এক অভিভাবক বলে উঠলেন, ‘জাইল্লার ফোয়া কেনে ফাস্ট ওইয়ে?’ এই যে অপমান, এটা তো অবধারিত। এটাই আমাকে আরও পড়তে, আরও সামনে যেতে সাহায্য করেছে।
অগ্নিকাণ্ডের সময় বাসটিতে চালকের সহকারী ঘুমাচ্ছিলেন বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স।
<p> শুটিং সেটে মারধরের অভিযোগ ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের জেরে অভিনেত্রী তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈ—দুজনেরই সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ। এর আগে দুই অভিনেত্রীর বিরোধ মীমাংসায় একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েছিল সংগঠনটি। তবে সেই উদ্যোগ সফল হয়নি বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু।</p><p>গত ৪ অক্টোবর তানজিন নাহার তিশা ও সামিয়া আক্তার অথৈ বরাবর পাঠানো পৃথক চিঠিতে বলা হয়, গত ৭ জুলাই তাঁদের সদস্যপদ স্থগিতের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দুজনের কেউই ওই নোটিশের জবাব সংগঠনের কার্যালয়ে জমা দেননি। পরে সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কার্যনির্বাহী পরিষদের নিয়মিত সভায় তাঁদের সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়। গতকাল শুক্রবার রাতে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।</p><p> এ সিদ্ধান্তের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নীরব থাকেননি তানজিন তিশা। গতকাল রাতেই ফেসবুক লাইভে এসে প্রায় ২৫ মিনিট ধরে কথা বলেন তিনি। শুটিং সেটে সামিয়া অথৈর সঙ্গে বিরোধ, অভিনয়শিল্পী সংঘের সালিশ বৈঠক, সদস্যপদ স্থগিতের কারণ এবং গত আট মাসের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন অভিনেত্রী। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ প্রকাশের বিষয়টিও। তিশার মতে, পেশাগত বিরোধ মীমাংসার বদলে তা প্রকাশ্যে এনে কাউকে হেয় করা কিংবা তাঁর ক্যারিয়ারের ক্ষতি করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।</p><p>এ প্রসঙ্গে তিশা বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা প্রচারণা আমাদের সমালোচিত করে। আমরা যারা কাজ দিয়ে টিকে থাকতে চাই, তাদের জন্য সেটা কঠিন হয়ে পড়ে। একটা জায়গায় কাজ করতে গেলে অনেকের সঙ্গে মতের অমিল হতে পারে, ঝামেলাও হতে পারে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমি আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গিয়ে সব বলে দেব কিংবা সাংবাদিকদের জানাব, যাতে কারও ক্যারিয়ারের ক্ষতি হয়।’</p><p>গত এক বছরে তাঁকে ঘিরে বিভিন্ন বিতর্কের প্রসঙ্গও টানেন তিশা। তিনি বলেন, ‘গত এক বছরে অনেক কিছু দেখলাম, শাড়ি–কাণ্ডও দেখলাম। আজ হোক বা কাল, সবকিছু সবার সামনে আসবে। আমি শুধু সেই দিনের অপেক্ষায় আছি।’</p><p><strong>শুটিং সেটের ঘটনা নিয়ে যা বললেন<br></strong>সদস্যপদ স্থগিতের প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে গত মার্চে ‘পুতুলের বিয়ে’ নাটকের শুটিংয়ে সামিয়া অথৈর সঙ্গে বিরোধের ঘটনাটি আবারও সামনে আনেন তিশা। তাঁর দাবি, সেদিন শুটিং সেটে কী ঘটেছিল, তা উপস্থিত সবাই দেখেছেন। বিষয়টি নতুন করে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘“পুতুলের বিয়ে” নাটকে একজন মহান শিল্পী আছেন। তাঁর সঙ্গে আমার একটা সমস্যা হয়েছিল। পুরো শুটিং সেটের সবাই সেই ঘটনার সাক্ষী। কী হয়েছে, কী হয়নি, সবাই দেখেছেন।’</p><p>নাটকে নিজের অভিনীত চরিত্রের প্রসঙ্গ তুলে তিশা বলেন, ‘আমার পাগলের চরিত্র তো আমি করেছি। নাকি আরেকজন পাগলের চরিত্র করেছে, সেটাও আপনারা দেখেছেন। কোনো কাটছাঁট করা হয়নি। দৃশ্যটি দেখলেই বুঝবেন, কে আসলে ইম্প্রোভাইজ করেছে। নির্যাতনের যে দাবি করা হয়েছে, সেটাও আপনারা বুঝতে পারবেন।’<br>তিশার ভাষ্য, ঘটনার পর অভিনয়শিল্পী সংঘের উদ্যোগে দীর্ঘ সময় ধরে দুই পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়েছিল। সালিশ বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয়েছিল, সেটিও ফেসবুক লাইভে তুলে ধরেন তিনি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-06/kdcr1y27/WhatsApp-Image-2026-11-06-at-11.32.20-PM.jpeg"><figcaption>তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈই</figcaption></figure><p>তিশা বলেন, ‘আমাদের সম্মানিত ব্যক্তিরা বিচারক হিসেবে ছিলেন। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বসে পুরো ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কেন, কী ঘটেছে, সবকিছু শোনা হয়েছে। সেই বৈঠকের নোটিশও আমার কাছে আছে, লিখিতভাবে আছে।’<br>সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিশা আরও বলেন, ‘বলা হয়েছিল, আমরা দুজনই যেন ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দিই এবং একটি ভিডিও বার্তা পাঠাই। সে (সামিয়া অথৈ) ভিডিওটি দেয়নি। আমিও কোনো কারণে দিতে পারিনি। আমি নোটিশ অমান্য করেছি বলে আজ আমাকে সদস্যপদ স্থগিতের চিঠি পাঠানো হয়েছে। ঠিক আছে।’</p><p><strong>‘আমি থেমে থাকব না’<br></strong>ফেসবুক লাইভের শেষ দিকে গত আট মাসের নানা প্রতিকূলতার কথাও বলেন তিশা। তবে এসব ঘটনায় তিনি দমে যাননি বলে জানান। নিজের অবস্থানের পক্ষে অটল থাকার কথা জানিয়ে অভিনেত্রী বলেন, ‘আট মাস ধরে যত বাধাই আসুক, যা-ই ঘটুক, আমি থেমে নেই। আমি থেমে থাকব না। আমি হাল ছাড়ব না। এত আত্মবিশ্বাস নিয়ে কথাটা বলতে পারছি, কারণ আমি জানি, আমি ভুল কিছু করিনি।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-28/1cehyye0/77622260716618759186300438391832875070117401n.jpg"><figcaption>তানজিন তিশা</figcaption></figure><p>এর আগে গত ৩ মার্চ মানিকগঞ্জে ‘পুতুলের বিয়ে’ নাটকের শুটিং চলাকালে তিশার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তোলেন সামিয়া অথৈ। ফেসবুক লাইভে সামিয়া দাবি করেন, নাটকের একটি দৃশ্যে তিশাকে তাঁর আলতো করে চড় মারার কথা ছিল। কিন্তু তিশা তাঁকে একাধিকবার জোরে চড় মারেন। এতে তিনি আহত হন বলেও অভিযোগ করেন সামিয়া।</p><p>তবে শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন তিশা। তাঁর দাবি, চিত্রনাট্য ও চরিত্রের প্রয়োজনেই তিনি অভিনয় করেছেন। কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আঘাত করা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/entertainment/tv/umotxeqtrc">তিশা–অথৈর কেউই মানেননি প্রস্তাব, শেষ পর্যন্ত কঠোর সিদ্ধান্ত</a></aside><p>ঘটনার পর অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ দুই অভিনেত্রীর বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেয়। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা দুই শিল্পীর সঙ্গে একাধিকবার বসেছি। তাঁদের বক্তব্য শুনেছি, বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করেছি। চেয়েছিলাম, তাঁরা নিজেদের মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝি দূর করে সমঝোতায় পৌঁছান। বিষয়টি মিটমাট হয়েছে জানিয়ে একটি ভিডিও বার্তা দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছিলাম। কিন্তু তাঁরা কেউই সংগঠনের প্রস্তাব মেনে নেননি। শেষ পর্যন্ত নিয়ম অনুযায়ী দুজনের সদস্যপদ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’<br>এদিকে সদস্যপদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়ে তিশা প্রকাশ্যে বক্তব্য দিলেও সামিয়া অথৈর নতুন কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো জানা যায়নি। সংগঠনটির এই সিদ্ধান্তের পর দুই অভিনেত্রীর বিরোধের নিষ্পত্তি কীভাবে হবে, সেটিও স্পষ্ট নয়।</p>
<p>প্রথম আলো ট্রাস্টের একটি আয়োজন বিনা মূল্যে মাদকবিরোধী পরামর্শ সহায়তা সভা। এ আয়োজনের আওতায় ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রথম আলোর কার্যালয় কারওয়ান বাজারে ১৮২তম অনলাইন পরামর্শ সহায়তা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উপস্থিত থেকে পরামর্শ প্রদান করেন বিশিষ্ট শিশু-কিশোর ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আহমেদ হেলাল। এইবারের বিষয়টি ছিল—‘সন্তানের আচরণ ও বন্ধু নির্বাচন: অভিভাবক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব।’ উক্ত অনুষ্ঠান থেকে একটি পরামর্শ তুলে ধরা হলো।</p><p>সন্তানকে ভবিষ্যতে মানসিক ধাক্কা থেকে বাঁচাতে ছোটবেলা থেকেই বাস্তবতার মুখোমুখি কীভাবে করানো উচিত? এই প্রশ্নের উত্তরে ডা. আহমেদ হেলাল বলেন, ‘সন্তানকে অতি-সংরক্ষিত পরিবেশে না রেখে জীবন ও জগতের ভালো এবং মন্দ—উভয় দিকের সঙ্গেই পরিচয় করিয়ে দেওয়া উচিত। যদি তাকে শুধু সুন্দর ও ভালো জিনিসটাই দেখানো হয় এবং জীবনের কঠিন বা মন্দ দিকগুলোর মুখোমুখি হতে না দেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যতে বাস্তবে যখন সে কোনো খারাপ পরিস্থিতি বা ধাক্কার সম্মুখীন হবে, তখন সামলাতে না পেরে ভেঙে পড়বে। মন্দকে চেনার অর্থ এই নয় যে সন্তান খারাপ হয়ে যাবে; বরং এতে করে সে মন্দকে চিনে তা থেকে নিজেকে রক্ষা করার মতো মানসিক শক্তি ও প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করবে।’ </p>
গবেষণায় যেসব পুরোনো পাত্র ছিল সেগুলোতে প্রতি কেজিতে ২২৬ থেকে ২৩৮০ মাইক্রোগ্রাম সিসা পাওয়া যায়। আর নতুন পাত্রগুলোতে ছিল ১২৬০ থেকে ১৮২০ মাইক্রোগ্রাম।
বিকেলে আমি বাসায় ফিরে আসি। শারীরিক দুর্বলতা ও ক্লান্তিবশত আমি আর বাড়ি থেকে বের হইনি।
<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-07/a6ffjkft/1____Khagrachhari__birds.jpg"><figcaption>শিম ফুলে বসেছে মৌটুসি পাখি। পানছড়ি, খাগড়াছড়ি, ৭ নভেম্বর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-07/zk6pm3jj/2____Khulna_cow.JPG"><figcaption>জলাশয়ে কচুরিপানা খেতে নেমেছে গরু। পাশে উড়তে থাকা পোকা ধরতে ব্যস্ত বক। লবণচরা, খুলনা, ৭ নভেম্বর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-07/cxebqb1t/3______Rangpur_paddy.JPG"><figcaption>রংপুরে শুরু হয়েছে আমন ধান কাটার মৌসুম। ভালো ফলনে উৎসবমুখর পরিবেশে ধান কাটছেন কৃষিশ্রমিকেরা। বালাকোয়ার, রংপুর, ৭ নভেম্বর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-07/vu1q1a9i/4.-Cumilla-farmer.jpg"><figcaption>আলু রোপণের আগে জমিতে সার দিচ্ছেন শ্রমিকেরা। সাতারদিয়া, দাউদকান্দি, কুমিল্লা, ৭ নভেম্বর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-07/plbw558y/5____Rangamati_bird.JPG"><figcaption>সকালের রোদে বসে আছে শালিক পাখি। বিলাইছড়ি পাড়া, রাঙামাটি, ৭ নভেম্বর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-07/ywockbjh/8.-Gazipur-bird.JPG"><figcaption>বিলের পাশে সবজির মাচার খুঁটিতে বসে আছে খঞ্জনা পাখি। রাজাবাড়ি, শ্রীপুর, গাজীপুর, ৭ নভেম্বর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-07/3x4y699l/9.-Rangpur-winter.JPG"><figcaption>শীতের সকালে মায়ের কাঁধে মাথা দিয়ে ঘুমিয়ে আছে শিশুটি। হারাটি, রংপুর, ৭ নভেম্বর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-07/rvqt32rw/10.-Rangpur-fisherman.JPG"><figcaption>রাতে বিলে বড়শি পেতে সকালে মাছ তুলছেন এক মাছশিকারি। ময়নাকুঠি, রংপুর, ৭ নভেম্বর</figcaption></figure>
৪৫তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে ৩৮৪ জন নিয়োগ পেলেও ৪৫ জন যোগ দেননি, ফলে ৪৫ পদ ফাঁকা রয়েছে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।