রাজনীতি

জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান তুরস্ক গেছেন

অক্টোবর ৭, ২০২৬
জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান তুরস্ক গেছেন
জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান তুরস্ক গেছেন
জামায়াতের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের পোস্টে বলা হয়, ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠেয় ‘সেকেন্ড ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন বাংলাদেশ স্টাডিজ’—এ প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন শফিকুর রহমান।

Prothomalo

View more
নোবেল পাওয়ার আগেই যিনি স্টকহোমের টিকিট কেটেছিলেন
নোবেল পাওয়ার আগেই যিনি স্টকহোমের টিকিট কেটেছিলেন

<p>সে বছরের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার কে পাবেন, তা জানা যাবে আরও কয়েক মাস পরে। কিন্তু কলকাতার এক বিজ্ঞানী এরই মধ্যে নিজের ও স্ত্রীর জন্য ইউরোপ যাওয়ার জাহাজের টিকিট কেটে ফেললেন। তবে এই নোবেলের গল্প শুরু হয়েছিল নয় বছর আগের অন্য একটি জাহাজে।</p><p>প্রতিবছর অক্টোবর মাস আসার আগে আগে আমি খোঁজ নিতে শুরু করি, এবার নোবেল পুরস্কার কারা পেতে পারেন। এখন অনেক সংবাদমাধ্যমেই সম্ভাব্য নোবেলজয়ীদের নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলে। মজার ব্যাপার হলো, শেষ পর্যন্ত সেগুলো খুব কমই মেলে। এবার অবশ্য সেই খোঁজ নেওয়া হয়নি। তার একটা কারণ, আন্তর্জাতিক গণিত ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে অংশ নেওয়া বাংলাদেশের ১৬ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে এখন ইন্দোনেশিয়ায় আছি। প্রতিযোগিতা আর ওদের নিয়ে ব্যস্ততায় নোবেলের খোঁজ রাখা হয়ে ওঠেনি। আজ একটু খোঁজ নিতে গিয়ে দেখি, পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল তো এরই মধ্যে ঘোষণা হয়ে গেছে!</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/i7ktu4oe/nobelprize17912802554001871204793693771260826061.jpg"><figcaption>পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছেন বেলজিয়ামে জন্ম নেওয়া বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন</figcaption></figure><p>এবার পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছেন বেলজিয়ামে জন্ম নেওয়া বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন। দক্ষিণ মেরুর বরফের গভীরে স্থাপিত IceCube Neutrino Observatory-তে তাঁর নির্ণায়ক অবদান এবং মহাকাশের উৎস থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো আবিষ্কারের জন্য এই স্বীকৃতি। মহাবিশ্বকে জানার জন্য তাঁর কাজ জ্যোতির্বিজ্ঞানের নতুন একটি জানালা খুলে দিয়েছে।</p><p>পদার্থবিজ্ঞানের নোবেলের কথা ভাবতে গিয়ে আমার মনে পড়ল দুটি জাহাজের কথা। দুই জাহাজের যাত্রার মধ্যে ব্যবধান নয় বছর। আর দুটির সঙ্গেই জড়িয়ে আছেন একজন নোবেলজয়ী। দুই জাহাজের সঙ্গে নোবেল পুরস্কারের কী সম্পর্ক? সেটাই জানা যাক।</p><figure><blockquote data-instgrm-captioned data-instgrm-permalink="https://www.instagram.com/reel/DcsVzLrSAQv/?utm_source=ig_embed&amp;utm_campaign=loading" data-instgrm-version="14"><div> <a href="https://www.instagram.com/reel/DcsVzLrSAQv/?utm_source=ig_embed&amp;utm_campaign=loading" target="_blank"> <div> <div></div> <div> <div></div> <div></div></div></div><div></div> <div><svg width="50px" height="50px" viewbox="0 0 60 60" version="1.1" xmlns="https://www.w3.org/2000/svg" xmlns:xlink="https://www.w3.org/1999/xlink"><g stroke="none" stroke-width="1" fill="none" fill-rule="evenodd"><g transform="translate(-511.000000, -20.000000)" fill="#000000"><g><path d="M556.869,30.41 C554.814,30.41 553.148,32.076 553.148,34.131 C553.148,36.186 554.814,37.852 556.869,37.852 C558.924,37.852 560.59,36.186 560.59,34.131 C560.59,32.076 558.924,30.41 556.869,30.41 M541,60.657 C535.114,60.657 530.342,55.887 530.342,50 C530.342,44.114 535.114,39.342 541,39.342 C546.887,39.342 551.658,44.114 551.658,50 C551.658,55.887 546.887,60.657 541,60.657 M541,33.886 C532.1,33.886 524.886,41.1 524.886,50 C524.886,58.899 532.1,66.113 541,66.113 C549.9,66.113 557.115,58.899 557.115,50 C557.115,41.1 549.9,33.886 541,33.886 M565.378,62.101 C565.244,65.022 564.756,66.606 564.346,67.663 C563.803,69.06 563.154,70.057 562.106,71.106 C561.058,72.155 560.06,72.803 558.662,73.347 C557.607,73.757 556.021,74.244 553.102,74.378 C549.944,74.521 548.997,74.552 541,74.552 C533.003,74.552 532.056,74.521 528.898,74.378 C525.979,74.244 524.393,73.757 523.338,73.347 C521.94,72.803 520.942,72.155 519.894,71.106 C518.846,70.057 518.197,69.06 517.654,67.663 C517.244,66.606 516.755,65.022 516.623,62.101 C516.479,58.943 516.448,57.996 516.448,50 C516.448,42.003 516.479,41.056 516.623,37.899 C516.755,34.978 517.244,33.391 517.654,32.338 C518.197,30.938 518.846,29.942 519.894,28.894 C520.942,27.846 521.94,27.196 523.338,26.654 C524.393,26.244 525.979,25.756 528.898,25.623 C532.057,25.479 533.004,25.448 541,25.448 C548.997,25.448 549.943,25.479 553.102,25.623 C556.021,25.756 557.607,26.244 558.662,26.654 C560.06,27.196 561.058,27.846 562.106,28.894 C563.154,29.942 563.803,30.938 564.346,32.338 C564.756,33.391 565.244,34.978 565.378,37.899 C565.522,41.056 565.552,42.003 565.552,50 C565.552,57.996 565.522,58.943 565.378,62.101 M570.82,37.631 C570.674,34.438 570.167,32.258 569.425,30.349 C568.659,28.377 567.633,26.702 565.965,25.035 C564.297,23.368 562.623,22.342 560.652,21.575 C558.743,20.834 556.562,20.326 553.369,20.18 C550.169,20.033 549.148,20 541,20 C532.853,20 531.831,20.033 528.631,20.18 C525.438,20.326 523.257,20.834 521.349,21.575 C519.376,22.342 517.703,23.368 516.035,25.035 C514.368,26.702 513.342,28.377 512.574,30.349 C511.834,32.258 511.326,34.438 511.181,37.631 C511.035,40.831 511,41.851 511,50 C511,58.147 511.035,59.17 511.181,62.369 C511.326,65.562 511.834,67.743 512.574,69.651 C513.342,71.625 514.368,73.296 516.035,74.965 C517.703,76.634 519.376,77.658 521.349,78.425 C523.257,79.167 525.438,79.673 528.631,79.82 C531.831,79.965 532.853,80.001 541,80.001 C549.148,80.001 550.169,79.965 553.369,79.82 C556.562,79.673 558.743,79.167 560.652,78.425 C562.623,77.658 564.297,76.634 565.965,74.965 C567.633,73.296 568.659,71.625 569.425,69.651 C570.167,67.743 570.674,65.562 570.82,62.369 C570.966,59.17 571,58.147 571,50 C571,41.851 570.966,40.831 570.82,37.631"></path></g></g></g></svg></div><div> <div>View this post on Instagram</div></div><div></div> <div><div> <div></div> <div></div> <div></div></div><div> <div></div> <div></div></div><div> <div></div> <div></div> <div></div></div></div> <div> <div></div> <div></div></div></a><p><a href="https://www.instagram.com/reel/DcsVzLrSAQv/?utm_source=ig_embed&amp;utm_campaign=loading" target="_blank">A post shared by Science &amp; World Affairs | AI (@themindmapmedia)</a></p></div></blockquote> </figure><p><br><strong>যে জাহাজের টিকিট কাটা হয়েছিল নোবেল ঘোষণার আগেই</strong></p><p>দ্বিতীয় জাহাজটির গল্প আগে বলি। ১৯৩০ সালের জুলাই মাস। সে বছরের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার কে পাবেন, তা জানা যাবে আরও কয়েক মাস পরে। কিন্তু কলকাতার এক বিজ্ঞানী এরই মধ্যে নিজের ও স্ত্রীর জন্য ইউরোপ যাওয়ার জাহাজের টিকিট কেটে ফেললেন। গন্তব্য স্টকহোম। তাঁর ধারণা, এবার পদার্থবিজ্ঞানের নোবেলটি তিনিই পাচ্ছেন। আর নোবেল কমিটির সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করলে ভারত থেকে দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা শেষে ১০ ডিসেম্বরের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে সময়মতো পৌঁছানো যাবে না।</p><p>বিজ্ঞানীর নাম চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রামন - সি ভি রামন নামে তিনি পরিচিত। এটাকে আত্মবিশ্বাস বলব, নাকি অহংকার? প্রশ্নটা একেবারে অমূলক নয়। ছয় বছর আগে, ১৯২৪ সালে রয়্যাল সোসাইটির ফেলো নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, এরপর কী? রামনের উত্তর ছিল, “The Nobel Prize, of course!”<br>শেষ পর্যন্ত তাঁর আত্মবিশ্বাস ভুল প্রমাণিত হয়নি। ১৯৩০ সালের পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনিই, আলোর বিচ্ছুরণ নিয়ে তাঁর কাজ এবং তাঁর নামেই পরিচিত রামন ইভেক্ট আবিষ্কারের জন্য। তবে এই নোবেলের গল্প শুরু হয়েছিল নয় বছর আগের অন্য একটি জাহাজে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/bp502fdf/jagranjoshindia1772256606384228935708814011747920607884.jpg"><figcaption>বিজ্ঞানীর নাম চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রামন - সি ভি রামন নামে তিনি পরিচিত</figcaption></figure><p><br><strong>সমুদ্র এত নীল কেন</strong></p><p>রামন ইফেক্টের কথা আমি প্রথম জানতে পারি স্কুলে, সম্ভবত নবম বা দশম শ্রেণিতে পড়ার সময়। কে আমাকে বুঝিয়েছিলেন, এখন আর মনে নেই। তবে কথাটা মনে আছে। বলা হয়েছিল, সমুদ্রের পানি কেন নীল, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন ভারতীয় বিজ্ঞানী সি ভি রামন। অনেক বছর গল্পটা আমি   এভাবেই জেনেছি। পরে বুঝেছি, কথাটা পুরোপুরি ঠিক নয়, আবার একেবারে ভুলও নয়। বরং সত্যিকারের গল্পটা আরও মজার।<br>১৯২১ সালে ইউরোপ থেকে ভারতে ফিরছিলেন রামন। জাহাজের নাম এস এস নারকুন্ডা। জাহাজ যখন ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিচ্ছে, সমুদ্রের গভীর নীল রং তাঁর নজর কাড়ে।</p><p>সে সময় প্রচলিত ব্যাখ্যা ছিল, আকাশের নীল রঙের প্রতিফলনের কারণেই সমুদ্র নীল দেখায়। রামন তাতে সন্তুষ্ট হলেন না। সঙ্গে থাকা ছোটখাটো অপটিক্যাল যন্ত্রপাতি দিয়েই জাহাজে পরীক্ষা শুরু করলেন। তাঁর মনে হলো, পানির অণুর সঙ্গে আলোর বিচ্ছুরণেরও ভূমিকা রয়েছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/im4eud28/bollywoodconnect2174488387336126702340605762033602389054nj.jpg"><figcaption>সমুদ্র কেন নীল - এই কৌতূহল তাঁকে পরের কয়েক বছর আলোর বিচ্ছুরণ নিয়ে গবেষণায় ডুবিয়ে রাখল</figcaption></figure><p>জাহাজ এডেনে থামলে সেখান থেকেই নিজের পর্যবেক্ষণ লিখে Nature পত্রিকায় পাঠালেন। লেখায় ঠিকানা পর্যন্ত দেওয়া হয়েছিল—SS Narkunda, near Aden।<br>জাহাজ এডেনে থামলে সেখান থেকেই নিজের পর্যবেক্ষণ লিখে Nature পত্রিকায় পাঠালেন। লেখায় ঠিকানা পর্যন্ত দেওয়া হয়েছিল—SS Narkunda, near Aden।<br>সমুদ্র কেন নীল - এই কৌতূহল তাঁকে পরের কয়েক বছর আলোর বিচ্ছুরণ নিয়ে গবেষণায় ডুবিয়ে রাখল।</p><p><strong>রামন ইফেক্ট</strong></p><p>খুব সহজ করে বললে, কোনো পদার্থের ওপর আলো ফেললে তার বেশির ভাগ একই শক্তি নিয়ে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু খুব সামান্য কিছু আলো পদার্থের অণুর সঙ্গে শক্তি আদান-প্রদান করে। ফলে ফিরে আসা আলোর কম্পাঙ্ক বা রং সামান্য বদলে যায়।<br>এই সামান্য পরিবর্তন থেকেই পদার্থটির অণু সম্পর্কে অনেক কিছু জানা যায়। অনেকটা তার নিজস্ব আঙুলের ছাপের মতো। এটাই রামন ইফেক্ট। ১৯২৮ সালে রামন ও তাঁর সহযোগীদের পরীক্ষায় এই নতুন ধরনের আলোর বিচ্ছুরণ ধরা পড়ে। মাত্র দুই বছরের মধ্যে এই আবিষ্কার তাঁকে নোবেল এনে দেয়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/jcrz85j6/karthiktmk176371408037706294598766262602106175203.webp"><figcaption>তাঁর জীবনীকার গণেশন ভেঙ্কটরামন একে বলেছেন “Himalayan ego and sharp tongue”</figcaption></figure><p><strong>হিমালয়সম অহং</strong></p><p>কিন্তু রামনকে শুধু সমুদ্রের নীল রং দেখে প্রশ্ন করা কৌতূহলী বিজ্ঞানী হিসেবে দেখলে মানুষটার পুরোটা দেখা হয় না। তাঁর অসাধারণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রবল অহংবোধ এবং তীক্ষ্ণ মেজাজের কথাও তাঁর জীবনীকারেরা লিখেছেন। তাঁর জীবনীকার গণেশন ভেঙ্কটরামন একে বলেছেন “Himalayan ego and sharp tongue”।</p><p>এই মানুষটির জীবনের আরেকটি ঘটনা আমাকে বিশেষভাবে ভাবায়। ১৯৩৩ সালে কমলা ভাগবত, যিনি পরে কমলা সোহনি নামে পরিচিত হন, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্সে গবেষণা করতে চাইলেন। তখন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক সি ভি রামন। বোম্বে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণিতে পাস করা কমলাকে রামন গবেষণার সুযোগ দিতে রাজি হলেন না। কারণ তিনি নারী। ভাবা যায়?</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/ubylgnvb/sciastraofficial1761217250374968452791304829339393842871.jpg"><figcaption>বোম্বে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণিতে পাস করা কমলাকে রামন গবেষণার সুযোগ দিতে রাজি হলেন না</figcaption></figure><p>যে মানুষটি কয়েক বছর আগে বিজ্ঞানের জগতে ভারতের জন্য প্রথম নোবেল এনে দিয়েছেন, তিনিই যদি একজন নারীর গবেষণা করার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তাহলে সেই সময় ভারতবর্ষের একজন সাধারণ মানুষের কাছে মেয়েদের বিজ্ঞানচর্চার সম্ভাবনা কেমন মনে হওয়ার কথা? কিন্তু কমলা মাথা নিচু করে বাড়ি ফিরে যাননি। নিজের যোগ্যতার পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। রামনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তাঁর অফিসের সামনে সত্যাগ্রহ করেছেন। শেষ পর্যন্ত রামনকে সিদ্ধান্ত বদলাতে হয়েছে। যদিও কঠিন কিছু শর্তে, কমলা গবেষণার সুযোগ পেয়েছেন। পরে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডিও করেছেন।</p><p><strong>আমাদের অনেক কমলা দরকার</strong></p><p>কমলার এই গল্পটি আমার কাছে আরও একটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। মেয়েদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য আমরা অনেক বছর ধরে #missingDaughter নামে একটি উদ্যোগ চালাচ্ছি। আমাদের প্রশ্নটি খুব সাধারণ; আমাদের মেধাবী মেয়েরা কোথায় হারিয়ে যাচ্ছে? প্রায় একশো বছর পরও কমলা সোহনির গল্পটি তাই আমার কাছে পুরোনো গল্প মনে হয় না।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/8enqf703/sciastraofficial1761217250374968452795503266639393842871rt.jpg"><figcaption>আমাদের অনেক কমলা দরকার</figcaption></figure><p>এখন হয়তো মেয়েদের সামনে রামন বসে সরাসরি বলছেন না, “তুমি নারী, তাই গবেষণা করতে পারবে না।” কিন্তু “এটা মেয়েদের বিষয় নয়”, “প্রোগ্রামিং করে কী হবে”, “এত দূরে গিয়ে পড়ার দরকার কী”—এমন অনেক ছোট-বড় দেয়াল এখনো আছে।<br>এই দেয়াল শুধু প্রতিষ্ঠান বা সমাজকে বদলে ভাঙা যাবে না। আমাদের কমলাদেরও দরকার। যে মেয়েরা বুক চিতিয়ে দাঁড়াবে। “তুমি পারবে না”—শত বছর ধরে জমে থাকা এই জগদ্দল পাথরের বিরুদ্ধে ধাক্কা দেবে। এক শ বছর আগে কমলার হাতিয়ার ছিল তাঁর মেধা, জেদ আর নিজের সক্ষমতার ওপর বিশ্বাস। নতুন এই লড়াইয়ে আমাদের মেয়েদের হাতে আরও কিছু শক্তিশালী হাতিয়ার আছে—প্রযুক্তি, প্রোগ্রামিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। আমাদের কাজ তাদের হয়ে লড়াইটা করে দেওয়া নয়। আমাদের কাজ তাদের জন্য সুযোগ তৈরি করা, তাদের হাতে নতুন হাতিয়ারগুলো তুলে দেওয়া এবং তারা যখন দাঁড়াবে, তখন তাদের পাশে দাঁড়ানো।</p><p><strong>আবার সেই দুই জাহাজ</strong></p><p>রামনের গল্পে ফিরে আসি। নোবেল পুরস্কার পাওয়ার ব্যাপারে তাঁর আগ্রহ বা আত্মবিশ্বাস কোনোটাই গোপন ছিল না। ১৯২৯ সালে তিনি বিজ্ঞানী নিলস বোরকে ১৯৩০ সালের নোবেলের জন্য তাঁর সমর্থন চেয়ে লিখেছেন। অথচ রামন তখন জানতেন না, বোর আগের বছরই তাঁকে নোবেলের জন্য মনোনয়ন দিয়েছেন। ১৯৩০ সালেও দিয়েছেন। সে বছর রামনকে মনোনয়ন দেওয়া বিজ্ঞানীদের মধ্যে আর্নেস্ট রাদারফোর্ড ও লুই দ্য ব্রগলিও ছিলেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/sn9mpfek/byolstem1787323351396867837019180921072356272725.jpg"><figcaption>রামনের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অহংকার মিশে থাকতে পারে, কিন্তু নিজের কাজের গুরুত্ব সম্পর্কে তাঁর ধারণা ভুল ছিল না</figcaption></figure><p>কাজেই রামনের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অহংকার মিশে থাকতে পারে, কিন্তু নিজের কাজের গুরুত্ব সম্পর্কে তাঁর ধারণা ভুল ছিল না। শেষ পর্যন্ত তাই আমার মনে থাকে সেই দুটি জাহাজ। ১৯২১ সালের একটি জাহাজে বসে একজন মানুষ ভূমধ্যসাগরের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন, সমুদ্র এত নীল কেন? নয় বছর পর আরেকটি জাহাজে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে রওনা দিলেন স্টকহোমের দিকে। নোবেল কমিটি তখনো জানায়নি পুরস্কারটি তিনি পাচ্ছেন। একটি জাহাজের যাত্রা শুরু হয়েছিল একটি প্রশ্ন দিয়ে। আর অন্যটির যাত্রা নিজের কাজের ওপর প্রায় অবিশ্বাস্য বিশ্বাস নিয়ে। সি ভি রামনের গল্পে সম্ভবত দুটোই দরকার ছিল।</p><p><strong>ছবি</strong>: ইন্সটাগ্রাম </p>

অক্টোবর ৭, ২০২৬
চোখের জলে আর্জেন্টিনার মহাতারকা লিওনেল মেসিকে বিদায়
চোখের জলে আর্জেন্টিনার মহাতারকা লিওনেল মেসিকে বিদায়

<p>চোখের জলে আর্জেন্টিনাকে বিদায় লিওনেল মেসির। শেষ ম্যাচে এক গোল ও দুই অ্যাসিস্টে দলকে জিতিয়ে ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন তিনি। বিস্তারিত ভিডিওতে...</p><figure></figure>

অক্টোবর ৭, ২০২৬
ত্রিপুরায় গ্রাম কমিটি নির্বাচনে টিপরা মোথার বিপুল জয়, বিজেপির কর্মীদের সঙ্গে সংঘাত-সংঘর্ষ
ত্রিপুরায় গ্রাম কমিটি নির্বাচনে টিপরা মোথার বিপুল জয়, বিজেপির কর্মীদের সঙ্গে সংঘাত-সংঘর্ষ

টিমএমপি এককভাবে ৩ হাজার ৪২৮টি গ্রাম কমিটিতে জয়ী হয়ে আদিবাসী এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য ও মজবুত সাংগঠনিক ভিত্তির প্রমাণ দিয়েছে। বিজেপি জিতেছে মাত্র ৮৫৯টি গ্রাম কমিটি।

অক্টোবর ৭, ২০২৬
রিপলি’স বিলিভ ইট অর নট!
রিপলি’স বিলিভ ইট অর নট!

ডন হ্যাকার আয়রন ম্যান-এর ১৯৬৩ সালের টেলস অব সাসপেন্স ৩৯ নম্বর পর্বটি নিলামে বিক্রি হয়েছিল ৩০ লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ ডলারে।

অক্টোবর ৭, ২০২৬
ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে পুলিশ কর্মকর্তা আহত, আটক ২
ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে পুলিশ কর্মকর্তা আহত, আটক ২

গাজীপুরের টঙ্গীতে চিহ্নিত ছিনতাইকারীদের ধরতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) আহত হয়েছেন।

অক্টোবর ৭, ২০২৬
মহাকাশ গবেষণায় উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কথা জানাল সংযুক্ত আরব আমিরাত
মহাকাশ গবেষণায় উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কথা জানাল সংযুক্ত আরব আমিরাত

মঙ্গল গ্রহে সফলভাবে মিশন পাঠানোর পর এবার মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে নিজেদের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

অক্টোবর ৭, ২০২৬
ভাবুক সম্রাট
ভাবুক সম্রাট

ভাবুক সম্রাটের আসল নাম সম্রাট মিয়া ঋত্বিক ঘটকের অমর বাণী “ভাবো, ভাবো, ভাবা প্র্যাকটিস করো”

অক্টোবর ৭, ২০২৬
‘অনুমতি ছাড়াই’ সমস্যার কথা জানানো যাচ্ছে হাজীগঞ্জের ইউএনওকে
‘অনুমতি ছাড়াই’ সমস্যার কথা জানানো যাচ্ছে হাজীগঞ্জের ইউএনওকে

প্রতিদিন কার্যালয়ে আসা এক থেকে দেড় শ লোকের নানা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন ইউএনও।

অক্টোবর ৭, ২০২৬
আইফোন ডুও কেন অনন্য
আইফোন ডুও কেন অনন্য

আইফোন ডুও তে ‘স্প্লিট ভিউ’ নামে নতুন সুবিধা যুক্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে আইফোনে প্রথমবারের মতো একই সময়ে পাশাপাশি দুটি অ্যাপ চালানো যাবে।

অক্টোবর ৭, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন