feature

চাপিলা কি ইলিশের বিকল্প হতে পারে

অক্টোবর ১২, ২০২৬
চাপিলা কি ইলিশের বিকল্প হতে পারে
চাপিলা কি ইলিশের বিকল্প হতে পারে
ইলিশের স্বাদ নিয়ে বাঙালি তর্ক করে না। আগেই মেনে নেয়। এর তেলে আলাদা একটা ঘ্রাণ আছে। শর্ষে-ইলিশ বা ভাপা ইলিশে তুমি তা টের পাবে। চাপিলা সেই উচ্চতায় পৌঁছায় না

Prothomalo

View more
হলি ক্রস স্কুলে ২০২৭ সালে দিবা শাখায় নবম শ্রেণিতে ভর্তি, ছাত্রীর বয়স ১৩ থেকে ১৪ বছর
হলি ক্রস স্কুলে ২০২৭ সালে দিবা শাখায় নবম শ্রেণিতে ভর্তি, ছাত্রীর বয়স ১৩ থেকে ১৪ বছর

<p>হলি ক্রস বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ২০২৬ সালে দিবা শাখায় নবম শ্রেণিতে ছাত্রীদের বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ভর্তির আবেদন ফরম ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯ অক্টোবর ও আগামী ০১ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে বিদ্যালয় থেকে সংগ্রহ করা যাবে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/scholarship/3dnnuny0gp">নেদারল্যান্ডস উচ্চশিক্ষায় দিচ্ছে স্কলারশিপ, আবেদন যেভাবে</a></aside><p><strong>জরুরি তথ্য জেনে রাখুন—</strong></p><p>১. পিতা অথবা মাতা যেকোনো একজনকে ভর্তির আবেদন ফরম সংগ্রহ করতে হবে।</p><p>২. আবেদন ফরমের মূল্য ৩০০ টাকা, যা ফেরত দেওয়া হবে না।</p><p>৩. সঠিক পরিমাণ টাকা সঙ্গে আনতে হবে, কোনো ভাংতি দেওয়া যাবে না।</p><p>৪. এ বিদ্যালয় থেকে দেওয়া আবেদন ফরমটি ছাত্রীর নিজ হাতে পূরণ করতে হবে।</p><p><strong>প্রার্থীর যোগ্যতা—</strong></p><p># প্রার্থীর যোগ্যতা ২০২৭ সালে দিবা শাখায় নবম শ্রেণিতে ভর্তিপ্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী ছাত্রীর বয়স ১ জানুয়ারি ২০২৭ সালে ১৩ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে হতে হবে।</p><p># শিক্ষা বোর্ডের দেওয়া ২০২৬ সালের অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকের বিষয়বস্তু সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান থাকতে হবে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/admission/xm2k17fat1">শহীদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজে নার্সারিতে ছাত্রী ভর্তি, আবেদন শেষ ১৫ নভেম্বর </a></aside><p><strong>পূরণ করা ফরম জমা ও প্রার্থী বাছাই কার্যক্রম—</strong></p><p># তারিখ: ১৩ নভেম্বর ২০২৬ শুক্রবার।</p><p># সময়: দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত। (উপস্থিত হতে হবে: দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে)।</p><p># বিষয়: বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়।</p><p><strong>পুরণ করা ফরমের সঙ্গে নিচের কাগজপত্র জমা দিতে হবে—</strong></p><p>১. জন্মনিবন্ধন সনদের ‘ডিজিটাল রঙিন কপি’ জমা দিতে হবে।</p><p>২. খ্রিষ্টান প্রার্থীদের জন্মনিবন্ধন সনদের ‘ডিজিটাল রঙিন কপি’ এবং বাপ্তিস্ম সার্টিফিকেটের ‘অরিজিনাল কপি’ জমা দিতে হবে।</p><p>৩. প্রার্থীর ২০২৬ সালে পড়াশোনা করা বিদ্যালয়ের স্কুল ড্রেসে পাসপোর্ট সাইজের এক কপি ‘রঙিন ছবি’ ফরমের সঙ্গে লাগিয়ে দিতে হবে।</p><p>৪. পিতা ও মাতার ‘এনআইডি’ একই পৃষ্ঠায় ফটোকপি করে জমা দিতে হবে।</p><p>৫. প্রার্থীর ২০২৬ সালে পড়াশোনা করা বিদ্যালয় হতে ‘প্রত্যয়নপত্র’ জমা দিতে হবে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/n22bjl1ztq">আগের নিয়মেই ফিরছে ক্যাডেট কলেজের ভর্তি পরীক্ষা, ২০২৭–এর সিলেবাস প্রকাশ</a></aside><p><strong>দরকারি তথ্য—</strong></p><p>১. ফলাফল ঘোষণার তারিখ ও ফলাফল <a href="https://holycrossgirlshighschool.com/" target="_blank" rel="nofollow">বিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে</a> জানিয়ে দেওয়া হবে।</p><p>২. নবম শ্রেণিতে ভর্তিপ্রক্রিয়ার সব তথ্য ও সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।</p><p>৩. ভর্তিপ্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী সব ছাত্রীর পিতা-মাতা ও অভিভাবকেরা এই বিদ্যালয়ের প্রচলিত সব নিয়মকানুন মেনে নিতে সম্মত রয়েছেন বলে বিবেচিত হবেন।</p><p>৪. ওপরে দেওয়া সব নিয়মকানুনের সঙ্গে ভর্তির আবেদন ফরম পূরণ করা সব শিক্ষার্থীর পিতা-মাতা বা অভিভাবকদের সম্মতি রয়েছে বলে বিবেচিত হবে।</p><p>#<a href="https://holycrossgirlshighschool.com/" target="_blank" rel="nofollow">বিস্তারিত তথ্য জানতে ওয়েবসাইট: </a></p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/admission/ia19yultx3">হলি ক্রস স্কুলে ২০২৭ সালে প্রথম, ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণিতে ভর্তি, ফরমের মূল্যসহ যা যা জানা প্রয়োজন</a></aside>

অক্টোবর ১২, ২০২৬
এডিস শনাক্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ফাঁদ
এডিস শনাক্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ফাঁদ

গবেষণাপত্র অনুযায়ী, যন্ত্রটির যন্ত্রাংশের খরচ ৯৯ মার্কিন ডলার। দূরবর্তী সার্ভার ব্যবহারে মাসে আরও প্রায় ১৩ ডলার ৫০ সেন্ট লাগে।

অক্টোবর ১২, ২০২৬
হাসপাতালের বারান্দায় ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা
হাসপাতালের বারান্দায় ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা

<p>চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বারান্দার মেঝেতেই চলছে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা। কারও মাথার ওপর নেই ফ্যান, অধিকাংশের চারপাশে নেই মশারি। স্যালাইন দেওয়ার স্ট্যান্ডেরও সংকট। গরমে হাঁসফাঁস করতে থাকা রোগীদের পাশ দিয়েই চলছে অন্য রোগী ও স্বজনদের যাতায়াত। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগীদের।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/7axu2zmh/1.-chattogram-medical-college-hospital-dengue-treatment-jewel-palo-12102026.JPG"><figcaption>ডেঙ্গু ওয়ার্ডের প্রবেশমুখে ফটিকছড়ি থেকে আসা এক রোগী। তিন দিন ধরে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/xkn0wdus/2.-chattogram-medical-college-hospital-dengue-treatment-jewel-palo-12102026.JPG"><figcaption>ট্রলিতে করে রোগী আনা-নেওয়ার সময় বারান্দায় চিকিৎসাধীন রোগীদের গা ঘেঁষে দাঁড়াতে হয় স্বজনদের</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/0zvh7u44/3.-chattogram-medical-college-hospital-dengue-treatment-jewel-palo-12102026.JPG"><figcaption>হাসপাতালের বারান্দায় চিকিৎসা নেওয়া অধিকাংশ ডেঙ্গু রোগীর জন্য নেই মশারি</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/nihtjlug/4.-chattogram-medical-college-hospital-dengue-treatment-jewel-palo-12102026.JPG"><figcaption>কিছুটা স্বস্তি পেতে নিজের খরচে মশারি ও চার্জার ফ্যানের ব্যবস্থা করেছেন এক রোগী</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/h4563t24/5.-chattogram-medical-college-hospital-dengue-treatment-jewel-palo-12102026.JPG"><figcaption>বারান্দায় চিকিৎসাধীন রোগীদের জন্য সংকট রয়েছে স্যালাইন দেওয়ার স্ট্যান্ডেরও</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/fh5fdi0b/6.-chattogram-medical-college-hospital-dengue-treatment-jewel-palo-12102026.JPG"><figcaption>জায়গার অভাবে হাসপাতালের বারান্দার মেঝেতেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে ডেঙ্গু রোগীদের</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/ug2xcyd1/7.-chattogram-medical-college-hospital-dengue-treatment-jewel-palo-12102026.JPG"><figcaption>বারান্দায় ফ্যান না থাকায় ভ্যাপসা গরমে কষ্ট পাচ্ছেন ডেঙ্গু রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা </figcaption></figure>

অক্টোবর ১২, ২০২৬
রিজওয়ানকে বোল্ড করা নাহিদ রানার সেই বল এবং আরও গল্প
রিজওয়ানকে বোল্ড করা নাহিদ রানার সেই বল এবং আরও গল্প

<p>বাংলাদেশের ক্রিকেটে ধূমকেতুর মতো আবির্ভাব তাঁর। হয়ে উঠেছেন গতির সমার্থক। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে গতিময় বোলারের উঠে আসার গল্প ও তাঁর ক্রিকেট–দর্শন নিয়ে কথা বলতে নাহিদ রানার সঙ্গে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল তাঁর ক্রিকেট–জীবন শুরুর দিকের কোচ আলমগীর কবিরকেও। ‘<strong>সঙ্গে</strong> <strong>উৎপল শুভ্র</strong>’ নামে সেই পডকাস্ট শনিবার রাতে পাবলিশ হয়েছে প্রথম আলোর ওয়েবসাইট, ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেলে। সেটির লিখিত রূপ কয়েকটি পর্বে প্রকাশিত হচ্ছে ওয়েবসাইটে। এখানে থাকল শেষ পর্ব।</p><p>পডকাস্টের প্রথম পর্ব: <strong><a href="https://www.prothomalo.com/sports/sports-interview/wyircjgfot" target="_blank">নাহিদ রানাকে খুঁজে পাওয়ার গল্প, নাহিদ রানা হয়ে ওঠার গল্প</a></strong></p><p>পডকাস্টের দ্বিতীয় পর্ব: <strong><a href="https://www.prothomalo.com/sports/sports-interview/1xlbstdwit">টেপ টেনিস থেকে ক্রিকেট বল: নাহিদ রানার উত্থানের সেই সব দিন</a></strong></p><p> নাহিদ রানা, পাকিস্তানের সঙ্গে তো আপনার জীবনের একটা যোগ আছে। পাকিস্তানে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেই সবাই আপনাকে প্রথম চিনেছে। এরপর পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে আরও বেশি। বাংলাদেশ দুবার পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করেছে, একবার পাকিস্তানের মাটিতে, আরেকবার দেশে। দুবারই আপনার বড় অবদান ছিল। তার আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজে টেস্টে প্রথম ৫ উইকেট পাওয়ার অভিজ্ঞতাটা শুনতে চাই। ৫ উইকেট তো বিশেষ ব্যাপারই। তার ওপর ওয়েস্ট ইন্ডিজে, পরিবেশ আলাদা, মানুষজনও একটু অন্য রকম। কেমন ছিল সেই অভিজ্ঞতা?</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> সত্যি বলতে, ৫ উইকেট পাওয়ার পর কিছুক্ষণ ভালো লাগে। তারপর আবার স্বাভাবিক হয়ে যাই। আমি যদি ম্যাচ জিতি, আর ২ উইকেটও পাই, তাতেও ভালো লাগে। কিন্তু ম্যাচ হেরে গেলে ৫ বা ৬ উইকেট পেয়েও সেই ভালো লাগাটা থাকে না।</p><p>আমার দল হেরে গেল, অথচ আমি ৫-৬ উইকেট পেলাম, তখন ভালো লাগাটা আর আগের মতো থাকে না। অন্যদিকে আমি ২ উইকেট পেলাম, কিন্তু দল জিতল, সেই অনুভূতির সঙ্গে অনেক পার্থক্য। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওই ম্যাচে আমরা জিতেছিলাম। আমি দলের জয়ে প্রভাব রাখতে পেরেছিলাম। সে কারণে তখন অনেক আবেগ কাজ করেছিল, খুব ভালো লেগেছিল।</p><p>তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাকে নিয়ে কে কী বলছে, সেসবও দেখতাম। ৫ উইকেট পেয়েছি, জোরে বল করছি, মানুষ কী বলছে, পরদিন পত্রিকায় কী লিখেছে, এসব নিয়ে আবেগ কাজ করত। অল্প বয়সে হয়তো এমনটাই হয়।</p><p> এখন আর করেন না?</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> না, এখন বুঝেছি, মানুষ কী বলল, সেটা নিয়ে আমার এত ভাবার দরকার নেই। আমার কাজই হচ্ছে উইকেট নেওয়া, বাংলাদেশকে ম্যাচ জেতাতে অবদান রাখা। আমি একা ম্যাচ জেতাচ্ছি, এমন নয়। তবে দলকে জেতানোর জন্য নিজের অবদান রাখছি। এই কাজ করার জন্যই আমাকে বাংলাদেশ জাতীয় দলে নেওয়া হয়েছে। এই কাজ করার জন্যই দলের সঙ্গে ফিজিও, ট্রেনারসহ এত মানুষ কাজ করেন। এত দিন পরিশ্রম করে এখানে এসেছি এই কাজটা করার জন্য। তাই এই কাজ নিয়ে অত আবেগপ্রবণ হওয়ার কারণ নেই। আমি নিজেকে বুঝিয়েছি, ‘ইটস মাই জব’, এটা আমার কাজ।</p><p>আপনি যখন ভালো করবেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেখলে মনে হতে পারে, পৃথিবীর সবাই আপনাকে নিয়েই কথা বলছে। কিন্তু বাস্তবতা তেমন নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেখলে নিজের ভেতরে একধরনের তৃপ্তি চলে আসে। আমি যখন বুঝতে শিখলাম, এই তৃপ্তির কারণে আমার ভেতরের ক্ষুধা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে, তখন থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার ও দেখা বন্ধ করে দিয়েছি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-04-20/nryxonzp/Na-Rana-reacts-after-he-taking-5th-Wickets-during-2nd-odi-.jpg"><figcaption>বাংলাদেশের ফাস্ট বোলার নাহিদ রানা</figcaption></figure><p> এখন আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নেই?</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> আমার ফেসবুক পেজ আছে, কিন্তু আমি চালাই না। অন্য একজন চালান। ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টও নেই।</p><p>এখন এমন একটা ডিজিটাল যুগ চলছে, আপনি যা-ই করেন, ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে সেটা সামনে চলে আসতে পারে। আপনি না দেখতে চাইলেও সামনে চলে আসে। নিজের ভালো কিছু দেখলে ভালো লাগে, কিন্তু কেউ খারাপ কিছু বললে রাগও হয়। মনে হয়, আমার নামে এমন কথা বলছে কেন, সামনে পেলে দেখে নেব। মানুষের মাথায় এ রকম চিন্তা আসে।</p><p>আমি ভেবেছি, ভালোটা দেখব না খারাপটা দেখব, সেটা বড় কথা নয়। আমি আমার কাজ করে যাব। আমি ভালো খেললে মানুষ ভালো বলবে। খারাপ খেললে সমালোচনা করবে। ক্রিকেট এমনই একটা জায়গা, যেখানে আলোচনা ও সমালোচনা থাকবে। বাংলাদেশের মানুষ ক্রিকেট আবেগ দিয়ে দেখে। আমিও যখন ক্রিকেট দেখতাম, আবেগ দিয়েই দেখতাম। বাংলাদেশ হারলে বলতাম, ‘কী খেলে!’</p><p>সেই জায়গা থেকে আমি বুঝেছি, মানুষের সঙ্গে বা স্রোতের সঙ্গে নিজেকে ভাসিয়ে দেওয়া উচিত নয়। আমার কাজ কী, সেই কাজটা করতে কী করতে হবে, সেদিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি। আমাকে নিয়ে কে কী বলছে, সেটা দেখার প্রয়োজন নেই। ভালো করলে ভালো বলবে, খারাপ করলে সমালোচনা করবে। তাই ধীরে ধীরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে পুরোপুরি দূরে সরে গেছি।</p><p> আপনি যা করেছেন, সেটা আসলে খুব সহজ নয়।</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> হ্যাঁ, অনেক কঠিন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ফেসবুক এমনভাবে মানুষের মনোযোগ টানে যে চাইলেও এড়িয়ে চলা কঠিন। আপনি যখন ঘরে একা থাকবেন, দেখবেন ফেসবুক না চালালে ইউটিউব চালাচ্ছেন, ইউটিউব না হলে ইনস্টাগ্রাম। কিছু না কিছু চালাতেই ইচ্ছা করে।</p><p>কিছু না দেখলে মনে হয়, কী যেন নেই, ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। মনে হয়, আর কিছু করার নেই। শুরুতে এমন লাগে। পরে ধীরে ধীরে অভ্যাস হয়ে গেলে আর তেমন মনে হয় না।</p><figure></figure><p> তাহলে এখন কী করেন? ধরুন, সফরে আছেন, হোটেলের ঘরে একা, অথবা দেশে খেলা চলছে। ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম দেখেন না। অবসর কীভাবে কাটে?</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> মাঝে মাঝে বই পড়ার চেষ্টা করি, বাসায় কথা বলি। এভাবেই সময় কাটে।</p><p> বই পড়ার অভ্যাস আছে?</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> আগে ছিল না। এখন ধীরে ধীরে অভ্যাস করার চেষ্টা করছি।</p><p> কী ধরনের বই পড়েন?</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> ইসলামিক বই।</p><p>মূলত ধর্মীয় বই পড়েন?</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> হ্যাঁ। আর বাসায় কথা বলি। এমন নয় যে আমি মানুষ নই, আমারও তো মন চায়। কখনো নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে একবার ইউটিউব দেখে নিই।</p><p> ইউটিউবে তো ভালো জিনিসও দেখা যায়।</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> হ্যাঁ, তবে আমি যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি।</p><figure></figure><p> এখন যেসব বড় বড় বোলার আপনার প্রশংসা করছেন, তাঁদের নাম শুনছেন আমার মুখে, অন্যদের কাছেও শুনছেন। তাঁরা একসময় অনেক বড় বোলার ছিলেন, খুব জোরে বল করতেন। ইউটিউবে কি তাঁদের বোলিংয়ের ভিডিও দেখেন?</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> এখন একটা বিষয় বুঝি। আমরা অনেক সময় একজনের সঙ্গে আরেকজনের তুলনা করি, প্রতিযোগিতায় নামিয়ে দিই। বলা হয়, ‘ও ভালো করছে, তোমাকেও ওর মতো হতে হবে।’ কিন্তু বিষয়টা এ রকম নয়। একজন এক রকম, আরেকজন আরেক রকম। আমি নাহিদ রানা, আমি আমার মতো। আমি যদি ফিজ ভাইয়ের মতো হতে চাই, তাহলে ফিজ ভাইয়ের মতো হতে পারব না। আমার নিজের মধ্যে কী সামর্থ্য আছে, সেটাই বুঝতে হবে।</p><p> আমি অবশ্য অন্য কারও মতো হওয়ার কথা বলছি না। আপনার কৌতূহলের কথা জানতে চাইছি। আপনি যখন বড় হচ্ছিলেন, তখন কি কোনো প্রিয় বোলার ছিলেন? টেলিভিশনে তো অনেকের খেলা দেখেছেন। আমাদের সময়ে সবাইকে দেখা সম্ভব হতো না। অনেকের সম্পর্কে পড়েছি, শুনেছি। কিন্তু এখন ইউটিউবে চাইলে ওয়াসিম আকরামের সেরা বোলিং দেখতে পারবেন, একটার পর একটা ভিডিও আসতেই থাকবে। আপনার কি এমন কোনো বোলার ছিলেন, যাঁর বোলিং দেখে ভালো লাগত? যাঁকে আদর্শ মনে করতেন?</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> আমি যখন থেকে একটু একটু করে খেলা বুঝতে শিখেছি, তখন বাংলাদেশ ছাড়া অন্য দলের খেলা খুব একটা দেখতাম না। সব সময় খেলাধুলা করতাম। নিজে খেলেই সময় পেতাম না, খেলা দেখার চেয়ে খেলতেই বেশি ভালো লাগত।</p><p>ছোটবেলায় খেলা খুব একটা বুঝতাম না। পরে যখন বুঝতে শিখলাম, তখন বাংলাদেশের সবার খেলাই ভালো লাগত। ছোটবেলায় বাংলাদেশের ক্রিকেট বলতে শাকিব ভাই, তামিম ভাই, মুশফিক ভাই, মাশরাফি ভাই, রিয়াদ ভাই, এই নামগুলোই বেশি শুনতাম। পরে ধীরে ধীরে আরও অনেকে এলেন। শান্ত ভাই, লিটন ভাই, এঁদের খেলাও দেখেছি।</p><p>আপনি যেহেতু ফাস্ট বোলার, বোলারদের মধ্যে এমন কেউ ছিলেন, যাঁর বোলিং দেখে ভালো লাগত?</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> বলতে গেলে ফিজ ভাই ও তাসকিন ভাইয়ের বোলিং ভালো লাগে। তবে আমি কাউকে অনুসরণ করে তাঁর মতো হওয়ার চেষ্টা করি না।</p><p> আপনি তো স্বদেশি পণ্য কিনে ধন্য হওয়ার পক্ষে! দেশের বাইরের কাউকে দেখবেন না?</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> না, আসলে আমি কাউকে অনুসরণ করে তাঁর মতো হওয়ার চেষ্টা করি না। তবে ছোটবেলা থেকে যাঁদের খেলা দেখে ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা বেড়েছে, তাঁদের কথা বলতে পারি। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের খেলা দেখেই আমার ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা আরও বেড়েছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-12-17/npp6ladf/Mustafiz-Nahid-Rana-during-practice-2.jpg"><figcaption>মোস্তাফিজ ও নাহিদ রানা। বাংলাদেশ দলের অনুশীলনে</figcaption></figure><p> ফিজ কোথায় আলাদা? সারা পৃথিবী জানে, সে খুব ভালো কাটার করতে পারে। কাটার মাস্টার বলা হয় তাকে। আপনি কি কখনো মোস্তাফিজের মতো কাটার করার চেষ্টা করেছেন? কেন করেননি?</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> ফিজ ভাইয়ের চিন্তাভাবনা আলাদা। শুধু চিন্তা করলেই তো স্কিল চলে আসে না। তাঁর কবজি বা হাতের কাজে হয়তো বিশেষ কিছু আছে, যেটা জন্মগতভাবেও এসেছে। তাঁর কাটার করার ক্ষমতাটা ছোটবেলা থেকেই স্বাভাবিকভাবে ছিল। কিন্তু তিনি ছোটবেলা থেকে বারবার সেটা করতে করতে নিজের মধ্যে তৈরি করেছেন। না চাইলে বা নিয়মিত চেষ্টা না করলে তো আর এটা হতো না।</p><p>এখন তিনি কাটারের মাস্টার। কোন সময়ে কী করতে হবে, সেটা তিনি জানেন। নিজের শরীর ও সামর্থ্যও বোঝেন। কোন সময়ে কোন জিনিসটা দরকার, সেটা বুঝতে পারাই তাঁকে আলাদা করেছে। তাঁর চিন্তাভাবনাও ভালো, ইতিবাচক। এসব বিষয় তাঁকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করেছে।</p><p> বাংলাদেশের পেস বোলারদের মধ্যে কে আপনাকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছেন? আপনার জীবনযাপন, চিন্তাভাবনা নিয়ে যে কথা বললেন, সেগুলো তো আদর্শ মানসিকতা। আপনি তাঁদের সঙ্গে দিনরাত মিশছেন। আলমগীর যখন খেলতেন, তখন আমাদের পেস আক্রমণ এখনকার মতো ছিল না। আলমগীর, আপনার সঙ্গে কে কে খেলতেন? মঞ্জু?</p><p><strong>আলমগীর কবির:</strong> মঞ্জু ভাই ছিলেন, আমি ছিলাম, তাপস ছিলেন, আনোয়ার হোসেন মনি ছিলেন। আনোয়ার হোসেন মনি জিম্বাবুয়েতে অনুশীলন ম্যাচে খুব ভালো বোলিং করেছিলেন। এরপর তারেক আজিজ ছিলেন। তারেক আজিজ আমাদের জিম্বাবুয়েতে ওয়ানডে জিতিয়েছিলেন।</p><p>আমরা এই কজনই ছিলাম। মাশরাফি চোটের কারণে মাঝেমধ্যে দলে আসত, আবার বাইরে চলে যেত। তারপরও মনে হতো, ও বাংলাদেশের অন্যতম সেরা বোলার। ওর সঙ্গে আমরা যদি একটু সঙ্গ দিতে পারি, তাহলে হয়তো আমাদের বোলিং আক্রমণ আরও ভালো হবে। সেই চিন্তাটা আমাদের মধ্যেও কাজ করত।</p><p> এই প্রসঙ্গটা তুললাম এ কারণে, এখন ধরুন, আপনি, শরিফুল, তাসকিন, খালেদ, হাসান মাহমুদ, সাকিব, আরও দু-একজন। আমি ক্রম অনুযায়ী বলছি না। খালেদ এখন টেস্ট দলে নেই, কিন্তু কাউন্টিতে খুব ভালো করেছে। সাকিবও চোটের কারণে কিছুটা বাইরে। আমাদের হাতে এখন পাঁচ-ছয়জন, কখনো সাত-আটজন মানসম্পন্ন পেসার আছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন পুল আগে কখনো ছিল না। প্রত্যেকের শক্তির জায়গা আলাদা। আপনি হয়তো খুব জোরে বল করেন, তাসকিন অন্য কিছু ভালো পারেন, হাসান মাহমুদ আরেক ধরনের বোলার।</p><p>সব মিলিয়ে আপনাদের মধ্যে একটা পেস বোলিংয়ের দল আছে। পেস বোলারদের তো জুটি বেঁধে বোলিং করতে হয়। ব্যাটিংয়ে যেমন পার্টনারশিপ হয়, বোলিংয়েও হয়। আপনি ভালো বল করছেন, আরেকজন সমানে রান দিয়ে যাচ্ছেন, সেটা হলে তো হবে না।</p><p>আপনাদের মধ্যে বোঝাপড়া কেমন? নিজেদের মধ্যে কি স্কিল বা জ্ঞান ভাগাভাগি করেন? আপনি একটা জিনিস ভালো পারেন, সেটা তাসকিনকে বলেন। ফিজ একটা জিনিস পারেন, সেটা আপনাকে বলেন। এই ব্যাপারটা কেমন?</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> সত্যি কথা বলব তো? একটা ঘটনা বলি। আমি যখন জাতীয় দলে নতুন এসেছিলাম, তখন ফিজ ভাই, তাসকিন ভাই, তাঁরা বাংলাদেশের বড় তারকা। আমি নতুন একটা ছেলে। কিন্তু তাঁরা আমাকে এমনভাবে দলে আপন করে নিয়েছিলেন, এমনভাবে মিশেছিলেন, আমার কখনো মনে হয়নি, আমি নতুন। এমনও মনে হয়নি, যাঁদের খেলা টেলিভিশনে দেখে এসেছি, তাঁদের সঙ্গে এখন একসঙ্গে খেলছি, বোলিং করছি।</p><p>পেস বোলিংয়ের এই সংস্কৃতিটা আমি তাঁদের কাছ থেকে শিখেছি। এখন আমার কাছে যারা জুনিয়র, তাদেরও আমি নতুন বলে অনুভব করতে দিই না। কারণ, আমি ফিজ ভাই ও তাসকিন ভাইদের কাছ থেকেই শিখেছি।</p><p>তাঁরা আমাকে এমনভাবে আপন করে নিয়েছিলেন, এমনভাবে ভুল ধরিয়ে দিতেন, যেন তাঁরা জীবনে অনেক কিছু অর্জন করেছেন, সেটা বোঝানোর কোনো প্রয়োজনই নেই। কথাটা হয়তো আগে কখনো মিডিয়ায় বলতাম না, কিন্তু বলছি, পেস বোলারদের মধ্যে এই বিষয়টা আমি শুরু থেকেই দেখেছি। সিনিয়র-জুনিয়র বলে সম্মানের জায়গা অবশ্যই আছে, কিন্তু একসঙ্গে খেতে বসলে বা মাঠে গেলে আমরা বন্ধুর মতো থাকি।</p><p>আমার কোনো সমস্যা হলে তাসকিন ভাই বা ফিজ ভাই নিজেরাই বলে দেন। অনুশীলনে আমার কোথাও ভুল হলে তাঁরা এগিয়ে এসে বুঝিয়ে দেন। এমন নয় যে তাঁরা ভাবেন, ‘আমি সিনিয়র, ও জুনিয়র। ও নিজে এসে জিজ্ঞেস করলে বলব।’ এই মানসিকতা আমাদের পেস বোলারদের মধ্যে নেই। এটাই আমাদের আলাদা করেছে।</p><p>আমাদের কারও খারাপ হলে অন্যরা সমর্থন দেওয়ার চেষ্টা করে। আমার খারাপ হলে সবাই আমাকে সমর্থন করে। অনুশীলন থেকে ম্যাচ পর্যন্ত, সব জায়গায়। শুধু অনুশীলন বা ড্রেসিংরুমে নয়, মাঠের বাইরেও আমাদের বোঝাপড়া ভালো। মাঠের ভেতরে এক রকম, বাইরে আরেক রকম, এমন নয়। আমরা সব জায়গায় একই রকম। পেস বোলিং গ্রুপটাকে একটা পরিবারের মতো বলতে পারেন। ছোট-বড় ভাইদের মধ্যে যেমন একটা বন্ধুমহল থাকে, আমাদেরও তেমন।</p> <p> ক্রিকেটারদের আমি সব সময় একটা কথা বলি। পরিবারের সঙ্গে যতটা সময় কাটে, তার চেয়ে বেশি সময় কাটে সতীর্থদের সঙ্গে। ট্যুরে মাসের পর মাস, অনুশীলনে, ক্যাম্পে, একসঙ্গে থাকতে হয়। নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক ভালো না হলে টিকে থাকা কঠিন।</p><p>আপনাদের পেস বোলিংয়ের যে দলটার কথা বললাম, সেখানে নাহিদ, তাসকিন, মোস্তাফিজ, হাসান মাহমুদ, খালেদ, সাকিব, আরও কয়েকজন আছেন। কারও মধ্যে এমন কোনো বিশেষ গুণ আছে, যেটা আপনি খুব পছন্দ করেন? এমন নয় যে সেটা আপনার নিজেরও থাকতে হবে। অন্য কারও কোনো দিক কি আপনাকে প্রভাবিত করেছে?</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> তানজিম সাকিবের ফিটনেস দেখে আমি নিজের মধ্যে একটা জিনিস আনার চেষ্টা করেছি। আলহামদুলিল্লাহ, অনেকটাই পেরেছি। ওর ফিটনেস দেখে আমার মনে হতো, আমিও তানজিম সাকিবের মতো শরীর তৈরি করব, নিজের ফিটনেস ওর মতো করব।</p><p>আমি যখন জাতীয় দলে আসি, তখন তানজিম সাকিব ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টি খেলত। পেসারদের মধ্যে ওর ফিটনেস খুব ভালো ছিল। শুরুতে ওর ফিটনেস দেখে একটু ঈর্ষাও হতো। মনে মনে ভাবতাম, ওর চেয়েও ভালো ফিটনেস তৈরি করব।</p><p>তানজিম সাকিব আমার সিনিয়র, কিন্তু আমার সঙ্গে সব সময় এমনভাবে আচরণ করে, যেন সিনিয়র বন্ধু। ওর কাছ থেকে আমি মূলত ফিটনেসের বিষয়টাই নিয়েছি। আমার ফিটনেস আগে থেকেই ভালো ছিল হয়তো, কিন্তু ওর শরীরের গঠনটা অনেক অ্যাথলেটিক। একজন অ্যাথলেটের শরীরে যে ধরনের গঠন থাকা দরকার, ওর মধ্যে সেগুলো আছে। ওকে দেখে মনে হয়েছিল, এই বিষয়টা আমাকেও নিজের মধ্যে আনতে হবে। আলহামদুলিল্লাহ, মোটামুটি পেরেছি।</p><p> তানজিম সাকিবের চোটটা দুর্ভাগ্যজনক। পেসারদের তো চোট হয়ই। তবে ওর ক্ষেত্রে মনে হচ্ছে, সময় লাগবে।</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> হ্যাঁ, কারণ ফ্র্যাকচার হয়েছে। ফ্র্যাকচার হলে অস্ত্রোপচার করতে হয়, না হলে স্বাভাবিকভাবে সেরে উঠতে অনেক সময় লাগে।</p><p> পিঠে, মেরুদণ্ডে?</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> না, পিঠে।</p><p>  মেরুদণ্ডে অস্ত্রোপচার করে ফিরে আসার উদাহরণ হিসেবে ডেনিস লিলির কথা বলা যায়। আপনার স্যারও তাঁকে চেনেন। চোটের পরও তাঁর ফিরে আসা ছিল অসাধারণ, যদিও ব্যাপারটা খুব কঠিন।</p><p>একটু আগে বললেন, ৫ উইকেট পেলেও দল না জিতলে সেই আনন্দ থাকে না। আবার ২ উইকেট নিয়ে দল জিতলে আনন্দটা বেশি। ঠিক আছে। কিন্তু ধরুন, আপনি পঞ্চম উইকেটটা পেলেন ঘণ্টায় ১৪৭ কিলোমিটার গতির বলে। বলটা অফ স্টাম্পের বাইরে পড়ল। ব্যাটসম্যান ভাবলেন, ছেড়ে দিলে বাইরে চলে যাবে। কিন্তু বলটা শাঁ করে ভেতরে ঢুকে স্টাম্প ভেঙে দিল। আর সেটাই আপনার ৫ উইকেট পূর্ণ করল। এই আনন্দের তো তুলনা হয় না। এমন আনন্দ পেয়েছেন কখনো?</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> এই আনন্দটা মুহূর্তের। মাঠে যতক্ষণ থাকি, ততক্ষণ থাকে।</p><p> কিন্তু এমন আনন্দ পেয়েছেন?</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> হ্যাঁ, শেষ বলে এ রকম করে ৫ উইকেট পেয়েছি। আনন্দ হয়েছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-05-12/hsf02two/WhatsApp_Image_2026_05_12_at_4_30_30_PM.jpeg"><figcaption>নাহিদ রানার বল ছেড়ে দিয়ে বোল্ড রিজওয়ান</figcaption></figure><p> আমি কী বলছি, বুঝতে পেরেছেন? মোহাম্মদ রিজওয়ান। অফ স্টাম্পের বাইরে থেকে বল ভেতরে ঢুকে তাঁকে বোল্ড করেছিল।</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> হ্যাঁ, তবে তখন দলেরও ওই উইকেটটা খুব দরকার ছিল। রিজওয়ান দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন, একটা পার্টনারশিপও হচ্ছিল। ওভার কম ছিল, সময়ও কম ছিল। ওই সময়ের মধ্যে আমাদের অলআউট করতে হতো। এটা মিরপুরে হয়েছিল।</p><p>আমি আগে থেকে ভেবে রাখিনি যে ওই বলেই উইকেট নেব। পরিস্থিতি যা দাবি করছিল, সেই অনুযায়ী চেষ্টা করেছি। পরিকল্পনাটা কাজে লেগেছে।</p><div><div><p> দর্শকদের বলি, পাকিস্তানের সঙ্গে মিরপুর টেস্টের কথা বলছি। বাংলাদেশ পাকিস্তানে গিয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে এসেছিল। রাওয়ালপিন্ডিতে দুই টেস্টেই জিতেছিল বাংলাদেশ। এরপর মিরপুরে বাংলাদেশের মাটিতে প্রথম টেস্ট। সেখানেই নাহিদ রানা মোহাম্মদ রিজওয়ানকে বোল্ড করেন। অফ স্টাম্পের বাইরে থেকে বলটা ভেতরে ঢুকে যায়। এটাকে রিভার্স সুইং বলি, নাকি লেট সুইং, সেটা আলাদা কথা। এই ধরনের বল কি আলমগীর কবিরই নাহিদকে শিখিয়েছিলেন?</p></div><div><p><strong>আলমগীর কবির:</strong> রিভার্স সুইং নিয়ে এখন বাংলাদেশের পেস বোলারদের কোচরা সবাই কাজ করেন। একটা সময় রিভার্স সুইং করলে বলা হতো বলের সঙ্গে কারসাজি করা হচ্ছে। ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনিসের সময়ও এ ধরনের কথা উঠত। সবাই বলত, তাঁরা কীভাবে বলটা এভাবে ঘোরাচ্ছেন!</p><p>এখন রিভার্স সুইংয়ের ব্যাপারটা সবাই জানে। এটা ফাস্ট বোলিংয়ের অপরিহার্য অংশ হয়ে গেছে। একটা টেকনিক বা কৌশল, যেটাই বলুন, এখন বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচরাও এটা নিয়ে কাজ করেন। তাঁরা পেসারদের ভালোভাবেই রিভার্স সুইং শেখাচ্ছেন।</p></div></div><p> বাংলাদেশ দলে সবচেয়ে ভালো রিভার্স সুইং কে করান?</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> সবাই ভালো করান। এটা একজনের পক্ষে একা করা সম্ভব নয়। বলকে ঠিকভাবে তৈরি করতে হয়। আমাদের দলে একজন নির্দিষ্ট খেলোয়াড় থাকেন, যিনি মিড অন বা মিড অফে থেকে বলের যত্ন নেন। সবাইকেই সাহায্য করতে হয়। একজন যদি বলটা ঠিকভাবে তৈরি করে দেন, তাহলে তো কাজটা সহজ হয়ে যায়।</p><p>একজনের নাম বলা কঠিন। দলে অনেকেই আছেন। মুশফিক ভাই থাকেন, এখন অবশ্য তিনি ফিল্ডার। অধিনায়কেরও এখানে ভূমিকা আছে। বলের যত্ন নেওয়া, মাঠে কাকে কোথায় রাখা হবে, কোন বোলারকে কখন বল দেওয়া হবে, এসবই অধিনায়কের পরিকল্পনার অংশ। শান্ত ভাই, মুশফিক ভাই, সৌরভ ভাই, মুমিনুলসহ আরও তরুণ খেলোয়াড়েরা বলের যত্ন নেন। সবাই মিলে কাজটা করেন। তাই একজনের নাম বলা কঠিন।</p><p> হ্যাঁ, বল তো একেক সময় একেকজনের কাছে যায়। সবাইকেই কাজটা করতে হয়।</p><p>আচ্ছা, পাকিস্তানের প্রসঙ্গে আরেকটু আসি। বাংলাদেশ প্রথমবার পাকিস্তানে যাওয়ার আগে যদি কেউ বলত, বাংলাদেশ সেখানে গিয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে আসবে, তাহলে আমরা হয়তো বলতাম, লোকটার মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তা–ই না, আলমগীর?</p><p><strong>আলমগীর কবির:</strong> অবশ্যই। আগে বললে সবাই এমনই ভাবত।</p><p> এরপর বাংলাদেশ পাকিস্তানে গিয়ে ২-০ ব্যবধানে জিতল। তখন মনে হলো, ঠিক আছে, পাকিস্তানে জিতেছে, এবার দেশে এসেও জিততে পারে। কিন্তু এরপর আবার বাংলাদেশ ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতল। এটা অবিশ্বাস্য।</p><p>আপনার ক্যারিয়ার খুব দীর্ঘ নয়। ১২টি টেস্টের মধ্যে পাকিস্তানের মতো দলের বিপক্ষে এমন সাফল্য পেয়েছেন। একটা সময় পাকিস্তান ক্রিকেটে আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিল। এখন টানা চারটি টেস্ট জেতার পর হয়তো বলা যায়, বাংলাদেশও এগিয়ে আছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা চার টেস্ট জেতা আপনার ক্যারিয়ারের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অর্জন কি না, জানতে চাই।</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> এখন পর্যন্ত হতে পারে। সামনে তো আরও অনেক কিছু আছে।</p><p> পাকিস্তানে যাওয়ার সময় কি সত্যিই ভেবেছিলেন, জিততে পারবেন? শান্ত তো আমাকে বলেছিলেন, তাঁরা জেতার জন্যই যাচ্ছেন।</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> হ্যাঁ, অবশ্যই। শান্ত ভাই অধিনায়ক ছিলেন। তিনি তো বলবেনই। তাঁর চিন্তাভাবনা খুব ইতিবাচক। মানসিকভাবেও তিনি শক্তিশালী। মাঠে একজন খেলোয়াড়ের আচরণ দেখেই বোঝা যায়, কে মানসিকভাবে শক্ত, আর কে শুধু কথা বলে। কেউ কথা বলে, আবার মাঠে সেটার প্রমাণও দেয়। শান্ত ভাইয়ের মধ্যে এই বিষয়টা আছে।</p><p> এখন পর্যন্ত কয়জন অধিনায়কের অধীনে খেলেছেন? শান্ত, লিটন...</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> শান্ত ভাই, লিটন ভাইয়ের অধিনায়কত্বে একটাই টি-টুয়েন্টি খেলেছি। আর মিরাজ ভাইয়ের অধীনেও খেলেছি।</p><figure></figure><p> অধিনায়কদের তুলনা করতে গেলে একটু ঝুঁকি আছে। সবাই ভালো, প্রত্যেকের নিজস্ব ধরন আছে। তাঁদের চিন্তাভাবনাও আলাদা।</p><p>কিন্তু আপনি যখন বোলিং করেন, ফিল্ড সেটিংয়ের ক্ষেত্রে অধিনায়কেরা কি আপনার মতামত নেন? আপনার কথা কি মূলত শোনা হয়? কখনো কি এমন হয়েছে, আপনি আরেকটা স্লিপ বা গালি চাইছেন, কিন্তু অধিনায়ক ভাবছেন, এখন একটু রক্ষণাত্মক হওয়া দরকার, তাই আপনাকে অন্য জায়গায় বল করতে পাঠিয়ে দিলেন?</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> এটা নির্ভর করে অধিনায়ক আপনার ওপর কতটা বিশ্বাস করেন। বিশ্বাস তো এক দিনে তৈরি হয় না। আমি যদি প্রথম ম্যাচেই গিয়ে বলি, ‘ভাই, এটা চাই, ওটা চাই’, তাহলে অধিনায়কের পক্ষে সবকিছু দেওয়া কঠিন। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক বছর খেলার পর যদি অধিনায়কের আপনার ওপর বিশ্বাস তৈরি হয়, তখন বিষয়টা সহজ হয়ে যায়।</p><p>আমি যদি অতিরিক্ত একটা স্লিপ চাই, আর অধিনায়ক বিশ্বাস করেন যে সেটা দিলে উইকেট পাওয়ার সম্ভাবনা আছে, তাহলে তিনি দেবেন না কেন? দুজনের লক্ষ্যই তো ভালো করা। অধিনায়কের মনে হলে আমার চাওয়া ফিল্ডিং সাজালে উইকেট আসতে পারে, তাহলে তিনি নিশ্চয়ই সেই সুযোগ দেবেন।</p><p> পাকিস্তান সিরিজটা আপনার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন কি না, সেটা কিন্তু এখনো সরাসরি বললেন না।</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> আসলে দেশের জন্য আমি এখনো খুব বেশি কিছু করতে পারিনি। আমার ইচ্ছা, দেশের জন্য যখন সত্যিই কিছু করতে পারব, তখন নিজেই মিডিয়ার সামনে এসে বলব। আমার মনে হয় না, এখন পর্যন্ত আমি খুব বেশি কিছু করেছি।</p><p> আমি কিন্তু বলছি না, আপনি অনেক কিছু করে ফেলেছেন। আমি বোঝাতে চাইছি, আলমগীর যে সময় খেলেছেন, তখন সব দেশেই একটা সময় ছিল, যখন বাংলাদেশের টেস্ট খেলা বা ওয়ানডে জেতার হিসাব মুখস্থ বলা যেত। ২০০৪ সালে জিম্বাবুয়ে সফরে আপনি ছিলেন না? ওয়ানডে দলে ছিলেন না, টেস্ট দলে ছিলেন?</p><p><strong>আলমগীর কবির:</strong> টেস্টে ছিলাম।</p><p>এরপর ওয়ানডে হয়েছিল, তাই না? বাংলাদেশ তখন টানা ৪৭টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেও জিততে পারেনি। ৪৫টি হেরেছিল, দুটি ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়েছিল। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারানোর পর ২০০৪ সালে গিয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয় এসেছিল। টেস্টেও পরিস্থিতি অনেকটা এমনই ছিল।</p><p>এই জন্যই বলছি, ১২টি টেস্টের মধ্যে পাকিস্তানের বিপক্ষে চারটি জয়, তার মধ্যে পাকিস্তানের মাটিতে সিরিজ জয়, এরপর দেশের মাটিতে আবার সিরিজ জয়, আপনার ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত এটা সবচেয়ে বড় অর্জন কি না।</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> হতে পারে। কিন্তু আমার নিজের কাছে তেমন মনে হয় না। আমার কাছে সব ম্যাচই প্রায় একই রকম। সত্যি বলতে, যে ম্যাচ খেলে এসেছি, সেটা নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করি না। আমার চিন্তা থাকে সামনে কী খেলা আছে।</p><p>যা করে ফেলেছি, সেটা তো চলে গেছে। সেখান থেকে ভালো কী শিখতে পারি, কোন জায়গায় আমার ঘাটতি ছিল, সেটা বের করার চেষ্টা করি। আমি এটা ভাবি না যে ওই সিরিজটাই আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন হয়ে গেছে। একটা সিরিজকে জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন বলা কঠিন। আপনি পারফর্ম করলে, আপনার...</p><p> আমি একটু থামাই। আপনার কি ভয় হয়, কেউ যদি বলে, পাকিস্তানের বিপক্ষে খুব ভালো খেলেছেন, পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিয়েছেন, তখন মানুষ আপনাকে অহংকারী ভাববে? এই ভয় কি আপনার মধ্যে কাজ করে?</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> না, আমি এসব নিয়ে মাথা ঘামাই না। মানুষ কী বলবে, সেটা তো আমি থামাতে পারব না। পাকিস্তান সিরিজে ভালো খেলেছি, এটা বলতে আমার খারাপ লাগবে কেন? ভালো তো অবশ্যই লেগেছে। কিন্তু আপনি যে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জনের কথা বলছেন, আমার কাছে মনে হয়, প্রতিটি ম্যাচেই একটু একটু করে ভালো কিছু হয়েছে। শুধু একটা সিরিজকে আলাদা করে সবচেয়ে বড় অর্জন বলা আমার জন্য কঠিন।</p><p> মোহাম্মদ রিজওয়ানকে বোল্ড করা বলটা কি আপনার সেরা বল? সবচেয়ে স্মরণীয়?</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> হ্যাঁ, বলতে পারেন, ওটা একটা স্মরণীয় বল।</p><p> আমার চাপে বলছেন না তো? নইলে হয়তো বলতেন, অন্য কিছু!</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> চাপে বলছি না। আপনি যে সময়ের কথা বললেন, ওই উইকেট পাওয়ার অনুভূতিটা আসলেই অন্য রকম ছিল। যে খেলোয়াড় মাঠে কাজটা করেন, তাঁর কাছে অনুভূতিটা এক রকম। আর যাঁরা খেলা দেখেন, বাংলাদেশের মানুষের কাছে ওই উইকেটের অনুভূতি হয়তো আরও আলাদা ছিল।</p><p> ম্যাচের অবস্থাটাও তখন এমন ছিল, অন্যভাবে আউট করলেও মনে থাকত। কিন্তু ব্যাটসম্যান বল ছেড়ে দিচ্ছেন, বল ভেতরে ঢুকে স্টাম্প ভেঙে দিচ্ছে, যতবার দেখি অবিশ্বাস্য লাগে। আপনার সেরা মুহূর্তগুলোর একটি তো এটা বলাই যায়।</p><p>আর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে আপনার স্পেলটা, ছয় উইকেট ছিল?</p><p><strong>আলমগীর কবির:</strong> ছয় উইকেট শরিফুল পেয়েছিল।</p><p> আপনার চার উইকেট ছিল, তাই তো? দেখুন, দুই ছাত্রের মধ্যে আমারই গুলিয়ে যাচ্ছে! শরিফুল ছয় উইকেট পেয়েছিল, তারপরও বাংলাদেশ তৃতীয় ম্যাচটা হেরেছিল। কী অবিশ্বাস্য ম্যাচ ছিল! ওরা জিততে জিততে হেরেছে, আর বাংলাদেশ হারতে হারতে জিতেছে। দুর্দান্ত সিরিজ ছিল।</p><p>এরপর আপনি অস্ট্রেলিয়া সফরে যেতে পারলেন না। জানি, এটা আপনার হাতে ছিল না, চোটের কারণে যেতে পারেননি। তারপরও বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ায় গেল ২৩ বছর পর। আবার কবে যাবে, সেটাও নিশ্চিত নয়। এখন তো অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও ভারত নিজেদের মধ্যে খেলতেই বেশি আগ্রহী। ক্রিকেটের বাণিজ্যিক দিকটা অনেক বড় হয়ে গেছে। একসময় ক্রিকেটে অন্যদের সাহায্য করা বা খেলাটাকে ছড়িয়ে দেওয়ার ব্যাপারও ছিল। এখন ব্যবসাটা অনেক বড়।</p><p>আপনার খারাপ লাগেনি, এটা বিশ্বাস করা কঠিন। কেউ যদি বলেন, একটুও খারাপ লাগেনি, আমি বিশ্বাস করব না। যে কারোরই খারাপ লাগবে।</p><p><strong>নাহিদ রানা:</strong> মানুষ হিসেবে কিংবা খেলোয়াড় হিসেবে আফসোস তো থাকেই। কিন্তু পেশাদার জায়গা থেকে চিন্তা করলে এখন আফসোস করে আমি কী করতে পারি? কিছুই তো করতে পারব না। যা হওয়ার, হয়ে গেছে।</p><p>এখন আমি ভাবি, সামনে কী করতে পারি। আমি এখন চোটে আছি। কীভাবে ফিট হব, সামনে যে সিরিজগুলো আছে, সেগুলোর জন্য কীভাবে নিজেকে প্রস্তুত করব, সেসব নিয়েই চিন্তা করছি।</p><p>মানুষ হিসেবে অবশ্যই খারাপ লাগে। এটা সত্যি। কিন্তু পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে ওই জায়গায় পড়ে থাকলে হবে না। আমাকে সামনে এগোতে হবে। পেছনে যা হয়ে গেছে, সেটা চাইলেও ফিরিয়ে আনতে পারব না। অতীত নিয়ে পড়ে থাকলে সামনের কাজগুলোও খারাপ হবে। তাই আমি চেষ্টা করি, অতীতের কথা বেশি না ভেবে সামনে কী করতে হবে, সেটা নিয়ে ভাবতে।</p>

অক্টোবর ১২, ২০২৬
ইউটিউব দেখে ছাদে ড্রাগন চাষ, বছরে আয় লাখ টাকা
ইউটিউব দেখে ছাদে ড্রাগন চাষ, বছরে আয় লাখ টাকা

হানিফের বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার লুধুয়া গ্রামে। ওই গ্রামের হাজি মো. সুলতান আহম্মেদ প্রধানের ছেলে তিনি।

অক্টোবর ১২, ২০২৬
যুবরাজের একের পর এক ভুল হিসাব—সৌদি আরব কীভাবে নতুন করে ইয়েমেন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ল
যুবরাজের একের পর এক ভুল হিসাব—সৌদি আরব কীভাবে নতুন করে ইয়েমেন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ল

সৌদির বিভিন্ন শহরে ড্রোন–ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানছে। ফলে যুবরাজ যে আঞ্চলিক অশান্তি পেছনে ফেলে সামনে এগোতে চেয়েছিলেন, এখন সেই সংঘাতের গভীরেই জড়িয়ে পড়ছে তাঁর দেশ।

অক্টোবর ১২, ২০২৬
২০২৬ সালে শেষের দিকে নবম-দশম গ্রেডে বিশেষায়িত চাকরির চাহিদা: কার সুযোগ কতটুকু
২০২৬ সালে শেষের দিকে নবম-দশম গ্রেডে বিশেষায়িত চাকরির চাহিদা: কার সুযোগ কতটুকু

২০২৬ সালে সরকারি নবম-দশম গ্রেডে বিশেষায়িত চাকরির চাহিদা বেড়েছে। টেকনিক্যাল, মেডিক্যাল, প্রকৌশল ও আইটি ডিগ্রিধারীরা বেশি সুযোগ পাচ্ছেন।

অক্টোবর ১২, ২০২৬
ইউরোপ কেন যুদ্ধের জন্য তৈরি হচ্ছে
ইউরোপ কেন যুদ্ধের জন্য তৈরি হচ্ছে

<p>ইউরোপজুড়ে যুদ্ধের প্রস্তুতি যেন বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসের মাত্র এক সপ্তাহের চিত্র লক্ষ করা যাক। পোল্যান্ড নতুন করে যুদ্ধের সতর্কবার্তা জারি করেছে। জার্মানি চালিয়েছে সামরিক মহড়া ও জাতীয় মহড়া। বাল্টিক অঞ্চলজুড়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে সামরিক অনুশীলন। আর হামলা হলে কীভাবে রাজধানী ভিলনিয়াসের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হবে—লিথুয়ানিয়া প্রকাশ করেছে তার বিশদ পরিকল্পনা।</p><p>এদিকে ফিনল্যান্ড সরকার তো যুদ্ধের প্রচ্ছন্ন শঙ্কায় পুরোপুরি মাতোয়ারা। তারা নাগরিকদের বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে যে যুদ্ধ যে অচলাবস্থাই নিয়ে আসুক না কেন, মানসিকভাবে ও বাস্তবে তার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।</p><p>গত ১৮ সেপ্টেম্বর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ এলিসি প্রাসাদে দলীয় নেতা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের একত্র করেন। সেখানে ফরাসি গোয়েন্দাপ্রধানরা বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ‘দ্রুত অবনতির’ একটি চিত্র তাঁদের সামনে তুলে ধরেন।</p><p>অন্যদিকে ন্যাটো এখন কোনো গোপনীয়তা না রেখেই রাশিয়ার নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড, সাইবার হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং ড্রোন হামলার বিষয়ে খোলাখুলি আলোচনা করছে। তবে ইউরোপের সরকারগুলোর এই ‘যুদ্ধ উন্মাদনা’ মহাদেশটির সাধারণ শ্রমিক ও নাগরিকদের খুব একটা প্রভাবিত করতে পারছে না।</p><p>কোম্পানির বেতন ও কর্মপরিবেশের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে গত ১ জুলাই স্পেনে এয়ারবাসের হাজার হাজার শ্রমিক ধর্মঘটের ডাক দেন। ইউজিটি এবং সিজিটি ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, শ্রমিকদের কাজের এই বিরতি বা কর্মবিরতির কারণে সামরিক ও বাণিজ্যিক উৎপাদন অনেকটাই ধীর হয়ে পড়েছে। ফলে কোম্পানির পক্ষে তাদের পূর্বনির্ধারিত সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। স্পেনে এয়ারবাসের আটটি কারখানায় সামরিক পরিবহন বিমান, বাণিজ্যিক বিমানের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ এবং কৃত্রিম উপগ্রহের কারখানা রয়েছে।</p><p>যন্ত্রাংশ ও সরবরাহব্যবস্থার ঘাটতি এতটাই প্রকট যে এক কারখানা থেকে অন্য কারখানায় এয়ারবাসের যন্ত্রাংশ পৌঁছে দিতে ইউক্রেনীয় বিশাল আকারের ‘আন্তনভ এন-১২৪’ কার্গো বিমান ভাড়া করতে হচ্ছে—যাতে কোনোমতে তাদের উৎপাদন সচল রাখা যায়।</p><p>এয়ার ডেটা নিউজ জানিয়েছে যে শ্রমিকদের এই আন্দোলন ‘মূল সামরিক বিমান কর্মসূচিগুলোকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলেছে’। মাদ্রিদের কাছে ইউরোফাইটার কারখানা এবং সেভিলের সামরিক পরিবহন বিমান কারখানা—দুটি কেন্দ্রই এই ধর্মঘটে থমকে গেছে।</p><blockquote>ইউরোপীয় রাজনীতির আসল লড়াইটা এখন ঠিক এই জায়গাতেই জমে উঠেছে। একদিকে যুদ্ধে উন্মাদের মতো মেতে থাকা মূলধারার একদল রাজনীতিবিদ, আর অন্যদিকে লাখ লাখ সাধারণ শ্রমিক ও তরুণ প্রজন্ম—যাঁরা তাঁদের রক্ত পানি করা মজুরি, চাকরি আর জীবনযাত্রার মান বিসর্জন দিয়ে কোনো যুদ্ধের খরচ জোগাতে একেবারেই রাজি নন।</blockquote><p>স্প্যানিশ ইউনিয়নগুলোর মতে, ২৫ আগস্টের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে প্রায় ৯০ শতাংশ যোগ্য শ্রমিক অংশ নিয়েছিলেন। কারখানার অ্যাসেম্বলিতে শ্রমিকেরা ভোটাভুটির মাধ্যমে কোম্পানির অন্যায্য প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পরই মূলত এই ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়।</p><p>ফরাসি ইউনিয়ন সূত্রে জানা গেছে, স্পেনে এয়ারবাসের প্রায় ১৪ হাজার শ্রমিকের মধ্যে এই তিন ইউনিয়নের অধীনেই রয়েছেন প্রায় ৪০ শতাংশ শ্রমিক। শ্রমিকদের মূল দাবি ছিল, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি বৃদ্ধি, আগের মতো দূর থেকে কাজ করার সুবিধা বহাল রাখা এবং অসুস্থতাজনিত ছুটির সুবিধা নিশ্চিত করা।</p><p>শিল্পমন্ত্রী জর্দি হেরেউর হস্তক্ষেপ এবং এয়ারবাস কর্তৃপক্ষের কিছু নমনীয় শর্ত মেনে নেওয়ার পর গত ১০ সেপ্টেম্বর শ্রমিকেরা সাময়িকভাবে ধর্মঘট স্থগিত করেন। তবে তাঁদের আন্দোলন থেমে থাকেনি। এর ঠিক দুদিন পর, নিজেদের দাবি আদায়ে স্পেনের বিভিন্ন স্থান থেকে এসে প্রায় ৮ হাজার এয়ারবাস শ্রমিক মাদ্রিদের রাজপথে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল করেন।</p><p>অবশেষে ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ৭৭ শতাংশ শ্রমিক কোম্পানির একটি সংশোধিত ও উন্নত প্রস্তাবের পক্ষে রায় দেন। দীর্ঘ কয়েক মাসের আন্দোলনের চাপে পড়ে কোম্পানিটি মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি বৃদ্ধি, হ্রাস পাওয়া ক্রয়ক্ষমতার ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং রিমোট ওয়ার্কের অধিকার বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।</p><p>এয়ারবাসের এই শ্রমিক আন্দোলন প্রমাণ করে যে ইউরোপের দেশগুলো যে অস্ত্র পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার ওপর ভর করে যুদ্ধযাত্রার আয়োজন করছে—সেই প্রক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা শিল্পগুলোর ওপর শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রণ ঠিক কতটা শক্তিশালী।</p><p>একই সময়ে স্কটল্যান্ডে নতুন শহরতলি ট্রেনের বহর তৈরির জন্য ঠিকাদারদের সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা স্প্যানিশ প্রতিষ্ঠান সিএএফকে বাদ দেওয়ার দাবি তুলেছে স্কটিশ রেলওয়ে ইউনিয়ন আরএমটি, ট্রেন চালকদের সংগঠন ‘আসলেফ’ এবং পেশাজীবীদের ইউনিয়ন ‘টিএসএসএ’।</p><p>ইসরায়েলি দখলদারত্বের সহযোগী হিসেবে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের তৈরি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের তালিকায় এই সিএএফ কোম্পানিটির নাম রয়েছে। জেরুজালেমের লাইট রেল পরিচালনা এবং বেআইনিভাবে দখল করা ভূখণ্ডে রেললাইন সম্প্রসারণের কাজে সহায়তার দায়ে তাদের এই তালিকায় রাখা হয়েছে।</p><p>আসলেফ ইউনিয়নের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে তাদের সদস্যরা কোনো সিএএফ নির্মিত ট্রেন চালাবেন না। একই সুর মিলিয়ে টিএসএসএর সাধারণ সম্পাদক মারিয়াম এসলামদুস্ত স্কটিশ সরকারকে বিষয়টি ‘পুনর্বিবেচনা’ করার জোর দাবি জানিয়েছেন।</p><p>অন্যদিকে ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেসের সম্মেলনে প্রতিনিধিরা টানা দ্বিতীয় বছরের মতো সামরিক বাজেট বা অস্ত্র খাতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের বিরোধিতা করে একটি প্রস্তাবে সমর্থন দিয়েছেন।</p><p>গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রস্তাবটি আরও বিপুল সমর্থন লাভ করে পাস হয়। লক্ষণীয় বিষয় হলো, এর আগে জিএমবি ও ইউনাইট ইউনিয়নের প্রভাবে সামরিক বাজেট বাড়ানোর পক্ষে টিইউসির যে অবস্থান ছিল, নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে তা পুরোপুরি উল্টে গেছে।</p><p>প্রস্তাবের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে আরএমটির সাবেক সভাপতি এবং ‘স্টপ দ্য ওয়ার কোয়ালিশন’-এর জাতীয় কর্মকর্তা অ্যালেক্স গর্ডন বলেন, ‘আমাদের এই আন্দোলন চাকরির অধিকার, নাগরিক সুযোগ-সুবিধা এবং ভবিষ্যতের নতুন শিল্পের প্রতি বিনিয়োগ সুনিশ্চিত করার আন্দোলন। যে ভবিষ্যৎ আমাদের তরুণ শ্রমিকেরা প্রত্যাশা করেন।’</p><p>অ্যালেক্স গর্ডন আরও যোগ করেন, ‘সেই শিল্প খাতগুলো কিন্তু সামরিক খাত নয়। সামরিক খাতে নিয়োজিত শ্রমিকদের দক্ষতা অত্যন্ত মূল্যবান এবং সেই দক্ষতাকে বেসামরিক ও নাগরিক সেবামূলক পণ্য উৎপাদনে কাজে লাগানো উচিত।’</p><p>গাজা উপত্যকায় চলা যুদ্ধ ও ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর চলমান গণহত্যার প্রতিবাদে অন্তত ছয়টি দেশের ডকশ্রমিক ইউনিয়ন ৩০ অক্টোবর একটি আন্তর্জাতিক ধর্মঘট ও প্রতিবাদ দিবসের ডাক দিয়েছে।</p><p>এর আগে চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি ইউরোপ ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের ২০টির বেশি বন্দরে পণ্য খালাস বন্ধ করে ইসরায়েলগামী অস্ত্রের চালান আটকে দিয়েছিলেন শ্রমিকেরা। সেই সুসংগঠিত আন্দোলনের পথ ধরেই এবারও এই নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।</p><p>যৌথ বিবৃতিতে শ্রমিক ইউনিয়নগুলো বলেছে, ‘আমরা এই যুদ্ধ অর্থনীতি, সরকারের অস্ত্র পুনর্গঠন পরিকল্পনা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামরিকায়নের সব প্রকল্পকে ‘না’ বলছি। জনগণের অর্থ বা রাষ্ট্রীয় সম্পদ কোনো যুদ্ধের পেছনে নয়, বরং সমাজের মৌলিক চাহিদা মেটাতে ব্যবহার করা উচিত।’</p><p>এদিকে ইউরোপের নতুন প্রজন্ম—অন্তত জার্মানির তরুণদের কথা ধরলে—কোনো নতুন ইউরোপীয় যুদ্ধের বিষয়ে একেবারেই উৎসাহিত নয়। সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে নতুন বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে দেশজুড়ে ক্লাস বর্জন করে রাস্তায় নেমে আসে ৪৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী।</p><p>জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ১৮ বছর বয়সী তরুণদের বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নোটিশ পাঠানো শুরু করার পর ‘স্কুল স্ট্রাইক এগেইনস্ট কনস্ক্রিপশন’ নামক আন্দোলনের ব্যানারে ১০০টির বেশি শহরে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এই বিক্ষোভ। যদিও সেনা যোগদান এখনো ঐচ্ছিক রাখা হয়েছে, তবে এই স্বাস্থ্য পরীক্ষা সবার জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।</p><p>ইউরোপীয় রাজনীতির আসল লড়াইটা এখন ঠিক এই জায়গাতেই জমে উঠেছে। একদিকে যুদ্ধে উন্মাদের মতো মেতে থাকা মূলধারার একদল রাজনীতিবিদ, আর অন্যদিকে লাখ লাখ সাধারণ শ্রমিক ও তরুণ প্রজন্ম—যাঁরা তাঁদের রক্ত পানি করা মজুরি, চাকরি আর জীবনযাত্রার মান বিসর্জন দিয়ে কোনো যুদ্ধের খরচ জোগাতে একেবারেই রাজি নন।</p><p>এই লড়াইয়ের স্রেফ সূচনা হলো মাত্র।</p><ul><li><p><strong>জন রিস</strong> এসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ভিজিটিং রিসার্চ ফেলো।<br>মিডল ইস্ট আই থেকে সংক্ষেপে অনূদিত।</p></li></ul>

অক্টোবর ১২, ২০২৬
তানজিয়া জামান মিথিলার ব্যাগগুলো কোন ব্র্যান্ডের, দাম কেমন
তানজিয়া জামান মিথিলার ব্যাগগুলো কোন ব্র্যান্ডের, দাম কেমন

<p>ঢালিউড অ্যাওয়ার্ডে অংশ নিতে দুই দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে গেছেন মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ খেতাবজয়ী অভিনেত্রী <strong>তানজিয়া জামান মিথিলা</strong>। তাঁর সাজপোশাক বরাবরই নজর কাড়ে। দেশ–বিদেশের জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের পোশাকের পাশাপাশি এই অভিনেত্রীর ব্যাগের সংগ্রহও চোখে পড়ার মতো। এখানে রইল তানজিয়া জামান মিথিলার ব্যাগের সংগ্রহ থেকে কয়েকটি</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/rwksq70q/1_1_jpg.png"><figcaption>মিথিলার এই ব্যাগ ফরাসি বিলাসবহুল ফ্যাশন ব্র্যান্ড লুই ভুইতোঁর। মোট দুটি আকারে লুই ভুইতোঁ ব্যাগটি বাজারে আনে। তাদের ক্যাপুসিনস সিরিজের এই ব্যাগের দাম বাংলাদেশি টাকায় সাড়ে ৮ লাখ। তবে বিলাসবহুল ব্যাগের ক্ষেত্রে অনেক সময় রিসেল ভ্যালু কম অথবা বেশিও হতে পারে। বিভিন্ন দেশে বিলাসবহুল পণ্যের সেকেন্ড হ্যান্ড মার্কেটও আছে, যেখান থেকে অনেক সময় কম দামে ব্যাগ, পোশাক ও জুয়েলারি কেনা যায়</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/ks0b71ad/2.jpg"><figcaption>চকচকে রুপালি রঙের এই মেটালিক স্টেটমেন্ট ক্লচ ব্যাগটি ভাস্কর্যের অনুপ্রেরণায় তৈরি। তবে এটি কোন ব্র্যান্ডের, সেটি নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। সাধারণত বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের মধ্যে এ ধরনের ব্যাগ তৈরি করে থাকে জেডব্লিউ অ্যান্ডারসন, ভিভিয়েন ওয়েস্টউডের মতো প্রতিষ্ঠান। আবার থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া বা দুবাইয়ে এ ধরনের ব্যাগের প্রচুর দোকান দেখা যায়। নিচের ছবিতে থাকা ব্যাগটি জেডব্লিউ অ্যান্ডারসন ব্র্যান্ডের, যেটার সঙ্গে মিথিলার ব্যাগের নকশায় হুবহু মিল না থাকলেও দুটির ধরণ একই রকম</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/g9kq60ry/3.jpg"><figcaption>কালো স্লিভলেস মিডি ড্রেসের সঙ্গে মিথিলার হাতে দেখা যাচ্ছে ওয়াইন কালারের একটি ব্যাগ। হুবহু এই ব্যাগ বাজারে আনে বিখ্যাত ব্র্যান্ড গুচি। ‘গুচি জ্যাকি ১৯৬১ মিডিয়াম’ সিরিজের এই ব্যাগের দাম ৩ হাজার ৯৫০ ডলার, বাংলাদেশি টাকায় যা ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/aqh86j6u/4.jpg"><figcaption>শাড়ির সঙ্গে মিথিলার হাতে এখানে যে ছোট হ্যান্ডব্যাগটি দেখা যাচ্ছে, সেটির সঙ্গে বিখ্যাত ফরাসি ব্র্যান্ড ক্রিস্টিয়ান ডিওরের একটি ডিজাইনের মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। ডিওরের ‘লেডি ডিওর মিনি ব্যাগ’ সিরিজে এই ব্যাগের দাম দেখাচ্ছে ৩ হাজার ৮০০ থেকে সাড়ে ৮ হাজার ডলার, বাংলাদেশি টাকায় প্রায় সাড়ে ৪ লাখ থেকে সাড়ে ৬ লাখ টাকার কাছাকাছি</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/rr3syhd8/5.jpg"><figcaption>সান্ধ্য গাউন লুকে মিথিলার হাতে দেখা যাচ্ছে ক্রিস্টাল বিডেড মিনি ফ্ল্যাপ ব্যাগ। পোশাকের সঙ্গে ব্যাগটি যেন যোগ্য সংগত। ব্যাগটির একটি হাতে ধরার অংশ (টপ হ্যান্ডেল) ছাড়াও একটি মিনি ফ্ল্যাপ কভার আছে। এ ধরনের ব্যাগগুলো বিভিন্ন বুটিক শপেই বেশি তৈরি হয়ে থাকে। তবে মিথিলার ব্যাগটি কোথা থেকে সংগ্রহ করা, তা বোঝা যাচ্ছে না। দেশের কোনো প্রতিষ্ঠান এটি তৈরি করলে ৫ হাজার থেকে ২০ হাজারের মধ্যে দাম হতে পারে</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/e970v65h/6.jpg"><figcaption>এই ব্যাগে চামড়ার পাশাপাশি বেতের ব্যবহার চোখে পড়ছে। হাতলের অংশটিও তৈরি হয়েছে বেত দিয়ে। সাধারণত ছুটি কাটাতে সমুদ্রের পাড়ে এ ধরনের ফ্যাশনেবল ব্যাগ ব্যবহারের চল আছে। মিথিলার এই ছবিও তোলা থাইল্যান্ডের একটি রিসোর্টে। এই ব্যাগগুলো সাধারণত স্থানীয়ভাবে বুটিকশপে বেশি তৈরি হতে দেখা যায়</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/0fyeqcsq/7.jpg"><figcaption>মিথিলার এই ব্যাগ বিখ্যাত ফরাসি ব্র্যান্ড কোকো শ্যানেলের আইকনিক একটি ব্যাগ বলেই মনে হচ্ছে। এই মডেলের শ্যানেলের ব্যাগটি ক্রেতারা চেনেন ‘শ্যানেল ক্ল্যাসিক ফ্ল্যাপ ব্যাগ’ নামে। শ্যানেলের সিগনেচার ডায়মন্ড কুইল্টিং নকশায় তৈরি ব্যাগটির দাম ১২ থেকে সাড়ে ১৩ লাখ টাকা। তবে রিসেল মার্কেটে ব্যাগটি ৭ লাখের বেশিতে বিক্রি হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়</figcaption></figure><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/fashion/fe90wn0r4d">মিমের ব্যাগটির দাম ৬ লাখ টাকার বেশি, দেখুন তাঁর মালয়েশিয়া সফরের ১২টি ছবি</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/j2bydpj3/8.jpg"><figcaption>গোলাপি পোশাকের সঙ্গে মিথিলার হাতে থাকা পাউচ স্টাইলের ইভনিং ক্লাচটি ঝলমল করছে সোনালি রঙে। সোনালি সুতা বা মেটালিক ফাইবার দিয়ে এ ধরনের ব্যাগ তৈরি করা হয়। রিসোর্ট লুক বা বিচ ওয়্যার ছাড়াও পার্টিতে এই ব্যাগ মানানসই। জারা বা ম্যাঙ্গোর মতো ব্র্যান্ডে এ ধরনের ব্যাগ চোখে পড়ে। সেখানে এসবের দাম ৮ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/dfqs2cqc/9.jpg"><figcaption>শ্যানেলের এই ট্রায়াঙ্গুলার ফ্ল্যাপ শোল্ডার ব্যাগটি সম্প্রতি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে বিশ্বজুড়ে। নেভি ব্লু ডেনিমে তৈরি ব্যাগটি তরুণীদের মধ্যে বেশি সাড়া ফেলেছে। ব্যাগটির দাম সাড়ে ৬ লাখ থেকে সাড়ে ৮ লাখ টাকার মধ্যে। তবে রিসেল মার্কেটে কিছুটা কমবেশি হতে পারে</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/ja9dxje3/10.jpg"><figcaption>এটিও একটি বিখ্যাত ফরাসি ব্র্যান্ড ইভ সাঁ লরাঁ (ওয়াইএসএল)। চামড়া তৈরি ক্ল্যাসিক রেকট্যাঙ্গুলার ফ্ল্যাপ শেপের এই ব্যাগের দাম ২ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকার মধ্যে</figcaption></figure><p><strong>খেয়াল করুন:</strong> ছবির ব্যাগগুলোর ব্র্যান্ড ও দাম অনলাইনে যাচাই করা হয়েছে। মিথিলার সঙ্গে কথা বলে তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি। </p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/style/h24p0vahgw">বিশ্বকাপ থেকে বাড়ি ফেরা আর্লিং হলান্ডের হাতের প্রাণীটি কেন আলোচনায়</a></aside>

অক্টোবর ১২, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন