<p>আগামী ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপে কমবেশি এক হাজার ৫০টি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ।</p><p> এবার সাড়ে চার হাজার ইউপি নির্বাচন পাঁচ ধাপে করার সময়সূচি ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছে ইসি। তবে কোন ধাপে কোন কোন ইউপির ভোট হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। মেয়াদোত্তীর্ণ বিবেচনায় পাঁচ ধাপে ভোট করা হবে এবার। প্রথম ধাপের ভোট হবে ২১ জানুয়ারি, দ্বিতীয় ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় ধাপ ২৯ এপ্রিল, চতুর্থ ধাপ ১৩ মে ও পঞ্চম ধাপ ২৭ মে।</p><p>ইসি সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫০টির কমবেশি ইউপিতে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ভোটের উপযোগী হয়েছে অনেক ইউপি; প্রথম ধাপে এটা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, আবহাওয়া, উপকূলীয় এলাকাসহ সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে ধাপে ধাপে তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। সাড়ে চার হাজার ইউপির বেশির ভাগেই নির্বাচন প্রথম দুই ধাপে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে বেশির ভাগ ইউপির ভোট শেষ করতে চায় ইসি। তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম ধাপে ইউপির সংখ্যা কমবে।</p><p>সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে এই মুহূর্তে ইসির কোনো পর্যালোচনা নেই জানিয়ে আখতার আহমেদ বলেন, কমিশন এখন শুধু ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে কাজ করছে। পরবর্তী সময়ে অন্য নির্বাচন প্রাসঙ্গিক হলে যথাসময়ে জানানো হবে।</p><p>আখতার আহমেদ বলেন, ইসি নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করবে না। ইভিএমগুলো কোন পদ্ধতিতে ডিজপোজ (ধ্বংস) করা হবে সে বিষয়ে সুপারিশ পাওয়ার পর এ বিষয়ে বলা যাবে। তিনি বলেন, ছয় বছর বয়স থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য নিবন্ধনের কথা ভাবা হচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষায় প্রবেশের সময় শিক্ষার্থীর যে তথ্য দেওয়া হয় সেটা নিয়ে ডেটাবেজ করার বিষয়টি আলোচনায় আছে। ভোটার নিবন্ধনে পারিবারিক তথ্য যুক্ত করার বিষয়েও কাজ চলছে। এতে একজন ব্যক্তি মা–বাবার কততম সন্তান, তাঁর বড় ভাই বা বোনের নিবন্ধন নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য যুক্ত থাকবে। ভবিষ্যতে তথ্যের সমন্বয় ও যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এটি সহায়ক হবে।</p><p>জাতীয় পরিচয়পত্রের মেয়াদ সম্পর্কে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব বলেন, কোনো কার্ডের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়নি। আগে দেওয়া লেমিনেটেড কার্ডের পরিবর্তে স্মার্ট কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও সরবরাহসংক্রান্ত জটিলতায় সবাইকে তা দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে লেমিনেটেড কার্ড এখনো বৈধ।</p>
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, ‘তিনি (শেখ হাসিনা) যদি দেশে আসতে চান, তাঁকে দেশে আসতে না করেছে কে? তাঁর তো দেশেই থাকা উচিত ছিল, দেশে থেকে আইন ফেস করার কথা ছিল।’
<p>কক্সবাজারের চকরিয়ায় মোটরসাইকেল আরোহী এক প্রবাসী নিহত হয়েছেন। পুলিশের ধারণা, অজ্ঞাত কোনো গাড়ির ধাক্কায় ছিটকে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। সড়কের পাশেই তাঁর মরদেহ, মোটরসাইকেল ও হেলমেট পড়ে ছিল।</p><p> আজ রোববার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের গয়ালমারা এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে। নিহত প্রবাসীর নাম মাহবুবুর রহমান (৬৪)। তিনি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের ছৈয়দাবাদ এলাকার বাসিন্দা। প্রায় দেড় মাস আগে তিনি সৌদি আরব থেকে দেশে এসেছেন।</p><p>চিরিংগা হাইওয়ে থানা-পুলিশ জানায়, মাহবুবুর রহমান সাতকানিয়া থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে চকরিয়ায় যাচ্ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, গয়ালমারা এলাকায় অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় মোটরসাইকেলটি মহাসড়ক থেকে ছিটকে পড়ে। এ সময় মোটরসাইকেল আরোহী মাহবুবুর রহমান মাথায়, বুকে গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলে নিহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।</p><p>মাহবুবুর রহমানের ভাগনে মোহাম্মদ ইলিয়াছ প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর মামা দেড় মাস আগে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন। আগামী ডিসেম্বরে আবার সৌদি আরব যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। এর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি প্রাণ হারান। তিনি দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে সৌদি আরবে ব্যবসা করেন। তাঁর সঙ্গে সেখানে তাঁর দুই ছেলেও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।</p><p>চিরিংগা হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট জাকিবুল ইসলাম বলেন, লাশটি চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। মোটরসাইকেলটি থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।</p>
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাইবারসিকিউরিটি সেন্টার আয়োজিত ‘সাইবারফ্রেমস গালা নাইট’-এ শিক্ষার্থীরা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সাইবার নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন।
<p>৩১ অক্টোবরের মধ্যে সরকারি বাসা ছাড়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার পরেও যাঁরা এখনো থেকে গেছেন, তাঁদের সরাতে এবার অভিযান পরিচালনা করবে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর। কোন কোন সরকারি চাকরিজীবীর বাসায় এখনো সাবলেট ও ভাড়াটে থাকছে, তাদের চিহ্নিত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পরিদপ্তরের কর্মকর্তারা।</p><p> তবে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আগে তাঁদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হবে। ভাড়াটে কেন বাসা ছাড়েননি, সে বিষয়ে যৌক্তিক কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে। যৌক্তিক কারণ দেখাতে না পারলে বাসা বরাদ্দ বাতিল করা হতে পারে বলে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।</p><p> বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে সবাই বাসা ছেড়েছেন কি না, তা যাচাই করতে আবাসন পরিদপ্তরের তদন্ত দল এখন সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছে। কারা বাসা ছেড়েছেন আর কারা এখনো ছাড়েননি, তা নিয়ে একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। আবাসন পরিদপ্তরের পাঁচটি তদন্ত দল ঢাকার বিভিন্ন সরকারি আবাসনে যাচ্ছে। এরই মধ্যে বেশ কিছু এলাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে পুরো তালিকা তৈরির কাজ এখনো শেষ হয়নি।</p><p>আবাসন পরিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাওয়ার পর অভিযান শুরু করা হবে। যেসব চাকরিজীবীর বাসা থেকে সাবলেট ও ভাড়াটে সরেনি, মূলত সেখানেই এই অভিযান চালানো হবে।</p><p>আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক জহিরুল ইসলাম খান প্রথম আলোকে বলেন, বাসা ছাড়ার নোটিশ দেওয়ার পর অনেকে ছেড়ে দিয়েছেন। তবে অনেকে এখনো বাসা ছাড়েননি বলেও খবর আসছে। একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাওয়ার পর অভিযান পরিচালনা করা হবে। যেসব সরকারি চাকরিজীবীর বাসা থেকে সাবলেট বা ভাড়াটে সরেনি, তাদের বাসায় এই অভিযান চলবে। কেন ভাড়াটে বাসা ছাড়েনি, সে বিষয়ে তাদের কাছে জানতে চাওয়া হবে। এরপর বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।</p><p>আবাসন পরিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার ২৭টি এলাকায় সরকারি আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে। এলাকাগুলো হলো—বেইলি রোড, সার্কিট হাউস রোড, ইস্কাটন, গুলশান, বনানী, উত্তরা, ধানমন্ডি, জিগাতলা, রায়েরবাজার, মোহাম্মদপুর, এলিফ্যান্ট রোড, গ্রিন রোড, সোবহানবাগ, আজিমপুর, পলাশী, এলেনবাড়ি, তেজগাঁও লাভ রোড, মালিবাগ, শাহজাহানপুর, খিলগাঁও সবুজবাগ, মতিঝিল, টিকাটুলি, মিরপুর-১ পাইকপাড়া, মিরপুর-৬ শিয়ালবাড়ি, মিরপুর-১০ ন্যাম গার্ডেন, শেরেবাংলা নগর ও আগারগাঁও।</p><p>এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সরকারি ফ্ল্যাট রয়েছে আজিমপুরে, ৩ হাজার ৪০৪টি। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা মিরপুরের পাইকপাড়ায় রয়েছে ১ হাজার ৭৩০টি ফ্ল্যাট। এ ছাড়া মিরপুর-১-এর শিয়ালবাড়িতে ১ হাজার ৯১টি এবং মতিঝিলের এজিবি কলোনিতে রয়েছে ১ হাজার ১১২টি ফ্ল্যাট।</p><p>রাজধানীতে সরকারি আবাসন বরাদ্দ নিয়ে অনেক চাকরিজীবী নিজে না থেকে অন্যকে সাবলেট ও ভাড়া দিয়ে আসছেন। বছরের পর বছর ধরে এই অনিয়ম চলে আসছে। তবে গত ২৯ অক্টোবর হঠাৎ সরকারি আবাসন পরিদপ্তর একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে। তাতে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সাবলেট বা ভাড়াটেদের সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। যে সরকারি চাকরিজীবীকে বাসা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তাঁকেই সেখানে বসবাস করার কড়া নির্দেশ দেয় পরিদপ্তর। বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে কোনো সরকারি ফ্ল্যাটে সাবলেট কিংবা ভাড়াটে পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট চাকরিজীবীর বাসা বরাদ্দ বাতিল করা হবে বলেও গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।</p><p>এই নোটিশ পাওয়ার পর আজিমপুর সরকারি অফিসার্স কোয়াটার্স থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীসহ অনেককে তড়িঘড়ি করে সরকারি আবাসন ছেড়ে দিতে দেখা যায়। এক দিনের নোটিশে বাসা ছাড়ার নির্দেশনায় অনেকে বিপাকে পড়েন এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অনেকে অন্তত এক মাস সময় দেওয়ার দাবি জানান। নোটিশের পর বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, তাঁরা মৌখিক চুক্তিতে বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন। বাড়ি ছাড়তে হলে অন্তত দুই মাস আগে জানাতে হবে—এমন শর্ত ছিল। কিন্তু সেই চুক্তি না মেনে হঠাৎ এক দিনের মধ্যে বাসা ছেড়ে দিতে বলায় তাঁরা কোথায় উঠবেন, তা নিয়ে ক্ষোভ জানান।</p><p>সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজধানীতে বিভিন্ন শ্রেণির মোট ১৯ হাজার ৯১টি সরকারি বাসা রয়েছে। এর মধ্যে সচিবদের জন্য রয়েছে ১১৪টি সচিব নিবাস এবং ৭৯টি বাংলো।</p><p>গ্রেড-৩ বা তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের জন্য ৫৫৮টি সুপিরিয়র শ্রেণির বাসা, গ্রেড-৫ বা তদূর্ধ্বদের জন্য ১ হাজার ৮৯৯টি, গ্রেড-৬ বা তদূর্ধ্বদের জন্য ১ হাজার ৮৯০টি, গ্রেড-৭ থেকে ৯-এর জন্য ২ হাজার ৬৩২টি এবং গ্রেড-১০ থেকে ১২-এর জন্য ৪ হাজার ৮৯০টি বাসা রয়েছে। এ ছাড়া শুধু গ্রেড-৯ কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত ৭৭৫টি ফ্ল্যাট রয়েছে। ১২ ও ১৩তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ১ হাজার ৮৪টি, ১৪ ও ১৫তম গ্রেডের জন্য ১ হাজার ৫৭৪টি, ১৬ ও ১৭তম গ্রেডের জন্য ২ হাজার ৫১৩টি এবং ১৮ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য রয়েছে ২ হাজার ৬১টি ফ্ল্যাট।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/pbpal3ixia">সরকারি চাকরিজীবীরা সরকারি বাসা নিয়ে কেন ভাড়া দেন</a></aside>
‘কিং’ মুক্তির আগেই গেরুয়া রং নিয়ে আবারও বিতর্কের মুখে শাহরুখ
<p>‘আব্বা, আপনার বেতন আমার লাগবে না, শুধু আপনি হলেই হতো আমার’—বাবা গ্রাম পুলিশ প্রধান জামশেদ আলীকে হারিয়ে ছেলে মো. নুরুজ্জামান (রনি) ফেসবুকে কথাগুলো লিখেছেন। ঢাকায় গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মহাসমাবেশে যোগ দিতে গিয়ে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান জামশেদ আলী। ছেলের আক্ষেপ, বাবার বেতন বৃদ্ধির স্বপ্ন পূরণ হলেও সেই বেতন তিনি আর কখনো তুলতে পারবেন না।</p><p> জামশেদ আলী রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়া ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ প্রধান (দফাদার)। গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মহাসমাবেশে যোগ দিতে ঢাকায় গিয়ে গতকাল শনিবার সকালে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। ছেলে নুরুজ্জামান স্থানীয় একটি বাজারে মুঠোফোন মেরামতের কাজ করেন।</p><p> পরিবার ও গ্রাম পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকাল সোয়া ১০টার দিকে রাজধানীর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে গ্রাম পুলিশদের মহাসমাবেশস্থলের প্রবেশমুখে হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন জামশেদ আলী। সেখানে দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।</p><p>ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়া ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সদস্য কবি সাগর বলেন, ‘মহাসমাবেশে যোগদান করতে আমরা বদরগঞ্জ উপজেলার ৮৪ জন গ্রাম পুলিশ সদস্য দুটি বাসে করে ঢাকায় গিয়েছিলাম। জামশেদ আলী আমার সঙ্গেই ছিল। জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে মহাসমাবেশস্থলে প্রবেশের সময় আমি ছিলাম সামনে। ভিড়ে কিছুটা পেছনে পড়ে যান জামশেদ আলী। হঠাৎ কেউ একজন বলেন, বাইরে একজন মাটিতে পড়ে আছে। দ্রুত বের হয়ে দেখি, জামশেদ আলী সমাবেশস্থলে প্রবেশের মুখ থেকে ১৫-২০ গজ দূরে পড়ে আছেন। তখন জ্ঞান ছিল না। সেখান থেকে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।’</p><p>আজ রোববার সকাল ১০টার দিকে জানাজা শেষে বদরগঞ্জ উপজেলার কাঁচাবাড়ি সরকারপাড়া গ্রামের কবরস্থানে জামশেদ আলীকে দাফন করা হয়। তাঁর জানাজায় বিপুলসংখ্য মানুষ অংশগ্রহণ করেন।</p><aside><cite>মো. নুরুজ্জামান, মারা যাওয়া গ্রাম পুলিশ প্রধান জামশেদ আলীর ছেলে, বদরগঞ্জ, রংপুর</cite>প্রিয় আব্বা, ...আজকে তো আপনার বেতন বাড়ল, সেই বেতন আর আপনি নিতে পারলেন না। আব্বা, আপনার বেতন আমার লাগবে না, শুধু আপনি হলেই হতো আমার। আব্বা, আপনি কেন আমাকে এতিম করে গেলেন?</aside><p><strong>‘চোখ-কান খোলা রেখো বাবা’</strong></p><p>জামশেদ আলীর ছেলে নুরুজ্জামান আজ রোববার প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঢাকায় গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মহাসমাবেশে যোগ দিতে যাওয়ার আগে বাবা বলেছিলেন, এলাকায় চুরি-ছিনতাই বেড়েছে। তিনি ঢাকা থেকে না ফেরা পর্যন্ত গ্রামটা যেন পাহারা দিয়ে রাখি।’</p><p>গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে অন্য গ্রাম পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে বদরগঞ্জ থেকে বাসে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন জামশেদ আলী। রাত পৌনে দুইটার দিকে বাসে থাকার সময়ও ছেলে নুরুজ্জামানকে ফোন করেন তিনি। ফোনে ছেলেকে বলেন, ‘বাবা, ঘুমাইছ? গ্রামে চোখ-কান খোলা রেখো বাবা।’ বাবার সঙ্গে ছেলের সেটিই ছিল শেষ কথা।</p><p>জামশেদ আলী ১৯৯৭ সালে গ্রাম পুলিশে যোগ দিয়েছিলেন। অন্তত ১৫ বছর ধরে গ্রাম পুলিশ প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বিনয়ী ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে এলাকায় তাঁর পরিচিতি ছিল। কিন্তু স্বল্প বেতনে সংসার চালাতে তাঁকে হিমশিম খেতে হতো। স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে ও বৃদ্ধ মাকে নিয়ে ছিল তাঁর সংসার। পরিবারের পাঁচ সদস্যের ভরসা ছিলেন তিনি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-08/dn1x1fzl/rangpur2.jpg"><figcaption>জামশেদ আলী</figcaption></figure><p>ছেলে নুরুজ্জামান বলেন, প্রতিদিন রাতে তাঁর বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় থাকতেন বাবা। তিনি বাড়ি ফিরলে দুজন একসঙ্গে খেতে বসতেন। খাওয়ার সময় বাবা বলতেন, ‘বাবা, আমাদের বেতন বাড়বে, তখন আর কোনো সমস্যা হবে না।’</p><p>গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মহাসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গ্রাম পুলিশের বেতন-ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা দেন। গ্রাম পুলিশ সদস্যদের বেতন সাড়ে সাত হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৫০০ টাকা আর গ্রাম পুলিশ প্রধানের বেতন ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।</p><p>কিন্তু বেতন বাড়ানোর ঘোষণা শোনার যে স্বপ্ন নিয়ে জামশেদ আলী মহাসমাবেশে যোগ দিতে গিয়েছিলেন, সেই ঘোষণা নিজের কানে শুনে যেতে পারেননি তিনি। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারে চলছে মাতম। ছেলে নুরুজ্জামান ফেসবুকে লিখেছেন, ‘প্রিয় আব্বা, ...আজকে তো আপনার বেতন বাড়ল, সেই বেতন আর আপনি নিতে পারলেন না। আব্বা, আপনার বেতন আমার লাগবে না, শুধু আপনি হলেই হতো আমার। আব্বা, আপনি কেন আমাকে এতিম করে গেলেন?’</p><p>জামশেদ আলীর মৃত্যুর পর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর পরিবারের জন্য প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিক তিন লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন। শনিবার রাতে রংপুর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তী, বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুসা নাসের চৌধুরী, বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকারসহ স্থানীয় বিএনপি নেতারা অনুদানের টাকা পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেন।</p><p>নুরুজ্জামান রনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমার বাবার মৃত্যুর পর তাৎক্ষণিক তিন লাখ টাকা অনুদান পাঠিয়েছেন। আমরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি চিরকৃতজ্ঞ। বাবার স্বল্প বেতনে অতিকষ্টে সংসার চলত। আমি চাই, বাবার চাকরিটা যেন আমাকে দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী যেন আমাদের পরিবারের প্রতি নজর রাখেন।’</p>
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দাওয়াত না দেওয়ায় নওধার সেভেন সাইড ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
চীন বঙ্গোপসাগরে পৌঁছাতে চায়। বাংলাদেশকে সেই যোগাযোগব্যবস্থার অংশ করতে চায়
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।
অসুস্থ হয়ে পড়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী খালেদা আক্তার কল্পনাকে।