গাড়ি আমদানিতে প্রস্তুত পায়রা সমুদ্রবন্দর

দেশে গাড়ি আমদানিতে নতুন ঠিকানা হতে যাচ্ছে পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্র বন্দর। গাড়ি বার্থিং, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য প্রস্তত করা হয়েছে অত্যাধুনিক অবকাঠামো।

সারা দেশ

View more
‘সাংবাদিকতা শিখিয়ে দেব’—সংবাদ সম্মেলনে এমপি তমিজ
‘সাংবাদিকতা শিখিয়ে দেব’—সংবাদ সম্মেলনে এমপি তমিজ

“এরপর যদি ধামরাইয়ের ব্যাপারে, রাজনৈতিক ব্যাপারে, বিএনপির বিপক্ষে একটি শব্দ উচ্চারণ করেন অন্যায়ভাবে, সাংবাদিকতা শিখিয়ে দিব, একদম সোজা কথা”, এমন মন্তব্য করেছেন ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনের সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন।

Video news
সারা বিশ্ব
ভারতে ৬৫০ বছরের পুরোনো শাহী মসজিদের অংশ কেন ভাঙতে চায় প্রশাসন?
ভারতে ৬৫০ বছরের পুরোনো শাহী মসজিদের অংশ কেন ভাঙতে চায় প্রশাসন?

হিন্দু ধর্মের মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে শাহী মসজিদের একটি অংশ সরিয়ে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়, আর তা নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মেলার সময় বাড়তি যানবাহনের চাপ ও ভক্তদের যাতায়াত সহজ করার জন্য ওই সড়ক প্রশস্ত করা জরুরি।

ভারতে সাবান-শ্যাম্পুর প্যাকেটেও নিরামিষের চিহ্ন দেওয়ার নির্দেশ
ভারতে সাবান-শ্যাম্পুর প্যাকেটেও নিরামিষের চিহ্ন দেওয়ার নির্দেশ

সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট প্যাকেটজাতে সংশোধন বিধি জারি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নির্দেশ নাঅনুযায়ী, কোনো প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান আমিষজাত না নিরামিষজাত, তা প্যাকেটের গায়ে নির্দিষ্ট চিহ্নের মাধ্যমে জানাতে হবে।

অর্থনীতি
পাচারকারীদের ফেলে যাওয়া পলিথিনে মিলল কোটি টাকার আইস
পাচারকারীদের ফেলে যাওয়া পলিথিনে মিলল কোটি টাকার আইস

সীমান্তবর্তী এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে পলিথিন ব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় একটি পিস্তল, এক রাউন্ড গুলি এবং এক কেজি ক্রিস্টাল মেথ ‘আইস’ উদ্ধার করেছে লালমনিরহাট বিজিবি ১৫ ব্যাটালিয়ন। উদ্ধারকৃত এসব অস্ত্র ও মাদকের আনুমানিক বাজার মূল্য ৫ কোটি ১ লাখ ২০০ টাকা।

'কেউ মামলা করেনি' - অজুহাতে পুলিশ কি দায়িত্ব এড়াতে পারে?
'কেউ মামলা করেনি' - অজুহাতে পুলিশ কি দায়িত্ব এড়াতে পারে?

ঢাকার মিরপুর এলাকায় বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নানান আলোচনা-সমালোচনা হতে দেখা যাচ্ছে।

জামালপুরে চোরাই মোটরসাইকেলসহ যুবদল নেতা গ্রেপ্তার
জামালপুরে চোরাই মোটরসাইকেলসহ যুবদল নেতা গ্রেপ্তার

জামালপুরে চোরাই মোটরসাইকেলসহ রবিউল হাসান সোহাগ নামে এক যুবদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

২৭ বছর আত্মগোপনে থাকা এরশাদ শিকদারের সহযোগী গ্রেপ্তার
২৭ বছর আত্মগোপনে থাকা এরশাদ শিকদারের সহযোগী গ্রেপ্তার

পরিচয় বদলে কখনও ভারত, কখনও কুয়েত, এভাবে প্রায় ২৭ বছর আত্মগোপনে ছিলেন জয়নাল সরদার (৫৫)। শেষ পর্যন্ত খুলনার সোনাডাঙ্গায় ধরা পড়লেন তিনি। 

তুষারঝড়ে ফিরে যায় দুই দল, থামেননি শাকিল
তুষারঝড়ে ফিরে যায় দুই দল, থামেননি শাকিল

চারদিকে শুধু সাদা আর সাদা। তুষারের ঘন পর্দা ভেদ করে কয়েক মিটারের বেশি সামনে দেখা যাচ্ছিল না। হিমশীতল বাতাস শরীরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল ঝড়ের গতিতে। পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুসমান নরম বরফে ডুবে যাচ্ছিল।

নীল দহন
নীল দহন

টরন্টো শহরের শীতের আলাদা এক ভাষা আছে।সেই ভাষা শব্দে নয়, তুষারে লেখা। জানালার ওপারে নিরবচ্ছিন্ন সাদা ঝরনা নেমে আসে, রাস্তার আলো কুয়াশা আর বরফের ভেতর ম্লান হয়ে যায়, আর মানুষ বুঝতে শেখে, পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর নীরবতাও কখনো কখনো খুব জোরে কথা বলে।সেদিনও তেমনই এক সন্ধ্যা।বাইরে মাইনাস দশ ডিগ্রি। ফায়ারপ্লেসে জ্বলতে থাকা আগুনের লালচে আলো ঘরের দেয়ালে ছায়া এঁকে দিচ্ছিল। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। আমরা তিনজন বসে গল্প করছিলাম।সায়েম ভাই, আমাদের কোম্পানির সিনিয়র লিড ইঞ্জিনিয়ার। প্রবাসে এসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যাদের ঘরে ঢুকলেই মনে হয় বহুদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরেছি। ভাবিও ঠিক তেমনই। তার আন্তরিকতা কখনো অতিথিপরায়ণতা বলে মনে হয় না; মনে হয় বড় বোনের মমতা।কফির কাপ নামিয়ে ভাবি হঠাৎ আমার দিকে তাকালেন।—নীল, একটা কথা বলব?মৃদু হেসে বললাম,—বলুন, ভাবি।—রাগ করবে না তো?—আপনার ওপর রাগ করার সাহস আমার নেই।তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—এত বছর হয়ে গেল। ক্যারিয়ার হয়েছে, নিজের অবস্থান হয়েছে। কিন্তু নিজের জন্য কী করলে? একা একা আর কত দিন? বিয়ে করার কথা কখনো ভাবো না?আমি হেসে বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলাম।—সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় নাকি, ভাবি?সায়েম ভাই চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন।—তোমার এই কথাটাই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। সারা দিন অফিসে তোমাকে দেখি। কাজে মন, বইয়ে মন, গিটার বাজাও, ভ্রমণ করো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, জীবন একেবারে গুছিয়ে নিয়েছ। অথচ দিনের শেষে তুমি একাই ফিরে যাও।একটু থেমে তিনি আবার বললেন,—কখনো কি কাউকে ভালোবেসেছিলে?ঘরটা হঠাৎ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।ফায়ারপ্লেসের কাঠে আগুন ফেটে ছোট্ট একটা শব্দ হলো।আমি উত্তর দিলাম না।জানালার ওপারে তাকিয়ে রইলাম। সাদা তুষারের ভেতর হঠাৎ ভেসে উঠল বহু বছরের পুরোনো আরেকটা আকাশ। অনেক দূরের একটা বিকেল। আমি ধীরে বললাম,—মানুষ কখনো কখনো একটা গল্প কাউকে বলে না। কারণ, গল্পটা বললে সে আবার সেই সময়ে ফিরে যায়।ভাবি মৃদুস্বরে বললেন,—আজ ফিরে যাও। আমরা শুনব।আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। কফির মগটা টেবিলে রেখে বললাম,—জানেন ভাবি, পৃথিবীর সব ভালোবাসা মিলনের গল্প নয়। কিছু ভালোবাসা শুধু নীরবে মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকে। কারও কাছে কোনো দাবি করে না, কোনো অধিকারও চায় না। শুধু মানুষটাকে সারা জীবন বদলে দেয়। আমার গল্পটাও তেমন।আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা। তখন ঢাকার উত্তরায় থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার পক্ষে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হতো না। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা, বাসাভাড়া আর খরচ চালাতাম। উত্তরার একটা পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠার ছোট্ট ঘর ছিল আমার ঠিকানা। ঘরটা বড় ছিল না। একটা খাট, একটা পড়ার টেবিল, বইয়ের তাক আর জানালার পাশে রাখা পুরোনো একটা গিটার। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল ছাদ।সন্ধ্যা নামার আগে পড়ন্ত রোদ যখন আকাশজুড়ে লালচে রং ছড়িয়ে দিত, আমি গিটার হাতে ছাদে উঠে যেতাম। কখনো বাজাতাম। কখনো বই পড়তাম। কখনো কিছুই করতাম না। শুধু আকাশ দেখতাম। হয়তো মানুষ একা থাকলে আকাশের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।ঠিক এমনই এক বিকেলে প্রথম তাকে দেখি। আমাদের পাশের ছয়তলা বাড়ির একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। অদ্ভুত শান্ত একটি মেয়ে। তার হাতে কোনো মোবাইল ছিল না। কোনো বইও নয়। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল।কিন্তু আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল তার চোখ। কিছু কিছু চোখ থাকে, যেগুলোকে সুন্দর বলা যায় না। কারণ, সুন্দর শব্দটা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।সেই চোখ দুটো যেন নিজের ভেতর একটা বিকেল লুকিয়ে রেখেছিল। আমি তার নাম জানতাম না। কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। নিজের মনেই একটা নাম দিয়েছিলাম—‘সুনয়না’।নামটা শুধু আমার ছিল। আমার কল্পনার। আমার নীরবতার। তার বাস্তব নাম কী ছিল, তখনো জানতাম না।তার পর থেকে প্রতিদিন বিকেলে আমি অপেক্ষায় থাকতাম। ছাদে উঠতাম। আর কিছুক্ষণ পর সে এসে দাঁড়াত সেই বারান্দায়।আমাদের মধ্যে কখনো কথা হয়নি। চোখাচোখিও খুব কম। তবু মনে হতো, বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের জীবন অদৃশ্য কোনো সেতুতে এসে মিলেছে।কখনো তাকে অনুসরণ করিনি। তার সম্পর্কে খোঁজ নিইনি। কারণ, দূরত্বেরও একটা সৌন্দর্য আছে। সব মানুষকে কাছে গিয়েই জানতে হয় না। কিছু মানুষ দূর থেকেই হৃদয়ের ভেতর জায়গা করে নেয়।এভাবেই কেটে গেল কয়েক মাস। একদিন বিকেলে ছাদে উঠে দেখলাম, বারান্দাটা ফাঁকা। ভাবলাম, হয়তো কোথাও গেছে।পরদিনও এল না।তারপর আরও এক দিন।এক সপ্তাহ।এক মাস।ঋতু বদলে গেল।আকাশের রং বদলে গেল। কিন্তু সেই বারান্দায় আর কাউকে দেখা গেল না। বুঝলাম, কিছু অপেক্ষার কোনো উত্তর হয় না।তারপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ এসে গেল। পড়াশোনা, প্রজেক্ট, ইন্টারভিউ—জীবন অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করল। তবু মাঝেমধ্যে বিকেলের আকাশ দেখলে মনে হতো, কোথাও যেন একটা বারান্দা এখনো খালি দাঁড়িয়ে আছে। আর সেখানে কেউ একজন আর কখনো ফিরে আসবে না।অফিসে যোগ দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথমবার তার সঙ্গে কথা হলো।সেদিন দুপুরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কাচঘেরা অফিসের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো লম্বা দাগ টেনে নিচে নেমে আসছিল। ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এক কাপ কফি হাতে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পাশে এসে কেউ বলল,—এই সিটটা খালি?মুখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতরটা অকারণ ধক করে উঠল।সে।উত্তরার সেই বারান্দার মেয়েটি।আমি সামান্য হাসলাম।—অবশ্যই।সে বসে কফির কাপ নামিয়ে বলল,—আমি নতুন। এখনো কাউকে তেমন চিনি না।—আমিও খুব পুরোনো নই।সেদিনের কথোপকথন ছিল খুব সাধারণ। অফিস, কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার যানজট; এর বেশি কিছু নয়। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে কোনো আয়োজন লাগে না। যেন বহুদিনের চেনা।তার নাম জানলাম, সুস্মিতা।আমি নামটা মনে রাখলাম। তবু নিজের ভেতরে সে রয়ে গেল অন্য নামে—‘সুনয়না’।এরপর ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়ল।অফিস শেষে মাঝেমধ্যে সবাই মিলে চা খেতে যেতাম। কোনো প্রজেক্ট শেষ হলে পুরো টিম রাত পর্যন্ত কাজ করত। সেই সব দীর্ঘ সন্ধ্যায় সুস্মিতাকে নতুন করে চিনতে শুরু করলাম।সে খুব কম কথা বলত। অকারণ হাসত না। তবে কেউ সমস্যায় পড়লে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত।একদিন জানতে পারলাম, সে রবীন্দ্রসংগীত শেখে।আরেক দিন শুনলাম, অবসরে জলরঙে ছবি আঁকে।আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, মানুষকে দূর থেকে দেখলে তার সৌন্দর্য দেখা যায়; কাছে এলে দেখা যায় তার নীরবতা। আর নীরবতাই একজন মানুষকে সবচেয়ে আলাদা করে।সেদিন অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বৃষ্টি থেমেছে। রাস্তার বাতিগুলো ভেজা ডামারের ওপর হলুদ আলো ফেলছে। আমি বললাম,—কফি খাবেন?সে একটু ভেবে মৃদু হেসে বলল,—আজ খাওয়া যেতে পারে।ছোট্ট একটি ক্যাফেতে আমরা জানালার পাশে বসলাম। বাইরে গাড়ির আলো ভেজা রাস্তায় ভেঙে পড়ছিল।অনেকক্ষণ গল্প হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি, বই, সিনেমা, ভ্রমণ, প্রিয় ঋতু। কথার ফাঁকে হঠাৎ সে জিজ্ঞেস করল,—আপনি এত চুপচাপ কেন?আমি হেসে বললাম,—সবাই সব কথা বলতে পারে না।সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,—আমার মনে হয়, যারা কম কথা বলে, তাদের ভেতরে অনেক গল্প জমে থাকে।আমি উত্তর দিলাম না। সত্যিই আমার ভেতরে একটি গল্প ছিল। যার শুরু হয়েছিল উত্তরার এক ছাদের বিকেলে।বহুবার ভেবেছি, আজ বলব। বলব, কয়েক বছর আগে প্রতিদিন বিকেলে আমি এক অচেনা মেয়েকে আকাশ দেখতে দেখতাম। বলব, তার জন্যই আমি সন্ধ্যার অপেক্ষা করতাম। বলব, তাকে না জেনেই একটা নাম দিয়েছিলাম।কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সত্যি কথাটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। আমি পারলাম না। শুধু কফির কাপে আঙুল ঘুরিয়ে যেতে লাগলাম।ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তার মুখে খুব কোমল একটা হাসি ফুটে উঠল। সে ফোন ধরল। নরম গলায় বলল,—হ্যাঁ... আমি বের হচ্ছি... আর পাঁচ মিনিট।ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—আমাকে উঠতে হবে।আমি শুধু মাথা নাড়লাম।ক্যাফের দরজার বাইরে এসে দেখি, একটা গাড়ি ধীরে ধীরে এসে থামল। গাড়ি থেকে একজন নেমে ছাতা খুলে তার দিকে এগিয়ে এল। সুস্মিতার মুখে যে হাসি ফুটে উঠল, তাতে কোনো দ্বিধা ছিল না, কোনো অভিনয়ও নয়। সে মানুষটিকে এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দেখল, যেমন মানুষ নিজের আপনজনকে দেখে। বিদায় নেওয়ার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—কাল দেখা হবে।আমি বললাম,—ভালো থাকবেন।গাড়িটা ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।আমি অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। ভেজা শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হলো, কিছু স্বপ্ন ভাঙার শব্দ বাইরে শোনা যায় না। সেগুলো শুধু মানুষের ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে।সেদিন রাতেই প্রথম বুঝেছিলাম, ভালোবাসা সব সময় কাউকে পাওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো সময়মতো কিছু না বলার নামও ভালোবাসা।পরদিন অফিসে গিয়ে সুস্মিতাকে দেখলাম না। ভাবলাম, হয়তো ছুটিতে আছে।পরদিনও এল না।এরপর আরও কয়েক দিন কেটে গেল।কাজের ব্যস্ততা আমাকে ডেস্কে আটকে রাখলেও মনটা বারবার করিডরের দিকে চলে যেত। এক বিকেলে সাহস করে মানবসম্পদ বিভাগের এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করলাম,—সুস্মিতা কি ছুটিতে?তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—জানেন না? ওর স্বামীকে সিঙ্গাপুরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়ো করেই ও চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। যাওয়ার আগেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। আপনি সেদিন ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে ছিলেন, তাই হয়তো দেখা হয়নি।আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। অদ্ভুতভাবে বুকের ভেতর কোনো বিস্ফোরণ ঘটল না। শুধু একটা নিঃশব্দ শূন্যতা নেমে এল, যেন বহু বছর আগে উত্তরার সেই বারান্দাটা আবার একবার খালি হয়ে গেল।এরপর জীবন খুব দ্রুত বদলে গেল। কাজের চাপ বাড়ল। পদোন্নতি হলো। নতুন শহর, নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। একসময় কানাডার একটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। বন্ধুরা বলেছিল,—স্বপ্নপূরণ হয়ে গেল!হয়তো সত্যিই হয়েছিল। কিন্তু মানুষ বুঝতে শেখে, সব স্বপ্নের সঙ্গে সব আনন্দ আসে না। কিছু সাফল্য খুব নিঃসঙ্গও হয়।টরন্টোতে আসার পর প্রথম শীতেই আমি বুঝলাম, তুষার শুধু শহর ঢেকে দেয় না, মানুষের স্মৃতিকেও সাদা করে দিতে চায়। কিন্তু সব স্মৃতি ঢেকে যায় না। কখনো কখনো কোনো কফির গন্ধ, কোনো বিকেলের আলো কিংবা কোনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী মানুষের ছায়া হঠাৎ বহু বছর আগের দরজা খুলে দেয়। সেই দরজার ওপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে উত্তরার সেই বিকেল।আর একটি নাম, যে নাম পৃথিবীর কেউ জানত না। শুধু আমি।সুনয়না।’ফায়ারপ্লেসের আগুন তখন ধীরে ধীরে নিভে আসছে। কথা শেষ করতেই ঘরজুড়ে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এল। ভাবি কফির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কাপটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। সায়েম ভাই উঠে এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—তাহলে তুমি তাকে কোনো দিন জানাওনি?আমি মৃদু হেসে মাথা নাড়ালাম।—না।—আফসোস হয় না?জানালার বাইরে তাকালাম। তুষার পড়ছে। প্রতিটি সাদা কণা নিঃশব্দে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। আমি ধীরে বললাম,—আফসোস হয় সেই ভালোবাসার জন্য, যেটা কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজের করতে হয়। আমার গল্পে তেমন কিছু ছিল না। সে তার জীবন নিয়ে সুখী ছিল। আমি কেন আমার অনুভূতির ভার তার কাঁধে চাপিয়ে দিতাম?ভাবি খুব আস্তে বললেন,—কিন্তু তুমি তো একা রয়ে গেলে।আমি হেসে উত্তর দিলাম,—মানুষ সব সময় কারও অভাবে একা থাকে না। কখনো কখনো একটি সুন্দর স্মৃতির সঙ্গেও সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁয়েছে। বাইরে তুষারপাত আরও ঘন হয়েছে। বিদায় নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সায়েম ভাই আমার কাঁধে হাত রাখলেন।—নীল...—জি?—জীবনে যদি আবার কোনো বিকেল এসে দাঁড়ায়, এবার যেন চুপ করে থেকো না।আমি কোনো উত্তর দিলাম না। শুধু মৃদু হাসলাম।বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির জানালার বাইরে অসংখ্য তুষারকণা উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো, মানুষ আসলে কাউকে ভুলে যায় না। সে শুধু স্মৃতির সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যায়।সেদিন রাতে ঘরে ফিরে বহুদিন পর জানালার পাশে দাঁড়ালাম। দূরে বরফে ঢাকা শহর ঘুমিয়ে আছে।অন্ধকার কাচে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হলো, সময় আমার চুলে রুপালি রং ছড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু উত্তরার সেই একফালি আকাশ এখনো কোথাও রয়ে গেছে।আমি চোখ বন্ধ করলাম। কল্পনায় আবার একটি বারান্দা ভেসে উঠল। সেখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ আজও স্পষ্ট নয়। শুধু চোখ দুটো স্পষ্ট। আমি নিঃশব্দে বললাম,—ভালো থেকো, সুনয়না।জানালার ওপারে তুষার পড়তেই থাকল। আর আমি বুঝলাম, কিছু ভালোবাসার শেষ অধ্যায় মিলনে লেখা হয় না। সেগুলো লেখা থাকে নীরবতায়।উত্তরা, ঢাকা

কনসিলার, ব্লাশ আর নিউড লিপ: মাত্র ৩ প্রোডাক্টেই কীভাবে ন্যাচারাল গ্ল্যাম আনেন জাহ্নবী কাপুর
কনসিলার, ব্লাশ আর নিউড লিপ: মাত্র ৩ প্রোডাক্টেই কীভাবে ন্যাচারাল গ্ল্যাম আনেন জাহ্নবী কাপুর

মেকআপ মানেই যেন অনেকগুলো প্রোডাক্ট, ঘন্টার পর ঘন্টা প্রস্তুতি। কিন্তু বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুর সাম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন নিজের বিউটি লুক তৈরির পেছনের গল্প। যেখানে তিনি বলেছেন মাত্র তিনটি ধাপে তার সাজ হয়ে উঠেছে পরিপাটি, ফ্রেশ ও নেচারাল।প্রতিদিনের মেকআপে খুব বেশি কিছু না করেও কীভাবে ফ্রেশ ও গোছানো দেখানো যায়, জাহ্নবীর এই রুটিন তারই সহজ উদাহরণ। আরও মজার বিষয়, মেকআপ ব্রাশ বা স্পঞ্জের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে আঙুল দিয়েই তিনি বেশির ভাগ প্রোডাক্ট ব্লেন্ড করেছেন। ফলে পুরো সাজটি যেমন দ্রুত করা যায়, তেমনি এর ফিনিশও থাকে বেশ স্বাভাবিক। তার সাজের মূল তিনটি বিষয় হচ্ছে সতেজ বেস, নরম গোলাপি ব্লাশ আর নিউড-পিঙ্ক ঠোঁট। View this post on Instagram A post shared by Janhvi Kapoor (@janhvikapoor) ভারী বেস নয়, শুরু হোক কনসিলার দিয়েজাহ্নবীর রুটিনের প্রথম ধাপ কনসিলার। পুরো মুখে ভারী ফাউন্ডেশন লাগানোর বদলে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করছেন তিনি। চোখের নিচে সরাসরি অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে অল্প প্রোডাক্ট নিয়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ত্বকের রং কিছুটা সমান দেখালেও মুখ ভারী হয়ে যাচ্ছে না। এই ধরনের মেকআপে ব্লেন্ড করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর বাড়ানো যায়, এমন কনসিলারই ভালো। একবারে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে লাগানোই মূল কৌশল।গালে নরম গোলাপি আভাবেসের পর জাহ্নবী ব্যবহার করছেন সফট পিঙ্ক লিকুইড ব্লাশ। গালে সরাসরি অল্প ব্লাশ নিয়ে আঙুল দিয়ে ট্যাপ করে ব্লেন্ড করেছেন তিনি। ফলে গালে ভারী রঙের বদলে এসেছে হালকা, সতেজ আভা। এই লুকের জন্য ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ বেশ কার্যকর। কারণ অল্প অল্প করে রং বাড়ানো যায়, ফলে মুখে ব্লাশের দাগও স্পষ্ট থাকে না।ঠোঁটে নিউড-পিঙ্কজাহ্নবীর পুরো মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটের রংও বেশ নরম। শেষ ধাপে তিনি ব্যবহার করেছেন নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। গালের গোলাপি আভা আর ঠোঁটের একই পরিবারের রং পুরো লুকটিকে করেছে আরও গোছানো। খুব ফ্যাকাশে বেইজ নিউডের বদলে গোলাপি, রোজি বা হালকা ব্রাউন আন্ডারটোনের নিউড বেছে নিলে ঠোঁট আরও স্বাভাবিক দেখাবে। দিনের সাজে লিপস্টিক পুরো ঠোঁটে না দিয়ে মাঝখানে অল্প লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ছড়িয়ে দিলেও পাওয়া যাবে আরও নরম ফিনিশ।চোখে শুধু এক কোট মাসকারাজাহ্নবী যে তিনটি মূল ধাপ দেখিয়েছেন, সেখানে মাসকারা ছিল না। তাই এটি মূল রুটিনের অংশ নয়; চাইলে বাড়তি সংযোজন হিসেবে রাখা যায়। বিশেষ করে দিনের সাজ সন্ধ্যার দিকে নিতে চাইলে এক বা দুই কোট মাসকারাই যথেষ্ট। এতে চোখ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হবে, কিন্তু পুরো মেকআপের স্বাভাবিক মেজাজ নষ্ট হবে না।ভ্রু থাকুক নেচারালএই লুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভ্রু। খুব গাঢ় করে আঁকার বদলে যেখানে ফাঁকা আছে, শুধু সেখানে হালকা করে ভরাট করাই যথেষ্ট। এরপর স্পুলি দিয়ে ভ্রু আঁচড়ে নিলে রংটা নরম হয়ে যাবে। এ জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য হবে ভ্রুকে স্পষ্ট করে আঁকা নয়, বরং একটু গোছানো দেখানো।ত্বক যেন ত্বকের মতোই দেখায়জাহ্নবীর মেকআপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এটাই। নিজের ত্বকের রং পুরোপুরি ঢেকে ফেলার চেষ্টা নেই। ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে প্রয়োজনমতো কনসিলার ব্যবহার করায় ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচারও দেখা যায়। এই লুক করতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ ভুল হতে পারে বারবার কভারেজ বাড়ানো। যেখানে প্রয়োজন শুধু সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করে থেমে যাওয়াই ভালো। এতে মেকআপ থাকবে হালকা, আর মুখও দেখাবে আরও স্বাভাবিক।ব্রাশ নয়, আঙুলেই ব্লেন্ডজাহ্নবীর রুটিন থেকে সবচেয়ে সহজে নেওয়া যায় যে কৌশল, সেটি হলো আঙুল দিয়ে মেকআপ ব্লেন্ড করা। কনসিলার ও ব্লাশের মতো লিকুইড বা ক্রিম প্রোডাক্ট অল্প করে আঙুলে নিয়ে ত্বকে ট্যাপ করে লাগালে দ্রুত কাজ হয় এবং প্রোডাক্টের পরিমাণও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সকালে এই পদ্ধতি বেশ সুবিধাজনক। একগাদা ব্রাশ বের করার দরকার নেই, আবার অতিরিক্ত মেকআপ করার ঝুঁকিও কমে।জাহ্নবীর তিন ধাপের সহজ রুটিনপুরো রুটিনকে একেবারে সহজ করে বললে, কনসিলার, ব্লাশ, নিউড লিপ। প্রথমে অল্প কনসিলার দিয়ে ত্বকের প্রয়োজনীয় অংশ সমান করুন। এরপর গালে নরম গোলাপি আভা দিন। সবশেষে নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। সব প্রোডাক্টই হালকা হাতে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এর সঙ্গে আরও একটু সাজানো লুক চাইলে যোগ করা যায় মাসকারা ও হালকা ভ্রু ডেফিনিশন। তবে মূল সৌন্দর্যটা থাকবে কম প্রোডাক্টে, হালকা হাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখায়।জাহ্নবী কাপুরের সাম্প্রতিক মেকআপ রুটিন শেষ পর্যন্ত খুব সাধারণ একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়। দৈনন্দিন গ্ল্যামের জন্য সবসময় অনেক কিছু দরকার হয় না। ত্বককে সমান করা, গালে একটু রং আর ঠোঁটে সামান্য উষ্ণতা এই তিনটিই যথেষ্ট হতে পারে। আসল কৌশল হলো মেকআপের স্তর হালকা রাখা এবং ত্বককে ত্বকের মতোই থাকতে দেওয়া।

ফরমাল পোশাকে গ্ল্যামারাস দেখালেন কিয়ারা
ফরমাল পোশাকে গ্ল্যামারাস দেখালেন কিয়ারা

ফ্যাশনের দুনিয়ায় কিয়ারা আদভানির সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখী স্টাইল সেন্স। রেড কার্পেটের ঝলমলে গ্ল্যামার, ফটোশুট লুক কিংবা দৈনন্দিন পোশাক-প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মতো করে স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে জানেন এই অভিনেত্রী। কখনো শাড়ি বা অন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকে তিনি হয়ে ওঠেন মোহময়ী, আবার কখনো পশ্চিমা পোশাকে ফুটিয়ে তোলেন আধুনিকতার ছাপ। তার সাম্প্রতিক ফটোশুটের লুকটিও সেই বহুমুখী ফ্যাশন ভাবনারই আরেকটি উদাহরণ। এবার কিয়ারার পছন্দ ছিল স্ট্রাকচার্ড পাওয়ার স্যুট। ক্যামেল-বেইজের একরঙা এই সাজে ছিল টেইলারিংয়ের নিখুঁত ছাপ, পুরুষালি পোশাকের অনুপ্রেরণা এবং নারীর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সবকিছুর সুন্দর সমন্বয়। পুরো লুকটি যেন দেখিয়ে দিল, পাওয়ার ড্রেসিং মানেই শুধু কঠোর বা ফরমাল হওয়া নয়, সঠিক কাট, রং ও স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস। কিয়ারার স্যুটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্ট্রাকচার্ড ওয়েস্টকোট। শরীরের উপরের অংশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানানসই এই ওয়েস্টকোটে ছিল গভীর ভি-নেকলাইন। সামনে একই ক্যামেল-বেইজ রঙের ছোট ছোট বোতামের সারি পোশাকটিতে এনে দিয়েছে পরিপাটি ফিনিশিং। ওয়েস্টকোটের ভেতরে কিয়ারা পরেছিলেন দুই রঙের বেইজ ও সাদা শার্ট। শার্টটির উষ্ণ বেইজ রঙের মূল অংশ ওয়েস্টকোটের সঙ্গে মিশে গেলেও নজর কেড়েছে এর ওভারসাইজড সাদা কলার। সঙ্গে ছিল স্টাইলিশ ফ্রেঞ্চ কাফ, যা পুরো পোশাকে এনে দিয়েছে খানিকটা ক্লাসিক ফরমাল আবহ। এর ওপর ছিল একই রঙের একটি স্ট্রাকচার্ড জ্যাকেট। টেইলারড শোল্ডার, পরিষ্কার ল্যাপেল এবং নিখুঁত কাটিংয়ের কারণে জ্যাকেটটি কিয়ারার সিলুয়েটকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে। নিচে ছিল একই ক্যামেল-বেইজ শেডের হাই-ওয়েস্টেড ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার্স। প্যান্টের বাড়তি ভলিউম একদিকে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, অন্যদিকে পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও বিলাসবহুল আবহ। প্রচলিত টাইয়ের বদলে কিয়ারার গলায় দেখা গেছে চিকন বেইজ নেকটাই। কলারের নিচে পরিপাটি করে গুঁজে রাখা এই টাই পুরুষদের ক্লাসিক টেইলারিংয়ের ছোঁয়া এনে দিয়েছে নারীর পাওয়ার স্যুটে। পুরো পোশাকে থাকা সূক্ষ্ম প্লেড প্যাটার্নও লুকটিকে একঘেয়ে হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। জুতার ক্ষেত্রেও টোনাল স্টাইলিংয়ের পথেই হেঁটেছেন কিয়ারা। পায়ে ছিল উটের রঙের পয়েন্টেড স্টিলেটো পাম্প। সূচালো অগ্রভাগের এই জুতা তার পায়ের রেখাকে আরও দীর্ঘ দেখিয়েছে এবং মাথা থেকে পা পর্যন্ত একরঙা বিন্যাসটিও অটুট রেখেছে। অ্যাক্সেসরিজে রেখেছিলেন একবারে ছিমছাম । একজোড়া সোনালি স্টেটমেন্ট কানের দুল এবং মানানসই একটি আংটিতেই নজর কেড়েছেন। এর সঙ্গে এভিয়েটর সানগ্লাস যোগ করে কিয়ারা পুরো লুকে এনেছেন আরও দৃঢ় ভাব। সানগ্লাসের উপস্থিতিই আত্মবিশ্বাসী বার্তাটিকে আরও জোরালো করেছে। চুল ও মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। পোশাকের কাটিং ও টেইলারিংকে লুকের মূল আকর্ষণ করে তুলতে কিয়ারা তার লম্বা, ঘন বাদামি চুল হালকা ঢেউ খেলানো এবং কিছুটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রেখেছেন। মেকআপে ছিল সফট-গ্ল্যাম আবহ- সুবিন্যস্ত ভ্রু, উষ্ণ টোনের আইশ্যাডো এবং নুড-গোলাপি লিপস্টিক। কিয়ারার এই লুকটি প্রমাণ করে, পাওয়ার ড্রেসিংয়ের আসল শক্তি পোশাকে যতটা, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসে। ক্যামেল-বেইজের শান্ত রং, নিখুঁত টেইলারিং, পুরুষালি টেইলারিংয়ের অনুপ্রেরণা  এই লুকে কিয়ারা তৈরি করেছেন এমন এক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, যা একই সঙ্গে স্মার্ট, আধুনিক ও নজরকাড়া। এসএকেওয়াই

ঘুম ঠিক না হলে কী হয়? জানুন সুস্থ থাকার সহজ উপায়
ঘুম ঠিক না হলে কী হয়? জানুন সুস্থ থাকার সহজ উপায়

ঘুম শরীর ও মনের পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ভেতরে শুরু হয় নানা জটিলতা, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকেই ঘুমকে অবহেলা করেন, অথচ সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে ভালো ঘুম। যখন ঘুম ঠিকমতো হয় না, তখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে সহজেই সর্দি-কাশি বা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়, যা অতিরিক্ত খাওয়া ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত কম ঘুম মানে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যাওয়া। মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এর প্রভাব ভয়াবহ। ঘুম কম হলে মন খারাপ লাগে, মনোযোগে ঘাটতি আসে, কাজের উদ্যম কমে যায়। অনেক সময় হতাশা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি হয়। শিক্ষার্থী বা কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়। তবে সুস্থ থাকার জন্য ঘুম ঠিক রাখার কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করা যায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং জেগে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। রাতে ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত — মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণে বাধা দেয়। শোবার ঘরকে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখা ঘুমের মান বাড়ায়। কফি বা চা রাতের বেলা এড়িয়ে চলাই ভালো। দিনের বেলা হালকা ব্যায়াম ও সকালের রোদে কিছুক্ষণ সময় কাটানো ঘুমে সহায়তা করে। আর ঘুমানোর আগে ভারী খাবার না খাওয়াও জরুরি। ঘুমকে যদি গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে শরীর একসময় সিগন্যাল দিতে শুরু করবে — মাথা ভার, মেজাজ খারাপ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল ইত্যাদি নানা রকম সমস্যা দেখা দেবে। তাই সুস্থ থাকতে হলে শুধু খাদ্য, ব্যায়াম বা ওষুধ নয় — একটি পরিপূর্ণ ঘুমই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।

দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট: জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ
দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট: জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ

বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নতুন সংকট। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে একটানা লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, এমনকি হাসপাতালের রোগীরাও অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তীব্র গরম ও অসহনীয় তাপদাহের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই ভুগছেন। শহরাঞ্চলে ফ্যান, এসি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গরমে হাঁসফাঁস করছেন মানুষ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে পানির পাম্প চলতে না পারায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দিনে প্রায় ৬-৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফিরে আসছে না। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানাগুলো এই বিদ্যুৎ সংকটে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছোট দোকানদাররা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবারদাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইটি ও অনলাইনভিত্তিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ ইন্টারনেট রাউটার, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়-রোজগারে বড় ধাক্কা লাগছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জেনারেশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সংকটের কারণে পুরো উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে আমদানি নির্ভর কয়লা ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সাময়িক এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং কমে আসবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কতদিন এমন দুর্ভোগ চলবে? বিশেষ করে যেসব এলাকায় দিনে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, তাদের জন্য এ আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে — তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং এর সমাধানে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিকল্প জ্বালানি উৎস যেমন সৌর ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে গুরুত্ব না দিলে প্রতি বছরই এ ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে। এ অবস্থায় মানুষ চায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও দ্রুত সমাধান। বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন আর এক নিত্যকার দুর্ভোগে পরিণত না হয় — সেই প্রত্যাশাই করছে সারাদেশ।

Follow us

Top week

পত্রিকা:‌ ''অপারেশন ক্লিন হার্টের' আদলে অভিযানের চিন্তা'
সারা দেশ

পত্রিকা:‌ ''অপারেশন ক্লিন হার্টের' আদলে অভিযানের চিন্তা'

News সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ 0

Rss feed news

আমার প্রিয় শিক্ষক জামিলুর রেজা চৌধুরী
আমার প্রিয় শিক্ষক জামিলুর রেজা চৌধুরী

বুয়েটে স্যার আমাদের পড়াতেন স্ট্রাকচার আর ট্রাস। ইঞ্জিনিয়ারিং আমার ভালো লাগত না। আমি ক্লাসের শেষ বেঞ্চে বসে ছবি আঁকতাম। আমার দীর্ঘ কবিতা খোলা চিঠি সুন্দরের কাছের অনেক লাইন ওই ক্লাসে বসেই লেখা

অক্টোবর ৫, ২০২৬
ভূতের গল্পের ভক্ত মাইসার হাতে রকিব হাসানের ‘হাতকাটা ভূত’
ভূতের গল্পের ভক্ত মাইসার হাতে রকিব হাসানের ‘হাতকাটা ভূত’

‘হাতকাটা ভূত’ এক পিয়ানো টিচারকে নিয়ে লেখা। ওই টিচারের মিউজিক স্কুলে যারা বাজনা শিখতে যায়, তারা নাকি আর কোনো দিন ফিরে আসে না।

অক্টোবর ৫, ২০২৬
ফেসবুকে ই-মেইল ঠিকানা যুক্ত বা মুছে ফেলবেন যেভাবে
ফেসবুকে ই-মেইল ঠিকানা যুক্ত বা মুছে ফেলবেন যেভাবে

ফেসবুক অ্যাকাউন্টে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ই-মেইল ঠিকানা যুক্ত করা যায়। আর তাই অনেকেই নিজেদের ই–মেইল ঠিকানা যুক্ত করেন।

অক্টোবর ৫, ২০২৬
শুরু হচ্ছে রিয়েলিটি শো কনকা সেরা পরিবার সিজন ৫
শুরু হচ্ছে রিয়েলিটি শো কনকা সেরা পরিবার সিজন ৫

দেশের শীর্ষস্থানীয় কনজ্যুমার ইলেকট্রনিকস ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স ব্র্যান্ড কনকার সৌজন্যে আবারও শুরু হচ্ছে ফ্যামিলি রিয়েলিটি গেম শো কনকা সেরা পরিবার সিজন ৫।

অক্টোবর ৫, ২০২৬
নোবেল পেতে কেমন লাগে
নোবেল পেতে কেমন লাগে

<p>বিজ্ঞানের আবিষ্কার হোক, অর্থনীতির নতুন তত্ত্ব হোক কিংবা মানুষের জীবন বদলে দেওয়া কোনো যুগান্তকারী গবেষণা—নোবেল পুরস্কার পাওয়ার মুহূর্তটি একজন গবেষকের জীবনে নিঃসন্দেহে অসাধারণ। কিন্তু পুরস্কার পাওয়ার পর কী হয়? বদলে যায় কি গবেষণার বিষয়? মানুষের প্রত্যাশা কি বাড়ে? খ্যাতি আর স্বীকৃতি কি গবেষণার কাজে সাহায্য করে, নাকি তৈরি করে নতুন কোনো চাপ? সবচেয়ে মজার প্রশ্ন—নোবেল পাওয়ার পর নিজের কাজটাকেই কি আগের মতো করে দেখা যায়?</p><p>এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতেই নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ ও গবেষকদের সঙ্গে কথা বলেছে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজস্ব সংবাদমাধ্যম <em>হার্ভার্ড গেজেট</em>। নোবেল জয়ীদের কথায় উঠে এসেছে গবেষণার আনন্দ, সাফল্যের অপ্রত্যাশিত প্রভাব, নতুন দায়িত্ব এবং কখনো কখনো বেশ মজার কিছু অভিজ্ঞতাও। নোবেল পুরস্কার তাঁদের জীবন কতটা বদলেছে—সেই গল্প তাঁদের মুখ থেকেই শোনা যাক।</p><p>এই পর্বে নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন মার্কিন অর্থনীতিবিদ ক্লডিয়া গোল্ডিন, মার্কিন জীববিজ্ঞানী গ্যারি রুভকুন এবং অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/3bkin5nrlu">কে পাবেন ২০২৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল</a></aside><blockquote>চাকরির বাজারে নামতে ইচ্ছুক অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের প্লেসমেন্ট ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনও করছিলাম। বাজারে তখন আমার সাহায্যপ্রার্থী ৩০ জন শিক্ষার্থী ছিল।</blockquote><h2><strong>ক্লডিয়া গোল্ডিন</strong></h2><p>মার্কিন অর্থনীতিবিদ এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক</p><p>২০২৩ সালে নোবেলজয়ী (অর্থনীতি)</p><p><em>নারী ও পুরুষের কর্মজীবন, মজুরি আর সুযোগের পার্থক্য কেন তৈরি হয়—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে দীর্ঘদিন ধরে ইতিহাসের পাতা ঘেঁটেছেন অর্থনীতিবিদ ক্লডিয়া গোল্ডিন। অতীতের শ্রমবাজারের তথ্য বিশ্লেষণ করে তিনি দেখিয়েছেন, নারীদের কর্মজীবনে পরিবর্তন কীভাবে ঘটেছে এবং আজও কেন কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য পুরোপুরি দূর হয়নি। এই গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৩ সালে তিনি এককভাবে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পান। নোবেল পাওয়ার পর তাঁর গবেষণা, শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর এর প্রভাব এবং নারী-পুরুষের কর্মজীবন নিয়ে তাঁর ভাবনা—এসব নিয়েই তিনি কথা বলেছেন।</em></p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-05/p3tsaa5z/20231014_FNP002.webp"><figcaption>২০২৩ সালে নোবেলজয়ী মার্কিন অর্থনীতিবিদ ক্লডিয়া গোল্ডিন</figcaption></figure><p>নোবেল পাওয়ার পরপরই আমার জীবন যেভাবে বদলে গিয়েছিল, কিছুদিন পর সেই পরিবর্তনটা আর ঠিক সেভাবে ছিল না। প্রথম দিকে এমন সব বিষয় নিয়ে আমাকে ভাবতে হয়েছে, যেগুলো নিয়ে সাধারণত আমাকে ভাবতেই হয় না। যেমন, লম্বা গাউন, পায়ের মোজা আর হাই হিল জুতা। আমাকে একটি বক্তব্য লিখতে হয়েছিল। নোবেল ভোজসভার জন্যও একটি বক্তৃতা লিখতে হয়েছিল। একটি পোশাকও কিনতে হয়েছিল। সব মিলিয়ে এমন আরও একশ একটার মতো বিষয় নিয়ে ভাবতে হয়েছে।</p><p>সে সময় আমি ক্লাস নিচ্ছিলাম। চাকরির বাজারে নামতে ইচ্ছুক অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের প্লেসমেন্ট ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনও করছিলাম। বাজারে তখন আমার সাহায্যপ্রার্থী ৩০ জন শিক্ষার্থী ছিল। ফলে হঠাৎ করে আমার ওপর কাজের চাপ অনেক বেড়ে গিয়েছিল।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/rommo/rqr5nddwww">বিজ্ঞানীর নোবেল পাওয়া</a></aside><blockquote>প্রথম দিকে এমন সব বিষয় নিয়ে আমাকে ভাবতে হয়েছে, যেগুলো নিয়ে সাধারণত আমাকে ভাবতেই হয় না। যেমন, লম্বা গাউন, পায়ের মোজা আর হাই হিল জুতা। আমাকে একটি বক্তব্য লিখতে হয়েছিল।</blockquote><p>আমার করণীয় কাজের তালিকাটা ছিল অসম্ভব লম্বা। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, এখন যখন সেই কয়েক মাসের কথা মনে করি, আমার ভীষণ আনন্দ হয়। খুব খুশি মনে সেই দিনগুলোর কথা ভাবি।</p><p>নোবেল পাওয়ার আরেকটি ফল ছিল ই-মেইলের বন্যা। পুরস্কার ঘোষণার পর প্রথম তিন দিনে এবং তার পরের কয়েক সপ্তাহে আমি প্রায় ১,৬০০টি ই-মেইল পেয়েছিলাম। আমি প্রতিটি ই-মেইলই পড়েছি। অনেকগুলো ছিল বন্ধু, আত্মীয়স্বজন ও সহকর্মীদের অভিনন্দনবার্তা। আবার এমন অনেক মানুষও যোগাযোগ করেছিলেন, যারা আমাকে পরামর্শ দেওয়ার কাজ করতে বলেছিলেন বা বক্তৃতা দেওয়ার জন্য টাকা দিতে চেয়েছিলেন।</p><p>আমার এক সহকর্মী পরামর্শ দিলেন, এসব অনুরোধ সামলানোর জন্য আমি যেন একজন এজেন্ট রাখি। আমি বললাম, ‘আমি কখনো টাকার বিনিময়ে পরামর্শ দিইনি। এখন সেটা বদলানোরও কোনো ইচ্ছা আমার নেই।’ তাই আমি কোনো এজেন্ট নিইনি। তবে একটা জিনিস শিখেছিলাম—খুব সুন্দর করে ‘না’  বলতে। মানুষকে কীভাবে—‘দয়া করে আমাকে এসব থেকে মুক্তি দিন’—কথাটা ভদ্রভাবে বলতে হয়, সেটাও শিখে গিয়েছিলাম।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/space/tzxkf227at">হাবল কেন নোবেল বঞ্চিত ছিলেন</a></aside><blockquote>নোবেল পাওয়ার আরেকটি ফল ছিল ই-মেইলের বন্যা। পুরস্কার ঘোষণার পর প্রথম তিন দিনে এবং তার পরের কয়েক সপ্তাহে আমি প্রায় ১,৬০০টি ই-মেইল পেয়েছিলাম। আমি প্রতিটি ই-মেইলই পড়েছি।</blockquote><p>তবে তিনটি বড় অনুরোধে আমি ‘হ্যাঁ’ বলেছিলাম। কারণ এগুলো আমার কাছে সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। প্রথমটি ছিল ‘ওয়েট, ওয়েট, ওয়েট... ডোন্ট টেল মি!’ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া। দ্বিতীয়টি ছিল বোস্টন রেড সক্স এবং নিউইয়র্ক ইয়াংকির একটি বেসবল খেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম বল ছোড়া। এর জন্য আমি টানা ছয় সপ্তাহ অনুশীলন করেছিলাম। শেষ পর্যন্ত বলটি একেবারে ঠিক জায়গায় গিয়ে পড়েছিল। অর্থাৎ স্ট্রাইক হয়েছিল। এ নিয়ে আমি ভীষণ গর্বিত।</p><p>তৃতীয়টি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের পেশাদার নারী বাস্কেটবল খেলোয়াড়দের সংগঠন ডব্লিউএনবিপিয়ের জন্য বিনা পারিশ্রমিকে পরামর্শ দেওয়া। পরে তাদের চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। সেই আলোচনায় আমি অবৈতনিক পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করেছি। ফলাফল ছিল অসাধারণ। খেলোয়াড়দের বেতন প্রায় পাঁচ গুণ বেড়েছিল।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-05/t1mmql40/11up_goldin2_tcgp_articleLarge.avif"><figcaption>মার্কিন অর্থনীতিবিদ এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ক্লডিয়া গোল্ডিন</figcaption></figure><p>নোবেল পাওয়ার পর আমি এখন বেশ ভালো গাড়ি চালাতে পারি। এখন আর অন্য গাড়িকে ওভারটেক করে সামনে চলে যেতে পারি না। আমি এতই পরিচিত হয়ে গেছি যে আগে যেসব কাজ করতাম, এখন সেগুলো আর করা সম্ভব নয়।</p><p>নোবেল পুরস্কার থেকে পাওয়া অর্থ আমি অর্থনীতিতে গবেষণার জন্য হার্ভার্ডের একটি গবেষণা তহবিলে দান করেছি। এর সঙ্গে অন্য কয়েকটি পুরস্কার থেকে পাওয়া অর্থও ছিল। সব টাকা একসঙ্গে রেখে আমি অর্থনৈতিক ইতিহাস নিয়ে গবেষণার জন্য একটি তহবিল তৈরি করেছি।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/feature/qbhscql5ej">নোবেল বঞ্চিত বাঙালির কথা</a></aside><blockquote>দ্বিতীয়টি ছিল বোস্টন রেড সক্স এবং নিউইয়র্ক ইয়াংকির একটি বেসবল খেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম বল ছোড়া। এর জন্য আমি টানা ছয় সপ্তাহ অনুশীলন করেছিলাম।</blockquote><p>আমার মনে হয় না, নোবেল পাওয়ার কারণে আমার পেশাগত জীবনে খুব বেশি পরিবর্তন এসেছে। আমি এখনো আগের মতোই পড়াই। এখনো শিক্ষার্থী ও অন্যদের পরামর্শ দিই। এখনো গবেষণা করি। সেমিনার ও কর্মশালা পরিচালনা করি। এখনো ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চে একটি গবেষক দলের নেতৃত্ব দিই। তবে নোবেল পাওয়ার ফলে এখন আমার মধ্যে একটা আত্মবিশ্বাস বেশি কাজ করে যে, মানুষ যা শুনতে ও পড়তে চায়, এমন কিছু বলার যোগ্যতা আমার আছে। এই অনুভূতিটা অবশ্যই ভালো লাগার মতো। আমার পরবর্তী বইয়ের প্রকাশক চাইলে বইটির প্রচ্ছদে নোবেল পুরস্কারের লোগো ব্যবহার করতে পারবেন। হয়তো তাতে আরও বেশি মানুষ বইটির দিকে নজর দেবে।</p><p>তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি অন্য জায়গায়। অর্থনীতি ও সমাজে নারীদের ভূমিকা নিয়ে গবেষণার জন্য নোবেল পুরস্কার পাওয়া আমার কাছে যেমন গভীরভাবে অর্থবহ ছিল, তেমনি যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের নানা প্রান্তের অসংখ্য মানুষের কাছেও এটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই মানুষদের মধ্যে ছিলেন নারী ও পুরুষ, তরুণ ও বয়স্ক—সব ধরনের মানুষ। এই পুরস্কার অনেক মানুষকে অনুভব করিয়েছে যে তাদের জীবনও গুরুত্বপূর্ণ। অন্য অনেককে দিয়েছে নিজেদের কাজ নিয়ে গর্ব করার সুযোগ। আমার কাছে নোবেল পাওয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক এটাই। এ কারণেই এই পুরস্কার আমার জন্য এত আনন্দের, এত গুরুত্বপূর্ণ এবং এত অর্থবহ হয়ে উঠেছিল।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/feature/ijx1ghsddo">নোবেল জেতার সহজ উপায়</a></aside><blockquote>তবে নোবেল পাওয়ার ফলে এখন আমার মধ্যে একটা আত্মবিশ্বাস বেশি কাজ করে যে, মানুষ যা শুনতে ও পড়তে চায়, এমন কিছু বলার যোগ্যতা আমার আছে। এই অনুভূতিটা অবশ্যই ভালো লাগার মতো।</blockquote><h2><strong>গ্যারি বি. রুভকুন</strong></h2><p>মার্কিন জীববিজ্ঞানী এবং হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের অধ্যাপক</p><p>২০২৪ সালে নোবেলজয়ী (চিকিৎসাবিজ্ঞান)</p><p><em>কোষের ভেতরে জিন কীভাবে কাজ করে এবং শরীরের বিভিন্ন প্রক্রিয়া কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়, তা বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন গ্যারি রুভকুন। ছোট একটি কৃমি নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে তিনি ও ভিক্টর অ্যামব্রোস আবিষ্কার করেন মাইক্রোআরএনএ—অতি ক্ষুদ্র এক ধরনের আরএনএ, যা জিনের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই আবিষ্কার জীববিজ্ঞানে নতুন এক দিগন্ত খুলে দেয় এবং পরবর্তী সময়ে মানুষের নানা জৈবিক প্রক্রিয়া বোঝার ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব স্পষ্ট হয়। এই কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৪ সালে ভিক্টর অ্যামব্রোসের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান। নোবেল পাওয়ার পর তাঁর গবেষণা, বিজ্ঞানচর্চা এবং জীবনে এই পুরস্কারের প্রভাব নিয়েই তিনি কথা বলেছেন।</em></p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-05/narf17b5/124926_1373356_jpg_1500x1000_q95_crop_smart_upscale.webp"><figcaption>২০২৪ সালে নোবেলজয়ী মার্কিন জীববিজ্ঞানী গ্যারি বি. রুভকুন</figcaption></figure><p>আমি বলব, নোবেল পুরস্কার জেতার পর আমার জীবন কিছুটা বদলেছে, তবে সেটা নাটকীয়ভাবে নয়। যাঁরাই নোবেল পান, এর আগে তাঁরা আরও অনেক পুরস্কার পান। তাই পুরস্কার পাওয়াটা আমার কাছে একেবারে নতুন কিছু ছিল না। তবে একটা বিষয় আমাকে অবাক করেছিল। সাধারণ মানুষের কাছে নোবেল পুরস্কার নিয়ে আগ্রহটা যে এত বেশি, সেটা আগে বুঝতেই পারিনি। ব্যাপারটা বুঝতে হলে একটা কথা মনে রাখতে হবে। মানবজাতির মাত্র এক শতাংশ মানুষ নোবেল পুরস্কার নিয়ে সত্যিই মাথা ঘামায়। তবে বোস্টনে নোবেল পাওয়ার বিষয়টি বেশ ভালোই আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/chemistry/qlca9d1fyc">প্রতিশ্রুতিশীল পদার্থের নোবেল জয়</a></aside><blockquote>আমি বলব, নোবেল পুরস্কার জেতার পর আমার জীবন কিছুটা বদলেছে, তবে সেটা নাটকীয়ভাবে নয়। যাঁরাই নোবেল পান, এর আগে তাঁরা আরও অনেক পুরস্কার পান।</blockquote><p>আমি কাজের জন্য গ্রিন লাইন ট্রেনে যাতায়াত করি। সেখানে মানুষ আমাকে চিনতে পেরে এগিয়ে এসে কথা বলতে শুরু করত। অবশ্য আমি যে ম্যাট ডেমনের মতো বিখ্যাত হয়ে গেছি—সেটা বলছি না (হাসি)। তবে রাস্তায় হেঁটে গেলে মিলি-ম্যাট ডেমন গোছের সেলিব্রিটি হওয়ার অনুভূতি পাওয়া যায়।</p><p>অন্য অনেক নোবেলজয়ীর মতো আমিও পুরস্কার ঘোষণার পর প্রচুর অনুরোধ পেয়েছিলাম। বেশির ভাগ অনুরোধ আমি খুব একটা গুরুত্ব দিইনি। কারণ সেগুলোর পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল খ্যাতি পাওয়া। তবে একটি অনুরোধ বেশ মজার ছিল। সেটি এসেছিল যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইংল্যান্ড বয় স্কাউটসের কাছ থেকে। আমি সান ফ্রান্সিসকো এলাকায় বয় স্কাউট ছিলাম এবং ঈগল স্কাউট পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছেছিলাম। স্কাউটিংয়ের মাধ্যমেই আমি পাহাড়ের সঙ্গে পরিচিত হই। ১৩ বছর বয়সে স্কাউটদের সঙ্গে থাকতেই আমি ভ্যাকুয়াম টিউবের রেডিও সম্পর্কে জানতে পারি। এক অর্থে সেটাই ছিল জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন মডিউল সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয়।</p><p>যাই হোক, নিউ ইংল্যান্ডের সব ঈগল স্কাউটকে নিয়ে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। আমি আনন্দের সঙ্গেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করি।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/feature/8itfeuyiqn">নোবেল পুরস্কারের সোনার মেডেলে অন্যপাশে কী থাকে</a></aside><blockquote>অন্য অনেক নোবেলজয়ীর মতো আমিও পুরস্কার ঘোষণার পর প্রচুর অনুরোধ পেয়েছিলাম। বেশির ভাগ অনুরোধ আমি খুব একটা গুরুত্ব দিইনি। কারণ সেগুলোর পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল খ্যাতি পাওয়া।</blockquote><p>আরেকটি মজার অনুরোধ এসেছিল ভ্যাটিকানের পন্টিফিক্যাল একাডেমি অব সায়েন্সেস থেকে। এর সঙ্গে নোবেল পুরস্কারের সরাসরি কোনো সম্পর্ক ছিল না। আমার এক বন্ধু মারিয়া জুবার একজন গ্রহবিজ্ঞানী। তাঁর সঙ্গে আমি ২৫ বছর ধরে কাজ করছি। তিনিই আমাকে সেখানে গিয়ে একটি সেমিনার দিতে আমন্ত্রণ জানান। নোবেল পুরস্কার না পেলে হয়তো তারা আমাকে আমন্ত্রণই জানাত না। সেখানে আমাকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়েছিল। আর আমি পোপের সঙ্গে হাত মেলানোর সুযোগও পেলাম। ব্যাপারটা বেশ দারুণ ছিল।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-05/p97t6r7c/Gary_Ruvkun__2024_Nobel_Prize_Laureate_in_Medicine_3__cropped_.jpg"><figcaption>মার্কিন জীববিজ্ঞানী এবং হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের অধ্যাপক গ্যারি বি. রুভকুন</figcaption></figure><p>নোবেল জেতার পরের অনেক স্মৃতিই আমার কাছে খুব প্রিয়। ভোর চারটায় একজন লোকের ফোনে ঘুম ভাঙল। তাঁর গলায় সুইডিশ টান। তখন ধীরে ধীরে বুঝতে পারলাম, ব্যাপারটা সত্যি। সত্যিই আমি নোবেল পুরস্কার পেয়েছি। তারপর হঠাৎ করে একদল সাংবাদিক আমার বাড়িতে এসে হাজির। ভাগ্যক্রমে, সেদিন আমার মেয়ে বাড়িতেই ছিল। সে চিকিৎসক হিসেবে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল। আমার পুরো পরিবারের জন্য ব্যাপারটা ভীষণ আনন্দের ছিল। ফোন আসার সময় আমার স্ত্রী, মেয়ে এবং আমাদের কুকুর—সবাই বাড়িতে ছিল। পুরো ঘটনাটাই আমাদের সবার জন্য দারুণ মজার হয়ে উঠেছিল।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/feature/%E0%A6%86%E0%A6%B2%E0%A6%AB%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%A1-%E0%A6%A8%E0%A7%8B%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%89%E0%A6%87%E0%A6%B2-%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%82-%E0%A6%A8%E0%A7%8B%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B2-%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0">আলফ্রেড নোবেলের উইল এবং নোবেল পুরষ্কার</a></aside><blockquote>ভোর চারটায় একজন লোকের ফোনে ঘুম ভাঙল। তাঁর গলায় সুইডিশ টান। তখন ধীরে ধীরে বুঝতে পারলাম, ব্যাপারটা সত্যি। সত্যিই আমি নোবেল পুরস্কার পেয়েছি।</blockquote><p>বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে বন্ধুরা আমাকে ফোন করে অভিনন্দন জানাতে শুরু করল। তারা খবরটি দেখেই ফোন করেছিল। এরপর রাস্তাঘাটেও মানুষের কাছ থেকে অভিনন্দন পেতে শুরু করলাম। আমরা নিউটনে ৩০ বছর ধরে বাস করছি। এখানকার মানুষ আমাকে চেনে। মূলত কুকুর নিয়ে হাঁটতে বের হওয়ার সময়ই তারা আমাকে দেখেছে।</p><p>আরেকটি মজার স্মৃতি স্টকহোমের। একদিন একটু অবসর পেয়েছিলাম। তখন আমি, আমার স্ত্রী ও মেয়ে একটি ছোট্ট, সাদামাটা রেস্তোরাঁয় বসেছিলাম। সেখানে প্রায় ২৫ বছর বয়সী একদল তরুণ এসেছিল। তারা এসেছিল বন্ধুর বিয়ের আগে ব্যাচেলর পার্টি করতে। তারা আমাদের কাছে এসে হ্যালো বলল। এরপর তারা যত বেশি পানীয় খেতে লাগল, ততই আমার সঙ্গে কথা বলার জন্য ফিরে আসতে লাগল। প্রায় ২০ মিনিট পরপর একজন না একজন এসে আবার কথা বলত। শেষ পর্যন্ত তাদের একজন আমাকে বলল, তার অনাগত ছেলের জন্য আমি যেন একটি সুপারিশপত্র লিখে দিই। আমি পেন্সিল দিয়ে তার জন্য একটি সুপারিশপত্র লিখেছিলাম। এমন ঘটনা তো বানিয়ে বললেও বিশ্বাস হবে না!</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/feature/4lt6y95vxx">নোবেল নিয়ে পাঁচ তথ্য</a></aside><blockquote>বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে বন্ধুরা আমাকে ফোন করে অভিনন্দন জানাতে শুরু করল। তারা খবরটি দেখেই ফোন করেছিল। এরপর রাস্তাঘাটেও মানুষের কাছ থেকে অভিনন্দন পেতে শুরু করলাম।</blockquote><h2><strong>অমর্ত্য সেন</strong></h2><p>ভারতীয় অর্থনীতিবিদ ও দার্শনিক, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক</p><p>১৯৯৮ সালে নোবেলজয়ী (অর্থনীতি)</p><p><em>দারিদ্র্য, দুর্ভিক্ষ ও মানুষের জীবনযাত্রার মান নিয়ে অর্থনীতির প্রচলিত ধারণাকে নতুনভাবে দেখেছেন অমর্ত্য সেন। মানুষের হাতে কত সম্পদ আছে, শুধু তা–ই নয়—সে মানুষটি আসলে কী করতে পারছে, কেমন জীবনযাপন করতে পারছে, সেটাও অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর গবেষণা কল্যাণ অর্থনীতি, দারিদ্র্য ও দুর্ভিক্ষের কারণ এবং মানুষের সক্ষমতা নিয়ে অর্থনীতির চিন্তাভাবনায় বড় পরিবর্তন আনে। এসব কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯৮ সালে তিনি অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। নোবেল পাওয়ার পর তাঁর গবেষণা, হার্ভার্ডে কাজ এবং অর্থনীতির জগতে তাঁর চিন্তার প্রভাব কীভাবে বদলেছে—সেসব নিয়েই তিনি কথা বলেছেন।</em></p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-01-07/936djfmg/AMARTYA-SEN.JPG"><figcaption>নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন</figcaption></figure><p>আমি বলতে পারি না যে নোবেল পুরস্কার আমার জীবনকে খুব বেশি বদলে দিয়েছে। ১৯৯৮ সালে নোবেল পাওয়ার পর আমার গবেষণার দিন নতুন কোনো দিকে ঘুরিয়ে দেয়নি। আমার পেশাগত জীবনেও এর বিশাল কোনো প্রভাব পড়েনি।</p><p>আমি নোবেল পুরস্কারকে বিজ্ঞানে, সাহিত্যে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে মানুষের অর্জনকে স্বীকৃতি দেওয়ার অনেকগুলোর মধ্যে একটি পুরস্কার হিসেবে দেখি। নোবেল পাওয়ার পরও আমি সেই বিষয়গুলো নিয়েই কাজ করে গেছি, যেগুলো আমাকে সব সময় ভাবিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দারিদ্র্যের অর্থনীতি এবং মানুষের উন্নয়ন।</p><aside><a href="https://www.kishoralo.com/feature/zistco9aev">শান্তিতে নোবেল নিয়ে যে ১০টি তথ্য জানা দরকার</a></aside><blockquote>নোবেল পাওয়ার পর বিশেষ করে ভারত ও বাংলাদেশে আমাকে এবং আমার কাজকে ঘিরে অনেক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। অনেক মানুষই সাক্ষাৎকার নেওয়ার জন্য আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে থাকেন।</blockquote><p>নোবেল পাওয়ার একটি ইতিবাচক দিক ছিল, সারা বিশ্বে দরিদ্র মানুষের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি আরও বেশি মানুষের নজরে আসে। এ নিয়ে আগ্রহও বাড়ে। এর নেতিবাচক কোনো দিকের কথা অবশ্য আমার মনে পড়ছে না। তবে একটা কথা বলবো যে নোবেল পাওয়ার পর নানা ধরনের উদ্‌যাপন আর সামাজিক দায়িত্ব পালনে আপনার প্রচুর সময় নষ্ট হতে পারে। এখানে অনেক সামাজিক বাধ্যবাধকতা থাকে, যা আপনাকে কাজ থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে।</p><p>নোবেল পাওয়ার পর বিশেষ করে ভারত ও বাংলাদেশে আমাকে এবং আমার কাজকে ঘিরে অনেক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। অনেক মানুষই সাক্ষাৎকার নেওয়ার জন্য আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে থাকেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-11-03/50gvzo4n/amartya-senkk.jpg"><figcaption>অমর্ত্য সেন</figcaption></figure><p>দরিদ্র শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করবে—এমন একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান শুরু করার ইচ্ছা আমার অনেক দিন ধরেই ছিল। নোবেল পুরস্কার থেকে পাওয়া অর্থ আমাকে ভারতে প্রতীচী ট্রাস্ট শুরু করার সুযোগ করে দেয়। ভারতের শান্তিনিকেতনে আমার পূর্বপুরুষের বাড়ির নাম ছিল প্রতীচী। সেই নামেই ট্রাস্টটির নাম রাখা হয়েছে। এই ট্রাস্টের কাজ হলো ছোট শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা এবং চিকিৎসাসেবা দেওয়া। নোবেল পুরস্কারের অর্থ আমাকে সেইসব কাজে কিছু সম্পদ ব্যয় করার সুযোগ করে দিয়েছে। সেগুলো আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।</p><h4>সূত্র: হার্ভার্ড গেজেট</h4><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/on19uuoozg">ফার্মি কি ভুল করে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছিলেন</a></aside>

অক্টোবর ৫, ২০২৬
ছাত্রদল কি ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেবে?
ছাত্রদল কি ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেবে?

<p>গতকাল রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা হামলা চালান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালাতে দেখা যায়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, এ ঘটনায় চারজন সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।</p><p>ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করার পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও কথা জানিয়েছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বলেন, ‘আমরা ব্যর্থ। আমাদের দ্বারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। আমরা পুলিশকে ফোন দিয়েছি। কিন্তু পুলিশও ভয়ে পালিয়ে গেছে।’ একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে মামলা করা হবে।</p><p>অন্যদিকে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। উক্ত কমিটিকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/ckci43zh48">‘ন্যাস্টি পলিটিকস’ ও হামলার ‘আত্মঘাতী রাজনীতি’</a></aside><p>প্রধানত তিনটি কারণে এই ঘটনা আমাদের জন্য উদ্বেগের। প্রথমত, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের দীর্ঘদিনের নিপীড়ন ও মারধরের স্মৃতি আজও আমাদের মনে তরতাজা। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান শুরুর প্রাক্কালে প্রতিটি ক্যাম্পাসে প্রাথমিক প্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল তৎকালীন ক্ষমতাসীন ছাত্রলীগের নানা নির্যাতনের বিরুদ্ধেই। কেবল চব্বিশের জুলাইয়েই নয়, পুরো আওয়ামী লীগ শাসনামলে বিভিন্ন সময়ে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে বারবার ছাত্র আন্দোলন গড়ে উঠেছে।</p><p>ফলে, এই ধরনের গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম আকাঙ্ক্ষাই ছিল বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেন এই সহিংস পরিবেশ আর ফিরে না আসে। যদিও এই আকাঙ্ক্ষা চব্বিশের পর বারবার হোঁচট খেয়েছে, এখন ক্ষমতাসীন ছাত্রদলের এই আগ্রাসী ভূমিকা সরাসরি আমাদের মনে সেই নিপীড়নের স্মৃতিকে উসকে দিচ্ছে।</p><p>এটাও উল্লেখ করা দরকার, কেবল রাজশাহীতেই নয়, চব্বিশের পর অন্যান্য ক্যাম্পাসেও রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনগুলোকে সহিংস ভূমিকায় দেখা গিয়েছে। এর মধ্যে গত এপ্রিল মাসে রাজধানীর শাহবাগ থানার ভেতরে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ছাত্রদলের হামলার শিকার হয়ে আহত হয়েছিলেন অন্তত ১০ জন সাংবাদিক।</p><p>গত মার্চেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয় দখলচেষ্টার অভিযোগ ওঠে ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে; সে সময় হামলায় ১০ জন সাংবাদিক আহত হন। এই প্রবণতা আশঙ্কাজনক।  </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-04-24/gm7u38o1/DU-journalists.jpeg"><figcaption>রাজধানীর শাহবাগ থানার ভেতরে ছাত্রদলের হামলার ঘটনা ঘটে; ২৪ এপ্রিল ২০২৬</figcaption></figure><p>দ্বিতীয়ত, সাংবাদিকদের ওপর ধারাবাহিকভাবে আক্রমণের একটা প্রবণতা খেয়াল করা যাচ্ছে। রাজশাহীর ঘটনায় যেমন সাংবাদিকেরা বিশেষ লক্ষ্যবস্তু ছিলেন, তেমনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হামলাতে লক্ষ্যবস্তু ছিলেন সাংবাদিক।</p><p>অন্যদিকে গত ২৯ আগস্ট আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের একটি অনুষ্ঠানে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ঝিনাইদহে একজন সাংবাদিক ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের হামলার শিকার হয়েছিল। একইভাবে, শরীয়তপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গত ২৫ আগস্ট বিএনপির একটি কর্মসূচিতে তিন সাংবাদিক মারধরের শিকার হয়েছিলেন।</p><p>আবার, গত ২৩ জুন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জামায়াতের একটি মিছিল শেষে সমাবেশের সময় একজন সাংবাদিক মারধরের শিকার হন। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, রাজনৈতিক দলগুলোর হামলা ও অসহনশীলতার শিকার হচ্ছেন সাংবাদিকেরা। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এভাবে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়া গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য এক মারাত্মক হুমকি।</p><blockquote>দলগতভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করে হয়তো সর্বোচ্চ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়, কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে সাময়িক বরখাস্তের নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু অস্ত্র নিয়ে হামলা করার মতো ঘটনা যে আইনের চোখে একটি মারাত্মক ফৌজদারি অপরাধ, সেই মূল বিষয়টি আলোচনার টেবিল থেকে প্রায়ই হারিয়ে যায়।</blockquote><p>তৃতীয়ত, রাজশাহীর ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। একইভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এপ্রিল মাসের ঘটনার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি এবং দলের পক্ষ থেকেও তদন্ত কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু এর কোনো ফলাফল দেখা যায়নি।</p><p>ওই ঘটনায় শাহবাগ থানা তখন কোনো মামলাও নেয়নি। বাংলাদেশে ঘটা যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর গঠিত ‘তদন্ত কমিটি’গুলোর যে পরিণতি দেখা যায়, এগুলোর বেলাতেও ঠিক একই চিত্র ফুটে উঠছে: কোনো তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আর আলোর মুখ দেখে না।</p><p>ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় জড়িতদের নাম, পদবি ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি মূলধারার সংবাদমাধ্যমেও উঠে এসেছিল। তবু ঘটনার এত দিন পরও কেন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ পাচ্ছে না—সে প্রশ্ন আমাদের তুলতেই হচ্ছে। একইভাবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাতেও সবার নাম পরিচয় মূলধারার গণমাধ্যমেই উঠে এসেছে।</p><p>ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এবারও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে ঠিকই, তবে এই কমিটিও শেষ পর্যন্ত কোনো ফল বয়ে আনবে কি না, সেই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। বাংলাদেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইতিহাস আমলে নিলে আমাদের আবারও হতাশ হওয়ার আশঙ্কাই বেশি। তবু সচেতন নাগরিক হিসেবে আমরা ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা ধরে রাখতে চাই।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/m7a8no77ep">সহিংসতা-উত্তর রাষ্ট্রে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও ইনসাফের প্রশ্ন</a></aside><p>তবে তদন্ত কমিটি গঠনের পাশাপাশি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আমাদের আলোচনায় সেভাবে উঠে আসছে না, তা হলো—বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো খোদ একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। </p><p>দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ এসব সহিংসতাকে ‘পৃথক’ বিবেচনা করা হচ্ছে, যেখানে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে শুধু ‘সাময়িক বহিষ্কার’কেই মেনে নেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনার পর মামলা না নেওয়ার নজিরই এর প্রমাণ। কেবল বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলে এসব সহিংসতার দায়ে জড়িত ব্যক্তিদের কখনোই আদালতের মুখোমুখি বা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় না।</p><p>দলগতভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করে হয়তো সর্বোচ্চ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়, কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে সাময়িক বরখাস্তের নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু অস্ত্র নিয়ে হামলা করার মতো ঘটনা যে আইনের চোখে একটি মারাত্মক ফৌজদারি অপরাধ, সেই মূল বিষয়টি আলোচনার টেবিল থেকে প্রায়ই হারিয়ে যায়।</p><p>তবে আমাদের মনে রাখা জরুরি, ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের পেছনে থাকে শক্তিশালী রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন প্রায়ই অসহায় বোধ করে। ইতিমধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কথায় সেই অসহায়ত্ববোধই ফুটে উঠেছে। </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-05/g9btrj0z/rudh164420261005img-20261005-wa0006.jpg"><figcaption>আন্দোলনরত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা। গতকাল রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষের কক্ষে</figcaption></figure><p>রাজশাহীর ঘটনায় যে ধরনের আগ্রাসী মনোভাব দেখতে পাওয়া গিয়েছে, সেটাকে যদি যথাযথ আইনের আশ্রয়ে না আনা যায়, তাহলে শক্তিশালী রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় ধীরে ধীরে আরও বড় সহিংস ঘটনা ঘটানোর উৎসাহ পাবে।</p><p>যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংঘর্ষ ও সহিংসতার সুদূরপ্রসারী প্রভাব থাকে। এ ধরনের সহিংস পরিবেশ সামগ্রিকভাবে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করে, আর সাংবাদিকদের ওপর হামলা তো খোদ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপরও আঘাত করে। </p><p>আমরা এক দীর্ঘ সহিংস অভিজ্ঞতা পার হয়ে এসেছি। অতীতের সেই তিক্ত স্মৃতির অন্যতম বড় ভুক্তভোগী ছিল খোদ আজকের ক্ষমতাপ্রাপ্ত এই ছাত্রসংগঠনটি। ফলে সেই ইতিহাস থেকে তাদের শিক্ষা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কারণ, এই ধরনের সহিংস রাজনৈতিক আচরণের অন্তিম পরিণতি যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তার জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত ইতিমধ্যেই আমাদের সবার সামনে রয়েছে।</p><p>ফলে, রাজশাহীর ঘটনায় কেবল ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা থেকে পদক্ষেপ নিলেই হবে না, এখানে যে ফৌজদারি অপরাধ সংগঠিত হয়েছে, তার বিরুদ্ধেও যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।</p><ul><li><p><strong>সহুল আহমদ</strong> লেখক ও গবেষক<br>*<em>মতামত লেখকের নিজস্ব</em></p></li></ul>

অক্টোবর ৫, ২০২৬
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নারী প্রার্থী কম হওয়ার ক্ষেত্রে সামাজিক–সাংস্কৃতিক বিশ্বাস কাজ করে: সিইসি
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নারী প্রার্থী কম হওয়ার ক্ষেত্রে সামাজিক–সাংস্কৃতিক বিশ্বাস কাজ করে: সিইসি

নির্বাচন কমিশন নারীদের কার্যকর ও অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর বলে উল্লেখ করেন নাসির উদ্দিন।

অক্টোবর ৫, ২০২৬
যশোরে গরুচোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যা
যশোরে গরুচোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

যশোরের চৌগাছায় গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি (৪৫) নিহত হয়েছেন।

অক্টোবর ৫, ২০২৬
ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি থেকে বোমারু বিমান সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি থেকে বোমারু বিমান সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি আরএএফ ফেয়ারফোর্ড থেকে সব বোমারু বিমান সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পেন্টাগন। এক বিবৃতিতে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, তারা তাদের বোমারু বিমানগুলো ওই ঘাঁটি থেকে সরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিজেদের ঘাঁটিতে নিয়ে গেছেন। চোখ রাখুন বিবিসি বাংলার লাইভ পাতায়...

অক্টোবর ৫, ২০২৬
আবারও দাম বাড়ল এলপি গ্যাসের, কেজিপ্রতি বেড়েছে ২১ টাকা
আবারও দাম বাড়ল এলপি গ্যাসের, কেজিপ্রতি বেড়েছে ২১ টাকা

বাংলাদেশে আবারও বেড়েছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম। অন্যদিকে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের ওপর হামলা শুরু করেছে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সামরিক বাহিনী। বিস্তারিত বিবিসি বাংলার লাইভ পাতায়...

অক্টোবর ৫, ২০২৬
দিল্লিতে নারী বিক্ষোভকারীদের 'হেনস্থা', 'দ্বিতীয় যন্তর মন্তরের' ডাক ককরোচ জনতা পার্টির
দিল্লিতে নারী বিক্ষোভকারীদের 'হেনস্থা', 'দ্বিতীয় যন্তর মন্তরের' ডাক ককরোচ জনতা পার্টির

ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে টানা তিন দিন ধরে বিক্ষোভ হয়েছে দিল্লি ও মুম্বাইতে। আগামী ১০ই অক্টোবর ফের বিক্ষোভ ও মিছিলের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি ও বামপন্থী ছাত্র -যুব সংগঠন।

অক্টোবর ৫, ২০২৬
ব্রাজিলের নির্বাচনের প্রথম দফায় ডানপন্থী ফ্লাভিও বলসোনারোর জয়
ব্রাজিলের নির্বাচনের প্রথম দফায় ডানপন্থী ফ্লাভিও বলসোনারোর জয়

বলসোনারোর ফলাফল প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হয়েছে। ফলে দ্বিতীয় দফায় তিনিই এগিয়ে আছেন বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ প্রথম দফায় বাদ পড়া কয়েকজন প্রার্থীর মধ্যে ডানপন্থী ভোটারদের উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল। আগামী ২৫শে অক্টোবর এই দুই প্রার্থীর মধ্যে দ্বিতীয় দফার ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

অক্টোবর ৫, ২০২৬
পত্রিকা: 'নিরাপত্তা চৌহদ্দি, তবুও অপরাধ বাড়ছে গুলশানে'
পত্রিকা: 'নিরাপত্তা চৌহদ্দি, তবুও অপরাধ বাড়ছে গুলশানে'

আজ ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকাগুলোতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ তৎপরতা বৃদ্ধি নিয়ে পুলিশের নিজস্ব রিপোর্টের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি পরিবহনে জ্বালানির দাম বাড়া এবং বাজারে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

অক্টোবর ৫, ২০২৬
ভালুক থেকে বিশ্রামরত পেঁচার মুখ: ২০২৬ সালের সবচেয়ে মজার ১০টি প্রাণীর ছবি
ভালুক থেকে বিশ্রামরত পেঁচার মুখ: ২০২৬ সালের সবচেয়ে মজার ১০টি প্রাণীর ছবি

২০২৬ সালের নিকন কমেডি ওয়াইল্ডলাইফ অ্যাওয়ার্ডসের ফাইনালিস্টদের মধ্যে রয়েছে একটি ভ্রূকুটি করা পেঁচা, হাসিতে মগ্ন ভালুক এবং অলসভাবে বসে থাকা একটি ম্যান্ট্রিস।

অক্টোবর ৫, ২০২৬
জমি বিক্রি করে, ঋণ নিয়ে, চালেঞ্জ ডিঙিয়ে এশিয়ান গেমসে পদক জিতেছেন ভারতীয় যে নারী খেলোয়াড়রা
জমি বিক্রি করে, ঋণ নিয়ে, চালেঞ্জ ডিঙিয়ে এশিয়ান গেমসে পদক জিতেছেন ভারতীয় যে নারী খেলোয়াড়রা

কোনও পরিবারের সদস্য গরু-বলদ বিক্রি করছেন, কেউ পৈতৃক জমি বিক্রি করছেন, আবার কেউ ঋণ নিচ্ছেন শুধু এই আশায় যে তাদের সন্তান যেন খেলাধুলা চালিয়ে যেতে পারে। নারী খেলোয়াড়দের সামনে চ্যালেঞ্জটা আরও বড়।

অক্টোবর ৪, ২০২৬
ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে কী বুঝাতে চাইলেন
ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে কী বুঝাতে চাইলেন

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে প্রস্তুতির আভাসের মধ্যেই শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বিষয়ে শনিবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী যে মন্তব্য করেছেন তা বেশ কৌতূহল তৈরি করেছে। কী বলেছেন দীনেশ ত্রিবেদী? কী বোঝাতে চেয়েছেন তিনি?

অক্টোবর ৪, ২০২৬
ফাইভ স্টার হোটেলে কর্মপরিকল্পনা করে নারীর সমতা আসবে না: ইসি তাহমিদা
ফাইভ স্টার হোটেলে কর্মপরিকল্পনা করে নারীর সমতা আসবে না: ইসি তাহমিদা

নারীর প্রকৃত সমতা ও অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হলে তৃণমূল ও মাঠপর্যায়ে সরাসরি কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) তাহমিদা আহমদ।

অক্টোবর ৫, ২০২৬
বাংলাদেশি পণ্য ও দক্ষ জনশক্তি নিতে আলজেরিয়ার প্রতি আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
বাংলাদেশি পণ্য ও দক্ষ জনশক্তি নিতে আলজেরিয়ার প্রতি আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো জোরদার করার সুযোগ রয়েছে। আলজেরিয়া বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক ও ফার্মাসিউটিক্যালস পণ্য আমদানি বাড়াতে পারে।”

অক্টোবর ৫, ২০২৬
ঢাবির আন্তঃবিভাগ নীতি বিতর্কে চ্যাম্পিয়ন পিএসিএসডিসি
ঢাবির আন্তঃবিভাগ নীতি বিতর্কে চ্যাম্পিয়ন পিএসিএসডিসি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ‘ইন্টার-ডিপার্টমেন্ট পলিসি ডিবেট কনক্লেভ ২০২৬’-এ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন ডিবেটিং ক্লাব (পিএসিএসডিসি)।

অক্টোবর ৫, ২০২৬
তুরস্কের সঙ্গে এফটিএ আলোচনা এগিয়ে নিতে চান বাণিজ্যমন্ত্রী
তুরস্কের সঙ্গে এফটিএ আলোচনা এগিয়ে নিতে চান বাণিজ্যমন্ত্রী

তুরস্কের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ।

অক্টোবর ৫, ২০২৬
তৃণমূলে ফিরতে ১৫ দিনের আল্টিমেটাম মমতার
তৃণমূলে ফিরতে ১৫ দিনের আল্টিমেটাম মমতার

তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দল ছেড়ে চলে যাওয়া সংসদ সদস্য ও বিধায়কদের ফিরে আসার জন্য ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। 

অক্টোবর ৫, ২০২৬
গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে না সরকার: তথ্যমন্ত্রী
গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে না সরকার: তথ্যমন্ত্রী

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ। 

অক্টোবর ৫, ২০২৬
মবের মুখে পদত্যাগ, স্বপদে ফেরার অপেক্ষায় সিলেটের শিক্ষকরা
মবের মুখে পদত্যাগ, স্বপদে ফেরার অপেক্ষায় সিলেটের শিক্ষকরা

২০২৪ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বর। সরকার পতনের পর দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শুরু হয় শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বিরুদ্ধে আন্দোলন।

অক্টোবর ৫, ২০২৬
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

অক্টোবর ৫, ২০২৬