<p>শুটিং সেটে মারধরের অভিযোগ ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের জেরে অভিনেত্রী তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈ—দুজনেরই সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে অভিনয়শিল্পী সংঘ, বাংলাদেশ। শুক্রবার রাতে সংগঠনটির ফেসবুক পেজে প্রকাশিত পৃথক দুটি চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। এর আগে দুই অভিনেত্রীর বিরোধ মীমাংসায় একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েছিল সংগঠনটি। তবে সেই উদ্যোগ সফল হয়নি বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু।</p><p>প্রকাশিত চিঠি দুটি গত ৪ অক্টোবরের। তানজিন নাহার তিশা ও সামিয়া আক্তার অথৈ বরাবর পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ৭ জুলাই তাঁদের ‘সদস্যপদ স্থগিতকরণ’ সংক্রান্ত কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল; কিন্তু দুজনের কেউই ওই নোটিশের জবাব সংগঠনের কার্যালয়ে জমা দেননি।<br> চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিষয়টি নিয়ে অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশের সালিস বা বিবাদ মীমাংসাকরণ বৈঠকে আলোচনা হয়। সেখানে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংগঠনের কার্যনির্বাহী পরিষদের নিয়মিত সভায় দুই অভিনেত্রীর সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।<br> চিঠি দুটিতে স্বাক্ষর করেছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ রানা মিঠু।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-03-03/2c46k9jo/WhatsApp_Image_2026_03_03_at_6_45_30_PM.jpeg"><figcaption>সামিয়া অথৈই ও তানজিন তিশা</figcaption></figure><p>সামিয়ার অভিযোগ ছিল, নাটকের একটি দৃশ্যে তাঁর তিশাকে আলতো করে চড় মারার কথা ছিল। পরিচালকের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি সেটিই করেছিলেন; কিন্তু এরপর তিশা তাঁকে একাধিকবার জোরে চড় মারেন। এতে তাঁর চোখ ও গাল ফুলে যায় এবং কথা বলতেও সমস্যা হয় বলে দাবি করেন সামিয়া।<br>শুধু ওই দিনের ঘটনাই নয়, এর আগেও তিশার সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল বলে অভিযোগ করেন সামিয়া। অভিনেতা মুশফিক আর ফারহানের সঙ্গে কাজ করা নিয়েও তিশা তাঁকে হুমকি দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন। সামিয়ার ভাষ্যমতে, ফারহানকে নিজের স্বামী বলে পরিচয় দিয়ে তাঁর সঙ্গে কাজ না করার জন্য সতর্ক করেছিলেন তিশা। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।<br><strong>অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন তিশা</strong><br>অন্যদিকে সামিয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তানজিন তিশা। তাঁর দাবি ছিল, শুটিং সেটে যা ঘটেছে, সবই চিত্রনাট্য ও চরিত্রের প্রয়োজনে। ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে কাউকে আঘাত করেননি তিনি।<br>তখন তিশা জানিয়েছিলেন, নাটকটিতে তিনি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এক কিশোরীর চরিত্রে অভিনয় করছেন। চরিত্রটির আচরণে অন্যকে আঘাত করা বা কামড় দেওয়ার মতো দৃশ্য রয়েছে। তাই অভিনয়ের প্রয়োজনে চিত্রনাট্যে যা ছিল, সেটিই করেছেন তিনি।<br>তিশার বক্তব্য ছিল, নাটকটি মুক্তি পেলে দর্শকেরা ঘটনার প্রেক্ষাপট বুঝতে পারবেন। বিষয়টিকে ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে না দেখে পেশাদারত্বের জায়গা থেকে বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন তিনি।<br>নাটকের পরিচালক রাফাত মজুমদারও ঘটনাটিকে ভুল–বোঝাবুঝি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তাঁর ভাষ্য ছিল, নাটকের দৃশ্যে দুজনেরই পরস্পরকে চড় মারার কথা ছিল। অভিনয়ের সময় কোনো চড় জোরে লেগে যাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে থাকতে পারে।</p><p><strong>ঘটনার পরই সতর্ক করেছিল সংগঠন</strong><br>দুই অভিনেত্রীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরদিনই বিবৃতি দেয় অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ। সংগঠনটি জানায়, কোনো সদস্যের সঙ্গে পেশাগত জটিলতা বা মতভেদ তৈরি হলে তা সংশ্লিষ্ট সংগঠনকে না জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা গণমাধ্যমে প্রচার করা আচরণবিধির পরিপন্থী।<br>বিবৃতিতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ঘটনার একতরফা উপস্থাপন অভিনয়শিল্পীদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে পারে। এ ধরনের বিরোধ প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ও সাংগঠনিক কাঠামোর মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।<br>একই সঙ্গে সংগঠনটি সতর্ক করেছিল, কোনো সদস্য আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।<br>এরপর বিষয়টি নিয়ে সালিস ও মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়; কিন্তু একাধিকবার আলোচনার পরও দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়নি বলে জানিয়েছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক।<br>সর্বশেষ গত ৭ জুলাই কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানোর পরও দুই অভিনেত্রীর কেউ লিখিত জবাব দেননি বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। এরই ধারাবাহিকতায় তাঁদের সদস্যপদ স্থগিত করা হলো।<br>তবে সদস্যপদ স্থগিতের চিঠিতে শুটিং সেটে মারধরের অভিযোগের সত্যতা নিয়ে আলাদা কোনো সিদ্ধান্ত উল্লেখ করা হয়নি। সংগঠনটির সিদ্ধান্ত মূলত কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব না দেওয়া এবং সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে বলে চিঠিতে জানানো হয়।<br>এদিকে সদস্যপদ স্থগিতের সিদ্ধান্তের পর তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈর নতুন কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তাঁরা এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবেন কি না, তা-ও জানা যায়নি।</p>
<p>শিশুদের যৌন নির্যাতনের ছবি ও ভিডিও রাখার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার হয়েছেন মেগান মার্কেলের বাবা টমাস মার্কেল সিনিয়র। ফ্লোরিডার একটি প্রবীণ নিবাস থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। মার্কিন বিচার বিভাগের এক কর্মকর্তা আজ শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ আনা হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।</p><p> যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ওই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছেন। তবে কী কারণে টমাস মার্কেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের পক্ষ থেকে এফবিআইয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।</p><p>ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল প্রথম টমাস মার্কেলের গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশ করে। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ৮২ বছর বয়সী টমাস মার্কেলকে ফ্লোরিডার লেকল্যান্ড শহরের একটি প্রবীণ নিবাস থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিশুদের যৌন নির্যাতনের ছবি ও ভিডিও রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।</p><p>মেক্সিকো ও ফিলিপাইনে থাকা টমাস মার্কেলের দুটি সংরক্ষণাগারেও একই ধরনের জিনিসপত্র পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে ডেইলি মেইল। তবে এসব তথ্যের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে সরকারি কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।</p><p>টমাস আগে কিছুদিন ফিলিপাইনে বসবাস করেছেন। সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে গত মাসে তদন্ত শুরু করে দেশটির কর্তৃপক্ষ।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-06/k1i6w2r5/Prince-Harry.jpg"><figcaption>একসঙ্গে হাঁটছেন প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল। যুক্তরাজ্যের কেনসিংটন প্রাসাদের সানকেন গার্ডেনে </figcaption></figure><p>এর আগে ব্রিটিশ পুলিশ জানিয়েছিল, টমাসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ বিদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পাঠানো হবে। অভিযোগগুলো প্রথম পাওয়ার সময় অন্য কোনো কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি বলে জানতে পেরেছিল তারা।</p><p>নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন টমাস। ডেইলি মেইলকে তিনি বলেছেন, এসব অভিযোগ অসত্য ও ‘জঘন্য মিথ্যা’।</p><p>ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের ছোট ছেলে প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী মেগান মার্কেল একজন মার্কিন নাগরিক। ২০১৮ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। বাবার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগে তিনি ‘গভীরভাবে বিচলিত’ বলে জানিয়েছেন।</p>
রোনালদো অবসর নেওয়ার পরও অনেকের কাছে ৭ নম্বর জার্সির মালিক শুধু তিনিই। কারণ, ২৩ বছরের ক্যারিয়ারে বেশির ভাগ ম্যাচ যে এ জার্সি পরেই খেলেছেন কিংবদন্তি।
<p>তৈরি পোশাকশিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) যেসব ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে, তাতে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীদেরও নাম রয়েছে। ব্যবসায়ী মহলে এসব ব্যবসায়ীর রয়েছে ইতিবাচক ভাবমূর্তি। আবার তালিকায় এমন কয়েকজন ব্যবসায়ীর নাম রয়েছে, যাঁদের রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। ফলে এ তালিকা নিয়ে আলোচনা–সমালোচনার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।</p><p> শেল্টেক্ গ্রুপ ও এনভয় লিগ্যাসি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তানভীর আহমেদ ও তাঁর মা রাশিদা আহমেদের ব্যাংক হিসাবও জব্দ করেছে এনবিআর। এই দুজনের রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তৈরি পোশাক, বস্ত্র, সিরামিক, আবাসনসহ বিভিন্ন খাতের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত শেল্টেক্ গ্রুপের দ্বিতীয় প্রজন্মের তরুণ ব্যবসায়ী তানভীর আহমেদের ইতিবাচক ভাবমূর্তি রয়েছে ব্যবসায়ী মহলে। তাঁর বাবা দেশের বিশিষ্ট শিল্পোদ্যোক্তা এনভয় টেক্সটাইলের চেয়ারম্যান কুতুবউদ্দিন আহমেদ। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুস সালাম মুশের্দীর মালিকানাধীন এনভয় গ্রুপের সঙ্গে একসময় ব্যবসায়িক অংশীদার ছিলেন কুতুবউদ্দিন আহমেদ ও তাঁর ছেলে। সাড়ে চার বছর আগে ব্যবসায়িকভাবে তাঁরা আলাদা হলেও সালাম মুর্শেদীর এনভয় গ্রুপের সঙ্গে আগের সূত্র ধরেই তানভীর আহমেদ ও তাঁর মায়ের ব্যাংক হিসাবও জব্দ করেছে এনবিআর।</p><p>জানতে চাইলে শেল্টেক্ গ্রুপের এমডি তানভীর আহমেদ বলেন, ‘যাচাই-বাছাই করে তালিকায় নাম দিলে হয়রানির ঘটনা ঘটত না। আমাদের মতো একটা প্রতিষ্ঠানের আজকের অবস্থানে আসতে ৪০ বছর সময় লেগেছে। অভিযোগ থাকলে আমাদের সঙ্গে কথা বলা যেত। আমরা যদি সহায়তা না করতাম, তাহলে ব্যবস্থা নিত। আশা করি, দ্রুত যাচাই করে বিষয়টির সমাধান করা হবে।’</p><p>এনভয় গ্রুপের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে এনবিআর। একই সঙ্গে সালাম মুর্শেদী, তাঁর স্ত্রী শারমিন সালাম এবং মেয়ে শেহরীন সালামের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের পর সালাম মুর্শেদী গ্রেপ্তার হলে তাঁর দুই সন্তান শেহরীন সালাম ঐশী ও ইশমাম সালাম বর্তমানে ব্যবসা দেখভাল করছেন।</p><p>পোশাক খাতের আরেক শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের মোশাররফ হোসেন ও তাঁর সন্তানদেরও রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার নেই বলে ব্যবসায়ীরা জানান। তাঁদের ব্যাংক হিসাবও জব্দ করা হয়েছে। আবার তুসুকা গ্রুপের একজন উদ্যোক্তা ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ আমলে সংসদ সদস্য থাকার সূত্র ধরে গ্রুপটির অন্য তিনজন উদ্যোক্তাসহ আটজনের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। যদিও এই তিন উদ্যোক্তা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। তাঁদের একজন তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সহসভাপতি আরশাদ জামাল। ব্যবসায়ী মহলে উদ্যোক্তা হিসেবে তাঁরও রয়েছে ইতিবাচক ভাবমূর্তি। পোশাকের বাইরে এই গ্রুপটি এয়ারলাইনস ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।</p><blockquote>* রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই এমন কিছু ব্যবসায়ীও তালিকায়।* শীর্ষ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবও জব্দ।</blockquote><p>ব্যাংক হিসাব জব্দের বিষয়ে একাধিক ব্যবসায়ী জানান, সব সরকারের আমলেই পোশাকশ্রমিকদের মজুরি আন্দোলনে বাইরে থেকে ইন্ধনের অভিযোগ ওঠে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের আমলে এ প্রবণতা বেশি ছিল। তখন দেশি-বিদেশি ইন্ধনের অভিযোগও করা হতো। যদিও এ ধরনের অভিযোগের সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ সামনে আনা হতো না। এবার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে দুই শতাধিক ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের ঘটনা নজিরবিহীন। এভাবে ঢালাও পদক্ষেপ না নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হলে তাতে কারও আপত্তি থাকত না। এভাবে ব্যবসায়ীদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার বিষয়টিও সামনে আসত না।</p><p>শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে তৈরি পোশাকশিল্পে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে অস্থিরতা চলছে। শ্রমিক আন্দোলনের মুখে গত রোববার মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার। এরপরও পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হয়নি। বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে শিল্পমালিকেরা গত সপ্তাহে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে। সেখানে তিনি শ্রমিকদের এ আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের কিছু মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করেন।</p><p>গত সোমবার সচিবালয়ে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পোশাকশিল্পের মালিকেরা যাঁরা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, তাঁরাও অস্থিরতা সৃষ্টি পেছনে কাজ করেছেন। দুঃখজনক বিষয় হলো এর পেছনে কিছু শিল্পমালিক জড়িত। সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীও এর সঙ্গে জড়িত আছেন।</p><aside><cite>ফজলুল হক, প্রশাসক, এফবিসিসিআই।</cite>‘ভালো করে তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করে শাস্তি দিলে কারও কোনো আপত্তি থাকবে না। ঢালাওভাবে ব্যাংক হিসাব জব্দ ও তলবের মতো উদ্যোগে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হতে পারে’</aside><p>স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের পর গত সপ্তাহে দুই শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চায় এনবিআর। এর মধ্যে প্রায় ১০০ ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়। গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন এনবিআরের একাধিক কর্মকর্তা। এনবিআরের আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট (আইটিআইআইইউ) ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) পৃথকভাবে এই তালিকা করেছে। এর মধ্যে আইটিআইআইইউর একটি তালিকা প্রথম আলোর কাছে এসেছে। এতে দেখা যায়, ১১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৭ জন ব্যবসায়ী। আর প্রতিষ্ঠানগুলো সাতটি শিল্প গ্রুপের; যার মধ্যে একাধিক গ্রুপের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ৬৭ জন ব্যবসায়ীর মধ্যে ৬ জন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের আমলে সংসদ সংসদ ছিলেন। দুজন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের পদে ছিলেন। এই আটজনের স্ত্রী, ভাই ও ব্যবসায়ী অংশীদারদের নামও রয়েছে তালিকায়। এর বাইরে একটি অংশ শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী।</p><p>জানতে চাইলে দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনে তৃতীয় পক্ষের ইন্ধন থাকতে পারে। তবে ভালো করে তদন্ত করে প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে শাস্তি দিলে কারও কোনো আপত্তি থাকবে না। ঢালাওভাবে ব্যাংক হিসাব জব্দ ও তলবের মতো উদ্যোগে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হতে পারে। ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কাও থাকে তাতে। সরকারের প্রতি আহ্বান, প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির মুখে না পড়েন।</p><h3>রাজনৈতিক যোগসূত্রকে প্রাধান্য </h3><p>পোশাক খাতে অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্প গ্রুপের একটি মণ্ডল গ্রুপ। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫৬ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে তারা। এ গ্রুপে কাজ করেন প্রায় ৫০ হাজার কর্মী। গ্রুপটির ২৮টি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল মমিন মণ্ডল, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল আলিম মণ্ডল, পরিচালক জোবায়ের মণ্ডল, আসাদুর রহমানসহ ১৯ জনের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে।</p><p>সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসন থেকে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন গ্রুপটির চেয়ারম্যান আবদুল মমিন মণ্ডল। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। বর্তমানে তিনি আত্মগোপনে।</p><p>চট্টগ্রামের ওয়েল গ্রুপের তিন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তলবের পাশাপাশি গ্রুপটির চেয়ারম্যান আবদুস সালাম, পরিচালক সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম, সৈয়দ শহীদুল ইসলাম, সৈয়দ তারিকুল ইসলামসহ ১১ জনের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। এই গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুস সালাম চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর ভাই সৈয়দ নুরুল ইসলাম আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের উপদেষ্টা ছিলেন, বর্তমানে কারাবন্দী। ওয়েল গ্রুপের তৈরি পোশাক, বস্ত্র ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের ব্যবসা রয়েছে।</p><aside><cite>মাহমুদ হাসান খান, সভাপতি,বিজিএমইএ</cite>যেকোনো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো চূড়ান্ত অভিযোগ আনার আগে ভালোভাবে তদন্ত করা উচিত। এরপরই ব্যবস্থা নেওয়া যুক্তিযুক্ত। আমরা এখনো পুরো তালিকা পাইনি। এরপরও আমরা বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চমহলে যোগাযোগ করব।’</aside><p>এ ছাড়া গিভেন্সি গ্রুপের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তলব ও গ্রুপের চেয়ারম্যান খতিব আবদুল জাহিদসহ চারজনের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। আবদুল জাহিদ আওয়ামী লীগের কোনো পদে ছিলেন কি না, তা বিজিএমইএ নেতারাও জানেন না।</p><p>উত্তরার নিপা গ্রুপের তিনটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তলব ও গ্রুপের চেয়ারম্যান খসরু চৌধুরীসহ চারজনের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। খসরু চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চেয়ে পাননি। পরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি আত্মগোপনে আছেন।</p><p>এ ছাড়া বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও ঢাকা উত্তর আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক এস এম আবদুল মান্নান ও তাঁর পরিবারের সদস্য ফরিদা মান্নানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে এনবিআর। মিরপুরের সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লা ও তাঁর পরিবারের সদস্য ফরিদা ইলিয়াসের ব্যাংক হিসাবও জব্দ করা হয়েছে।</p><h3>স্বচ্ছ ব্যবসায়ীরাও তালিকায় </h3><p>আশির দশকে যাত্রা শুরু করা স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপ দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক শিল্প গ্রুপ। গ্রুপটির তিনটি প্রতিষ্ঠানের হিসাব তলব এবং গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা এ কে এম মোশাররফ হোসেন ও আতিকুর রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হাসনাত মোশাররফসহ আটজনের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে।</p><p>জানতে চাইলে স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের এমডি হাসনাত মোশাররফ প্রথম আলোকে বলেন, ‘এনবিআর খুবই অন্যায্যভাবে আমাদের নাম তালিকায় দিয়েছে। আমরা কখনোই কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। অন্য অনেক কারখানার পাশাপাশি আমাদের কারখানার শ্রমিকেরাও আন্দোলনে নেমেছে। তার মানে এই নয় যে আমরা শ্রমিকদের ইন্ধন দিয়ে রাস্তায় নামিয়েছি। এটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।’</p><p>ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ফয়জুর রহমান ব্যবসায়িক অংশীদার হওয়ায় তুসুকা গ্রুপও বিপদে পড়েছে। গ্রুপের ১০টি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তলব এবং পরিচালক ফয়জুর রহমান, আরশাদ জামাল, রেফায়েত উল্লাহ, ফিরোজ আলমসহ নয়জনের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ফয়জুর রহমান গ্রেপ্তার হন। এখন অন্য অংশীদারেরা ব্যবসায় যুক্ত রয়েছেন।</p><p>নাম প্রকাশ না করার শর্তে তুসুকা গ্রুপের একজন পরিচালক প্রথম আলোকে বলেন, গত বৃহস্পতিবার ব্যাংকের মাধ্যমে কর্মীদের বেতন স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে একটা অংশ বেতন পাননি। কারণ, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। কারখানায় ২০–২৫ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। একদিন উৎপাদন বন্ধ থাকলে এক থেকে দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়। তিনি আরও বলেন, গ্রুপের চার উদ্যোক্তার একজন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। অন্য তিনজন কখনো রাজনীতি করেননি। তাঁদেরও ব্যাংক হিসাব জব্দ। এ ধরনের উদ্যোগে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে নেতিবাচক বার্তা যেতে পারে।</p><p>সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘যেকোনো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো চূড়ান্ত অভিযোগ আনার আগে ভালোভাবে তদন্ত করা উচিত। এরপরই ব্যবস্থা নেওয়া যুক্তিযুক্ত। আমরা এখনো পুরো তালিকা পাইনি। এরপরও আমরা বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চমহলে যোগাযোগ করব।’</p>
<p>চীনের অতি গোপনীয় রোবোটিক স্পেসপ্লেন শেনলং বা ডিভাইন ড্রাগন পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে গোপনে বিভিন্ন মিশন পরিচালনা করে থাকে। ২০২০ সাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকটি মিশন পরিচালনার পাশাপাশি মহাকাশে কয়েক শ দিন অবস্থানও করেছে চীনের রহস্যময় স্পেসপ্লেনটি। তবে চীন এখন পর্যন্ত মহাকাশযানটির কোনো ছবি বা তথ্য প্রকাশ না করায় বিভিন্ন দেশের সরকার ও মহাকাশ সংস্থার কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে স্পেসপ্লেনটি। অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (ডিআইএ) প্রথমবারের মতো চীনের এই অতি গোপনীয় স্পেসপ্লেনের স্পষ্ট ছবি প্রকাশ করেছে। এর মাধ্যমে চীনের মহাকাশযানটি সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য জানা গেছে।</p><p>যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির তথ্যমতে, ২০২৪ সালে কক্ষপথে অবস্থানের সময় চীনের স্পেসপ্লেনটির উচ্চ রেজোল্যুশনের ছবি তুলেছিল বেসরকারি মহাকাশ প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ভ্যান্টর (সাবেক ম্যাক্সার টেকনোলজিস)। চীনের এই স্পেসপ্লেন কক্ষপথে কোনো বস্তু স্থাপন করার পাশাপাশি বিভিন্ন পরীক্ষা শেষে পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারে।</p><p>সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ভ্যান্টর জানিয়েছে, স্পেসপ্লেনটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২৬ ফুট এবং ছবিতে এটির পেলোড বের দরজা আংশিকভাবে খোলা রয়েছে। এ ছাড়া এর পেছনের অংশে একটি স্যাটেলাইট বা সার্ভিস মডিউল ডক করা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের স্পেসপ্লেনের নকশা যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্সের এক্স–৩৭বি রোবোটিক স্পেসপ্লেনের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। ডারহাম ইউনিভার্সিটির মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জোনাথন ম্যাকডোয়েল জানান, চীনের স্পেসপ্লেনটি যুক্তরাষ্ট্রের এক্স–৩৭বির মতোই তৈরি।</p><p>রাডার ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে জানা গেছে, চীনের এই স্পেসপ্লেন অতীতে বেশ কিছু অজ্ঞাত পেলোড বা কিউবস্যাট মহাকাশে ছেড়েছে। এ ছাড়া এটি একটি স্যাটেলাইট কক্ষপথে ছেড়ে দিয়ে কয়েক মাস পর তা সংগ্রহের ক্ষমতাও প্রদর্শন করেছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মতে, চীনের এই দ্রুত বর্ধমান মহাকাশ কর্মসূচি সামরিক আধিপত্য বিস্তারের একটি কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে কাজ করছে।</p><p>সূত্র: ডেইলি মেইল</p>
<p>বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার তরুণী (১৯) পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। মামলার তদন্তের স্বার্থে এসব তথ্য গোপন রেখে এখন তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।</p><p> এদিকে দুই দফা রিমান্ড শেষে শুক্রবার ওই তরুণীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। দ্বিতীয় দফা রিমান্ড শেষে ওই তরুণীকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।</p><p> পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, শুনানির সময় আসামিপক্ষে জামিনের কোনো আবেদন করা হয়নি।</p><p>কারাগারে আটক রাখার আবেদনে বলা হয়, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে ওই তরুণী ঘটনা সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। সেগুলো তদন্তের স্বার্থে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তবে তিনি একাধিক প্রশ্নের উত্তর কৌশলে এড়িয়ে গেছেন এবং নীরব থেকেছেন।</p><p>আবেদনে আরও বলা হয়, এ মামলার আরেক সন্দেহভাজন আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপও বর্তমানে রিমান্ডে রয়েছেন। দীপ ও ওই তরুণীর বক্তব্যের মিল-অমিল খতিয়ে দেখতে দুজনের বক্তব্য মেলানো (ক্রসচেক) প্রয়োজন। এ ছাড়া নিহত তাহসিফের মুঠোফোনের কললিস্ট পর্যালোচনায় ওই তরুণীর সঙ্গে একাধিকবার কথা বলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্তেও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতার তথ্যপ্রমাণ মিলছে। মামলার রহস্য উদ্ঘাটনে পরবর্তী সময়ে তাঁকে আবারও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হতে পারে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/96kndsqn66">ওই রাতে যা ঘটেছিল দীপের বয়ানে আদালতকে জানালেন তদন্ত কর্মকর্তা</a></aside><p>গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন তাহসিফ সাউরি। পরদিন তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাহসিফের বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দীপকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। এরপর ৩০ অক্টোবর রাতে উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন তাহসিফের বাবা এ কে এম এনায়েতুল করিম।</p><p>মামলা দায়েরের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক তাহসিফের বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দীপকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আর ৩১ অক্টোবর রাতে গ্রেপ্তার করা হয় ওই তরুণীকে। তাঁদের মধ্যে ওই তরুণীকে দুই দফায় রিমান্ড শেষে আজ কারাগারে পাঠানো হলো। আর অপর আসামি দীপকে গতকাল বৃহস্পতিবার তৃতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলামের আদালত।</p>
<p>ঢাকার মিরপুরে বাসায় ঢুকে যুব মহিলা লীগের এক নেত্রীকে নির্যাতন করা হয়েছে—এক নারীর পিঠে আঘাতের চিহ্ন থাকা ছবি দিয়ে এমন দাবি ছড়িয়েছে ফেসবুক ও এক্সে। অর্ধশতাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একই প্রচার চালানোর বিষয়টি প্রথম আলো যাচাই করেছে।</p><p>আজ শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দিনভর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্টগুলোতে ওই নারী থানায় অভিযোগ জানাতে গেছেন উল্লেখ করে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে তাঁর কথাবার্তার একটা বর্ণনাও রয়েছে। তবে ঘটনাটি কবে ঘটেছে, তার উল্লেখ নেই।</p><p> প্রথম আলোর যাচাইয়ে ছবিটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এমন কোনো অভিযোগ তাদের কাছে আসেনি। যে পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে, সেটার অস্তিত্বও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।</p><p> ছবিটি পোস্ট করেছেন, এমন তিনজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে প্রথম আলো। যে নারীকে নির্যাতনের কথা বলা হচ্ছে, তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের উপায়, তাঁর ঠিকানা ও থানায় দেওয়া অভিযোগের অনুলিপি চাওয়া হয়েছিল তিনজনের কাছেই। কেউই তা দিতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত তাঁরা জানিয়েছেন, অন্যের পোস্ট কপি করে নিজেদের অ্যাকাউন্টে দিয়েছেন। ঘটনা সম্পর্কে তাঁরা বিস্তারিত জানেন না।</p><h3>কী দাবি করা হয়েছে পোস্টে </h3><p>ফেসবুক ও এক্সের পোস্টগুলোতে একটা মানুষের পিঠের ছবি দিয়ে বলা হয় এর নাম ‘শ্রীময়ী রীতা রানী’। তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে মিরপুর থানা যুব মহিলা লীগের ‘সংগঠক’ হিসেবে। দাবি করা হয়েছে, তিনি হিন্দু, আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন এবং দেখতে সুন্দরী—এসব কারণে তাঁর বাসায় ঢুকে তাঁকে ‘পাশবিক নির্যাতন’ করা হয়। মারধরে তাঁর শরীর রক্তাক্ত হয়।</p><p>কিছু পোস্টে ফিরোজ নামে এক ব্যক্তিকে নির্যাতনের জন্য দায়ী করা হয়েছে। তবে তাঁর পরিচয় নিয়ে পোস্টগুলোর বর্ণনায় অমিল আছে। কোথাও বলা হয়েছে, মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কের নির্দেশে ফিরোজ ওই নারীর বাসায় ঢোকেন। আবার কোথাও ফিরোজকেই থানা কমিটির আহ্বায়ক উল্লেখ করে বলা হয়েছে, নির্যাতন হয়েছে তাঁর নেতৃত্বে।</p><p>পোস্টদাতাদের আরও দাবি, ওই নারী মিরপুর থানায় অভিযোগ করতে গেলে ওসি তাঁকে বলেন, তাঁর সৌন্দর্যই তাঁর ‘কাল’। ওসি তাঁকে বোরকা পরার পরামর্শও দেন। এসব অভিযোগ তুলে পোস্টগুলোতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সুরক্ষা, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা এবং নারীবাদীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।</p><h3>ফেসবুক থেকে এক্সেও ছড়াল দাবি </h3><p>প্রথম আলো এ-সংক্রান্ত অর্ধশতাধিক পোস্ট যাচাই করেছে। এর মধ্যে প্রথমে শুক্রবার বেলা ১১টা ৫৯ মিনিটে ‘এফ কে জয় জয়’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি পোস্ট করার তথ্য পাওয়া যায়।</p><p>পরে ‘মুকুল আহমেদ’ ও ‘সুমন মল্লিক’ নামের আরও দুটি ফেসবুক প্রোফাইল থেকেও একই দাবিতে ছবিটি পোস্ট করা হয়। প্রোফাইলগুলোর আগের পোস্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সেগুলো থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে নিয়মিত পোস্ট দেওয়া হয়।</p><p>বিকেল ৪টা ৪৮ মিনিটে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন নিজের ফেসবুক পেজে ছবিটি পোস্ট করেন। রাত আটটা পর্যন্ত তাঁর পোস্টে প্রায় চার হাজার প্রতিক্রিয়া পড়ে।</p><p>এক্সেও একাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে একই দাবিতে ছবিটি ছড়ানো হয়। এর মধ্যে ‘Dr Baidyanath Ghosh’ নামের একটি অ্যাকাউন্টের পোস্ট রাত নয়টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১ লাখ ৪৮ হাজার বার দেখা হয়েছে।</p><p>ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। প্রথম আলোর অনেক পাঠক ফোন করেও ঘটনার সত্যতা জানতে চেয়েছেন। এরপর ছবিটি যাচাইয়ের বিভিন্ন টুলের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়। সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি অভিযোগে নাম আসা ব্যক্তির সঙ্গেও কথা বলে প্রথম আলো।</p><h3>ছবিটি যাচাই করে কী পাওয়া গেল </h3><p>মিরপুরে যুব মহিলা লীগের এক নেত্রীকে নির্যাতনের দাবি করে ছড়ানো ছবিটি যাচাইয়ে তিনটি টুল ব্যবহার করা হয়। এগুলো হলো সিন্থআইডি, ওপেনএআইয়ের এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট যাচাইয়ের টুল ও হাইভ মডারেশন।</p><p>যাচাইয়ে ছবিটি তৈরিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের তথ্য পাওয়া যায়। তবে পুরো ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি, নাকি আগের কোনো ছবি এআই দিয়ে সম্পাদনা করা হয়েছে, যাচাইয়ের ফলাফলে তা স্পষ্ট নয়।</p><p>ছবিটির সূত্র খুঁজতে গিয়ে প্রায় এক মাস আগের কয়েকটি অনলাইন পোস্ট পাওয়া যায়। সেসব পোস্টে ভারতের কেরালায় যৌতুকের দাবিতে এক নববধূকে তাঁর স্বামীর নির্যাতনের ঘটনার সঙ্গে একটি ছবি জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। ঢাকার মিরপুরে নির্যাতন করার দাবিতে ছড়ানো ছবিটির সঙ্গে ওই ছবির কিছুটা মিল আছে। তবে কেরালার ঘটনার সঙ্গে ছড়ানো ছবিটি সম্পাদনা করেই পরেরটি তৈরি করা হয়েছে কি না, তা পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।</p><p>অনলাইন প্রচারণায় ওই নারীর দলীয় পরিচয় নিয়েও অসংগতি পাওয়া গেছে। তাঁকে ‘মিরপুর থানা যুব মহিলা লীগের সংগঠক’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। যুব মহিলা লীগের একাধিক সূত্র প্রথম আলোকে জানিয়েছে, সংগঠনটিতে ‘সংগঠক’ নামে কোনো পদ নেই।</p><h3>আসলে থানায় কেউ গিয়েছিলেন কি না </h3><p>ঘটনাস্থল ধরে বিষয়টি যাচাই করতে যোগাযোগ করা হয় মিরপুর থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমানের সঙ্গে। তিনি আজ সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর থানা এলাকায় এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এমন অভিযোগ নিয়েও কোনো নারী থানায় আসেননি।</p><p>ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের অন্যান্য থানায় এমন ঘটনা ঘটেছে কি না, সেটিও জানার চেষ্টা করা হয়। মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর বিভাগের অধীন কোনো থানা এলাকায় এমন ঘটনা ঘটেনি। পোস্টে যে নারীর কথা বলা হয়েছে, এমন নামে বা তাঁর পক্ষে কেউ মিরপুর বিভাগের কোনো থানায় মামলা বা অভিযোগ করতেও আসেননি।</p><h3>অভিযোগে নাম আসা ফিরোজ যা বললেন </h3><p>সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো পোস্টে অভিযোগের বিষয়ে মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ফিরোজ আহমেদের সঙ্গে এই প্রতিবেদক কথা বলেছে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘এমন কোনো বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তাঁকে চিনিও না। এলাকায় এমন নামে কেউ আছেন, আবার তিনি যুব মহিলা লীগ করেন—এমন শুনিওনি। কেউ বলতেও পারছেন না। অনেক পুলিশ কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরাও আমাকে ফোন দিয়েছেন।’</p><p>ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘একেক জায়গায় আমার পরিচয় একেকভাবে দেওয়া হয়েছে। একেবারেই উড়ো একটি খবর ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও কাল্পনিক। আমি বর্বর জগতে বসবাস করি না যে আমার দ্বারা এমন ঘটনা ঘটবে। আমিও চাই প্রকৃত ঘটনার উদ্ঘাটন হোক।’</p>
শিশুটির মায়ের করা মামলায় আজ শুক্রবার দুপুরে ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
<p>জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি সরকার গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করছে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, পুরো সংস্কার প্রক্রিয়াকে ভন্ডুল করে দিতে চাচ্ছে সরকার।</p><p> আজ শুক্রবার সন্ধ্যা সোয়া ছয়টায় জয়পুরহাট শহরের স্টেশন সড়কের একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন। ‘সাংগঠনিক অগ্রগতি পর্যালোচনা ও স্থানীয় নির্বাচনকেন্দ্রিক পরিকল্পনা প্রণয়ন’ বিষয়ে এ সভার আয়োজন এনসিপি জয়পুরহাট জেলা শাখা।</p><p>এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, গণভোটের গণরায় সরকার বাস্তবায়ন করছে না। একটি সংবিধান সংশোধন কমিটি করে পুরো সংস্কার প্রক্রিয়াকে ভন্ডুল করে দিতে চাচ্ছে সরকার। যদিও সংস্কার বাস্তবায়নে গণভোটে দেশের ৭০ ভাগ মানুষ ম্যান্ডেট দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘গণ–অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন হয়নি বলেই আমাদের মাঠে নামতে হচ্ছে।’</p><p>ডিসেম্বরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার কোনো সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, সরকার গত আট মাসে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। তবে ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/fhjru08hwx">মেয়াদ পূর্ণ করতে হলে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে</a></aside><p>বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ভোটের আগে বিএনপি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করেছে। তারা মামলা–বাণিজ্যের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের লোকজনকে বাঁচিয়ে তাঁদের ভোটব্যাংক নিজেদের পক্ষে নিয়েছে। ডিসেম্বর বিজয়ের মাস উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ডিসেম্বর মাস আমাদের বিজয়ের মাস। আমরা ডিসেম্বর মাসে নদীর পানির হিস্যা আদায়ে মাঠে থাকব।’</p><p>সভায় এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব সারজিস আলম বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এনসিপি এককভাবে প্রার্থী দেবে। সেই লক্ষ্য নিয়ে তারা সারা দেশে কাজ করছে।</p><p>মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে এনসিপির জয়পুরহাট জেলা কমিটির আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম কবীর, সদস্যসচিব ইসমাইল হোসেনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।</p>
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।