রায়হানের অভিজ্ঞতা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আনে—প্রযুক্তি যদি কম সময়ে বেশি কাজ করার সুযোগ দেয়, তাহলে মানুষের হাতে অবসর সময় বাড়ছে না কেন? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি সত্যিই কাজ সহজ করছে, নাকি একই সময়ে আরও বেশি কাজ করার প্রত্যাশা তৈরি করছে?
বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট (বিএফটিআই) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তফা আবিদ খান গতকাল এক অনুষ্ঠানে এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ ও করণীয় নিয়ে একটি উপস্থাপনায় এসব তথ্য দেন। সেখানে এই তথ্য দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগর আয়োজিত সাবেক সাথি-সদস্য সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শফিকুর রহমান।
<p> রাজধানীর ভাটারা এলাকায় পুলিশের একজন অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শকের (ডিআইজি) ভাড়া দেওয়া বাড়িতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। অভিযানে ওই বাড়ি থেকে ৮৫ জনকে আটক করা হয়েছে। </p><p> গতকাল সোমবার মধ্যরাতে ডিবির উত্তরা বিভাগের একটি দল বাড়িটিতে অভিযান চালায়। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।</p><p>ডিবি সূত্রে জানা গেছে, বাড়িটিতে নিয়মিত মাদকের আসর বসত। পাশাপাশি ডিজে পার্টিও চলত। বিভিন্ন বয়সী নারী ও পুরুষ সেখানে মাদক সেবনের জন্য যেতেন। পরে তথ্য পেয়ে অভিযান চালানো হয়েছে। বাড়িটি অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরের। তিনি পুলিশ সদর দপ্তরে মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড রিপেয়ার শাখায় কর্মরত।</p><p>অভিযানের বিষয়ে শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, অতিরিক্ত ডিআইজি অনলাইনের মাধ্যমে বাড়িটি ভাড়া দিয়েছিলেন। যাঁরা ভাড়া নিয়েছিলেন, তাঁরা বাড়িটি মাদকসংক্রান্ত কাজে ব্যবহার করতেন। আটক ৮৫ জনের মধ্যে ২৬ জন নারী।<br>শফিকুল ইসলাম বলেন, আটক ব্যক্তিদের বিচারের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হবে। প্রক্রিয়া চলছে।</p><p>এ বিষয়ে জানতে অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁকে পাওয়া যায়নি।</p>
<p>১৯ অক্টোবর, আমার জন্মদিন। কাগজে-কলমে বয়স ২৯ হলো। অথচ এই বয়সটা মাত্র সাত দিনেই আটকে যেতে পারত! জন্মের ঠিক এক সপ্তাহ পর আমার ভয়াবহ ডায়রিয়া হলো। দিনে ৬০-৭০ বার পাতলা পায়খানা! সাত দিনের ছোট্ট একটা শরীর, তার ভেতরে আর কী-ই বা থাকে! একপর্যায়ে ডাক্তারও হাল ছেড়ে দিলেন। আব্বু-আম্মুকে ডেকে পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, ‘এই বাচ্চা বাঁচবে না, আপনারা মানসিক প্রস্তুতি নিন।’ এরপরও একদম শেষ আশা হিসেবে আমার শিরায় স্যালাইন চলল, দেওয়া হলো অক্সিজেন। আমি টিকে গেলাম।</p><p>সেই দিনগুলোর কথা আমার নিজের কোনো স্মৃতিতে নেই। থাকার কথাও নয়। জীবনের প্রথম মুখ ফুটে বলা শব্দ কিংবা প্রথম হাঁটতে শেখার গল্প মানুষ যেমন বাবা-মায়ের কাছে শোনে, আমিও তেমনি আব্বু-আম্মুর মুখে শুনেছি আমার মৃত্যুমুখ থেকে ফিরে আসার সেই গল্প। কিন্তু বড় হতে হতে একটা ভাবনা অনেকটা অবচেতনভাবেই আমার ভেতরে গেঁথে গেছে—ওই সাত দিনের পর থেকে জীবনে আমি যা কিছু পাচ্ছি, তার পুরোটাই বোনাস! কোনো একটা মুহূর্ত এদিক-সেদিক হলেই এই সময়টুকু আমি আর পেতাম না।</p><p>তাই প্রতি জন্মদিনেই একটা প্রশ্ন আমার কাছে ফিরে ফিরে আসে—এই ধার করা সময়টুকু দিয়ে আমি আসলে কী করলাম?</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/cause/mdtw0bs2jt">দাঁত মাজলে কি জীবাণু মরে</a></aside><blockquote>আমার সব চিন্তাভাবনাকে ঘিরে থাকত ক্লান্তি আর অবসাদ। চারপাশের এই নিরন্তর খাটুনি আর মেকি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়মকানুন দেখে মনে হতো, এই পৃথিবীটা বুঝি আমার মতো মানুষের জন্য নয়।</blockquote><p>সত্যি বলতে, এই ধার করা সময়টাকে সব সময় আমার উপহার মনে হয়নি। জীবনে ট্রমা এসেছে, ধাক্কা এসেছে। এমন কিছু অন্ধকার সময় গেছে, যখন মনে হয়েছে, বেঁচে থাকার এই ক্লান্তি আর নেওয়া যাচ্ছে না। সাত দিন বয়সে ডায়রিয়া যখন টেনেই নিচ্ছিল, তখন চলে গেলেই বোধ হয় ভালো হতো। না থাকাতেই বরং শান্তি ছিল।</p><p>সাত-আট বছর আগের লেখালেখি বা ডায়েরিগুলো খুললে দেখি, তখনকার আমি পৃথিবীটাকে দেখতাম একটা নিষ্ঠুরতার কারখানা হিসেবে। মনে হতো, জন্মের পর থেকেই সবাইকে নামিয়ে দেওয়া হয় এক অন্তহীন প্রতিযোগিতায়। নিজের মেধা বাড়াও, মার্কেটপ্লেসে বেচো, নিজেকে প্রমাণ করো। একটা কাজ শেষ করো, তারপর আরও হাজারটা শেষ করো, তবু যেন কখনো যথেষ্ট হয় না! মৃত্যু অবধারিত জেনেও মানুষ এত পরিশ্রম কীভাবে করে? আমার সব চিন্তাভাবনাকে ঘিরে থাকত ক্লান্তি আর অবসাদ। চারপাশের এই নিরন্তর খাটুনি আর মেকি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়মকানুন দেখে মনে হতো, এই পৃথিবীটা বুঝি আমার মতো মানুষের জন্য নয়।</p><p>একুশ বছরের সেই ছেলেটাকে আমি আজও চিনি। তার সেই ক্লান্তি আমার অচেনা নয়, তার সব অভিযোগ যে রাতারাতি মিথ্যে হয়ে গেছে তা-ও নয়। কিন্তু আজ উনত্রিশে দাঁড়িয়ে দেখি, আমি আর পুরোপুরি সেই মানুষটা নেই। কারণ, এখন আমি জানি, পৃথিবীর সবাই সেই একুশ বছরের সাদমানের মতো করে ভাবলে আমাকে সাত দিনেই থেমে যেতে হতো। একুশ পেরিয়ে উনত্রিশে আর আসা হতো না।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/ouhutiuszz">জীবাণু যখন বন্ধু</a></aside><blockquote>এই E. coli বা ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়ার কিছু প্রজাতি মারাত্মক ডায়রিয়া ঘটাতে পারে। জন্মের প্রথম সপ্তাহে আমার শরীরেও হয়তো হানা দিয়েছিল এদেরই কোনো এক জাতভাই।</blockquote><p>সাত দিনের আমাকে যে ডায়রিয়া প্রায় মেরেই ফেলেছিল, একসময় সেই ডায়রিয়ায় অগণিত শিশু মারা যেত। কেন তারা মারা যাচ্ছে, কীভাবে তাদের বাঁচানো যায়—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে আমার জন্মের বহু আগে থেকেই লেগে ছিলেন অনেক মানুষ। ১৮৮৫ সালে থিওডর এশেরিক নামের এক জার্মান চিকিৎসক শিশুদের অন্ত্রের জীবাণু ও ডায়রিয়া নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে তাদের মল থেকে একটি ব্যাকটেরিয়া আলাদা করেছিলেন। পরে তাঁর নামেই জীবাণুটির নাম রাখা হয় <em>Escherichia coli</em>। একে আমরা সংক্ষেপে বলি <em>E. coli</em> বা ই. কোলাই। এই ব্যাকটেরিয়ার কিছু প্রজাতি মারাত্মক ডায়রিয়া ঘটাতে পারে। জন্মের প্রথম সপ্তাহে আমার শরীরেও হয়তো হানা দিয়েছিল এদেরই কোনো এক জাতভাই।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-20/xq3o5lbr/E_coli_at_10000x__original.jpg"><figcaption>E. coli বা ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়ার কিছু প্রজাতি মারাত্মক ডায়রিয়া ঘটাতে পারে</figcaption></figure><p>তবে শত্রুকে চেনা আর রোগীকে বাঁচানো এক কথা নয়। মারাত্মক ডায়রিয়ায় শরীর থেকে দ্রুত পানি আর প্রয়োজনীয় লবণ বেরিয়ে যায়। মানুষকে তাই বুঝতে হয়েছে, ঠিক কী হারিয়ে যাচ্ছে, আর কীভাবে সেটা ফিরিয়ে দিলে একটা শরীর আবার বেঁচে ওঠে। শিরায় দেওয়ার স্যালাইনে কোন উপাদান কতটা থাকবে, একটা শিশুর শরীরে কতটা দিতে হবে—এই জ্ঞান এক দিনে তৈরি হয়নি। এর একটা বড় অংশ এসেছে খোদ ঢাকা থেকেই, যে শহরের এক হাসপাতালে শুয়ে ক্ষীণকায় আমি মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছিলাম।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/chemistry/wocoipt9us">জীবাণু ধ্বংসে কোনটি বেশি উপকারী, সাবান নাকি হ্যান্ড স্যানিটাইজার</a></aside><blockquote>১৮৮৫ সালে থিওডর এশেরিক নামের এক জার্মান চিকিৎসক শিশুদের অন্ত্রের জীবাণু ও ডায়রিয়া নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে তাদের মল থেকে একটি ব্যাকটেরিয়া আলাদা করেছিলেন।</blockquote><p>ষাটের দশকে আমেরিকান এনআইএইচের ফান্ডিংয়ে ঢাকার মহাখালীতে গড়ে ওঠে কলেরা রিসার্চ ল্যাবরেটরি বা আজকের আইসিডিডিআর,বি। সেখানকার গবেষকেরা রোগীকে ওজন করে, বিশেষ কলেরা কটের নিচে মাপার পাত্র বা মেজারিং বাকেট রেখে মাপতেন শরীর থেকে ঠিক কতটা পানি আর কোন লবণ কতটুকু বেরিয়ে যাচ্ছে। সেখান থেকেই তৈরি হলো সোডিয়াম, পটাশিয়াম আর অ্যাসিটেটের নির্দিষ্ট অনুপাতের আইভি স্যালাইন। চিকিৎসাবিজ্ঞান যাকে এখনো চেনে ‘ঢাকা সলিউশন’ নামে। আর সেই একই ল্যাবের গবেষণার ধারাবাহিকতায় পরে জন্ম নিল মুখে খাওয়ার স্যালাইনও—আমাদের ঘরে ঘরে চেনা এক চিমটি লবণ আর এক মুঠো গুড়।</p><p>এর কয়েক দশক পর, আইসিডিডিআরবি থেকে মাত্র তিন-চার কিলোমিটার দূরের হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে আমার জন্ম। সেখানকার স্টোরে থাকা একটা স্যালাইনের ব্যাগ সেদিন আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল। কিন্তু ল্যাবরেটরির সেই ফর্মুলাকে কারখানায় স্যালাইনের ব্যাগে রূপ দেওয়া আর ঠিক সময়ে হাসপাতালের সেলফে পৌঁছে দেওয়ার পেছনেও ছিল অসংখ্য মানুষের শ্রম। পরে ইন্ডাস্ট্রির সাপ্লাই চেইন আর ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে কাজ করতে গিয়ে আমি নিজের চোখে দেখেছি, সামান্য একটা জিনিসও নির্ভুলভাবে আর ঠিক সময়ে মানুষের হাতে পৌঁছাতে কত মানুষের কত ঘাম ঝরে!</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/technology/avw7d6wuxt">নিরাপত্তা এড়িয়ে মারাত্মক জীবাণু বানাচ্ছে এআই!</a></aside><blockquote>কয়েক দশক পর, আইসিডিডিআরবি থেকে মাত্র তিন-চার কিলোমিটার দূরের হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে আমার জন্ম। সেখানকার স্টোরে থাকা একটা স্যালাইনের ব্যাগ সেদিন আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল।</blockquote><p>আমি সেদিন বেঁচে গিয়েছিলাম কারণ আমার জন্মের বহু বছর আগে, আমারই শহরে কিছু অচেনা বিজ্ঞানী তাঁদের ল্যাবরেটরিতে বসে নাওয়াখাওয়া ভুলে একটা সমস্যার পেছনে পাগলের মতো লেগে ছিলেন। আমি বেঁচে গিয়েছিলাম কারণ কোনো এক কারখানায় অচেনা কর্মীরা প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে, হয়তো বিরক্তি নিয়েই, স্যালাইন আর ওষুধের মান ঠিক রেখেছিলেন। আর আমি বেঁচে গিয়েছিলাম কারণ কোনো এক ক্লান্ত ডাক্তার আর নার্স নিজেদের জীবনের অবসাদ আর সংসারের টানাপোড়েন সরিয়ে রেখে সেদিন রাতে এক নবজাতকের ছোট্ট শিরা খুঁজে সুই ফুটিয়েছিলেন।</p><p>একুশ বছরের আমি প্রকৃতিকে ভাবতাম নিষ্ঠুর। কিন্তু প্রকৃতি আসলে স্বভাবগতভাবে নিষ্ঠুর বা দয়ালু কোনোটাই নয়। সে চলে নিজস্ব নিয়মে, নির্মোহ আর নির্বিকারভাবে। হাত ফসকে পড়া গ্লাস কারও মায়ায় মাঝপথে থেমে যায় না, আগুন আপন-পর চেনে না, নদীর স্রোত কারও কান্নায় উল্টো দিকে বয় না। সাত দিনের একটা শিশুর অন্ত্রে ঢুকে পড়া ব্যাকটেরিয়াও তাই এক থেকে দুই, দুই থেকে চার হয়ে বাড়তেই থাকে, আর তার ধাক্কায় শরীর বের করে দিতে থাকে পানি ও লবণ। শরীরটা কার, কত ছোট, তাকে ঘিরে কত মানুষের কত মায়া; সেই হিসাব প্রকৃতির খাতায় থাকে না।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/nh5t30ze9k">‘জীবাণু লাইব্রেরি’ পোর্টন ডাউন</a></aside><blockquote>আমি বেঁচে গিয়েছিলাম কারণ কোনো এক ক্লান্ত ডাক্তার আর নার্স নিজেদের জীবনের অবসাদ আর সংসারের টানাপোড়েন সরিয়ে রেখে সেদিন রাতে এক নবজাতকের ছোট্ট শিরা খুঁজে সুই ফুটিয়েছিলেন।</blockquote><p>সেই নির্মোহ বাস্তবতার মাঝেই মানুষ ধীরে ধীরে এমন এক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে, যেখানে একটা শিশুকে বাঁচাতে বহু মানুষের জ্ঞান আর শ্রম একসঙ্গে কাজে লাগে। প্রকৃতির নিয়মকে তো মানুষ বদলাতে পারে না; কিন্তু যুগ যুগ ধরে সেই নিয়মগুলোকেই একটু একটু করে বুঝে, এক নিয়মকে আরেক নিয়মের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে মানুষ ঠিকই অগণিত প্রাণ বাঁচিয়ে তোলে। আজ পৃথিবীতে শিশুমৃত্যুর হার যেকোনো সময়ের তুলনায় সর্বনিম্ন। এই অর্জনের পেছনেও তো আছে মানুষের সেই অস্থির, প্রতিযোগিতামূলক আর কখনোই তৃপ্ত না হওয়া সিস্টেমটা, যার ভেতর থেকে জন্ম নিয়েছে বিপুল কর্মযজ্ঞ আর সংগঠন।</p><p>বেশির ভাগ মানুষ সকালে ঘুম থেকে উঠে ‘মানবসভ্যতা এগিয়ে নেব’ ভেবে কাজে যায় না। আমিও যাই না। আমার স্বভাবও তো অলসতা আর আরামের দিকেই ঝোঁকে। তবু জীবনের বেশির ভাগ সময় আমি খেটেছি। খেটেছি কারণ চারপাশের প্রত্যাশা আর চাপ আমার ভেতর থেকে এমন শ্রম বের করে এনেছে, যা শুধু নিজের ইচ্ছেমতো চললে হয়তো সুপ্তই থেকে যেত। পৃথিবীজুড়ে প্রতিদিন এটাই ঘটছে, অকল্পনীয় স্কেলে। লাখো মানুষ স্রেফ রুটিরুজি আর ক্যারিয়ারের তাগিদে রোজ যাঁর যাঁর কাজটুকু করে যাচ্ছেন; অথচ তাঁরা জানেনও না, তাঁদের সেই সাধারণ কাজটা শেষ পর্যন্ত কার জীবনে গিয়ে পৌঁছাবে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/scwords/t61n0swjt9">জীবাণু শব্দটি যেভাবে পেলাম </a></aside><blockquote>প্রকৃতির নিয়মকে তো মানুষ বদলাতে পারে না; কিন্তু যুগ যুগ ধরে সেই নিয়মগুলোকেই একটু একটু করে বুঝে, এক নিয়মকে আরেক নিয়মের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে মানুষ ঠিকই অগণিত প্রাণ বাঁচিয়ে তোলে।</blockquote><p>স্যালাইনের বাইরেও এ রকম কত গল্প আছে! এই যেমন পেনিসিলিনের কথাই ধরুন। আলেকজান্ডার ফ্লেমিং ল্যাবে বসে পেনিসিলিন আবিষ্কার করেছিলেন ঠিকই, কিন্তু এরপরও এক দশকের বেশি সময় সেটা দিয়ে তেমন কাউকে বাঁচানো যায়নি। কারণ, ল্যাবের ছোট্ট পাত্রে যতটুকু পেনিসিলিন তৈরি হতো, তা দিয়ে লাখো মানুষের চিকিৎসা করা একরকম অসম্ভব ছিল। এই সমস্যার সমাধান যাঁরা করলেন, তাঁরা কিন্তু কেউ ইতিহাস গড়তে নামেননি। আমেরিকার এক ল্যাব-কর্মীর প্রতিদিনের ডিউটি ছিল শহরের বাজার ঘুরে পচা ফলমূল কুড়িয়ে আনা। সেই চাকরি করতে গিয়েই একদিন তিনি তুলে আনলেন এমন এক বাঙ্গি, যার গায়ে মিলল সবচেয়ে বেশি পেনিসিলিন দেওয়া এক ছত্রাক। </p><p>তারপর এক সফট ড্রিংকস ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির ইঞ্জিনিয়াররা নিজেদের কোম্পানির প্রজেক্ট নামাতে গিয়ে বের করলেন, কীভাবে বিশাল ট্যাংকে ওই ছত্রাক বিপুল পরিমাণে চাষ করা যায়। ঠিক এভাবেই চশমার দোকানের কারিগররা কাচ ঘষতে ঘষতে বানিয়েছিলেন প্রথম মাইক্রোস্কোপ আর টেলিস্কোপ, নিজেদের অফিসের ফাইল আদান-প্রদানের ঝামেলা কমাতে গিয়ে একদল প্রোগ্রামার জন্ম দিয়েছিলেন গোটা ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের। আর ফিলিপাইনের ল্যাবে বানানো উচ্চফলনশীল ধানের জাত নিয়ে আমাদের ব্রি-এর গবেষণা ও মাঠের লাখো কৃষকের রোজকার শ্রম মিলে চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষ দেখা আমাদের দেশটা আজ তার তিন গুণ জনসংখ্যার প্রায় সবার পাতেই ভাত তুলে দিতে পারছে নিজেদের উৎপাদিত ধানেই। বলতে থাকলে এ রকম উদাহরণের আর শেষ হবে না।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/ouhutiuszz">জীবাণু যখন বন্ধু</a></aside><blockquote>ল্যাবের ছোট্ট পাত্রে যতটুকু পেনিসিলিন তৈরি হতো, তা দিয়ে লাখো মানুষের চিকিৎসা করা একরকম অসম্ভব ছিল। এই সমস্যার সমাধান যাঁরা করলেন, তাঁরা কিন্তু কেউ ইতিহাস গড়তে নামেননি।</blockquote><p>হ্যাঁ, মানুষের তৈরি এই ব্যবস্থাটা নিখুঁত নয়। এর অনেক ত্রুটি আছে, আছে অনেক অবিচার। কাছ থেকে দেখলে মনে হয় সবাই বুঝি যাঁর যাঁর বিচ্ছিন্ন রেসেই দৌড়াচ্ছেন—নিজের রুটিরুজি, নিজের সাফল্য, নিজের একটু ভালো থাকার জন্য। কিন্তু একটু দূর থেকে, লম্বা সময় ধরে তাকালে দেখা যায়, এই আলাদা আলাদা দৌড়গুলোই একে অন্যের সঙ্গে জুড়ে যাচ্ছে। একজনের কৌতূহল, আরেকজনের বাঁধাধরা ডিউটি আর কিছু মানুষের অফিসের টার্গেট মিলেই তো একদিন পেনিসিলিন পৌঁছেছিল লাখো মানুষের কাছে। ব্যক্তিগত তাড়না এভাবেই রূপ নেয় সামষ্টিক মমতায়। এক প্রজন্মের সারা জীবনের পরিশ্রম হয়ে ওঠে পরের প্রজন্মের শুরুর জায়গা, আর ব্যক্তিগত রেসগুলো মিলে তৈরি হয় গোটা মানবজাতির এক বিশাল রিলে রেস।</p><p>যে দৃশ্য একসময় জীবনের প্রতি আমার বিতৃষ্ণা জাগাত, সেখানেই আজ আমি দেখি অদ্ভুত এক সৌন্দর্য। ভাবি, কত অচেনা মানুষের নিজ নিজ দৌড় একদিন এসে মিলে গিয়েছিল আমার হাসপাতালের বেডের পাশে। এই রিলে রেসের কাছে তো আমার জীবনটাই ঋণী!</p><p>পৃথিবীকে নতুন চোখে দেখতে শেখার পর আমি তাই আবারও নিজেকে জিজ্ঞেস করি, এই ধার করা সময় দিয়ে আমি কী করলাম? আজ উনত্রিশে দাঁড়িয়ে পেছনে তাকিয়ে দেখি, না জেনেই আমি সারা জীবন হেঁটেছি ওই রিলে রেসের ট্র্যাকের দিকেই। ফিজিকস পড়েছি, কেমিস্ট্রি পড়েছি, বায়োলজি পড়েছি। এরপর কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে ফ্যাক্টরিতে কাজ করতে গিয়ে বুঝেছি একটা প্রতিষ্ঠান কীভাবে চলে, মানুষ কীভাবে একসঙ্গে কাজ করে। তারপর প্রায় আট হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে এসেছি আমেরিকায়।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/envn3u6lpv">জ্বরের জন্য দায়ী কে, ভাইরাস নাকি ব্যাকটেরিয়া</a></aside><blockquote>সহজ কথায়, এই E. coli এখন আমার ডিএনএ বানানোর ফ্যাক্টরি। যে জীবাণুটা একদিন আমার জীবনের গল্পটা প্রথম পৃষ্ঠাতেই শেষ করে দিতে চেয়েছিল, আজ সে আমার সবচেয়ে বাধ্য সহকর্মী!</blockquote><p>এখন এখানে বসে বায়োলজিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি করছি। সময়ের কী অদ্ভুত খেয়াল দেখুন—যে আমেরিকান এনআইএইচের ফান্ডিংয়ে একদিন ঢাকার ল্যাবে ডায়রিয়ার গবেষণা হয়েছিল, আজ সেই এনআইএইচের গ্র্যান্টেই চলে আমাদের রিসার্চ ল্যাব! আমেরিকার সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকায় চলা এই সরকারি সংস্থাটি এভাবেই দশকের পর দশক ধরে হাজারো গবেষণার পেছনে রসদ জুগিয়ে চলেছে, যার হাত ধরে পৃথিবী পেয়েছে এমআরআই মেশিন, ক্যানসারের আধুনিক থেরাপি কিংবা হিউম্যান জিনোম প্রজেক্টের মতো অগণিত জীবনরক্ষাকারী আবিষ্কার। আজ সেই একই স্রোতের একজন হয়ে প্রতিদিন সকালে আমি ল্যাবে যাই, কোষ আর ব্যাকটেরিয়ার আবাদ করি, সেগুলো দিয়ে করি প্রোটিন ইঞ্জিনিয়ারিং।</p><p>আর কোন ব্যাকটেরিয়া নিয়ে আমি কাজ করি জানেন? <em>E. coli</em>। হ্যাঁ, সাত দিন বয়সী আমি যার হাতে মরতে বসেছিলাম, সেই <em>E. coli</em>। আজ আমি সেই <em>E. coli</em> দিয়ে করি মলিকিউলার ক্লোনিং। ওর ভেতরে পছন্দমতো ডিএনএ ঢুকিয়ে কলোনি তৈরি করি। যে ‘এক থেকে দুই, দুই থেকে চার’ নিয়মে ওরা একদিন আমার অন্ত্রে বাড়ছিল, সেই একই নিয়মে আজ ফ্লাস্কে ওদের লক্ষ গুণ বাড়াই। তারপর ওদের কোষ ভেঙে ভেতর থেকে ডিএনএটা বের করে নিই। সহজ কথায়, এই <em>E. coli</em> এখন আমার ডিএনএ বানানোর ফ্যাক্টরি। যে জীবাণুটা একদিন আমার জীবনের গল্পটা প্রথম পৃষ্ঠাতেই শেষ করে দিতে চেয়েছিল, আজ সে আমার সবচেয়ে বাধ্য সহকর্মী!</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/vjctlkcnv6">ভাইরাস আগে না ব্যাকটেরিয়া আগে</a></aside><blockquote>সময়ের কী অদ্ভুত খেয়াল দেখুন—যে আমেরিকান এনআইএইচের ফান্ডিংয়ে একদিন ঢাকার ল্যাবে ডায়রিয়ার গবেষণা হয়েছিল, আজ সেই এনআইএইচের গ্র্যান্টেই চলে আমাদের রিসার্চ ল্যাব!</blockquote><p>রাতদিন খেটে চলা এক অক্লান্ত শ্রমিক, যে আমাকে সাহায্য করছে অন্য মানুষের জন্য নতুন ওষুধ বা থেরাপিউটিক প্রোটিন বানানোর গবেষণায়। ঠিক এ রকম কোনো গবেষণাতেই সত্তরের দশকে এই E. coli বিজ্ঞানীদের হাতে পোষ মেনে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য তৈরি করেছিল প্রথম কৃত্রিম ইনসুলিন, যা ছিল আমার ডায়াবেটিক দাদা-দাদুর নিত্যদিনের সঙ্গী, আর এখন আব্বু ব্যবহার করেন প্রতিদিন।</p><p>এগুলো ভাবলে অবাক লাগে, বলতে গেলে একটু আবেগপ্রবণই হয়ে পড়ি। যে বিজ্ঞান একদিন সাত দিনের এক মুমূর্ষু শিশুকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছিল, উনত্রিশ বছর ধরে একটু একটু করে পড়ে, শিখে আর নিজের অন্ধকার সময়গুলোর সঙ্গে লড়াই করে আজ ওই শিশুই সেই বিজ্ঞানের একটা অংশ হয়ে উঠেছে।</p><p>তাই এখন ল্যাবে যেতে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা কোষ আর ডেটার পেছনে খাটতে মাঝে মাঝে ক্লান্ত লাগলেও একুশ বছর বয়সের সেই অবসাদটা আর কাজ করে না। মনে হয়, এই খাটুনির মধ্য দিয়েই আমি আমার ধার করা সময়ের ঋণ শোধ করছি, যাঁদের কাছে আমি ঋণী, তাঁদের কাউকে কোনো দিন না চিনেই। হয়তো আমার আজকের এই সামান্য গবেষণা মিশে যাবে বিজ্ঞানের সেই বিশাল নদীতে, যার স্রোত একদিন গিয়ে পৌঁছাবে এমন এক পৃথিবীতে, যেখানে আর কোনো ডাক্তারকে কোনো বাবা-মায়ের কাছে গিয়ে বলতে হবে না, ‘এই বাচ্চা বাঁচবে না।’</p><p>বোনাস পাওয়া এই জীবনটার জন্য এতটুকুই বা কম কী!</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/4301nfcpuu">ভাইরাস সংক্রমণে কি ক্যানসার হতে পারে</a></aside>
গতকাল সোমবার বিকেল চারটার দিকে মোহাম্মদপুরের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সু চি তাঁর জীবনের বড় একটি সময় কারাগারে কাটাচ্ছেন। বন্দিজীবনে তিনি অনেক বই পড়েন। ধর্ম ও প্রকৃতিবিষয়ক বইয়ের প্রতি তাঁর আগ্রহ রয়েছে।
মাল্টিন্যাশনাল ইয়ুথ জিওগ্রাফি অলিম্পিয়াডে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা অংশ নেবে। প্রতিযোগিতা হবে তাত্ত্বিক, মাল্টিমিডিয়া ও ব্যবহারিক—এই তিন পর্বে। ভৌত ও মানব ভূগোল, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা
<p>ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ের এজলাস কক্ষে ঢুকে হট্টগোল ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হেনস্তার অভিযোগ উপজেলা ছাত্রদলের নেতা–কর্মীর ওপর। বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে...</p><figure></figure>
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন