গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে ঝুটের গুদামে আগুন লেগেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট
<p>শুভসন্ধ্যা। রাজনীতি, জাতীয়, আইনশৃঙ্খলা, বিনোদনসহ আলোচিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আজ সোমবার দিনভর প্রথম আলো অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে নানা খবর। এর অনেকগুলোই হয়তো আপনার চোখ এড়িয়ে গেছে। সন্ধ্যার অবসরে চোখ বুলিয়ে নিন সারা দিন প্রথম আলো অনলাইনে প্রকাশিত আলোচিত পাঁচ খবরে:</p><h3>টঙ্গীতে মাদ্রাসায় যৌন নিপীড়ন: ঘটনার পরদিন মিষ্টি নিয়ে শিশুটির বাড়িতে গিয়েছিলেন অভিযুক্ত শিক্ষক</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/ix6jx9tm/gazipur1.jpg"><figcaption>টঙ্গীতে যৌন নিপীড়নের শিকার শিশুর বাড়িতে আপস করতে গিয়েছিলেন অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক মোসলেম আহম্মদ</figcaption></figure><p>আজ সোমবার দুপুরে শিশুটির পরিবার যে ভবনে থাকে, সেখানকার ক্লোজড সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরার ফুটেজ প্রথম আলোর হাতে এসেছে। ফুটেজে দেখা যায়, ২০ অক্টোবর দুপুর ১২টা ৩৮ মিনিটে লাল রঙের ব্যাগ হাতে ভবনে প্রবেশ করেন মাদ্রাসার শিক্ষক মোসলেম আহম্মদ। নিচতলায় নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে তিনি লিফটের দিকে যান। ১২টা ৩৯ মিনিটে তাঁকে লিফটে উঠতে দেখা যায়। পরে তিনি আবার নিচে নেমে বেরিয়ে যান। পুরো সময় তাঁর হাতে ছিল সেই ব্যাগ। অন্য একটি ফুটেজে ব্যাগের ভেতরে মিষ্টির প্যাকেট দেখা যায়।<br><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/cm49h5rmes" target="_blank">বিস্তারিত পড়ুন:</a></p><h3>ক্রসফায়ার যদি প্রয়োজন হয়, সরকার যদি অ্যালাউ করে আমরা সেটাই করব: আইজিপি</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/xpsq9d84/WhatsApp-Image-2026-10-26-at-2.40.27-PM.jpeg"><figcaption>কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ইসলামিক ব্যাংকিং সেবা ‘কমিউনিটি ইসলামিকের’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আইজিপি। আজ সোমবার দুপুরে পুরান ঢাকার চকবাজারে </figcaption></figure><p>আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেন, পুলিশ বলপ্রয়োগ করলে এক পক্ষ পুলিশকে ফ্যাসিস্ট বলে, আবার নিষ্ক্রিয় থাকলে দুর্বল বলে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত পরিবেশ দিতে হবে। তিনি বলেন, ‘যেখানে ক্রসফায়ার যদি প্রয়োজন হয়, সরকার যদি অ্যালাউ করে আমরা সেটাই করব।’<br><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/ph8xdx2sn8" target="_blank">বিস্তারিত পড়ুন</a>:</p><h3>সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড: দেশটির আইন কী বলে, আদালতে কী ঘটে</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-24/c7043vz9/saudi-law-01.jpg"><figcaption>সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান</figcaption></figure><p>সৌদি আরব বহু বছর ধরেই বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা দেশগুলোর একটি। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মতো এবারও দেশটি বৈশ্বিক তালিকার শীর্ষে। তাহলে প্রশ্ন দাঁড়ায়, কোন আইনে, কার বিবেচনায় আর কেমন আদালতে কোনো ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড ঠিক হয়? আর যুবরাজের বারবার দেওয়া সংস্কারের আশ্বাসই–বা গেল কোথায়?<br><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/9tt7u059dj" target="_blank">বিস্তারিত পড়ুন</a> :</p><h3>এমবাপ্পের জোড়া গোলে ঘরের ‘অহংকার’ তছনছ বার্সার</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-25/ou5nf1rn/4541.jxl"><figcaption>দ্বিতীয় গোলের পর এমবাপ্পের উদ্যাপন</figcaption></figure><p>লা লিগায় বার্সেলোনার জয়রথ থামালেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ক্যাম্প ন্যুতে তাঁর জোড়া গোলে মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোয় ২-১ গোলে জিতেছে রিয়াল মাদ্রিদ। লিগে টানা ৯ ম্যাচ জয়ের পর এটাই বার্সার প্রথম হার। তাতে রিয়ালকে পেছনে ফেলে হলো না লা লিগায় সেরা শুরুর নতুন রেকর্ড।<br><a href="https://www.prothomalo.com/sports/football/b49m9a95jl" target="_blank">বিস্তারিত পড়ুন</a>:</p><h3>পরীমনির জন্য উড়োজাহাজে ফুল পাঠালেন কে? জয়ের প্রশ্নে নায়িকার জবাব</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-25/3qbl1yoq/WhatsApp-Image-2026-10-24-at-22.21.37.jpeg"><figcaption>পরীমনি</figcaption></figure><p>জন্মদিনে চট্টগ্রাম থেকে উড়োজাহাজে করে চিত্রনায়িকা পরীমনির জন্য শিউলি ফুল পাঠিয়েছেন কেউ একজন। শনিবার রাতে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে অভিনেত্রী নিজেই এমন উপহার পাওয়ার কথা জানান। তবে ফুল পাঠানো ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করেননি। এর পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়। রোববার দিনভর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলে আলোচনা। কে সেই ব্যক্তি, যিনি পরীমনির জন্য এত দূর থেকে উড়োজাহাজে শিউলি ফুল পাঠালেন?<br><a href="https://www.prothomalo.com/entertainment/dhallywood/m4oqlfxp49" target="_blank">বিস্তারিত পড়ুন</a></p>
২০১৯ সালে নেপালে অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়ান গেমসে (এসএ গেমস) বাংলাদেশ আর্চারি দল ১০টি ইভেন্টের সব কটিতেই সোনা জিতেছিল, যা এখনো দেশের আর্চারিতে অনন্য এক রেকর্ড হয়ে আছে।
প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় হাজার মানুষ এই প্ল্যাটফর্ম থেকে সেবা নেন। ফলে ওয়েবসাইটটি বন্ধ থাকায় এসব সেবা নিতে আসা মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।
পুলিশ সদর দপ্তর বলেছে, আইজিপি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তি দেওয়ার অর্থে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব্যবহার করেননি।
<p>মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রেলের ২৫ হাজার ৮৩ একর জমি ইজারা দেওয়া হয়েছে। ইজারা থেকে গত অর্থবছরে আয় হয়েছে ৮৭ কোটি ৭২ লাখ টাকা।</p><p>বাংলাদেশ রেলওয়ের মোট ৬৩ হাজার ৭২ একর জমি আছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ২৪ একর জমি বেদখলে। আজ সোমবার রেলপথ মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বেদখলে থাকা জমি উদ্ধারে কার্যক্রম চলছে।</p><p> সংসদীয় কমিটির সূত্র জানায়, ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বৈঠকে রেলওয়ের জমি–সম্পর্কিত তথ্য চেয়েছিল সংসদীয় কমিটি। আজকের বৈঠকে এ–সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরা হয়। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রেলের ২৫ হাজার ৮৩ একর জমি ইজারা দেওয়া হয়েছে। ইজারা থেকে গত অর্থবছরে আয় হয়েছে ৮৭ কোটি ৭২ লাখ টাকা।</p><p>মন্ত্রণালয় জানায়, আবেদনের ধরন অনুযায়ী ভূমি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুযায়ী বেলওয়ের অব্যবহৃত জায়গা লিজ বা লাইসেন্সের মাধ্যমে পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। বেদখল জমি উদ্ধার এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদপ্রক্রিয়া চলছে। সুষ্ঠু ভূমি ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে সম্প্রতি রেলওয়ে স্টেট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারের ব্যবহার শুরু হয়েছে। এটি অব্যবহৃত জায়গায় পরিকল্পিত ভূমির ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং বেদখল জমি উদ্ধারে বিশেষ সহায়ক হবে।</p><p>বৈঠকে জানানো হয়, বাংলাদেশ রেলওয়ের ভূসম্পত্তি বিভাগ পশ্চিমাঞ্চলের আওতাধীন পাকশী ও লালমনিরহাট বিভাগে বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি করা হবে। আগামী তিন মাসের মধ্যে বেদখল হওয়া জমি চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে অবৈধ স্থাপনা অপসারণের ব্যবস্থা করা হবে। অন্যদিকে পশ্চিমাঞ্চলের আওতাধীন জেলাগুলোর জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে রেলভূমিতে সম্ভাব্য সংঘটিত মাদক–সংশ্লিষ্ট অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।</p><p>সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকে অনলাইনে রেলের টিকিট বিক্রি নিয়ে আলোচনা হয়। ই–টিকিটে কালোবাজারি বন্ধ করতে যাত্রার ১০ দিন আগে একই দিনে সব টিকিট অনলাইনে না ছেড়ে প্রতিদিন ১০ শতাংশ করে টিকিট ছাড়ার পরামর্শ দেন একজন সদস্য।</p><p>বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে রেলওয়ের মোট জমি, ইজারাকৃত জমি, ইজারাকৃত আয়, অবৈধ দখলকৃত জমি এবং ভূমি–সংক্রান্ত মামলাবিষয়ক প্রতিবেদন দেওয়া হয়। অনলাইন রেল টিকেটিং ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নেওয়া পদক্ষেপ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।</p><p>বৈঠকে জানানো হয়, চট্টগ্রাম বন্দর-ঢাকা রুটে নিয়মিত কনটেইনার পরিবহন করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন গন্তব্যে জ্বালানি ও খাদ্যশস্য পরিবহন চলমান রয়েছে। তবে বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে মিটারগেজ লোকোমোটিভের সংকট থাকায় মালবাহী ট্রেনের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ৩০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের জন্য প্রকল্পের ডিপিপি অনুমোদিত হয়েছে। এ ছাড়া এর আগে অনুমোদিত ৩০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। আগামী ২০২৯ সালে মোট ৬০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহ করা হলে কনটেইনার, জ্বালানি ও খাদ্যশস্যসহ অন্যান্য মালবাহী ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।</p><p>মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে জানানো হয়, শিগগির রেলওয়ের বহরে ২০০টি ব্রডগেজ কোচ পর্যায়ক্রমে যুক্ত হবে। এরই মধ্যে ১৮টি কোচ এসেছে। ব্রডগেজ কোচ পাওয়া সাপেক্ষে মোংলা-ঢাকা রুটে ট্রেন পরিচালনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।</p><p>বৈঠকে জানানো হয়, বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের অনলাইন টিকিট বিক্রি ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান সহজ ডটকম। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে রেলওয়ের সঙ্গে সহজ ডটকমের চুক্তি শেষ হওয়ার আগেই অনলাইন টিকিট ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে ভেন্ডর নিয়োগের জন্য নতুন দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।</p><p>কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলি আসগারের সভাপতিত্বে কমিটির সদস্যদের মধ্যে বৈঠকে অংশ নেন রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, আবদুল মহিত তালুকদার, ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো ও মুহাম্মাদ আজীজুর রহমান।</p>
<p> ‘নবম ড্যাফোডিল ক্যাপ্টেনস কাপ গলফ টুর্নামেন্ট ২০২৬’–এর সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে গতকাল রোববার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) রাজধানীর কুর্মিটোলা গলফ ক্লাব, ঢাকা সেনানিবাসে। অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে টুর্নামেন্টে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। পুরস্কার বিতরণ শেষে প্রধান অতিথি এ ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন দেশের গলফ অঙ্গনের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং এই আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।</p><p>এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করে এস এম আব্দুল্লাহ ফারাবী উইনার, কমোডর এ কে এম আফজাল হোসেন, বিএন, রানারআপ এবং মিসেস হাইজং উম লেডিস উইনার এবং আকিব আরাফাত খান ম্যান রেগুলার ব্যাক নাইন উইনার হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/g8dbe5hd/17.jpg"></figure><p>সমাপনী অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর কোয়ার্টারমাস্টার জেনারেল ও কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হক ওএসপি, বিএসপি, এনডিসি এবং টুর্নামেন্টের স্পন্সর ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক এম আর কবির, কুর্মিটোলা গলফ ক্লাব ও ড্যাফোডিল গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী গলফার ও তাঁদের পরিবার এবং আমন্ত্রিত অতিথিসহ গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।</p>
<p>রাজধানীর কাকরাইলে গত শতাব্দীর শেষ দিকে চালু হয় কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি শপিং কমপ্লেক্স। তখনকার সময়ে অভিজাত এই বিপণিবিতানে জামা, জুতা, প্রসাধনী, জুয়েলারিসহ বিভিন্ন পণ্য কিনতে মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চবিত্তরা ভিড় করতেন। তবে সময়ের ব্যবধানে নানা কারণে ক্রেতা হারাতে থাকে বিপণিবিতানটি। বেচাবিক্রি এতটাই কমে যায় যে দোকানমালিকেরা ১ অক্টোবর বিপণিবিতানটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেন।</p><p> গতকাল সোমবার বিকেলে সরেজমিনে কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি শপিং কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, মূল ফটকের শাটার বন্ধ। তার ওপরে একটি পিভিসি ব্যানার ঝুলছে, ‘১ অক্টোবর হতে শপিং কমপ্লেক্স বন্ধ থাকিবে’। বিপণিবিতানের ফটক বন্ধ থাকলেও দুই পাশের ছয়–সাতটি দোকান ও একটি এটিএম বুথ চালু রয়েছে। তার মধ্যে দুটি ফুড কোর্টে চার–পাঁচজন ক্রেতা দেখা গেল।</p><p>খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৯৮ সালে ২০তলা ভবনের বেজমেন্ট ও ৪ তলা নিয়ে চালু হয় কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি শপিং কমপ্লেক্স। ভবনের বাকি তলায় ছিল অ্যাপার্টমেন্ট। কর্ণফুলী গ্রুপের নির্মাণ করা বিপণিবিতানের ১৯৮টি দোকানের মালিকানা কিনে নিয়েছিলেন ১২৫ জন ব্যবসায়ী। এখন ক্রেতা না থাকায় দোকানমালিকেরা সর্বসম্মতিক্রমে বিপণিবিতানটি বন্ধ করার পাশাপাশি মালিকানা বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।</p><p>কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি শপিং কমপ্লেক্স দোকান মালিক সমবায় সমিতির নেতারা জানান, বিপণিবিতানটিতে শুরুতে তৈরি পোশাক, জুতা, প্রসাধনী, টেইলার্স, জুয়েলারিসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রির দোকান ছিল। চতুর্থ তলায় ছিল ফুড কোর্ট। ১৯৮টি দোকান থাকলেও বন্ধ হওয়ার আগে ২৫টি দোকান চালু ছিল।</p><h3>সরেজমিনে শপিং কমপ্লেক্স</h3><p>বিপণিবিতানের বাঁ পাশে কাচ্চি ভাই ও হট কেকের বিক্রয়কেন্দ্র। অন্যদিকে রেমন্ডের বিক্রয়কেন্দ্র। রেমন্ড বিক্রয়কেন্দ্রের কর্মকর্তা মো. মামুন বলেন, ‘মার্কেট বন্ধ হলেও আমাদের দোকানের মালিক এখনো নোটিশ দেননি। নোটিশ দিলে আমাদের চলে যেতে হবে।’</p><p>রেমন্ডের পাশে জ্ঞান বিচিত্রা নামের একটি কফিশপের মালিক জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মার্কেট বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে ব্যবসা ভালো চলছে না। আগামী মাসে আমরাও দোকান ছেড়ে দেব।’</p><p>অন্যদিকে সুমি’স হটকেক বিক্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান বললেন, ‘আমাদের দোকানের মালিক এখনো কিছু জানাননি। ফলে আমরা থাকব নাকি ছাড়ব, সেটি এখনো নিশ্চিত না।’ বিপণিবিতানটির ব্যবসা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বললেন, অনেক দিন ধরেই ক্রেতাশূন্য ছিল বিপণিবিতানটি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/xtmhuveq/Karnafuli-Garden-City-2.jpg"><figcaption>রাজধানীর কর্ণফুলী গার্ডেন সিটির প্রধান ফটক বন্ধ। আজ দুপুরে তোলা ছবি</figcaption></figure><h3>যে কারণে বন্ধ হলো বিপণিবিতানটি</h3><p>১০ বছরের বেশি সময় ধরে বিপণিবিতানটির বেচাবিক্রি ধীরে ধীরে কমতে থাকে বলে জানালেন কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি শপিং কমপ্লেক্স দোকান মালিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাকীবিল্লাহ ওসমানী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, মূলত তিন–চারটি কারণে শপিং মলটি ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়েছিল। তাই দোকানমালিকেরা সবাই মিলেই মালিকানা বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।</p><p>বাকীবিল্লাহ ওসমানী আরও জানান, গত দশকে মগবাজার–মালিবাগ উড়ালসড়ক নির্মাণের সময় তীব্র যানজটের কারণে বিপণিবিতানটিতে ক্রেতাসমাগম ব্যাপকভাবে কমে যায়। তখন বেশ কয়েকজন দোকানমালিক আশপাশের বিভিন্ন মার্কেটে অস্থায়ীভাবে দোকান সরিয়ে নেন। তবে উড়ালসড়কের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর তাঁরা নতুন জায়গা ছেড়ে আর ফেরেননি। পরবর্তী সময়ে মহামারি করোনাভাইরাসের ধাক্কায় শতাধিক দোকান বন্ধ হয়ে যায়। সেগুলোও পরে আর চালু হয়নি। তা ছাড়া মার্কেটে থাকা বেশ কিছু প্রসাধনীর দোকানে মানহীন পণ্য বিক্রির অভিযোগেও বিপণিবিতানের সুনাম নষ্ট হয়।</p><p>দোকানমালিক সমিতির এই নেতা বলেন, ‘আমরা মার্কেটের জায়গা বিক্রি করতে হাসপাতাল, ব্যাংক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছি। শিগগিরই বিক্রির বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে যাবে।’</p><p>কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণ করেছিল কনর্ফুলী গ্রুপ। এই গ্রুপের মালিকানায় আছেন সাবেক পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী।</p>
<p>জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব এখন থেকে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (আইআরডি) ভারপ্রাপ্ত সচিব থেকে সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।</p><p> আজ সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের কথা জানানো হয়।</p><p> চার মাস আগে এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান আহসান হাবিব। তাঁকে রাষ্ট্রপতির ১০ শতাংশ কোটায় সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁকে এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পরিবর্তনে চেয়ারম্যান করা হয়।</p><p>প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, অবসরে যাওয়ার আগে তাঁকে নিজ ক্যাডারে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।</p><p>এর আগে গত ২৯ জুন এনবিআরের নতুন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন আহসান হাবিব। সে সময় তিনি এনবিআরের কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর এ নিয়োগের মাধ্যমে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এনবিআর কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হলো।</p><p>আহসান হাবিব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ১৫তম বিসিএস কর ক্যাডারের কর্মকর্তা।</p>
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”