biology

ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে এক সম্ভাবনাময় অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ

অক্টোবর ২০, ২০২৬
ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে এক সম্ভাবনাময় অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ
ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে এক সম্ভাবনাময় অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ
<p>প্রতিবছর ডেঙ্গু এক ভীতি নিয়ে ফিরে আসে বাংলাদেশে। সংবাদমাধ্যমে প্রতিদিন মৃত্যুর খবর ছাপা হয়। হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বাড়ে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ডেঙ্গুর এই মৃত্যু আমাদের মেনে নিতে হচ্ছে। বাংলাদেশে ওষুধ আবিষ্কারের সংস্কৃতি না থাকায় ডেঙ্গুর মতো জাতীয় জনস্বাস্থ্য সংকটেও আমাদের কিছুই করার থাকে না। উন্নত বিশ্বে ওষুধ বা টিকা আবিষ্কার হলে সরকার হয়তো সেটা কিনতে চায়। কিংবা ওষুধ কোম্পানিগুলো জেনেরিক ওষুধ তৈরি করতে পারে।</p><p>সমস্যা হলো, যে রোগ বাংলাদেশের জন্য সমস্যা, সেটা উন্নত বিশ্বের জন্য সমস্যা না-ও হতে পারে। ডেঙ্গুর বেলাতেও অনেকটা এমনই হয়েছে। পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি নতুন ওষুধ আবিষ্কৃত হয় যুক্তরাষ্ট্রে। ডেঙ্গু যেহেতু আমেরিকার সমস্যা নয়, সুতরাং যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধ আবিষ্কারক প্রতিষ্ঠানগুলো বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে এই রোগের ওষুধ বা টিকা তৈরি করতে চাইবে না। তবুও যে টিকা বা ওষুধ আবিষ্কারের চেষ্টা হচ্ছে না, তা কিন্তু নয়।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/soj2jvjsvm">ডেঙ্গু চিকিৎসায় পেঁপেপাতার রস</a></aside><blockquote>বাংলাদেশের আইসিডিডিআরবি থেকে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্র থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালে ডিইএনভি-২ সেরোটাইপে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি ছিল।</blockquote><p>ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি সেরোটাইপ আছে—ডিইএনভি-১ (DENV-1), ডিইএনভি-২, ডিইএনভি-৩ এবং ডিইএনভি-৪। একেক অঞ্চলে, একেক সময়ে একেক সেরোটাইপের প্রকোপ ও তীব্রতা বেশি থাকতে পারে। এ জন্যই ডেঙ্গুর খুব কার্যকর টিকা তৈরি করা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। ডেঙ্গুর জন্য কয়েকটা টিকা নিয়েই কাজ হয়েছে। বর্তমানে জাপানি প্রতিষ্ঠান তাকেদার (Takeda) একটি টিকা, যা কিউডেঙ্গা (Qdenga) নামে পরিচিত। সেটি বিভিন্ন জায়গায় ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষ করে ভারত সম্প্রতি এই টিকা তাদের নিজেদের দেশের রোগীদের ওপর পুনরায় ফেস-৩ ট্রায়াল করে রোগীদের জন্য ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। </p><p>তবে কিউডেঙ্গা ডেঙ্গুর সব সেরোটাইপের জন্য সমানভাবে কার্যকর নয়। সম্প্রতি বাংলাদেশের আইসিডিডিআরবি থেকে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্র থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালে ডিইএনভি-২ সেরোটাইপে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি ছিল। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে আইইডিসিআর কর্তৃক একটি গবেষণায় দেখা যায়, ২০২৬ সালে ডিইএনভি-৩ সেরোটাইপে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি।</p><p>ডেঙ্গু বাংলাদেশে যেভাবে বছর বছর ফিরে আসছে এবং মহামারিরূপে দেখা দিচ্ছে, একে মোকাবিলা করতে হলে বেশ কিছু পদক্ষেপ একসঙ্গে নিতে হবে। শুধু সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মশা নিধন দিয়ে এর মোকাবিলা করা যাবে না। প্রয়োজন টিকা। প্রয়োজন অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/%E0%A6%A1%E0%A7%87%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A7%81-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8">ডেঙ্গু নিয়ে যা জানা জরুরি</a></aside><blockquote>মোসনোডেনভির হলো প্যান-সেরোটাইপ অ্যান্টিভাইরাল। অর্থাৎ, এটি ডেঙ্গুর যেকোনো সেরোটাইপের বিরুদ্ধেই কার্যকর হবে। প্রি-ক্লিনিক্যাল গবেষণায় তারা সেটাই পরীক্ষা করে দেখিয়েছে।</blockquote><p>ডেঙ্গুর জন্য আমেরিকার এফডিএ কিংবা ইউরোপের ইএমএ থেকে অনুমোদিত কোনো ওষুধ এখনো নেই। ফলে বাংলাদেশের ওষুধ কোম্পানিগুলো জেনেরিক ওষুধ তৈরি করতে পারছে না। তবে এখানে একটা সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। একটি সম্ভাব্য ওষুধ আছে, যেটার নাম মোসনোডেনভির। এটি একটি ছোট অণুর ওষুধ, যা আবিষ্কৃত হয় বেলজিয়ামের কেইউ লুভেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিখ্যাত এক ভাইরোলজিস্টের ল্যাবে। পরবর্তী সময়ে এই ওষুধের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের দায়িত্ব নেয় স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান জনসন অ্যান্ড জনসন। তারা ফেস-১ এবং ফেস-২এ সম্পন্ন করে। কিন্তু এরপর মাঝপথে এসে ট্রায়ালের পরবর্তী ধাপগুলো বন্ধ করে দেয়। সাধারণত কোনো ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বেশি থাকলে বা কার্যকারিতা না থাকলে এ ধরনের ট্রায়াল বন্ধ হয়। তবে বড় বড় প্রতিষ্ঠান এসব কারণ ছাড়াও ওষুধের বাণিজ্যে সম্ভাবনা কম দেখলে অর্থ বিনিয়োগ করে ব্যয়বহুল ট্রায়াল চালিয়ে যেতে চায় না। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মোসনোডেনভিরের বেলাতেও শেষোক্ত কারণটিই ঘটেছে।</p><p>গত বছরের শেষের দিকে জনসন অ্যান্ড জনসন বিখ্যাত দুটি জার্নালে এ-সংক্রান্ত দুটি বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ প্রকাশ করে। তখন এই আর্টিকেলগুলো নজরে আসে। প্রি-ক্লিনিক্যাল ড্রাগ ডিসকভারিতে দীর্ঘদিনের গবেষণার অভিজ্ঞতা থেকে এতটুকু বুঝতে পারি, তাদের সাইন্টিফিক ডেটা খুবই প্রতিশ্রুতিমূলক। খুবই আশাব্যঞ্জক। আর এই আর্টিকেল দুটির ওপর নির্ভর করে বিখ্যাত জার্নাল <em>সায়েন্স</em> একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। মোসনোডেনভির হলো প্যান-সেরোটাইপ অ্যান্টিভাইরাল। অর্থাৎ, এটি ডেঙ্গুর যেকোনো সেরোটাইপের বিরুদ্ধেই কার্যকর হবে। প্রি-ক্লিনিক্যাল গবেষণায় তারা সেটাই পরীক্ষা করে দেখিয়েছে। আরেকটি ভালো দিক হলো, ফেস-১ এবং ২এ-তে মোসনোডেনভিরের কোনো উল্লেখযোগ্য বিষাক্ততা দেখা দেয়নি। প্রোফাইল্যাক্টিক স্টাডিতে এর বেশ ভালো কার্যকারিতা পাওয়া গেছে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/8dudxfqbnn">ডেঙ্গু ভ্যাকসিন গবেষণায় অগ্রগতি কতদূর?</a></aside><blockquote>একটি সম্ভাব্য ওষুধ আছে, যেটার নাম মোসনোডেনভির। এটি একটি ছোট অণুর ওষুধ, যা আবিষ্কৃত হয় বেলজিয়ামের কেইউ লুভেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিখ্যাত এক ভাইরোলজিস্টের ল্যাবে।</blockquote><p>সায়েন্টিফিক আর্টিকেলগুলো পড়ার পর এই ফিল্ডের আরও কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আমাদের আলোচনা-পর্যালোচনা হয়। বাংলাদেশের জন্য এই ওষুধ (মোসনোডেনভির) একটি আশীর্বাদ হতে পারে কি না, তা নিয়ে আমরা ভাবতে শুরু করি। বেলজিয়ামের কেইউ লুভেনের অধ্যাপক ইয়োহান নেইটসের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তাঁর ল্যাবরেটরিতেই এই ওষুধটি আবিষ্কৃত হয়েছে। প্রফেসর নেইটস এবং তাঁর দল মোসনোডেনভিরের ওপর একটি প্রেজেন্টেশনও দেন। আমরা সেই প্রেজেন্টেশনে উত্থাপিত ডেটা থেকেও বুঝতে পারি, এই ওষুধটি ডেঙ্গুর চিকিৎসায় দারুণ এক সম্ভাবনা হতে পারে।</p><p>বাংলাদেশ যদি এই ওষুধটি নিয়ে কাজ করতে চায়, তাহলে বাংলাদেশকে এর ফেস-২বি  ট্রায়াল করতে হবে। একে বলা হয় থেরাপিউটিক ট্রায়াল। বাংলাদেশের আইসিডিডিআরবি এ ধরনের ট্রায়ালে বেশ অভিজ্ঞ। কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে তারা অনায়াসে এটি করতে পারবে। আর ট্রায়াল সফল হলে বাংলাদেশের ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর চাইলে হয়তো এই ওষুধকে ইমার্জেন্সি ইউজ অথরাইজেশন বা জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিতে পারে, ঠিক যেভাবে এফডিএ কিংবা ইএমএ দিয়ে থাকে। ওষুধ লাইসেন্সিং এবং বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে প্রাইভেট ফার্মাগুলো উদ্যোগ নিতে পারে। পুরো কাজটা একটা জাতীয় জোটের মাধ্যমেও হতে পারে, যেহেতু এখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা আবশ্যক।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/events/h4wb3aa1s0">ডেঙ্গু প্রতিরোধে ছাদ-বাগানের জন্য একটি ছোট উদ্ভাবন</a></aside><blockquote>বাংলাদেশ যদি এই মোসনোডেনভির ওষুধটি নিয়ে কাজ করতে চায়, তাহলে বাংলাদেশকে এর ফেস-২বি  ট্রায়াল করতে হবে। একে বলা হয় থেরাপিউটিক ট্রায়াল।</blockquote><p>বাংলাদেশ তার ইতিহাসে কখনো কোনো ওষুধ আবিষ্কার করেনি। এমনকি কোনো নতুন ওষুধের অনুমোদনও দেয়নি। বাংলাদেশ মূলত ডাউনস্ট্রিমের একেবারে শেষভাগে কাজ করে; অর্থাৎ জেনেরিক ওষুধ তৈরি করে বাজারজাত করে। এই ট্রায়াল ও অনুমোদনের কাজটা হতে পারে জাতীয় সংকটে দেশের সায়েন্টিফিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা প্রমাণের একটি চেষ্টা। পৃথিবীর যেকোনো দেশ তার জাতীয় সংকটে এ ধরনের কাজ করে থাকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আমেরিকা একদিকে যেমন ম্যানহাটন প্রজেক্টের মাধ্যমে পারমাণবিক বোমা তৈরি করেছে, অন্যদিকে একই সঙ্গে পেনিসিলিন উন্নয়নেও কাজ করেছে। বিজ্ঞানের যেকোনো প্রজেক্টেই চ্যালেঞ্জ ও অনিশ্চয়তা থাকে। সেটি মাথায় রেখেই জাতীয় সংকটের মুহূর্তে একটি জাতিকে নিজের সক্ষমতা প্রমাণের চেষ্টা করতে হয়।</p><p>মোসনোডেনভিরের এখন পর্যন্ত প্রকাশিত সব সায়েন্টিফিক ডেটা খুবই আশাব্যঞ্জক। পরবর্তী ধাপের চ্যালেঞ্জটা বাংলাদেশ হয়তো নিতে পারে। আর এ জন্য প্রবাসী বিজ্ঞানীরাও যেকোনো সাহায্য করতে এগিয়ে আসবেন বলেই আমার বিশ্বাস।</p><h4>লেখক: স্টাফ সায়েন্টিস্ট, ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো, যুক্তরাষ্ট্র</h4><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/o66yl4t95z">চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৬৫ ভাগই পুরুষ: গবেষণা</a></aside>

Prothomalo

View more
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারকের ঘোষণা আসতে পারে
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারকের ঘোষণা আসতে পারে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের জাপান সফরে বাণিজ্য, কৃষি, মৎস্যসম্পদ, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও বেসরকারি বিমান পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে সমঝোতা বা সহযোগিতা স্মারক ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে।

অক্টোবর ২০, ২০২৬
ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন রেকর্ড পরিমাণ কমেছে, নারী ভোটাররা মুখে ফিরিয়ে নিচ্ছেন তাঁর থেকে:  রয়টার্স/ইপসোসের জরিপ
ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন রেকর্ড পরিমাণ কমেছে, নারী ভোটাররা মুখে ফিরিয়ে নিচ্ছেন তাঁর থেকে: রয়টার্স/ইপসোসের জরিপ

রিপাবলিকানদের জন্য প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেট—যেকোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানো ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছরে তাঁর এজেন্ডা বাস্তবায়নকে কঠিন করে তুলতে পারে।

অক্টোবর ২০, ২০২৬
দশমীতে বাঙালি সাজের অনুপ্রেরণা হতে পারে সেমন্তীর এই লুক
দশমীতে বাঙালি সাজের অনুপ্রেরণা হতে পারে সেমন্তীর এই লুক

অষ্টমী পেরিয়ে আজ নবমী, আগামীকাল বিজয়া দশমী। শেষ মুহূর্তের উৎসবের সাজে যাঁরা সাবেকি বাঙালি রূপ বেছে নিতে চান, তাঁদের জন্য সেমন্তী সৌমীর এই সাবেকি লুক হতে পারে দারুণ অনুপ্রেরণা।

অক্টোবর ২০, ২০২৬
দুই কোরালের ওজন সাড়ে ২৩ কেজি, বিক্রি হলো ৩০ হাজার টাকায়
দুই কোরালের ওজন সাড়ে ২৩ কেজি, বিক্রি হলো ৩০ হাজার টাকায়

কেউ মাছটি স্পর্শ করে দেখছেন, কেউ কোলে নিয়ে ছবি তুলছেন। মাছের ওজন ও দাম জিজ্ঞেস করতে দেখা যায় কয়েকজনকে। পরে মাছটি বিক্রি হয়ে যায়।

অক্টোবর ২০, ২০২৬
মহানবমীর পূজায় শান্তি ও সম্প্রীতি কামনা
মহানবমীর পূজায় শান্তি ও সম্প্রীতি কামনা

দুর্গাপূজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তিথি মহানবমী। এদিন দেবী দুর্গার আরাধনার মধ্য দিয়ে অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভশক্তির বিজয় কামনা করেন ভক্তরা।

অক্টোবর ২০, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীতে পৌঁছেছেন, যোগ দিয়েছেন জনসভায়
প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীতে পৌঁছেছেন, যোগ দিয়েছেন জনসভায়

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো রাজশাহী সফরে এসেছেন তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে তিনি রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে সামরিক বিমানে অবতরণ করেন।

অক্টোবর ২০, ২০২৬
কাইলি জেনার, নাকি ৬১৮ কোটি টাকার অন্তর্বাস, আলোচনায় কোনটি
কাইলি জেনার, নাকি ৬১৮ কোটি টাকার অন্তর্বাস, আলোচনায় কোনটি

<p>অন্তর্বাসটির দামের পাশাপাশি কাইলি জেনারকে মডেল হিসেবে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও আলোচনা, সমালোচনা হচ্ছে। </p><p>বছরের পর বছর ধরে ফ্যাশন ও সৌন্দর্যপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের ফ্যাশন শোর অন্যতম আকর্ষণ ‘ফ্যান্টাসি ব্রা’। এটি পরার সুযোগ পাওয়াটাকে ধরা হয় মডেলদের জন্য বিশেষ সম্মান ও ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। </p><p>প্রথমবারের মতো আইকনিক সেই অন্তর্বাস পরে ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের র্যাম্পে হাঁটলেন মার্কিন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও প্রসাধনসামগ্রী ব্যবসায়ী কাইলি জেনার। ১৯৯৬ সালে প্রথম এই ব্রা পরে র্যাম্পে হেঁটেছিলেন মডেল ক্লদিয়া শিফার।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-20/04qbiogy/0304fc06-7081-4897-9dad-b9370ae4dbfc.jpg"><figcaption>১৯৯৬ সালে প্রথম এই ব্রা পরে র্যাম্পে হেঁটেছিলেন মডেল ক্লদিয়া শিফার</figcaption></figure><p>একই বছর পরে বিভিন্ন সময়ে আলেসান্দ্রা অ্যামব্রোসিও ও আদ্রিয়ানা লিমার মতো মডেলও এটি পরেছিলেন। সর্বশেষ ২০১৮ সালে মডেল এলসা হস্ককে এই বিশেষ ব্রা (অন্তর্বাস) পরতে দেখা গিয়েছিল। আট বছর পর আবারও ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের মঞ্চে ফিরে এল এই ব্রা, মডেল হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে কাইলি জেনারকে। </p><p>ফ্যান্টাসি ব্রার সঙ্গে কাইলি পরেছিলেন রুপালি থং, সাদা মিনিস্কার্ট। পায়ে ছিল স্বচ্ছ হিল। আর পিঠে জুড়ে ছিল বড়, সাদা পালকের ডানা—তাঁর সাজে ফুটে উঠেছিল ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের র্যাম্পের চিরচেনা আবেদন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/style/40rra8sn9b">মিমের মতো করে আপনিও কি পূজায় সাজতে চান</a></aside><p>এবারের ‘ফ্যান্টাসি ব্রা’র আনুমানিক মূল্য ৫ কোটি মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি টাকায় ৬১৮ কোটি ৬০ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের সঙ্গে এটি যৌথভাবে বানিয়েছেন জ্যাকব অ্যান্ড কোংয়ের নকশাকার জ্যাকব আরাবো। </p><p>বিলাসবহুল ঘড়ি আর গয়নার ব্র্যান্ডটির বিরল গয়নার সংগ্রহ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে তৈরি হয়েছে এর নকশা। মূল্যবান ধাতু ও রত্ন দিয়ে তৈরি ব্রাটিতে রয়েছে ক্রিস্টালের কাজ। নিচের দিকে ঝুলে থাকা ঝালর এর সৌন্দর্যে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা। </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-20/d32el23o/anonyig_io_Instagram_kyliejenner_4011497627385571320_12281817.jpg"><figcaption>এবারের ফ্যান্টাসি ব্রাতে কোনো কাপড় ব্যবহার করা হয়নি</figcaption></figure><p>এবারের ফ্যান্টাসি ব্রাতে কোনো কাপড় ব্যবহার করা হয়নি। হিরা ও ১৮ ক্যারেটের সাদা সোনা দিয়ে এটি তৈরি করা হয়েছে। ব্রাটি এমনভাবে নকশা করা হয়েছে, যাতে র্যাম্পে হাঁটার সময় কাইলি জেনারের শরীরের নড়াচড়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এটিও স্বাভাবিকভাবে নড়তে পারে। </p><p>ব্রাটি তৈরি করেছেন ১৫ জন দক্ষ কারিগর। পুরো কাজ শেষ করতে তাঁদের সময় লেগেছে এক হাজার ঘণ্টার বেশি। জ্যাকব অ্যান্ড কোংয়ের দাবি, এটিই এ পর্যন্ত তৈরি সবচেয়ে মূল্যবান ফ্যান্টাসি ব্রা।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/style/jqh5i804e9">পূজার আগে মেরুন ফিটেড গাউনে অভিনেত্রী মন্দিরা চক্রবর্তী, দেখুন ১০টি ছবি</a></aside><p>নকশাকারীর তথ্য অনুযায়ী, ১৮ ক্যারেট সোনা ও ৪ হাজার ৪১০টি হিরা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বিশেষ এই ব্রা। হিরা এবং সোনা মিলিয়ে ওজন হয়েছে ১ হাজার ৩৭৩ দশমিক ৩৯ ক্যারেট। </p><p>তবে সবকিছুর কেন্দ্রে ছিল ৭৫ দশমিক ৫৪ ক্যারেটের উজ্জ্বল কাটের বিরল, গাঢ় হলুদ রঙের হিরাটি। যেটা ‘ফ্যান্সি ভিভিড ইয়েলো’ শ্রেণির। গয়না নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, শুধু এই হীরাটির দামই ২ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি টাকায় ২৭২ কোটি ১৮ লাখ ৬৪ হাজার ২০০ টাকা।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-20/6ho0f8yu/anonyig.ioInstagramjacobandco4011517445369041567209426397.jpg"><figcaption>ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের সঙ্গে এটি যৌথভাবে বানিয়েছেন জ্যাকব অ্যান্ড কোংয়ের নকশাকার জ্যাকব আরাবো</figcaption></figure><p>দামের পাশাপাশি কাইলি জেনারকে মডেল হিসেবে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও আলোচনা, সমালোচনা হচ্ছে। কার্ডাশিয়ান পরিবারের তারকা কাইলি জেনারকে বেছে নেওয়ার কারণেই এ মিশ্র প্রতিক্রিয়া। </p><p>সামাজিক মাধ্যমে কেউ কেউ সিদ্ধান্তটিকে স্বাগত জানালেও অনেকের প্রশ্ন, দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাশন জগতে কাজ করা অভিজ্ঞ সুপারমডেলদের কাউকে কেন এই সুযোগ দেওয়া হলো না। </p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/fashion/3tp37p615d">পূজার মধ্যে কোন স্মৃতি ভাগ করে নিলেন মনামী ঘোষ, দেখুন ১২টি ছবি</a></aside><p>ব্রিটিশ সামাজিক মাধ্যম কৌশলবিদ, বিপণন বিশেষজ্ঞ ও কনটেন্ট নির্মাতা জোয়েল মারলিনারসনের মতে, কাইলিকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তটি ছিল সুপরিকল্পিত। এর মধ্য দিয়ে মডেলিং ও সামাজিক মাধ্যমের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।</p><p>বিবিসি নিউজবিটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ‘কাইলি এমন এক নতুন যুগের প্রতিনিধিত্ব করেন, যেখানে ব্র্যান্ডগুলো গতানুগতিক মডেলের সংজ্ঞায় কে মানানসই সে বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে কাকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করা যাবে, সেটিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।’ </p><p>মারলিনারসনের মতে, তরুণ দর্শকদের সঙ্গে কাইলির ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। তাঁদের অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে তাঁকে অনুসরণ করে। কার্ডাশিয়ান বোনদের নিয়ে তৈরি রিয়েলিটি শো দেখতে দেখতেই বড় হয়েছে এই প্রজন্ম।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-20/8txh5auk/anonyig_io_Instagram_kyliejenner_4011497507587808954_12281817.jpg"><figcaption>কাইলি জেনারকে মডেল হিসেবে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও আলোচনা, সমালোচনা হচ্ছে</figcaption></figure><p>ফ্যাশন জগতের পুরোনো অনুরাগীদের প্রতিক্রিয়া ভিন্ন। যাঁদের স্মৃতিতে নাওমি ক্যাম্পবেলের মতো কিংবদন্তি সুপারমডেলদের স্বর্ণযুগ এখনো উজ্জ্বল, তাঁদের কাছে কাইলিকে এই বিশেষ সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ফ্যাশনের পরিচিত ঐতিহ্যের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। </p><p>কাইলিকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে অনেকেই লিখেছেন, প্রকৃত মডেলদের প্রতিভা ও দক্ষতাকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, একসময়ের আভিজাত্যপূর্ণ এই ফ্যাশন শো এখন মডেলিং দক্ষতার চেয়ে সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয়তাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/fashion/76c1qfiajh">ধূসর টি-শার্ট থেকে বিলাসবহুল ফ্যাশনে, মার্ক জাকারবার্গের বদলে যাওয়া স্টাইল</a></aside><p>তবে ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের প্রধান সৃজনশীল কর্মকর্তা অ্যাডাম সেলম্যানের মতে, কাইলি কেবল ফ্যাশন তারকা নন, তিনি ‘সংস্কৃতির এক শক্তিশালী প্রভাবক’ (ইনফ্লুয়েন্সার)। তাঁর প্রভাব ফ্যাশন, সংস্কৃতি ও টেলিভিশনের গণ্ডিও ছাড়িয়ে গেছে। </p><p>এতে করেই বোঝা যায় ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের মতো দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডগুলো কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না। এমন কাউকে সামনে আনতে চায়, যাঁকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ তৈরি হবে, সংবাদমাধ্যমে শিরোনাম হবে এবং দর্শকদের আকৃষ্ট করে রাখতে পারবে অনেকক্ষণ।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-20/va0ngjjh/anonyig.ioInstagramkyliejenner401149751901307113312281817.jpg"><figcaption>সামাজিক মাধ্যমে কেউ কেউ সিদ্ধান্তটিকে স্বাগত জানালেও অনেকের প্রশ্ন, দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাশন জগতে কাজ করা অভিজ্ঞ সুপারমডেলদের কাউকে কেন এই সুযোগ দেওয়া হলো না</figcaption></figure><p>উল্লেখ্য, দর্শকসংখ্যা কমে যাওয়া, যৌন বৈষম্য, সেকেলে উপস্থাপনা ও বৈচিত্র্যের অভাব নিয়ে সমালোচনার মুখে ২০১৮ সালের পর ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের ফ্যাশন শো বন্ধ হয়ে যায়। ২০২৪ সালে ‘সব ধরনের নারীকে উদ্যাপন’ করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে আবারও ফিরে আসে এই আয়োজন। </p><p>সে বছর প্লাস-সাইজ মডেল অ্যাশলি গ্রাহামসহ বিভিন্ন গড়ন ও বৈশিষ্ট্যের মডেলদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বৈচিত্র্যের ওপর গুরুত্ব দেয় ব্র্যান্ডটি। সমালোচনাকারীরা এটাও বলছে, ফ্যান্টাসি ব্রাকে ঘিরে এই বিপুল আলোচনা সমাজের বাস্তবতা থেকে আমাদের বিচ্ছিন্নতারই প্রমাণ। </p><p>যেখানে মানুষ ঠিকমতো খাবার কিনতে পারছে না, ঘরের বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার সামর্থ্যও অনেকের নেই, সেখানে আমরা কোন বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছি এবং কোথায় অর্থ ব্যয় করছি, তা নিয়ে ভাবার সময় এসে গেছে।</p><p><sup>সূত্র: বিবিসি, বাজার</sup></p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/fashion/6ocqh809z4">লন্ডনে এইচঅ্যান্ডএমের ফ্যাশন শোয়ে হঠাৎ যে কারণে প্রতিবাদ</a></aside>

অক্টোবর ২০, ২০২৬
অস্বীকার, প্রতিহিংসা ও ঘৃণার সংস্কৃতি
অস্বীকার, প্রতিহিংসা ও ঘৃণার সংস্কৃতি

১৯৯৯ সালের জুনে কুমানোভা চুক্তি ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১২৪৪ নম্বর প্রস্তাবের মাধ্যমে কসোভোতে ডিডিআর প্রক্রিয়া শুরু হয়।

অক্টোবর ২০, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন