<p>খালি চোখে প্রায় দেখাই যায় না, এমন সব খুদে জীবের ছবি তোলেন <strong>কুতুব উদ্দিন</strong>। তেমনই এক জাতের অণুজীব স্লাইম মোল্ডের ছবি তুলে এবার জিতেছেন ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার অব দ্য ইয়ার প্রতিযোগিতার পোর্টফোলিও পুরস্কার। যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এই বাংলাদেশির গল্প শোনাচ্ছেন <strong>সজীব মিয়া</strong></p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-22/yfuewns8/828469173_3000285133636318_521857339827911949_n.png"><figcaption>কুতুব উদ্দিনের পুরস্কারজয়ী সিরিজের ছবিটির নাম ‘টাইনি ড্যান্সার’ বা ‘খুদে নৃত্যশিল্পী’</figcaption></figure><p>কুতুব উদ্দিনের পুরস্কারজয়ী গুচ্ছ ছবিগুলোর নাম ‘সিক্রেট ওয়ার্ল্ড’। ছয়টি ছবিতে উঠে এসেছে স্লাইম মোল্ডের প্রজননকাঠামো। স্লাইম মোল্ড ছত্রাকের মতো দেখতে একধরনের জীব, যা পচা কাঠসহ আর্দ্র পরিবেশে জন্মে। এদের আকার মাত্র ১ থেকে ২ মিলিমিটার। খালি চোখে সহজে নজরে পড়ে না। ম্যাক্রো লেন্সের সাহায্যে এদের সূক্ষ্ম গঠন, রং ও বিন্যাস ক্যামেরায় ধরেছেন কুতুব। </p><p>সিরিজের একটি ছবির নাম ‘টাইনি ড্যান্সার’ বা ‘খুদে নৃত্যশিল্পী’। হলুদাভ পিচ্ছিল স্তরের ওপর দাঁড়িয়ে আছে সরু লালচে-বাদামি ডাঁটা। প্রতিটির মাথায় হলুদাভ গোলাকার অংশের ওপর ছড়িয়ে আছে কালো ছোপ। পচা কাঠের ওপর জন্মানো স্লাইম মোল্ডগুলোকে দেখে মনে হয় যেন নাচছে। </p><p>আরেকটি ছবির নাম ‘আ ওয়ার্ল্ড ইন মিনিয়েচার’ বা ‘ক্ষুদ্র এক জগৎ’। এতে ফুটে ওঠা স্লাইম মোল্ডটি শর্ষের দানার সমান। দেখতে অনেকটা বনসাই করা গাছের মতো, মাথায় যেন ফুটে আছে সাদা ফুল। </p><p>২০২৬ সালে ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের ৬২তম ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার অব দ্য ইয়ার প্রতিযোগিতার পোর্টফোলিও বিভাগে বিজয়ী হয়েছেন তিনি। ইংল্যান্ডের পশ্চিম সাসেক্সের বিভিন্ন জায়গায় ছবিগুলো তোলা। </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-22/5geekp6f/648445579_35300696566184112_4135769761144701262_n.jpg"><figcaption>ফুটে ওঠা স্লাইম মোল্ডটি শর্ষের দানার সমান</figcaption></figure><h3>শখ থেকে পেশাদার আলোকচিত্রী</h3><p>২০১২ সালে জন্মদিনে কুতুব উদ্দিনকে একটি ডিজিটাল ক্যামেরা উপহার দিয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী জমিলা পারভিন। সেই শুরু। প্রথম দিকে প্রজাপতি, মৌমাছি, ফুল, পাখি ও আশপাশের প্রকৃতির ছবি তুলতেন। তখনো আলোকচিত্র ছিল শখের বিষয়। উদ্দেশ্য ছিল সুন্দর ছবি তোলা। একটি কুরিয়ার সার্ভিসে ডেলিভারি ম্যানের কাজ করতেন, পাশাপাশি চালিয়ে গেছেন আলোকচিত্রে দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা। বিভিন্ন লেখা পড়ে, ইউটিউবে অন্য আলোকচিত্রীদের কাজ দেখে নিজের মতো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে শিখেছেন ছবি তোলার কৌশল। </p><p>ছবি তুলতে তুলতেই প্রকৃতিকে কাছ থেকে দেখার আগ্রহ বাড়ে। ধীরে ধীরে বুঝতে পারেন, আলোকচিত্র শুধু সুন্দর দৃশ্য ধরে রাখার মাধ্যম নয়, এর সাহায্যে এমন গল্পও বলা যায়, যা মানুষের অজানা। একসময় ছবি তোলাকে পেশা হিসেবে এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ২০১৮ সাল থেকে পেশাদার আলোকচিত্রী হিসেবে কাজ শুরু করেন কুতুব। ছবি বিক্রি, আলোকচিত্রের কর্মশালা পরিচালনা এবং অন্যদের ছবি তোলা শেখানোর মাধ্যমে ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন নিজের পরিচিতি। তবে শখকে পেশায় পরিণত করাটা সহজ ছিল না। কুতুবের ভাষায়, ‘নিজের ভালোবাসার কাজকে পেশা হিসেবে নিতে পারাকে আমি সৌভাগ্য মনে করি। তবে শুধু ভালো ছবি তুলতে পারলেই হয় না। নিজের কাজের প্রচার, গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ব্যবসার দিকটিও সামলাতে হয়।’ </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-22/gvu3k70z/473368829_29140524998867997_8790853939103816248_n.jpg"><figcaption>যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশি কুতুব উদ্দিন</figcaption></figure><h3>ক্ষুদ্র জগতের প্রতি মুগ্ধতা</h3><p>প্রকৃতির নানা ধরনের ছবি তুলতে তুলতেই ম্যাক্রো ফটোগ্রাফির প্রতি আগ্রহ। ছোট্ট একটি পোকামাকড়ের শরীর, চোখ কিংবা পায়ের সূক্ষ্ম গঠন ক্যামেরায় দেখে মুগ্ধ হয়েছেন তিনি। আর এখন তো সামাজিক মাধ্যমে নিজেকে ‘ম্যাক্রোম্যান’ পরিচয় দেন কুতুব, ‘ম্যাক্রো ফটোগ্রাফির প্রতি ভালোবাসা থেকেই এই নাম। ছোট ছোট পোকামাকড়, ছত্রাক, স্লাইম মোল্ড এবং তাদের সূক্ষ্ম গঠন আমার আগ্রহের বিষয়।’ ছত্রাকের এমন সব গঠনও তাঁর চোখে পড়ে, সাধারণভাবে যা দেখা সম্ভব না। </p><p>কুতুবের কাছে ম্যাক্রো ফটোগ্রাফির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ, পরিচিত পৃথিবীকে নতুনভাবে দেখা যায়। আমরা প্রতিদিন জঙ্গলে হাঁটি, গাছের গুঁড়ি দেখি, শুকনো পাতার ওপর দিয়ে চলি। কিন্তু সেই কাঠের ওপর কিংবা পাতার নিচে কী ঘটছে, অনেক সময় তা খেয়াল করি না। ম্যাক্রো লেন্সে সেই ক্ষুদ্র জগৎ সামনে চলে আসে। কোনো কোনো জীবের গঠন দেখে মনে হয়, যেন অন্য কোনো গ্রহের প্রাণী। </p><p>এই জগৎ আবিষ্কার করতে কুতুব উদ্দিনকে খুব দূরে যেতে হয় না। পশ্চিম সাসেক্সে তাঁর বাড়ির কাছেই মনোরম বন স্লিন্ডন উডস। এ ছাড়া পুলবরো ব্রুকস, হেসওর্থ কমনসহ আশপাশের বিভিন্ন বনভূমিতেও তিনি যান। বিশেষ করে বৃষ্টির পর ভেজা জঙ্গলে যেতে পছন্দ করেন। আর্দ্র পরিবেশে স্লাইম মোল্ড ও বিভিন্ন ধরনের ছত্রাক খুঁজে পাওয়ার সুযোগ বেশি। </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-22/mkk54tcq/648465575_35300175582902877_7625322797091793255_n.jpg"><figcaption>গাছের ডালে গাঢ় বেগুনি রঙের স্লাইম মোল্ড</figcaption></figure><p>ছবি তোলার জন্য ক্যানন আর ৫ ক্যামেরা ও ক্যানন এমপি-ই ৬৫ মিলিমিটার ম্যাক্রো লেন্স ব্যবহার করেন কুতুব। এই লেন্স দিয়ে এক থেকে পাঁচ গুণ পর্যন্ত বড় করে ছবি তোলা যায়। আলোর নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করেন ছোট এলইডি বাতি ও ডিফিউজার। ছবি তোলার পর বিভিন্ন ফোকাস পয়েন্টে ধারণ করা ছবিগুলো জেরিন স্ট্যাকার সফটওয়্যারে একত্র করেন। ভালো একটি ছবির জন্য কখনো ৫০, ১০০ কিংবা তারও বেশি ছবি তুলতে হয়। তাঁর একটি পুরস্কারজয়ী ছবির জন্য ব্যবহার করতে হয়েছিল ১২৪টি ছবি। </p><p>কুতুব উদ্দিন বলেন, ‘তবে সরঞ্জামের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ধৈর্য ও পর্যবেক্ষণ। জঙ্গলে গিয়ে শুধু সামনে তাকিয়ে হাঁটি না। মাটির কাছাকাছি, গাছের গুঁড়ি, পচা কাঠ, পাতার নিচে এবং ভেজা জায়গায় মনোযোগ দিয়ে খুঁজি। কোথায় আর্দ্রতা বেশি, কোথায় কাঠ পচছে, কোথায় ক্ষুদ্র জীবের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ রয়েছে, এসব লক্ষ করি।’ </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-22/vssxzt0d/649195238_35304487005805068_2966142661699694364_n.jpg"><figcaption>ছবিগুলো লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে প্রদর্শিত হচ্ছে</figcaption></figure><h3>জীবের নাম স্লাইম মোল্ড</h3><p>২০২৪ সালের অক্টোবরের দিকে স্লাইম মোল্ড নিয়ে কাজ শুরু করেন কুতুব উদ্দিন। অ্যালিসন নামের এক আলোকচিত্রীর ইউটিউব ভিডিও ও ইনস্টাগ্রামে তাঁর কাজ দেখে বিষয়টির প্রতি আগ্রহী হন। এরপর স্লাইম মোল্ড খুঁজে বের করা, ছবি তোলা এবং এদের জীবনচক্র সম্পর্কে জানার পেছনে সময় দিতে শুরু করেন। ২০২৫ সালের প্রায় পুরোটা সময় এদের নিয়ে কাজ করেছেন কুতুব। জঙ্গলে ঘুরেছেন, তাদের জীবনচক্র বোঝার চেষ্টা করেছেন, তুলেছেন ছবি। সেই দীর্ঘ অনুসন্ধানেরই স্বীকৃতি এনে দিয়েছে এই ছয় ছবি। ২০২৫ সালেও ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার অব দ্য ইয়ার প্রতিযোগিতায় তাঁর একটি ছবি ‘হাইলি কমেন্ডেড’ স্বীকৃতি পেয়েছিল। আর এবার পোর্টফোলিও বিভাগে বিজয়ী হওয়া তাঁর কাজের নতুন অধ্যায়। </p><p>তাঁর পুরস্কারজয়ী ছবিগুলো এখন লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে প্রদর্শিত হচ্ছে। কুতুব উদ্দিন বলেন, ‘ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে নিজের ছবি প্রদর্শিত হতে দেখা অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের দর্শক ছবিগুলো দেখছেন। দর্শনার্থীদের অনেকে স্লাইম মোল্ড সম্পর্কে জানতেন না। অনেকে জানতে চান, এটা কী কিংবা কীভাবে এমন ছবি তোলা সম্ভব। দর্শকদের প্রশ্ন শুনে নিজের কাজ সার্থক বলে মনে হয়।’ </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-22/uvvdw9l5/kutub.jpg"><figcaption>কুতুব উদ্দিনের কাছে বন্য প্রাণীর আলোকচিত্র মানেই শুধু বাঘ, সিংহ কিংবা বড় প্রাণীর ছবি নয়</figcaption></figure><p>কুতুব চান, তাঁর ছবি দেখে মানুষ শুধু সৌন্দর্য উপভোগ করবেন না, প্রকৃতির ক্ষুদ্র অথচ গুরুত্বপূর্ণ জীবগুলো সম্পর্কেও জানতে আগ্রহী হবেন। বন্য প্রাণীর আলোকচিত্র মানেই শুধু বাঘ, সিংহ কিংবা বড় প্রাণীর ছবি না। ক্ষুদ্র জীবও অসাধারণ গল্প বলতে পারে। </p><h3>শিকড়ের টান</h3><p>কুতুব উদ্দিনের জন্ম মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায়। পড়াশোনার জন্য ২০০৯ সালে যুক্তরাজ্যে যান তিনি। ভাইবোনসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা দেশে থাকেন। মাকে আগেই হারিয়েছিলেন, কয়েক মাস আগে মারা গেছেন তাঁর বাবা। </p><p>আগামী বছর বাংলাদেশে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। এবার তাঁর বিশেষ আগ্রহ দেশের প্রকৃতিতে স্লাইম মোল্ড ও অন্যান্য ক্ষুদ্র জীব খুঁজে সেগুলোর ছবি তোলা। কুতুব উদ্দিন বলেন, ‘এমন কিছু প্রজাতি রয়েছে, যেগুলো বাংলাদেশে পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু যুক্তরাজ্যে খুঁজে পাইনি। তাই দেশে ফিরে সেগুলো আবিষ্কার করতে চাই।’ </p><p>পশ্চিম সাসেক্সের বিভিন্ন বনভূমিতে অর্জিত অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের প্রকৃতিতে কাজে লাগাতে চান তিনি। </p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/x8fp4s2el0">বিশ্বের সবচেয়ে বড় পাখির আলোকচিত্র প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ২৫টি ছবি দেখুন</a></aside>
ধুলাবালু, বায়ুদূষণ ও রোদে ত্বক নিষ্প্রভ হয়ে যেতে পারে। দেখা দিতে পারে শুষ্কতা, লালচে ভাব ও সূক্ষ্ম রেখা। সংবেদনশীল ত্বকে এসব সমস্যা আরও বেশি হতে পারে। তাই ত্বকের যত্নে সকালে প্রয়োজন সুরক্ষা, আর রাতে ত্বক পরিষ্কার করে আর্দ্রতা ধরে রাখা।
দ্রুতগতির রেসিং কার নিয়ে ট্র্যাকে ছুটছেন বিভিন্ন দেশের নারী রেসাররা। কারও চোখ সামনে এগিয়ে যাওয়ার, কেউ ব্যস্ত প্রতিদ্বন্দ্বীকে পেছনে ফেলতে।
কনকর্ড গ্রুপের এমডি শাহরিয়ার কামাল বলেন, কর্মীদের জন্য শুধু কর্মক্ষেত্র নিশ্চিত করাই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়; জীবনের অনিশ্চয়তা মোকাবিলায়ও তাঁদের পাশে থাকা জরুরি।
<p>জর্ডানের একটি গির্জায় বন্দুকধারীর হামলায় সাতজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৪০ জন। বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে…</p><figure></figure>
<p>খাওয়ার সময় পাশে পছন্দের গান বাজলে কি খাবার বেশি সুস্বাদু হয়ে ওঠে? অনেকে খেতে খেতে গান শোনেন। কেউ খাচ্ছেন আর ব্যাকগ্রাউন্ডে সংগীত বা মিউজিক বেজে চলেছে; তাতে কি খাবারের স্বাদ বেড়ে যায়? যুগ যুগ ধরে মানুষের মনে এ কৌতূহল থাকলেও এর পক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক যুক্তি বা প্রমাণ মানুষের হাতে ছিল না। তবে এখন আছে!</p><p>কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয় ও আরহাস বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক সংগীতের সঙ্গে স্বাদের সম্পর্কের জৈবিক ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পেয়েছেন। গত জুনে তাঁদের গবেষণার ফলাফল বিখ্যাত বিজ্ঞান জার্নাল সায়েন্টিফিক রিপোর্টসে প্রকাশিত হয়েছে।</p><p>এতে গবেষকেরা বলছেন, স্বাদ কেবল খাবারের নিজস্ব কোনো গুণ বা বৈশিষ্ট্য নয়। স্বাদ এমন একটি অনুভূতি যা মস্তিষ্কের মাধ্যমে তৈরি হয়। এ নতুন জ্ঞান রেস্তোরাঁ, ক্যানটিন, হাসপাতালসহ নানা জায়গায় খাওয়ার মান ও অভিজ্ঞতাকে উন্নত করার কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।</p><blockquote>গবেষণায় ৪৮ জন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক অংশগ্রহণকারী অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের নিউরো–ইমেজিং বা মস্তিষ্কের স্ক্যান ডেটা সংগ্রহ করা হয়।</blockquote><p>গবেষণা প্রবন্ধে বলা হয়েছে, খাবার খাওয়া মানুষের অন্যতম মৌলিক ও বহু–ইন্দ্রিয়ভিত্তিক অভিজ্ঞতা। স্বাদ কেবল জিহ্বার কাজ নয়। বরং এটি গন্ধ, দৃষ্টি, স্পর্শ ও শ্রবণেন্দ্রিয়ের যৌথ অনুভূতির ফসল। এর আগের কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে শব্দের সঙ্গে স্বাদের একটি সুনির্দিষ্ট মিল বা সংযোগ রয়েছে, যেমন উচ্চ পিচ বা সুরের সংগীত মিষ্টির ভাব বাড়াতে পারে। কিন্তু মানুষের মস্তিষ্ক কীভাবে শব্দ ও স্বাদকে একসঙ্গে প্রক্রিয়াজাত করে এবং সংগীত কীভাবে মস্তিষ্কের ভেতরে স্বাদের অনুভূতিকে প্রভাবিত করে, তা এত দিন অজানাই ছিল। গবেষকেরা মূলত এই স্নায়বিক বা নিউরাল মেকানিজম উদ্ঘাটন করতেই এ গবেষণা পরিচালনা করেছেন।</p><h3>গবেষণাপদ্ধতি </h3><p>গবেষণায় ৪৮ জন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক অংশগ্রহণকারী অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের নিউরো–ইমেজিং বা মস্তিষ্কের স্ক্যান ডেটা সংগ্রহ করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা যখন স্ক্যানারের ভেতরে শুয়ে ছিলেন, তখন বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তাঁদের মস্তিষ্কের সক্রিয়তা পরিমাপ করা হয়। গবেষণায় কিছু আধুনিক প্রযুক্তি ও পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল অডিটরি স্টিমুলি, টেস্ট স্টিমুলি, এমআরআই ও এফএমআরআই, গাস্টোমিটার ও নয়েজ-ক্যানসেলিং হেডফোন।</p><blockquote>এফএমআরআই স্ক্যান করে দেখা গেছে, মানুষ যখন শুধু স্বাদ নেওয়ার চেয়ে সংগীত শোনার সঙ্গে কোনো খাবার বা দ্রবণ গ্রহণ করে, তখন মস্তিষ্কের স্বাদ প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল অনেক জোরালোভাবে সাড়া দেয়। অর্থাৎ সংগীত মস্তিষ্কের ভেতরে স্বাদ গ্রহণের অনুভূতিকে বাড়িয়ে দেয়।</blockquote><p>গবেষণাটি তিনটি ধাপে পরিচালিত হয়।</p><p><strong>১. মিউজিক:</strong> টেস্ট ইন্টারঅ্যাকশন টাস্ক। এমআরআই স্ক্যানারে থাকা অবস্থায় অংশগ্রহণকারীদের একই সঙ্গে সংগীত শোনানো হয় এবং জিবে মিষ্টি বা টক দ্রবণ দেওয়া হয়। এখানে মোট চারটি ভিন্ন মিশ্রণ বা কম্বিনেশন পরীক্ষা করা হয়।</p><p><strong>২.মিউজিক ওনলি ও টেস্ট ওনলি টাস্ক:</strong> এ প্রক্রিয়ায় শুধু সংগীত শুনিয়ে এবং আলাদাভাবে স্বাদের দ্রবণ খাইয়ে মস্তিষ্কের পৃথক প্রতিক্রিয়া মাপা হয়।</p><p><strong>৩. আচরণগত মূল্যায়ন:</strong> স্ক্যান শেষ করার পর অংশগ্রহণকারীদের একটি আইপ্যাডের মাধ্যমে বিভিন্ন অনুপাতে তৈরি করা খাদ্যের দ্রবণ ও সংগীতের মিশ্রণে তাদের নিজস্ব অনুভূতি (স্বাদের তীব্রতা, পছন্দ বা প্রীতিকর ভাব এবং শব্দ ও স্বাদের সামঞ্জস্য) ৯-পয়েন্ট স্কেলে রেট করতে বলা হয়। প্রাপ্ত ফলাফলগুলো তুলনা করা হয়।</p><blockquote>আচরণগত ফলাফলে দেখা গেছে, মিষ্টি সংগীত শোনার সময় পরীক্ষামূলক দ্রবণগুলোর স্বাদ মানুষের কাছে অনেক বেশি প্রীতিকর বা আনন্দদায়ক মনে হয়েছে। অর্থাৎ সঠিক সংগীত মানুষের মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে যা পরোক্ষভাবে খাবারের অভিজ্ঞতাকে উন্নত করে।</blockquote><h3>গবেষণা ফলাফল </h3><p>গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল পাওয়া যায়। একটি হচ্ছে মস্তিষ্কের সক্রিয়তা বৃদ্ধি। অন্যটি হচ্ছে, খাবারের আকর্ষণ ও আনন্দ বৃদ্ধি।</p><p>এফএমআরআই স্ক্যান করে দেখা গেছে, মানুষ যখন শুধু স্বাদ নেওয়ার চেয়ে সংগীত শোনার সঙ্গে কোনো খাবার বা দ্রবণ গ্রহণ করে, তখন মস্তিষ্কের স্বাদ প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল অনেক জোরালোভাবে সাড়া দেয়। অর্থাৎ সংগীত মস্তিষ্কের ভেতরে স্বাদ গ্রহণের অনুভূতিকে বাড়িয়ে দেয়।</p><p>আচরণগত ফলাফলে দেখা গেছে, মিষ্টি সংগীত শোনার সময় পরীক্ষামূলক দ্রবণগুলোর স্বাদ মানুষের কাছে অনেক বেশি প্রীতিকর বা আনন্দদায়ক মনে হয়েছে। অর্থাৎ সঠিক সংগীত মানুষের মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে যা পরোক্ষভাবে খাবারের অভিজ্ঞতাকে উন্নত করে।</p><blockquote>কান ও জিহ্বা একে অপরের পরিপূরক। তাই বলা যেতে পারে, সঠিক সংগীত খাবারকে করে তুলতে পারে আরও বেশি আনন্দময় ও সুস্বাদু।</blockquote><h3>সাধারণ মানুষের কী লাভ </h3><p>বিজ্ঞানী বা গবেষক ছাড়াও এ গবেষণা থেকে অন্যদের সুফল পাওয়ার সুযোগ আছে। রেস্তোরাঁ বা ক্যাফেগুলো খাবারের মেনুর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংগীতের আয়োজন রাখতে পারে যা গ্রাহকদের খাওয়ার অভিজ্ঞতাকে আরও বেশি উপভোগ্য ও আকর্ষণীয় করে তুলবে। আবার বয়স্ক ব্যক্তি বা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন যেসব রোগীর খাওয়ার রুচি বা স্বাদ নেওয়ার ক্ষমতা কমে গেছে (যাঁরা পুষ্টিহীনতার ঝুঁকিতে আছেন), তাঁদের ক্ষেত্রে সঠিক বা অনুকূল সংগীত পরিবেশন করে খাওয়ার অভিজ্ঞতা ও পুষ্টি গ্রহণ উন্নত করা সম্ভব হতে পারে।</p><p>খাবারে অতিরিক্ত চিনি বা কৃত্রিম উপাদান না বাড়িয়েই শুধু সঠিক শব্দ বা সংগীতের পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে খাদ্যের স্বাদ ও মিষ্টির অনুভূতি বহাল রাখা বা বাড়িয়ে তোলা সম্ভব।</p><p>কান ও জিহ্বা একে অপরের পরিপূরক। তাই বলা যেতে পারে, সঠিক সংগীত খাবারকে করে তুলতে পারে আরও বেশি আনন্দময় ও সুস্বাদু।</p>
পোলার্ড ২০২৩ সাল থেকেই মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের ব্যাটিং কোচ। এর আগে দলটির হয়ে ২০১০ থেকে ২০২২—এই সময়ে খেলেছেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রাহকদের প্রিমিয়াম ও আকর্ষণীয় পেমেন্ট অভিজ্ঞতা প্রদানের লক্ষ্যে ভিসা সিগনেচার ক্রেডিট কার্ডটি আনা হয়েছে।
আজ শনিবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পল্টন থানার পুলিশ বলছে, যাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, তাঁর বয়স আনুমানিক ৪০ বছর।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন