ২০২৬
ভবিষ্যতের মানসিক ধাক্কা সামলাতে সন্তানকে বাস্তবমুখী করার উপায়
ভবিষ্যতের মানসিক ধাক্কা সামলাতে সন্তানকে বাস্তবমুখী করার উপায়

<p>প্রথম আলো ট্রাস্টের একটি আয়োজন বিনা মূল্যে মাদকবিরোধী পরামর্শ সহায়তা সভা। এ আয়োজনের আওতায় ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রথম আলোর কার্যালয় কারওয়ান বাজারে ১৮২তম অনলাইন পরামর্শ সহায়তা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উপস্থিত থেকে পরামর্শ প্রদান করেন বিশিষ্ট শিশু-কিশোর ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আহমেদ হেলাল। এইবারের বিষয়টি ছিল—‘সন্তানের আচরণ ও বন্ধু নির্বাচন: অভিভাবক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব।’ উক্ত অনুষ্ঠান থেকে একটি পরামর্শ তুলে ধরা হলো।</p><p><strong>সন্তানকে ভবিষ্যতে মানসিক ধাক্কা থেকে বাঁচাতে ছোটবেলা থেকেই বাস্তবতার মুখোমুখি কীভাবে করানো উচিত?</strong></p><p>উত্তরে ডা. আহমেদ হেলাল বলেন, ‘সন্তানকে অতি-সংরক্ষিত পরিবেশে না রেখে জীবন ও জগতের ভালো এবং মন্দ—উভয় দিকের সঙ্গেই পরিচয় করিয়ে দেওয়া উচিত। যদি তাকে শুধু সুন্দর ও ভালো জিনিসটাই দেখানো হয় এবং জীবনের কঠিন বা মন্দ দিকগুলোর মুখোমুখি হতে না দেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যতে বাস্তবে যখন সে কোনো খারাপ পরিস্থিতি বা ধাক্কার সম্মুখীন হবে, তখন সামলাতে না পেরে ভেঙে পড়বে। মন্দকে চেনার অর্থ এই নয় যে সন্তান খারাপ হয়ে যাবে; বরং এতে করে সে মন্দকে চিনে তা থেকে নিজেকে রক্ষা করার মতো মানসিক শক্তি ও প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করবে।’</p>

অক্টোবর ২০, ২০২৬
ফ্রান্সে অস্থিরতায় প্রকাশ্যে মাখোঁর দুর্বলতা, লাভবান হতে পারেন কট্টর ডানপন্থী লো পেন
ফ্রান্সে অস্থিরতায় প্রকাশ্যে মাখোঁর দুর্বলতা, লাভবান হতে পারেন কট্টর ডানপন্থী লো পেন

প্রেসিডেন্ট হিসেবে মাখোঁর ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হতে এখনো ছয় মাস বাকি। কিন্তু এ সময়ে কার্যত তিনি একজন ক্ষমতাহীন প্রেসিডেন্টে পরিণত হয়েছেন।

অক্টোবর ২০, ২০২৬
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেশনাল মাস্টার্সে ভর্তি, আবেদন ফি ১০০০
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেশনাল মাস্টার্সে ভর্তি, আবেদন ফি ১০০০

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেশনাল মাস্টার্স কোর্সে ভর্তি কার্যক্রম শুরু, আবেদন ১৯ অক্টোবর থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে।

অক্টোবর ২০, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন