feature

বরফ কীভাবে পানীয় ঠান্ডা করে

নভেম্বর ৬, ২০২৬
বরফ কীভাবে পানীয় ঠান্ডা করে
বরফ কীভাবে পানীয় ঠান্ডা করে
প্রথমে একটা বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। তাপ আর তাপমাত্রা এক জিনিস নয়। তাপমাত্রা দিয়ে বোঝা যায় কোন বস্তু কতটা গরম বা ঠান্ডা। আর তাপ হলো এমন শক্তি, যা তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে

Prothomalo

View more
নির্বাচনে ভরাডুবির পর হেগসেথ-রুবিওর পদ ছাড়ার গুঞ্জন, হোয়াইট হাউসের নাকচ
নির্বাচনে ভরাডুবির পর হেগসেথ-রুবিওর পদ ছাড়ার গুঞ্জন, হোয়াইট হাউসের নাকচ

মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর ট্রাম্প প্রশাসনে রদবদলের গুঞ্জন উঠেছে। হেগসেথ ও রুবিওর পদ ছাড়ার খবর নাকচ করেছে হোয়াইট হাউস।

নভেম্বর ৬, ২০২৬
টোকিওর স্বপ্ন, ঢাকার বিবেক
টোকিওর স্বপ্ন, ঢাকার বিবেক

ভোরবেলায় শহরের রাস্তায় হাঁটলে দেখা যায়, কিছু মানুষ নিঃশব্দে দিন শুরু করে। গত রাতের জমানো ধুলো সরায়।

নভেম্বর ৬, ২০২৬
হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিস পাচ্ছে ‘জাতীয় স্মারকের’ মর্যাদা, নথিতে ট্রাম্পের সই
হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিস পাচ্ছে ‘জাতীয় স্মারকের’ মর্যাদা, নথিতে ট্রাম্পের সই

ওভাল অফিস ও মন্ত্রিসভা কক্ষের কোনো পরিবর্তন করা যাবে কি না—প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া বড় কোনো পরিবর্তন করা যাবে না।’

নভেম্বর ৬, ২০২৬
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু মুসলিমদের জোর করে ঠেলে পাঠানোর নিন্দা জানাল ভারতের নাগরিক সমাজ
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু মুসলিমদের জোর করে ঠেলে পাঠানোর নিন্দা জানাল ভারতের নাগরিক সমাজ

মানবাধিকার সংগঠনের অভিযোগ, বিএসএফ রাতের অন্ধকারে সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে বহু মানুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করছে।

নভেম্বর ৬, ২০২৬
জলতলের  প্রত্নরত্ন: একটি চিঠি ও ঢাকার কালে খাঁ কামান
জলতলের প্রত্নরত্ন: একটি চিঠি ও ঢাকার কালে খাঁ কামান

<p>মোগল আমলের ঢাকাকে মসজিদের শহরের মতো কামানের শহর বললে অত্যুক্তি হবে কি? সে আমলে এই ঢাকায় নির্মিত হয়েছে নানা আকারের ও নানা ধরনের কামান, যার সাক্ষী ইতিহাসের পাতায় রয়েছে। ঢাকা ও তার আশপাশে নানা স্থানে মাটির নিচে অতীতের মতো এখনো মোগল বা সুলতানি আমলের অনেক কামান পাওয়া যায়। ঢাকার ইতিহাসপ্রেমীরা আজও দুটি কামানের কথা স্মরণ করেন—একটি মীর জুমলার বিবি মরিয়ম কামান, যা বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গনে অবস্থান করছে, অন্যটি বুড়িগঙ্গায় তলিয়ে যাওয়া বড় আকারের কামান, কালে খাঁ কামান। এই নামও হয়তো অনেকেই শুনে থাকবেন।</p><p> ১৭৭৪ সালের ৮ জানুয়ারি ঢাকা থেকে লন্ডনে ড. হকারওয়ার্থের কাছে ঢাকার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এক কর্মকর্তা মি. জে সি স্বাক্ষরিত একটি চিঠি যায়। ওই কর্মকর্তা চিঠিতে তাঁর পুরো নাম লেখেননি। তিনি চিঠিতে লেখেন:</p><p>‘এই শহরের বিপরীত দিকে আমাদের ফ্যাক্টরি থেকে দক্ষিণ–পশ্চিম দিকে প্রায় ১৫০ গজ দূরে একটি ছোট দ্বীপ (নদীর চর) রয়েছে; সেখানে পড়ে আছে এযাবৎ আমার দেখা সর্ববৃহৎ একটি যুদ্ধাস্ত্র (কামান) ও দুটি পাথরের বল। সেগুলোর আকার দেখে প্রতীয়মান হয়, সেগুলো ওই কামানেরই গোলা। এটি একটি অনন্যসাধারণ নির্মিত বস্তু, যা দীর্ঘকাল ধরে এভাবেই পড়ে রয়েছে। কামানটি এখানে কে এনেছিল বা সেটি কোথা থেকে এখানে আনা হয়েছিল, সে বিষয়ে এখানকার সবচেয়ে বয়স্ক লোকটিও কোনো তথ্য দিতে পারেননি। এটি নিশ্চয়ই আদি কামান আবিষ্কারের মতোই। প্রাচীন এই কামান প্রথম দর্শনে মনে হবে ঢালাই করে নির্মিত, কিন্তু এর মুখের অংশ ও চেম্বার পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে যে এটি কতগুলো দণ্ড ও লোহার আংটার মাধ্যমে সংযোজিত করে নির্মাণ করা হয়েছে। আমি সতর্কতার সঙ্গে এর পরিমাপ নিয়েছি এবং এর একটি ড্রয়িং প্রস্তুত করে আপনার কাছে পাঠিয়েছি। আপনি যদি এটিকে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন ও সাধারণের কাছে তুলে ধরবার উপযোগী মনে করেন, তবে আমি আশা করি, তা জেন্টলম্যান ম্যাগাজিনে প্রকাশ করা যেতে পারে। আমার স্মরণ হয় যে লন্ডন টাওয়ারে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে প্রদর্শিত একইভাবে নির্মিত কিছু কামান দেখেছিলাম, কিন্তু সেগুলো এখানে প্রাপ্ত কামানের মতো সুনির্মিত নয়।’</p><blockquote>মি. জে সি তাঁর চিঠির শেষ অংশে ঢাকার ধ্বংসপ্রাপ্ত বিলীয়মান মোগল স্থাপত্যের সৌন্দর্যের প্রশংসা করেছেন। তিনি এই কামানের বিস্তারিত মাপ লিপিবদ্ধ করে এবং একটি সেকশনাল ড্রয়িং করে তা ম্যাগাজিনে প্রকাশ করার জন্য লন্ডনের ড. হকারওয়ার্থের কাছে পাঠিয়েছিলেন। সেই চিঠি, কামানটির পরিমাপ ও সেকশনাল ড্রয়িং ম্যাগাজিনটির ওই বছরের ডিসেম্বর সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। দুঃখজনক যে মি. হকারওয়ার্থ তা দেখে যেতে পারেননি। কারণ, তা প্রকাশিত হওয়ার আগেই তিনি মারা যান। ধরে নেওয়া যায় যে তিনি মৃত্যুর আগে সেই চিঠি ও ড্রয়িং জেন্টলম্যান ম্যাগাজিনে প্রকাশের জন্য পাঠিয়েছিলেন।</blockquote><p>মি. জে সি তাঁর চিঠির শেষ অংশে ঢাকার ধ্বংসপ্রাপ্ত বিলীয়মান মোগল স্থাপত্যের সৌন্দর্যের প্রশংসা করেছেন। তিনি এই কামানের বিস্তারিত মাপ লিপিবদ্ধ করে এবং একটি সেকশনাল ড্রয়িং করে তা ম্যাগাজিনে প্রকাশ করার জন্য লন্ডনের ড. হকারওয়ার্থের কাছে পাঠিয়েছিলেন। সেই চিঠি, কামানটির পরিমাপ ও সেকশনাল ড্রয়িং ম্যাগাজিনটির ওই বছরের ডিসেম্বর সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। দুঃখজনক যে মি. হকারওয়ার্থ তা দেখে যেতে পারেননি। কারণ, তা প্রকাশিত হওয়ার আগেই তিনি মারা যান। ধরে নেওয়া যায় যে তিনি মৃত্যুর আগে সেই চিঠি ও ড্রয়িং জেন্টলম্যান ম্যাগাজিনে প্রকাশের জন্য পাঠিয়েছিলেন। মি. জে সির পুরো নাম জানা সম্ভব হয়নি। ম্যাগাজিনে তাঁকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিতে কর্মরত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। ১৭৭৪ সালের ঢাকার ইংলিশ ফ্যাক্টরির কর্মকর্তাদের তালিকা থেকে তাঁর পুরো নাম পাওয়া যেতে পারে।</p><p>মি. জে সির চিঠিতে উল্লেখিত কামানটির বহুল প্রচলিত নাম কালে খাঁ কামান। এ নামের উৎস জানতে পারিনি। লেখক মুনতাসীর মামুন তাঁর একটি লেখায় উল্লেখ করেছেন, এই কামানের নামকরণ কে করেছিল জানা যায়নি, লোকমুখে এই নাম প্রচলিত ছিল। সেই যুগে ঢাকায় কর্মরত কয়েকজন ব্রিটিশ সিভিলিয়ান কর্মকর্তার লেখায় এই কামানের উল্লেখ পাওয়া যায়। যেমন ভারতের সার্ভেয়ার জেনারেল বিখ্যাত জেমস রেনেল, কর্মকর্তা রবার্ট লিন্ডসে এবং পরবর্তী সময়ে ঢাকার বিখ্যাত কালেক্টর ও চিত্রশিল্পী চার্লস ডি-অয়লি। অবশ্য তাঁরা কালে খাঁর নামটি উল্লেখ করেননি। আমার সদ্যপ্রাপ্ত মি. জে সির পত্রটি কিছু কারণে অন্যান্য বর্ণনার চেয়ে অগ্রগণ্য মনে হয়। এটি এই বিষয়ে প্রথম প্রকাশিত ডকুমেন্ট। তিনি এখানে নানা পরিমাপের সঙ্গে প্রথম একটি ড্রয়িং সংযুক্ত করেছেন। বিষয়টি তিনি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছিলেন যে তা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবহিত করার উদ্দেশ্যে বিখ্যাত জেন্টলম্যান ম্যাগাজিনে প্রকাশের জন্য সব তথ্য ও ড্রয়িং লন্ডনে ড. হকারওয়ার্থের কাছে পাঠিয়েছিলেন।</p><p>১৭৮৮ সালে প্রকাশিত জেমস রেনেলের বই মেমোয়ার অব আ ম্যাপ অব হিন্দুস্তান অর দ্য মুঘল এম্পায়ার এবং ১৮৪০ সালে প্রকাশিত রবার্ট লিন্ডসের বই এনেকডটস অব ইন্ডিয়ান লাইফ—এই দুটি বইয়ে লেখকদ্বয় কালে খাঁ কামানের বর্ণনা করেছেন। ১৭৭৪ সালে মি. জে সির লেখা বর্ণনা, বিশেষ করে তাঁর ড্রয়িং কামানটির প্রকৃত অবয়ব বুঝতে সবচেয়ে বেশি কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। কোনো বস্তুর পূর্ণ অবয়বের পর্যাপ্ত পরিমাপ থাকা সত্ত্বেও শুধু পরিমাপের ওপর নির্ভর করে প্রকৃত অবয়ব নির্মাণ করা প্রায় অসম্ভব। কারণ, তথ্য দিয়ে বাহ্যিক কাঠামোর ত্রিমাত্রিক ধারণা পাওয়া গেলেও তার অবয়ব নির্মাণ করা সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন কিছু দৃশ্যমান ড্রয়িং।</p><p>রেনেল ও লিন্ডসে কামানটির দৈর্ঘ্যসহ নানা অংশের মাপ ও ওজনের বর্ণনা দিয়েছেন। লিন্ডসে উল্লেখ করেছেন, কামানটির দৈর্ঘ্য ৩৪ ফুট। কিন্তু রেনেল ও মি. জে সির বর্ণনায় কামানটির দৈর্ঘ্য যথাক্রমে ২২ ফুট সাড়ে ১০ ইঞ্চি ও ২২ ফুট ৬ ইঞ্চি। দুজনের পরিমাপ কাছাকাছি হওয়ায় আমরা ধরে নিতে পারি, কামানটির দৈর্ঘ্য ২২ ফুটের কিছু বেশি। কালেক্টর চার্লস ডি’ অয়লি তাঁর অ্যান্টিকুইটিজ অব ঢাকা বইতে রেনেলের বর্ণিত পরিমাপই উল্লেখ করেছেন। তাহলে আপাতত তিন ব্যক্তিকে পাওয়া যাচ্ছে, যাঁরা কামানটির পরিমাপ নিজেরাই সংগ্রহ করেছিলেন।</p><blockquote>রেনেল ও লিন্ডসে কামানটির দৈর্ঘ্যসহ নানা অংশের মাপ ও ওজনের বর্ণনা দিয়েছেন। লিন্ডসে উল্লেখ করেছেন, কামানটির দৈর্ঘ্য ৩৪ ফুট। কিন্তু রেনেল ও মি. জে সির বর্ণনায় কামানটির দৈর্ঘ্য যথাক্রমে ২২ ফুট সাড়ে ১০ ইঞ্চি ও ২২ ফুট ৬ ইঞ্চি। দুজনের পরিমাপ কাছাকাছি হওয়ায় আমরা ধরে নিতে পারি, কামানটির দৈর্ঘ্য ২২ ফুটের কিছু বেশি। কালেক্টর চার্লস ডি’ অয়লি তাঁর অ্যান্টিকুইটিজ অব ঢাকা বইতে রেনেলের বর্ণিত পরিমাপই  উল্লেখ করেছেন। তাহলে আপাতত তিন ব্যক্তিকে পাওয়া যাচ্ছে, যাঁরা কামানটির পরিমাপ নিজেরাই সংগ্রহ করেছিলেন।</blockquote><p>মি. জে সি ১৭৭৪ সালে ঢাকায় কর্মরত ছিলেন এবং সে সময় কামানটির পরিমাপ নিয়েছিলেন। রেনেল ও লিন্ডসে ঢাকায় আসেন ১৭৭৬ সালে; ধরে নিতে পারি তাঁরা সেই বছর বা তার পরে কোনো এক সময় কালে খাঁ কামানের পরিমাপ লিপিবদ্ধ করেছিলেন। অর্থাৎ এ পর্যন্ত জানা তথ্য অনুসারে, মি. জে সিই প্রথম ব্যক্তি, যিনি সর্বপ্রথম কালে খাঁ কামানের পরিমাপ নিয়েছিলেন এবং ছবি এঁকেছিলেন। তাঁর মতো বিশদ পরিমাপ ও ছবি আর কেউ দেননি। তা ছাড়া তিনি তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করেছেন যে তিনি কামানটির পরিমাপ নিয়েছেন সতর্কতার সঙ্গে। এসব কারণে আমি ব্যক্তিগতভাবে মি. জে সির পরিমাপটি গ্রহণ করতে আগ্রহী।</p><p>কালে খাঁ কামানটি যে বুড়িগঙ্গা নদীর একটি দ্বীপে পড়ে ছিল এবং দ্বীপটির ভাঙনের ফলে সেটি বুড়িগঙ্গায় তলিয়ে গিয়েছিল, প্রায় সবাই তা উল্লেখ করেছেন। রবার্ট লিন্ডসের মাধ্যমে জানতে পারি, ১৭৮০ সালে কামানটি নদীতে তলিয়ে যায়। লিন্ডসের বর্ণনা থেকে জানা যায়, তিনি এবং কোরি নামে তাঁর এক বন্ধু, যিনি যান্ত্রিক প্রকৌশল বিষয়ে দক্ষ ছিলেন, তাঁরা পরিকল্পনা করেছিলেন, দুজনে মিলে একটি নৌকা তৈরি করবেন এবং সে নৌকায় করে কামানটি কলকাতায় নিয়ে যাবেন। কিন্তু তাঁরা সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি, তার আগেই তাঁদের ঢাকা ছেড়ে চলে যেতে হয়েছিল। দায়িত্বপ্রাপ্ত ওপরওয়ালা বা প্রশাসনের অবহেলায় এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রত্নসম্পদ হারিয়ে যাওয়ায় লিন্ডসে আক্ষেপ প্রকাশ করেছিলেন।</p><p>জেমস রেনেলের পরিমাপ ব্যবহার করে আমি কালে খাঁ কামানের একটি সম্ভাব্য ত্রিমাত্রিক অবয়ব নির্মাণ করেছিলাম। ২০০৬ সালে প্রথম আলোর ঈদসংখ্যায় ‘জলতলের প্রত্নরত্ন’ শিরোনামে আমার এক নিবন্ধে সেটি প্রথম প্রকাশিত হয়। একই পত্রিকার ২০১৯ সালের ঈদসংখ্যা ‘ঢাকার কামান’ নিবন্ধেও সেটি ব্যবহার করেছি। কিন্তু সেটি ছিল শুধু রেনেলের লিখিত পরিমাপের ওপর নির্ভর করে আমার আঁকা ড্রয়িং। মি. জে সির বিস্তারিত পরিমাপ ও সেকশনাল ড্রয়িং অবলম্বন করে আমি কালে খাঁ কামানের আবার অবয়ব তৈরি করেছি। আশা করছি, এটিই কামানটির প্রকৃত অবয়ব। সেটি এই লেখায় সংযুক্ত করেছি।</p><p>ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থিত বিবি মরিয়ম কামানের আকার আমাদের বিস্মিত করে। কালে খাঁ কামান বিবি মরিয়ম কামানের দ্বিগুণের বেশি দৈর্ঘ্যের এক অনন্য প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ, যেটি এখনো বুড়িগঙ্গা নদীর তলদেশে রয়ে গেছে। কামানটি কীভাবে উত্তোলন করা যেতে পারে, তার সম্ভাব্য একটি প্রক্রিয়া নিয়ে অন্যত্র লিখেছি।</p><p>সন্দেহ নেই, কালে খাঁ উদ্ধার হলে সেদিনের পত্রলেখক মি. জে সির মতো ঢাকাবাসীর জন্যও তা হবে বিস্ময়–জাগানিয়া ও গৌরবময় ইতিহাসের স্মারক বিশেষ।</p><p><strong>শামীম আমিনুর রহমান</strong>: গবেষক, সংগ্রাহক ও স্থপতি</p>

নভেম্বর ৬, ২০২৬
ফেনী থেকে ছিনতাই করা কাভার্ড ভ্যান রাখা হয় কুমিল্লায়, মালামাল বিক্রি জামালপুরে
ফেনী থেকে ছিনতাই করা কাভার্ড ভ্যান রাখা হয় কুমিল্লায়, মালামাল বিক্রি জামালপুরে

তিনজন ছিনতাইকারী ছুরি নিয়ে কাভার্ড ভ্যানের ভেতরে উঠে শ্যামল ও চালক আরিফকে মারধর করে। একপর্যায়ে তাঁদের গলায় ছুরি ধরে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে।

নভেম্বর ৬, ২০২৬
সহপাঠীরা যখন পরীক্ষা দিচ্ছিলেন, তখন পুকুরে ভাসছিল আদনানের লাশ
সহপাঠীরা যখন পরীক্ষা দিচ্ছিলেন, তখন পুকুরে ভাসছিল আদনানের লাশ

পড়াশোনায় দীর্ঘদিন পিছিয়ে থাকা ভারতীয় মেডিক্যাল শিক্ষার্থী আদনানের মৃত্যুর পর কুমিল্লার ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছে হাইকমিশন।

নভেম্বর ৬, ২০২৬
ব্যাংকের দেউলিয়া হওয়া নিয়ে বিতর্ক, পদত্যাগ করলেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট
ব্যাংকের দেউলিয়া হওয়া নিয়ে বিতর্ক, পদত্যাগ করলেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট

উয়েনো ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর পর এ সংকট আর বিতর্কের সূত্রপাত। এরই মধ্যে আলোচিক এ ব্যাংকের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।

নভেম্বর ৬, ২০২৬
হাজারো শিক্ষার্থীর জীবনে আলো ছড়িয়ে দেওয়া শিক্ষাগুরু শাহনাজ পারভীন | একজন শিক্ষক: প্রজন্মের কারিগর
হাজারো শিক্ষার্থীর জীবনে আলো ছড়িয়ে দেওয়া শিক্ষাগুরু শাহনাজ পারভীন | একজন শিক্ষক: প্রজন্মের কারিগর

<p>একজন শিক্ষক, সকাল থেকে সারাদিন স্কুলে পাঠদানে ব্যস্ত থাকেন। বিকেলে নিজের বাড়িতে ফিরে পড়াতে বসেন শত শত শিশুকে—যাদের সামর্থ্য নেই স্কুলে যাওয়ার। এমনই মহতী কাজের মাধ্যমে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন ‘বিশ্বসেরা ৫০ শিক্ষকে’র তালিকায়। </p><p>প্রথম আলো ডটকমের বিশেষ আয়োজন ‘একজন শিক্ষক: প্রজন্মের কারিগর’। সহযোগিতায় ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্স। এইচ এম আতিফ ওয়াফিকের উপস্থাপনায় এ পর্বে থাকছে বগুড়ার শেরপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহনাজ পারভীনের গল্প।</p><p>বিস্তারিত ভিডিওতে...</p><figure></figure>

নভেম্বর ৬, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”

পোশাকের ট্যাবু ভেঙে ‘সংস্কৃতির সমতার’ বার্তায় যবিপ্রবিতে ‘লুঙ্গি প্যারেড’

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।